এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

প্রশ্ন-৩১: শির্কের প্রকারগুলো কি কি?


উত্তর: শির্কের প্রকারগুলো হল: মৃত ব্যক্তির নিকট প্রয়োজনাদী চাওয়া, তাদের নিকট গিয়ে প্রার্থনা করা। আর এটি বিশ্বের মধ্যে অধিক প্রসারিত ও প্রচলিত, কেননা মৃত ব্যক্তির আমল বা কাজ কর্ম বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে, সে তার নিজের জন্যই কোনো উপকার বা অপকার করার ক্ষমতা রাখে না তাহলে সে তার নিকট প্রার্থনাকারীকে কি সহযোগিতা করবে? অথচ তার নিকট আল্লাহর শাফাআত চাচ্ছে। এটি হচ্ছে শাফায়াতকারী এবং যার নিকট শাফায়াত চাওয়া হয় তার ব্যাপারে নিতান্তই মুর্খতা, কারণ আল্লাহ তা‘আলার অনুমতি ব্যতীত তার নিকট কেউ শাফায়াত চাইতে পারবে না। আর অন্যের নিকট তা চাওয়ার মধ্যে তার অনুমতির কারণ করে রাখেন নি; বরং কারণ হল: তাওহীদকে পরিপূর্ণ ভাবে বাস্তবায়ন করা। আর সেই মুশরিক এমন মারাত্মক কারণে পতিত হয়েছে যা আল্লাহর অনুমতির প্রতিবন্ধক।

আর শির্ক দু ধরণের। এক প্রকার শির্ক রয়েছে যা দ্বীন থেকে মানুষদেরকে বের করে দেয়। তা হচ্ছে বড় শির্ক। অন্য প্রকার শির্ক হচ্ছে এমন যা দ্বীন থেকে মানুষদেরকে বের করে দেয় না। আর তা হচ্ছে ছোট শির্ক যেমন, সামান্য লোক দেখানোর দ্বারা সংঘটিত শির্ক। 

প্রশ্ন-৩২: নেফাকের প্রকারগুলো কি কি? এবং এর অর্থ কি?


উত্তর: নেফাক দুই প্রকার: নেফাকে এ‘তেকাদী বা বিশ্বাসগত নেফাক এবং নেফাকে আমলি বা আমলগত নেফাক।

বিশ্বাসগত নেফাক কুরআনের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখ হয়েছে, তাদের জন্য আল্লাহ তা‘আলা জাহান্নামের একেবারে নিম্নস্থল ওয়াজিব করে রেখেছেন।

নেফাকে আমলি: রাসূলের বাণীতে এসেছে: চারটি বৈশিষ্ট্য রয়েছে যার মধ্যে তা পাওয়া যাবে সে খাঁটি মুনাফিক। আর যার মধ্যে এর কোনো একটি পাওয়া যাবে, তার মধ্যে মুনাফেকের একটি নিদর্শন পাওয়া যাবে যতক্ষণ না সে তা ত্যাগ করবে।

(বৈশিষ্টগুলো হল:) সে যখন কথা বলবে তখন মিথ্যা বলবে, কোনো অঙ্গিকার করলে তা ভঙ্গ করবে, ঝগড়া করলে গালি দেবে এবং তার নিকট কোনো কিছু আমানত রাখলে এর খিয়ানত করবে।

রাসূলুল্লাহ্‌ (সাল্লাল্লাহু আলাইহি অসাল্লাম) আরো বলেছেন: মুনাফেকের নিদর্শন তিনটি: সে যখন কথা বলবে তখন মিথ্যা বলবে, কোনো অঙ্গিকার করলে তা ভঙ্গ করবে এবং তার নিকট কোনো কিছু আমানত রাখলে এর খিয়ানত করবে।

গুণীজন বলেন: এ নেফাকী কখনো ইসলামের মূলনীতির সাথে একত্রিত হতে পারে কিন্তু যখন তা প্রাধান্যতা লাভ করে তখনই সেই মুনাফেক ইসলাম থেকে সম্পূর্ণরূপে বের হয়ে যায় যদিও সে নামায পড়ে, রোজা রাখে এবং নিজেকে মুসলিম হিসাবে দাবী করে। কেননা তার মধ্যে এ সকল বৈশিষ্ট থাকায় ঈমানই তাকে মুসলিম হওয়া থেকে বারণ করে। কাজেই কোনো বান্দার মধ্যে যখন এ বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্ণতা লাভ করবে এবং এ থেকে বিরত থাকার জন্য বারণ করার মত কোনো কারণ না থাকে তাহলে সে খাঁটি মুনাফেকে পরিণত হবে।

প্রশ্ন-৩৩: দ্বীন ইসলামের দ্বিতীয় ধাপ কোনটি?


উত্তর: ঈমান।

প্রশ্ন-৩৪: ঈমানের শাখা কয়টি?


উত্তর: ঈমানের সত্তরেরও অধিক শাখা রয়েছে, সবচেয়ে উপরের শাখা হল ‘‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ” বলা এবং সবচেয়ে নিম্নতর শাখা হল ‘‘রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক জিনিস দূর করা” এবং লজ্জা হচ্ছে ঈমানের একটি শাখা বা অঙ্গ।

প্রশ্ন-৩৫: ঈমানের রুকন কয়টি?


উত্তর: ঈমানের রুকন ছয়টি। তা হল: আপনি আল্লাহর উপর আনবেন, তাঁর ফেরেশ্তামন্ডলী, তাঁর কিতাবসমূহ, রাসূলগণের প্রতি ঈমান আনবেন, শেষ দিবস ও ভাগ্যের ভাল মন্দের প্রতি ঈমান আনবেন।

প্রশ্ন-৩৬: দ্বীন ইসলামের তৃতীয় ধাপ কোনটি?


উত্তর: ইহসান। এর রুকন হচ্ছে একটি, তা হল: আপনি এমন ভাবে আল্লাহর ইবাদত করবেন; যেন আপনি তাকে দেখছেন, আপনি যদি তাকে নাও দেখেন তাহলে (মনে করবেন যে,) নিশ্চয়ই তিনি আপনাকে দেখছেন।

প্রশ্ন-৩৭: পূনরুত্থানের পর কি মানুষ তাদের কর্ম সম্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে এবং তাদেরকে কি তাদের কর্মের বদলা দেওয়া হবে?


উত্তর: হ্যাঁ, তারা প্রশ্নের সম্মুখীন হবে এবং তাদের কর্মের বদলা দেওয়া হবে। দলীল হল আল্লাহর বাণী:

) যারা তাদের কৃতকর্মের চেয়ে মন্দ কাজ করে এবং যারা আমাদের সাথে ভাল কাজ করেছে তাদেরকে পুরস্কৃত করা হয়। [31] 

অর্থাৎ: যারা মন্দ কাজ করে তাদেরকে যেন মন্দ ফল দেন এবং যারা ভাল কাজ করে তাদেরকে যেন উত্তম বদলা দেন। [সূরা নাজম ৩১]

প্রশ্ন-৩৮: যে ব্যক্তি পূনরুত্থানকে অবিশ্বাস করবে তার হুকুম কি?


উত্তর: সে কাফের হয়ে যাবে, দলীল হল আল্লাহর বাণী:

) زلم ٱلذين كفروا أن لن يبعثوا قل بلى ورت لتبعثن ثم لتنبؤن بما عملتم وذلك على ٱلله يسير 7 ([التغابن: 7]

অর্থাৎ: কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না। বলুন: নিশ্চয়ই হবে, আমার প্রতিপালকের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে অবহিত করা হবে। এবং এটি আল্লাহর পক্ষে অত্যন্ত সহজ। [সূরা তাগাবূন ৭]

প্রশ্ন-৩৯: এমন কোনো উম্মত বাকী আছে কি? যার নিকট আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেননি? যারা তাদেরকে এক আল্লাহর ইবাদত করতে এবং তাগুতকে বর্জন করতে নির্দেশ দিবেন?


উত্তর: এমন কোনো উম্মত বাকী নেই; যার নিকট আল্লাহ রাসূল প্রেরণ করেননি। দলীল হল  আল্লাহর বাণী:

"আমরা প্রত্যেক জাতির কাছে একজন রসূল পাঠিয়েছি যিনি আল্লাহ্র উপাসনা করেন এবং অশুচিতা থেকে রক্ষা করেন (মৌমাছি: 36) 

অর্থাৎ: আমি প্রত্যেক জাতির নিকট রাসূল পাঠিয়েছি এ মর্মে যে, তোমরা আল্লাহর ইবাদত কর এবং তাগুতকে বর্জন কর। [সূরা নাহল ৩৬]

প্রশ্ন-৪০: তাওহীদের প্রকারগুলো কি কি?


উত্তর:

১: তাওহীদে রুবুবিয়্যা: এটি কাফেরগণও স্বীকৃতি দিয়েছিল, যেমন আল্লাহর বাণী:

) বলুন, কে পৃথিবী থেকে তোমাদের প্রদান করে, এবং ٱ samae সুরক্ষা ব্যবস্থা আছে ٱ lsama এবং ٱ lobesr এবং ٱ lha ٱ lmat থেকে বেরিয়ে আসা এবং বাইরে আসতে ٱ lmat ٱ lha এবং চক্রান্ত ٱ lomr আল্লাহ, তারা বলবে এটা ধার্মিক না 31 বলুন ([ইউনুস: 31]? 

অর্থাৎ: আপনি বলুন: তিনি কে? যিনি তোমাদেরকে আসমান ও জমীন থেকে রিযিক পৌঁছিয়ে থাকেন? অথবা তিনি কে? যিনি কর্ণ ও চক্ষুসমূহের উপর পূর্ণ অধিকার রাখেন? আর তিনি কে? যিনি জীবন্তকে প্রাণহীন হতে বের করেন আর প্রাণহীনকে জীবন্ত হতে বের করেন? এবং তিনি কে? যিনি সকল কাজ পরিচালনা করেন? তখন অবশ্যই তারা বলবে যে, আল্লাহ। অতএব, আপনি বলুন: তবে কেন তোমরা (শির্ক হতে) নিবৃত্ত থাকছো না? [সূরা ইউনুস ৩১]

২: তাওহীদে উলুহিয়্যা: সকল সৃষ্টিকে বাদ দিয়ে এক আল্লাহর জন্য ইখলাসের সাথে ইবাদত করা। কেননা আরবদের ভাষায় ইলাহ হল: যার জন্য ইবাদতের উদ্দেশ্য করা হয়। তারা বলতো: আল্লাহ হচ্ছেন সকল মা‘বূদের মা‘বুদ বা ইলাহের ইলাহ্, কিন্তু তারা তার সাথে অন্যান্য ইলাহকে ডাকতো। যেমন: সৎলোকগণ, ফেরেশ্তামন্ডলী ইত্যাদি। তারা বলতো: আল্লাহ তাতে রাজি আছেন এবং তারা আল্লাহর নিকট আমাদের জন্য শাফাআত করবে।

৩: তাওহীদে সিফাত: তাওহীদে রুবুবিয়্যা এবং উলুহিয়্যা ততক্ষণ পর্যন্ত সাব্যস্ত হবে না যতক্ষণ না তাওহীদে সিফাত তথা আল্লাহর গুণাগুণকে স্বীকৃতি দেওয়া হবে, কিন্তু কাফেরগণ ঐ সকল লোকদের চেয়ে জ্ঞানী যারা আল্লাহর সিফাতকে অস্বীকার করে। (কাফেররা আল্লাহর সকল গুণাগুণ অস্বীকার করতো না)

পেজ ন্যাভিগেশন

সর্বমোটঃ  50 টি বিষয় দেখান হচ্ছে।