এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

প্রশ্ন-২১: তাঁর ইবাদত কি?


উত্তর: তার তাওহীদ প্রতিষ্ঠা করা, অর্থাৎ ইবাদত কেবল তাঁর জন্যই করা এবং তাঁর আনুগত্য করা।

প্রশ্ন-২২: এর প্রমাণ কি?


উত্তর: আল্লাহর বাণী:

) এবং শুধুমাত্র উপাসনা করার জন্য উপাসনা এবং মানবজাতির সৃষ্টি 56 ([ذاريات: 56] 

অর্থাৎ: আমি জ্বিন এবং মানুষকে সৃষ্টি করেছি শুধুমাত্র আমার ইবাদত করার জন্য। [সূরা যারিয়াত ৫৬]

প্রশ্ন-২৩: আল্লাহ আমাদের উপর সর্বপ্রথম কি ফরয করেছেন?


উত্তর: আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা এবং তাগুত (তথা আল্লাহ বিরোধী শক্তি)কে বর্জন করা বা তাগুতের সাথে কুফরী করা (তাগুতকে মানতে অস্বীকার করা)।

এর দলীল, আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

) লা krah কোন ٱ ldyn লম্বা tbyn ٱ lrshd ডি ٱ lghy fmn ykfr খ ٱ ltghvt vyvmn খ ٱ llh অভাব ٱ stmsk খ ٱ lrvh ٱ lvsqy লা ٱ nfsam elimde বনাম ٱ llh Carnahan রিপোর্ট 256 ([বাকারা: 256]

অর্থাৎ: দ্বীনের ব্যাপারে কোনো জবরদস্তি বা বাধ্য বাধকতা নেই। অবশ্যই হেদায়াত গোমরাহী থেকে পৃথক হয়ে গিয়েছে, অতএব, যে ব্যক্তি তাগুতের সাথে কুফরি করল এবং আল্লাহতে বিশ্বাস স্থাপন করল সে দৃঢ়তর রজ্জুকে আঁকড়িয়ে ধরল যা কখনো ছিন্ন হবার নয়। এবং আল্লাহ শ্রবনকারী মহাজ্ঞানী। [সূরা বাকারা ২৫৬] 

প্রশ্ন-২৪: উরওয়াতুল উসকা বা শক্ত রজ্জু কি?


উত্তর: তা হল: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ। লা ইলাহা অর্থ: কোনো মা‘বুদ নেই (রহিতকরণ) ইল্লাল্লাহ অর্থ: শুধু আল্লাহ  (সাব্যস্তকরণ)

প্রশ্ন-২৫: এখানে না এবং হ্যাঁ বা রহিতকরণ ও সাব্যস্তকরণ দ্বারা উদ্দেশ্য কি?


উত্তর: আল্লাহ ব্যতীত অন্য যা কিছুর ইবাদত বা উপাসনা করা হয় তা রহিত করা এবং বিনা শরীক এক আল্লাহর জন্য যাবতীয় ইবাদত সাব্যস্ত করা।

প্রশ্ন-২৬: এ কথার প্রমাণ কি?


উত্তর: প্রমাণ হল আল্লাহর বাণী:

) এবং যখন ইব্রাহীম (আ।) তাঁর পিতা ও তাঁর সম্প্রদায়কে বললেন, আমি কি তোমাদের উপাসনা করব? [26] 

অর্থাৎ: স্মরণ করুন, যখন ইব্রাহীম (আলাইহিস সালাম) তার পিতা এবং তার সম্প্রদায়কে বলেছিলেন: তোমরা যাদের পুজা কর তাদের সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই। [সূরা যুখরুফ: ২৬] এটি রহিতকরণের প্রমাণ। আর সাব্যস্তকরণের প্রমাণ হচ্ছে আল্লাহর বাণী,

) যারা আমাকে গ্রহণ করেছে তাদের ছাড়া, তারা ২7 (পথপ্রদর্শক: ২7) নির্দেশিত হবে।

“তবে যিনি আমাকে সৃষ্টি করেছেন তিনি ব্যতীত, তিনি আমাকে সঠিক পথ দেখাবেন।”[সূরা যুখরুফ ২৭]

প্রশ্ন-২৭: তাগুত কয়টি?


উত্তর: তাগুত অনেক রয়েছে, তন্মধ্যে প্রধানত: পাঁচটি। আল্লাহর অভিশাপপ্রাপ্ত ইবলিস, যার পূজা বা উপাসনা করা হয় অথচ সে তাতে রাজি থাকে, যে ব্যক্তি নিজের উপাসনার দিকে মানুষকে আহ্বান করে, যে ব্যক্তি গায়েব জানার দাবী করে এবং যে ব্যক্তি আল্লাহর অবতীর্ণ শরীয়ত বাদ দিয়ে অন্য কিছু দ্বারা শাসন করে।

প্রশ্ন-২৮: কালেমার সাক্ষ্য দেওয়ার পর সর্বোত্তম আমল কোনটি?


উত্তর: পাঁচ ওয়াক্ত নামায পড়া, এ নামাযের কিছু শর্ত, রুকন এবং ওয়াজিব রয়েছে।

শর্তগুলো হল: মুসলিম হওয়া, জ্ঞান থাকা, ভাল-মন্দের পার্থক্যের বিবেক থাকা, পবিত্র থাকা, নাপাকী দূর করা, সতর ঢাকা, ক্বিবলামুখী হওয়া, সময় হওয়া এবং নিয়ত করা।

নামাযের রুকন হল চৌদ্দটি: সামর্থ থাকলে কিয়াম বা দাঁড়িয়ে নামায পড়া, তাকবীরে তাহরিমা, সূরা ফাতেহা পাঠ, রুকু, রুকু থেকে উঠা, সাতটি অঙ্গে সিজদা, রুকু থেকে সোজা হয়ে দাঁড়ানো, দুই সিজদার মাঝে বসা, প্রতিটি রুকনে দেরী করা, ধারাবাহিকতা বজায় রাখা, শেষ তাশাহ্হুদ, শেষ বৈঠক, নবীর উপর দুরুদ পাঠ এবং সালাম ফিরানো।

নামাযের ওয়াজিব আটটি: তাকবীরে তাহরীমা বাদে সকল তাকবীর, রুকুতে সুবহানা রব্বিয়াল আযীম বলা, ইমাম ও একাকী নামাযীর জন্য সামিয়াল্লাহু লিমান হামিদা বলা, ইমাম, মুকতাদী এবং একাকী নামাযীর জন্য রব্বানা লাকাল হামদ বলা, সিজদায় সুবহানা রববিয়াল আ‘লা বলা, দুই সিজদার মাঝে রববিগ ফিরলী বলা, প্রথম তাশাহ্হুদ, এর জন্য বসা।

এগুলো ব্যতীত যা কিছু আছে কথা এবং কাজ সবই সুন্নাত।

প্রশ্ন-২৯: আল্লাহ কি সৃষ্টিকে মৃত্যুর পর আবার জীবিত করবেন? এবং তাদের ভাল-মন্দ আমলের হিসাব গ্রহণ করবেন? তার আনুগত্যকারীকে কি জান্নাতে প্রবেশ করাবেন? আর যে ব্যক্তি তার সাথে কুফরী করবে এবং তার সাথে অন্যকে অংশিদার করবে সে কি জাহান্নামে যাবে?


উত্তর: হ্যাঁ, এর দলীল হল আল্লাহ তা‘আলার বাণী:

) زلم ٱلذين كفروا أن لن يبعثوا قل بلى ورت لتبعثن ثم لتنبؤن بما عملتم وذلك على ٱلله يسير 7 ([التغابن: 7] 

অর্থাৎ: কাফিররা ধারণা করে যে, তারা কখনো পুনরুত্থিত হবে না। বলুন: নিশ্চয়ই হবে, আমার রবের শপথ! তোমরা অবশ্যই পুনরুত্থিত হবে। অতঃপর তোমরা যা করতে সে সম্পর্কে অবশ্যই তোমাদেরকে অবহিত করা হবে। এবং এটি আল্লাহর পক্ষে অত্যন্ত সহজ। [সূরা তাগাবূন ৭]

তিনি আরও বলেন:

) যে থেকে তারা আপনাকে সৃষ্টি করেছেন এবং যার মধ্যে আমরা তোমাদের ফিরিয়ে আনব এবং তোমাদের মধ্যে কেউ আবার আরেকটি সময় আসবে 55 ([তাহঃ 55]

অর্থাৎ: আমি তোমাদেরকে মৃত্তিকা হতে সৃষ্টি করেছি, এর মধ্যেই ফিরিয়ে দেব এবং  তা থেকেই পুনর্বার বের করব। [সূরা ত্বহা ৫৫]

কুরআন কারীমে এর অগনিত দলীল রয়েছে।

প্রশ্ন-৩০: যে বক্তি গাইরুল্লাহর নামে পশু জবাই করবে এ আয়াত অনুযায়ী তার হুকুম কি?


উত্তর: সে মুরতাদ কাফের, তার জবাই করা পশু খাওয়া জায়েয নেই। কেননা তার মধ্যে দুটি প্রতিবন্ধকতা পাওয়া যাচ্ছে।

প্রথমটি হল: এটি মুরতাদের দ্বারা যবাই করা, আর কোনো মুরতাদের যবাই করা পশু উলামাদের ঐকমত্যে খাওয়া জায়েয নেই।

দ্বিতীয়টি হল: এটি গাইরুল্লাহর নামে যবাই করার অন্তর্ভুক্ত, আর গাইরুল্লাহর নামে জবাই করা পশু আল্লাহ হারাম করেছেন।

এর দলীল আল্লাহর বাণী:

"আমি আমার মুখের মধ্যে কিছু খুঁজে পাই না যা আমাকে একটি ফাদারের উপর একটি মাহরাম প্রদান করে, যদি না এটি মৃত হয়, রক্ত ​​বা শুয়োরের মাংস হয়, তবে এটি আল্লাহ ব্যতীত অন্যের ঘৃণ্য বস্তু বা লুণ্ঠন।" [আল-আরাম: 145] 

অর্থাৎ: আপনি বলে দিন: ওহীর মাধ্যমে আমার নিকট যে বিধান পাঠানো হয়েছে; তাতে কোনো ভক্ষণকারীর জন্য কোনো হারাম বস্তু পাইনি যা সে ভক্ষণ করে, তবে মৃত জন্তু বা প্রবাহিত রক্ত অথবা শুকরের গোশ্ত, কেননা এটা অবশ্যই নাপাক বা শরীয়ত বিগর্হিত বস্ত্ত; যা আল্লাহ ছাড়া অন্যের নামে উৎসর্গ করা হয়েছে তা হারাম করা হয়েছে। [সূরা আনআম ১৪৫