এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

ত্বালাক্ব
স্ত্রী গর্ভবতী থাকলে অথবা পবিত্রা থাকলে এবং ঐ পবিত্রতায় কোন সঙ্গম না করে থাকলে এক তালাক দেবে।[1] 
আর এর ব্যাপারে দুই ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে।[2]
অতঃপর  স্বামী স্ত্রীকে ঘর থেকে যেতে বলবে না এবং স্ত্রীও  স্বামী-গৃহ ত্যাগ করবে না। বরং গর্ভকাল বা তিন মাসিক পর্যন্ত অপেক্ষা করবে। এই ইদ্দতের মাঝে স্ত্রী ভরণ-পোষণও পাবে। মহান আল্লাহ বলেন,
Hehehe tlqtm শাসিত yha নবীর আল ftlqvhn ldthn vahsva aldh vatqva ঈশ্বর rbkm tkhrjvhn দে লা ভিলা byvthn ykhrjn এই ডিভাইস মুখ রেঞ্জ bfahshh mbynh vtlk আহমেদ ওয়াইটিডি ঈশ্বর ঈশ্বর ভুল লা উদাসীন woooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooooow লাল ঈশ্বর পর yhds এমআরএ zlk মঞ্জুর সীমিত (
‘‘হে নবী! তোমরা যখন তোমাদের স্ত্রীদেরকে তালাক দিতে ইচ্ছা কর তখন ইদ্দতের প্রতি লক্ষ্য রেখে তালাক দিও, ইদ্দতের হিসাব রেখো এবং তোমাদের প্রতিপালককে ভয় করো। তোমরা ওদেরকে সবগৃহ হতে বের করো না এবং ওরাও যেন সে ঘর হতে বের না হয়; যদি না ওরা লিপ্ত হয় স্পষ্ট অশ্লীলতায়। এ হল আল্লাহর বিধান, যে আল্লাহর বিধান লঙ্ঘন করে, সে নিজেরই উপর অত্যাচার করে। তুমি জান না, হয়তো আল্লাহ এরপর কোন উপায় বের করে দেবেন।’[3]
অতঃপর ভুল বুঝে  স্বামীর মন ও মতের পরিবর্তন ঘটলে যদি স্ত্রী ত্যাগ করতে না চায়, তাহলে ইদ্দতের ভিতরেই (তিন মাসিকের পূর্বে পূর্বেই) তাকে ফিরিয়ে নিতে পারে। তবে ফিরিয়ে নেবার সময়ও দুই ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তিকে সাক্ষী রাখবে।
উল্লেখ্য যে, স্ত্রী প্রত্যানীতা করার সময় তার সম্মতি জরুরী নয়।[4]
কিন্তু মন বা মতের পরির্বতন না হলে ও স্ত্রীকে তার জীবন থেকে আরো দূর করতে চাইলে দ্বিতীয় পবিত্রতায় দ্বিতীয় তালাক দেবে এবং অনুরূপ সাক্ষী রাখবে। এরপরও স্ত্রী  স্বামীগৃহ ত্যাগ করবে না এবং  স্বামীও তাকে বের করতে পারবে না। পরন্তু তাকে উত্যক্ত করে সংকটে ফেলাও বৈধ নয়।[5]
এ ক্ষেত্রে স্ত্রীর উচিৎ, নানা অঙ্গসজ্জা ও বিভিন্ন প্রেম-ভঙ্গিমা প্রদর্শন করে  স্বামীর মনকে নিজের দিকে আকর্ষণ করার চেষ্টা করা।
এখনও যদি মত পরিবর্তন হয়, তাহলে  স্বামী তাকে ফিরিয়ে নিতে পারে। নচেৎ একেবারে চিরতরে বিদায় করতে চাইলে তৃতীয় পবিত্রতায় তৃতীয় তালাক দিয়ে বিবাহ চিরতরে বিচ্ছেদ করবে এবং যথানিয়মে সাক্ষী রাখবে। এরপর স্ত্রী  স্বামীগৃহ ত্যাগ করবে, আর তার জন্য কোন ভরণ-পোষণ নেই।[6]
তৃতীয় তালাকের পর  স্বামী চাইলেও স্ত্রীকে আর ফিরিয়ে আনতে পারে না। নতুন মোহর ও বিবাহ আকদেও নয়। হ্যাঁ, তবে যদি ঐ স্ত্রী সেবচ্ছায় দ্বিতীয় বিবাহ করে,  স্বামী-সঙ্গম করে এবং সে  স্বামী সেবচ্ছায় তালাক দেয় অথবা মারা যায়, তবে ইদ্দতের পর পুনরায় প্রথম  স্বামী  নব-বিবাহ-বন্ধনে ঐ স্ত্রীকে ফিরিয়ে আনতে পারে। এর পূর্বে নয়।[7]
এ ক্ষেত্রে পরিকল্পিতভাবে যদি কেউ ঐ নারীকে তার  স্বামীর জন্য হালাল করার উদ্দেশ্যে বিবাহ ক’রে ২/১ রাত্রি সহবাস ক’রে তালাক দেয়, তবুও পূর্ব  স্বামীর জন্য সে বৈধ হবে না। কারণ, এ কাজ পরিকল্পিতভাবেই করা হয় এবং স্ত্রীও অনেক ক্ষেত্রে এ কাজে রাজী থাকে না। পরন্তু হাদীস শরীফে এই হালালকারী দ্বিতীয়  স্বামীকে ‘ধার করা ষাঁড় ও অভিশপ্ত বলা হয়েছে।’[8]
পক্ষান্তরে এক অথবা দুই তালাক দেওয়ার পর ফিরিয়ে না নিলে এবং তার বাকী ইদ্দত তালাক না দিয়ে অতিবাহিত হলে স্ত্রী হারাম হয়ে যায় ঠিকই; কিন্তু তারপরেও যদি  স্বামী-স্ত্রী পুনরায় সংসার করতে চায়, তবে নতুন মোহর দিয়ে নতুনভাবে বিবাহ (আক্দ) পড়ালে এই পুনর্বিবাহে উভয়ে একত্রিত হতে পারে। আর এ ক্ষেত্রে ঐ শাস্তি নেই।
কিন্তু পূর্বে যে এক অথবা দুই তালাক সে ব্যবহার করেছে, তা ঐ স্ত্রীর পক্ষে সংখ্যায় গণ্য থাকবে। সুতরাং দুই তালাক দেওয়ার পর ফিরিয়ে নিয়ে থাকলে বা ইদ্দত পার হয়ে যাওয়ার পর পুনর্বিবাহ করে থাকলে সে আর একটিমাত্র তালাকের মালিক থাকবে। আর একটিবার তালাক দিলে স্ত্রী এমন হারাম হবে যে, সে দ্বিতীয় বিবাহের  স্বামী তাকে সেবচ্ছায় তালাক না দিলে বা মারা না গেলে পূর্ব  স্বামী আর তাকে (বিবাহের মাধ্যমে) ফিরে পাবে না।
  অতএব সারা জীবনে একটি স্ত্রীর ক্ষেত্রে  স্বামী মাত্র ৩ বার তালাকেরই মালিক হয়। ১০ বছর পর পর ৩ বার তালাক দিলেও শেষ বারে পূর্ব অবস্থা ছাড়া আর ফিরিয়ে নিতে বা পুনর্বিবাহ করতে পারে না।[9]
অবশ্য দ্বিতীয়  স্বামী গ্রহণ করার পর তালাক বা মৃত্যুর কারণে ইদ্দতের পর প্রথম  স্বামী যখন নতুন মোহর সহ পুনর্বিবাহ করে, তখন আবার সে নতুন করে­ই তিন তালাকের মালিক হয়।[10]
তালাকপ্রাপ্তা নারী যদি বিধিমত তার  স্বামীকে পুনর্বিবাহ করতে চায় বা অন্য  স্বামী গ্রহণ করতে চায়, তবে কোন স্বার্থ, রাগ বা বিদ্বেষবশতঃ তাকে এতে বাধা দেওয়া তার অভিভাবকের জন্য বৈধ নয়।
মহান আল্লাহ বলেন,
) আল তালিকীফ আল ফায়সা ফাব্বনীন আল-ফালা, ফাল্লা-উল-কাদর, এই হাদিসের সাথে হাদিসের মানঃ সহিহ (Sahih) গ্রন্থঃ সহীহ বুখারী (ইসলামী ফাউঃ)
‘‘আর তোমরা যখন স্ত্রী বর্জন কর এবং তারা তাদের ইদ্দতকাল অতিবাহিত  করে  তখন  তাদেরকে  তাদের   স্বামী  গ্রহণ  করতে  বাধা দিও না; যদি তারা আপোসে খুশীমত রাজী হয়ে যায়।’’[11]
স্ত্রীর মাসিকাবস্থায় তালাক দিলে  স্বামী গোনাহগার হবে এবং সে তালাক গণ্য হবে না। পবিত্রাবস্থায় তালাক দিলেই তবে তা গণ্য হবে। স্ত্রীর মাসিকের খবর না জেনে তালাক দিলে গোনাহগার হবে না এবং তালাকও নয়। পক্ষান্তরে জেনে-শুনে দিলেই গোনাহগার হবে।[12]
অনুরূপ এক মজলিসে তিন তালাক হারাম। সুতরাং যদি কেউ তার স্ত্রীকে লক্ষ্য করে ‘তোমাকে তালাক, তালাক, তালাক, অথবা ‘তোমাকে তিন তালাক’ বলে বা এর অধিক সংখ্যা উল্লেখ করে, তবে তা কেবল এক তালাকই গণ্য হবে। এইভাবে এক সঙ্গে তিন তালাক দেওয়ার পর ভুল বুঝে পুনরায় যথারীতি ইদ্দতে স্ত্রীকে ফিরিয়ে নিতে চাইলে বা ইদ্দতের পর যথানিয়মে পুনর্বিবাহ করতে কোন বাধা নেই।[13]
কিন্তু অনুরূপ তিনবার করে থাকলে পূর্বোক্ত নিয়মানুযায়ী চাইলে পুনঃ সংসার করতে পারে। নচেৎ না।
অনিয়মে তালাক দেওয়া আল্লাহর নির্ধারিত সীমালঙ্ঘন করার অন্তর্ভুক্ত।[14]
সুতরাং সময় ও সংখ্যা বুঝে তালাক দেওয়া তালাকদাতার জন্য ফরয।
যদি  স্বামী তার স্ত্রীকে বলে ‘যদি তুমি অমুক কাজ কর বা অমুক জায়গায় যাও, তাহলে তোমাকে তালাক’ এবং এই বলাতে যদি সত্য সত্যই তালাকের নিয়ত থাকে, তবে এমন লটকিয়ে রাখা তালাক স্ত্রীর ঐ কাজ করার সাথে সাথে গণ্য হয়ে যায়।
অবশ্য তালাকের নিয়ত না থেকে যদি স্ত্রীকে ভয় দেখিয়ে কেবল ঐ কাজে কঠোর নিষেধ করাই উদ্দেশ্য থাকে, তাহলে তালাক গণ্য হবে না। তবে স্ত্রীর ঐ কাজ করার পর  স্বামীকে কসমের কাফ্ফারা লাগবে।[15]
অনুরূপ তালাকের উপর কসম খেলেও। যেমন যদি কেউ তার ভাইকে বললে, ‘তুই যদি এই করিস, তাহলে আমার স্ত্রী তালাক’ বা ‘আমি যদি তোর ঘর যাই, তাহলে আমার স্ত্রী তালাক’, তবে এ ক্ষেত্রেও নিয়ত বিচার্য। তালাকের প্রকৃত নিয়ত হলে তালাক হবে; নচেৎ না। তবে কসমের কাফ্ফারা অবশ্যই লাগবে। অনুরূপ তর্কের সময়ও যদি কেউ বলে ‘এই যদি না হয় তবে আমার স্ত্রী তালাক’ অথচ বাস্তব তার প্রতিকূল হয়, তাহলে ঐ একই বিধান প্রযোজ্য। তবে তালাক নিয়ে এ ধরনের খেল খেলা  স্বামীর জন্য উচিৎ নয়।[16]
কেউ যদি  স্বামীকে তালাক দিতে বাধ্য করে, তবে এই জোরপূর্বক অনিচ্ছাকৃত তালাক গণ্য নয়। অনুরূপ নেশাগ্রস্ত মাতালের তালাক।[17]
চরম রেগে হিতাহিত জ্ঞানহীন ক্রুদ্ধ ব্যক্তির তালাক।[18]
ভুল করে তালাক, অতিশয় ভীত-বিহ্বল ব্যক্তির তালাক গণ্য নয়।[19]
মরণ-শয্যায় শায়িত  স্বামী তার মীরাস থেকে স্ত্রীকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তালাক দিচ্ছে বলে জানা গেলে তাও ধর্তব্য নয়।
সুতরাং সে তার ওয়ারেস হবে এবং  স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত পালন করবে।[20]
স্বামী তালাকের ব্যাপারে স্ত্রীকে এখতিয়ার দিলে এবং স্ত্রী তালাক পছন্দ করলে তালাক হয়ে যাবে।
বিবাহ ও তালাক নিয়ে কোন ঠাট্টা-মজাক নেই। মজাক করেও স্ত্রীকে তালাক দিলে তা বাস্তব।[21]
বিবাহ প্রস্তাবের পর কোন মনোমালিন্য হলে  স্বামী তার বাগদত্তা স্ত্রীর উদ্দেশ্যে যদি তালাক বা হারাম বলে উল্লেখ করে, তবে তা ধর্তব্য নয়। অবশ্য বিবাহের পর তাকে কসমের কাফ্ফারা লাগবে।[22]
তালাকের খবর স্ত্রী না পেলেও তালাক গণ্য হবে।[23]
আল্লাহ, তাঁর রসূল বা দ্বীনকে  স্বামী গালি দিলে স্ত্রী তালাক হয়ে যাবে। ফিরে নিতে চাইলে তওবা করে নতুন মোহরে পুনর্বিবাহ করতে হবে।[24]
চিঠির মাধ্যমে তালাক দিলে তা গণ্য হবে। অনুরূপ বোবা যদি ইঙ্গিতে তালাক দেয় তবে তাও গণ্য। অবশ্য লিখতে জানলে তার ইঙ্গিত গণ্য নয়।[25]
ফুটনোটঃ[1] (বুখারী, মুসলিম)
[2] (সূরা আত্-ত্বলাক (৬৫) : ২, সআবু দাঊদ ১৯১৫নং)
[3] (আলকুরআন কারীম ৬৫/১)
[4] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৬৬)
[5] (সূরা আত-ত্বলাক্ব (৬৫) : ৬)
[6] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/১৬৭)
[7] (সূরা আল-বাক্বারা (২ ) : ২৩০)
[8] (ইরঃ ৬/৩০৯, ইবনে মাজাহ ১৯৩৬নং, মিশকাতুল মাসাবীহ ৩২৯৬নং)
[9] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৭)
[10] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৯)
[11] (সূরা আল-বাক্বারাহ (২) : ২৩২)
[12] (ফাতাওয়াল মারআহ ৬৩-৬৪ পৃঃ)
[13] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩/১৭১-১৭৩, ২৬/১৩৩, তুহফাতুল আরূস, ১৪৮ ও ২২৮ পৃঃ)
[14] (সূরা আল-বাক্বারা (২) ; ২২৯, ৬৫/১)
[15] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৫/৯৪)
[16] (কিতাবুদ দাওয়াহ২/২৪২, ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯১)
[17] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৩২/২৫২)
[18] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/৩৪৭, ২৬/১৩৩)
[19] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২২১)
[20] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৪৯)
[21] (ইরুওয়াউল গালীল ১৮২৬নং)
[22] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ৯/৫৮, আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ২/৭৮৭)
[23] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮০৪)
[24] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৮৩)
[25] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২২৯)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
ইদ্দত

স্বামী তালাক দিলে স্ত্রী ইদ্দত পালন না করে দ্বিতীয়  স্বামী গ্রহণ করতে পারে না। এতে  স্বামী-স্ত্রীকে বিবাহ-বিচ্ছেদের ব্যাপারে পুনর্বিবেচনা করতে সুযোগ দেওয়া হয়। ফলে সেই সুযোগে স্ত্রী প্রত্যানীতা করতে পারে। তাছাড়া ইদ্দত বিধিবদ্ধ করায় এ কথার ইঙ্গিত রয়েছে যে, বিবাহ কোন ছেলেখেলার বিষয় নয়। এর আগে-পিছে রয়েছে বিভিন্ন নিয়ম-নীতি ও সীমা-সময়।
পরন্তু ইদ্দতের মাঝে নারীর গর্ভাশয় পরীক্ষা হয়। যাতে দুই  স্বামীর তরফ থেকে বংশের সংমিশ্রণ না ঘটে।
তালাকপ্রাপ্ত নারী যদি অরমিতা হয় বা তার বাসরই না হয়ে থাকে, তবে তার কোন ইদ্দত নেই।[1]
রমিতা মহিলা যদি ঋতুমতী হয়, তবে তার ইদ্দত তিন মাসিক; তিন মাস নয়। সুতরাং সন্তানকে দুধ পান করাবার সময় যদি ২/৩ বছরও মাসিক না হয়, তবে তিন মাসিক না হওয়া পর্যন্ত সে ইদ্দতেই থাকবে।[2]
ঋতুহীনা কিশোরী বা বৃদ্ধা হলে তার ইদ্দত তিন মাস।[3]
কিন্তু ইদ্দত শুরু করে কিছু দিন পরে তার ঋতু শুরু হলে, ঋতু হিসাবেই তাকে তিন ইদ্দত পালন করতে হবে।[4]
কোন জানা কারণে মাসিক বন্ধ থাকলে বা হবার সম্ভাবনা না থাকলে তার ইদ্দতও  তিন মাস। কিন্তু হবার র্সম্ভাবনা থাকলে ফিরে আসা পর্যন্ত অপেক্ষা করে তিন মাসিক ইদ্দত পালন করবে। অবশ্য যদি অজানা কারণে মাসিক বন্ধ থাকে তাহলে ১ বছর অর্থাৎ গর্ভের ৯ মাস এবং ইদ্দতের তিন মাস অপেক্ষা করে তবে দ্বিতীয়  স্বামী গ্রহণ করতে পারবে।[5]
গর্ভবতীর ইদ্দত প্রসবকাল পর্যন্ত।[6]
মাস অথবা মাসিক হিসাবে ইদ্দত শুরু করার কিছু দিন পর গর্ভ প্রকাশ পেলে প্রসবকাল পর্যন্তই অপেক্ষা করতে হবে।
তালাকপ্রাপ্ত মহিলা তার তালাকের খবর তিন মাসিক পর পেলে তার ইদ্দত শেষ। আর নতুন করে ইদ্দত নেই।[7]
খোলা তালাকের ইদ্দত এক মাসিক। মাসিকের পর দ্বিতীয়  স্বামী গ্রহণ করতে পারে।[8]
অনুরূপ  স্বামী মারা গেলে বিরহবিধুরা বিধবা স্ত্রীকেও ইদ্দত ও শোকপালন করতে হবে। (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২৩৪)
এতে স্ত্রীর গর্ভাশয় গর্ভ থেকে খালি কি না তা পরীক্ষা হবে; যাতে বংশে সংমিশ্রণ না ঘটে।  তাছাড়া  এতে  স্ত্রীর নিকট  স্বামীর যে মর্যাদা ও অধিকার তার অভিব্যক্তি ঘটে।
সুতরাং বিধবা গর্ভবতী হলে প্রসবকাল পর্যন্ত ইদ্দত পালন করবে। (আর তা ২/১ ঘন্টাও হতে পারে।) অতঃপর সে ভিন্ন  স্বামী গ্রহণ করতে পারে। তবে গর্ভবতী না হলে ৪ মাস ১০ দিন অপেক্ষা করে ইদ্দত পালন করবে।[9]
বিধবার বিবাহের পর বাসর না হয়ে থাকলেও ঐ ইদ্দত পালন করবে। যেমন, নাবালিকা কিশোরী অথবা অতিবৃদ্ধা হলেও ইদ্দত পালন করতে হবে।[10]
রজয়ী তালাকপ্রাপ্তা স্ত্রী (ইদ্দতে থাকলে; যাকে  স্বামী ফিরিয়ে নিতে পারে) তার  স্বামী মারা গেলে নতুন করে  স্বামী-মৃত্যুর ইদ্দত পালন করবে।[11]
কোনও কারণে ইদ্দতের সময় পিছিয়ে দেওয়া যায় না।  স্বামীর মৃত্যুর পর থেকেই ইদ্দত পালন শুরু করতে হবে।[12]
 স্বামীর মৃত্যুর খবর ৪ মাস পর জানলে তার ইদ্দত মাত্র ঐ বাকী ১০দিন। ৪ মাস দশ দিন পর জানলে আর কোন ইদ্দত নেই।[13]
ইদ্দতের ভিতরে বিধবার শোকপালন ওয়াজেব। এই শোক পালনে বিধবা ত্যাগ করবেঃ-
- প্রত্যেক সুন্দর পোশাক। তবে এর জন্য কোন নির্দিষ্ট ধরনের বা রঙের কাপড় নেই। যে কাপড়ে সৌন্দর্য নেই সেই কাপড় পরিধান করবে। সাদা কাপড়ে সৌন্দর্য থাকলে তাও ব্যবহার নিষিদ্ধ।[14] নির্দিষ্টভাবে কালো পোষাক ব্যবহারও বিধিসম্মত নয়।[15]
- সর্বপ্রকার অলঙ্কার। অবশ্য সময় দেখার জন্য হাতে ঘড়ি বাঁধায় দোষ নেই।[16]  হ্যাঁ, তবে বাইরে গেলে টাইম দেখার জন্য প্রয়োজন না হলে বা রাখার মত পকেট বা ব্যাগ থাকলে হাতে বাঁধবে না। কারণ, ঘড়িতেও সৌন্দর্য আনে।
- সর্বপ্রকার প্রসাধন ও অঙ্গরাগ; সুরমা, কাজল, যে কোন রং ইত্যাদি।
- সর্বপ্রকার সুগন্ধি; সুবাসিত সাবান বা তৈলাদি ব্যবহার নিষিদ্ধ।[17]
এমন কি নিজের ছেলেমেয়ে বা অন্য কাউকে সেন্ট জাতীয় কিছু লাগিয়ে দিতেও পারে না। যেহেতু সুগন্ধি হাতে এসে যাবে তাই।[18]
অবশ্য মাসিক থেকে পবিত্রতার সময় দুর্গন্ধ দূরীকরণার্থে কিছু সেন্ট লজ্জাস্থানে ব্যবহার করতে পারে।[19]
- স্বামীগৃহের বাইরে যাওয়া। যেহেতু  স্বামীগৃহেই ইদ্দত পালন ওয়াজেব। তবে একান্ত প্রয়োজন বা অগত্যায় (পর্দার সাথে) বাইরে যাওয়া বৈধ। যেমন, ছাত্রী বা শিক্ষিকা হলে স্কুল-কলেজ যেতে পারে।[20] কেউ না থাকলে গরু-ছাগল, ফসলাদির দেখাশোনা করতে পারে ইত্যাদি।
অনুরূপ  স্বামীর বাসস্থানে কোন আত্মীয় না থাকলে ভয়ের কারণে কোন অন্য আত্মীয়র বাড়িতে ইদ্দত পালন করা যায়।[21] 
এ ছাড়া কুটুমবাড়ি, সখীর বাড়ি বা আর কারো বাড়ি বেড়াতে যাওয়া নিষিদ্ধ।[22] এমনকি হজ্জও করতে পারে না। অবশ্য মায়ের বাড়িতে থাকা অবস্থায়  স্বামীর মৃত্যু-সংবাদ পৌঁছলে স্ত্রী সেখানেই ইদ্দত পালন করবে।
ইদ্দতের সময় অতিবাহিত হলে এসব বিধি-নিষেধ শেষ হয়ে যাবে। এর পর রীতিমত সব কিছু ব্যবহার করতে পারে এবং বিবাহও করতে পারে। বরং যারা ধৈর্যহারা হয়ে ব্যভিচারের পথে পা বাড়িয়ে ‘রাঁড়ের ঘরে ষাঁড়ের বাসা’ করে তাদের পক্ষে বিবাহ ফরয।
ইদ্দতের মাঝে বোগল ও গুপ্তাঙ্গের লোম এবং নখাদি কেটে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকা, মাছ-গোশত, ফল ইত্যাদি উত্তম খাদ্য খাওয়া দূষণীয় নয়। যেমন চাঁদের মুখ দেখতে নেই, বিয়ের কনে স্পর্শ করতে নেই প্রভৃতি ধারণা ও আচার কুসংস্কার।[23]
এই বিধবা  স্বামীর ওয়ারেস হবে। রজয়ী তালাকপ্রাপ্তা হলে এবং ইদ্দতের ভিতরে বিধবা হলে ওয়ারেস হবে। বাতিল বিবাহ, খোলা তালাক প্রভৃতির ইদ্দতে ওয়ারেস হবে না। এদের শোক পালনের ইদ্দতও নেই। অনুরূপ তালাকপ্রাপ্তা তার ইদ্দত অতিবাহিত হওয়ার পর  স্বামী মারা গেলে ওয়ারেস হবে না। হ্যাঁ, যদি  স্বামী তার মরণ-রোগে স্ত্রীকে মীরাস থেকে বঞ্চিত করার উদ্দেশ্যে তালাক দিয়েছে বলে জানা যায়, তবে তার ইদ্দত পার হয়ে গেলেও (১ বা ২ তালাকের পর; যাতে পুনর্বিবাহ সম্ভব) ঐ স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহ না করে থাকলে ওয়ারেস হবে। যথানিয়মে তিন তালাকপ্রাপ্তা হলে অথবা ইদ্দতের পর বিবাহ করে থাকলে সে আর ওয়ারেস হবে না।[24] মিলন না হয়ে  স্বামী মারা গেলেও স্ত্রী ওয়ারেস হবে।[25]
ফুটনোটঃ[1] (সূরা আল-আহযাব (৩৩) : ৪৯)
[2] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২৮, ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯৯)
[3] (সূরা আল-আহযাব (৬৫) : ৪)
[4] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৯৭)
[5] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯৯)
[6] (সূরা আল-আহযাব (৬৫) : ৪)
[7] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮০৪)
[8] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯৯)
[9] (আল-বাক্বারা (২) : ২৩৪)
[10] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১১৪,১২০,১৩২)
[11] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/ ৮২০)
[12] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২/৮১৫, ফাতাওয়াল মারআহ ৬৫পৃঃ)
[13] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮০৪)
[14] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/১৫৮)
[15] (ফাতাওয়াল মারআহ ৬৫পৃঃ)
[16] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ১৯/১৫৮)
[17] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮১৩)
[18] (কিতাবুদ দাওয়াহ২/১৪৩)
[19] (লিকাউল বা-বিল মাফতুহ, ইবনে উসাইমীন ২৪/১৩)
[20] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৬/১৩১)
[21] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৯/১৬৮)
[22] (তামবীহাতুল মু’মিনাত ১৫৪পৃঃ)
[23] (তামবীহাতুল মু’মিনাত ১৫৪-১৫৫ পৃঃ)
[24] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮২০, কিতাবুদ দাওয়াহ২/২০৫, ফাতাওয়াল মারআহ ৯৭-৯৮)
[25] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৮২১)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
স্ত্রী হারাম করলে

‘যদি টেলিভিশনে দ্বীনী প্রোগ্রাম ছাড়া অন্য কিছু দেখ, তবে তুমি হারাম’ বলে স্ত্রী হারাম করলে বা কোন অন্য কারণে ‘তুমি আমার জন্য হারাম’ ইত্যাদি বললে এবং তালাকের নিয়ত না হলে তালাক হবে না। বরং স্ত্রী সহবাস হারাম করার নিয়ত হলে তার সঙ্গে সঙ্গম অবৈধ হয়ে যাবে। বৈধ করতে চাইলে কসমের কাফ্ফারা জরুরী।  আল্লাহ বলেন,
Yha শাসিত নবীর লিম মেই thrm মিলিয়ন HL ঈশ্বর tbtghy mrzat zvajk Nasri গফুর রহিম (1) লম্বা টাস্ক thlh আমাদের জন্য ঈশ্বরের Nasri mvlakm cxinvali Alimi হাকিম ((2) আল দুর্ভাগ্য অ্যাকাউন্ট
‘‘হে নবী! আল্লাহ তোমার জন্য যা বৈধ করেছেন তুমি তোমার স্ত্রীদেরকে খুশী করার জন্য তা তোমার উপর অবৈধ করে নিচ্ছ কেন? আল্লাহ ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু। আল্লাহ তোমাদের শপথ হতে মুক্তিলাভের ব্যবস্থা করেছেন। আল্লাহ তোমাদের সহায়। তিনি সর্বজ্ঞ, প্রজ্ঞাময়।’’[1]
প্রকাশ যে, কসমের কাফ্ফারা (প্রায়শ্চিত্ত) দশজন দরিদ্রকে মধ্যম ধরনের খাদ্য-দান (মাথা পিছু ১ কিলো ২৫০ গ্রাম করে চাল দিলে চলে) অথবা ঐ দশজনকে বস্ত্র (গেঞ্জি-লুঙ্গি) দান কিংবা একজন ক্রীতদাস মুক্তি। আর এ সবে সামর্থ্য না থাকলে ৩ দিন রোজা পালন।[2]
স্ত্রীকে ‘তুমি আমার মায়ের পিঠের মত’ বা ‘তুমি আমার মা’ বা বোন ইত্যাদি বলে হারাম করলে একে ‘যিহার’ বলে। এমন বলা বা করা হারাম। করলে কাফ্ফারা ওয়াজেব এবং এর পূর্বে সহবাস ও তার ভূমিকা অবৈধ।
আল্লাহ তা‘আলা বলেন,
) Alzyn yzahrvn abirun ডি nsayhm মা এই mhathm mhathm ডিভাইসে allayy vldnhm vanhm lyqvlvn ঈশ্বর lfv ভ্যান ডি vzvra বিশ্বস্ত প্রতিফলন অস্বীকার ghfvr- yzahrvn ডি nsayhm তার yvdvn প্রকৃতপক্ষে চৌকো করে কাটা fthryr ডি rqbh আগে ytmasa zlkm tvzvn এমনকি Nasri tmlvn khbyr- fmn লিম yjd fsyam নাগরিকদের mttabyn মিনিট আগে ytmasa fmn লিম ystt fatam সপ্তম মি স্ক্যান করুন zlk ltvmnva ballh vrsvlh vtlk সীমা ঈশ্বর vllkafryn lym শাস্তি (
‘‘তোমাদের মধ্যে যারা নিজেদের স্ত্রীগণের সাথে যিহার করে তারা জেনে রাখুক, তাদের স্ত্রীগণ তাদের মাতা নয়। যারা তাদেরকে ভূমিষ্ঠ করে কেবল তারাই তাদের মাতা, ওরা তো ঘৃণ্য ও ভিত্তিহীন কথাই বলে। নিশ্চয় আল্লাহ পাপমোচনকারী ও ক্ষমাশীল, যারা নিজেদের স্ত্রীগণের সাথে যিহার করে অতঃপর ওদের উক্তি প্রত্যাহার করে নিতে চায়, তবে তাদের প্রায়শ্চিত্ত (কাফ্ফারা) হল যৌন কামনায় একে অপরকে ( স্বামী স্ত্রীকে) স্পর্শ করার পূর্বে ১টি ক্রীতদাস স্বাধীন। এ নির্দেশ তোমাদের দেওয়া হল। তোমরা যা কর আল্লাহ তার খবর রাখেন। কিন্তু যার এ সামর্থ্য নেই তার প্রায়শ্চিত্ত হল যৌন-কামনায় একে অপরকে স্পর্শ করার পূর্বে একাদিক্রমে দু’মাস রোযা পালন। যে এতে অসমর্থ সে ৬০ জন অভাবগ্রস্তকে খাদ্য (মাথাপিছু ১ কিলো ২৫০ গ্রাম করে চাল) দান করবে। এটা এজন্য যে তোমরা যেন আল্লাহ ও তদীয় রসূলে বিশ্বাস স্থাপন কর। এগুলি আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা। আর অবিশ্বাসীদের জন্য রয়েছে মর্মন্তুদ শাস্তি।’’[3]
তালাকের নিয়তে যিহার করলে (স্ত্রীকে মা বা মায়ের মত বললে) তালাক হবে না যিহারই হবে। পক্ষান্তরে যিহারের নিয়তে তালাক দিলে তালাক হয়ে যাবে।[4]
স্ত্রীর তরফ থেকে যিহার হয় না। তবে  স্বামীকে ‘বাপ’ বললে  স্বামী সহবাস হারাম এবং এর মান কসমের সমান। অতএব কসমের কাফ্ফারা দিলেই তবে  স্বামী-সঙ্গম বৈধ হবে।[5]
 স্বামী যদি তার স্ত্রীকে কোন গুণ, রূপ, বা কর্মপটুতা ইত্যাদিতে তার মায়ের সাথে তুলনা করে বলে ‘তুমি আমার মায়ের মত’ (অর্থাৎ গুণে বা কর্মে) এবং অনুরূপ স্ত্রী যদি তার  স্বামীকে বলে ‘আপনি আমার বাপের মত’ (অর্থাৎ কোন গুণে বা কর্মে) তবে কেউ কারো পক্ষে হারাম হয় না।[6]
ফুটনোটঃ[1] (আলকুরআন কারীম ৬৬/১-২,মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৮/৭৬)
[2] (সূরা আল-মায়িদা (৫): ৮৯)
[3] (আল-মুজাদালাহ (৫৮) : ২-৪)
[4] (ফিকহুস সুন্নাহ ২/২৭৬)
[5] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯৩)
[6] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ২/৭৯৩)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
অশুচিতা

যুবতী নারীর সৃষ্টিগত প্রকৃতি মাসিক রক্তস্রাব তার ইদ্দত ইত্যাদির হিসাব দেয়, গর্ভের খবর জানা যায়। আর ঐ স্রাবই তার গর্ভস্থিত ভ্রূণের আহার হয়।
গর্ভাবস্থাতেও মাসিক আসতে পারে। এমন হলে এই মাসিকে তালাক হারাম নয়। কারণ, তার ইদ্দত হল গর্ভকাল।[1]
অভ্যাসগত দিনে আগে-পিছে হয়ে মাসিক হলেও তা মাসিকের খুন, অভ্যাস ৭ দিনের থাকলে যদি ৬ দিনে পবিত্রা হয় তবে সে পবিত্রা, ৮ম দিনেও খুন বিদ্যমান থাকলে তা মাসিকের খুন।[2]
মাসিকের খুন সাধারণতঃ রক্তের ন্যায়। কিন্তু মাঝে বা শেষের দিকে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন আসে, তবে তাও মাসিকের শামিল। অবশ্য পবিত্রা হওয়ার পর যদি ঐ ধরনের খুন আসে, তবে তা মাসিক নয়।[3]
কোন স্ত্রীলোকের ১দিন খুন পরদিন বন্ধ; অনুরূপ একটানা সর্বদা হতে থাকে তবে তা মাসিক নয় বরং ইস্তিহাযা। (এর বর্ণনা পরে আসছে।)
অভ্যাসমত ঋতুর কয়দিনের ভিতরে যদি একদিন খুন একদিন বন্ধ থাকে, তবে তার পুরোটাই মাসিক ধর্তব্য। খুন বন্ধ থাকলেও পবিত্রতা নয়।[4]
তবে মাঝের ঐ দিনগুলিতে যদি পবিত্রতার সাদাস্রাব দেখা যায়, তবে তা পবিত্রতা।[5]
মাসিকের এই অশুচিতায় যে সব ধর্মকর্মাদি নিষিদ্ধ তা নিম্নরূপঃ-
১। নামাযঃ মাসিকাবস্থায় নামায পড়া বৈধ নয়। পবিত্রা হলে গোসল করে তবেই নামায পড়বে। যে অক্তে কেবল এক রাকআত নামায পড়ার মত সময়ের পূর্বে পবিত্রা হবে গোসলের পর সেই অক্তেরও নামায কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কেউ সূর্যাস্তের ২ মিনিট পূর্বে পবিত্রা হয় তবে (সূর্যাস্তের পর) গোসল করে আসরের নামায কাযা পড়বে অতঃপর মাগরিবের নামায আদায় করবে। যে অক্তে গোসল করবে কেবল সেই অক্ত থেকে নামায পড়া যথেষ্ট নয়। প্রিয় নবী (সাঃ) বলেন,
من أدرك ركعة من الصلاة فقد أدرك الصلاة।
‘‘যে ব্যক্তি নামাযের এক রাকআত পায়, সে নামায (নামাযের সময়) পেয়ে যায়।’’[6]
আমি প্রথম যিনি প্রথম সব।
‘‘যে ব্যক্তি সূর্যাস্তের পূর্বে আসরের এক রাকআত পেয়ে যায়, সে আসর পেয়ে নেয় এবং যে ব্যক্তি সূর্যোদয়ের পূর্বে ফজরের এক রাকআত নামায পেয়ে যায়, সে ফজর পেয়ে নেয়।’’[7]
সুতরাং কোন ওয়াক্তে প্রবেশ হওয়ার পর অথবা ঐ নামায পড়তে পড়তে মাসিক শুরু হলে পবিত্রতার পর ঐ ওয়াক্তের নামাযও কাযা পড়তে হবে। যেমন যদি কারো সূর্যাস্তের ২ মিনিট পর ঋতু শুরু হয় (যাতে ১ রাকআত নামায পড়া যায়), তাহলে পবিত্রতার গোসলের পর মাগরিবের ঐ নামায কাযা পড়বে।[8]
২। কুরআন স্পর্শ ও পাঠঃ
নাপাকে কুরআন স্পর্শ অবৈধ।[9]
অনুরূপ মুখে উচ্চারণ করে ঋতুমতী কুরআন তেলাঅত করবে না। মনে মনে পড়তে দোষ নেই। অবশ্য যদি ভুলে যাওয়ার ভয় হয় অথবা শিক্ষিকা ও ছাত্রীর কোন আয়াত উল্লেখ করা জরুরী হয়, তবে উচ্চারণ করতে প্রয়োজনে বৈধ।[10]
পক্ষান্তরে দুআ দরূদ, যিকর, তসবীহ তহলীল, ইস্তেগফার, তওবা, হাদীস ও ফিক্হ পাঠ, কারো দুআয় আমীন বলা, কুরআন শ্রবণ ইত্যাদি  বৈধ।[11]
কুরআন মাজীদের তফসীর বা অনুবাদ স্পর্শ করে পড়া দোষের নয়। সিজদার আয়াত শুনে সিজদা করাও বৈধ।[12]
ঋতুমতীর কোলে মাথা রেখে তার সন্তান অথবা  স্বামী কুরআন তেলাঅত করতে পারে।[13]
৩। রোযা পালনঃ
মাসিকাবস্থায় রোযা পালন নিষিদ্ধ। তবে রমযানের ফরয রোযা পরে কাযা করা জরুরী। (কিন্তু ঐ অবস্থায় ছাড়া নামাযের কাযা নেই।)[14]
রোযার দিনে সূর্যাস্তের ক্ষণেক পূর্বে মাসিক এলে ঐ দিনের রোযা বাতিল; কাযা করতে হবে। সূর্যাস্তের পূর্বে মাসিক আসছে বলে মনে হলে; কিন্তু প্রস্রাবদ্বারে খুন দেখা না গেলে এবং সূর্যাস্তের পর দেখা দিলে রোযা নষ্ট হবে না।
ফজর উদয় হওয়ার ক্ষণেক পরে মাসিক শুরু হলে ঐ দিনে রোযা হবে না। ফজর উদয়ের ক্ষণেক পূর্বে খুন বন্ধ হলে গোসল না করলেও ঐ দিনের রোযা ফরয।[15]
ফজরের পর গোসল করে নামায পড়বে, অনুরূপ  স্বামী-স্ত্রী সঙ্গম করে  সেহরী খেয়ে পরে ফজরের আযান হয়ে গেলেও রোযার কোন ক্ষতি হয় না। গোসল করে নামায পড়া জরুরী।[16]
রোযা রেখে দিনের মধ্যভাগে খুন এলে রোযা নষ্ট ও পানাহার বৈধ। যেমন মাসিকের দিনগুলিতে মহিলা পানাহার করতে পারবে এবং দিনে মাসিক বন্ধ হলেও দিনের অবশিষ্ট সময়ে পানাহার বৈধ।[17]
৪। তওয়াফঃ
ফরয, নফল সর্ব প্রকার তওয়াফ অবৈধ। অবশ্য সায়ী এবং মিনা, মুযদালিফাহ ও আরাফাতে অবস্থান, পাথর মারা ইত্যাদি বৈধ। যেমন বিদায়ী তওয়াফের পূর্বে মাসিক শুরু হলে ঐ তওয়াফ করা ওয়াজেব থাকে না।[18]
কিন্তু হজ্জ বা উমরার তওয়াফ পাক হওয়ার পর করতেই হবে। নচেৎ হজ্জ বা উমরা হবে না।[19]
৫। মসজিদ ও ঈদগাহে অবস্থানঃ
মাসিক অবস্থায় মসজিদে বা ঈদগাহে বসা অবৈধ।[20] অবশ্য মসজিদের বাইরে থেকে মসজিদের ভিতরে স্থিত কোন বস্ত্ত উঠিয়ে নেওয়া অবৈধ নয়।[21]
৬।  স্বামী-সঙ্গমঃ
মাসিকাবস্থায় সঙ্গম হারাম। মহান আল্লাহ বলেন,
আল্লাহর রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, 'হে আল্লাহ্, আসমান ও যমীনের পালনকর্তা!'
‘‘ওরা তোমাকে রজঃস্রাব (কাল ও স্থান) প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসা করে, তুমি বল উহা অশুচি। সুতরাং রজঃস্রাবকালে স্ত্রী-সংসর্গ থেকে দূরে থাক এবং পবিত্রা না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিকট (সঙ্গমের উদ্দেশ্যে) যেও না। অতঃপর যখন তারা পরিশুদ্ধ হয়ে যায়, তখন তাদের নিকট ঠিক সেইভাবে গমন কর যেভাবে আল্লাহ তোমাদেরকে আদেশ করেছেন। নিশ্চয় আল্লাহ তওবাকারীদেরকে এবং যারা পবিত্র থাকে তাদেরকে ভালোবাসেন।’’[22]
মাসিকাবস্থায় সঙ্গম করে ফেললে এক দ্বীনার (সওয়া ৪ গ্রাম সোনা বা তার মূল্য) অথবা অর্ধ দ্বীনার সদকা করতে হবে।[23]
অবশ্য অসময়ে যৌনক্ষুধা নিবারণের জন্য স্ত্রী জাঙ্গিয়া পরে লজ্জাস্থান (প্রস্রাব ও পায়খানাদ্বার) পর্দা করে অন্যান্য স্থানে বীর্যপাত ইত্যাদি সর্বপ্রকার যৌনাচার বৈধ।[24]
যেমন, পায়ু ও যোনীপথে সঙ্গম করার আশঙ্কা না থাকলে বা ধৈর্য রাখতে পারলে স্ত্রীর ঊরু-মৈথুনও বৈধ।
প্রকাশ যে, ঋতুমতী স্ত্রীর এটো কিছু বা তার মুখের লালা নাপাক নয়।
৭। তালাক দেওয়াঃ
পূর্বেই আলোচিত হয়েছে যে, মাসিকাবস্থায় তালাক দেওয়া বৈধ নয়। আর দিয়ে ফেললেও ঐ তালাক বাতিল; ধর্তব্য নয়। অবশ্য স্ত্রীর সাথে বাসর করার পূর্বে, গর্ভকালে, অথবা খোলা তালাক প্রার্থনাকালে মাসিকাবস্থায় থাকলে তালাক দেওয়া অবৈধ নয়।[25]
মাসিকাবস্থায় বিবাহ আক্দ (বিয়ে পড়ানো) বৈধ। তবে বাসর না করাই উত্তম। বর মিলন না করে ধৈর্য রাখতে পারলে বাসর করবে; নচেৎ না।[26]
মাসিক বন্ধ হলেই গোসল ফরয। যে সময়েই হোক গোসল করতে হবে। দেশীয় প্রথা অনুযায়ী অথবা লজ্জার খাতিরে নির্দিষ্ট সময় থেকে গোসল পিছিয়ে নামায নষ্ট করলে গোনাহগার হবে। আরো খুন আসবে সন্দেহে কোন নামায পিছিয়ে দিলে কাযা পড়ে নেবে।
মহিলা গোসল নিম্নরূপে করবেঃ
প্রথমে সাবানাদি দিয়ে লজ্জাস্থান ভালোরূপে ধুয়ে হাত পরিষ্কার করে নেবে। অতঃপর গোসলের নিয়ত করে ‘বিসমিল্লাহ’ বলে পূর্ণ ওযু করবে, তারপর ৩ বার মাথায় পানি নিয়ে ভালো করে এমনভাবে ধৌত করবে, যেন চুলের গোড়ায়-গোড়ায় পানি পৌঁছে যায়।  অতঃপর সারা শরীর ধুয়ে নেবে। পরে বস্ত্রখন্ডে বা তুলোর মধ্যে কোন সুগন্ধি লাগিয়ে লজ্জাস্থানে রেখে নেবে।
গোসলের পর আবার খুন দেখা দিলে যদি মেটে বা গাবড়া রঙের খুন হয়, তাহলে কোন ক্ষতি হবে না। মাসিকের মত হলে পুনঃ বন্ধ হলে আবার গোসল করবে।[27]
নামাযের অক্তে সফরে মাসিক বন্ধ হলে, অথবা পানি না থাকলে, অথবা পানি ব্যবহার ক্ষতিকর হলে তায়াম্মুম করে নামায পড়বে।
সবাস্থ্যের ক্ষতি না হলে পরিজনের সাথে একই সঙ্গে হজ্জ বা রোযা পালনের উদ্দেশ্যে বা অন্য কোন প্রয়োজনে মাসিক বন্ধ রাখার ঔষধ ব্যবহার বৈধ। তবে এতে যেন  স্বামীকে (ইদ্দতে) ধোঁকা দেওয়ার উদ্দেশ্য না হয়।[28]
ফুটনোটঃ[1] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, শায়খ মুহাঃ আল-উসাইমীন১৩পৃঃ)
[2] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৪পৃঃ)
[3] (আবু দাঊদ ৩০৭ নং)
[4] (আল-ফাতাওয়াল মুহিম্মাহ, লিনিসাইল উম্মাহ ২০৭-২০৮পৃঃ)
[5] (ঐ ২০৭পৃঃ)
[6] (বুখারী,মুসলিম)
[7] (বুখারী, মুসলিম, মিশকাতুল মাসাবীহ ৬০১নং, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা,১৯পৃঃ)
[8] (ঐ১৮পৃঃ)
[9] (সূরা আল-ওয়াক্বিয়া (৫৬) : ৭৯)
[10] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২০-২১পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৬পৃঃ)
[11] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ১৯পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৮পৃঃ)
[12] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৪)
[13] (বুখারী, মুসলিম, জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৬৩)
[14] (বুখারী ৩২১নং, মুসলিম ২৬৫নং, আবু দাঊদ ২৬৩নং)
[15] (জামিউ আহকামিন নিসা, ১/১৭৩)
[16] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২২পৃঃ)
[17] (মুমঃ ৪/৫৪১-৫৪২)
[18] (বুখারী, মুসলিম)
[19] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৩-২৪পৃঃ)
[20] (বুখারী,মুসলিম)
[21] (মুসলিম, আবু দাঊদ প্রভৃতি, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৩৭পৃঃ)
[22] (সূরা আল-বাক্বারা (২) : ২২২)
[23] (আবু দাঊদ, তিরমিযী প্রভৃতি, আদাবুয যিফাফ ১২২পৃঃ)
[24] (বুখারী, মুসলিম, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৫পৃঃ)
[25] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ২৭পৃঃ)
[26] (ঐ ২৮ পৃঃ)
[27] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪০)
[28] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৪৩, আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪১)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
ইস্তিহাযা

মাসিকের খুন একটানা আসতেই থাকলে অথবা ২/১ দিন ছাড়া সারা মাসে খুন বন্ধ না হলে এমন খুনকে ইস্তিহাযার খুন বলে। আর যে নারীর এমন খুন আসে তাকে মুস্তাহাযা বলে।
মুস্তাহাযার তিন অবস্থা হতে পারেঃ-
- একজন মহিলার পূর্বে যথানিয়মে মাসিক হত। কিন্তু পরে ধারাবাহিক খুন এসে আর বন্ধ হয় না। সুতরাং এমন মহিলার অভ্যাসগতভাবে যে ক’দিন খুন আসত সেই ক’দিনকে মাসিক ধরে বাকী পরের দিনগুলিকে ইস্তিহাযার খুন ধরে নেবে। সুতরাং পরের এই দিনগুলিতে গোসলাদি করে নামায-রোযা করবে।[1]
- একজন মহিলার শুরু থেকেই একটানা খুন আসে। মাসিক ও ইস্তিহাযার দিন তার অজানা। এমন মহিলা কোন লক্ষণ বুঝে মাসিক ও ইস্তিহাযার মাঝে পার্থক্য নির্বাচন করবে। যেমন যদি ১০ দিন কালো এবং বাকী মাসে লাল খুন, অথবা ১০দিন মোটা এবং বাকী মাসে পাতলা খুন, অথবা ১০ দিন দুর্গন্ধময় এবং বাকী মাসে গন্ধহীন খুন দেখে তবে  ঐ কালো মোটা ও দুর্গন্ধময় খুনকে মাসিকের এবং বাকী ইস্তিহাযার খুন ধরে নিয়ে পবিত্রা হয়ে নামায-রোযা করবে।[2]
- এমন মহিলা যার মাসিকের কোন নির্দিষ্ট দিন জানা নেই এবং কোন লক্ষণও বুঝতে পারে না, সে যখন থেকে প্রথম খুন দর্শন করেছে তখন থেকে হিসাব ধরে ঠিক সেই সময় করে প্রত্যেক মাসে ৬ বা ৭ দিন (সাধারণ মহিলাদের অভ্যাসমত) অশুচিতার জন্য অপেক্ষা করে গোসল করবে এবং বাকী দিনগুলিতে নামায-রোযা করবে।[3]
কোন ব্যাধির ফলে গর্ভাশয় তুলে ফেললে বা কোন এমন অপারেশন করলে যাতে মাসিক চিরদিনের মত বন্ধ হয়ে যায়; যদি তার পরেও কোনক্রমে খুন দেখা যায়, তবে সে খুন মাসিক বা ইস্তিহাযার নয়। বরং সেই খুন পবিত্রতার পর মেটে বা গাবড়া বর্ণের খুনের সমপর্যায়ের। এতে মহিলা অপবিত্রা হয় না এবং নামায রোযাও বন্ধ করা বৈধ নয়। এতে গোসলও ফরয নয়। খুন ধুয়ে নামাযের জন্য অযু যথেষ্ট। অনুরূপ যোনীপথে সর্বদা সাদাস্রাব দেখা দিলেও একই নির্দেশ।[4]
সুতরাং উক্ত প্রকার মহিলারা (মুস্তাহাযাগণ) পবিত্রা মহিলার মত। অতএব এদের জন্য নামায, রোযা, হজ্জ,  স্বামী-সহবাস ইত্যাদি সকল কর্ম পবিত্রতার মতই পালন করা ফরয ও বৈধ। তবে সর্বদা খুন থাকলে পবিত্রতার জন্য প্রথম গোসলের পর প্রত্যেক নামাযের জন্য অন্তর্বাস বদলে লজ্জাস্থান ধুয়ে ওযু করবে। খুন বাইরে আসার ভয় থাকলে কাপড় বা তুলা বেঁধে নেবে।[5]
ফুটনোটঃ[1] (বুখারী, মুসলিম)
[2] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৩৪পৃঃ)
[3] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৩৫পৃঃ)
[4] (ফাতাওয়া ইবনে উসাইমীন ১/২৯৮)
[5] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৩৭-৩৮পৃঃ)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
নিফাস

প্রসবের ২/১ দিন পূর্ব থেকে বা প্রসবের পর থেকেই লাগাতার ক্ষরণীয় খুনকে নিফাসের খুন বলে। এই খুন সর্বাধিক ৪০ দিন ঝরতে থাকে এবং এটাই তার সর্বশেষ সময়। সুতরাং ৪০ দিন পর খুন দেখা দিলেও মহিলা গোসল করে নামায-রোযা করবে। অবশ্য ৪০ দিনের মাথায় যদি প্রসূতির মাসিক আসার সময় হয় এবং খুন একটানা থেকে যায়, তবে তার অভ্যাসমত মাসিককালও অপেক্ষা করে তারপর গোসল করবে।
৪০ দিন পূর্বে এই খুন বন্ধ হলেও গোসল সেরে নামায-রোযা করবে।  স্বামী সহবাসও বৈধ হবে। কিন্তু ২/৫ দিন বন্ধ হয়ে পুনরায় (৪০ দিনের পূর্বেই) খুন এলে নামায-রোযা ইত্যাদি বন্ধ করবে এবং পরে যখন বন্ধ হবে অথবা ৪০ দিন পূর্ণ হলে গোসল করে পাক হয়ে যাবে। মাঝের ঐ দিনের নামায-রোযা শুদ্ধ হয়ে যাবে এবং  স্বামী সঙ্গমেরও পাপ হবে না।[1]
৪০ দিনের ভিতরে খুন মেটে বা গাবড়া রঙের হলেও তা নিফাসের খুন।[2]
মানুষের আকৃতি আসার পর (সাধারণতঃ ৮০ দিন পর) গর্ভপাত হলে বা ঘটালে যে খুন আসবে তা নিফাসের খুন। এর পূর্বে হলে তা নিফাস নয় বরং ইস্তিহাযার খুন। এতে নামায-রোযা করতে হবে।[3]
ফুটনোটঃ[1] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৩৯-৪০পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৪৯পৃঃ, জামিউ আহকামিন নিসা, ২৪৪পৃঃ, মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ২০/১৭৭)
[2] (ফাতাওয়াল মারআহ ২৩পৃঃ)
[3] (আল-ফাতাওয়া আল- ইসলামিয়্যাহ ১/২৪৩,২৪৫, ফাতাওয়াল মারআহ ২৪পৃঃ)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
আত্মাশুদ্ধি

এতো গেল দেহশুদ্ধির কথা। কিন্তু এর পূর্বে আত্মাশুদ্ধিও একান্ত প্রয়োজনীয় বিষয়; যা না হলে দেহ ইবাদত কিছুই শুদ্ধ নয়। আল্লাহ বলেন,
) দিন অর্থ বা পুত্র উপকার হয় না - শুধুমাত্র ঈশ্বর একটি স্বাস্থ্যকর হৃদয় দিয়ে এসেছিলেন (
  ‘‘যেদিন ধন-সম্পদ সন্তান-সন্ততি কোন কাজে আসবে না। সেদিন উপকৃত হবে কেবল সেই ব্যক্তি, যে আল্লাহর নিকট বিশুদ্ধ অন্তর নিয়ে উপস্থিত হবে।’’[1] 
) قادر أفلح من زكاها- وقد خاب من دساها)
‘‘যে আত্মা পরিশুদ্ধ করবে, সেই সফলকাম হবে এবং সে ব্যর্থ হবে, যে আত্মাকে কলুষিত করবে।’’[2]
সুতরাং যে ব্যক্তি অমূলক বিশ্বাস, শির্ক, বিদআত, বাতিল অভিমত, সন্দেহ ও সংশয়, বৈষয়িক আসক্তি (ধন, নারী, গদি, যশ প্রভৃতির লোভ) রিপুর আক্রমণ, শরয়ী জ্ঞান শূন্যতা, অধিক বিলাসিতা ও হাসি, নোংরা ও কদর্যgআচরণ এবং পাপাচরণ থেকে নিজ আত্মা ও মনকে পবিত্র ও বিশুদ্ধ রাখবে এবং আল্লাহর উপর সঠিক ঈমান ও বিশ্বাস রাখবে, তাঁর নিকট আত্মসমর্পণ করবে, তাঁরই উপর সদা ভরসা করবে, তাঁরই নিকট সকল চাওয়া চাইবে, তাঁরই স্মরণ ও ধ্যানে সদা হৃদয় জাগরিত থাকবে, তাঁর রসূলের তরীকা সদা তার পথ ও হৃদয়ের আলোকবর্তিকা হবে। অধিকাধিক তেলাঅত দুআ, প্রার্থনা, যিক্র ও ইস্তিগফার তথা দরূদ পাঠ করবে। দ্বীনী মজলিসে অংশগ্রহণ, দ্বীনী বই-পুস্তক পঠন-পাঠন এবং সত্যকে চিনে তা সাদরে গ্রহণ করবে, মুসলিম তথা সারা সৃষ্টির জন্য যার হৃদয় দয়ার্দ্র থাকবে, তার হৃদয় পরিশুদ্ধ হৃদয়। মোটকথা পূর্ণ আত্মসমর্পণকারী একজন মুসলিমের হৃদয় বিশুদ্ধ হৃদয়। এমন না হলে মুক্তি ও সফলতার আশা করা যায় না।[3]
ফুটনোটঃ[1] (আলকুরআন কারীম ২৬/৮৮-৮৯)
[2] [সূরা আশ্শামস ( ৯১) : ৯-১০]
[3] (জামিউ আহকামিন নিসা, ২৪৬-২৬৯পৃঃ)
 আদর্শ বিবাহ ও দাম্পত্য বিবাহ ও দাম্পত্য বিষয়াবলী আবদুল হামীদ ফাইযী
গর্ভ ও জন্মনিয়ন্ত্রণ

সন্তান এক সম্পদ। নিঃস্ব হলেও সন্তানের আকাঙ্ক্ষা প্রত্যেক মা-বাপের। তাই তো নিঃসন্তান পিতা-মাতা চিকিৎসার্থে কিনা খায়, কোথা না যায়? অবশ্য বৈধভাবে চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সাহায্য নেওয়া দূষণীয় নয়। দূষণীয় হল সন্তানলোভে কোন পীর-ঠাকুর-মাযারের নিকট গেয়ে নযরাদি মেনে সন্তান-কামনা; বরং এ হল খাঁটি শির্ক। আল্লাহই যাকে ইচ্ছা সন্তান দেন এবং যাকে ইচ্ছা বন্ধ্যা রাখেন। সুতরাং মুসলিমের উচিৎ, তাঁরই নিকট এই বলে সন্তান চাওয়াঃ-
প্রভু HB লি ডি Saaliheen
অর্থাৎ, হে প্রভু! আমাকে নেক সন্তান দান কর।[1]
লর্ড হব, আমি দুঃখিত
অর্থাৎ, হে আমার প্রতিপালক! তুমি তোমার তরফ থেকে আমাকে সৎ বংশধর দান কর, নিশ্চয় তুমি অত্যাধিক প্রার্থনা শ্রবণকারী।[2]
চিকিৎসা-বিজ্ঞানের সাহায্যে কৃত্রিম উপায়ে গর্ভসঞ্চারণ পদ্ধতির মাধ্যমে সন্তান লাভ করতে হলে যদি  স্বামীরই বীর্য নিয়ে স্ত্রীর গর্ভাশয়ে কৃত্রিম উপায়ে রেখে প্রজনন সম্ভব হয়, তাহলে এমন সন্তানভাগ্য লাভ করা বৈধ। পক্ষান্তরে  স্বামী ব্যতীত অন্য কারো বীর্য দ্বারা এমন প্রজনন হারাম। সে সন্তান নিজের বৈধ সন্তান হবে না; বরং সে জারজ গণ্য হবে।
সন্তান-পিপাসা দূরীকরণার্থে অপরের সন্তান নিয়ে (পালিতপুত্র হিসাবে) লালন-পালন করায় ইসলামের সমর্থন নেই।[3]
কোন পদ্ধতিতে আল্লাহর ইচ্ছা ব্যতীত কারো নিজ ইচ্ছামত পুত্র বা কন্যা জন্ম দেওয়া সম্ভব নয়। মহান আল্লাহ বলেন,
) Llh দেশ ykhlq নভোমন্ডল ও ভূমন্ডল মা সে বললঃ yhb আসন তিনি বলেন: মহিলা vyhb আসন সে বললঃ চলো alzkvr- yzvjhm zkrana vanasa vyjl সে বললঃ বাঁজা annahu লা ডি Carnahan qdyr (
‘‘আকাশমন্ডলী ও পৃথিবীর  সার্বভৌমত্ব আল্লাহরই। তিনি যা ইচ্ছা, তাই সৃষ্টি করেন। তিনি যাকে ইচ্ছা কন্যাসন্তান এবং যাকে ইচ্ছা পুত্রসন্তান দান করেন। অথবা দান করেন পুত্র-কন্যা উভয়ই এবং যাকে ইচ্ছা তাকে বন্ধ্যা রাখেন। নিশ্চয়ই তিনি সর্বজ্ঞ, সর্বশক্তিমান।’’[4]
) Vrbk ykhlq vykhtar lhm থেকে মা মা alkhyrh সে বললঃ আল্লাহ বলেন, পুণ্য হউক yshrkvn (
‘‘তোমার প্রতিপালক যা ইচ্ছা সৃষ্টি করেন এবং যাকে ইচ্ছা মনোনীত করেন। এতে ওদের কোন হাত নেই। আল্লাহ মহান এবং ওরা যাকে তাঁর অংশী করে তা হতে তিনি ঊর্ধে।[5]
সুতরাং পুত্র-কন্যা জন্মদানের ব্যাপারে স্ত্রীরও কোন হাত বা ত্রুটি নেই। তাই কেবল কন্যাসন্তান প্রসব করার ফলে যারা নিজেদের স্ত্রীর প্রতি ক্ষুব্ধ হয়, তারা নিছক মুর্খ বৈ কি? সবই তো আল্লাহর হাতে। তাছাড়া বীজ তো  স্বামীর। স্ত্রী তো উর্বর শস্যক্ষেত্র।  যেমন বীজ তেমনি ফসল। সুতরাং দোষ হলে বীজ ও বীজ-ওয়ালার দোষ হওয়া উচিৎ, জমির কেন?
  পক্ষান্তরে ২/৩টি কন্যা বা বোনের যথার্থ প্রতিপালন করলে পরকালে মহানবী (সাঃ) এর পাশাপাশি বাসস্থান লাভ হবে।[6]
পরন্তু যে ছেলের আশা করা যায় তা ‘ব্যাটা না হয়ে ব্যথা, ল্যাঠা বা কাঁটা’ও তো হতে পারে। তবে সব কিছুই ভাগ্যের ব্যাপার নয় কি? তকদীরে বিশ্বাস ও সন্তুষ্টি এবং আল্লাহর উপর যথার্থ ভরসা থাকলে পরম শান্তি লাভ করা যায় সংসারে।
মিলনে যার বীর্যপাত আগে হবে তার বা তার বংশের কারো মতই সন্তানের রূপ-আকৃতি হবে।  স্বামীর বীর্যস্খলন আগে হলে সন্তান তার পিতৃকুলের কারো মত এবং স্ত্রীর  বীর্যস্খলন আগে ঘটলে সন্তান তার মাতৃকুলের কারো মত হয়ে জন্ম নেবে।[7]
 সুতরাং মাতা-পিতা গৌরবর্ণ হলেও সন্তান কৃষ্ণ বা শ্যামবর্ণ অথবা এর বিপরীতও হতে পারে।[8]
কারণ, ঐ সন্তানের পিতৃকুল বা মাতৃকুলে ঐ বর্ণের কোন পুরুষ বা নারী অবশ্যই ছিল যার আকৃতি-ছায়া নিয়ে তার জন্ম হয়েছে।
মিলনের ছয়মাস পর সন্তান ভূমিষ্ঠ হওয়া সম্ভব। এতে স্ত্রীর প্রতি সন্দেহপোষণ বৈধ নয়। কারণ সন্তানের গর্ভাশয়ে অবস্থান এবং তার দুধপানের সর্বমোট সময় ত্রিশ মাস।[9] আর তার দুধপানের সময় হল দুই বছর (২৪ মাস)।[10] অতএব অবশিষ্ট ছয়মাস গর্ভের ন্যুনতম সময় নির্ধারণ করতে কোন সন্দেহ নেই।
২/৩ বছর পূর্বে  স্বামী-মিলনে সতী-সাধবীর সন্তান অবৈধ নয়। যেহেতু বহু মহিলার গর্ভকাল  স্বাভাবিক সময় হতেও অধিক হয়ে থাকে।
গর্ভের সময় সাধভাত, পাঁচভাজা ইত্যাদির উৎসব ও অনুষ্ঠান বিজাতীয় প্রথা। ইসলামে এসব বৈধ নয়। অনুরূপ পোত পাঠানো ইত্যাদি প্রথাও।
গর্ভকালে গর্ভিণী নিজের অথবা তার ভ্রূণের কোন ক্ষতির আশঙ্কা থাকলে রোযা কাযা করতে পারে।[11]
দাই ও সাহায্যকারিণী ব্যতীত অন্যান্য মহিলাদের সন্তানভূমিষ্ঠ করা দেখা (গর্ভিণীর গুপ্তাঙ্গ দর্শন) বৈধ নয়।[12]
প্রসূতিগৃহে লোহা, ছেঁড়াজাল, মুড়ো ঝাঁটা প্রভৃতি রাখা শির্ক। বৈধ নয় গর্ভিণীর দেহে তাবীয বাঁধা।
প্রসবযন্ত্রণা যতই দীর্ঘ হোক না কেন (খুন না ভাঙ্গলে) নামাযের সময় নামায মাফ নেই। যেভাবে সম্ভব সেইভাবেই নামায পড়তে হবে।[13]
সন্তান-কাঙ্গালী দম্পতির বিপরীত আর এক দম্পতি রয়েছে, যারা সুখী পরিবার গড়ার স্বপ্নে পরিবার-পরিকল্পনা তথা জন্মনিয়ন্ত্রণের সাহায্য নিয়ে থাকে। তাদের শ্লোগান হল ‘আমরা দুই আমাদের দুই’ ইত্যাদি। কিন্তু এইভাবে নির্দিষ্ট-সংখ্যক সন্তান নিয়ে জন্মনিয়ন্ত্রণ করা ইসলাম পরিপন্থী কর্ম। যেহেতু ইসলাম অধিক সন্তানদাত্রী নারীকে বিবাহ করতে উদ্বুদ্ধ করে। সংখ্যাগরিষ্ঠতা ইসলামের কাম্য।
পরন্তু কেন এ জন্মনিয়ন্ত্রণ? খাওয়াতে-পরাতে পারবে না এই ভয়ে অথবা মানুষ করতে পারবে না এই ভয়ে? প্রথম ভয় যাদের হয়, তারা আল্লাহর প্রতি কুধারণা রাখে। আল্লাহ যাকে সৃষ্টি করেন, তাকে তার রুজীও নির্দিষ্ট করে দেন। আল্লাহ বলেন,
) ما من مناباب في الأرض إلا على الله رزقها)
‘‘পৃথিবীর প্রত্যেক জীবের জীবিকার দায়িত্ব আল্লাহরই।’’[14]
) وكأين من دابة لا تحمل رزقها الله يزقها وإياكم وهو السميع العليم)
‘‘এমন বহু জীব আছে যারা নিজেদের খাদ্য জমা রাখে না (সংগ্রহ করতে অক্ষম), আল্লাহই ওদেরকে এবং তোমাদেরকে জীবনোপকরণ দান করে থাকেন। তিনি সর্বশ্রোতা, সর্বজ্ঞ।’’[15]
সুতরাং ভয় কিসের? বহু জাতক তো জনককেই যথাসময়ে সুখসামগ্রী দান করে থাকে, তবে জনকের উল্টো ভয় কেন? বরং এইভাবে আল্লাহ উভয়কেই রুজী দিয়ে থাকেন, তবে হত্যা কি জন্য?
আল্লাহ বলেন,
) تاليله تقتلوا أولادكم خشية إملاق نحن نزقهم وإياكم إن قتلهم كان خطئا كبيرا)
‘‘তোমাদের সন্তানকে দারিদ্র্য-ভয়ে হত্যা করো না, ওদেরকে এবং তোমাদেরকে আমিই রুজী দিয়ে থাকি। নিশ্চয়ই ওদেরকে হত্যা করা মহাপাপ।’’[16]
আর মানুষ করার ভয় কোন ভয় নয়। মানুষ করে গড়ে তুলতে চেষ্টা করলে আল্লাহ সাহায্য করবেন।
রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন,
‘‘আল্লাহকে যে ভয় করে আল্লাহ তার জন্য সমাধান সহজ করে দেন।’’[17]
তাছাড়া কত সন্তান অমানুষের ঘরেও মানুষরূপে গড়ে উঠে। কোন্ অসীলায় কে মানুষ হয়ে যায়, কে বলতে পারে? আবার কত বাপের একমাত্র ছেলেও অমানুষ হয়েই থেকে যায়। বাস্তবই তার প্রমাণ।
সুতরাং টিউবেক্ট্যামি বা ভ্যাসেক্ট্যামির মাধ্যমে বা গর্ভাশয় তুলে ফেলে জন্মের পথ একেবারে বন্ধ করে দেওয়া বৈধ নয়। অবশ্য যদি মহিলার প্রসবের সময় দমবন্ধ হওয়ার (প্রাণ যাওয়ার) ভয় থাকে অথবা সীজ্যার ছাড়া তার প্রসবই না হয়, তবে এমন সঙ্কটের ক্ষেত্রে অগত্যায় জন্ম-উপায় নির্মূল করা বৈধ হবে।
কিন্তু একেবারে নির্মূল না করে কিছু সময়ের জন্য বন্ধ রাখা যায় কি না? স্ত্রী যদি প্রত্যেক বৎসর সন্তান দিয়ে দুর্বল ও রোগা হয়ে যায় বা ঘন-ঘন সন্তান দানের ফলে কোন স্ত্রীরোগ তাকে পীড়িতা করে তোলে, তাহলে ট্যাবলেট আদি ব্যবহার করে দুই সন্তানের মাঝের সময়কে কিছু লম্বা করা বৈধ। এর বৈধতা রসূল (সাঃ) এর যুগে কিছু সাহাবীর আয্ল (সঙ্গমে বীর্যস্খলনের সময় যোনীপথের বাইরে বীর্যপাত করা) থেকে প্রমাণিত হয়।[18]
গর্ভবতীর জীবন যাওয়ার আশঙ্কা না হলে গর্ভের ৪/৫ মাস পর ভ্রূণ নষ্ট করা বা গর্ভপাত করা হারাম। কারণ, তা জীবিত এক প্রাণহত্যার শামিল। ৪ মাস পূর্বে কোন রোগ বা ক্ষতির আশঙ্কায় একান্ত প্রয়োজনে বৈধ।
সীজ্যার করে সন্তান প্রসবও বৈধ। মায়ের জান বাঁচাতে মৃত ভ্রূণ অপারেশন করে বের করা ওয়াজেব। যেমন মৃতগর্ভিণীর গর্ভে যদি জীবিত ভ্রূণ থাকে এবং সীজ্যার করে বের করলে তার বাঁচার আশা থাকে, তবে মৃতার সীজ্যার বৈধ; নচেৎ নয়।[19]
ভ্রূণের বয়স ৪ মাস পূর্ণ হয়ে নষ্ট হলে বা করলে তার আকীকা করা উত্তম।[20]
পরিশেষে, আল্লাহ সকল দম্পতিকে চিরসুখী করুন। পরিবার হোক সুখের। পিতা-মাতা হোক আদর্শের। সন্তান হোক বাধ্য। সংখ্যায় শুধু নয়, বরং জ্ঞান-বিজ্ঞান, দ্বীন ও চরিত্রে এক কথায় সর্বকল্যাণে উম্মতের শ্রীবৃদ্ধি হোক।
লাবন হব লিনা আব্দুল আযীয ইবরাহীম আ।
  ‘‘হে আমাদের প্রতিপালক! আমাদের স্ত্রী ও সন্তানদেরকে আমাদের জন্য নয়নপ্রীতিকর এবং পরহেযগারদের জন্য আমাদেরকে আদর্শস্বরূপ বানাও।’’
আল্লাহ আমাদের নবী মুহাম্মদ এবং তার পরিবার এবং companions আশীর্বাদ করুন
1] (সূরা আস্সফফাত (৩৭) : ১০০)
[2] (সূরা আলু ‘ইমরান (৩) : ৩৮)
[3] (সূরা আল-আহযাব (৩৩) : ৪)
[4] (সূরা আশ-শূরা (৪২) : ৪৯-৫০)
[5] (সূরা স-দ (২৮) : ৬৮)
[6] (আস-সিলসিলাতুস সহীহাহ ২৯৬ নং)
[7] (বুখারী ৩৩২৯নং, মুসলিম ৩১৫নং)
[8] (বুখারী ৬৮৪৭,মুসলিম ১৫০০) 
[9] (সূরা আল-আহকাফ (৪৬) : ১৫)
[10] (সূরা লুক্বমান (৩১): ১৪)
[11] (মাজাল্লাতুল বহুসিল ইসলামিয়্যাহ ১৪/১১০)
[12] (মুসলিম ৩৩৮নং)
[13] (ফাতাওয়াল মারআহ ৩৫পৃঃ)
[14] (সূরা হূদ (১১) : ৬)
[15] (সূরা আল-‘আনকাবূত (২৯) : ৬০)
[16] (সূরা আল-ইসরা (বানী ইসরাঈল (১৭) : ৩১)
[17] (সূরা আত-ত্বলাক (৬৫) : ৪)
[18] (আয-যিওয়াজ ৩১-৩৩পৃঃ, রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৪৪পৃঃ, ফাতাওয়াল মারআহ ৫২,৯৩পৃঃ, লিকাউল বা-বিল মাফতুহ ২৬/১৮,২১)
[19] (রিসালাতুন ফী দিমাইত ত্বাবীইয়্যাতি লিন্নিসা, ৪৬পৃঃ, তামবীহাতুল মু’মিনাত ৫৩-৫৭পৃঃ)
[20] (লিকাউল বা-বিল মাফতুহ ২৬/৩৪)