এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

ঝগড়া-বিবাদে ক্ষমা করা

ঝগড়া-বিবাদে ক্ষমা করা

dark-black-hd-wallpapers-16-1
 ১) আবু বকর রা. এর ঘটনা:
আবু হুরায়রা রা. হতে বর্ণিত। এক লোক এসে আবু বকর রা.কে বকাবকি করতে লাগল। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সেখানেই বসে ছিলেন। তিনি এ কাণ্ড দেখে আশ্চর্য হয়ে মুচকি মুচকি হাসছেন। লোকটি বেশি মাত্রায় বকাবকি শুরু করলে আবু বকর তার দু একটি কথার জবাব দিলেন। এতে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাগ করে সেখান থেকে উঠে চলে গেলেন।
আবু বকর রা. পেছনে পেছনে গিয়ে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর নিকট উপস্থিত হয়ে বললেন: হে আল্লাহর রাসূল, লোকটি আমাকে বকাবকি করছিল আর আপনি সেখানে বসে ছিলেন। কিন্তু যখনই তার কিছু কথার জবাব দিলাম আপনি রেগে সেখান থেকে চলে আসলেন!!
রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম: তোমার সাথে একজন ফেরেশতা ছিল যে তোমার পক্ষ থেকে উত্তর দিচ্ছিল। আর যখনই তুমি উত্তর দিলে সেখানে শয়তানডুকে পড়ল।
আর হে আবু বকর, তিনটি জিনিস খুবই সত্য:
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/ff3/1/16/1f539.png" alt="" width="16" height="16">ক. কেউ কোন ব্যাপারে জুলুমের শিকার হওয়ার পর সে যদি আল্লাহর উদ্দেশ্যে তা ক্ষমা করে দেয় তবে এর বিনিময়ে আল্লাহ তাআলা তাকে সম্মান জনকভাবে সাহায্য করেন।
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/ff3/1/16/1f539.png" alt="" width="16" height="16"> খ. কেউ যদি (কোন আত্মীয়ের সাথে বা সাধারণ মুসলমানের সাথে) সুসম্পর্ক তৈরির উদ্দেশ্যে দানের রাস্তা খুলে তবে আল্লাহর তার সম্পদ আরও বৃদ্ধি করে দেন।
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/ff3/1/16/1f539.png" alt="" width="16" height="16"> গ. আর কেউ যদি সম্পদ বৃদ্ধির উদ্দেশ্যে মানুষের কাছে ভিক্ষার দরজা উন্মুক্ত করে তবে আল্লাহ তাআলা তার সম্পদ কমিয়ে দেন। (মুসনাদ আহমদ,আলবানী বলেন: হাদীসটি হাসান। মিশকাত হাদীস নং ৫১০২)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fed/1/16/1f533.png" alt="" width="16" height="16"> ২) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “দু জন লোক যদি পরস্পরকে গালাগালি করে তবে যাবতীয় গুনাহ তার উপর বর্তাবে যে আগে শুরু করেছে যদি অত্যাচারিত ব্যক্তি প্রতিদত্তরে অতিরিক্ত না বলে।” (সহীহ মুসলিম)
এ হাদীসের আলোকে প্রমাণিত হয় যে, যে ব্যক্তি আগে কাউকে কষ্ট দেয় বা গালি দেয় তবে তার সমপরিমাণ প্রতিদত্তর দেয়া জায়েজ আছে আর তার যাবতীয় গুনাহ যে আগে শুরু করেছে তার উপর বর্তাবে। কারণ, সেই এর মূল কারণ। অবশ্য যদি প্রতিদত্তরে সে অতিরিক্ত গালমন্দ করে তবে যে পরিমাণ অতিরিক্ত গালমন্দ করেছে তার জন্য গুনাহগার হবে। কারণ,ইসলামে কেবল সমপরিমাণ প্রতিশোধ নেয়ার অনুমোদন রয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেন:


وَجَزَاءُ سَيِّئَةٍ سَيِّئَةٌ مِّثْلُهَا ۖ فَمَنْ عَفَا وَأَصْلَحَ فَأَجْرُهُ عَلَى اللَّـهِ ۚ إِنَّهُ لَا يُحِبُّ الظَّالِمِينَ 

 

যদিও সমপরিমাণ প্রতিশোধ নেয়া জায়েজ আছে তবুও ধৈর্য ধারণ করা উত্তম। যেমনটি আবু হুরায়রা রা. কর্তৃক বর্ণিত পূর্বোক্ত হাদীসটিতে বর্ণিত হয়েছে।
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fed/1/16/1f533.png" alt="" width="16" height="16"> ৩) “প্রচণ্ড ঝগড়াটে স্বভাবের লোক আল্লাহর নিকট সবচেয়ে বেশী ঘৃণিত।” (বুখারী ও মুসলিম)



অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব


আরও পড়ুন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভদ্রতা ও শিষ্টাচার

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন


10341986_10202759381325731_4141648330007293122_nরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন

 ১)
اللَّهُمَّ اهْدِنِي لأَحْسَنِ الأَعْمَالِ وَأَحْسَنِ الأَخْلاقِ ، فَإِنَّهُ لا يَهْدِي لأَحْسَنِهَا إِلا أَنْتَ ، وَقِنِي سَيِّءَ الأَعْمَالِ وَسَيِّءَ الأَخْلاقِ ، فَإِنَّهُ لا يَقِي سَيِّئَهَا إِلا أَنْتَ
“হে আল্লাহ, আমাকে সর্বোত্তম কাজ ও উন্নততর চরিত্রের দিশা দাও। কেননা, তুমি ছাড়া এ পথের দিশা অন্য কেউ দিতে পারে না। আর অন্যায় কাজ ও খারাপ চরিত্র থেকে আমাকে রক্ষা কর। কেননা, তুমি ছাড়া অন্য কেউ এ থেকে রক্ষা করতে পারে না।” (সুনান নাসাঈ। আরনাবুত জামিউল উসুল কিতাবে এ হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ২)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ مُنْكَرَاتِ الْأَخْلَاقِ، وَالْأَعْمَالِ، وَالْأَهْوَاءِ والْأَدْوَاءِ
“হে আল্লাহ তোমার কাছে খারাপ চরিত্র, অন্যায় কাজ, কু প্রবৃত্তি এবং দুরারোগ্য ব্যাধী থেকে আশ্রয় চাই।” (তিরমিযী-আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন)।
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ৩)
اللَّهُمَّ أَلِّفْ بَيْنَ قُلُوبِنَا، وَأَصْلِحْ ذَاتَ بَيْنِنَا
“হে আল্লাহ,আমাদের হৃদয়গুলোর মাঝে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক তৈরি কর আর আমাদের (বিবদমান বিষয়গুলো) সমাধান করে দাও।” (সহীহ বুখারী)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ৪) اللَّهُمَّ إِنَّمَا أَنَا بَشَرٌ فَأَيُّ الْمُسْلِمِينَ لَعَنْتُهُ أَوْ سَبَبْتُهُ فَاجْعَلْهُ لَهُ زَكَاةً وَأَجْرًا
“হে আল্লাহ, আমি তো একজন মানুষ মাত্র। সুতরাং আমি কোন মুসলিমকে গালি বা অভিশাপ দিয়ে থাকলে সেটাকে তুমি তাকে (গুনাহ থেকে) পবিত্র করার মাধ্যম বানিয়ে দাও এবং তাকে তার বিনিময় দাও।” (সহীহ মুসলিম)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ৫)
« اللَّهُمَّ مَنْ وَلِىَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِى شَيْئًا فَشَقَّ عَلَيْهِمْ فَاشْقُقْ عَلَيْهِ وَمَنْ وَلِىَ مِنْ أَمْرِ أُمَّتِى شَيْئًا فَرَفَقَ بِهِمْ فَارْفُقْ بِهِ » – رواه مسلم
“হে আল্লাহ কেউ আমার উম্মতের কোন বিষয়ে দায়িত্বশীল হয়ে যদি তাদের সাথে কঠিন আচরণ করে তবে তুমিও তার সাথেও কঠিন আচরণ কর । আর কেউ কোন বিষয়ে দায়িত্বশীল হয়ে যদি তাদের সাথে নম্রতা সুলভ আচরণ করে তার প্রতি তুমিও তার প্রতি দয়া পরবশ হও।” (সহীহ মুসলিম)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ৬)
اللَّهُمَّ إِنِّي أَعُوذُ بِكَ مِنْ عِلْمٍ لاَ يَنْفَعُ، وَعَمَلٍ لاَ يُرْفَعُ، وَقَلَبٍ لاَ يَخْشَعُ، وَقَولٍ لاَ يُسْمَعُ
“হে আল্লাহ, তোমার নিকট আশ্রয় চাই এমন জ্ঞান থেকেযা কোন উপকার করে না, এমন আমল থেকে যা উপরে উঠানো হয় না, এমন অন্তর থেকে যা ভীত হয় না এবং এমন কথা থেকে যা শুনা হয় না।” (সহীহ মুসলিম)
<img class="img" src="https://www.facebook.com/images/emoji.php/v5/fbb/1/16/1f4a0.png" alt="" width="16" height="16"><span style="font-style:inherit;font-weight:inherit;"><img draggable="false" class="emoji" alt="💠" src="https://s0.wp.com/wp-content/mu-plugins/wpcom-smileys/twemoji/2/svg/1f4a0.svg"></span> ৭)
اللَّهُمَّ كَمَا حَسَّنْتَ خَلْقِي فَأَحْسِنْ خُلُقِي
“হে আল্লাহ, তুমি আমার দৈহিক অবয়ব যেমন সুন্দর করেছ তেমনি আমার চরিত্রও সুন্দর করে দাও।”
(মুসনাদ আহমদ। আলবানী মিশকাতুল মাসাবীহ কিতাবে হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন। হাদীস নং ৫০৯৯)

অনুবাদ ও সংকলন: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল

দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার।


রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভদ্রতা ও শিষ্টাচার

untitledরাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর ভদ্রতা ও শিষ্টাচার

 ১) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারও বাড়িতে গেলে সরাসরি দরজার সামনে দাঁড়াতেন না। বরং ডান বা বাম পাশে দাঁড়িয়ে বলতেন: “আসসালামু আলাইকুম, আসলামু আলাইকুম।” (আহমদ-সহীহ)
 ২) তিনি উপহার গ্রহণ করতেন আর তার প্রতিদান দিতেন। (সহীহ বুখারী)
 ৩) তিন খারাপ অর্থবোধক নাম পরিবর্তন করে দিতেন। (সহীহ বুখারী)
 ৪) মানুষ রোগাক্রান্ত হলে তিনি পরিচর্যা করতে যেতেন এবং তার নিকট গিয়ে সান্ত্বনা দিয়ে বলতেন: “লা বা’স, ত্বহুর ইনশাআল্লাহ।” অর্থ: অসুবিধা নেই, ইনশাআল্লাহ সুস্থ হয়ে যাবে। (সহীহ বুখারী)
 ৫) পানি পান করার ক্ষেত্রে তাঁর নিয়ম ছিল, তিন নিঃশ্বাসে পান করতেন। (পাত্রের বাইরে নিশ্বাস ফেলতেন) আর পান শেষে বলতেন: “এভাবে পান করা বেশি আরামদায়ক, সহজ ও রোগের আরোগ্য।”
 ৬) তিনি যখন কাফেলার সাথে চলতেন তখন সাহাবীগণ তার আগে চলত আর তিনি চলতেন সবার পেছনে। (ইবনে মাজাহ-সহীহ)
 ৭) তিনি বাইআত বা আনুগত্যের শপথে পর মহিলাদের সাথে হাত মিলতেন না। (মুসনাদ আহমদ-হাসান)
 ৮) তিনি খাওয়া, পান করা, ওযু করা, কাপড় পরা, দেয়া-নেয়া ইত্যাদি ক্ষেত্রে ডান হাত ব্যবহার করতেন। আর অন্যান্য কাজে বাম হাত ব্যবহার করতেন। (আহমদ-সহীহ)
 ৯) তিনি যদি জানতে পারতেন যে, তার পরিবারের কেউ মিথ্যা বলেছে তবে তিনি তাকে এড়িয়ে চলতেন যতক্ষণ না সে তওবা করে। (আহমদ-সহীহ)
 ১০) আয়েশা রা. হতে বর্ণিত। তিনি বলেন: এক ব্যক্তি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নিকট আসার অনুমতি চাইলে তিনি বললেন: তাকে আসার অনুমতি দাও। কারণ সে একটা খারাপ লোক। কিন্তু সে ভিতরে আসলে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তার সাথে নম্র ভাবে কথা বললেন।
(সে চলে গেলে) আমি: হে আল্লাহর রাসূল, লোকটির ব্যাপারে আপনি যা বলার বললেন কিন্তু সে আপনার নিকট প্রবেশ করলে তার সাথে নম্রভাবে কথা বললেন!!


অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব

আরও পড়ুন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

c32jph ১) আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَـٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّـهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

“হে ঈমানদারগণ,তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া হলে আহার্য রান্নার অপেক্ষা না করে নবীর ঘরে প্রবেশ করনা। তবে ডাকা হলে প্রবেশ কর। আর খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে চলে যাও। নিজেদের পক্ষ থেকে আলাপচারিতা শুরু করনা। নিশ্চয় এটা তার জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের থেকে লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না।” (সূরা আহযাব: ৫৩)

 ২) “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দার অন্তরালের কুমারী মেয়ের থেকেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে আমরা তার চেহারা দেখে বুঝতে পারতাম।“ (বুখারী ও মুসলিম)
 ৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। লজ্জা পুরোটাই কল্যাণকর।” (সহীহ মুসলিম)
 ৪) তিনি আরও বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। আর ঈমান থাকবে জান্নাতে। আর বেহায়াপনা আসে রুক্ষতা থেকে। আর রুক্ষতা থাকবে জাহান্নামে।” (তিরমিযী প্রমুখ। সহীহ-আলবানী)
 ৫) “লজ্জা আর ঈমানকে একসাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটি চলে গেলে অপরটিও বিদূরিত হবে।” (হাকেম ও বাইহাকী। সহীহ আলবানী)
 ৬) “লজ্জা কেবল বয়ে আনে কল্যাণ।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
 ৭) “লজ্জাবোধ ও কম কথা বলা ঈমানের দুটি শাখা এবং লজ্জাহীনতা ও কথা-বার্তায় কৃত্রিমতা প্রকাশ করা মুনাফেকীর দুটি শাখা।” (মুসনাদ আহমদ প্রমূখ। ইমাম যাহাবী ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
 ৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে খোলা জায়গায় গোসল করতে দেখে (এ বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য) মিম্বারে উঠলেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করার পর বললেন: আল্লাহ নিজেকে পর্দার অন্তরালে রাখেন। তিনি লজ্জা ও পর্দানশীলতাকে পছন্দ করেন। অতএব, তোমাদের কেউ গোসল করলে সে যেন পর্দা সহকারে করে। (মুসনাদ আহমদ প্রমুখ। আলবানী হাদীসটিকে মিশকাত কিতাবে সহীহ বলেছেন)।
 ৯) “প্রতিটি ধর্মের কিছু নৈতিকতা আছে। আর ইসলামের নৈতিকতা হল লজ্জাশীলতা।” (ইব্ন মাজাহ। সনদ হাসান)।
 ১০) “নবুওয়তের প্রথম পর্যায়ের যে সব কথা মানুষ লাভ করেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, লজ্জা না থাকলে যা ইচ্ছা তাই কর।” (সহীহ বুখারী)
 ১১) “ঈমানের ষাটটি (অন্য বর্ণনানুযায়ী) সত্তরটির বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা তথা একথার স্বীকৃতি দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। আর সর্বনিম্ন হল, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হল ঈমানের অন্যতম একটি শাখা।” (সহীহ মুসলিম)
 ১২) সালেম তার পিতা আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, এক লোক তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে তিরস্কার করছে। (অর্থাৎ তার ভাই লজ্জা করার কারণে তার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সে তার ভাইকে বকাবকরি করছে)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওকে ছাড়ো। কারণ লজ্জা তো ঈমানের শাখা।” (বুখারী ও মুসলিম)
 ১৩) আনাস রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কোন জিনিসে বেহায়াপনা যুক্ত হলে সেটা হয় নিকৃষ্ট। আর কোন জিনিসে লজ্জা যুক্ত হলে তা হয় সৌন্দর্য মণ্ডিত।” (তিরমিযী প্রমুখ। সনদ সহীহ)


অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আরও পড়ুন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এর লজ্জাশীলতা

c32jph ১) আল্লাহ তাআলা বলেন:

يَا أَيُّهَا الَّذِينَ آمَنُوا لَا تَدْخُلُوا بُيُوتَ النَّبِيِّ إِلَّا أَن يُؤْذَنَ لَكُمْ إِلَىٰ طَعَامٍ غَيْرَ نَاظِرِينَ إِنَاهُ وَلَـٰكِنْ إِذَا دُعِيتُمْ فَادْخُلُوا فَإِذَا طَعِمْتُمْ فَانتَشِرُوا وَلَا مُسْتَأْنِسِينَ لِحَدِيثٍ ۚ إِنَّ ذَٰلِكُمْ كَانَ يُؤْذِي النَّبِيَّ فَيَسْتَحْيِي مِنكُمْ ۖ وَاللَّـهُ لَا يَسْتَحْيِي مِنَ الْحَقِّ

“হে ঈমানদারগণ,তোমাদেরকে অনুমতি না দেয়া হলে আহার্য রান্নার অপেক্ষা না করে নবীর ঘরে প্রবেশ করনা। তবে ডাকা হলে প্রবেশ কর। আর খাওয়া-দাওয়া শেষ হলে চলে যাও। নিজেদের পক্ষ থেকে আলাপচারিতা শুরু করনা। নিশ্চয় এটা তার জন্য কষ্টদায়ক। তিনি তোমাদের থেকে লজ্জাবোধ করেন। কিন্তু আল্লাহ সত্য কথা বলতে লজ্জাবোধ করেন না।” (সূরা আহযাব: ৫৩)

 ২) “নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পর্দার অন্তরালের কুমারী মেয়ের থেকেও বেশি লজ্জাশীল ছিলেন। তিনি কোন কিছু অপছন্দ করলে আমরা তার চেহারা দেখে বুঝতে পারতাম।“ (বুখারী ও মুসলিম)
 ৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। লজ্জা পুরোটাই কল্যাণকর।” (সহীহ মুসলিম)
 ৪) তিনি আরও বলেন: “লজ্জা ঈমানের অংশ। আর ঈমান থাকবে জান্নাতে। আর বেহায়াপনা আসে রুক্ষতা থেকে। আর রুক্ষতা থাকবে জাহান্নামে।” (তিরমিযী প্রমুখ। সহীহ-আলবানী)
 ৫) “লজ্জা আর ঈমানকে একসাথে যুক্ত করে দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে একটি চলে গেলে অপরটিও বিদূরিত হবে।” (হাকেম ও বাইহাকী। সহীহ আলবানী)
 ৬) “লজ্জা কেবল বয়ে আনে কল্যাণ।” (সহীহ বুখারী ও মুসলিম)
 ৭) “লজ্জাবোধ ও কম কথা বলা ঈমানের দুটি শাখা এবং লজ্জাহীনতা ও কথা-বার্তায় কৃত্রিমতা প্রকাশ করা মুনাফেকীর দুটি শাখা।” (মুসনাদ আহমদ প্রমূখ। ইমাম যাহাবী ও আলবানী হাদীসটিকে সহীহ বলেছেন।)
 ৮) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এক ব্যক্তিকে খোলা জায়গায় গোসল করতে দেখে (এ বিষয়ে মানুষকে দিকনির্দেশনা দেয়ার জন্য) মিম্বারে উঠলেন। অতঃপর আল্লাহর প্রশংসা ও স্তুতি জ্ঞাপন করার পর বললেন: আল্লাহ নিজেকে পর্দার অন্তরালে রাখেন। তিনি লজ্জা ও পর্দানশীলতাকে পছন্দ করেন। অতএব, তোমাদের কেউ গোসল করলে সে যেন পর্দা সহকারে করে। (মুসনাদ আহমদ প্রমুখ। আলবানী হাদীসটিকে মিশকাত কিতাবে সহীহ বলেছেন)।
 ৯) “প্রতিটি ধর্মের কিছু নৈতিকতা আছে। আর ইসলামের নৈতিকতা হল লজ্জাশীলতা।” (ইব্ন মাজাহ। সনদ হাসান)।
 ১০) “নবুওয়তের প্রথম পর্যায়ের যে সব কথা মানুষ লাভ করেছে সেগুলোর মধ্যে অন্যতম হল, লজ্জা না থাকলে যা ইচ্ছা তাই কর।” (সহীহ বুখারী)
 ১১) “ঈমানের ষাটটি (অন্য বর্ণনানুযায়ী) সত্তরটির বেশি শাখা রয়েছে। তন্মধ্যে সর্বোচ্চ হল, ‘লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ’ বলা তথা একথার স্বীকৃতি দেয়া যে, আল্লাহ ছাড়া সত্য কোন উপাস্য নাই। আর সর্বনিম্ন হল, রাস্তা থেকে কষ্টদায়ক বস্তু সরিয়ে ফেলা। আর লজ্জা হল ঈমানের অন্যতম একটি শাখা।” (সহীহ মুসলিম)
 ১২) সালেম তার পিতা আব্দুল্লাহ থেকে বর্ণনা করে বলেন: রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোথাও যাওয়ার সময় দেখলেন, এক লোক তার ভাইকে লজ্জা করার ব্যাপারে তিরস্কার করছে। (অর্থাৎ তার ভাই লজ্জা করার কারণে তার ক্ষতি হয়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে সে তার ভাইকে বকাবকরি করছে)। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেন: “ওকে ছাড়ো। কারণ লজ্জা তো ঈমানের শাখা।” (বুখারী ও মুসলিম)
 ১৩) আনাস রা. হতে বর্ণিত। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন: “কোন জিনিসে বেহায়াপনা যুক্ত হলে সেটা হয় নিকৃষ্ট। আর কোন জিনিসে লজ্জা যুক্ত হলে তা হয় সৌন্দর্য মণ্ডিত।” (তিরমিযী প্রমুখ। সনদ সহীহ)


অনুবাদ ও গ্রন্থনা: আব্দুল্লাহিল হাদী বিন আব্দুল জলীল
দাঈ, জুবাইল দাওয়াহ এন্ড গাইডেন্স সেন্টার, সউদী আরব।

আরও পড়ুন:

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম উত্তম চরিত্রের জন্য যেভাবে দুআ করেছেন