এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

নিয়ত, আমল  ও কবুল ।

 নিয়ত‘নিয়ত’ অর্থ ‘সংকল্প’।সালাতের শুরুতে নিয়ত করা অপরিহার্য।একই ভাবে এটা অন্য যেকোন কাজের জন্যও এটা প্রযোজ্য।আপনার নিয়ৎ বা মনোভাবের উপরেই সম্পূর্ন নির্ভর করছে,আপনার কাজ সঠিক না ভুল।

*  রাসূলুল্লাহ (সঃ) এরশাদ করেন,إنَّمَا الْأَعْمَالُ بِالنِّيَاتِ وَ إِنَّمَا لِكُلٍّ امْرِءٍ مَّا نَوَى… ‘সকল কাজ নিয়তের উপরে নির্ভরশীল এবং প্রত্যেক ব্যক্তি তাই-ই পাবে, যার জন্য সে নিয়ত করবে’….।

অতএব সালাতের জন্য ওযূ করে পবিত্র হয়ে পরিচ্ছন্ন পোষাক ও দেহ-মন নিয়ে কা‘বার দিকে মুখ করে, মনে মনে সালাতের দৃঢ় সংকল্প করে মহান আল্লাহকে সন্তুষ্টির জন্য তাঁর সম্মুখে বিনম্রচিত্তে দাঁড়িয়ে যেতে হবে।

*  ইবাদত কবুলের ২টি শর্ত আছে।ক)  নিয়ত  ও  খ) কাজকর্ম,ইবাদত সব আল্লাহ-রসুলের নির্ধারিত নিয়মে হতে হবে।

ক)  নিয়ত :-  নিয়ত হবে কেবল আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য।  মহান আল্লাহ বলেন,

 ‘যে আখেরাতের কৃষিক্ষেত্র চায় আমি তার কৃষিক্ষেত্রে বাড়িয়ে দেই৷ আর যে দুনিয়ার কৃষিক্ষেত্র চায় তাকে দুনিয়ার অংশ থেকেই দিয়ে থাকি৷ কিন্তু আখেরাতে তার কোন অংশ নেই’। সুরা- শূরা-৪২-২০

‘যারা শুধুমাত্র এ দুনিয়ার জীবন এবং এর শোভা-সৌন্দর্য কামনা করে, তাদের কৃতকর্মের সমুদয় ফল আমি এখানেই তাদেরকে দিয়ে দেই এবং এ ব্যাপারে তাদেরকে কম দেয়া হয় না৷ কিন্তু এ ধরনের লোকদের জন্য আখেরাতে আগুন ছাড়া আর কিছুই নেই৷ (সেখানে তারা জানতে পারবে) যা কিছু তারা দুনিয়ায় বানিয়েছে সব বরবাদ হয়ে গেছে এবং এখন তাদের সমস্ত কৃতকর্ম ব্যর্থতায় পর্যবসিত হয়েছে৷’ সুরা-হুদ-১১-১৫,১৬ 

*  খলিফা হযরত ওমর(রা:) বলেন, আমি রাসুল(রা:) কে বলতে শুনেছি, সমস্ত কাজই নিয়তের উপর নির্ভরশীল।প্রত্যেকটি মানুষের জন্য তা হবে, যার নিয়ত সে করেছে।অতএব, যার হিজরত হবে দুনিয়া লাভের দিকে কিংবা কোন মেয়েকে বিয়ে করার জন্য, তার হিজরত সেই দিকেই গন্য হবে, যার দিকে সে হিজরত করেছে’। বুখারী ১ম খন্ড-১ নং হাদিস, মুসলিম

*  রাসুল(স:)  বলেছেন, ‘আল্লাহ বলেছেন, আমি নিজেই স্বয়ংসম্পূর্ন সর্বেসর্বা, আমার কোন সহযোগীর দরকার নেই এবং  যদি কেউ আমার ব্যতীত আন্য কারও জন্য কাজ করে ,তাহলে আমি ঘোষনা করছি যে, সে তার সংগী হবে।‘ মুসলিম-৭১১৪

*  কোন কাজের কিছু অংশ আল্লাহর জন্য আর কিছু অংশ আর কারও জন্য — আল্লাহ এটা পছন্দ করেন না।তিনি তার সাথে কাউকে শরীক করা পছন্দ করেন না।

খ)  সব আল্লাহ-রসুলের নির্ধারিত নিয়মে ও শরীয়ত অনুযায়ী করতে হবে। 

*  রাসুল(স:)  বলেন,  ‘যদি তোমাদের কাজ আমার নির্দেশিত পথে না হয়,তাহলে তা কবুল হবেনা’।মুসলিম- ৪২৬৭

*  হযরত ইরবাদ(রা:) হতে বর্নিত,  “রাসুল(স:) বলেছেন, তোমাদের উপর আবশ্যক আমার সুন্নত, আমার খোলাফায়ে রাশেদিনদের সুন্নত আকড়ে ধরা, তোমরা এটাকে দাত দিয়ে আকড়ে ধরবে”। আবু দাউদ -৩য় খন্ড-৪৯৫০

কাজেই আমল কবুল হতে হলে, অবশ্যই নিয়ত হতে হবে,মহান আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য এবং সেটা কুরআন/সুন্নাহ অনুযায়ী হতে হবে।

মুখে নিয়ত পাঠের প্রচলিত রেওয়াজটি দ্বীনের মধ্যে একটি নতুন সৃষ্টি।রাসূলুল্লাহ (সঃ)-এর  সালাতে এর কোন স্থান নেই।অনেকে সালাত শুরুর আগেই জায়নামাযের দো‘আ মনে করে ‘ইন্নী ওয়াজ্জাহ্তু…’ পড়েন।এই রেওয়াজটি সুন্নাতের বরখেলাফ।মূলতঃ জায়নামাযের দো‘আ বলে কিছু নেই।

আবুদাঊদ হা/৭৩০ ‘হাদীছ ছহীহ’; দারেমী, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ প্রভৃতি; ঐ, মিশকাত হা/৮০১ ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪ ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০; বঙ্গানুবাদ মেশকাত শরীফ (ঢাকা : এমদাদিয়া লাইব্রেরী, ৫ম মুদ্রণ ১৯৮৭) হা/৭৪৫ (১২), ১/৩৪০ পৃঃ।