এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

রমাযানের কিছু বিদআতের নমুনা


কোন কোন অঞ্চলে বা সমাজে রমাযান মাসে এক এক প্রকার বিদআত প্রচলিত হয়ে পড়েছে। সে সকল বিদআত থেকে সাবধান করার জন্য এখানে কিছু বিদআত উল্লেখ করা সঙ্গত বলে মনে করছি।

১। রোযার নিয়ত মুখে উচ্চারণ করা।

২। ‘‘নাওয়াইতু আন আসূমা গাদাম মিন শাহরি রামাযান’’ বলে বাঁধা নিয়ত বলা।

৩। রমাযানের রাত্রে কুরআন পড়ার জন্য ভাড়াটিয়া কারী ভাড়া করা।[1]

৪। মাইকে এক রাত্রে কুরআন খতম (শবীনা পাঠ) করা।

৫। মীলাদ বা মওলূদ পাঠ করা এবং তার শেষে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর শানে দরূদ পাঠ করার জন্য উঠে দাঁড়িয়ে মনগড়া দরূদ পড়া। সেই সাথে মুনাজাতে আমলের সওয়াব আম্বিয়া ও আওলিয়া বা কোন আত্মীয়র রূহের জন্য বখশে দেওয়া।[2]

৬। পূর্বসতর্কতামূলক কর্ম ভেবে ফজর হওয়ার ৫/১০ মিনিট আগে খাওয়া বন্ধ করা এবং সূর্য অস্ত যাওয়ার ৩/৫ মিনিট পরে ইফতার করা।[3]

৭। সেহরী ও ইফতারের সময় জানানোর উদ্দেশ্যে তোপ দাগা।[4]

৮। সেহরী খেতে জাগানোর উদ্দেশ্যে আযানের পরিবর্তে কুরআন ও গজল পাঠ করা।

৯। মসজিদের মিনারে সেহরী ও ইফতারের জন্য নির্দিষ্ট লাইট ব্যবহার করা। যেমন, সেহরীর সময় শেষ হলে লাল বাতি এবং ইফতারীর সময় শুরু হলে সবুজ বাতি জ্বালিয়ে দেওয়া।[5]

১০। সেহরী না খেয়ে অধিক সওয়াবের আশা করা।[6]

১১। কুরআন খতম হওয়ার পর বাকী রাতে তারাবীহ না পড়া।[7]

১২। প্রথমে পানি না খেয়ে আদা ও লবণ দিয়ে ইফতারী করাকে ভালো মনে করা।

১৩। ইফতারের আগে হাত তুলে জামাআতী মুনাজাত করা।

১৪। ইফতারের সময় ‘‘আল্লাহুম্মা ইন্নী আসআলুকা বিরাহমাতিকাল্লাতী অসিআত কুল্লা শাইইন আন তাগফিরা লী’’ বলে দুআ করা।[8]

১৫। ইফতারের সময় ‘‘আল্লাহুম্মা লাকা সুমতু, অবিকা আ-মানতু, অআলাইকা তাওয়াক্কালতু, অআলা রিযক্বিকা আফতারতু, বিরাহমাতিকা ইয়া আরহামুর রা-হিমীন’’ বলে দুআ করা।

১৬। বিশেষ করে রজব, শাবান ও রমাযানে মৃতদের কল্যাণের উদ্দেশ্যে দান-খয়রাত করা।[9]

১৭। সারা বছর নামায না পড়ে এবং তার সংকল্প না নিয়ে কেবল রমাযান মাসে রোযা রেখে (ফরয, সুন্নত ও নফল) নামায পড়া ও তসবীহ আওড়ানো।[10]

১৮। শবেকদরের ১০০ বা ১০০০ রাকআত নামায পড়া।

১৯। শবেকদরে বিশেষ করে ‘সালাতুত তাসবীহ’ নামায পড়া।

২০। কেবল ২৭শের রাতকে শবেকদর মনে করা এবং কেবল সেই রাত জাগরণ করা ও বাকী রাত না জাগা।

২১। বিশেষ করে শবেকদরের রাতে উমরাহ করা।[11]

২২। বিশেষ করে ২৭শের রাত্রি জাগরণ করে জামাআতী যিক্র করা, নানা রকমের পানাহার সামগ্রী তৈরী বা ক্রয় করে পান-ভোজন করা, মিষ্টি বিতরণ করা ও ওয়ায-মাহফিল করা।[12]

২৩। নির্দিষ্ট কোন রাতে একাকী বা জামাআতী নির্দিষ্ট যিক্র পড়া।[13]

২৪। সাতাশের রাত্রে লোকেদের মিষ্টি কিনতে ভিঁড় করা, (তা খাওয়া ও দান করা)।[14]

২৫। ঈদের রাত্রি জাগরণ করে ইবাদত করা। পূর্বে উল্লেখিত হয়েছে যে, এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীসটি জাল।[15]

২৬। রমাযানের শেষ জুমআহ (বিদায়ী জুমআহ) বিশেষ উদ্দীপনার সাথে পালন করা।

২৭। মা-বাপের নামে বিশেষ ভোজ-অনুষ্ঠান করা।[16]

২৮। শাবানের ১৫ তারীখের রাতে নামায ও দিনে রোযা রাখা।[17] বলা বাহুল্য এ ব্যাপারে কোন সহীহ হাদীস নেই।

সবশেষে এ কথা সকল মুসলিমের জেনে রাখা উচিত যে, নিশ্চয় উত্তম বাণী আল্লাহর গ্রন্থ এবং উত্তম পথ-নির্দেশ মুহাম্মাদ (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) -এর পথ-নির্দেশ। সব চেয়ে মন্দ কর্ম দ্বীনের অভিনব রচিত কর্মসমূহ। এবং প্রত্যেক নব কর্মই বিদআত, আর প্রত্যেক বিদআত্ই ভ্রষ্টতা।’’ ‘‘এবং প্রত্যেক ভ্রষ্টতার স্থান দোযখে।’’[18]

মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি কোন এমন কাজ করে যার উপর আমাদের কোন নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত।’’[19]  তিনি আরো বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আমাদের এ (দ্বীন) বিষয়ে কিছু এমন কর্ম উদ্ভাবন করবে যা ওর পর্যায়ভুক্ত নয়, তা প্রত্যাখ্যাত।’’[20]