এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

সলাতের প্রতি রাকাতে সুরা  ফাতিহা পড়া

  ইমাম ও মুক্তাদী সকলের জন্য সকল প্রকার সলাতে প্রতি রাক‘আতেসূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা ফরয। উল্লেখ্য যে, সূরা ফাতিহাকে দু’ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ১ম ভাগেআলহামদু… থেকে প্রথম তিনটি আয়াতে আল্লাহর প্রশংসা এবং ২য় ভাগে ইহ’দিনাস… থেকে শেষের তিনটি আয়াতে বান্দার প্রার্থনা এবং ইইয়াকা না‘বুদু…-কেমধ্যবর্তী আয়াত হিসাবে গণ্য করা হয়েছে। যা আল্লাহ ও বান্দার মাঝে বিভক্ত।এর মধ্যে বিসমিল্লাহ-কে শামিল করা হয়নি। ফলে এই হাদীস অনুযায়ী বিসমিল্লাহসূরা ফাতিহার অংশ নয়। [মুসলিমমিশকাত হা/৮২৩, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২নায়লুল আওত্বার ৩/৫১-৫২]

  ইমাম আবু হানিফার(র) মতে ইমামের ক্বিরাত উচ্চ/অনুচ্চ যেভাবেই হোক না কেন, মুকতাদীদের নীরব থাকতে হবে।ইমাম মালিক(রঃ) ও ইমাম আহমদ বিন হাম্বলের(র) মতে, ইমামের উচ্চস্বরে কিরাতের সময়ই শুধু, মুকতাদী নীরব থাকবে। কিন্তু ইমাম শাফেয়ীর(রঃ) মতে ইমামের উভয় অবস্থাতেই মুকতাদীকে সুরা ফাতেহা পড়তে হবে।

১)  মহান  আল্লাহ বলেন, “যখন কুরআন পড়া হয়, তখন তোমরা তা মনোযোগ দিয়ে শুন ও চুপ থাক”। (সুরাআরাফঃ ২০৪)

২) হযরত উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,لاَصَلاَةَلِمَنْلَّمْيَقْرَأْبِفَاتِحَةِالْكِتَابِ،مُتَّفَقٌعَلَيْهِ‘ঐ ব্যক্তির সলাত সিদ্ধ নয়, যেব্যক্তি সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করে না’।

[মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহমিশকাত হা/৮২২ ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২কুতুবেসিত্তাহ সহ প্রায় সকল হাদীছ গ্রন্থে উক্ত হাদীছটি বর্ণিত হয়েছে।]

হযরত উবাদাহ বিন সামিত (রাঃ) বলেন, “আমরা সালাতরত অবস্থায় ছিলাম। এই সময় মুক্তাদীদের কেউ কিছু পড়লে, রাসূল (সঃ)-এর পক্ষে ক্বিরাত কঠিন হয়ে পড়ে। সালাম ফিরানোর পর তিনি বলেন, সম্ভবতঃ তোমরা  কেউ ইমামের পিছনে কিছু পড়ে থাকবে। তোমরা এরুপ কর না, সূরা ফাতিহা ব্যতীত।”

[তিরমিয়ী (তুহফা সহ)-৩১০ , মিশকাত-৮৫৪ (অনু-১২), আহমদ-২২৭৯৮, আরনাউত্ব, হাকেম- ১/২৩৮ হা-৮৬৯, আল-আলবানী জেহরী সালাতের জন্য সুরা ফাতেহা পড়াকে জায়েয বলেছেন। কিন্তু ওয়াজিব বলেননি। ইমাম বুখারী সুরা ফাতেহা পড়াকে ওয়াজিব বলেছেনঃ বুখারী-অধ্যায় ১০ অনু-৯৫]

৩)সালাতে ভুলকারী (مسئالصلاة) জনৈক ব্যক্তিকে প্রশিক্ষণ দিতে গিয়েরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, …ثُمَّاقْرَأْبِأُمِّالْقُرْآنِوَبِمَاشَآءَاللهُأَنْتَقْرَأَ ‘অতঃপর তুমি ‘উম্মুল কুরআন’ অর্থাৎ সূরায়েফাতিহা পড়বে এবং যেটুকু আল্লাহ ইচ্ছা করেন কুরআন থেকে পাঠ করবে’…।

[আবুদাঊদতিরমিযীমিশকাত হা/৮০৪আবুদাঊদ হা/৮৫৯ ‘ছালাত’ অধ্যায়-২অনুচ্ছেদ-১৪৯]

৪)  আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, أُمِرْنَاأَنْنَقْرَأَبِفَاتِحَةِالْكِتَابِوَمَاتَيَسَّرَ‘আমরা আদিষ্ট হয়েছিলাম যেন আমরা সূরায়ে ফাতিহাপড়ি এবং (কুরআন থেকে) যা সহজ মনে হয় (তা পড়ি)’। [আবুদাঊদ-  ৮১৮]

৫)  আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন,أَمَرَنِيْرَسُوْلُاللهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَأَنْأُنَادِيَأَنَّهُلاَصَلاَةَإِلاَّبِقِرَاءَةِفَاتِحَةِالْكِتَابِفَمَازَادَ– ‘রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আমাকে নির্দেশ দেনযেন আমি এই কথা ঘোষণা করে দেই যে, সালাত ঠিক হয়না সূরা ফাতিহা  ছাড়া। অতঃপরঅতিরিক্ত কিছু।’[আবুদাঊদ-  ৮২০]

৬) আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে বলেন,أَتَقْرَءُوْنَفِيْصَلاَتِكُمْخَلْفَالْإِمَامِوَالْإِمَامُيَقْرَأُ؟فَلاَتَفْعَلُوْاوَلْيَقْرَأْأَحَدُكُمْبِفَاتِحَةِالْكِتَابِفِيْنَفْسِهِ،أَخْرَجَهُابْنُحِبَّانَ– ‘তোমরা কি ইমামের ক্বিরাআত অবস্থায়পিছনে কিছু পাঠ করে থাক? এটা করবে না। বরং কেবলমাত্র সূরায়ে ফাতিহা চুপেচুপে পাঠ করবে’।   [বুখারী, জুযউল কিরাত; তাবারানী আওসাত,বায়হাকী,ইবনু হিব্বান-১৮৪৪ ,আরনাউত্ব,  তুহফাতুল আহওয়ারী অনুঃ ২/২২৯ -২২৮ পৃষ্ঠা, ইমামের পিছনেক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-২২৯হা/৩১০-এর ভাষ্য (فالطريقانمحفوظان); নায়লুল আওত্বার২/৬৭ পৃষ্ঠামুক্তাদীর ক্বিরাআত ও চুপথাকা’ অনুচ্ছেদ]

৭)  হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,مَنْصَلَّىصَلاَةًلَمْيَقْرَأْفِيْهَابِأُمِّالْقُرْآنِفَهِيَخِدَاجٌ،فَهِيَخِدَاجٌ،فَهِيَخِدَاجٌ،غَيْرُتَمَامٍ ‘যে ব্যক্তিসালাত আদায় করল, যার মধ্যে ‘কুরআনের সারবস্তু’অর্থাৎ সূরায়ে ফাতিহা পাঠকরল না, তার ঐ ছালাত বিকলাঙ্গ, বিকলাঙ্গ, বিকলাঙ্গ, অপূর্ণাঙ্গ’…। রাবীহযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) -কে বলা হলঃআমরা যখন ইমামের পিছনে থাকি, তখনকিভাবে পড়ব? তিনি বললেন, إقْرَأْبِهَافِيْنَفْسِكَ (ইক্বরা’ বিহা ফীনাফসিকা) ‘তুমি ওটা চুপে চুপে পড়’। [মুসলিমমিশকাত হা/৮২৩, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২নায়লুল আওত্বার ৩/৫১-৫২]

 

 এছাড়াও অসংখ্য হানাফি মাযহাবের বড় বড় আলেম ব্যাপারটিকে অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে সমর্থন করেছেন, যেমনঃ ইমাম গাজ্জালী (রহঃ) তার ‘কিয়ামায়ে সাদাত’ বইয়ে, ‘নুযহাতুল খাওয়াতির’ বইয়ে খাজা নিযামুদ্দীন আউলিয়া, শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী-এর পিতা এবং ফতোয়ায়ে আলমগীরির অন্যতম লিখক শাহ্ আব্দুর রহীম হানাফী, ‘যুবদাতুল মাকামাত’ বইয়ে, ইত্যাদি

 

ইমামের পিছনে  ছালাতে সূরায়ে ফাতিহা পাঠ না করার  যুক্তি

১)  সূরা আ‘রাফ, ২০৪ আয়াতে ক্বিরাআতের সময় চুপ থেকে মনোযোগ দিয়ে তা শুনতেবলা হয়েছে। সেখানে বিশেষ কোন সূরাকে ‘খাস’ করা হয়নি। হাদীস দিয়েসূরায়ে ফাতিহাকে ‘খাস’ করলে, তা কুরআনী আয়াতকে ‘মনসূখ’ বা হুকুম রহিত করারশামিল হবে। অথচ ‘হাদীছ দ্বারা কুরআনী হুকুমকে মানসূখ করা যায় না’।এই বিষয়ে ইমামদের মধ্যে ভিন্ন মত আছে। [নূরুল আনওয়ার ২১৩-১৪ পৃঃনায়লুল আওত্বার ৩/৬৭ পৃঃ]

জবাব: এখানে ‘মনসূখ’ হবার প্রশ্নই ওঠে না। বরং হাদীসে ব্যাখ্যাকারেবর্ণিত হয়েছে এবং কুরআনের মধ্য থেকে উম্মুল কুরআনকে ‘খাস’ করা হয়েছে (হিজর১৫/৮৭)। যেমন কুরআনে সকল উম্মতকে লক্ষ্য করে ‘মীরাস’ বণ্টনের সাধারণ আদেশদেওয়া হয়েছে (নিসা ৪/৭,১১)। কিন্তু হাদীছে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সম্পত্তিতাঁর উত্তরাধিকারী সন্তানগণ পাবেন না বলে‘খাস’ ভাবে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।[কানযুল উম্মাল – ৩৫,৬০০, নাসাঈ কুবরা- ৬৩০৯ , মুত্তাফাক আলাইহে,  মিশকাত-৫৯৭৬ ,ফাযায়ের-শামায়েল- অধ্যায়-২৯, অনু- ১০] 

২)  হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, একদা এক জেহরী ছালাতে সালাম ফিরিয়েরাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মুছল্লীদের জিজ্ঞেস করলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ কি এইমাত্রআমার সাথে কুরআন পাঠ করেছ? একজন বলল, জ্বি হা। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বললেন, তাই বলি, مَالِيْأُنَازِعُالقُرْآنَ ‘আমার ক্বিরাআতে কেন বিঘ্ন সৃষ্টিহচ্ছে’? রাবী বলেন,-فَانْتَهَىالنَّاسُعَنِالْقِرَاءَةِمَعَرَسُوْلِاللهِصَلَّىاللهُعَلَيْهِوَسَلَّمَفِيْمَاجَهَرَفِيْهِ ‘এরপর থেকেলোকেরা জেহরী সালাতে রাসূল (ছাঃ)-এর সাথে ক্বিরাআত করা থেকে বিরত হ’ল’।   [আবুদাঊদনাসাঈতিরমিযী , মিশকাত হা/৮৫৫, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২]

জবাব :  হাদীসের বক্তব্যে বুঝা যায় যে, মুক্তাদীগণের মধ্যে কেউ রাসূল (সঃ)-এর সাথে সাথে সরবে ক্বিরাআত করেছিলেন। যার জন্য ইমাম হিসাবে রাসূল (সঃ)-এর ক্বিরাআতে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়েছিল। ইতিপূর্বে আনাস ও আবু হুরায়রা (রাঃ) বর্ণিত হাদীস দু’টিতে নীরবে পড়ার কথা এসেছে, যাতে বিঘ্ন সৃষ্টি নাহয়। শাহ ওয়ালিউল্লাহ দেহলভী (রহঃ) বলেন, فَإنْقَرَأَفَلْيَقْرَءِالْفَاتِحَةَقِرَاءَةًلاَيُشَوِّشُعَلَيالْإِمَامِ– “জেহরী ছালাতেমুক্তাদী এমনভাবে সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করবে, যাতে ইমামের ক্বিরাআতে বিঘ্নসৃষ্টি না হয়।”

[হুজ্জাতুল্লাহিল বালিগাহ (কায়রো : দারুত তুরাছ ১৩৫৫/১৯৩৬)২/৯ পৃঃ ।আবুদাঊদ হা/৮২৭আওনুল মাবূদ হা/৮১১-১২,অনুচ্ছেদ-১৩৫নায়লুল আওত্বার ৩/৬৫]

৩)  আবু হুরায়রা (রাঃ) হ’তে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছঃ) এরশাদ করেন, إِنَّمَاجُعِلَالْإِمَامُلِيُؤْتَمَّبِهِفَإِذَاكَبَّرَفَكَبِّرُوْاوَإِذَاقَرَأَفَأَنْصِتُوْا– ‘ইমাম নিযুক্ত হন তাকে অনুসরণ করার জন্য।তিনি যখন তাকবীর বলেন, তখন তোমরা তাকবীর বল। তিনি যখন ক্বিরাআত করেন, তখনতোমরা চুপ থাক’।   [আবুদাঊদনাসাঈইবনু মাজাহমিশকাত হা/৮৫৭]

জবাব: উক্ত হাদীসে ‘আম’ ভাবে ক্বিরাআতের সময় চুপ থাকতে বলা হয়েছে।কুরআনেও অনুরূপ নির্দেশ এসেছে (আ‘রাফ ৭/২০৪)। একই রাবীর (আবু হুরায়রা)ইতিপূর্বেকার বর্ণনায় এবং আনাস (রাঃ) বর্ণিত হাদীছে সূরায়ে ফাতিহাকে ‘খাছ’ ভাবে চুপে চুপে পড়তে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অতএব ইমামের পিছনে চুপে চুপেসূরায়ে ফাতিহা পাঠ করলে,উভয় সহীহ হাদীসের উপরে আমল করা সম্ভব হয়

৪)  হযরত জাবের (রাঃ) থেকে বর্নিত, রাসুল(সঃ) বলেন, “যার ইমাম রয়েছে, ইমামের কিরাত তার জন্য কিরাত হবে”।

উত্তরঃ  এটা একটা ‘আম’ কথা যেটা কিরাতের জন্য প্রযোজ্য। যেহেতু সুরা ফাতিহাকে নিদিষ্ট করা হয়েছে, কাজেই এই কথা সুরা ফাতিহার জন্য প্রযোজ্য নয়। ইবনু হাজার আসক্বলানী (রহঃ) বলেন, বর্নিত সমস্ত সূত্রই দোষযুক্ত।  [ফাতহুল বারী- ২/২৮৩- ৭৫৬ , নায়লুল আওতার- ৩/৭০]

অতএব রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সহীহ হাদীস, অধিকাংশ সাহাবী ও তাবেঈন এবংইমাম মালেক, শাফেঈ ও আহমাদ সহ অধিকাংশ মুজতাহিদ ইমামগণের সিদ্ধান্ত ওনিয়মিত আমলের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে,সালাতের সমস্ত রাকাতেসূরায়েফাতেহা পাঠ করা অবশ্য কর্তব্য।

  

সূরা ফাতিহা ও রুকু/সলাত

 সুরা ফাতেহা ছাড়া রুকু/সালাত হবে

(১) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন,مَنْأَدْرَكَرَكْعَةًمِّنَالصَّلاَةِمَعَالْإِمَامِفَقَدْأَدْرَكَالصَّلاَةَكُلَّهَا– ‘যে ব্যক্তি ইমামের সাথে ছালাতের এক রাক’আত পেল, সে ব্যক্তি পূর্ণ ছালাত পেল। মুত্তাফাক আলাইহে ,মিশকাত-১৪১২- অনু- ৪৫

জবাব :   ইমাম বুখারী বলেন যে, এখানে রাকাত বলা হয়েছে। রুকূ, সিজদা বা তাশাহহুদ বলা হয়নি’ (অথচ সবগুলো মিলেই রাক’আত হয়) (‘আওনুল মা’বূদ ৩/১৫২)। শামসুল হক আযীমাবাদী বলেন, ‘এখানে কোন কারণ ছাড়াই রাক’আত অর্থ রুকূ করা হয়েছে যা ঠিক নয়। যেমন ছহীহ মুসলিমে বারা বিন আযেব (রাঃ) হতে বর্ণিত হাদীছে ‘ক্বিয়াম ও সিজদার বিপরীতে রাক’আত শব্দ এসেছে। সেখানে রাক’আত অর্থ রুকূ করা হয়েছে। ‘আব্দুর রহমান সাদীও তাই বলেন’  আল-মুখতারাত-পৃঃ ৪৪,মুসলিম- ১০৮৫,আবু দাউদ (আউনসহ)- ৮৭৫-অনু- ১৫২-পৃষ্ঠা-৩/১৪৫

(২) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, “রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, যে ব্যক্তি জুম’আর ছালাতের শেষ রাক’আতে রুকূ পেল, সে যেন আরেক রাক’আত যোগ করে নেয়। কিন্তু যে ব্যক্তি শেষ রাক’আতে রুকূ পেল না, সে যেন যোহরের চার রাক’আত পড়ে”।দারাকুৎনী – ১৫৮৭, অনু-জুমা

জবাব : দারাকুৎনী বর্ণিত অত্র হাদীছটি ‘যঈফ।

৩) আবু বাকরাহ (রাঃ) হতে একটি হাদীছ পেশ করা হয়ে থাকে। তিনি একাকী রুকূ অবস্থায় পিছন থেকে কাতারে প্রবেশ করেন। রাসূল (ছাঃ) তাকে বলেন, “আল্লাহ তোমার আগ্রহ বৃদ্ধি করুন। তবে আর কখনো এরূপ করো না”।   আবু দাউদ- ৬৬৯-৬৭০, ৬৮৩-৬৮৪

জবাব : ইবনু হাযম আন্দালুসী ও ইমাম শাওকানী বলেন, এ হাদীছের মধ্যে জমহূরের মতের পক্ষে কোন দলীল নেই। কেননা রাসূল (ছাঃ) তাকে যেমন ঐ রাক’আত পুনরায় পড়তে বলেননি, তেমনি ঐ ছাহাবী ঐ রাক’আতটি গণনা করেছিলেন কি-না, সেকথাও বর্ণিত হয়নি।

সুরা ফাতেহা ছাড়া  রুকু/সালাত হবে না

 শুধুমাত্র রুকূ পেলেই রাক’আত পাওয়া হবে না। কেননা সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা ফরয। যা পরিত্যাগ করলে ছালাত বাতিল হবে ও পুনরায় পড়তে হবে। যেমন ক্বিয়াম, রুকূ, সিজদা ইত্যাদি ফরয, যার কোন একটি বাদ দিলে ছালাত বাতিল হবে ও পুনরায় নতুনভাবে পড়তে হবে।  যে ব্যক্তি কেবল রুকূ পেল, সে ব্যক্তি ক্বিয়াম ও ক্বিরাআতে ফাতেহার দুটি ফরয তরক করল। অতএব তার ঐ রাক’আত গণ্য হবে না। বরং তাকে আরেক রাক’আত যোগ করে পড়তে হবে। অবশ্য ছালাতে যোগদান করার নেকী তিনি পুরোপুরি পেয়ে যাবেন।

ইবনু খুযয়মা – বৈরুত- ১৩৯১/১৯৭১ সংস্করন, সালাত- অনু-৯৩-৯৪-  ১/২৪৬ – ৪৭ পৃষ্ঠা

১)  হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ইক্বামত শুনে তোমরা দৌড়ে যেয়ো না। বরং স্বাভাবিকভাবে হেঁটে যাও। তোমাদের জন্য স্থিরতা অবলম্বন করা আবশ্যক। অতঃপর তোমরা জামা’আতে ছালাতের যতটুকু পাও,ততটুকু আদায় কর এবং যেটুকু ছুটে যায় সেটুকু পূর্ণ কর। মুত্তাফাক আলাইহে,মিশকাত-৬৮৬,আযান অনু-৬

 ইমাম বুখারী বলেন, এখানে ঐ ব্যক্তি কেবল রুকূ পেয়েছে। কিন্তু ক্বিয়াম ও ক্বিরাআতে ফাতেহার দুটি ফরয পায়নি। অতএব তাকে শেষে এক রাক‘আত যোগ করে ঐ ছুটে যাওয়া ফরয দুটি পূর্ণ করতে হবে’। বুখারী- জুযউল কিরাত- মাসআলা- ১০৬ পৃষ্ঠা-৪৬,আওনুল মাবুদ- ৮৭৫-এর ব্যাখ্যা- ৩/১৫ পৃষ্ঠা।

২) হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) কর্তৃক একটি ‘মওকূফ’ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, لاَيُجْزِئُكَإِلاَّأَنْتُدْرِكَالْإِمَامَقَائِمًا‘তোমার জন্য যথেষ্ট হবে না যদি না তুমি ইমামকে দাঁড়ানো অবস্থায় পাও’। হাফেয ইবনু হাজার বলেন, আবু হুরায়রা (রাঃ) থেকে রুকূ পেলে রাক’আত না পাওয়ার বিষয়টিই প্রসিদ্ধ।  সিলাসিলা -২২৯

৩)   তাবেঈ  মুজাহিদ বলেন, সূরায়ে ফাতিহা পড়তে ভুলে গেলে সে রাক’আত গণনা করা হত না (لاَتُعَدُّتِلْكَالرَّكْعَةُ)। বুখারী- জুযউল কিরাত- ২৮ – পৃষ্টা-১৩

ইবনু হাযম বলেন, রাকআত পূর্ণ হওয়ার জন্য তার উপরে অবশ্য করণীয় হল ক্বিয়াম ও ক্বিরাআত করা। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, রাকআত ও অন্য কোন রুকন ছুটে যাওয়ার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই। ফলে ইমামের সাথে যোগদানের সময় কোন রাকআত ছুটে গেলে তা যেমন পরে আদায় করতে হয়, অনুরূপভাবে সূরায়ে ফাতিহা ছুটে গেলে সেটাও পরে আদায় করতে হবে। কেননা ওটাও অন্যতম রুকন, যা আদায় করা ফরয। এক্ষণে ‘সূরায়ে ফাতিহা ছুটে গেলেও ছালাত হয়ে যাবে’ বলে যদি দাবী করা হয়, তবে তার জন্য স্পষ্ট ও ছহীহ দলীল প্রয়োজন হবে। অথচ তা পাওয়া যায় না। তিনি বলেন, কেউ কেউ আগ বেড়ে এ বিষয়ে ইজমা-এর দাবী করেছেন। ঐ ব্যক্তি ঐ বিষয়ে মিথ্যাবাদী। কেননা আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত হয়েছে যে, তিনি সূরায়ে ফাতিহা পড়তে না পারলে ঐ রাকআত গণনা করতেন না। অমনিভাব যায়েদ বিন ওয়াহাব থেকেও বর্ণিত হয়েছে।   নায়নাল আওতার- ৩/৬৯

ইমাম শাওকানী বলেন, ইমাম ও মুক্তাদী সকলের জন্য সর্বাবস্থায় প্রতি রাকআতে সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা‘ফরয বরং এটি ছালাত সিদ্ধ হওয়ার অন্যতম শর্ত। অতএব যে ব্যক্তি ধারণা করে যে, এটা ছাড়াই সালাত সিদ্ধ হবে, তাকে এমন স্পষ্ট দলীল পেশ করতে হবে। নায়নাল আওতার – ৩/৬৭-৬৮

শুধুমাত্র রুকূ পেলে রাক’আত হবেনা। বরং তাকে আরেক রাক’আত যোগ করে পড়তে হবে। এটা বলা যেতে পারে যে, রুকূ পেলে রাক’আত পাওয়ার স্পষ্ট দলীল নেই এবং যেখানে আরেক রাক’আত যোগ করার ব্যাপারে সাহাবী ও তাবেঈগণের স্পষ্ট বক্তব্য এসেছে, সেখানে অন্য কারো বক্তব্য তালাশ করার কোন যৌক্তিকতা নেই। ইমাম বুখারী, ইমাম ইবনু হাযম, ইমাম শাওকানী মত বিশেষজ্ঞগন এটা বলেন।

======= 

ইমাম, মাযহাবী ফিৎনা,মুসলিম ঐক্য ও মহান আল্লাহ

১।  মুসলিম ঐক্য

(‘মুসলিম ঐক্য’  এই  আর্টিকলেটি জনাব জাকির নায়েকের “বক্তৃতা সামগ্রী-৫ম খন্ড” থেকে নেয়া হয়েছে ও এখানের প্রয়োজনে  ব্যাপক পরিবর্তন করে, এখানে  দেয়া হয়েছে।  

#  হযরত মুহাম্মাদ(সঃ)

জন্মগ্রহন- ৫৭১ খৃষ্টাব্দের  ২/২২ এপ্রিল।

#  হযরত ওসমান(রাঃ)

মৃত্যু- ৩৫  হিজরী,১৮ই জিলহজ্জ।

ইমাম আবু হানিফা(র)

জন্মগ্রহন ৮০ হিজরী(৬৯৯খৃষ্টাব্দ)ও মৃত্যু ১৫০ হিজরী(৭৬৭ খৃষ্টাব্দ)।

#  ইমামা মালিক(র)

জন্মগ্রহন- ৯৫ হিজরী(৭১৪ খৃষ্টাব্দ) ও মৃত্যু-  ১৭৯ হিজরী(৭৯৮ খৃষ্টাব্দ)।

#  ইমামা  শাফেয়ী(র)

জন্ম- ১৫০ হিজরী(৭৬৭ খৃষ্টাব্দ)) ও  মৃত্যু- ২৪০ হিজরী(৮৫৪ খৃষ্টাব্দ)

#  ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(র)

জন্ম- ১৬৪ হিজরী(৭৮০ খৃষ্টাব্দ)

#  ইমাম বুখারী(রহ)

জন্ম- ১৯৪ হিজরীর ১৩ শাওয়াল, জুমুয়ার পরে  ও মৃত্যু ২৫৬ হিজরী, গ্রাম-খারতাংগ,১লা শা য়াল,ঈদুল ফিৎর, বয়স-৬২ । হাদীস সংকলনের পূর্বে তিনি গোসল করতেন ও ২ রাকাত সালাত পড়তেন। ৬ লক্ষ হাদীস থেকে ১৬ বছর যাচাই করে তিনি ৪০০০ হাজার হাদীস লিপিবদ্ধ করেন। 

#  ইমাম  মুসলিম(রহ)

ইমাম মুসলিম(রহ)  ২০২ হিজরীতে মতান্তরে ২০৬/২০৮ হিজরীতে খোরাসানের নায়সাবুরে জন্মগ্রহন করেন। ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(রহ)  ও ইমাম বুখারী(রহ) উনার শিক্ষক ছিলেন।ইমাম মুসলিম(রহ) ২৬১/৮৭৫ সনে নায়সাবুরে ইন্তেকাল করেন। তিনি ১৬ বছরে ৪ হাজার হাদিস লিপিবদ্ধ করেন। 

# ইমাম গাজ্জালী(র)

জন্ম- ৪৫০ হিজরী(১০৫৫ খৃষ্টাব্দ)  ও মৃত্যু- ৫০৫ হিজরী(১১১১ খৃষ্টাব্দ)।

#  ইমাম ইবনে তাইমিয়া(র)

জন্ম- ৬৬১ হিজরী(১২৬২ খৃষ্টাব্দ) ও মৃত্যু- ৭২৮ হিজরী(১৩২৭ খৃষ্টাব্দ)

#  শাহ ওয়ালীউল্লাহ দেহলভী(র)

জন্ম- ১১১৪ হিজরী(১৭০৩)  ও মৃত্যু (১১৭৬ খৃষ্টাব্দ)

ইমাম আবু হানিফা(র) থেকে ইমাম মালেক(র) ১৫ বছর, ইমামা মালিক(র) থেকে ইমাম শাফেয়ী(র) ৫৩ বছর ও ইমাম শাফেয়ী(র) থেকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বল(র) ১৩ বছর পরে জন্মগ্রহন করেন। অর্থাৎ  ইমাম আবু হানিফা(র) থেকে ইমাম আহমদ ইবনে হাম্বলের(রা) জন্মগ্রহনের তফাৎ হচ্ছে  ৮১ বছর।

 যখনই কোন মুসলিমকে জিজ্ঞাসা করা হয়, ভাই আপনি কিভাবে সালাত,জানাযা, ‘আমিন জোরে/আস্তে বলা,সালাতে সুরা ফাতেহা পড়া/না পড়া ইত্যাদি পালন করেন ? উত্তর আসে, আমি/আমরা হানাফি। এভাবে গড়ে উঠেছে হানাফি, মালেকী, হাম্বলী, শাফেয়ী, শিয়া, ওয়াহাবী, আহলে হাদিস, সালাফি ইত্যাদি মুসলিম মতবাদ।এই পরিচয় দিয়ে আপনি মুসলিম মিল্লাতে বিভেদ সৃষ্টি করছেন।যদিও আপনি নিজেকে একনিষ্ঠ মুসলিম মনে করেন। এই বিভেদ সৃষ্টির জন্য মহান আল্লাহ হাশরের দিনে, আপনার বিচার করতে পারেন কারন আমি জেনেই এটা করছি ও ফিৎনার প্রবক্তার ভূমিকায় অবতীর্ন হচ্ছি।  সালাত,জানাযা, ‘আমিন জোরে/আস্তে বলা,সালাতে সুরা ফাতেহা পড়া  ইত্যাদিসহ  ধর্মের বিভিন্ন পালন করার সময়, প্রথমে দেখছেন, মাযহাব কি বলে ? কিন্তু তারপরই আপনার দেখা উচিৎ ছিল, সহীহ হাদীস কি বলে ? সেটা আপনি করছেন না।ব্যাপক সংখ্যক বিশেষজ্ঞ বলে, আমরা অমুক মাযহাবের অনুসারী।আর এ জন্যই আপনি দায়ী। এটা কি আশ্চর্য না, আপনি সহীহ হাদীসের অনুসারী না হয়ে, মাযহাবের অনুসারী। যদি মাযহাবের সেই হাদীসটা ভুলও হয় ! খুব অল্প সংখ্যক বিশেষজ্ঞ আছেন, যারা হাদীসের রাবী,সনদ(সহীহ হবার পরও), নিজ মাযহাবকে ঠিক রাখার জন্য মানুষকে সঠিক কথা বলেন না।আবার কিছু ইমাম আছেন, যারা চাকুরী যাবার দুঃশ্চিন্তায়  মাযহাবের ফিৎনায় অংশগ্রহন করেন। আপনি কি সমস্ত মাযহাবের আসল বইগুলো পড়েছেন ? পড়া থাকলে মাযহাব সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নিতে আপনার সুবিধা হবে। 

  আপনার কাছে কি এমন কোন নীতি আছে যেটা দিয়ে এই বিভেদ দূর করা যায় ? সমস্ত মতবাদের মধ্যে যেটা, সহীহ হাদিসকেই অনুসরন করে কিংবা সহীহ হাদীসের সবচেয়ে কাছে, সেটাকেই অনুসরন করলেই, এই বিভেদ দূর করা সম্ভব।  হতে পারে সহীহ-হাদীসকে জানা সবার পক্ষে সম্ভব না। তবে ধর্মের চর্চা বাড়ালেই এই সমস্যা চলে যাবে। এই কারনে মহান আল্লাহ জ্ঞ্যান অর্জন ফরয করে দিয়েছেন। যেসব শিক্ষিতের পক্ষে এটা সম্ভব, তারা এটা বুঝলেই, অন্যরা এটা অনুসরন করবে।

#  “যারা দ্বীন সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে, তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়।“ আনআম-১৫৯

#  “মুশরিকদের অন্তভূর্ক্ত হইও না,যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়াতায়ালার শরীক  বানায়ে পূজা করে,আর তাদের মত হইও না, যারা দ্বীনে মতভেদ সৃষ্টি করে।বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয় আর প্রত্যেক দল উল্লাস করে যে, তারা সত্যের পথে আছে। রোম-৩১,৩২

 “তোমরা দ্বীনকে প্রতিষ্ঠিত কর আর কোন রকম মতেদ সৃষ্টি কোর না। শুরা-১৩,১৪

“যদি তোদের মধ্যে মতভেদ থাকে তাহলে, আল্লাহ ও তার রাসুলের কাছে কাছে ফিরে যাও। যদি তেমরা আল্লাহ ও তার রাসুলের  উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক।” নিসা- ৫৯  

  মহান আল্লাহ  আমাকে শেষ  রাসুল(সঃ), কুরআন ও সহীহ হাদীসের অনুসরন করতে বলেছেন ও মাযহাবী পরিচয় না দিয়ে, ‘মুসলিম’ বলে পরিচয় দিতে বলেছেন।তবে আমাদের সম্মানিত  মাযহাবেরর কাছে যেতে হবে ও আর সঠিকটা গ্রহন করে, ভুলটা বাদ দিতে হবে।তারপরেও সিদ্ধান্ত ভুল হলে হয়তো, মহান আল্লাহ ক্ষমা করবেন। কারন আমরা চেষ্টা করেছি।   

  সবার আগে রাসুল(সঃ),তারপর ৪ খলিফাসহ “আশারায়ে মুবাশ্বেরা”র  এবং অন্য সাহাবীরা। “বেহেশতের সংবাদপ্রাপ্তদের” মহান আল্লাহ নিজে ঠিক করেছেন। তালহা(রাঃ) ওহুদের যুদ্ধে ৩০ টা তীর নিজের শরীরে নিয়েছিলেন,রাসুল(সঃ)কে রক্ষার জন্য।উনার নাম ছিল “জীবন্ত শহীদ”। তারপরও তো তালহাকে(রাঃ) কিংবা ৪ খলিফাকে অন্ধ-ভাবে অনুসরনের কথা বলা হয়নি। একমাত্র নবী(সঃ)  ছাড়া কাউকে অন্ধ-ভাবে অনুসরন করতে মহান আল্লাহ বলেননি।

 আপনি তো একমাত্র রাসুল(সঃ) ছাড়া কাউকে অন্ধ-ভাবে অনুসরন করতে পারেন না। মাযহাব তো দূরের কথা। নবী/রাসুলরা যে সিদ্ধান্ত দিয়ে গেছেন, সেটার বিপরীতে ইজমা হতে পারে না।  ইজমা হয় নূতন সমস্যায়।

   আমাদের লক্ষ্য, সমস্ত  সাহাবী ও ইমামদের  থেকে  সঠিক জিনিসটাই গ্রহন করা  ও ভুলটা বাদ দেয়া।কারন নবী/রাসুল ছাড়া কেউই ভুলের উর্ধ্বে না। এজন্য আমাদের অনুসরন করতে  হবে, সহীহ হাদীস।ইমামদের সময়ে সামান্য একটা হাদীস/তথ্য পাবার জন্য  মাইলকে মাইল হাটতে/ঘোড়ায় যেতে হয়েছে। আর এখন জানার জন্য শুধু একটা ফোন যথেষ্ট।আরও আছে পত্রিকা,টিভি,সিনেমা, ইন্টারনেট,বই,ভিডিও ক্যাসেট। চারিদিকে শুধু তথ্য, কারন এটা তথ্য-প্রযু্ক্তির যুগ। সমস্যা হচ্ছে, সঠিক তথ্যের পাশাপাশি ভুল তথ্যওআপনার কাছে আসছে। এর মধ্যে থেকে সঠিকটা বেছে নিতে হবে।মহান আল্লাহ জ্ঞ্যানীদের কাছে যাবার জন্য বলেছেনঃ-

#  “আল্লাহকে মানো এবং তার রাসুলকে(সঃ) মানো এবং যারা তোমাদের মধ্যে ক্ষমতার অধিকারী এবং জ্ঞ্যানের অধিকারী তাদেরকে।“  নিসা-৫৯

  কারন সম্মানিত ইমামরা বলে গেছেন, “সঠিক হাদিসই আমার মাযহাব। এর চেয়ে ভাল হাদিস পেলে, আমারটা দেয়ালে ছুড়ে মার”।হাশরের মাঠে  সম্মানিত ইমামরা আপনার দায়িত্ব নিবেন না/নিতে পারবেনও না। কারন উনাদের বক্তব্য পরিষ্কার। খৃষ্টানদের মতো চিন্তা করার সুযোগ নাই। এরা বলে হযরত ঈশা(আঃ)  খৃষ্টানদের সমস্ত পাপ/ভুলের দায়িত্ব নিয়েছে। কাজেই  খৃষ্টানরা যাই করুক না কেন,তাদের কোন সমস্যা নাই।কারন আল্লাহ আর দ্বিতীয়বার পৃথিবীতে পাঠাবেন না।সব মাযহাব যে পরিশ্রম করেছেন, এটা বিরল দৃষ্টান্ত।মহান আল্লাহ উনাদের ‘জান্নাতুল ফেরদাউস’ দিবেন, এটাই আমাদের দোয়া।মহান আল্লাহ উনাদের শান্তিতে রাখুন।

#  রাসুল(সঃ)  বলছেন, “আমার উম্মত ৭৩ দল হবে। এর থেকে এক দল ছাড়া সবাই দোযখে যাবে”।অর্থাৎ রাসুল(সঃ) আপনাকে সতর্ক করছেন।  

#  “শেষ জামানায় বিভিন্ন রকম ফেৎনা/মতবাদ  আসবে। এগুলো  থেকে বেচে, যে সঠিক পথে থাকতে পারবে,  মহান আল্লাহ তাকে ৫০ শহীদের মর্যাদা দিবেন। এখানেও রাসুল(সঃ) আপনাকে সতর্ক করছেন।

দ্বীনে বিভেদ সৃষ্টিকারীর সম্পর্কে মহান আল্লাহ রাসুলকে(সঃ) বলেন,

#  “ফেৎনা হত্যার চেয়েও মারাত্নক”। বাকারা-১৯১

#  “ যারা দ্বীন সম্পর্কে নানা মতের সৃষ্টি করেছে এবং বিভিন্ন দলে বিভক্ত হয়েছে,তাদের কোন দায়িত্ব তোমার নয়।“ আনআম- ১৫৯ 

“যে রাসুলের আনুগত্য করে, সে মূলতঃ আল্লাহরই আনুগত্য করে”।   আন-নিসা- ৮০

#  “তোমাদের প্রতিপালকের নিকট থেকে তোমাদের প্রতি যা কিছু অবতীর্ন হয়েছে,তার অনুসরন কর,তা বাদ দিয়ে তোমাদের নেতাদের অনুসরন কোর না।“ আল-আরাফ-৩

#  “আয়েশা থেকে  বর্নিত, রাসুলুল্লাহ(সঃ) বলেন, “যে ব্যাক্তি আমার এই দ্বীনে(নিজের পক্ষ থেকে)  কোন নূতন কথা  উদ্ভাবন করলো,-যা তার মধ্যে নেই, তা প্রত্যাখ্যান যোগ্য। বুখারী,মুসলিম।  

#  “যে  ব্যাক্তি জেনো-শুনে  আমার নামে মিথ্যা হাদীস বর্ননা করে, সে মিথ্যাবাদীদের  একজন”।  মুসলিম

#  রিবঈ ইবনে হিরাস থেকে বর্নিত, তিনি আলীকে এক ভাষনে বলতে শুনেছেন,”রাসুলুল্লাহ(সঃ) বলেছেন,তোমরা আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ কোর না।কেননা যে ব্যাক্তি আমার প্রতি মিথ্যা আরোপ করবে, সে জাহান্নামে যাবে”। মুসলিম

  মূলতঃ  হানাফি,সুন্নী,আহলে হাদীস,শাফেয়ী,হাম্বলী,মালেকী,শিয়া, সালাফি,সালাফির বিভিন্ন দল ,আহলে সুন্নাত আল জামায়াত,ওহাবী প্রভৃতি ফিৎনাগুলো এভাবেই সৃষ্টি হয়েছে।প্রতিটা দলই সঠিক পথে আছে বলে দাবী করছে। কিন্তু মহান আল্লাহ বলেন,

মুশরিকদের অন্তর্ভূক্ত হইও না।যারা আল্লাহ সুবহানাহু ওয়া তায়ালার শরিক বানিয়ে উপাসনা করে। আর তাদের মতো হইও না, যারা দ্বীনে মতভেদ সৃষ্টি করে, বিভিন্ন উপদলে বিভক্ত হয় আর প্রত্যেক দল উল্লাস করে যে, তারা সত্যের পথে আছে।“ রোম-৩১,৩২

  এভাবে চিন্তাকে মহান আল্লাহ দ্বীনে বিভেদকারী ও ফিৎনা সৃষ্টিকারী হিসাবে, আখ্যায়িত করছেন। এর সাজা থেকে আমদের অবশ্যই সতর্ক থাকতে হবে।কারন মহান আল্রাহ আমাদের মুসলিম হিসাবে পরিচয় দিতে বলেছেন।আর আমরা নিজের পরিচয় দিচ্ছি, হাম্বলী,শাফেয়ী হিসাবে।  এই ফিৎনা থেকে বাচার জন্য কুরআন ও সহীহ হাদীস ছাড়া কি আর কোন উপায় কারো কাছে আছে ?

#  “ ইবরাহীম(আঃ) ইহুদী অথবা খৃষ্টান ছিলেন না, তিনি ছিলেন আত্নসমর্পনকারী মুসলিম।“ আল-ইমরান-৬৭

#  “তিনি তোমাদের জন্য যে, দ্বীন মনোনীত করেছেন, সে দ্বীন হচ্ছে ইবরাহীমের আর তিনি তোমাদের নাম দিয়েছেন মুসলিম,আগের সকল কিতাবে এবং এই কিতাবেও। সুতরাং নামায আদায় করো এবং যাকাত দাও।“ হজ্জ-৭৮

সম্মানিত ইমামগন যতগুলো হাদীস পেয়েছিলেন, পাওয়া হাদীসের ভিত্তিতে ঐ সমস্ত রায়গুলো দিয়েছিলেন।ফলে উনাদের দেয়া বিভিন্ন রকম হয়েছে। উনারা পারস্পরিক যোগাযোগের সুযোগও পান নাই,দূরত্বতো প্রধান সমস্যা আছেই। উনারা জানতেন উনারা অবশ্যই সমস্ত হাদীস পাননি।ফলে রায় কম-বেশী হতে পারে। তাই উনারা বলেন,

#  “সহীহ হাদীসই আমার মাযহাব।যদি তোমরা  সহীহ হাদীস পাও, তাহলে সেটাই আমার মাযহাব।যদি তোমরা একটা সহীহ হাদীসও পাও,তাহলে সেটাই আমার জীবন-দর্শন।“ 

#  “যদি আমার কোন ফতওয়া আমার কোন একটা মতামত আল্লাহর কিতাবের বিরুদ্ধে যায় এবং রাসুল(সঃ)এর কথার বিরুদ্ধে যায়,তাহলে আমার সে মতামত বাতিল করে দাও।“

#  “যদি তোমাদের মধ্যে মতভেদ  থাকে, তাহলে আল্লাহ ও তার রাসুলের(সঃ) কাছে ফিরে যাও।যদি তোমরা আল্লাহ ও পরকালের  উপর বিশ্বাসী হয়ে থাক।“  নিসা-৫৯

#  “৭৩ টা দল হবে আর ১টা দল বাদে সবাই দোযখে যাবে।এবং নাযাতপ্রাপ্ত দলে তারাই থাকবে, যারা নবীজি এবং তার সাহাবাগনকে অনুসরন করবে।“

#  “তোমাদের মধ্যে কিছু লোক থাকবে, যারা এমন কিছু জিনিস প্রচার করবে,যেগুলো আমার সুন্নাহ নয়”।

#  “একটা সময় আসবে যখন সমাজে অনেক খারাপ কাজ হবে।আর কখনো কেউ যদি মুসলিম উম্মাহর একতা নষ্ট করতে চায়, তাকে তরবারী দিয়ে আঘাত কর।আর তাতেও যদি সে ক্ষান্ত না হয়, তাহলে তাকে মেরে ফেল”।  মুসলিম-৩য় খন্ড- ৪৫৬৫