এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

♦♣♥-ভূমিকা-♥♣♦

بسم الله الرحمن الرحيم

সমস্ত প্রশংসা মহান রব্বুল আলামীন এর জন্য। যিনি সারা জগত ও তার মধ্যে অবস্তিত সমস্ত মাখলুকের সৃষ্টিকর্তা। যিনি আদী মানব আদম (আঃ) কে সৃষ্টি করে শিক্ষা দিয়েছেন সমস্ত বিষয় এবং তার জন্যেই তিনি ফেরেশ্তাদের দ্বারা সম্মানজনক সিজদাহ করিয়েছিলেন আদম (আঃ) কে। অর্থাৎ তিনি মানব জাতীকে শিক্ষার জন্য নিষ্পাপ ফেরেশ্তামন্ডলীর সিজদাহ দ্বারা বিশেষ সম্মাম প্রদান করেছেন। অতঃপর দরূদ ও সালাম অবতীর্ণ হউক সমস্ত আম্বিয়াগণের উপর যাদেরকে যুগে যুগে পৃথিবীর বিভিন্ন স্থানে ও বিভিন্ন জাতীর সুপথপ্রদর্শনের জন্য আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা প্রেরণ করেছিলেন। খাস করে শেষ নাবী ও রসূল মুহাম্মাদ (সাঃ) ও তার পরিবারের উপর অবতীর্ণ হউক রব্বুল আলামীন এর পক্ষ হতে অগণিত দরূদ ও সালাম।

ইসলামী শরীআত এর বুনিয়াদ হলো ক্বুরআন ও সহীহ হাদীস। দুটি বস্তু একসাথে মিলে ইসলামী বিধানের ছবি তৈরী করে। এর উদাহারণ একটি গাছের মূল ও তাল ডালপালা। গাছের মূল এর সঙ্গে জড়িত তার ডালপালা এবং সেই ডালপালার মধ্য হতে নির্গত হয় অসংখ্য পাতা; ফুল ও ফল। ঐদুটিকে এক দৃষ্টিতে দেখলেই ইসলামের সঠিক ব্যাখ্যা সম্ভব। উসুলে ফিকাহের কিতাবের মধ্যে প্রথম ক্বুরআন ও দ্বিতীয় স্তরে সুন্নাতের আলোচনা কেবল পরিপূর্ণ ইসলামী শরীআতকে প্রতিষ্ঠা করা। ক্বুরআনের কোনো নির্দেশ ও বিধানের উপর আমল সুন্নাতের নির্দেশনা ও বিস্তারিত ব্যাখ্যা ব্যতীত সম্ভব নয়। আর যে ব্যক্তি সুন্নাত হতে মুখ ফিরিয়ে কেবল ক্বুরআনের আয়াতের হুকুমকে মান্য করে চলার প্রচেষ্টা করেছে সে পদে পদে ঠোকর খেয়েছে এবং ইসলামী শরীআতের পরিপূর্ণ পথ পাওয়া হতে নিরাশ হয়েছে।
আল্লাহর বিশেষ দয়া ও অনুগ্রহ এই যে; তিনি ক্বুরআনের সুরক্ষার দায়িত্ব নিজেই নিয়ে রেখেছেন। আর ক্বুরআনের সুরক্ষা ততক্ষণ পর্যন্ত সম্ভব নয়; যতক্ষণ পর্যন্ত না তার ব্যাখ্যাসহ বিস্তারিত আমলের সুরক্ষা না করা হয়। আর মহানাবী (সাঃ) যে বিস্তারিত ব্যাখ্যা বলে দিয়ে গিয়েছেন ও করে দেখি দিয়েছেন সেটাই হলো মূল ব্যাখ্যা বা শরীআত। তার পরে কোনো আরাবী জ্ঞানধারী কোনো ব্যক্তিরই নিজস্ব রায় ও যুক্তি ক্বুরআনের প্রকৃত ব্যাখ্যা হতে পারে না। যুগের বিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সুন্নাতে রসূলের মধ্যে আসলের পাশাপাশি নকলকে প্রবেশ করানোর প্রচেষ্টা ইসলামের শত্রুগণ করে গিয়েছেন এতে কোনো সন্দেহ নায়। কিন্তু এর বিপরীত যুগে যুগে কালে কালে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালাও তার প্রকৃত বিধানকে সুরক্ষিত রাখার জন্য ইসলামের একান্ত সেবকদের পাঠিয়েছেন এই পৃথিবীর বুকেতে। তারা নিজেদের স্বর্বপ্রচেষ্টা অব্যহত করে নকলকে চিহ্নিত করে আসল হতে পৃথক করে দিয়েছেন এবং তারই মাধ্যমে আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা তার অপরিবর্তিত বিধানকে সুরক্ষা করেছেন।
আল-ক্বুরআনের বিস্তারিত ব্যাখ্যার গ্রন্থগুলোর নাম হলো হাদীস। আর মুহাদ্দীসিনগণ দ্বারা যে সব হাদীসের গ্রন্থ রচিত হয়েছে তার মধ্যে রয়েছে সহীহুল বুখারী; সহীহুল মুসলিম; সুনান আন-নাসাঈ; সানুান আবুদাঊদ; জামে আত-তিরমিযি; সুনান ইবনুমাজাহ; এই সব গ্রন্থগুলোর রয়েছে বিশেষ মর্যাদা। তার পাশাপাশি বিশেষিতভাবে  “সহীহ ইবনু খুযাইমাহ” হলো একটি প্রসিদ্ধ গ্রন্থ। যাতে সহীহ সনদসহকারে রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর বিধানগুলোকে একত্রিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সংকলিত প্রায় সব হাদীসের ব্যাখ্যা ইমাম ইবনু খুযাইমাহ খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরেছেন। আক্ষেপের বিষয় এই যে; এখনো পর্যন্ত অনেক হাদীসের কিতাবের বাংলা অনুবাদ হয়ে গেলেও এই গ্রন্থটির বাংলা অনুবাদ এখনো পর্যন্ত বের হয়নি। তাই আমি  ইমাম মুহাম্মাদ ইসহাক বিন খুযাইমাহ (রহঃ) এর এই কিতাবটির বাংলা অনুবাদে হাত দিলাম। আর এতে হিজরী ১৪০০ শতকের শ্রেষ্ঠ রিজালশাস্ত্রের পন্ডিত আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) এর করা তাহক্বীক-কে প্রাধান্যতা দিয়ে গ্রন্থের মধ্যে মওজুদ হাদীসের সহীহ; যঈফ ও জাল-কে চিহ্নিত করার প্রচেষ্টা করবো ইনশা আল্লাহ।
আর এই প্রচেষ্টায় আমি যদি সফল হয়; তাহলে এটাকে যেনো আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা আমার ও এই গ্রন্থপাঠ করে সরলপথ প্রাপ্তিকারীদের নাজাতের জারিয়া করে দেন।
আমীন।