এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?
https://www.google.co.in/maps?source=tldsi&hl=en

=== সালাত সম্পর্কে বিস্তারিত==


.................................................. .................................................. .................................................. .......................................

---ঃসালাতে হাতবাধা ও সালাতে হাত রাখা দুটি বিশয়ঃ--- 

ভূমিকাঃ সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য। যিনি জগৎসমূহের প্রতিপালক। ছলাত এবং সালাম বর্ষিত হোক তার বিশ্বস্ত রাসূল এর উপর। অতঃপর, মুতাওয়াতির হাদীছে এসেছে যে, নবী ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ছলাতে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপরে রাখতেন। (দ্রঃ নাযমুল মুতানাছির,হা/৬৮;৯৮)

লোকদেরকে আদেশ করা হ’ত যে, মুছল্লী ডান হাতকে তার বাম যিরা-এর উপর রাখবে’

(মুয়াত্বা মালেক,হা/৩৭৭;১/১৫৯;আত-তামহীদ,২১/৯৬; আল-ইস্তিযকার,হা/৩৪৭; আয-যারক্বানী,হা/৩৭৭)।

 পরিচ্ছদঃ ১০/৮৭. সলাতে ডান হাত বাম হাতের উপর রাখা।(

সহীহ বুখারী (তাওহীদ)

৭৪০. সাহল ইবনু সা‘দ (রাযি.) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে, সালাতে প্রত্যেক ডান হাত বাম হাতের উপর রাখবে।* আবূ হাযিম (রহ.) বলেন, সাহল (রহ.) এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন বলেই জানি। ইসমাঈল (রহ.) বলেন, এ হাদীসটি নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতেই বর্ণনা করা হতো। তবে তিনি এমন বলেননি যে, সাহল (রহ.) নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হতে বর্ণনা করতেন। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৯৬, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭০৪)
৭৫৫। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) সূত্রে বর্ণিত। একদা তিনি ডান হাতের উপর বাম হাত রেখে সলাত আদায় করলে নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তা দেখতে পেয়ে তাঁর বাম হাতের উপর ডান হাতকে রাখেন। [1]
হাসান।
আবদুল্লাহ ইবনে মাসউদ রাদিয়াল্লাহু আনহু হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, যখন ইবনে মাসউদ সালাত আদায় করলেন তখন তিনি ডান দিকে বাম হাত রাখলেন। রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম তাঁর ডান হাতটি বাম হাতে রেখে দিলেন।
[1] নাসায়ী (৮৮৭), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত ক্বায়িম, অনুঃ সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা, হাঃ ৮১১), ইবনু হাজার এটিকে হাসান বলেছেন ‘ফাতহুল বারী’ গ্রন্থে (২/২৬২)। মাসআলাহঃ সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা। সালাতে বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা সম্পর্কে ১৮ জন সাহাবী ও ২জন তাবেঈ থেকে মোট ২০টি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। ইবনু ‘আব্দুল বার (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে এর বিপরীত কিছু বর্ণিত হয়নি এবং এটাই জমহুর সাহাবা ও তাবেঈনের অনুসৃত পদ্ধতি। (মিরআতুল মাফাতীহ ১/৫৫৭-৫৫৮, তুহফাতুল আহওয়াযি২/৮৯, সালাতুল রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ৪৮পৃঃ)। শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেনঃ ‘‘একটি মাযহাব মতে, মুসল্লী সালাতে দাঁড়ানো অবস্থায় হাত না বেঁধে ছেড়ে রাখবে।’’ কিন্তু কেন? মাযহাবে এভাবে আছে তা-ই। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সালাতের সময় তাঁর ডান হাত দ্বারা বাম হাত অাঁকড়ে ধরতেন না,এ বিষয়ের পক্ষে হাদীসের প্রত্যেক আলিম হাদীস আনয়নের চেষ্টা করেছেন। যদিও অন্তত একটি হাদীস হয় চাই তা যঈফ হোক কিংবা মাওযু। কিন্তু এর কোনই অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। তাহলে এরূপ ‘আমালকে ইসলাম বলা যায় কি? তা সত্ত্বেও মুসলমানদের একটি দল এর উপর ‘আমাল করে চলেছে অথচ প্রত্যেক হাদীস গ্রন্থে হাদীসসমূহে দেখা যাচ্ছে রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম হাত বাঁধতেন! এখানে তাক্বলীদে আর ইমামগণের কথার বিপরীতে গোড়ামী প্রদর্শন বৈ কিছু নেই। (দেখুন,আত-তাসফিয়্যাহ ওয়াত তারবিয়্যাহ)। উল্লেখ্য একদা খলীফা মানসুর ইমাম মালিককে মারধর করে তাঁর হাত দুটো অবশ করে দেয়ায় শেষ জীবনে তিনি সালাতে হাত বাঁধতে পারতেন না বিধায় হাত ছেড়ে সালাত আদায় করতেন। সেজন্য মালিকী মাযহাবের কিছু লোক মুয়াত্তা মালিকে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর হাদীস অনুযায়ী বুকে হাত না বেঁধে ইমাম মালিকের অক্ষম অবস্থার অন্ধ অনুসরণে হাত ছেড়ে সালাত আদায় করেন। এটা তাদের মনগড়া ফাতাওয়াহ ও ভিত্তিহীন আমাল। কেননা হাত ছেড়ে সালাত আদায়ের কোনো সহীহ হাদীসই পাওয়া যায় না। দু’টি মাওকূফ বর্ণনায় রয়েছেঃ হাসান, মুগীরাহ ও যুবায়র না কি হাত ছেড়ে সালাত আদায় করতেন- (মুসান্নাফ ইবনু আবূ শায়বাহ ১/৩৯১)। কিন্তু বর্ণনা দু’টো অত্যন্ত দুর্বল এবং সহীহ মারফূ হাদীসের বিপরীত হওয়ায় পরিত্যাজ্য ও দলীলের অযোগ্য। জ্ঞাতব্য যে,রাফিযীরা হাত ছেড়ে সালাত আদায় করে- (ফাতহুল ক্বাদীর ১/১১৭)। রাফিযীরা হাত ছেড়ে সালাত আদায় করে- (ফাতহুল ক্বাদীর ১/১১৭)। রাফিযীরা হাত ছেড়ে সালাত আদায় করে- (ফাতহুল ক্বাদীর ১/১১৭)। 
হাদিসের মানঃ হাসান (Hasan) 

অধ্যায় ৯০ : ডান হাতের তালুর ভিতরের অংশকে বাম হাতের তালুর পেছনের পাঞ্জার উপর রাখার বর্ণনা।

আমার পিতা আমাকে বললেন যে ওয়াইল ইবনে হাজর তাকে বলেছিলেন: আমি বললাম, "আল্লাহর রসূলের দিকে তাকান" (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) কিভাবে প্রার্থনা করবেন। তিনি বললেনঃ আমি তাকে দেখলাম, তিনি কান পর্যন্ত তার হাত উত্থাপিত, তারপর তার বাম প্যাড এবং কব্জি পিছনে তার ডান হাত রাখা খামখেয়াল "

তার সঠিক নীতিগুলি

৪৮০ : ওয়াইল বিন হুজুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; “আমি (মনে মনে) বললাম; আমি নিশ্চয় রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর দিকে দেখবো যে; তিনি কিভাবে স্বলাত পড়েন। (তিনি) বলেন; আমি তার দিকে দেখলাম- তিনি (স্বলাতের জন্য) দাঁড়িয়ে তাকবীর বললেন ও তার দুই হাতকে উত্তোলন করলেন।  এমনকি তা তার দুই কান বরাবর হয়ে গেলো। তারপর ডান হাত তার বাম হাতের উপর অর্থাৎ কব্জিসহ এক হাতের পাঞ্জা অপর হাতের পাঞ্জার উপর রাখলেন”।

★সনদ সহীহ। নাসাঈ হাদীস ৮৮৯; আবুদাঊদ হাঃ ৭২৬; দারেমী হাঃ ১৩৫৭; মুসনাদে আহমাদ ৪/৩১৮;

সালাতে হাত রাখা

সাইয়েদুনা  হুলব আত-ত্বাঈ রাযিআল্লাহ তা‘আলা ‘আনহু বলেন, ‘আমি দেখেছি যে, মুহাম্মদ  ছল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম (ছলাতে) একে (হাতকে) স্বীয় সীনার উপরে  রাখতেন’  (মুসনাদে আহমাদ,৫/২২৬; এর সনদ হাসান)। 

ইমাম  বায়হাক্বী  লিখেছেন, ‘ছলাতে সীনার উপর হাত রাখা সুন্নাহর অন্তর্ভুক্ত-এর অনুচ্ছেদ’ (আস-সুনানুল কুবরা, বায়হাক্বী,২/৩০)।

সৌদী আরবের প্রসিদ্ধ শায়খ আব্দুল্লাহ বিন আব্দুর রহমান আল-জিবরীনের  ভূমিকা  এবং সম্পাদনায়  প্রকাশিত  গ্রন্থে লেখা হয়েছে যে, ‘সঠিক হ’ল, ডান হাত বাম হাতের উপরে বুকের উপর রাখা সুন্নাত’ (আল-ক্বওলুল  মাতীন ফী মা‘রিফাতি মা ইয়াহুম্মুল মুছল্লীন,পৃ:৪৯)।

ইমাম ইসহাক্ব বিন রাহাওয়াই  স্বীয়  দু’টি  হাতকে তার স্তনের  উপর কিংবা  স্তনের নীচে (সীনার  উপর) রাখতেন (মাসায়েলুল  ইমাম আহমাদ ওয়া ইসহাক্ব, পৃ:২২২; ছিফাতু  ছালাতিন নাবী (ছাঃ),পৃ:৬১)।

পরিচ্ছদঃ ১২০. সলাতরত অবস্থায় বাম হাতের উপর ডান হাত রাখা

৭৫৯। তাউস (রহঃ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম সলাত আদায়কালে স্বীয় ডান হাত বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা নিজের বুকের উপর বাধঁতেন।[1]সুনান আবূ দাউদ (তাহকিককৃত   সহীহ।

[1] আলবানী একে ইরওয়াউল গালীল (২/৭১) বর্ণনা করে বলেন, এর সনদ সহীহ। অতঃপর বলেন, এটি যদিও মুরসাল বর্ণনা কিন্তু এটির সনদ সহীহ। তাছাড়া ভিন্ন সনদসমূহ দ্বারা মাওসূলভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে।

479 - আবু মুসা নার, নার Mu'ammil, নার সুফিয়ান, আসিম ইবনে ক্লিপ, তার পিতা, ওয়ায়েল ইবনে হাজর বলেন: «রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে সঙ্গে §salit, সা, এবং তার বুকের উপর বাঁ হাত গায়ে তাঁর ডান হাত করা»

তার সঠিক নীতিগুলি

৪৭৯ : ওয়াইল বিন হুজুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; “আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সাথে স্বলাত পড়েছি। (আমি দেখলাম) তিনি তার ডান হাত বাম হাতের উপর রেখে বুকের উপর বাঁধলেন”।

★সনদ সহীহ। আহমাদ ৪/৩১৯; বায়হাকী ২/৩০; হাঃ ২৩৩৬;

কেউ কেউ বলেন যে; শাঈখ আল্লামা নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) নাকি হাদীসটিকে যঈফ বলেছেন। অথচ সেটা সঠিক নয়। আল্লামা শাঈখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর তাখরীজ নীচে দেওয়া হলো

আলবানী বলেন: isnaad দুর্বল কারণ ইসমাঈল ছেলে খারাপ আলাপ প্রত্যাশী সত্য সংরক্ষণ প্রত্যায়ন তাঁকে কিন্তু অর্থে অন্য কোন উপায়ে থেকে এসেছিলেন বুকে কথোপকথন অবস্থা

আলবানী (রহঃ) বলেন; এর সনদ যঈফ। কারণ  ﻣﺆﻣﻼ যে  আসলে “ইবনু ইসমাঈল” সে আছে। আর তার স্বৃতিশক্তি দূর্বল ছিল। কিন্তু হাদীস সহীহ। কেননা অন্যভাবে এর অর্থ বর্ণিত আছে। আর বুকে হাত বাঁধার কয়েকটি হাদীস এর সাক্ষ্য প্রদান করে।

এছাড়াও সহীহ বুখারীতে হাঃ ৭৪০ এ পরিষ্কারভাবে উল্লেখ রয়েছে যে; সাহল বিন সা’দ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; “লোকদের নির্দেশ দেয়া হত যে; স্বলাতে প্রত্যেকে ডান হাত বাম হাতের বাহুর উপর রাখবে”।

এই হাদীসের ব্যাখ্যায় শাঈখ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) বলেন : “অনুরূপ ওয়াইল বিন হুজুর (রাযিঃ) হতে বর্ণিত রয়েছে যে; রসূলুল্লাহ (সাঃ) ডান হাত বাম হাতের পাতা বা হাত ও বাহুর উপর রাখতেন। যা সহীহ সনদে আবুদাঊদ (হাঃ ৭২৬) ও নাসাঈ (হাঃ ১১০২) বর্ণনা করেছেন। (আর এই গ্রন্থের ৪৭৭; ৪৭৮ ও আরো স্পষ্ট ৪৮০ নং হাদীসের মধ্যে রয়েছে)। এই পদ্ধতিই আমাদের জন্য অপরিহার্য করে যে; হাত রাখতে হবে বুকের উপরে। যদি আপনি এটা বুঝেন এবং এর প্রতি আমল করেন। অতএব আপনি চাইলে যাচাই করতে পারেন। আর এ সম্পর্কে জানা উচিত তা হল; বুকের উপর ব্যতীত অনত্র হাত বাঁধার বিষয়টি রসূল (সাঃ) হতে সহীহ হিসাবে সাব্যস্ত হয়নি (মিশকাত হাঃ ৭৯৮ এর নীচে শাঈখ নাসিরুদ্দিন আলবানীর টীকা দ্রষ্টব্য)।

আর আবুদাঊদ হাঃ ৭৫৭ ও ৭৫৮ তে নাভীর নীচে ও নাভীর উপরে হাত বাঁধার যে দুটি হাদীস বর্ণিত হয়েছে। সে হাদীস দুটি সম্পর্কে স্বয়ং ইমাম আবুদাঊদ (রহঃ) বলেন : “হাদীসটি শক্তিশালী নয় (অর্থাৎ যঈফ)। আমি ইমাম আহমাদ ইবনু হাম্বালকে উক্ত হাদীসের সনদে থাকা “আব্দুর রহমান ইবনু ইসহাক আল-কুফী”কে দূর্বল রাবী বলতে শুনেছি (সুনান আবুদাঊদ হাঃ ৭৫৭ ও ৭৫৮ এর নীচে ইমাম আবুদাঊদের বক্তব্য দ্রষ্টব্য)।

আর তারপরেই ৭৫৯ নং এ তিনি বুকে হাত বাঁধার হাদীস নিয়ে এসেছে। “তাউস (রহঃ) বলেন; নাবী (সাঃ) স্বলাত আদায়কালে তার ডান হাতকে বাম হাতের উপর স্থাপন করে তা বুকের উপর বাঁধতেন”।

শাঈখ নাসিরুদ্দিন আলবানী (রহঃ) ইরওয়াউল-গালীলে এটা ২/৭১ এ উল্লেখ করে বলেন; এর সনদ সহীহ। অতঃপর বলেন; এটি যদিও মুরসাল বর্ণনা। কিন্তু এটির সনদ সহীহ। তাছাড়া ভিন্ন সনদসমূহ দ্বারা মাওসূলভাবে এটি বর্ণিত হয়েছে। সুতরাং স্বলাতের মধ্যে হাত বুকেই বাঁধতে হবে; এটা সহীহভাবে প্রমাণিত।।। 

                    সালাতে হাত বাঁধা 

সালাত ত্যাগকারীর পরিনাম কি ? জানতে দেখুন সে কি মুসলিম থাকে না থাকেনা ? 

সালাত ইচ্ছাকৃতভাবে ত্যাগকারী এবং অস্বীকারকারী-উভয়ই কাফির হয়ে যায়।

মুলঃ ইমাম ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ।
অনুবাদঃ শাইখ মতিউর রহমান মাদানী।
 
যারা সালাত (নামায) কে ইসলামের স্তম্ভ হিসেবে স্বীকার করে কিন্তু তা আদায়ের ক্ষেত্রে উপযুক্ত কারণ ছাড়াই অনিয়ম করে, তারা মুসলিম থাকে না।
সৌদি আরবের বিখ্যাত ইমাম আল্লামা  ইবনে উসাইমীন রাহিমাহুল্লাহ এর ‘হুকুম তারিকুস সালাত’ অর্থাৎ ‘নামায ত্যাগকারীর বিধান’ বই থেকে  এই বিষয়ে আলোচনা সংক্ষেপে এখানে তুলে ধরা হল।
খুব ভালো করে বোঝার চেষ্টা করুন।


কুর’আন হতেঃ
 
১) সূরা আত-তাওবাহ-১১—“তবে এখন যদি তারা তাওবাহ করে, সালাত আদায় করে, যাকাত প্রদান করে, তাহলে তারা তোমাদের দ্বীনি ভাই।”
 
এই আয়াতে দ্বীনি ভাই হওয়ার জন্য আল্লাহ তা’আলা কিছু শর্তারোপ করেছেন--
১ম শর্তঃ যেন তারা শিরক হতে তাওবাহ করে।
২য় শর্তঃ যেন তারা সালাত প্রতিষ্ঠা করে।
৩য় শর্তঃ আর যেন তারা যাকাত প্রদান করে।
 
অতএব, তারা যদি শিরক হতে তাওবাহ করে কিন্তু সালাত কায়েম না করে ও যাকাত প্রদান না করে তবে তারা আমাদের দ্বীনি ভাই নয়।
 আর দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব তখনই পুরোপুরিভাবে লোপ পায় যখন মানুষ ইসলাম থেকে সম্পূর্ণরূপে বহিস্কৃত হয়। ফাসেকী বা ছোট কুফরীর কারণে দ্বীনি ভ্রাতৃত্ব নষ্ট হয়ে যায় না।
 
২) সূরা মারইয়ামঃ আয়াত ৫৯–“তাদের পরে সেই অপদার্থগণ তাদের স্থলাভিষিক্ত হল যারা সালাতকে বিনষ্ট করলো আর মনের লালসা-বাসনার অনুসরণ করলো। সুতরাং অচিরেই তারা তাদের অপকর্মের শাস্তি প্রত্যক্ষ করবে।”
আয়াতঃ৬০—“কিন্তু তারা নয় যারা তাওবাহ করেছে, ঈমান এনেছে ও সৎকর্ম করেছে; তারা তো জান্নাতে প্রবেশ করবে এবং তাদের উপর কোন প্রকার যুলুম করা হবে না।”
 
এই আয়াত সালাত ত্যাগকারীর কুফরী স্পষ্টভাবে প্রমাণ করে। আল্লাহ তা’আলা সালাত নষ্টকারী এবং লালসা-বাসনার অনুসরণ কারীদের সম্বন্ধে ৬০ নং আয়াতে বলেন যে তাদের মধ্যে তাওবাহকারী এবং ঈমান আনয়নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবে।
এখান থেকে একথা স্পষ্ট বুঝা যায় যে, তারা সালাত বিনষ্ট করার সময়কালে মু’মিন ছিল না। (যদি মু’মিন থাকতো তাহলে আল্লাহ পাক পুনরায় ঈমান আনার কথা বলতেন না।)

 
হাদীস হতে প্রমাণঃ
 
১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন—“নিশ্চয়ই মানুষ ও কুফরীর (শিরক) মাঝে পৃথককারী বিষয় হচ্ছে সালাত ত্যাগ করা।” (সহীহ মুসলিম)
 
২) আমাদের ও তাদের (কাফিরদের) মাঝে চুক্তি হচ্ছে সালাতের, অতএব, যে ব্যক্তি সালাত ত্যাগ করল সে কুফরী করল।”
(মুসনাদে আহমাদ, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী, ইবনে মাজাহ)
 
আর এখানে কুফরীর অর্থ হলো, এমন কুফরী যা মানুষকে ইসলাম থেকে বের করে দেয়। কারণ, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সালাতকে মু’মিন ও কাফিরদের মাঝে পার্থক্যকারী বলে ঘোষণা করেছেন।
 
৩) সহীহ মুসলিমে আরো কিছু হাদীস আছে যেখানে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এমন কিছু মুসলিম শাসকের ভবিষ্যদ্বাণী করেন যাদের কিছু কার্যকলাপ ভাল হবে আর কিছু হবে মন্দ। সাহাবারা রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহুম এই সকল শাসকের বিরুদ্ধে লড়াই করবেন কি না জানতে চাইলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেন-“না, যতদিন তারা সালাত প্রতিষ্ঠিত করবে।”
 
অতএব, সালাত ত্যাগকারী মুসলিম নামধারী শাসকের উপর থেকে আনুগত্য উঠিয়ে নিয়ে তাদের সাথে লড়াই করা যাবে এই হাদীসের আলোকে। সুতরাং, এটা সুস্পষ্ট যে, সালাত ত্যাগকারী অবশ্যই কাফির কেননা কোন মুসলিমের বিরুদ্ধে লড়াই করা জায়েয নয়।
 
বিশিষ্ট সাহাবী আবদুল্লাহ ইবনে মাসঊদ রাদিয়াল্লাহু তা’আলা আনহু বলেন—“সালাত ছেড়ে দেয়া তো কুফরী”
সূত্রঃ তাফসীর ইবনে কাসীর; ১৪ নং খন্ড; ১৭৩ পৃষ্ঠা।

 

স্বর্ণযুগের ইমামদের বক্তব্যঃ
 
১) ইমাম ইসহাক বিন রাহবিয়া রাহিমাহুল্লাহ বলেনঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বিশুদ্ধ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে যে, সালাত ত্যাগকারী কাফির। আর এটাই হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের যুগ থেকে আজ পর্যন্ত ইমামগণের মত যে, ইচ্ছাকৃতভাবে সালাত ত্যাগকারী কোন কারণ ব্যতীত সালাতের ওয়াক্ত অতিক্রম করে দিলে সে কাফির।
 
২) ইমাম ইবনে হাযম রাহিমাহুল্লাহ উল্লেখ করেন যে, (সালাত ত্যাগকারী কাফির) একথা উমর ফারুক, আবদুর রহমান, মু’য়ায ইবনে জাবাল, আবু হুরায়রা রাদিয়াল্লাহু আনহুম প্রমুখ সাহাবাগণ হতে বর্ণিত হয়েছে। (আল্লামা মুনযেরীও রাহিমাহুল্লাহ তার তারগীব ও তারহীবে এটি উল্লেখ করেছেন।)
 
৩) ইমাম আহমাদ ইবনে হাম্বল রাহিমাহুল্লাহ বলেন- সালাত ত্যাগকারী কাফির হয়ে যায়, আর এমন কুফরীতে নিমজ্জিত হয়, যা দ্বীন ইসলামের সীমানা হতে বহিস্কার করে দেয়। তাকে হত্যা করা হবে যদি সে তাওবাহ করতঃ সালাত না প্রতিষ্ঠা করে।
 
এছাড়াও ইমাম ইবনুল মুবারক, নাখয়ী, হাতাম বিন উতায়বা, আইয়ূব, যোহায়রা বিন হারব প্রমুখ ইমামগণ সালাত ত্যাগকারীকে কাফির বলেছেন।
 
কিছু ইমাম বলেছেন, সালাত ত্যাগকারী মুরতাদের জানাযা পড়া যাবে না, তাকে মুসলিমদের কবরস্থানে দাফন করা যাবে না, তাকে সালাম দেয়া যাবে না এবং তার সালামের উত্তরও দেয়া যাবে না, তাকে সম্পত্তির ভাগ দেয়া যাবে না।

সালাত ত্যাগকারী 

সলাত ত্যাগকারীর বিধান

১/১০৭৮। জাবির ইবনু আবদুল্লাহ (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ বান্দা ও কুফরের মধ্যে পার্থক্য হলো সালাত (নামায/নামাজ) বর্জন।

তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: মুসলিম ৮২, তিরমিযী ২৬১৮, ২৬২০; আবূ দাঊদ ৪৬৭৮, আহমাদ ১৪৫৬১, ১৪৭৬২; দারিমী ১২৩৬। তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ।

বুরাইদাহ (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ আমাদের ও তাদের (কাফেরদের) মধ্যে যে অংগীকার রয়েছে তা হলো সালাত (নামায/নামাজ)। অতএব যে ব্যক্তি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করলো, সে কুফরী করলো।

তাখরীজ কুতুবুত সিত্তাহ: তিরমিযী ২৬২১ তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: মিশকাত ৫৭৪।

আনাস ইবনু মালিক (রাঃ) থেকে বর্ণিত। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেনঃ মুমিন বান্দা ও শিরক-এর মধ্যে পার্থক্য হচ্ছে সালাত (নামায/নামাজ) বর্জন করা। অতএব যে ব্যক্তি সালাত (নামায/নামাজ) ত্যাগ করলো, সে অবশ্যই শিরক করলো।

তাহক্বীক্ব আলবানী: সহীহ। তাখরীজ আলবানী: সহীহ তারগীব ৫৬৫, ১৬৬৭।


>> এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জ্ঞান অর্জন করতে শুনুুন শেইখ মতিউর রহমান মাদানীর লেকচার- ‘সালাত পরিত্যাগকারীর বিধান ও কারন’।



কাতার সোজা করা

কাতার সোজা করা


এ ব্যাপারে আমরা ভয়ংকর উদাশীন, যার ফলে আমাদের নামায সঠিকভাবে আদায় হয় না, এমনকি বাতিলও হতে পারে। কাতার সোজা করা ওয়াজিব।

>>রাসূল(সা:) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কাতার সোজা করে দাঁড়াও, কেননা কাতার সোজা করা নামাযের পূর্ণতার অংশ।(মুসলিম-৪৩৩)।
আনাস (রা:) থেকে বর্ণিত রাসূল (সা:) বলেছেন, ‘তোমরা তোমাদের কাতারে পরস্পর মিলে দাড়াও, একে অপরের নিকটবর্তী হও এবং ঘাড়গুলোকে সমানভাবে সোজা রেখে দাঁড়াও। সেই মহান সত্তার কসম, যার হাতে আমার প্রাণ, আমি দেখতে পাই কাতারে কোথাও ফাঁকা থাকলে সেখানে শয়তান ঢুকে পড়ে কালো ভেড়ার বাচ্চার আকৃতিতে।(আবূ দাউদ: ৬৬৬)।
জামায়াতে দাঁড়ানোর সময় সাহাবাগণ একে অপরের পায়ের সাথে পা ও কাধেঁর সাথে কাধঁ মিলিয়ে কাতার সোজা করে মিশে মিশে দাঁড়াতেন।
​>> আনাস(রা:) বলেন, আমাদের কেউ কেউ তাঁর পাশের মুসল্লির কাধেঁর সাথে কাধঁ এবং পায়ের সাথে পা মিশিয়ে দাড়াত।(বুখারী: ৭২৫)।
কাতার সোজা করা
৬৬৩। সিমাক ইবনু হারব সূত্রে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নু’মান ইবনু বাশীর (রাঃ)-কে বলতে শুনেছি, নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আমাদেরকে কাতারবদ্ধ করতেন এমন সোজা করে যেরূপ তীরের ফলা সোজা করা হয়। এমনকি তিনি যখন বুঝতে পারলেন, আমরা এ সম্পর্কে তাঁর তা‘লীম আত্মস্থ করেছি ও বুঝেছি, তখন একদা তিনি (আমাদের দিকে) ঘুরে দেখতে পেলেন, একজনের বুক সামনে দিকে এগিয়ে আছে। তিনি বললেনঃ তোমরা অবশ্যই তোমাদের কাতারসমূহ সোজা করবে, অন্যথায় আল্লাহ তোমাদের চেহারায় বৈপরিত্য সৃষ্টি করে দিবেন।[1]
সহীহ : মুসলিম।
 সলাতের কাতার সোজা করা
আল্লাহ তা‘আলা বলেন, إِنَّ اللّهَ يُحِبُّ الَّذِيْنَ يُقَاتِلُوْنَ فِي سَبِيْلِهٖ صَفًّا كَأَنَّهُمْ بُنْيَانٌ مَرْصُوْصٌ
অর্থাৎ ‘‘নিশ্চয়ই আল্লাহ ঐ সমস্ত লোকদের ভালোবাসেন যারা তার পথে কাতারবন্দী হয়ে যুদ্ধ করে’’- (সূরাহ্ আস্ সফ ৬১: ৪)। আল্লাহ অন্যত্র বলেন, وَإِنَّا لَنَحْنُ الصَّافُّوْنَ অর্থাৎ ‘‘অবশ্যই আমরা কাতারবন্দী’’- (সূরাহ্ আস্ সা-ফ্‌ফা-ত ৩৭: ১৬৫)। আর তিনি আমাদেরকে ঐভাবে কাতারবন্দী হওয়ার কথা বলেছেন যেভাবে মালায়িকাহ্ তাদের পালনকর্তার সামনে কাতারবন্দী হয়ে দাঁড়ায়। আর কাতার সোজা করার অর্থ হচ্ছে একই পদ্ধতিতে সোজা লাইন, কাতারের মাঝখানের ফাঁকা বন্ধ করে কাঁধের সঙ্গে কাঁধ, পায়ের সঙ্গে পা মিলিয়ে কাতার সোজা করে দাঁড়ানো।
ইবনু ‘আবদুল বার ইসতিযকার গ্রন্থে বলেন, কাতার সোজা করার ব্যাপারে রসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর নির্দেশ এবং পরবর্তীতে খুলাফায়ে রাশিদীনদের আ‘মালের ব্যাপারে বিভিন্ন সানাদে অনেক আসার রয়েছে এবং এটা এমন বিষয় যাতে বিদ্বানদের মাঝে কোন মতানৈক্য নেই। তবে বিদ্বানগণ এর হুকুম ওয়াজিব না মানদুব এ ব্যাপারে মতানৈক্য করেছেন।
‘আয়নী বলেন, তা ইমাম আবূ হানীফাহ্, শাফি‘ঈ ও মালিক-এর নিকট সলাতের সুন্নাত। ইবনু হাযম দাবি করেন, নিশ্চয় তা ফরয। কারো মতে মানদূব। ইমাম বুখারী ওয়াজিব এর দিকে গিয়েছেন। যেমন তিনি তার সহীহ গ্রন্থে (যারা কাতার সোজা করবে না তাদের গুনাহ) এভাবে একটি অধ্যায় বেঁধেছেন। ‘আয়নী বলেন, ইমাম বুখারী অধ্যায় বাঁধার বাহ্যিক দিক ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করছে যে, তিনি কাতার সোজা করা ওয়াজিব মনে করতেন। তবে সঠিক কথা এ ব্যাপারে এ ধরনের বর্ণনা কঠোর ধমক স্বরূপ। অন্যত্র বলেন, নির্দেশসূচক শব্দের দাবি অনুপাতে কাতার সোজা করা ওয়াজিব কথাটি ঠিক। কিন্তু তা সলাতের ওয়াজিবাতের অন্তর্ভুক্ত নয় যে, যখন কেউ তা ছেড়ে দিবে তার সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) বাতিল হয়ে যাবে অথবা সলাতে ঘাটতি হয়ে যাবে।
তবে এ অধ্যায়ে শেষ কথা হচ্ছে যখন ব্যক্তি কাতার সোজা করা বর্জন করবে তখন সে গুনাহগার হবে। আমি বলব, আমার নিকট যা হক বলে মনে হচেছ তা হচ্ছে কাতার সোজা করা ও ঠিকঠাক করা জামা‘আতে সলাতের ওয়াজিবাতের অন্তর্ভুক্ত। যখন সলাত আদায়কারী তা ছেড়ে দিবে,সলাতের ঘাটতি করে দিবে এবং কাতার সোজা করার ব্যাপারে নির্দেশসূচক শব্দ প্রয়োগ হওয়ার কারণে এবং তার মৌলিক অর্থ ওয়াজিব অর্থে হওয়ার কারণে কাতার সোজা করার বিষয়টি বর্জনকারী গুনাহগার হয়ে যাবে। পাপী হওয়ার আরও কারণ হল যেহেতু এ ব্যাপারে অন্য হাদীসে এসেছে কাতার সোজা করা সলাত প্রতিষ্ঠার অন্তর্ভুক্ত। অপর কাতার সোজা না করার কারণে কঠোর ধমকের কথা এসেছে। অন্য বর্ণনাতে এসেছে কাতার সোজা করা সলাত এর পূর্ণতার অন্তর্ভুক্ত। অন্য বর্ণনাতে কাতার সোজা করা সলাতের সৌন্দর্যতার অন্তর্ভুক্ত বলা হয়েছে। সৌন্দর্য বলতে সলাতের পূর্ণতা উদ্দেশ্য। কাতার সোজা না করলে সলাত (সালাত/নামায/নামাজ) আদায়কারী পাপী হওয়ার আরও কারণ হল নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তার চার খুলাফায়ে রাশিদীন এ ব্যাপারে অনেক গুরুত্ব প্রদান করেছেন।
আনাস (রাঃ) কাতার সোজা না করার কারণে সলাত আদায়কারীদের বলতেন আমি তোমাদের কোন কিছু অস্বীকার করি না তবে তোমাদের কাতার সোজা না করাকে অস্বীকার করি। হাদীসটি বুখারীতে এসেছে। অত্র হাদীসে কাতার সোজা করার কথা আবশ্যক সাব্যস্ত হয়েছে যদি তা না হত তাহলে কাতার সোজা না করার বিষয়টিকে আনাস (রাঃ) অস্বীকার করতেন না। অন্যত্র এসেছে ‘উমার (রাঃ) ও বিলাল (রাঃ) কাতার সোজা করার জন্য মুসল্লীদের পায়ে মারতেন। মুসল্লীদের পায়ে আঘাত করা ঐ কথার উপর প্রমাণ বহন করে যে মুসল্লীরা সলাতের ওয়াজিব ছেড়ে দেয়ার কারণে তারা এমন করতেন।
এবার প্রশ্ন হচ্ছে যে মুসল্লী কাতার সোজা করাকে বর্জন করবে তার সলাত কি বাতিল হয়ে যাবে না হবে না? বাহ্যিক দৃষ্টিকোণ থেকে বুঝা যায়, সলাত বিশুদ্ধ হবে এবং এ ব্যাপারে স্পষ্ট ভাষ্য বর্ণিত না হওয়ার কারণে সলাত বাতিল হবে না।
হাফিয ইবনু হাজার আসক্বালানী ফাতহুল বারীতে বলেন, কাতার সোজা করা ওয়াজিব হওয়া সত্ত্বেও যে মুসল্লী কাতার সোজা করার বিপরীত করবে এবং ভালভাবে কাতার সোজা করবে না (তার সলাত বাতিল হবে না)। এ কথাকে সমর্থন করছে আনাস (রাঃ)-এর ঐ বিষয় যে, তিনি মুসল্লীদের কাতার সোজা না করাকে অসমিচীন মনে করা সত্ত্বেও তাদেরকে সলাত দোহরাতে বলেননি। ইবনু হাযম একটু বাড়াবাড়ি করছেন এবং সলাত বাতিল হওয়ার ব্যাপারেই দৃঢ়তা ব্যক্ত করেছেন।
১০৮৫-[১] নু‘মান ইবনু বাশীর (রাঃ) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ধনুকে তীর সোজা করার ন্যায় আমাদের কাতার সোজা করতেন। এমনকি আমরা তাঁর হতে কাতার সোজা করার গুরুত্ব উপলব্ধি করেছি। একদিন রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম (ঘর থেকে) বের হয়ে এসে সলাতের জন্যে দাঁড়ালেন। তাকবীরে তাহরীমা বাঁধতে যাবেন ঠিক এ মুহূর্তে এক ব্যক্তির বুক সলাতের কাতার থেকে একটু বেরিয়ে আছে দেখতে পেয়ে বলেন, হে আল্লাহর বান্দা! তোমাদের কাতার সোজা করো। নতুবা আল্লাহ তোমাদের চেহারায় বিভেদ সৃষ্টি করে দিবেন। (মুসলিম)[1]
[1] সহীহ : মুসলিম ৪৩৬।
আল-নুমান বি। বশির বললঃ নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) আমাদেরকে নামাযের সারি দিয়ে সোজা করে তীর দিয়ে সোজা করে দিয়েছিলেন, যতক্ষণ না তিনি মনে করতেন যে আমরা তাঁর কাছ থেকে তা শিখেছি এবং বুঝতে পেরেছি। একদিন তিনি আমাদের দিকে এবং কাঁধের দিকে তাকিয়ে বললেন, অনিয়মিত না। এবং তিনি বলবেন: যারা প্রথম সারির কাছাকাছি আছে তাদের আল্লাহ ও তাঁর ফেরেশতারা আশীর্বাদ করেন।
[1] মুসলিম (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ কাতার সমান করা), তিরমিযী (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ কাতার সোজা করা, হাঃ ২২৭), নাসায়ী (অধ্যায়ঃ ইমামাত, অনুঃ ইমাম কিরূপে কাতার সোজা করবেন, হাঃ ৮০৯), ইবনু মাজাহ (অধ্যায়ঃ সালাত, অনুঃ কাতার সোজা করা, হাঃ ৯৯৪), আহমাদ (৪/২৭৫) প্রত্যেকেই সিমাক সূত্রে।


নামাযে কাতার সোজা না করার ভয়াবহতা 

কাতার সোজা না করার গুনাহ।*

৭২৪. আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) হতে বর্ণিত। একবার তিনি (আনাস) মদিনা্য় আসলেন। তাঁকে জিজ্ঞেস করা হলো, আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম -এর যুগের তুলনায় আপনি আমাদের সময়ের অপছন্দনীয় কী দেখতে পাচ্ছেন? তিনি বললেন, অন্য কোন কাজ তেমন অপছন্দনীয় মনে হচ্ছে না। তবে তোমরা (সালাতে) কাতার ঠিকমত সোজা কর না। ‘উক্বাহ ইবনু ‘উবাইদ (রহ.) বুশাইর ইবনু ইয়াসার (রহ.) হতে বর্ণনা করেন যে, আনাস ইবনু মালিক (রাযি.) আমাদের নিকট মদিনা্য় এলেন......বাকী অংশ অনুরূপ। (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৬৮০, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৬৮৮)


* জামা‘আতে দাঁড়াবার সময় পায়ের গিটের সাথে পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর পায়ের গিট মিলিয়ে এবং কাঁধের সাথে কাঁধ মিলিয়ে পার্শ্ববর্তী মুসল্লীর বাহু মিলিয়ে কাতারবন্দী হয়ে সলাত আদায় করতে হবে। দুই মুসল্লীর মাঝখানে ফাঁক ফাঁক করে দাঁড়ানোর কথা কোন হাদীসে নাই।

আবূ দাউদে আছে ঃ

৫৭১. حَدَّثَنَا مُسْلِمُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ حَدَّثَنَا أَبَانُ عَنْ قَتَادَةَ عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ عَنْ رَسُولِ اللهِ صَلَّى اللَّهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ قَالَ رُصُّوا صُفُوفَكُمْ وَقَارِبُوا بَيْنَهَا وَحَاذُوا بِالْأَعْنَاقِ فَوَالَّذِي نَفْسِي بِيَدِهِ إِنِّي لَأَرَى الشَّيْطَانَ يَدْخُلُ مِنْ خَلَلِ الصَّفِّ كَأَنَّهَا الْحَذَفُ

আনাস (রাঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন, তোমরা তোমাদের কাতারসমূহের মধ্যে পরস্পর মিলে দাঁড়াও এবং কাতারসমূহের মধ্যে তোমরা পরস্পর নিকটবর্তী হও। এবং তোমাদের ঘাড়সমূহকে সমপর্যায়ে সোজা রাখ। সেই মহান সত্তার ক্বসম যাঁর হাতে আমার প্রাণ! আমি শয়তানকে দেখি সে কাতারের ফাঁকসমূহে প্রবেশ করে যেন কালো কালো ভেড়ার বাচ্চা। (দেখুন বুখারী শরীফ ১০০ পৃষ্ঠা; মুসলিম শরীফ ১৮২ পৃষ্ঠা। আবুদাঊদ ৯৭ পৃষ্ঠা, তিরমিযী ৫৩ পৃষ্ঠা, নাসাঈ, ইবনে মাজাহ ৭১ পৃষ্ঠা। দারকুৎনী ১ম খণ্ড ২৮৩ পৃষ্ঠা, মেশকাত ৯৮ পৃষ্ঠা, বুখারী শরীফ আযীযুল হক, ১ম খণ্ড হাদীস নং ৪২৭। বুখারী শরীফ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড অনুচ্ছেদসহ হাদীস নং ৬৮২, ৬৮৬, ৬৮৭। মুসলিম শরীফ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৮৫১। আবু দাঊদ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ৬৬২, ৬৬৬। তিরমিযী শরীফ ইসলামিক ফাউণ্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২২৭। মেশকাত নূর মোহাম্মদ আযমী ৩য় খণ্ড ও মেশকাত মাদরাসা পাঠ্য ২য় খণ্ড হাদীস নং ১০১৭, ১০১৮, ১০২০,১০২৫, ১০৩৩, ১০৩৪। বুলুগুল মারাম ১২৪ পৃষ্ঠা।)
হাদিসের মানঃ  সহিহ (Sahih)

আউয়াল ওয়াক্তে নামাজ না পড়ার ফলাফল

নির্ধারিত সময়ে স্বলাত আদায় করা আবশ্যক

মহান আল্লাহ্ বলেন,

إِنَّ الصَّلَاةَ كَانَتْ عَلَى الْمُؤْمِنِينَ كِتَابًا مَّوْقُوتًا
“নিশ্চয় স্বলাত মুমিনদের উপর ফরয করা হয়েছে নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে” (সূরহ নিসা ৪/১০৩ আয়াত)
এই আয়াতে স্বলাতকে তার যথা সময়ে পড়ার তাগিদ করা হয়েছে। এখানে স্বলাতকে সময়ের আগে পিছে করার কোন সুযোগ নেই। কিন্তু যারা এ ব্যাপারে উদাসীন তাদের সম্পর্কে মহান আল্লাহ্ বলেন,
فَوَيْلٌ لِّلْمُصَلِّينَ الَّذِينَ هُمْ عَن صَلَاتِهِمْ سَاهُونَ الَّذِينَ هُمْ يُرَاءُونَ
“অতএব দুর্ভোগ সেসব স্বলাত আদায়কারীদের, যারা তাদের স্বলাত সম্বন্ধে উদাসীন, যারা তা লোক-দেখানোর জন্য করে”
(সূরহ মাউন ১০৭/৪-৬ আয়াত)
তাফসীর আহসানুল বায়ানে ক্ষতিগ্রস্ত স্বলাত আদায় কারীদের কিছু অপরাধ উল্লেখ করা হয়েছে, তার মধ্যে একটি হল, যথা সময়ে স্বলাত আদায় না করা। (তাফসীর আহসানুল বায়ান, সূরহ মাঊন ১০৭/৫ আয়াতের ব্যাখ্যা)

সঠিক সময়ে স্বলাত আদায় করার মর্যাদা

প্রথম হাদীস:-

بَاب فَضْلِ الصَّلاَةِ لِوَقْتِهَا أَبُو الْوَلِيدِ هِشَامُ بْنُ عَبْدِ الْمَلِكِ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ الْوَلِيدُ بْنُ الْعَيْزَارِ أَخْبَرَنِي قَالَ سَمِعْتُ أَبَا عَمْرٍو الشَّيْبَانِيَّ يَقُولُ حَدَّثَنَا صَاحِبُ هَذِهِ الدَّارِ وَأَشَارَ إِلَى دَارِ عَبْدِ اللهِ قَالَ سَأَلْتُ النَّبِيَّ أَيُّ الْعَمَلِ أَحَبُّ إِلَى اللهِ قَالَ الصَّلاَةُ عَلَى وَقْتِهَا قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ ثُمَّ بِرُّ الْوَالِدَيْنِ قَالَ ثُمَّ أَيٌّ قَالَ الْجِهَادُ فِي سَبِيلِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنِي بِهِنَّ وَلَوْ اسْتَزَدْتُهُ لَزَادَنِي.

“আবদুল্লাহ্ ইবনু মাস‘ঊদ (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) বলেন, আমি আল্লাহর রসূল ﷺ কে জিজ্ঞেস করলাম, কোন্ ‘আমল’ আল্লাহর নিকট অধিক প্রিয়? তিনি বললেন, ‘যথা সময়ে স্বলাত আদায় করা”
(স্বহীহুল বুখারী, ‘স্বলাতের সময় সমুহ’ অধ্যায় নং-৯, ‘সঠিক সময়ে স্বলাত আদায়ের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ নং- ৫, হাদীস নং-৫২৭, ২৭৮২, ৫৯৭০, ৭৫৩৪, স্বহীহ মুসলিম, কিতাবুল ঈমান, অধ্যায় নং- ১, ‘আল্লাহর প্রতি ঈমান আনা সর্বোত্তম আমল’ অনুচ্ছেদ নং-৩৬, হাদীস নং- ১৫৩+৮৫, স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, ‘স্বলাত সমুহের হিফাযত করা’ অনুচ্ছেদ নং-৯, হাদীস নং-৪২৬, স্বহীহ তিরমিযী, ‘কিতাবু মাওয়াকিতিস স্বলাত’ অধ্যায় নং-২, প্রথম ওয়াক্তের ফাযিলাত, অনুচ্ছেদ নং-১৫, হাদীস নং-১৭০, তাহক্বীক মিশকাত, ‘কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, হাদীস নং-৬০৭ )

দ্বিতীয় হাদীস:-

باب مَا جَاءَ فِي الْوَقْتِ الأَوَّلِ مِنَ الْفَضْلِ حَدَّثَنَا قُتَيْبَةُ، حَدَّثَنَا اللَّيْثُ، عَنْ خَالِدِ بْنِ يَزِيدَ، عَنْ سَعِيدِ بْنِ أَبِي هِلاَلٍ، عَنْ إِسْحَاقَ بْنِ عُمَرَ، عَنْ عَائِشَةَ، قَالَتْ مَا صَلَّى رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةً لِوَقْتِهَا الآخِرِ مَرَّتَيْنِ حَتَّى قَبَضَهُ اللَّهُ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى هَذَا حَدِيثٌ حَسَنٌ غَرِيبٌ وَلَيْسَ إِسْنَادُهُ بِمُتَّصِلٍ ‏.‏ قَالَ الشَّافِعِيُّ وَالْوَقْتُ الأَوَّلُ مِنَ الصَّلاَةِ أَفْضَلُ ‏.‏ وَمِمَّا يَدُلُّ عَلَى فَضْلِ أَوَّلِ الْوَقْتِ عَلَى آخِرِهِ اخْتِيَارُ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَأَبِي بَكْرٍ وَعُمَرَ فَلَمْ يَكُونُوا يَخْتَارُونَ إِلاَّ مَا هُوَ أَفْضَلُ وَلَمْ يَكُونُوا يَدَعُونَ الْفَضْلَ وَكَانُوا يُصَلُّونَ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ ‏.‏ قَالَ حَدَّثَنَا بِذَلِكَ أَبُو الْوَلِيدِ الْمَكِّيُّ عَنِ الشَّافِعِيِّ ‏.‏

আয়িশাহ্ (রযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ ﷺ দু’বার কোন স্বলাত শেষ ওয়াক্তে আদায় করেননি। এমনকি এ অবস্থায় আল্লাহ তা’আলা তাকে তুলে নেন। (স্বহীহ তিরমিযী, ‘কিতাবু মাওয়াকিতিস স্বলাত’ অধ্যায় নং-২, প্রথম ওয়াক্তের ফাযিলাত, অনুচ্ছেদ নং-১৫, হাদীস নং-১৭৪, মিশকাত, কিতাবুস স্বলাত ৪ অনুচ্ছেদ নং-২ হাদীস নং-৬০৮)
ইমাম শাফিঈ (রহিমাহুল্লাহ) বলেন, প্রথম ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করা খুবই ভাল। কারণ রসূলুল্লাহ ﷺ আবু বাকার ও উমর (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) প্রথম ওয়াক্তেই স্বলাত আদায় করতেন। তা হতে প্রমাণিত হয় যে, ওয়াক্তের শেষ সময়ের উপর প্রথম সময়ের ফাযীলাত রয়েছে। বেশি ফাযীলাতের জিনিসই তারা গ্রহণ করতেন, তারা ফাযীলাতপূর্ণ কাজ ছেড়ে দেননি। প্রথম ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করাই ছিল তাদের আমল।
(স্বহীহ তিরমিযী, ‘কিতাবু মাওয়াকিতিস স্বলাত’ অধ্যায় নং-২, প্রথম ওয়াক্তের ফাযিলাত, অনুচ্ছেদ নং-১৫, হাদীস নং-১৭৪)

তৃতীয় হাদীস:-

بَاب اسْتِعَارَةِ الْقَلاَئِد حَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، حَدَّثَنَا هِشَامُ بْنُ عُرْوَةَ، عَنْ أَبِيهِ، عَنْ عَائِشَةَ ـ رضى الله عنها ـ قَالَتْ هَلَكَتْ قِلاَدَةٌ لأَسْمَاءَ، فَبَعَثَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فِي طَلَبِهَا رِجَالاً، فَحَضَرَتِ الصَّلاَةُ وَلَيْسُوا عَلَى وُضُوءٍ وَلَمْ يَجِدُوا مَاءً، فَصَلَّوْا وَهُمْ عَلَى غَيْرِ وُضُوءٍ، فَذَكَرُوا ذَلِكَ لِلنَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فَأَنْزَلَ اللَّهُ آيَةَ التَّيَمُّمِ‏.‏ زَادَ ابْنُ نُمَيْرٍ عَنْ هِشَامٍ عَنْ أَبِيهِ عَنْ عَائِشَةَ اسْتَعَارَتْ مِنْ أَسْمَاءَ‏.‏

আয়িশাহ (রযিয়াল্লাহু আনহা) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একবার কোন এক সফরে) আসমার একটি হার আমার নিকট থেকে) হারিয়ে যায়। নাবী ﷺ কয়েকজন পুরুষ লোককে তার খোঁজে পাঠান। এমন সময় স্বলাতের সময় উপস্থিত হয়। তাদের কারও উযূ ছিল না এবং তারা পানিও পেল না। কাজেই উযূ ছাড়াই তাঁরা স্বলাত আদায় করে নিলেন। ফিরে এসে) তাঁরা নাবী ﷺ -এর নিকট বিষয়টি উল্লেখ করলেন। তখন আল্লাহ তা‘আলা তায়াম্মুমের আয়াত অবতীর্ণ করলেন। (স্বহীহুল বুখারী, ‘কিতাবুল লিবাস’ অধ্যায় নং-৭৭, অনুচ্ছেদ নং-৫৮, হাদীস নং- ৫৮৮২)
দেখলেন সঠিক সময়ে স্বলাত আদায় করার মর্যাদা, স্বহাবিরা আমাদের সমাজের মত পানির জন্য দেরি করলেন না বরং আউওয়াল ওয়াক্তেই স্বলাত আদায় করলেন।

নির্ধারিত সময় হতে দেরিতে স্বলাত আদায় করে তার হক্ব নষ্ট করা

প্রথম হাদীস:-

বব প্রার্থনা tzyy আল vqtha মুসা বিন ইসমাইল আল Ghailani বললেন, মাহদি আল-হাদীস আনাস বললেন, মা আরএফ shyya দেশ আলী নবীর নবী মুহাম্মদ থেকে অঙ্গীকার বললেন, Alisa মঁস প্রার্থনা zytm মা zytm গণনা কর।

আনাস (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আজকাল কোনো জিনিসই সে অবস্থায় পাই না, যেমন নাবী ﷺ এর যুগে ছিল। প্রশ্ন করা হলো, স্বলাতও কি? তিনি বললেন, সে ক্ষেত্রেও যা হক্ব নষ্ট করার তা-কি তোমরা করনি?
(স্বহীহুল বুখারী, ‘স্বলাতের সময় সমুহ’ অধ্যায় নং-৯, ‘নির্ধারিত সময় হতে দেরিতে স্বলাত আদায় করে তার হক্ব নষ্ট করা।’ অনুচ্ছেদ নং-৭, হাদীস নং-৫২৯)

দ্বিতীয় হাদীস:-

বব tzyy প্রার্থনা আল vqtha আমর zrarh বললেন, khbrna আব্দুল ওয়াহিদ বিন WASEL আবু bydh আল উসমান বিন alhdad rvad রাজা আব্দুল আজিজ বিন rvad বললেন, ANIMAQP Alz · গেম nayaricompas yoru আলী মালিক bdmshq cxinvali ybky fqlt মা ybkyk fqal লা আরএফ shyya রাদি পেটুকবৃত্তি সরঞ্জামসমূহ সুরাবযা প্রার্থনা প্রার্থনা vhzh লম্বা zyt vqal বকর ইবনে খালাফ মোহাম্মদ বিন বক্করকে হাদীস khbr albrsany এন ইবনে আবু nhvh rvad।

যুহরী (রহিমাহুল্লাহ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি দামেশকে আনাস ইবনু মালিক (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু)-এর নিকট উপস্থিত হলাম, তিনি তখন কাঁদছিলেন। আমি তাঁকে জিজ্ঞেস করলাম, আপনাকে কোন বিষয়টি কাঁদাচ্ছে? তিনি বললেন, আল্লাহর রসূল ﷺ -এর যুগে যা কিছু পেয়েছি তার মধ্যে কেবলমাত্র স্বলাত ছাড়া আর কিছুই বহাল নেই। কিন্তু স্বলাতকেও নষ্ট করে দেয়া হয়েছে।
(স্বহীহুল বুখারী, ‘স্বলাতের সময় সমুহ’ অধ্যায় নং- ৯, ‘নির্ধারিত সময় হতে দেরিতে স্বলাত আদায় করে তার হক্ব নষ্ট করা।’ অনুচ্ছেদ নং-৭, হাদীস নং-৫৩০)

তৃতীয় হাদীস:-

ডোর গতিবিধি শাসক এবং গুণাবলী আমাদের ডেভিড Mehri পুত্র শলোমনকে বলেছিলেন, আমাদের দান পুত্র বলেন, আমাকে ইয়াহিয়া বিন আইয়ুব, আব্দুর রহমান বিন Harmala, আবু আলী আল হামদানি বলেন, বলেন, আমি শুনেছি বেন আমের বাধা, তিনি বলেছেন আমি রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে শুনে সাঃ বলেছেন, "থেকে অথবা মানুষ, এবং তারা তাদের জন্য এবং তাদের জন্য এবং এটি সঙ্গে কিছু করতে হবে না যারা সময় আঘাত, এবং তাদের জন্য না। "

উকবা ইবনু আমের (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি রসূলুল্লাহ্ ﷺ কে বলতে শুনেছিঃ যে ব্যক্তি সঠিক সময়ে লোকদের নিয়ে জামাআতে স্বলাত আদায় করছে- এজন্য সে (ইমাম) নিজে এবং মুক্তাদীগণ পরিপূর্ণ স্বওয়াবের অধিকারী হবে। অপরপক্ষে যদি কোন ইমাম বিলম্বে স্বলাত আদায় করে তবে এজন্য সে গুনাহগার হবে, মুক্তাদীরা নয়।
(স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, ‘ইমামতির ফাযিলাত সম্পর্কে’ অনুচ্ছেদ নং-৬৪, হাদীস নং-৫৮০)

যুহর স্বলাতের আউওয়াল ওয়াক্ত

ইশার স্বলাত ব্যতীত সকল স্বলাতই আউওয়াল ওয়াক্তে সময় শুরু হলেই আদায় করা উত্তম যা পূর্বে হাদীস পেশ করা হয়েছে কিন্তু বর্তমানে আমাদের এলাকা সহ বিভিন্ন এলাকায় বিশেষ করে যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করা হচ্ছে না তাই যুহরের আউওয়াল ওয়াক্ত সম্পর্কে ধারণা দেওয়া হল।

প্রথম হাদীস:-

باب وَقْتِ صَلاَةِ الظُّهْرِ حَدَّثَنَا مُوسَى بْنُ إِسْمَاعِيلَ، حَدَّثَنَا حَمَّادٌ، عَنْ سِمَاكِ بْنِ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، أَنَّ بِلاَلاً، كَانَ يُؤَذِّنُ الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরা (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত। সূর্য্ যখন পশ্চিমাকাশে হেলে পড়ত তখন বিলাল (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) যুহরের স্বলাতের আযান দিতেন।
(স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, ‘যুহর স্বলাতের ওয়াক্ত’ অনুচ্ছেদ নং-৪, হাদীস নং-৪০৩)

দ্বিতীয় হাদীস:-

باب اسْتِحْبَابِ تَقْدِيمِ الظُّهْرِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ فِي غَيْرِ شِدَّةِ الْحَرِّ ‏‏ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ الْمُثَنَّى، وَمُحَمَّدُ بْنُ بَشَّارٍ، كِلاَهُمَا عَنْ يَحْيَى الْقَطَّانِ، وَابْنِ، مَهْدِيٍّ – قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى حَدَّثَنِي يَحْيَى بْنُ سَعِيدٍ، – عَنْ شُعْبَةَ، قَالَ حَدَّثَنَا سِمَاكُ بْنُ حَرْبٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ ابْنُ الْمُثَنَّى وَحَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ مَهْدِيٍّ، عَنْ شُعْبَةَ، عَنْ سِمَاكٍ، عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ، قَالَ كَانَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الظُّهْرَ إِذَا دَحَضَتِ الشَّمْسُ ‏.‏

জাবির ইবনু সামুরা (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, নাবী ﷺ সূর্য ঢলে পড়লেই যুহরের স্বলাত আদায় করতেন।
(স্বহীহ মুসলিম, ‘মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমূহ, অধ্যায় নং-৫, ‘প্রচন্ড রোদ নয়া হলে যুহরের স্বলাত আউওয়াল অয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব’ অনুচ্ছেদ নং- ৩৩, হাদীস নং-১৩০৫+৬১৮)

ঘড়ির হিসাব অনুযায়ী যুহরের স্বলাতের আউওয়াল ওয়াক্ত

আমাদের ধুলিয়ান এলাকার পাঁচ ওয়াক্ত স্বলাতের চিরস্থায়ী সময় তালিকা অনুযায়ী যেটা রচনা করেছেন জামিয়া সালাফীয়া বেনারস এর যোগ্যতম মুদাররিস শায়খ আবু ওবাইদা আব্দুল মঈদ বেনারসী (রহিমাহুল্লাহ), যে সময় তালিকাকে আমাদের এলাকায় ফলো করা হয় রমাযান এবং রমাযান ছাড়া সবসময়! সেই চিরস্থায়ী তালিকা অনুযায়ী যুহর স্বলাতের সময় হচ্ছে :-

জানুয়ারী-…..১১টা৪২থেকে……১১টা ৫২মিনিটে শুরু।

ফেব্রুয়ারী-…..১১টা ৫৩থেকে….১১টা ৫২মিনিটে শুরু।

মার্চ-……….১১টা ৫৩থেকে……১১টা ৪৪মিনিটে শুরু।

এপ্রিল-……১১টা ৪৩থেকে……১১টা ৩৭মিনিটে শুরু।

মে-………১১টা ৩৬থেকে………১১টা ৩৭মিনিটে শুরু।

জুন-……..১১টা ৩৭থেকে……..১১টা ৪৩মিনিটে শুরু।

জুলাই-…….১১টা ৪৩থেকে……১১টা ৪৫মিনিটে শুরু।

আগষ্ট-…….১১টা ৪৫থেকে…….১১টা ৪০মিনিটে শুরু।

সেপ্টেম্বর-…..১১টা ৩৯থেকে….১১টা ২৯মিনিটে শুরু।

অক্টোবর-….১১টা ২৯থেকে…….১১টা ২৩মিনিটে শুরু।

নভেম্বর-…..১১টা ২৩থেকে…….১১টা ২৮মিনিটে শুরু।

ডিসেম্বর-…..১১টা ২৮থেকে…..১১টা ৩৮মিনিটে শুরু।

তাহলে দেখলেন যুহরের সময় শুরু হচ্ছে ১২টার আগেই।

ঈশার স্বলাত দেরী করেই আদায় করা ব্যতিক্রম

প্রত্যেক স্বলাত সময় শুরু হলেই আদায় করা উত্তম তবে শুধু মাত্র ঈশার স্বলাত এর ব্যতিক্রম, কেননা খাস ঈশার স্বলাত দেরী করে আদায় করা প্রসঙ্গে একাধিক হাদীস বর্ণিত হয়েছে. যা নিচে উল্লেখ্য করা হল

প্রথম হাদীস:-

باب مَا جَاءَ فِي تَأْخِيرِ صَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ حَدَّثَنَا هَنَّادٌ، حَدَّثَنَا عَبْدَةُ، عَنْ عُبَيْدِ اللَّهِ بْنِ عُمَرَ، عَنْ سَعِيدٍ الْمَقْبُرِيِّ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، قَالَ قَالَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ لَوْلاَ أَنْ أَشُقَّ عَلَى أُمَّتِي لأَمَرْتُهُمْ أَنْ يُؤَخِّرُوا الْعِشَاءَ إِلَى ثُلُثِ اللَّيْلِ أَوْ نِصْفِهِ ‏”‏ ‏.‏ قَالَ وَفِي الْبَابِ عَنْ جَابِرِ بْنِ سَمُرَةَ وَجَابِرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ وَأَبِي بَرْزَةَ وَابْنِ عَبَّاسٍ وَأَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ وَزَيْدِ بْنِ خَالِدٍ وَابْنِ عُمَرَ ‏.‏ قَالَ أَبُو عِيسَى حَدِيثُ أَبِي هُرَيْرَةَ حَدِيثٌ حَسَنٌ صَحِيحٌ ‏.‏ وَهُوَ الَّذِي اخْتَارَهُ أَكْثَرُ أَهْلِ الْعِلْمِ مِنْ أَصْحَابِ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم وَالتَّابِعِينَ وَغَيْرِهِمْ رَأَوْا تَأْخِيرَ صَلاَةِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ وَبِهِ يَقُولُ أَحْمَدُ وَإِسْحَاقُ ‏.‏

আবু হুরাইরা (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত আছে, তিনি বলেন, নাবী ﷺ বলেছেন, যদি আমি আমার উম্মাতের জন্য কষ্টকর হবে বলে মনে না করতাম তাহলে তাদেরকে ইশা স্বলাত রাতের একতৃতীয়াংশ অথবা অর্ধরাত পর্যন্ত দেরি করে আদায়ের নির্দেশ দিতাম।
(স্বহীহ তিরমিযী, ‘কিতাবু মাওয়াকিতিস স্বলাত’ অধ্যায় নং-২, ঈশার স্বলাত দেরী করেই আদায় করা উত্তম, অনুচ্ছেদ নং-১২, হাদীস নং-১৬৭, তাহক্বীক মিশকাত, কিতাবুস স্বলাত ৪, অনুচ্ছেদ নং-২ হাদীস নং-৬১১ )
ইমাম তিরমিযী বলেন, বেশিরভাগ স্বহাবা, তাবিঈন ও তাবা-তাবিঈন ইশা স্বলাত দেরিতে আদায় করা পছন্দ করেছেন। ইমাম আহমাদ ও ইসহাক এ অভিমত গ্রহণ করেছেন।

দ্বিতীয় হাদীস:-

بَاب مَا يُكْرَهُ مِنْ السَّمَرِ بَعْدَ الْعِشَاءِ حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، قَالَ حَدَّثَنَا يَحْيَى، قَالَ حَدَّثَنَا عَوْفٌ، قَالَ حَدَّثَنَا أَبُو الْمِنْهَالِ، قَالَ انْطَلَقْتُ مَعَ أَبِي إِلَى أَبِي بَرْزَةَ الأَسْلَمِيِّ فَقَالَ لَهُ أَبِي حَدِّثْنَا كَيْفَ، كَانَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم يُصَلِّي الْمَكْتُوبَةَ قَالَ كَانَ يُصَلِّي الْهَجِيرَ وَهْىَ الَّتِي تَدْعُونَهَا الأُولَى حِينَ تَدْحَضُ الشَّمْسُ، وَيُصَلِّي الْعَصْرَ، ثُمَّ يَرْجِعُ أَحَدُنَا إِلَى أَهْلِهِ فِي أَقْصَى الْمَدِينَةِ وَالشَّمْسُ حَيَّةٌ، وَنَسِيتُ مَا قَالَ فِي الْمَغْرِبِ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يَسْتَحِبُّ أَنْ يُؤَخِّرَ الْعِشَاءَ‏.‏ قَالَ وَكَانَ يَكْرَهُ النَّوْمَ قَبْلَهَا وَالْحَدِيثَ بَعْدَهَا، وَكَانَ يَنْفَتِلُ مِنْ صَلاَةِ الْغَدَاةِ حِينَ يَعْرِفُ أَحَدُنَا جَلِيسَهُ، وَيَقْرَأُ مِنَ السِّتِّينَ إِلَى الْمِائَةِ‏.‏

আবূ বারযা (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) বলেন, ‘ইশা স্বলাত একটু বিলম্বে আদায় করাকে তিনি পছন্দ করতেন।
(স্বহীহুল বুখারী, ‘স্বলাতের সময় সমুহ’ অধ্যায় নং-৯, ‘সঠিক সময়ে স্বলাত আদায়ের মর্যাদা’ অনুচ্ছেদ নং-৫, হাদীস নং-৫২৭, (স্বহীহুল বুখারী, ‘স্বলাতের সময় সমুহ’ অধ্যায় নং-৯, ‘৯/৩৯. ‘ইশা স্বলাতের পর গল্প গুজব করা মাকরূহ’ অনুচ্ছেদ নং- ৩৯, হাদীস নং- ৫৯৯, ৫৪১, ৫৪৭, স্বহীহ মুসলিম, ‘মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমূহ, অধ্যায় নং-৫, অনুচ্ছেদ নং-৪০, হাদীস নং-১৩৬২+৬৪৭, তাহক্বীক মিশকাত, কিতাবুস স্বলাত ৪, অধ্যায় নং-২ হাদীস নং- ৫৮৭)।

তৃতীয় হাদীস:-

باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ حَدَّثَنَا مُسَدَّدٌ، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، حَدَّثَنَا دَاوُدُ بْنُ أَبِي هِنْدٍ، عَنْ أَبِي نَضْرَةَ، عَنْ أَبِي سَعِيدٍ الْخُدْرِيِّ، قَالَ صَلَّيْنَا مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم صَلاَةَ الْعَتَمَةِ فَلَمْ يَخْرُجْ حَتَّى مَضَى نَحْوٌ مِنْ شَطْرِ اللَّيْلِ فَقَالَ ‏”‏ خُذُوا مَقَاعِدَكُمْ ‏”‏ ‏.‏ فَأَخَذْنَا مَقَاعِدَنَا فَقَالَ ‏”‏ إِنَّ النَّاسَ قَدْ صَلَّوْا وَأَخَذُوا مَضَاجِعَهُمْ وَإِنَّكُمْ لَنْ تَزَالُوا فِي صَلاَةٍ مَا انْتَظَرْتُمُ الصَّلاَةَ وَلَوْلاَ ضَعْفُ الضَّعِيفِ وَسَقَمُ السَّقِيمِ لأَخَّرْتُ هَذِهِ الصَّلاَةَ إِلَى شَطْرِ اللَّيْلِ ‏”‏ ‏.‏

আবূ সাঈদ আল্-খুদরী (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, একদা আমরা রসূলুল্লাহ্ ﷺ এর সাথে এশার স্বলাত আদায় করি সেদিন আনুমানিক তিনি অর্ধ রাত অতিবাহিত হওয়ার পর এশার স্বলাত আদায় করতে আসেন। অতঃপর তিনি বলেনঃ তোমরা স্ব-স্ব স্থানে অবস্থান কর। অতএব আমরা নিজেদের স্থানে বসে থাকি। অতঃপর তিনি বলেনঃ অনেকেই এশার স্বলাত আদায় করে শুইয়ে পড়েছে তোমরা যতক্ষণ এই স্বলাতের জন্য অপেক্ষা করেছ, ততক্ষণ তোমরা স্বলাত আদায়কারী হিসাবে পরিগণিত হয়েছ। যদি দুর্বলের দুর্বলতা ও রোগীর রোগগ্রস্থতার আশংকা না থাকত, তবে আমি এই স্বলাত আদায়ের জন্য অর্ধ-রাত পর্যন্ত বিলম্ব করতাম।
(স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, ‘এশার স্বলাতের ওয়াক্ত’ অনুচ্ছেদ নং-৭, হাদীস নং-৪২২, তাহক্বীক মিশকাত, কিতাবুস স্বলাত ৪, অধ্যায় নং-২ হাদীস নং-৬১২)।

চতুর্থ হাদীস:-

باب فِي وَقْتِ الْعِشَاءِ الآخِرَةِ حَدَّثَنَا عَمْرُو بْنُ عُثْمَانَ الْحِمْصِيُّ، حَدَّثَنَا أَبِي، حَدَّثَنَا حَرِيزٌ، عَنْ رَاشِدِ بْنِ سَعْدٍ، عَنْ عَاصِمِ بْنِ حُمَيْدٍ السَّكُونِيِّ، أَنَّهُ سَمِعَ مُعَاذَ بْنَ جَبَلٍ، يَقُولُ ارْتَقَبْنَا النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم فِي صَلاَةِ الْعَتَمَةِ فَأَخَّرَ حَتَّى ظَنَّ الظَّانُّ أَنَّهُ لَيْسَ بِخَارِجٍ وَالْقَائِلُ مِنَّا يَقُولُ صَلَّى فَإِنَّا لَكَذَلِكَ حَتَّى خَرَجَ النَّبِيُّ صلى الله عليه وسلم فَقَالُوا لَهُ كَمَا قَالُوا فَقَالَ لَهُمْ ‏ “‏ أَعْتِمُوا بِهَذِهِ الصَّلاَةِ فَإِنَّكُمْ قَدْ فُضِّلْتُمْ بِهَا عَلَى سَائِرِ الأُمَمِ وَلَمْ تُصَلِّهَا أُمَّةٌ قَبْلَكُمْ ‏”‏ ‏.‏

আস্বিম ইবনু হুমাইদ আস-সুকূনী (রহিমাহুল্লাহ) সূত্রে বর্ণিত। তিনি মুয়ায ইবনু জাবাল (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) কে বলতে শুনেছেন,আমরা ইশার স্বলাত আদায়ের জন্য নাবী ﷺ এর প্রতীক্ষায় ছিলাম। তিনি সেদিন এত বিলম্ব করেন যে, ধারণাকারীর নিকট এরূপ প্রতীয়মান হয় যে, তিনি আদৌ বের হবেন না। আমাদের কেউ কেউ এরূপ মন্তব্য করল যে, হয়ত তিনি ঘরেই স্বলাত আদায় করেছেন। আমরা যখন এরূপ অবস্হায় ছিলাম, তখন নাবী ﷺ বের হলেন। তখন সাহাবায়ে কিরাম যা বলাবলি করছিলেন নাবী ﷺ কে তাই বলেন। নাবী ﷺ বলেনঃ তোমরা এই স্বলাত বিলম্বে আদায় করবে। কেননা এই স্বলাতের কারণেই অন্যান্য উম্মাতগণের উপরে তোমাদের মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত। ইতিপূর্বে কোন নাবীর উম্মাত এই স্বলাত আদায় করে নি।
(স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-২, ‘এশার স্বলাতের ওয়াক্ত’ অনুচ্ছেদ নং-৭, হাদীস নং-৪২১, স্বহীহ তিরমিযী, ‘কিতাবু মাওয়াকিতিস স্বলাত’ অধ্যায় নং-২, অনুচ্ছেদ নং-১২)
শুধু তাই নয় স্বহীহ মুসলিমে একটি অনুচ্ছেদ কায়েম করা হয়েছে যার নাম, ‘ইশা সময় ও তাতে বিলম্ব করা’ এই আনুচ্ছেদে এক ডজনের বেশী অর্থাৎ ১৪টি হাসীদ বর্ণনা করা হয়েছে বিভিন্ন সূত্রে।
(স্বহীহ মুসলিম, ‘মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমূহ, অধ্যায় নং-৫, ‘ইশা সময় ও তাতে বিলম্ব করা’ অনুচ্ছেদ নং-৩৯, হাদীস নং-১৩৪৩+১৩৬৫+৬৩৮ থেকে ৬৪৪)

বর্তমানে আমাদের যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় হচ্ছে কি?

পূর্বের আলোচনা থেকে জানতে পারলেন যুহর স্বলাতের সময় শুরু হচ্ছে ১২টার পূর্বেই। অর্থাৎ কখনও ১১টা ২৩মিনিটে কখনও ১১টা ৫২মিনিটে
সময়কে সাধরণত তিন ভাগে ভাগ করা যায়।
১। আউওয়াল ওয়াক্ত
২। মধ্য ওয়াক্ত
৩। শেষ ওয়াক্ত।
যদি যুহরের ৩ঘন্টা ১৫মিনিট সময়কে তিন ভাগ করেন তাহলে প্রত্যেক ভাগে পড়ছে ১ঘন্টা ৫মিনিট করে।
১। আউওয়াল ওয়াক্ত ১ঘন্টা ৫মিনিট
২। মধ্য ওয়াক্ত ১ঘন্টা ৫মিনিট
৩। শেষ ওয়াক্ত ১ঘন্টা ৫মিনিট।
মোট ৩ঘন্টা ১৫মিনিট যখন যুহর স্বলাতের সময় শুরু হচ্ছে ১১টা ২৩মিনিটে তখন আউওয়াল ওয়াক্ত ১ঘন্টা ৫মিনিট ধরে যুহরের আউওয়াল ওয়াক্ত থাকছে ১২টা ২৮মিনিট পর্যন্ত। তাহলে যদি কেউ ১২টা ২৮মিনিটের মধ্যে তার যুহরের স্বলাত আদায় করতে পারে তহলে তার স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তের মধ্যে পড়বে। কিন্তু আমাদের চেষ্টা করতে হবে ১১টা ৩০মিনিটে আযান দিয়ে ১১টা ৪৫মিনিটে জামাত শুরু করা যেমন হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

হাদীস:-

باب مَنْ أَحَقُّ بِالإِمَامَةِ وَحَدَّثَنَا إِسْحَاقُ بْنُ إِبْرَاهِيمَ الْحَنْظَلِيُّ، أَخْبَرَنَا عَبْدُ الْوَهَّابِ الثَّقَفِيُّ، عَنْ خَالِدٍ الْحَذَّاءِ، عَنْ أَبِي قِلاَبَةَ، عَنْ مَالِكِ بْنِ الْحُوَيْرِثِ، قَالَ أَتَيْتُ النَّبِيَّ صلى الله عليه وسلم أَنَا وَصَاحِبٌ لِي فَلَمَّا أَرَدْنَا الإِقْفَالَ مِنْ عِنْدِهِ قَالَ لَنَا ‏ “‏ إِذَا حَضَرَتِ الصَّلاَةُ فَأَذِّنَا ثُمَّ أَقِيمَا وَلْيَؤُمَّكُمَا أَكْبَرُكُمَا ‏”‏ ‏

মালিক ইবনু হুওয়ায়রিস (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমি নাবী ﷺ এর কাছে আমার একজন সাথী সহ এলাম। আমরা যখন তাঁর কাছ থেকে ফিরে যেতে চাইলাম তখন আমাদের বললেন, যখন স্বলাতের সময় হয়, তখন আযান দিও; তারপর ইকামত দিও তোমাদের মধ্যে যে বড় সে ইমামতি করবে।
(স্বহীহ মুসলিম, ‘মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমূহ, অধ্যায় নং-৫, ‘ইমামাতির জান্য বেশী যোগ্য কে’ অনুচ্ছেদ নং-৫৩, হাদীস নং-১৪৩৮+১৩৬৫+৬৭৪)
কিন্তু আফসোস আমাদের এলাকায় যুহরের স্বলাতের জামাত হচ্ছে ১টায় কিম্বা পৌনে একটায় যা আউওয়াল ওয়াক্ত থেকে অনেক দূরে

যুহরের আউওয়াল ওয়াক্তের খাস হাদীস

আমরা পূর্বেই জেনেছি আউওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করার গুরুত্ব কত। কিন্তু তা জেনেও আমরা যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করছিনা। কিন্তু এই স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করার ব্যাপারে খাস হাদীস বর্ণিত হয়েছে

হাদীস:-

بَاب الِاسْتِهَامِ فِي الْأَذَانِ حَدَّثَنَا عَبْدُ اللَّهِ بْنُ يُوسُفَ، قَالَ أَخْبَرَنَا مَالِكٌ، عَنْ سُمَىٍّ، مَوْلَى أَبِي بَكْرٍ عَنْ أَبِي صَالِحٍ، عَنْ أَبِي هُرَيْرَةَ، أَنَّ رَسُولَ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ ‏ “‏ لَوْ يَعْلَمُ النَّاسُ مَا فِي النِّدَاءِ وَالصَّفِّ الأَوَّلِ، ثُمَّ لَمْ يَجِدُوا إِلاَّ أَنْ يَسْتَهِمُوا عَلَيْهِ لاَسْتَهَمُوا، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي التَّهْجِيرِ لاَسْتَبَقُوا إِلَيْهِ، وَلَوْ يَعْلَمُونَ مَا فِي الْعَتَمَةِ وَالصُّبْحِ لأَتَوْهُمَا وَلَوْ حَبْوًا ‏”‏‏.‏

“যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করার মধ্যে কী (ফাযীলাত) রয়েছে, যদি তারা জানত, তাহলে তারা এর জন্য প্রতিযোগিতা করত” (স্বহীহুল বুখারী, কিতাবুল আযান, অধ্যায় নং-১০, অনুচ্ছেদ নং-৯, হাদীস নং-৬১৫, স্বহীহ মুসলিম, কিতাবুস স্বলাত, অধ্যায় নং-৪, অনুচ্ছেদ নং-২৮, হাদীস নং-৮৬৭+৪৩৭)
আর এখনেই শেষ নয় ইমাম বুখারী স্বহীহুল বুখারীতে একটি অনুচ্ছেদ কায়েম করেছেন। যার নাম দিয়েছেন “প্রথম ওয়াক্ত যুহরের স্বলাতে যাওয়ার মর্যাদা” এটি স্বহীহুল বুখারী ১০নং অধ্যায়ের ৩২নং অনুচ্ছেদ।
সম্মানিত পাঠক মন্ডলী। তাহলে বুঝতে পারলেন এত স্পষ্ট হাদীস থাকা সত্তেও যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করা হচ্ছে না
কিন্তু আবার দেখা যাচ্ছে আসরের স্বলাতের সময় যেমন শুরু হল তেমনি আযান দিয়ে স্বলাত আদায় করা হচ্ছে। আবার অনেক মাসজিদে দেখা যাচ্ছে মাগরিবের আযান দিয়েই স্বলাত শুরু করা হচ্ছে , বলা হচ্ছে মাগরিবের সময় অল্প দেরী করলে সময় চলে যাবে এগুলো বলে তারা মাগরিবের আগে দুই রাকাত স্বলাত আদায় করারও সুযোগ দিচ্ছে না। আবার অনেকে মনে করে মাগরিবের আগে স্বলাত নাই, আবার অনেকে মাগরিবের পূর্বের ২রাকাত স্বলাতকে নতুন ফিতনা নতুন হাদীস বলে মনে করে। তাই আসুন দেখার চেষ্টা করি মাগরিবের পূর্বে স্বলাত আছে কিনা? এবং মাগরিব আযান ও ইকামাতের মধ্যে ব্যবধান কতটা।

ইমাম ওয়াক্ত মোতাবেক স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করলে

এখন যারা এই বই পড়ার পর প্রথম ওয়াক্তে যুহরের স্বলাত আদায় করতে চাইবেন তারাতো সমস্যায় পড়বেন, কেননা সমাজে ১২টা ৪৫মিনিট বা ১টায়, হানাফী মাসজিদে ১টা ৩০মিনিটে যুহর স্বলাতের জামাত করার অভ্যাস আছে। এমন পরিস্থিতিতে হক্ব পন্থী ভাইয়েরা কি করবেন যারা আউওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করতে চান।
তাদের প্রথম কর্তব্য হল গোত্র নেতাদের বোঝানো, যারা সমাজে নেতৃত্ব দেয় তারা সোজা হলেই কাজ হয়ে যাবে। তাদের যথেষ্ট বোঝানোর পরও তারা যদি মানতে রাজি না হয় তাহলে সেক্ষেত্রে বিনা আযানেই আউওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায় করে নিবে। যদিও স্বলাত আদায় কারী একজনই হয়। তাছাড়া সময় হলেই স্বলাত আদায় করে নিতে হবে। দেরী করে স্বলাত আদায় করলে বড় জামাত হবে এই আশায় আউওয়াল ওয়াক্ত পার করা অনুচিত। কেননা রসূলুল্লাহ ﷺ এর হাদীস ,

প্রথম হাদীস:-

باب كَرَاهِيَةِ تَأْخِيرِ الصَّلاَةِ عَنْ وَقْتِهَا الْمُخْتَارِ وَمَا يَفْعَلُهُ الْمَأْمُومُ إِذَا أَخَّرَهَا الإِمَامُ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، أَخْبَرَنَا جَعْفَرُ بْنُ سُلَيْمَانَ، عَنْ أَبِي عِمْرَانَ الْجَوْنِيِّ، عَنْ عَبْدِ اللَّهِ بْنِ الصَّامِتِ، عَنْ أَبِي ذَرٍّ، قَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏ “‏ يَا أَبَا ذَرٍّ إِنَّهُ سَيَكُونُ بَعْدِي أُمَرَاءُ يُمِيتُونَ الصَّلاَةَ فَصَلِّ الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا فَإِنْ صَلَّيْتَ لِوَقْتِهَا كَانَتْ لَكَ نَافِلَةً وَإِلاَّ كُنْتَ قَدْ أَحْرَزْتَ صَلاَتَكَ ‏”‏ ‏.‏

আবূ যার (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে জিজ্ঞাসা করেনঃ হে আবূ যার! যখন শাসকগণ স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করবে-তখন তুমি কি করবে? জবাবে আমি বলি, ইয়া রসূলুল্লাহ্! এ ব্যাপারে আমার জন্য আপনার নির্দেশ কি? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী স্বলাত আদায় করবে। অতঃপর যদি তুমি ঐ ওয়াক্তের স্বলাত তাদেরকে জামাআতে আদায় করতে দেখ, তবে তুমিও তাদের সাথে জামাআতে শামিল হবে এবং তা তোমার জন্য নফল হবে- (স্বহীহ মুসলিম, ‘মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমূহ, অধ্যায় নং-৫, ‘নির্ধারিত সময় থেকে বিলম্বে স্বলাত আদায় মাকরূহ আর ইমাম বিলম্ব করলে মুক্তাদী কি করবে’ অনুচ্ছেদ নং-৪১, হাদীস নং- ১৩৬৫+১৩৬৫+৬৪৮ স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত-২, ইমাম ওয়াক্ত মোতাবেক স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করলে, অনুচ্ছেদ -১০ হাদীস নং-৪৩১)

দ্বিতীয় হাদীস:-

باب إِذَا أَخَّرَ الإِمَامُ الصَّلاَةَ عَنِ الْوَقْتِ حَدَّثَنَا عَبْدُ الرَّحْمَنِ بْنُ إِبْرَاهِيمَ، دُحَيْمٌ الدِّمَشْقِيُّ حَدَّثَنَا الْوَلِيدُ، حَدَّثَنَا الأَوْزَاعِيُّ، حَدَّثَنِي حَسَّانُ، – يَعْنِي ابْنَ عَطِيَّةَ – عَنْ عَبْدِ الرَّحْمَنِ بْنِ سَابِطٍ، عَنْ عَمْرِو بْنِ مَيْمُونٍ الأَوْدِيِّ، قَالَ قَدِمَ عَلَيْنَا مُعَاذُ بْنُ جَبَلٍ الْيَمَنَ رَسُولُ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم إِلَيْنَا – قَالَ – فَسَمِعْتُ تَكْبِيرَهُ مَعَ الْفَجْرِ رَجُلٌ أَجَشُّ الصَّوْتِ – قَالَ – فَأُلْقِيَتْ عَلَيْهِ مَحَبَّتِي فَمَا فَارَقْتُهُ حَتَّى دَفَنْتُهُ بِالشَّامِ مَيْتًا ثُمَّ نَظَرْتُ إِلَى أَفْقَهِ النَّاسِ بَعْدَهُ فَأَتَيْتُ ابْنَ مَسْعُودٍ فَلَزِمْتُهُ حَتَّى مَاتَ فَقَالَ قَالَ لِي رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ كَيْفَ بِكُمْ إِذَا أَتَتْ عَلَيْكُمْ أُمَرَاءُ يُصَلُّونَ الصَّلاَةَ لِغَيْرِ مِيقَاتِهَا ‏”‏ ‏.‏ قُلْتُ فَمَا تَأْمُرُنِي إِنْ أَدْرَكَنِي ذَلِكَ يَا رَسُولَ اللَّهِ قَالَ ‏”‏ صَلِّ الصَّلاَةَ لِمِيقَاتِهَا وَاجْعَلْ صَلاَتَكَ مَعَهُمْ سُبْحَةً ‏”‏ ‏.‏

(আব্দুল্লাহ ইবনু মাসউদ (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) বলেন) রসূলুল্লাহ্ ﷺ আমাকে বলেন, যখন শাসকবর্গ বিলম্বে স্বলাত আদায় করবে তখন তুমি কি করবে? আমি বলি, ইয়া রসূল্লাল্লাহ্ এমতাবস্হায় আপনি আমাকে কি করার নির্দেশ দেন? তিনি বলেনঃ তুমি নির্ধারিত সময়ে একাকী স্বলাত আদায় করবে। অতঃপর তাদের সাথে জামাআতে আদায়কৃত স্বলাত পুনরায় নফল হিসাবে আদায় করবে” (স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত-২, ইমাম ওয়াক্ত মোতাবেক স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করলে, অনুচ্ছেদ -১০ হাদীস নং-৪৩২)

তৃতীয় হাদীস:-

باب إِذَا أَخَّرَ الإِمَامُ الصَّلاَةَ عَنِ الْوَقْتِ حَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ قُدَامَةَ بْنِ أَعْيَنَ، حَدَّثَنَا جَرِيرٌ، عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى، عَنِ ابْنِ أُخْتِ، عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، ح وَحَدَّثَنَا مُحَمَّدُ بْنُ سُلَيْمَانَ الأَنْبَارِيُّ، حَدَّثَنَا وَكِيعٌ، عَنْ سُفْيَانَ، – الْمَعْنَى – عَنْ مَنْصُورٍ، عَنْ هِلاَلِ بْنِ يِسَافٍ، عَنْ أَبِي الْمُثَنَّى الْحِمْصِيِّ، عَنْ أَبِي أُبَىِّ ابْنِ امْرَأَةِ، عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ، قَالَ قَالَ رَسُولُ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم ‏”‏ إِنَّهَا سَتَكُونُ عَلَيْكُمْ بَعْدِي أُمَرَاءُ تَشْغَلُهُمْ أَشْيَاءُ عَنِ الصَّلاَةِ لِوَقْتِهَا حَتَّى يَذْهَبَ وَقْتُهَا فَصَلُّوا الصَّلاَةَ لِوَقْتِهَا ‏”‏ ‏.‏ فَقَالَ رَجُلٌ يَا رَسُولَ اللَّهِ أُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ ‏”‏ ‏.‏ وَقَالَ سُفْيَانُ إِنْ أَدْرَكْتُهَا مَعَهُمْ أَأُصَلِّي مَعَهُمْ قَالَ ‏”‏ نَعَمْ إِنْ شِئْتَ ‏”‏ ‏.‏

উবাদা ইবনুস-সামিত (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, রসূলুল্লাহ্ ﷺ বলেছেনঃ আমার ইন্তেকালের পর এমন এক সময় আসবে যখন শাসকগণ নির্ধারিত (মুস্তাহাব) সময়ে স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করবে এমনকি মুস্তাহাব সময় শেষ হয়ে যাবে। কাজেই এসময় তুমি একাকী হলেও নির্ধারিত সময়ে স্বলাত আদায় করে নিবে। তখন এক ব্যক্তি বলেন, ইয়া রসূলুল্লাহ্! আমি কি পরে তাদের সাথে আবার স্বলাত আদায় করব? তিনি বলেনঃ হ্যাঁ করতে পার যদি তুমি ইচ্ছা কর” (স্বহীহ আবুদাউদ, কিতাবুস স্বলাত-২, ইমাম ওয়াক্ত মোতাবেক স্বলাত আদায়ে বিলম্ব করলে, অনুচ্ছেদ -১০ হাদীস নং-৪৩৩)
আমাদের বিশ্বাস উক্ত স্পষ্ট হাদীস জানার পর কোন ইমাম, আলেম, মুরব্বী ও সমাজ নেতাদের পক্ষে সমাজ জামাত কিম্বা বেশী বেশী ফযীলতের দোহাই দিয়ে স্বলাতের সময়কে পিছিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। তারপরও অধিকাংশ মুসলিমদের আক্বীদা হল বড় জামাতে স্বলাত দেরীতে পড়লেও ফযীলত বেশী হয়। উক্ত আক্বীদার লোকেরা কী ফরয স্বলাতকে তাদের অধীন করে ফেলেনি? আর একারণেই রসূলুল্লাহ ﷺ আবুযার (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) কে নির্দেশ দিয়ে বললেন, হে আবুযার। তুমি যথা সময়ে স্বলাত আদায় করে নিবে।
এখানে আরেকটি বিষয় হচ্ছে, নির্ধারিত সময়ে স্বলাত আদায় করার স্বহীহ হাদীসটি ইমাম মুসলিম (রহিমাহুল্লাহ) স্বহীহ মুসলিমে একবার নয়, দুইবার নয়, সাতবার বর্ণনা করেছেন বিভিন্ন সনদে অকাট্য প্রমাণ করার জন্য। এক্ষণে দেরী করে স্বলাত আদায় কারীগণ বড় জামাতের ঢের ফযীলতের যতই হাদীস বর্ণনা করুক, আর জামাত ত্যাগ করলে তাদের ঘর বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার হাদীস পাঠ করুক, মূলত দেরীতে স্বলাত আদায় কারীদের জামাত ত্যাগ করে আউওয়াল ওয়াক্তে একা স্বলাত আদায় করাই উত্তম আমল হবে। তবে যেখানে সঠিক সময়ে স্বলাতের জামাত অনুষ্ঠিত হয় সে জামাত ত্যাগ করে কখনই একা স্বলাত আদায় করা যাবেনা। পরিশেষে বলি, যারা সঠিক সময় স্বলাত আদায় করেন, একমাত্র তাঁরাই স্বলাতের অধীনস্থ, আর যারা স্বলাতকে নিজের মনমত অধীন করে নিয়েছে তারা ক্ষতিগ্রস্থ। আল্লাহ আমাদের সকলকে পবিত্র ক্বুর’আন ও স্বহীহ হাদীস অনুযায়ী আউওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ের তওফিক দান করুন
আমী-ন

একটি সংশয় ও তার জওয়াব

কিছু লোক মনে করে যুহরের স্বলাত সূর্য্যের প্রখর তাপ কমলে তবেই রসূলুল্লাহ ﷺ আদায় করতে বলেছেন, সুতরাং কিভাবে ১২টায় পৌনে ১২টায় যুহরের স্বলাত আদায় সম্ভব? এই সংশয়ের জবাব দেওয়ার পূর্বে আমরা মূল হাদীস তুলে ধরব যেখান থেকে মানুষের সংশয় সৃষ্টি হয়েছে।

হাদীস:-

بَاب الْإِبْرَادُ بِالظُّهْرِ فِي السَّفَرِ آدَمُ بْنُ أَبِي إِيَاسٍ قَالَ حَدَّثَنَا شُعْبَةُ قَالَ حَدَّثَنَا مُهَاجِرٌ أَبُو الْحَسَنِ مَوْلَى لِبَنِي تَيْمِ اللهِ قَالَ سَمِعْتُ زَيْدَ بْنَ وَهْبٍ عَنْ أَبِي ذَرٍّ الْغِفَارِيِّ قَالَ كُنَّا مَعَ النَّبِيِّ صلى الله عليه وسلم فِي سَفَرٍ فَأَرَادَ الْمُؤَذِّنُ أَنْ يُؤَذِّنَ لِلظُّهْرِ فَقَالَ النَّبِيُّ أَبْرِدْ ثُمَّ أَرَادَ أَنْ يُؤَذِّنَ فَقَالَ لَهُ أَبْرِدْ حَتَّى رَأَيْنَا فَيْءَ التُّلُولِ فَقَالَ النَّبِيُّ إِنَّ شِدَّةَ الْحَرِّ مِنْ فَيْحِ جَهَنَّمَ فَإِذَا اشْتَدَّ الْحَرُّ فَأَبْرِدُوا بِالصَّلاَةِ وَقَالَ ابْنُ عَبَّاسٍ تَتَفَيَّأُ تَتَمَيَّلُ.

আবূ যার (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন, এক সফরে আমরা আল্লাহর রসূল ﷺ এর সঙ্গে ছিলাম। এক সময় মুয়াযযিন যুহরের আযান দিতে চেয়েছিল। তখন নাবী ﷺ বললেনঃ গরম কমতে দাও। কিছুক্ষণ পর আবার মুয়াযযিন আযান দিতে চাইলে নাবী ﷺ (পুনরায়) বললেনঃ গরম কমতে দাও। এভাবে তিনি (স্বলাত আদায়ে) এতো বিলম্ব করলেন যে, আমরা টিলাগুলো ছায়া দেখতে পেলাম। অতঃপর নাবী ﷺ বললেনঃ গরমের প্রচন্ডতা জাহান্নামের উত্তাপ হতে। কাজেই গরম প্রচন্ড হলে উত্তাপ কমার পর স্বলাত আদায় করো। (স্বহীহুল বুখারী, স্বলাতের সময় সমুহ, অধ্যায় নং-৯, সফর কালের গরম কমে গেলে যুহরের স্বলাত আদায়, অনুচ্ছেদ নং-১০, হাদীস নং- স্বহীহ মুসলিম, মাসজিদ ও স্বলাতের স্থান সমুহ অধ্যায় নং-৫, তীব্র গ্রীষ্মের সময় তাপ ঠান্ডা হয়ে আসলে যুহর আদায় করা মুস্তাহাব, অনুচ্ছেদ নং-৩২, হাদীস নং-১২৯৬+৬১৫)

প্রথম জবাব:-
আরবের মরু এলাকায় উত্তপ্ত বালু ও মরু ঝড়ের কারণে সেখানে প্রচন্ড গরম দেখা দিত ! কিন্তু আমাদের দেশের আবহাওয়া নাতিশীতোষ্ণ, তুলনামূলক ভাবে ঠান্ডা ! তাই এখানে সব সময় আউওয়াল ওয়াক্তে স্বলাত আদায়ে কোন প্রতিবন্ধকতা নেই। কিন্তু অতি দুঃখের কথা কি অতি গরম কি ঠান্ডা আমাদের দেশের বেশীর ভাগ মাসজিদে আউওয়াল ওয়াক্ত বাদ দিয়ে সবসময় ওয়াক্ত হয়ে যাবার অনেক পরে স্বলাত আদায় করে আউওয়াল ওয়াক্তের নেকী থেকে বঞ্চিত হন (স্বহীহুল বুখারী-৫৩৯ নং হাদীসের টিকা, প্রকাশনায় তওহীদ পাবলিকেশন্স বাংলাদেশ, যেটার বঙ্গানুবাদ সম্পাদনা করেছেন ১৮জন বিশিষ্ট আলিম)

দ্বিতীয় জবাব:-
তর্কের খাতিরে যদি ধরে নেওয়াই হয় যে, আমাদের দেশেও উক্ত হাদীসের উপর আমল করতে হবে, তাহলে ধূধূ খরার মৌসুমে প্রযোজ্য, সারা বছর নয়। কিন্তু দুঃখ জনক হলেও সত্য আমাদের দেশে ১২মাসই ১টা পৌনে ১টা হানাফী মাসজিদে ১টা ৩০মিনিটে স্বলাত শুরু হয়…যা উক্ত হাদীসের খেলাফ।

তৃতীয় জবাব:-
আমাদের ঝাড়খন্ড, বিহার, বাংলা, এবং বাংলদেশে যেমন রৌদ্র, এতে যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তেই আদায় করতে হবে, দেরী করে আদায় করার কোন সুযোগ নাই। কেননা,

হাদীস:-

باب اسْتِحْبَابِ تَقْدِيمِ الظُّهْرِ فِي أَوَّلِ الْوَقْتِ فِي غَيْرِ شِدَّةِ الْحَرِّ ‏‏ حَدَّثَنَا يَحْيَى بْنُ يَحْيَى، حَدَّثَنَا بِشْرُ بْنُ الْمُفَضَّلِ، عَنْ غَالِبٍ الْقَطَّانِ، عَنْ بَكْرِ بْنِ عَبْدِ اللَّهِ، عَنْ أَنَسِ بْنِ مَالِكٍ، قَالَ كُنَّا نُصَلِّي مَعَ رَسُولِ اللَّهِ صلى الله عليه وسلم فِي شِدَّةِ الْحَرِّ فَإِذَا لَمْ يَسْتَطِعْ أَحَدُنَا أَنْ يُمَكِّنَ جَبْهَتَهُ مِنَ الأَرْضِ بَسَطَ ثَوْبَهُ فَسَجَدَ عَلَيْهِ ‏.‏

আনাস ইবনু মালিক (রযিয়াল্লাহু তা’য়ালা আনহু) থেকে বর্ণিত। তিনি বলেন, আমরা রসূলুল্লাহ ﷺ এর সঙ্গে প্রচণ্ড রোদে স্বলাত আদায় করতাম। আমাদের কেউ মাটিতে কপাল রাখতে না পারলে সে তার কাপড় বিছিয়ে তার উপর সিজদা দিত। (স্বহীহ মুসলিম, মাসজীদ ও স্বলাতের স্থান সমুহ অধ্যায় নং-৫, প্রচন্ড রৌদ্র না হলে যুহরের স্বলাত আউওয়াল ওয়াক্তে আদায় করা মুস্তাহাব, অনুচ্ছেদ নং-৩৩, হাদীস নং-১৩০৮+৬২০)
সমাপ্ত

সালাতের ফরজ, ওয়াজিব ও সুন্নাতসমূহ

সালাতের বাইরের ৭টি ফরজ।

১. শরীর পাক 

২. কাপড় পাক 
৩. নামাযের স্থান পাক 
৪. সতর আবৃত করা 
৫. কেবলামুখী হয়ে দাঁড়ানো 
৬. নিয়ত করা এবং 
৭. ওয়াক্ত মত নামায পড়া।

এর কোনো একটি ফরয ইচ্ছায় বাদ দিলে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

>> সালাতের ভেতরের ১০টি ফরজ।
​বিশুদ্ধ দলিল প্রমাণের ভিত্তিতে বিজ্ঞ ফকীহগণের মতে, সালাতের ভেতরের ১০টি ফরজ বা রুকন।

১. কেয়াম বা দাড়ানো।

২. তাকবীরে তাহরীমা বলে নামায শুরু করা।
৩. সূরা ফাতিহা পড়া।
৪. রুকু করা।
৫. সেজদা করা।
৬. দুই সিজদার মধ্যবর্তী বৈঠক।
৭. শেষ বৈঠক ও তাশাহুদ(আত্তাহিয়াতু) পড়া।
৮. ধীরস্থিরভাবে(রুকন গুলো) আদায় করা।
৯. ধারাবাহিকতা(রুকন আদায়ে) রক্ষা করা।

১০. সালাম ফিরানো।

এর কোনো একটি ফরয ইচ্ছায় বা ভুলে বাদ পড়লে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।

>> সালাতের ওয়াজিবসমূহ ৭টি।
১. সকল তাকবীর।
২. সূরা মিলানো।
৩. সামিয়াল্লাহু লিমান হামীদা (ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী তাসবীহটি পড়বে)।
৪. রাব্বানা ওয়া লাকাল হামদ বলা (রুকু থেকে মাথা উঠানোর পর ইমাম ও একাকী নামায আদায়কারী তাসবীহটি পড়বে)।
৫. সালাতের প্রথম বৈঠক।
৬. প্রথম বৈঠকে তাশাহুদ পড়া।
৭. শেষ বৈঠকে দরুদ পড়া (এক দল ফিকহবিদের মতে, এটি ফরজ)।

এর কোনো একটি ফরয ইচ্ছায় বাদ পড়লে সালাত বাতিল হয়ে যাবে।ভুলে বাদ পড়লে সাহু সেজদা দিতে হবে।
[[উপরে উল্লেখিত ফরজ, ওয়াজিব এর দলিল পাওয়া যাবে: পবিত্র কুরআন, বুখারী, আবূ দাউদ, মুসলিম, মুসনাদে আহমদ, নাসাঈ।]]
[[ লেখা সংগ্রহ বই: ‘
যেভাবে নামায পড়তেন রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম’ পৃষ্ঠা ২৯-৩০ থেকে ]]

>> সালাতের সুন্নাতসমূহ।
সালাতের সুন্নাত অনেক সংখ্যক রয়েছে তন্মধ্যে নিম্নে ১০ টি দেওয়া হলো।

১. দুই হাত কাঁধ বা কান বরাবর উঠানো।(বুখারী)।

২. বাম হাতের উপর ডান হাত রেখে বুকের উপর রাখা।(আবূ দাউদ, ইবনে খুযাইমা)। নাভীর নিচের চেয়ে বুকের উপর হাত বাধার হাদীস বেশি সহিহ।
৩. রাফউল ইয়াদাঈন করা অর্থাৎ রুকুতে যাওয়া এবং রুকু থেকে মাথা উঠানো এবং চার রাকায়াত বিশিষ্ট নামাযে প্রথম তাশাহুদ থেকে উঠার সময় দু’হাত কাধ বা কান বরাবর উঠানো। ইমাম ইবনুল কাইয়িম (রহ:) বলেছেন রাসূল (সা:) আজীবন রাফউল ইয়াদাঈন করেছেন।
(যাদুল মা’আদ)।

৪. সিজদার জায়গায় দৃষ্টি রাখা।(বায়হাকী)।
৫.  ছানা পড়া।(বুখারী)।
৬. “আউযু বিল্লাহ পূর্ণ পড়া।(আবূ দাউদ)।
৭. “বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম”পড়া।(মুসনাদে আহমদ)।
৮. সুরা ফাতেহার শেষে আমীন বলা।(বুখারী)।
৯. পিঠকে সমতল ভাবে বিছিয়ে দেওয়া।(আবূ দাউদ)।
১০. দুই সিজদার মাঝে মাগফিরাত চাওয়া অর্থাৎ ‘রাব্বিগ ফিরলী’ পড়া।(আবূ দাউদ)।

১১. তাশাহুদে চারটি জিনিস থেকে আশ্রয় চাওয়া।(বুখারী)। কিছু আলেম এটাকে ওয়াজিব বলেছেন।

​সুন্নাত ছুটে গেলে সালাত বাতিল হয় না, তবে সাওয়াব কমে যায়।


সালাতের রুকন-ওয়াজিব -সুন্নাত সমুহ এবং সালাত ভঙ্গের কারন

সালাতের রুকন সমূহ ( أركان الصلاة) :

‘রুকন’ অর্থ স্তম্ভ। এগুলি অপরিহার্য বিষয়। যা ইচ্ছাকৃত বা ভুলক্রমে পরিত্যাগ করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায়। যা ৭টি। যেমন-

(১) ক্বিয়াম বা দাঁড়ানো : আল্লাহ বলেন, وَقُوْمُوْا ِللهِ قَانِتِيْن َ ‘আর তোমরা আল্লাহর জন্য একনিষ্ঠচিত্তে দাঁড়িয়ে যাও’ (বাক্বারাহ ২/২৩৮)

(২) তাকবীরে তাহরীমা : অর্থাৎ ‘আল্লাহু আকবর’ বলে দুই হাত কাঁধ অথবা কান পর্যন্ত উঠানো। আল্লাহ বলেন, وَلِرَبَّكَ فَكَبِّرْ ‘তোমার প্রভুর জন্য তাকবীর দাও’ (মুদ্দাছছির ৭৪/৩)। অর্থাৎ তাঁর বড়ত্ব ঘোষণা কর। রাসূলূল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, تَحْرِيْمُهَا التَّكْبِيْرُ وَتَحْلِيْلُهَا التَّسْلِيْمُ- ‘ছালাতের জন্য সবকিছু হারাম হয় তাকবীরের মাধ্যমে এবং সবকিছু হালাল হয় সালাম ফিরানোর মাধ্যমে’।[113]

(৩) সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করা : রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) এরশাদ করেন, لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ- (লা ছালা-তা লেমান লাম ইয়াক্বরা’ বেফা-তিহাতিল কিতা-বে) ‘ঐ ব্যক্তির ছালাত সিদ্ধ নয়, যে ব্যক্তি সূরায়ে ফাতিহা পাঠ করে না’।[114]

( ৪ ও ৫) রুকূ ও সিজদা করা : আল্লাহ বলেন, يَا أَيُّهَا الَّذِيْنَ آمَنُوا ارْكَعُوْا وَاسْجُدُوْا… ‘হে মুমিনগণ! তোমরা রুকূ কর ও সিজদা কর…’(হজ্জ ২২/৭৭)।

(৬) তা‘দীলে আরকান বা ধীর-স্থির ভাবে ছালাত আদায় করা :

عَنْ أَبِيْ هُرَيْرَةَ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ دَخَلَ الْمَسْجِدَ فَدَخَلَ رَجُلٌ فَصَلَّى فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَرَدَّ وَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَرَجَعَ يُصَلِّي كَمَا صَلَّى ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ صَلَّى اللهُ عَلَيْهِ وَسَلَّمَ فَقَالَ ارْجِعْ فَصَلِّ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ ثَلاَثًا فَقَالَ وَالَّذِيْ بَعَثَكَ بِالْحَقِّ مَا أُحْسِنُ غَيْرَهُ فَعَلِّمْنِيْ ….

‘আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে প্রবেশ করে ছালাত আদায় শেষে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে সালাম দিলে তিনি তাকে সালামের জওয়াব দিয়ে বলেন, তুমি ফিরে যাও এবং ছালাত আদায় কর। কেননা তুমি ছালাত আদায় করনি। এইভাবে লোকটি তিনবার ছালাত আদায় করল ও রাসূল (ছাঃ) তাকে তিনবার ফিরিয়ে দিলেন। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! যিনি আপনাকে সত্য সহকারে প্রেরণ করেছেন, তাঁর কসম করে বলছি, এর চাইতে সুন্দরভাবে আমি ছালাত আদায় করতে জানিনা। অতএব দয়া করে আপনি আমাকে ছালাত শিখিয়ে দিন! …….. (অতঃপর তিনি তাকে ধীরে-সুস্থে ছালাত আদায় করা শিক্ষা দিলেন)’।[115] হাদীছটি حديث مسيئ الصلاة বা ‘ছালাতে ভুলকারীর হাদীছ’ হিসাবে প্রসিদ্ধ।

(৭) ক্বা‘দায়ে আখীরাহ বা শেষ বৈঠক :

হযরত উম্মে সালামাহ (রাঃ) বলেন, রাসূল (ছাঃ)-এর যামানায় মহিলাগণ জামা‘আতে ফরয ছালাত শেষে সালাম ফিরানোর পরে উঠে দাঁড়াতেন এবং রাসূল (ছাঃ) ও পুরুষ মুছল্লীগণ কিছু সময় বসে থাকতেন। অতঃপর যখন রাসূল (ছাঃ) দাঁড়াতেন তখন তাঁরাও দাঁড়াতেন’।[116] এর দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, শেষ বৈঠকে বসা এবং সালাম ফিরানোটাই ছিল রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবায়ে কেরামের নিয়মিত সুন্নাত।

প্রকাশ থাকে যে, কঠিন অসুখ বা অন্য কোন বাস্তব কারণে অপারগ অবস্থায় উপরোক্ত শর্তাবলী ও রুকন সমূহ ঠিকমত আদায় করা সম্ভব না হ’লে বসে বা শুয়ে ইশারায় ছালাত আদায় করবে।[117] কিন্তু জ্ঞান থাকা পর্যন্ত কোন অবস্থায় ছালাত মাফ নেই।

ছালাতের ওয়াজিব সমূহ ( واجبات الصلاة) :

রুকন-এর পরেই ওয়াজিব-এর স্থান, যা আবশ্যিক। যা ইচ্ছাকৃতভাবে তরক করলে ছালাত বাতিল হয়ে যায় এবং ভুলক্রমে তরক করলে ‘সিজদায়ে সহো’ দিতে হয়। যা ৮টি। [118] যেমন-

১. ‘তাকবীরে তাহরীমা’ ব্যতীত অন্য সকল তাকবীর।[119]

২. রুকূতে তাসবীহ পড়া। কমপক্ষে ‘সুবহা-না রবিবয়াল ‘আযীম’ বলা।[120]

৩. ক্বাওমার সময় ‘সামি‘আল্লা-হু লেমান হামেদাহ’ বলা।[121]

৪. ক্বওমার দো‘আ কমপক্ষে ‘রববানা লাকাল হাম্দ’ অথবা ‘আল্লা-হুম্মা রববানা লাকাল হাম্দ’ বলা। [122]

৫. সিজদায় গিয়ে তাসবীহ পড়া। কমপক্ষে ‘সুবহা-না রবিবয়াল আ‘লা’ বলা।[123]

৬. দুই সিজদার মাঝখানে স্থির হয়ে বসা ও দো‘আ পাঠ করা। যেমন কমপক্ষে ‘রবিবগফিরলী’ ২ বার বলা।[124]

৭. প্রথম বৈঠকে বসা ও ‘তাশাহহুদ’ পাঠ করা।[125]

৮. সালামের মাধ্যমে ছালাত শেষ করা।[126]

ছালাতের সুন্নাত সমূহ ( سنن الصلاة)

ফরয ও ওয়াজিব ব্যতীত ছালাতের বাকী সব আমলই সুন্নাত। যেমন (১) জুম‘আর ফরয ছালাত ব্যতীত দিবসের সকল ছালাত নীরবে ও রাত্রির ফরয ছালাত সমূহ সরবে পড়া। (২) প্রথম রাক‘আতে ক্বিরাআতের পূর্বে আ‘ঊযুবিল্লাহ… চুপে চুপে পাঠ করা। (৩) ছালাতে পঠিতব্য সকল দো‘আ (৪) বুকে হাত বাঁধা (৫) রাফ‘উল ইয়াদায়েন করা (৬) ‘আমীন’ বলা (৭) সিজদায় যাওয়ার সময় মাটিতে আগে হাত রাখা (৮) ‘জালসায়ে ইস্তেরা-হাত’ করা (৯) মাটিতে দু’হাতে ভর দিয়ে উঠে দাঁড়ানো (১০) ছালাতে দাঁড়িয়ে সিজদার স্থানে নযর রাখা (১১) তাশাহহুদের সময় ডান হাত ৫৩-এর ন্যায় মুষ্টিবদ্ধ করা ও শাহাদাত আঙ্গুল নাড়াতে থাকা। এছাড়া ফরয-ওয়াজিবের বাইরে সকল বৈধ কর্মসমূহ।

ছালাত বিনষ্টের কারণ সমূহ ( مفسدات الصلاة)

১. ছালাতরত অবস্থায় ইচ্ছাকৃতভাবে কিছু খাওয়া বা পান করা।

২. ছালাতের স্বার্থ ব্যতিরেকে অন্য কারণে ইচ্ছাকৃতভাবে কথা বলা।

৩. ইচ্ছাকৃতভাবে বাহুল্য কাজ বা ‘আমলে কাছীর’ করা। যা দেখলে ধারণা হয় যে, সে ছালাতের মধ্যে নয়।

৪. ইচ্ছাকৃত বা বিনা কারণে ছালাতের কোন রুকন বা শর্ত পরিত্যাগ করা।

৫. ছালাতের মধ্যে অধিক হাস্য করা।[127]

**********************

[113] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, ‘যা ওযু ওয়াজিব করে’ অনুচ্ছেদ-১; মুসলিম, মিশকাত হা/৭৯১, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০।

[114] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৮২২, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাতে ক্বিরাআত’ অনুচ্ছেদ-১২, রাবী ‘উবাদাহ বিন ছামিত (রাঃ)। দ্রষ্টব্য : কুতুবে সিত্তাহ সহ অন্যান্য হাদীছ গ্রন্থ।

[115] . মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৭৯০, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০।

[116] . বুখারী, মিশকাত হা/৯৪৮ ‘তাশাহহুদে দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৭।

[117] . বুখারী; মিশকাত হা/১২৪৮ ‘কাজে মধ্যপন্থা অবলম্বন’ অনুচ্ছেদ-৩৪; ত্বাবারাণী কাবীর, ছহীহাহ হা/৩২৩।

[118] . মুহাম্মাদ বিন আব্দুল ওয়াহ্হাব, ‘ছালাতের আরকান ও ওয়াজিবাত’ গৃহীত: মাজমূ‘আ রাসা-ইল ফিছ ছালাত (রিয়াদ: দারুল ইফতা, ১৪০৫ হিঃ) পৃঃ ৭৮।

[119] . বুখারী, মুসলিম ও অন্যান্য, মিশকাত হা/৭৯৯, ৮০১, ‘ছালাতের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-১০; ফিক্বহুস্ সুন্নাহ ১/১২০।

[120] . নাসাঈ, আবুদাঊদ তিরমিযী, মিশকাত হা/৮৮১ ‘রুকূ’ অনুচ্ছেদ-১৩।

[121] . বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/ ৮৭০, ৭৪, ৭৫, ৭৭।

[122] . বুখারী হা/৭৩২-৩৫, ৭৩৮, ‘আযান’ অধ্যায়, ৮২, ৮৩ ও ৮৫ অনুচ্ছেদ; মুসলিম হা/৮৬৮, ‘ছালাত’ অধ্যায়; মুসলিম হা/৯০৪, ৯১৩ ‘ছালাত’ অধ্যায়।

[123] . নাসাঈ, আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/ ৮৮১।

[124] . ইবনু মাজাহ হা/৮৯৭; আবুদাঊদ হা/৮৫০, তিরমিযী হা/২৮৪; নাসাঈ হা/১১৪৫, মিশকাত হা/৯০০, ৯০১ ‘সিজদা ও উহার ফযীলত’ অনুচ্ছেদ-১৪; নায়ল ৩/১২৯ পৃঃ; মজমু‘আ রাসা-ইল ৭৮ পৃঃ।

[125] . আহমাদ, নাসাঈ, নায়ল ৩/১৪০; মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মিশকাত হা/৯০৯, ‘তাশাহহুদ’ অনুচ্ছেদ-১৫।

[126] . আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৩১২ ‘পবিত্রতা’ অধ্যায়-৩, ‘যা ওযূ ওয়াজিব করে’ অনুচ্ছেদ-১; আবুদাঊদ, নাসাঈ, তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/৯৫০-৫১, ‘তাশাহহুদের দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-১৭ ; ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/১০৬ পৃঃ।

[127] . ফিক্বহুস সুন্নাহ ১/২০৫ পৃঃ।



ফরজ নামাজে সালাম ফিরিয়ে পঠিতব্য দুয়া ও যিকির


ফরজ নামাজে সালাম ফিরিয়ে পঠিতব্য দুয়া ও যিকির।

​>> ফরজ সালাত শেষে রাসূল(সা:) কখনও জামাআতবদ্ধভাবে দুআ, মুনাজাত করেননি।

>> প্রত্যেক নামাযে সালাম ফেরানোর পর রাসূল(সা:) ইমাম অবস্থায় কিবলার দিক থেকে ঘুরে মুক্তাদিদের দিকে মুখ ফিরিয়ে বসতেন।(বুখারী-৮৪৫)।

>> ফরজ নামাজে সালাম ফিরিয়ে রাসূল(সা:) অনেক দুয়া ও যিকির করেছেন। সংক্ষেপে গুরুত্বপূর্ন ও সহজ কিছু দেওয়া হলো যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন ও ফজিলতপূর্ন।

>>>>>> ১.أَسْتَغْفِرُ اللَّهَ
উচ্চারণ: আস্তাগফিরুল্লাহ(তিন বার)।
অর্থ: আমি আল্লাহর কাছে ক্ষমা চাই।(সহিহ মুসলিম: ১৩৬২)।

>>>>>> ২.اللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَالإِكْرَامِ
উচ্চারণ: আল্লাহুম্মা আনতাস সালাম, ওয়া মিনকাস সালাম, তাবারকতা ইয়াজাল জালালি ওয়াল ইকরাম। (১বার)।
অর্থ: হে আল্লাহ! তুমি শান্তিময় এবং তোমা হতেই শান্তি উৎসারিত হয়।। তুমি বরকতময় হে মহান ও সম্মানের অধিকারী।
(মুসলিম শরিফ: ১৩৬২)।

>>>>> ৩. সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার। এর পর ১ বার
لَا إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لَا شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু। ওয়ালাহুল হামদু। ওয়াহুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। অথবা আল্লাহু আকবার দিয়ে ১০০ পূর্ণ করা যায়।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সবকিছুর ওপর সামর্থ্যবান। 

নবী(সা:) বলেছেন, যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর সুবহানাল্লাহ ৩৩ বার, আলহামদুলিল্লাহ ৩৩ বার, আল্লাহু আকবার ৩৩ বার পাঠ করার পর এই দোয়া (লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু...) ১বার পাঠ করে মোট ১০০ বার পূর্ণ করবে তার সমস্ত গুনাহ(ছগীরা) মাফ হয়ে যাবে; যদিও তা সুমুদ্রের ফেনা পরিমাণ হয়।
(সহিহ মুসলিম: ১৩৮০)।

>>>>> ৪. আয়তুল কুরসী পাঠ:

বাংলা উচ্চারন-আল্লাহু লা (আ)ইলাহা ইল্লা হুয়াল হাইয়্যুল কাইয়্যুম লা তা খুজুহু সিনাত্যু ওয়ালা নাওম। লাহু মা ফিছ ছামা ওয়াতি ওয়ামা ফিল আরদ্।মান জাল্লাজী ইয়াস ফায়ু ইন দাহু(উ) ইল্লা বি ইজনিহি ইয়া লামু মা বাইনা আইদিহিম ওয়ামা খাল ফাহুম ওয়ালা ইউ হিতুনা বিশাই ইম মিন ইল্ মিহি(হি) ইল্লা বিমা সা (আ) ওয়াসিয়া কুরসি ইউ হুস ছামা ওয়াতি ওয়াল আরদ্ ওয়ালা ইয়া উদুহু হিফজুহুমা ওয়াহুয়াল আলিউল আজীম।

অর্থ- আল্লাহ, তিনি ব্যতিত কোন মাবুদ নাই। তিনি চিরঞ্জীব, চিরস্থায়ী, তাঁহাকে তন্দ্রা ও নিদ্রা স্পর্শ করিতে পারে না। আসমান ও জমীনে যাহা কিছু আছে সব  তাঁহারই। এমন কে আছে, যে নাকি তাঁহার অনুমতি ব্যতিত তাঁহার নিকট সুপারিশ করিবে? তাহাদের (লোকদের) সম্মুখে যাহা কিছু আছে এবং তাহাদের পশ্চাতে যাহা কিছু আছে, সবই তিনি জানেন, এবং তাহারা তাঁহার(আল্লাহ তায়ালার) জ্ঞ্যানের কিছুই আয়ত্তে আনিতে পারে না, তবে তিনি যাহা ইচ্ছা করেন। তাঁহার কুরছী আসমানসমুহ ও জমীনের সর্বত্রই ঘিরিয়া রহিয়াছে। আর এই দুইটির রক্ষনাবেক্ষন করা তাঁহার পক্ষে মোটেই কঠিন নয়, এবং তিনি সর্বোচ্চ ও সুমহান।  

ফজীলত- রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ“যে ব্যক্তি প্রত্যেক ফরয সালাতের পর আয়াতুল কুরসী পাঠ করবে তাকে জান্নাতে যাওয়া থেকে মৃত্যু ব্যতীত কোন কিছুই বাঁধা দিতে পারবে না।” (মুসলিম, নাসাঈ )।
শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযু্ক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ’তে না পারে’ (বুখারী)।

>>>>> ৫.ফজর ও মাগরীব নামাযে সালাম ফিরিয়ে ৭ বার “আল্লাহুম্মা আজীরনী মিনান্নার”।
অর্থ- হে আল্লাহ আমাকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দিন।

রাসূল(সা:) বলেছেন, এ দোয়া নিয়মিত পড়লে তাকে জাহান্নাম থেকে মুক্ত লিখে দেওয়া হবে।

রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ফজর ও মাগরিবের নামাজের পর কারো সঙ্গে কথা না বলে এই দোয়াটি [আল্লাহুম্মা আযিরনী মিনান্নার] ৭ বার পাঠ করলে উক্ত দিনে বা রাতে মৃত্যু হলে তার জন্য জাহান্নাম হতে মুক্তি লিখে দেওয়া হয়। (মেশকাতুল মাসাবীহ)।

ইমাম মুসলিম ইবনে হারেস ইবনে মুসলিম তামীমী (রহঃ) বলেন, আমার পিতা ইবনে হারেস (রাঃ) এক যুদ্ধ থেকে ফিরার পর রাসূল (সাঃ) তাকে বললেন, ফযরের নামায শেষে কারো সাথে কথা বলার আগে তুমি ৭ বার এ দোয়া পড় “আল্লাহুম্মা আযিরনী মিনান্নার”। অর্থাৎ আয় আল্লাহ! আমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে রক্ষা করুন। যদি সেদিন তোমার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তাআ’লা তোমাকে জাহান্নামের আগুন থেকে মুক্ত বলে লিখে দিবেন। এমনিভাবে মাগরিবের নামায শেষে কারো সাথে কথা বলার আগে তুমি ৭ বার একই দোয়া পড়ো এবং যদি সে রাত্রে তোমার মৃত্যু হয় তবে আল্লাহ তাআ’লা তোমাকে জাহান্নামের আগুন হতে মুক্ত বলে লিখে দিবেন।(আবু দাউদ)।

>>>>> ৬. ফজর ও মাগরীব বাদ সূরা ইখলাস ৩ বার, সূরা ফালাক ৩ বার, সূরা নাস ৩ বার। অনান্য ফরয সালাতের শেষে এ ৩টি সূরা একবার করে।

>>>>> ৭. لاَ إِلَهَ إِلاَّ اللَّهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ لَهُ الْمُلْكُ وَلَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَىْءٍ قَدِيْرٌ اَللَّهُمَّ لاَ مَانِعَ لِمَا أَعْطَيْتَ وَلاَ مُعْطِىَ لِمَا مَنَعْتَ وَلاَ يَنْفَعُ ذَا الْجَدِّ مِنْكَ الْجَدُّ
উচ্চারণ: লা ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়াহদাহু লা শারিকা লাহু। লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু। ওয়া হুয়া আলা কুল্লি শাইয়িন কাদির। আল্লাহুম্মা লা-মানিয়া লিমা আতাইতা। ওয়া-লা মুতিয়া লিমা মানা’তা ওয়ালা ইয়ানফাউ জাল জাদ্দি মিনকাল জাদ্দু।(১বার)।
অর্থ: আল্লাহ ব্যতীত আর কোনো উপাস্য নেই। তিনি একক। তার কোনো শরিক নেই। সার্বভৌমত্বের মালিক তিনি। সকল প্রশংসা তার। তিনি সব কিছুর ওপর সামর্থ্যবান। আপনি দিলে কেউ বাঁধা দিতে পারে না। আপনি না দিলে কেউ দিতে পারে না, কেউ উপকার করতে পারে না।
(সহিহ বোখারি ও মুসলিম)।

ফরয সালাত শেষে পঠিতব্য দোয়া

সহীহ সুন্নাহ থেকে ফরজ সালাতের পর পঠিতব্য দুয়া ও জিকির সমূহ নিম্নে উপস্থাপন করা হল

(১) - اَللهُ أَكْبَرُ، أَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ، اَسْتَغْفِرُ اللهَ-

উচ্চারণ : আল্লা-হু আকবার (একবার সরবে)। আসতাগফিরুল্লাহ, আসতাগফিরুল্লাহ, আস্তাগফিরুল্লাহ (তিনবার)।

অর্থ : আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। আমি আল্লাহর নিকটে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

-[মুত্তাফাক্ব ‘আলাইহ, মুসলিম, মিশকাত হা/৯৫৯, ৯৬১ ‘ছালাত পরবর্তী যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮।]

(২)- اَللَّهُمَّ أَنْتَ السَّلاَمُ وَمِنْكَ السَّلاَمُ، تَبَارَكْتَ يَا ذَا الْجَلاَلِ وَ الْإِكْرَامِ.

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আন্তাস্ সালা-মু ওয়া মিন্কাস্ সালা-মু, তাবা-রক্তা ইয়া যাল জালা-লি ওয়াল ইকরাম।

অর্থ : ‘হে আল্লাহ! আপনিই শান্তি, আপনার থেকেই আসে শান্তি। বরকতময় আপনি, হে মর্যাদা ও সম্মানের মালিক’। ‘এটুকু পড়েই ইমাম উঠে যেতে পারেন’। 

- [মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬০।]

(৩)- لآ إِلَهَ إِلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَهُوَ عَلَى كُلِّ شَيْءٍ قَدِيْرٌ، لاَحَوْلَ وَلاَ قُوَّةَ إلاَّ بِاللهِ- 

উচ্চারণ: লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহু লা শারীকা লাহু, লাহুল মুলকু ওয়া লাহুল হামদু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লি শাইয়িন ক্বাদীর; লা হাওলা ওয়ালা কুউওয়াতা ইল্লা বিল্লা-হ । 

অর্থ : নেই কোন উপাস্য আল্লাহ ব্যতীত, যিনি একক ও শরীকবিহীন। তাঁরই জন্য সকল রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী। নেই কোন ক্ষমতা, নেই কোন শক্তি, আল্লাহ ব্যতীত’।

- [মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৩, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাতের পর যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮।]

(৪)- رَضِيتُ بِاللَّهِ رَبًّا وَّبِالْإِسْلاَمِ دِيْنًا وَّبِمُحَمَّدٍ نَبِيًّا-

উচ্চারণ: রাযীতু বিললা-হে রববাঁও ওয়া বিল ইসলা-মে দীনাঁও ওয়া বিমুহাম্মাদিন্ নাবিইয়া।

অর্থ: আমি সন্তুষ্ট হয়ে গেলাম আল্লাহর উপরে প্রতিপালক হিসাবে, ইসলামের উপরে দ্বীন হিসাবে এবং মুহাম্মাদের উপরে নবী হিসাবে’। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি এই দো‘আ পাঠ করবে, তার জন্য জান্নাত ওয়াজিব হয়ে যাবে’।
-[আবুদাঊদ হা/১৫২৯, ‘ছালাত’ অধ্যায়-২, ‘ক্ষমা প্রার্থনা’ অনুচ্ছেদ-৩৬১।]

(৫)- اَللَّهُمَّ إِنِّىْ أَعُوْذُبِكَ مِنَ الْجُبْنِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ الْبُخْلِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ أَرْذَلِ الْعُمُرِ وَأَعُوْذُبِكَ مِنْ فِتْنَةِ الدُّنْيَا وَ عَذَابِ الْقَبْرِ-

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আ‘ঊযুবিকা মিনাল জুবনি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিনাল বুখলি ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন আরযালিল ‘উমুরি; ওয়া আ‘ঊযুবিকা মিন্ ফিৎনাতিদ দুন্ইয়া ওয়া ‘আযা-বিল ক্বাবরে।

অর্থঃ ‘হে আল্লাহ! (১) আমি আপনার নিকট আশ্রয় প্রার্থনা করছি ভীরুতা হ’তে (২) আশ্রয় প্রার্থনা করছি কৃপণতা হ’তে (৩) আশ্রয় প্রার্থনা করছি নিকৃষ্টতম বয়স হ’তে এবং (৪) আশ্রয় প্রার্থনা করছি দুনিয়ার ফিৎনা হ’তে ও (৫) কবরের আযাব হ’তে’।
- [বুখারী, মিশকাত হা/৯৬৪।]

(৬)- يَا مُقَلِّبَ الْقُلُوْبِ ثَبِّتْ قَلْبِي عَلَى دِيْنِكَ، اَللَّهُمَّ مُصَرِّفَ الْقُلُوْبِ صَرِّفْ قُلُوْبَنَا عَلَى طَاعَتِكَ-

উচ্চারণ: ইয়া মুক্বাল্লিবাল ক্বুলূবি ছাবিবত ক্বালবী ‘আলা দ্বীনিকা, আল্লা-হুম্মা মুছারিরফাল ক্বুলবি ছাররিফ ক্বুলূবানা ‘আলা ত্বোয়া-‘আতিকা।

অর্থ : হে হৃদয় সমূহের পরিবর্তনকারী! আমার হৃদয়কে তোমার দ্বীনের উপর দৃঢ় রাখো’। ‘হে অন্তর সমূহের রূপান্তরকারী! আমাদের অন্তর সমূহকে তোমার আনুগত্যের দিকে ফিরিয়ে দাও’।

- [তিরমিযী, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১০২ ‘ঈমান’ অধ্যায়-১, ‘তাক্বদীরের প্রতি বিশ্বাস’ অনুচ্ছেদ-৩; মুসলিম, মিশকাত হা/৮৯।]

(৭) اَللَّهُمَّ أَدْخِلْنِىْ الْجَنَّةَ وَ أَجِرْنِىْ مِنَ النَّارِ-

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা আদখিলনিল জান্নাতা ওয়া আজিরনী মিনান্ না-র (৩ বার)।

অর্থ : হে আল্লাহ তুমি আমাকে জান্নাতে প্রবেশ করাও এবং জাহান্নাম থেকে পানাহ দাও! 

- [তিরমিযী, নাসাঈ, মিশকাত হা/২৪৭৮ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘আশ্রয় প্রার্থনা’ অনুচ্ছেদ-৮ ।]

(৮)- اَللَّهُمَّ إِنِّي أَسْأَلُكَ الْهُدَى وَالتُّقَى وَالْعَفَافَ وَالْغِنَى-

উচ্চারণ: আল্লা-হুম্মা ইন্নী আসআলুকাল হুদা ওয়াত তুক্বা ওয়াল ‘আফা-ফা ওয়াল গিণা।

অর্থ : হে আল্লাহ! আমি তোমার নিকটে সুপথের নির্দেশনা, পরহেযগারিতা, পবিত্রতা ও সচ্ছলতা প্রার্থনা করছি।

- [মুসলিম, মিশকাত হা/২৪৮৪ ‘দো‘আ সমূহ’ অধ্যায়-৯, ‘সারগর্ভ দো‘আ’ অনুচ্ছেদ-৯।]

(৯)- سُبْحَانَ اللهِ، اَلْحَمْدُ ِللهِ، اَللهُ أَكْبَرُ، لآ إلهَ إلاَّ اللهُ وَحْدَهُ لاَ شَرِيْكَ لَهُ، لَهُ الْمُلْكُ وَ لَهُ الْحَمْدُ وَ هُوَ عَلَى كُلِّ شَيْئٍ قَدِيْرٌ-

উচ্চারণ: সুবহা-নাল্লা-হ (৩৩ বার)। আলহাম্দুলিল্লা-হ (৩৩ বার)। আল্লাহু-আকবার (৩৩ বার)। লা ইলা-হা ইল্লাল্লা-হু ওয়াহ্দাহূ লা শারীকা লাহূ; লাহুল মুল্কু ওয়া লাহুল হাম্দু ওয়া হুয়া ‘আলা কুল্লে শাইয়িন ক্বাদীর (১ বার)। অথবা আল্লা-হু আকবার (৩৪ বার)।

অর্থ : পবিত্রতাময় আল্লাহ। যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য। আল্লাহ সবার চেয়ে বড়। নেই কোন উপাস্য একক আল্লাহ ব্যতীত; তাঁর কোন শরীক নেই। তাঁরই জন্য সমস্ত রাজত্ব ও তাঁরই জন্য যাবতীয় প্রশংসা। তিনি সকল কিছুর উপরে ক্ষমতাশালী।

- [মুসলিম, মিশকাত হা/৯৬৬, ৯৬৭, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাত পরবর্তী যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮।]

(১০)- اَللهُ لآ إِلهَ إِلاَّ هُوَ الْحَىُّ الْقَيُّوْمُ، لاَ تَأْخُذُهُ سِنَةٌ وَّلاَ نَوْمٌ، لَهُ مَا فِى السَّمَاوَاتِ وَمَا فِى الْأَرْضِ، مَنْ ذَا الَّذِىْ يَشْفَعُ عِنْدَهُ إِلاَّ بِإِذْنِهِ، يَعْلَمُ مَا بَيْنَ أَيْدِيْهِمْ وَمَا خَلْفَهُمْ وَلاَ يُحِيْطُوْنَ بِشَيْئٍ مِّنْ عِلْمِهِ إِلاَّ بِمَا شَآءَ، وَسِعَ كُرْسِيُّهُ السَّمَاوَاتِ وَالْأَرْضَ، وَلاَ يَئُودُهُ حِفْظُهُمَا وَ هُوَ الْعَلِيُّ الْعَظِيْمُ-

উচ্চারণ (আয়াতুল কুরসী) : আল্লা-হু লা ইলা-হা ইল্লা হুওয়াল হাইয়ুল ক্বাইয়ূম। লা তা’খুযুহু সিনাতুঁ ওয়ালা নাঊম। লাহূ মা ফিস্ সামা-ওয়াতে ওয়ামা ফিল আরয। মান যাল্লাযী ইয়াশফা‘উ ‘ইন্দাহূ ইল্লা বিইয্নিহি। ইয়া‘লামু মা বায়না আয়দীহিম ওয়ামা খালফাহুম, ওয়ালা ইউহীতূনা বিশাইয়িম্ মিন ‘ইল্মিহী ইল্লা বিমা শা-আ; ওয়াসে‘আ কুরসিইয়ুহুস্ সামা-ওয়া-তে ওয়াল আরয; ওয়ালা ইয়াউদুহূ হিফযুহুমা ওয়া হুওয়াল ‘আলিইয়ুল ‘আযীম (বাক্বারাহ ২/২৫৫)।

অর্থ : আল্লাহ, যিনি ব্যতীত কোন উপাস্য নেই। যিনি চিরঞ্জীব ও বিশ্বচরাচরের ধারক। কোন তন্দ্রা বা নিদ্রা তাঁকে পাকড়াও করতে পারে না। আসমান ও যমীনে যা কিছু আছে সবকিছু তাঁরই মালিকানাধীন। তাঁর হুকুম ব্যতীত এমন কে আছে যে তাঁর নিকটে সুফারিশ করতে পারে? তাদের সম্মুখে ও পিছনে যা কিছু আছে সবকিছুই তিনি জানেন। তাঁর জ্ঞানসমুদ্র হ’তে তারা কিছুই আয়ত্ত করতে পারে না, কেবল যতুটুকু তিনি দিতে ইচ্ছা করেন। তাঁর কুরসী সমগ্র আসমান ও যমীন পরিবেষ্টন করে আছে। আর সেগুলির তত্ত্বাবধান তাঁকে মোটেই শ্রান্ত করে না। তিনি সর্বোচ্চ ও মহান’।

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, প্রত্যেক ফরয ছালাত শেষে আয়াতুল কুরসী পাঠকারীর জান্নাতে প্রবেশ করার জন্য আর কোন বাধা থাকে না মৃত্যু ব্যতীত’ (নাসাঈ)। শয়নকালে পাঠ করলে সকাল পর্যন্ত তার হেফাযতের জন্য একজন ফেরেশতা পাহারায় নিযু্ক্ত থাকে। যাতে শয়তান তার নিকটবর্তী হ’তে না পারে’ (বুখারী)। 

- [নাসাঈ কুবরা হা/৯৯২৮, সিলসিলা ছহীহাহ হা/৯৭২; মিশকাত হা/৯৭৪, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, অনুচ্ছেদ-১৮; মুসলিম, বুখারী, মিশকাত হা/২১২২-২৩ ‘কুরআনের ফাযায়েল’ অধ্যায়-৮।]

(১১) রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) প্রত্যেক ছালাতের শেষে সূরা ‘ফালাক্ব’ ও ‘নাস’ পড়ার নির্দেশ দিতেন।

- [আহমাদ, আবুদাঊদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৯৬৯, ‘ছালাত’ অধ্যায়-৪, ‘ছালাত পরবর্তী যিকর’ অনুচ্ছেদ-১৮।]

​>> এ বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানার জন্য শুনুুন শেইখ মতিউর রহমান মাদানীর লেকচার।

বিতরের সালাতের বিশুদ্ধ নিয়ম

১ম পদ্ধতি: অনান্য সালাতের মতো প্রথমে ২ রাকাআত পড়ে সালাম ফিরিয়ে নেনে। অতঃপর পৃথকভাবে আরেক রাকাআত পড়ে রুকুর আগে বা পরে দুআ কুনূত পড়ে সিজদা শেষে আবার বসে সালাম ফিরাবেন।(মুসলিম: ১২৫২)।

২য় পদ্ধতি: অনান্য নামাযের মতোই ১ম ও ২য় রাকাআত পড়বে। তৃতীয়
 রাকাআতে কিরাআত পাঠ শেষে রুকুর আগে বা পরে দুআ কুনূত পড়ে সিজদায় চলে যাবে। তবে ২য় রাকাআতের পর তাশাহুদের জন্য না বসে সরাসরি দাড়িয়ে যাবে।শুধু মাত্র তৃতীয় রাকাআতে পর বসে আত্তাহিয়্যাতু, দুরুদ ও দুআ মাছুরা পড়ে সালাম ফিরিয়ে নেবে।


>> আয়েশা সিদ্দিকি (রা) বলেছেন, রাসূল (সা:) তিন রাকাআত বিতর সালাত আদায় করতেন। এর মাঝে তাশাহুদের জন্য বসতেন না। একাধারে তিন রাকাআতি পড়ে শেষ রাকাআতে বসতেন ও তাশাহুদ পড়তেন। এভাবে ওমর (রা)ও বিতর পড়তেন।(হাকেম: ১১৪০)।


৩য় পদ্ধতি: এ পদ্ধতিটি আমাদের দেশে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত। এ পদ্ধতির হাদীসটি দুর্বল । খ্যাতনামা আলেম ভারতের ছফিউর রহমান মুবারকপুরি, মদীনা বিশ্ববিদ্যালয়ের পি. এইচ. ডি গবেষক উস্তাদ ফাইহান শালী আল মুতাইরী তারা বলেছেন এ পদ্ধতিতে রাসূল (সা:) বিতর পড়েছেন মর্মে কোনো সহিহ হাদিস পাওয়া যায় না। ইবনুল কায়্যিম ‘যাদুল মাআদে’ প্রচলিত পদ্ধতির আলোচনায় আনেন নি।
তাই আমরা উপরের দুইটি পদ্ধতির যে কোনো একটি গ্রহন করবো, সেটাই আমাদের জন্য উত্তম হবে।


বিতরের সালাত সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ন মাসআলা

১. এ সালাত সুন্নাতে মুয়াক্কাদা অর্থ্যাৎ জরুরী সুন্নাত।


২. বিতর সালাত ৩,৫,৭,৯,১১,১৩ এমনকি ১ রাকাআতও পড়া যায়।

৩. দুআ কুনুত পড়া সুন্নাত। রুকুর আগে বা পরে দুআ কুনূত পড়া যায়।

৪. দুআ কুনূত পড়ার শুরুতে তাকবীরে তাহরীমার মতো পুনরায় হাত উঠানোর পক্ষে কোনো হাদীস পাওয়া যায় না। কাজেই এটা করা অনুচিত।

৫. দুআ কুনূত এর সময় হাত তোলা (মুনাজাতের মতো) জায়েয যেহেতু এটি দোয়া। অনেক সাহাবী বুক বরাবর দু হাত তুলতেন।(বায়হাকী)।

৬. ১ম রাকাআতে সূরা আলা। ২য় রাকাআতে সূরা কাফিরুন এবং ৩য় রাকাআতে সূরা এখলাস পড়া সুন্নাত। তবে যে কোনো সূরা পড়া বৈধ।

৭. দুআ কুনূত এক বা একাধিক পড়া যায়। হাদীসে বর্ণিত যত দুআ আছে সেগুলি এমনকি নিজ থেকে বানিয়েও আরবীতে দুআ করা জায়েয।

৮. বিতরের সালাম ফিরানোর পর ‘সুবহানাল মালিকিল কুদ্দূস’ শব্দ করে ৩বার বলা সুন্নাত।


৯. রমযান মাস ছাড়াও বিতর নামায জামায়াতে পড়া জায়েয।
................................................

বিতরের সালাত কত রাকআত?


বিতরের সালাতের সর্বনিম্ন সংখ্যা হল এক রাক‘আত এবং সর্বোচ্চ হল ১১ রাকআত।
(ক) বিতরের সালাত ১ রাকআত পড়াও জায়েয আছে। আল্লাহ নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ أَحَبُّ أَن يُّؤْتِرَ بِوَاحِدَةٍ فَلْيَفْعَلْ
অর্থাৎ কেউ যদি ১ রাকআত বিতর পড়তে চায়, তা সে করতে পারে। (আবূ দাউদ : ১৪২২; নাসাঈ : ১৭১২)
(খ) আবার তিন রাকআত বিতর পড়া যায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেন,
مَنْ أَحَبَّ أَن يُّؤْتِرَ بِثَلاَثٍ فَلْيَفْعَلْ
‘‘যে ব্যক্তি বিতরের সালাত ৩ রাকআত পড়তে চায়, তা সে পড়তে পারে।’’ (আবূ দাউদ : ১৪২২; নাসাঈ : ১৭১২)
(গ) বিতর ৫ রাক‘আতও পড়ার নিয়ম আছে। নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :
مَنْ أَحَبَّ أَن يُّؤْتِرَ بِخَمْسٍ فَلْيَفْعَلْ
‘‘কেউ ৫ রাকআত বিতর পড়তে চাইলে তা সে পড়তে পারে।’’ (আবূ দাউদ : ১৪২২; নাসাঈ : ১৭১২)
এভাবে ৭ বা ৯ বা ১১ রাকআত পর্যন্ত বিতরের সালাত আদায় করার সুযোগ আছে, জায়েয আছে।
ফুটনোটঃ
 প্রশ্নোত্তরে রমযান ও ঈদ বিতরের সালাত অধ্যাপক মোঃ নূরুল ইসলাম
বিতরের সালাতে কি একবার নাকি দু’বার সালাম ফিরাব?

(ক) এক সালামে বিতর পড়ার দলীল :
মিসওয়ার বিন মাখরামা থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন,
دَفَنَّا أَبَا بَكْرٍ لَيْلًا , فَقَالَ عُمَرُ: «إِنِّي لَمْ أُوتِرْ , فَقَامَ وَصَفَفْنَا وَرَاءَهُ , فَصَلَّى بِنَا ثَلَاثَ رَكَعَاتٍ , لَمْ يُسَلِّمْ إِلَّا فِي آخِرِهِنَّ»
রাতের বেলা আমরা আবূ বাকার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) কে দাফন করলাম। অতপর উমার (রাদিয়াল্লাহু আনহু) বললেন, ‘আমি বিতর পড়িনি। এই বলে তিনি দাঁড়ালেন আর আমার তাঁর পেছনে দাঁড়িয়ে গেলাম। এরপর তিনি আমাদের নিয়ে ৩ রাকআত বিতর পড়তেন। শেষ রাকআতের আগে তিনি সালাম ফিরাতেন না (এক সালামে তিন রাকাত বিতর পড়তেন)। (ত্বহাবী : ১৭৪২)
(খ) দু’ সালামে বিতর পড়ার দলীল :
عَنْ عَبْدِ اللهِ بْنِ عُمَرَ كَانَ يُسَلِّمُ بَيْنَ الرَّكْعَةِ وَالرَّكْعَتَيْنِ فِي الْوِتْرِ حَتَّى بِأَمْرِ بِبَعْضِ حَاجَتِهِ
আবদুল্লাহ ইবনে ‘উমার রাদিয়াল্লাহু আনহু (বিতরে সালাত) প্রথম দুই রাকআত শেষ করে সালাম ফিরাতেন এবং পরে শেষ (তৃতীয়) রাকআতে আবার সালাম ফিরাতেন। প্রথম দুই রাকআতের সালাম ফিরানের পর প্রয়োজনে কোন কাজের নির্দেশও দিতেন। (বুখারী : ৯২১)

আত্তাহিয়াতু


>> আত্তাহিয়াতু:

আত্তাহিয়্যাতু লিল্লাহি ওয়াস্ সালাওয়াতু, ওয়াত্ তাইয়িবাতু। আস্সালামু 'আলাইকা আইয়্যুহান নাবীয়্যু ওয়া রাহমাতুল্লাহি ওয়া বারাকাতুহু। আস্সালামু আলাইনা ওয়া আলা ইবাদিল্লাহিস্ সালিহীন। আশহাদু আল-লা-ইলাহা ইল্লাল্লাহু ওয়া আশ্হাদু আননা মুহাম্মাদান আবদুহু ওয়া রাসুলুহু।( ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭৮০, ইসলামিক সেন্টারঃ ৭৯২) সহীহ মুসলিম (হাঃ একাডেমী)- ৭৮৩-(৫৫/৪০২) 
 
অর্থ : আমাদের সকল সালাম শ্রদ্ধা, আমাদের সব নামায এবং সকল প্রকার পবিত্রতা একমাত্র আল্লাহর উদ্দেশ্যে। হে নবী, আপনার প্রতি সালাম, আপনার উপর আল্লাহর রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমাদের এবং আল্লাহর সকল নেক বান্দাদের উপর আল্লাহ্র রহমত এবং অনুগ্রহ বর্ষিত হউক। আমি সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, আল্লাহ ছাড়া (ইবাদাতের যোগ্য) আর কেউ নেই, আমি আরও সাক্ষ্য দিচ্ছি যে, হযরত মুহাম্মাদ সা. আল্লাহর বান্দা এবং রাসূল। 

​>>শব্দার্থ আকারে আত্তাহিয়্যাতু:


Picture

দুরুদ

>>দুরুদ:

আল্লাহুম্মা সল্লি 'আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া 'আলা আলি মুদাম্মাদিন। কামা সল্লাইতা 'আলা ইবরাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ।
আল্লাহুম্মা বারিক 'আলা মুহাম্মাদিওঁ ওয়া 'আলা আলি মুদাম্মাদিন। কামা বারাক্তা 'আলা ইবরাহীমা ওয়া 'আলা আলি ইবরাহীমা ইন্নাকা হামীদুম মাজীদ। সূনান আবু দাউদ (ইফাঃ) হ্যাদিস- ৯৭৯.
 
অর্থ: হে আল্লাহ, দয়া ও রহমত করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন রহমত করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি উত্তম গুনের আধার এবং মহান। হে আল্লাহ, বরকত নাযিল করুন হযরত মুহাম্মাদ (সঃ) এর প্রতি এবং তার বংশধরদের প্রতি, যেমন করেছেন হযরত ইব্রাহীম (আঃ) ও তার বংশধরদের উপর। নিশ্চই আপনি প্রশংসার যোগ্য ও সম্মানের অধিকারী।


​>>শব্দার্থ আকারে দুরুদ:

Picture

তাশাহহুদে আঙ্গুল নাড়ানো


کان صلی الله علیه وسلم یبسط کفه الیسری علی رکبته الیسری ویقبض أصابع کفه الیمنی کلها، ويشير بإصبعه التي تلي الإبهام إلى القبلة ويرمى ببصره إليها

নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বাম হাতের তালু বাম হাঁটুর উপর বিছিয়ে দিতেন, আর ডান হাতের সবগুলো অঙ্গুলি মুষ্টিবদ্ধ করে তর্জনী দ্বারা কিবলার দিকে ইঙ্গিত করতেন এবং এর দিকে দৃষ্টি নিক্ষেপ করতেন।[1]

کان أشار بإصبعه وضع إبهامه علی صبعه الوسطی

অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করা কালে কখনও কখনও তিনি বৃদ্ধাঙ্গুলিকে মধ্যমার উপর রাখতেন।[2]

وتارة كان يحلق بهما حلقة، وکان رفع إصبعه یحرکها يدعو بها ويقول : لهی أشد علی الشیطان من الحديد يعنى السبابة

আবার নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম কখনও উক্ত অঙ্গুলিদ্বয় দ্বারা গোলাকৃতি করতেন এবং অঙ্গুলি উঠিয়ে নাড়ানো পূর্বক দুআ করতেন[3] এবং বলতেন। এটি (অর্থাৎ তর্জনী) শয়তানের বিরুদ্ধে লোহা অপেক্ষা কঠিন।[4] নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম-এর ছাহাবাগণ (এটা পরিত্যাগের উপরে) একে অপরকে জবাবদিহি করতেন। অর্থাৎ দু'আতে অঙ্গুলি দ্বারা ইঙ্গিত করার বেলায় তারা এমনটি করতেন।[5] তিনি (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) উভয় তাশাহহুদেই এই আমল করতেন[6] তিনি এক ব্যক্তিকে দুই অঙ্গুলি দ্বারা দুআ করতে দেখে বললেনঃ একটি দিয়ে কর, একটি দিয়ে কর এবং তর্জনী দ্বারা ইঙ্গিত করলেন।[7]

দোয়া মাছুরা:

আল্লাহুম্মা ইন্নী যলামতু নাফসী যুলমান কাসীরা। ওয়া লা ইয়াগ ফিরুযুনূবা ইল্লা আংতা ফাগ্ফির লী। মাগফিরাতাম মিন ইনদিকা্। ওয়ার হামনী। ইন্নাকা আনতাল গাফুরুর রাহিম।


​অর্থঃ হে আল্লাহ্! আমি আমার নিজ আত্মার উপর বড়ই অত্যাচার করেছি, গুনাহ মাফকারী একমাত্র তুমিই; অতএব তুমি আপনা হইতে আমাকে সম্পূর্ণ ক্ষমা কর এবং আমার প্রতি দয়া কর। তুমি নিশ্চয়ই ক্ষমাশীল দয়ালু।


>> শব্দার্থে দোয়া মাছুরা:

Picture
রাসূলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

​"তোমরা কেউ যখন তাশাহুদ পড় তখন চারটি জিনিষ থেকে রক্ষা পাওয়ার প্রার্থনা করো। এই বলে দু’আ করবেঃ

 
আল্লাহুম্মা ইন্নী আ’উযুবিকা মিন আযা-বি জাহান্নামা, ওয়া মিন আযা-বিল ক্ববরী, ওয়া মিন ফিতনাতিল মাহইয়া ওয়াল মামা-তি, ওয়া মিন শাররি ফিতনাতিল মাসীহিদ দাজ্জা-ল। (এই দোয়াটি দোয়া মাছুরা পড়ার পরে পড়তে হবে)

​অর্থঃ হে আল্লাহ, আমি তোমার কাছে জাহান্নাম ও কবরের আযাব থেকে, জীবন ও মৃত্যুর ফিতনা থেকে এবং মসীহ দাজ্জালের ফিতনার ক্ষতি থেকে আশ্রয় প্রার্থনা করছি। [হাদিস-মুসলিম শরিফঃ ১২১১]
কোনো কোনো আলেম এই দোয়া পড়া ওয়াজিব পর্যায়ের বলেছেন।

১.
Picture

৩.
Picture

৫.
Picture

৭.
Picture

২.
Picture

৪.















Picture

৬.

Picture

৮.

Picture
Picture


সালাতে ইমামের পিছনে সুরা ফাতিহা পড়া

بَاب وُجُوبِ الْقِرَاءَةِ لِلْإِمَامِ وَالْمَأْمُومِ فِي الصَّلَوَاتِ كُلِّهَا فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ وَمَا يُجْهَرُ فِيهَا وَمَا يُخَافَتُ.

عَلِيُّ بْنُ عَبْدِ اللهِ قَالَ حَدَّثَنَا سُفْيَانُ قَالَ حَدَّثَنَا الزُّهْرِيُّ عَنْ مَحْمُودِ بْنِ الرَّبِيعِ عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُولَ اللهِ صلى الله عليه وسلم قَالَ لاَ صَلاَةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.

পরিচ্ছদঃ ১০/৯৫. সব সলাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরী, মুকীম অবস্থায় হোক বা সফরে, সশব্দে কিরাআতের সলাত হোক বা নিঃশব্দে সব সলাতেই ইমাম ও মুক্তাদীর কিরাআত পড়া জরুরী।

৭৫৬. ‘উবাদাহ ইবনু সমিত (রাযি.) হতে বর্ণিত যে, রাসুলুল্লাহ্ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেনঃ যে ব্যক্তি সালাতে সূরাহ্ আল-ফাতিহা পড়ল না তার সালাত হলো না।* (মুসলিম ৪/১১, হাঃ ৩৯৪, আহমাদ ২২৮০৭) (আধুনিক প্রকাশনীঃ ৭১২, ইসলামিক ফাউন্ডেশনঃ ৭২০)



Narrated 'Ubada bin As-Samit: Allah's Messenger (ﷺ) said, "Whoever does not recite Al-Fatiha in his prayer, his prayer is invalid."


* আমাদের দেশের হানাফী ভাইয়েরা ইমামের পেছনে সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করেন না, এটা নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) এর ‘আমলের বিপরীত। ইমামের পিছনে মুক্তাদীকে অবশ্যই সূরা আল-ফাতিহা পাঠ করতে হবে। মুক্তাদী ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা না পড়লে তার সালাত, সালাত বলে গণ্য হবে না । বুখারীর অন্য বর্ণনায় জুযউল ক্বিরাআতের মধ্যে আছে- ‘আমর্‌ বিন শুয়াইব তাঁর পিতা হতে, তাঁর পিতা তাঁর দাদা হতে বর্ণনা করে বলেছেন যে, রসূলুল্লাহ (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেছেন তোমরা কি আমার পেছনে কিছু পড়ে থাক? তাঁরা বললেন, হাঁ আমরা খুব তাড়াহুড়া করে পাঠ করে থাকি। অতঃপর নবী (সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বললেন তোমরা উম্মুল কুরআন অর্থাৎ সূরা ফাতিহা ব্যতিত কিছুই পড়বে না। (বুখারী ১ম ১০৪ পৃষ্ঠা। জুযউল কিরায়াত। মুসলিম ১৬৯, ১৭০ পৃষ্ঠা। আবূ দাউদ ১০১ পৃষ্ঠা। তিরমিযী ১ম খণ্ড ৫৭, ৭১ পৃষ্ঠা। নাসাঈ ১৪৬ পৃষ্ঠা। ইব্‌নু মাজাহ ৬১ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মুহাম্মাদ ৯৫ পৃষ্ঠা। মুয়াত্তা মালিক ১০৬ পৃষ্ঠা। সহীহ ইব্‌নু খুযায়মাহ ১ম খণ্ড ২৪৭ পৃষ্ঠা। মুসলিম ইসলামিক ফাউন্ডেশন হাদীস নং ৭৫৮-৭৬৭ ও ৮২০-৮২৪। হাদীস শরীফ, মাওঃ আবদুর রহীম, ২য় খণ্ড ১৯৩-১৯৬ পৃষ্ঠা, ইসলামিয়াত বি-এ, হাদীস পর্ব ১৪৪-১৬১ পৃষ্ঠা। হিদায়াহ দিরায়াহ ১০৬ পৃষ্ঠা। মেশকাত ৭৮ পৃষ্ঠা। বুখারী আযীযুল হক ১ম হাদীস নং ৪৪১। বুখারী- আধুনিক প্রকাশনী ১ম খণ্ড হাদীস নং ৭১২। বুখারী-ইসলামিক ফাউন্ডেশন ২য় খণ্ড হাদীস নং ৭১৮। তিরমিযী- ইসলামিক ফাউন্ডেশন ১ম খণ্ড হাদীস নং ২৪৭। মিশকাত- নূর মোহাম্মদ আযমী ২য় খণ্ড ও মাদ্‌রাসা পাঠ্য হাদীস নং ৭৬৫, ৭৬৬, ৭৯৪। বুলূগুল মারাম ৮৩ পৃষ্ঠা। কিমিয়ায়ে সায়াদাত ১ম খণ্ড ২০৪ পৃষ্ঠা ।) 

প্রচলিত ভুল পদ্ধতিঃ আমাদের সলাতে মুক্তাদিগণ ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করে না। অথচ সূরা ফাতিহা ছাড়া সলাত হয় না। (মিশকাত মাদ্রাসার পাঠ্য-২/৩৩০ পৃষ্ঠায় বলা হয়েছে মুক্তাদিদের সূরা ফাতিহা পড়া জায়েজ নয়।)


* রসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম-এর পদ্ধতিঃ নাবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) বলেনঃ ‘‘যে ব্যক্তি এমন সলাত পড়ল যাতে সূরা ফাতিহা পড়ে নাই সে সলাত ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ, ত্রুটিপূর্ণ তথা অসম্পূর্ণ’’ (সহীহ বুখারী, সহীহ মুসলিম)। রাসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহিওয়া সাল্লাম) একদা ফজরের সলাত শেষে বলেন, তোমরা কি ইমামের পিছনে পাঠ কর? আমরা বললাম, হাঁ দ্রুত পড়ে নিই। তিনি বললেন, এরূপ করো না। তবে সূরা ফাতিহা পড়ে নিও। কেননা যে ব্যক্তি এ সূরা পড়বে না তার সলাত হবে না। (আবু দাউদ, তিরমিযী) তিনি আরো বলেন, যে ব্যক্তি সলাতে সূরা ফাতিহা পড়ল না তার সলাত হল না। (সহীহ বুখারী ১/১০৪ পৃঃ)

ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার ছহীহ হাদীছ সমূহ


ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পড়ার ছহীহ হাদীছ সমূহ :

ইমাম ও মুক্তাদী সকলের জন্য সূরা ফাতিহা পাঠ করা ফরয। কারণ কেউ ছালাতে সূরা ফাতিহা পাঠ না করলে তার ছালাত হয় না।

(1) عَنْ عُبَادَةَ بْنِ الصَّامِتِ أَنَّ رَسُوْلَ اللهِ  قَالَ لَا صَلَاةَ لِمَنْ لَمْ يَقْرَأْ بِفَاتِحَةِ الْكِتَابِ.

(১) উবাদা বিন ছামেত (রাঃ) থেকে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি সূরা ফাতিহা পাঠ করে না তার ছালাত হয় না’।[1] ইমাম বুখারী উক্ত হাদীছ উল্লেখ করার পূর্বে নিম্নোক্ত অনুচ্ছেদ নির্ধারণ করেন, بَابُ وُجُوْبِ الْقِرَاءَةِ لِلْإِمَامِ وَالْمَأْمُوْمِ فِى الصَّلَوَاتِ كُلِّهَا فِي الْحَضَرِ وَالسَّفَرِ وَمَا يُجْهَرُ فِيْهَا وَمَا يُخَافَتُ ‘প্রত্যেক ছালাতে ইমাম-মুক্তাদী উভয়ের জন্য ক্বিরা‘আত (সূরা ফাতিহা) পড়া ওয়াজিব। মুক্বীম অবস্থায় হোক বা সফর অবস্থায় হোক, জেহরী ছালাতে হোক বা সের্রী ছালাতে হোক’।[2]

উল্লেখ্য যে, উক্ত হাদীছ পেশ করে ব্যাখ্যা দেয়া হয় যে, এই হাদীছ একাকী ছালাতের জন্য। অথচ উক্ত দাবী সঠিক নয়; বরং বিভ্রান্তিকর। দাবী যদি সঠিক হয়, তাহলে জামা‘আতে ছালাত আদায়ের সময় যোহর ও আছর ছালাতে এবং মাগরিবের শেষ রাক‘আতে ও এশার ছালাতের শেষ দুই রাক‘আতেও কি সূরা ফাতিহা পড়া যাবে না? কারণ মুক্তাদী তো একাকী নয়, ইমামের সাথে আছে? অথচ যোহর ও আছরের ছালাতে মুক্তাদীরা সূরা ফাতিহা সহ অন্য সূরাও পাঠ করতে পারবে মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে।[3]

তাছাড়া একাকী বলতে মৌলিক কোন ছালাত আছে কি? ফরয ছালাত তো জামা‘আতেই পড়তে হবে। এমনকি কোথাও দুইজন থাকলেও জামা‘আত করে ছালাত আদায় করতে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।[4] কখনো কখনো ফরয ছালাত একাকী পড়া হয়। তাহলে ঐ হাদীছটি কি শুধু কখনো কখনো একাকী ছালাতের জন্য প্রযোজ্য? না শুধু নফল ছালাতের জন্য? আর নফল ছালাত তো কেউ না পড়লেও পারে। তাহলে উক্ত হাদীছের ব্যাপারে এ ধরনের দাবী কিভাবে যথার্থ হতে পারে? এ জন্য ইমাম বুখারীসহ অন্যান্য প্রায় সকল মুহাদ্দিছ জামা‘আতে পড়ার পক্ষেই উক্ত হাদীছ পেশ করেছেন।[5] অতএব উক্ত হাদীছ জামা‘আত ও একাকী উভয় অবস্থার সাথেই সম্পৃক্ত।

(2) عَنْ أَبِىْ هُرَيْرَةَ عَنِ النَّبِىِّ  قَالَ مَنْ صَلَّى صَلاَةً لَمْ يَقْرَأْ فِيهَا بِأُمِّ الْقُرْآنِ فَهْىَ خِدَاجٌ ثَلاَثًا غَيْرُ تَمَامٍ فَقِيْلَ لأَبِىْ هُرَيْرَةَ إِنَّا نَكُوْنُ وَرَاءَ الإِمَامِ فَقَالَ اقْرَأْ بِهَا فِىْ نَفْسِكَ فَإِنِّىْ سَمِعْتُ رَسُوْلَ اللهِ يَقُوْلُ قَالَ اللهُ تَعَالىَ قَسَمْتُ الصَّلَاةَ بَيْنِيْ وَبَيْنَ عَبْدِيْ نِصْفَيْنِ وَلِعَبدِىْ مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ الْعَبْدُ اَلْحَمْدُ لِلَّهِ رَبِّ الْعَالَمِيْنَ قَالَ اللهُ حَمِدَنِىْ عَبْدِىْ وَإِذَا قَالَ الرَّحْمَنِ الرَّحِيْمِ  قَالَ اللهُ تَعَالى أََثْنَى عَلَىَّ عَبْدِىْ وَإِذَا قَالَ مَالِكِ يَوْمِ الدِّيْنِ قَالَ مَجَّدَنِىْ عَبْدِىْ وَإِذَا قَالَ إِيَّاكَ نَعْبُدُ وَإِيَّاكَ نَسْتَعِيْنُ قَالَ هَذَا بَيْنِيْ وَبَيْنَ عَبْدِيْ وَلِعَبْدِىْ مَا سَأَلَ فَإِذَا قَالَ اِهْدِنَا الصِّرَاطَ الْمُسْتَقِيْمَ صِرَاطَ الَّذِيْنَ أَنْعَمْتَ عَلَيْهِمْ غَيْرِ الْمَغْضُوْبِ عَلَيْهِمْ وَلَا الضَّالِّيْنَ قَالَ هذَا لِعَبْدِىْ وَلِعَبْدِىْ مَا سَأَلَ.

(২) আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি কোন ছালাত আদায় করল অথচ সূরা ফাতিহা পাঠ করল না, তার ছালাত অসম্পূর্ণ রয়ে গেল। এ কথাটি তিনি তিনবার বলেন। তখন আবু হুরায়রাকে জিজ্ঞেস করা হল, আমরা যখন ইমামের পিছনে থাকি? উত্তরে তিনি বললেন, তুমি চুপে চুপে পড়। কেননা আমি রাসূল (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি, আল্লাহ তা‘আলা বলেন, আমি ছালাতকে আমার মাঝে ও আমার বান্দার মাঝে দুই ভাগে ভাগ করেছি। আমার বান্দার জন্য সেই অংশ যা সে চাইবে। বান্দা যখন বলে, ‘আল-হামদুলিল্লা-হি রাবিবল ‘আলামীন’ (যাবতীয় প্রশংসা আল্লাহর জন্য, যিনি জগৎ সমূহের প্রতিপালক)। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমার প্রশংসা করল। বান্দা যখন বলে, ‘আর-রহমা-নির রহীম’ (যিনি করুণাময়, পরম দয়ালু)। তখন আল্লাহ বলেন, বান্দা আমার গুণগান করল। বান্দা যখন বলে, ‘মা-লিকি ইয়াওমিদ্দ্বীন’ (যিনি বিচার দিবসের মালিক) তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা আমাকে সম্মান প্রদর্শন করল। বান্দা যখন বলে, ইয়্যা-কানা‘বুদু ওয়া ইয়্যা-কানাসতাঈন (আমরা কেবল আপনারই ইবাদত করি এবং আপনার নিকটই সাহায্য প্রার্থনা করি)। তখন আল্লাহ বলেন, এটা আমার ও আমার বান্দার মাঝে আধাআধি ভাগ (অর্থাৎ ইবাদত আমার জন্য আর প্রার্থনা বান্দার জন্য) এবং আমার বান্দার জন্য সেই অংশ রয়েছে, যা সে চাইবে। যখন বান্দা বলে, ‘ইহদিনাছ ছিরাত্বাল মুস্তাক্বীম, ছিরা-ত্বল্লাযীনা আন‘আমতা ‘আলায়হিম, গয়রিল মাগযূবি ‘আলায়হিম ওয়ালায য-ল্লীন (আপনি আমাদের সরল পথ প্রদর্শন করুন। তাদের পথ যাদের উপর আপনি রহম করেছেন। তাদের পথ নয় যারা অভিশপ্ত এবং পথভ্রষ্ট)। তখন আল্লাহ বলেন, আমার বান্দা যা চেয়েছে তা তার জন্য’।[6] (আমীন)

উক্ত হাদীছ থেকে প্রমাণিত হয় যে, ইমাম-মুক্তাদী সকলেই সূরা ফাতিহা পাঠ করবে। সূরা ফাতিহা শুধু ইমামের জন্য নয়। কারণ আল্লাহর বান্দা শুধু ইমাম নন, মুক্তাদীও আল্লাহর বান্দা। আর আবু হুরায়রাহ (রাঃ) সেটা বুঝানোর জন্যই উক্ত হাদীছ পেশ করেছেন। অতএব ইমামের পিছনে মুক্তাদীও সূরা ফাতিহা পাঠ করবে।

(3) عَن رِفَاعَةَ بْنِ رَافعٍ قَالَ جَاءَ رَجُلٌ فَصَلَّى فِي الْمَسْجِدِ ثُمَّ جَاءَ فَسَلَّمَ عَلَى النَّبِيِّ  فَقَالَ النَّبِيُّ  أَعِدْ صَلَاتَكَ فَإِنَّكَ لَمْ تُصَلِّ فَقَالَ عَلِّمْنِىْ يَا رَسُوْلَ اللهِ كَيْفَ أُصَلِّي؟ قَالَ إِذَا تَوَجَّهَتَ إِلَى الْقِبْلَةِ فَكَبِّرْ ثُمَّ اقْرَأْ بِأُمِّ الْقُرْآنِ وَمَا شَاءَ اللهُ أَنْ تَقْرَأَ..

(৩) রিফা‘আ বিন রাফে‘ (রাঃ) বলেন, জনৈক ব্যক্তি মসজিদে আসল এবং ছালাত আদায় করল। অতঃপর রাসূল (ছাঃ)-কে সালাম দিল। তিনি তাকে বললেন, তুমি ছালাত ফিরিয়ে পড়। নিশ্চয় তুমি ছালাত আদায় করনি। তখন লোকটি বলল, হে আল্লাহর রাসূল (ছাঃ)! আমাকে ছালাত শিক্ষা দিন। তিনি বললেন, যখন তুমি ক্বিবলামুখী হবে তখন তাকবীর দিবে। অতঃপর সূরা ফাতিহা পড়বে এবং আল্লাহর ইচ্ছায় আরো কিছু অংশ পাঠ করবে..। [7]

(২০৪) যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং নিশ্চুপ হয়ে থাক; যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। [1]

সূরা আল-আ'রাফ'র তাফসীর | সবগুলি আয়াতের তাফসীর সংযুক্ত করা হয়েছে।

إِنَّ الَّذِينَ اتَّقَوْا إِذَا مَسَّهُمْ طَائِفٌ مِنَ الشَّيْطَانِ تَذَكَّرُوا فَإِذَا هُمْ مُبْصِرُونَ

(২০১) নিশ্চয়ই যারা সাবধান হয়, যখন শয়তান তাদেরকে কুমন্ত্রণা দেয়, তখন তারা আত্মসচেতন হয় এবং তৎক্ষণাৎ তাদের চক্ষু খুলে যায়। [1]

[1] এতে আল্লাহ-ভীরু লোকেদের সম্পর্কে বলা হয়েছে যে, তারা শয়তান হতে সদা সতর্ক থাকে। طيف، طائف সেই কল্পনাকে বলা হয় যা অন্তরে বা স্বপ্নে উদয় হয়। এখানে শয়তানের কুমন্ত্রণার অর্থে ব্যবহার হয়েছে। কারণ শয়তানের কুমন্ত্রণাও খেয়ালী কল্পনার সদৃশ হয়ে থাকে। (ফাতহুল কাদীর)

وَإِخْوَانُهُمْ يَمُدُّونَهُمْ فِي الْغَيِّ ثُمَّ لَا يُقْصِرُونَ

(২০২) আর যারা শয়তানের ভাই, শয়তানেরা তাদেরকে ভ্রান্তির দিকে টেনে নেয় এবং এ বিষয়ে তারা কোন ত্রুটি করে না।[1]

[1] অর্থাৎ, শয়তানরা কাফেরদের বিভ্রান্তির দিকে টেনে নিয়ে যায়। অতঃপর (কাফেররা বিভ্রান্তির দিকে যেতে) অথবা শয়তানরা তাদেরকে বিভ্রান্তির দিকে নিয়ে যেতে কোন প্রকার ক্রটি করে না। لاَيَقْصِرُونَ এর কর্তা কাফেরগণ ও হতে পারে, আর তাদের ভাই শয়তানরাও হতে পারে।

وَإِذَا لَمْ تَأْتِهِمْ بِآيَةٍ قَالُوا لَوْلَا اجْتَبَيْتَهَا ۚ قُلْ إِنَّمَا أَتَّبِعُ مَا يُوحَىٰ إِلَيَّ مِنْ رَبِّي ۚ هَٰذَا بَصَائِرُ مِنْ رَبِّكُمْ وَهُدًى وَرَحْمَةٌ لِقَوْمٍ يُؤْمِنُونَ

(২০৩) তুমি যখন তাদের নিকট কোন নিদর্শন (মু’জিযা) উপস্থিত কর না, তখন তারা বলে, ‘তুমি নিজেই তা বেছে নাও না কেন?’[1] বল, ‘আমার প্রতিপালকের নিকট থেকে আমাকে যে অহী (প্রত্যাদেশ) করা হয়, আমি তো শুধু তারই অনুসরণ করি। এ (কুরআন) তোমাদের প্রতিপালকের পক্ষ থেকে দলীল ও নিদর্শন এবং বিশ্বাসী সম্প্রদায়ের জন্য পথনির্দেশ ও দয়া।’[2]

[1] উদ্দেশ্য এমন মু’জিযা যা তাদের ইচ্ছানুসারে তাদের কথামত প্রকাশ করা হবে। যেমন তাদের কিছু দাবী সূরা বানী ইস্রাঈল ৯০-৯৩নং আয়াতে বর্ণনা করা হয়েছে।

[2] لَوْلاَ اجْتَبَيْتَهَا এর অর্থ হল, নিজ হতে কেন তুমি এসব মু’জিযা পেশ করো না? এর উত্তরে বলা হচ্ছে যে, তুমি বলে দাও, মু’জিযা দেখানো আমার সাধ্যে নেই, আমি তো শুধুমাত্র আল্লাহর অহীর অনুসরণ করি। তবে হ্যাঁ, অবশ্যই এই কুরআন যা আমার নিকট এসেছে, তা নিজেই এক মহা মু’জিযা। এতে তোমাদের রবের পক্ষ হতে তোমাদের জন্য রয়েছে দলীল-প্রমাণাদি, পথনির্দেশ, অনুগ্রহ ও করুণা। তবে শর্ত হল, তাতে ঈমান আনা চাই।

وَإِذَا قُرِئَ الْقُرْآنُ فَاسْتَمِعُوا لَهُ وَأَنْصِتُوا لَعَلَّكُمْ تُرْحَمُونَ

(২০৪) যখন কুরআন পাঠ করা হয়, তখন তোমরা মনোযোগ সহকারে তা শ্রবণ কর এবং নিশ্চুপ হয়ে থাক; যাতে তোমাদের প্রতি দয়া করা হয়। [1]

[1] এখানে ঐ সকল কাফেরদের সম্পর্কে বলা হচ্ছে, যারা কুরআন তিলাঅতের সময় চেঁচামেচি করত এবং সঙ্গী-সাথীদের বলত,  {لَا تَسْمَعُوا لِهَذَا الْقُرْآنِ وَالْغَوْا فِيهِ} অর্থাৎ, তোমরা কুরআন শোন না এবং হট্টগোল কর। (সূরা হা-মীম সাজদাহ ২৬) তাদেরকে বলা হল যে, এর পরিবর্তে তোমরা যদি মন দিয়ে শোন ও নীরব থাক, তাহলে হয়তো বা তোমাদেরকে আল্লাহ হিদায়াত দান করবেন এবং সেই সাথে তোমরা আল্লাহর দয়া ও রহমতের অধিকারী হয়ে যাবে। কোন কোন ইমাম এটিকে সাধারণ আদেশ বলে ব্যক্ত করেছেন। অর্থাৎ, যখনই কুরআন পাঠ করা হবে; নামাযে হোক বা নামাযের বাইরে তখনই সকলকেই নীরব থেকে কুরআন শ্রবণ করার আদেশ দেওয়া হয়েছে। এই সাধারণ আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে সশব্দে ক্বিরাআত পড়া হয়, এমন সমস্ত নামাযে মুক্তাদীদের সূরা ফাতিহা পাঠ কুরআনের এই আদেশের পরিপন্থী বলেছেন। পক্ষান্তরে অন্যান্য ইমামদের মত হল, সশব্দে ক্বিরাআত পড়া হয়, এমন নামাযে ইমামের পিছনে সূরা ফাতিহা পাঠ করার ব্যাপারে নবী (সাঃ) তাকীদ করেছেন, যা সহীহ হাদীস দ্বারা প্রমাণিত। তাঁদের নিকট এই আয়াত শুধুমাত্র কাফেরদের জন্য মনে করাই সঠিক। যেমন এই সূরার মক্কী হওয়ার মধ্যেও এর সমর্থন পাওয়া যায়। কিন্তু যদি এটিকে সাধারণ আদেশ মেনে নেওয়া যায়, তবুও নবী (সাঃ) এই সাধারণ আদেশ হতে মুক্তাদীদেরকে আলাদা করে নিয়েছেন। আর এভাবে কুরআনের এই আদেশ সত্ত্বেও মুক্তাদীদের সশব্দে ক্বিরাআতবিশিষ্ট নামাযেও সূরা ফাতিহা পাঠ করা আবশ্যিক হবে। কারণ কুরআনের এই সাধারণ আদেশ থেকে সূরা ফাতিহা পাঠ করার আদেশ সহীহ মজবূত হাদীস দ্বারা ব্যতিক্রান্ত। যেমন অন্য কিছু ক্ষেত্রে কুরআনের ব্যাপক আদেশকে সহীহ হাদীস দ্বারা নির্দিষ্ট করে নেওয়া স্বীকৃত। যেমন, (الزَّانِيَةُ والزَّانِي فَاجلِدُوا) এর ব্যাপক আদেশ হতে বিবাহিত ব্যভিচারীকে আলাদা বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে। অনুরূপ (والسَّارِقُ وَالسَّارِقة) এর ব্যাপক আদেশ হতে এমন চোরকে আলাদা বা নির্দিষ্ট করা হয়েছে, যে দীনারের এক চতুর্থাংশের কম মাল চুরি করেছে অথবা চুরির মাল যথেষ্ট হিফাযতে ছিল না ইত্যাদি। অনুরূপ (فَاستَمِعُوا لَهُ وأَنصِتُوا) এর ব্যাপক আদেশ হতে মুক্তাদীদেরকে আলাদা বা নির্দিষ্ট করে নেওয়া হবে। সুতরাং তাদের সশব্দে ক্বিরাআত হয় এমন সকল নামাযেও সূরা ফাতিহা পাঠ করা জরুরী হবে। কারণ নবী (সাঃ) এর তাকীদ দিয়েছেন। যেমন সূরা ফাতিহার তফসীরে ঐ সকল হাদীস বর্ণিত হয়েছে।

وَاذْكُرْ رَبَّكَ فِي نَفْسِكَ تَضَرُّعًا وَخِيفَةً وَدُونَ الْجَهْرِ مِنَ الْقَوْلِ بِالْغُدُوِّ وَالْآصَالِ وَلَا تَكُنْ مِنَ الْغَافِلِينَ

(২০৫) তোমার প্রতিপালককে মনে মনে সবিনয় ও সশঙ্কচিত্তে অনুচ্চসবরে প্রত্যুষে ও সন্ধ্যায় স্মরণ কর এবং তুমি উদাসীনদের দলভুক্ত হয়ো না।

-

إِنَّ الَّذِينَ عِنْدَ رَبِّكَ لَا يَسْتَكْبِرُونَ عَنْ عِبَادَتِهِ وَيُسَبِّحُونَهُ وَلَهُ يَسْجُدُونَ ۩

(২০৬) নিশ্চয়ই যারা তোমার প্রতিপালকের সান্নিধ্যে রয়েছে, তারা অহংকারে তাঁর উপাসনায় বিমুখ হয় না। তারা তাঁর মহিমা ঘোষণা করে এবং তাঁরই নিকট তারা সিজদাবনত হয়। [1] (সাজদাহ-১)

[1] এটি কুরআন মাজীদের প্রথম তিলাঅতের সিজদার স্থান। কুরআন মাজীদের সিজদার আয়াত তিলাঅত করলে অথবা শুনলে তকবীর দিয়ে একটি সিজদাহ করা এবং তকবীর দিয়ে মাথা তোলা মুস্তাহাব। এই সিজদার পর কোন তাশাহহুদ বা সালাম নেই। তকবীরের ব্যাপারে মুসলিম বিন য়্যাসার, আবূ কিলাবাহ ও ইবনে সীরীন কর্তৃক আষার বর্ণিত হয়েছে। (তামামুল মিন্নাহ ২৬৯পৃঃ) এই সিজদাহ করার বড় ফযীলত ও মাহাত্ম্য রয়েছে। মহানবী (সাঃ) বলেন, ‘‘আদম সন্তান যখন সিজদার আয়াত পাঠ করে সিজদাহ করে, তখন শয়তান দূরে সরে গিয়ে কেঁদে কেঁদে বলে, ‘হায় ধ্বংস আমার! ও সিজদাহ করতে আদেশ পেয়ে সিজদাহ করে, ফলে ওর জন্য রয়েছে জান্নাত। আর আমি সিজদার আদেশ পেয়ে তা অমান্য করেছি, ফলে আমার জন্য রয়েছে জাহান্নাম।’’ (আহমাদ, মুসলিম ৮৯৫নং, ইবনে মাজাহ) তিলাঅতের সিজদার জন্য ওযূ শর্ত নয়। লজ্জাস্থান ঢাকা থাকলে ক্বিবলামুখে এই সিজদাহ করা যায়। যেহেতু ওযূ শর্ত হওয়ার ব্যাপারে কোন সহীহ বর্ণনা পাওয়া যায় না। (নাইলুল আউত্বার, আল-মুমতে’ ৪/১২৬, ফিকহুস সুন্নাহ আরবী ১/১৯৬) তিলাঅতের সিজদায় একাধিকবার পঠনীয় সুন্নতী দু’আ হল, سَجَدَ وَجْهِىَ لِلَّذِيْ خَلَقَهُ وَشَقَّ سَمْعَهُ وَبَصَرَهُ بِحَوْلِهِ وَقُوَّتِهِ অর্থাৎ, আমার মুখমন্ডল তাঁর জন্য সিজদাবনত হল যিনি ওকে সৃষ্টি করেছেন এবং স্বীয় শক্তি ও ক্ষমতায় ওর চক্ষু ও কর্ণকে উদগত করেছেন। (আহমদ ৬/৩০, আবু দাউদ, তিরমিযী, নাসায়ী) বাইহাকীর বর্ণনায় (وَصَوَّرَه) হাকেমের বর্ণনায় এই শব্দগুলিও বাড়তি এসেছে فَتَبَارَكَ اللهُ أَحْسَنُ الْخَالِقِينَ। (আওনুল মাবূদ ১/৫৩৩) -সম্পাদক



আকিদা 


শিরক 

Desktop Site