এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

উত্তর

উক্ত শিশুটি মুসলিম হিসাবে গণ্য হবে। কারণ ‘জারজ’ সন্তান মাতার সাথে সম্পর্কিত হয় (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৩১২, ৩৩২০)। এছাড়া প্রত্যেক শিশুই ফিৎরাত তথা ইসলামের উপরে জন্মগ্রহণ করে (বুখারী হা/১৩৮৫, মুসলিম, মিশকাত হা/৯০; রূম ৩০)।

উক্ত আয়াত দ্বারা উদ্দেশ্য হ’ল, কোন সৎকর্মশীল পুরুষের জন্য কোন ব্যভিচারিণী নারীকে বিবাহ করা বৈধ নয়, যতক্ষণ না সে তওবা করে। অনুরূপ এর বিপরীত। অর্থাৎ তওবা করলে বিবাহ করা জায়েয। ইমাম আহমাদ বলেছেন, কোন সৎকর্মশীল পুরুষের সাথে কোন ব্যভিচারিণী নারীর বিবাহ শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে। অনুরূপ কোন সতী নারীর সাথে কোন ব্যভিচারী পুরুষের বিবাহ শুদ্ধ হবে না, যতক্ষণ না সে তওবা করে (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা নূর ৩ আয়াত)।

কাজটি অত্যন্ত গর্হিত হলেও উক্ত নারীকে বিবাহ করতে বাধা নেই। কারণ কোন হারাম সম্পর্ক কোন হালাল সম্পর্ক স্থাপনে বাধা হতে পারে না। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যেনা বৈবাহিক বন্ধনকে হারাম করে না’ (মুছান্নাফ ইবনু আবী শায়বা, বায়হাক্বী, ইরওয়া হা/১৮৮১, ৬/২৮৭ পৃঃ)। এছাড়া শরী‘আতে যে ১৪জন নারীকে বিয়ে করা হারাম করা হয়েছে (নিসা ৪/২৩), উক্ত নারী তাদের অন্তর্ভুক্ত নয়।

সমকামিতা একটি ঘৃণ্য অপরাধ এবং কবীরা গুনাহ। এই পাপের কারণেই বর্তমান পৃথিবী এইডস-এর মত মরণ ব্যধিতে ভরে গেছে। এটাই আল্লাহর গযব। এ অপরাধের কারণে বিগত যুগে আল্লাহ তা‘আলা কওমে লূতকে ধ্বংস করে দিয়েছিলেন (আ‘রাফ ৭/৮০-৮৪; হিজর ১৫/৭২-৭৬)। এর শাস্তি হ’ল সমকামীদের উভয়কে হত্যা করা। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) বলেছেন, তোমরা যাকে লুৎ (আঃ)-এর সম্প্রদায়ের মত পুরুষে পুরুষে অপকর্ম করতে দেখবে তাদের উভয়কে হত্যা কর (তিরমিযী হা/১৪৫৬; আবুদাউদ হা/৪৪৬২; মিশকাত হা/৩৫৭৫)। তিনি আরো বলেন, আল্লাহ তা‘আলা কওমে লূতের ন্যায় অপকর্মকারীদের প্রতি লা‘নত করেছেন, তিনি একথাটি তিনবার বললেন (আহমাদ হা/২৯১৫; ছহীহাহ হা/৩৪৬২)। তবে এ শাস্তি বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় দায়িত্বশীলদের (কুরতুবী)। না করলে সরকার গোনাহগার হবে।

ব্যভিচার কাবীরা গুনাহ। আল্লাহ বলেন, তোমরা ব্যভিচারের নিকটবর্তী হয়ো না, এটা অশ্লীল ও নিকৃষ্ট আচরণ। (ইসরা ১৭/ ৩২)। উক্ত অবস্থায় স্বামী তার স্ত্রীকে তালাক দিতে পারে (নিসা ৪/১৯-২০)। আর যদি স্ত্রী তার কৃতকর্মের জন্য লজ্জিত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করে, তাহ’লে তাকে ক্ষমা করে দিয়ে পূর্বের ন্যায় সংসার করবে (আলে-ইমরান ৩/১৩৫)।

এক্ষেত্রে উক্ত নারী অত্যাচারিতা ও নিরপরাধ হিসাবে গণ্য হবে। ওয়ায়েল ইবনু হুজর (রাঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর যুগে জনৈকা মহিলা মসজিদে ছালাত আদায়ের উদ্দেশ্যে বের হন। একজন লোক তাকে একা পেয়ে কাপড়ে ঢেকে নেয় এবং তাকে ধর্ষণ করে। মহিলা চিৎকার শুরু করলে লোকটি চলে যায়। সেখান দিয়ে মুহাজিরদের একদল লোক যাচ্ছিলেন। মহিলাটি তাদেরকে বললেন যে, ঐ লোক আমার সাথে এরূপ আচরণ করেছে। তখন লোকেরা তাকে ধরে রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকটে নিয়ে আসলে তিনি মহিলাকে বললেন, তুমি চলে যাও। আল্লাহ তোমাকে ক্ষমা করুন। অতঃপর তিনি ঐ ধর্ষণকারী পুরুষকে রজম করার আদেশ দিলেন (আবুদাঊদ হা/৪৩৭৯; তিরমিযী হা/১৪৫৪, মিশকাত হা/৩৫৭২, হাদীছটি হাসান, ‘হুদূদ’ অধ্যায়)

সন্তান উক্ত পিতার দিকে সম্পর্কিত হবে না এবং সে পিতার সম্পদের ওয়ারিছ হবে না; বরং তার মায়ের দিকে সম্পর্কিত হবে এবং সে কেবল মায়ের সম্পদের ওয়ারিছ হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) লি‘আনের ফায়ছালায় সন্তানকে তার মায়ের জন্য নির্ধারণ করেছিলেন (বুখারী হা/৬৭৪৮)।

এটি রাসূল (ছাঃ)-এর হাদীছ নয়। বরং আমর ইবনু মায়মূন আবু আব্দুল্লাহ কূফী(মৃ : ৭৪ হিঃ) নামক একজন জ্যেষ্ঠ তাবেঈ কর্তৃক বর্ণিত ‘আছার’। ইমাম বুখারী ‘আনছারগণের মর্যাদা’ অধ্যায়ের ২৭ নং অনুচ্ছেদে নবুঅতপূর্ব যুগের বিভিন্ন ঘটনা বর্ণনার মধ্যে এ ঘটনাটি এনেছেন। তীক্ষ্ণ ধীসম্পন্ন প্রাণী বানরের মধ্যে যে অন্য প্রাণীসমূহের চাইতে অধিকতর সতর্কতা ছিল, ঘটনাটি তার অন্যতম প্রমাণ। যেমন ঘোড়া সম্পর্কেও অনুরূপ ঘটনা জানা যায়। যে নিজের মায়ের উপর অপগত হয়ে তাকে চিনতে পারায় নিজের লিঙ্গ নিজে কামড়ে ছিন্ন করে ফেলে (ফৎহুল বারী)। এর মাধ্যমে ‘রজম’টাই যে ব্যভিচারের স্বাভাবিক দন্ড, সেটাও প্রমাণিত হয়। এ ঘটনার মধ্যে মানুষের জন্য শিক্ষণীয় বিষয় রয়েছে।

পরবর্তীতে বিবাহ হোক আর না হোক এ কাজ কবীরা গোনাহ। যা তওবা ব্যতীত মাফ হবে না। এমন মানুষ অবিবাহিত হলে তার শাস্তি হচ্ছে একশ’ বেত্রাঘাত(নূর ২)। আর বিবাহিত হলে শারঈ ফায়ছালা অনুযায়ী তাকে রজম করতে হবে (বুখারী হা/৬৮৩১; মিশকাত হা/৩৫৫৬ ও ৩৫৫৭ ‘দন্ডবিধি’ অধ্যায়)। যেটি আদালতের দায়িত্ব।

যেনা অতীব জঘন্য কর্ম। তওবা ছাড়া আল্লাহ তাকে মাফ করবেন না। আল্লাহ বলেন, ক্বিয়ামতের দিন তার শাস্তি দ্বিগুণ হবে এবং সেখানে সে স্থায়ী হবে হীন অবস্থায়(ফুরক্বান ৬৯)। হাদীছে এসেছে, তাদেরকে উলঙ্গ অবস্থায় একটি পেটমোটা সরু মুখ সম্পন্ন চুলায় জ্বলন্ত আগুনের মাঝে পোড়ানো হবে (বুখারী হা/১৩৮৬; মিশকাত হা/৪৬২১)।

উত্তর

কথাটি সঠিক। শুধু তাই নয়, উদ্দেশ্যমূলকভাবে বেগানা নারীর দিকে কুদৃষ্টি দেয়া বা তার কথা শ্রবণ করা এবং যে কোন প্রকারে তার প্রতি কুচিন্তা নিয়ে অগ্রসর হওয়া-সবই যেনার পাপের অংশ হিসাবে গণ্য হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৮৬)। তাই এই পাপ থেকে অবশ্যই আত্মরক্ষা করতে হবে। অসাবধানতাবশতও যেন এরূপ অবস্থার সম্মুখীন হ’তে না হয়, সে ব্যাপারে সর্বদা সতর্ক থাকা প্রত্যেক মুসলিম নর-নারীর জন্য ফরয।

ঐ ব্যক্তি জঘন্যতম পাপ করেছে, যার জন্য শরী‘আতে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবে এই অবৈধ কর্মের জন্য স্বামী-স্ত্রীর বিবাহ বিচ্ছেদ হবে না। কারণ কোন অবৈধ সম্পর্ক কোন বৈধ বিবাহকে হারাম করে না। ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘যেনা বৈবাহিক বন্ধনকে হারাম করে না’ (মুছান্নাফ ইবনে আবী শায়বা, বায়হাক্বী, ইরওয়া ৬/২৮৭ পৃঃ, হা/১৮৮১)। অন্য বর্ণনায় এসেছে, এক লোক তার শাশুড়ীর সাথে যেনা করলে ইবনু আববাস (রাঃ) বলেন, ‘তারা পাপী। কিন্তু এ পাপ তার স্ত্রীকে তার জন্য হারাম করে না’ (বায়হাক্বী, ইরওয়া ৬/২৮৮ পৃঃ)। আলী (রাঃ) বলেন, যেনা বৈধ বিবাহ বন্ধনকে হারাম করতে পারে না (ইরওয়া ৬/২৮৮ পৃঃ, তা‘লীক্ব বুখারী)। স্বামী ঐ স্ত্রীর সাথে ঘর-সংসার করায় দোষ হবে না। কিন্তু যদি সে স্ত্রীর উক্ত অবৈধ কর্মকে মেনে নেয় ও তাকে আরও সুযোগ দেয়, তাহ’লে সে ‘দাইঊছ’ হবে এবং তার জন্য জান্নাত হারাম হবে’ (আহমাদ, নাসাঈ, মিশকাত হা/৩৬৫৫ ‘দন্ড বিধি’ অধ্যায় ৬ অনুচ্ছেদ)।

অবৈধ সম্পর্ক গড়া মহা পাপ। যার শাস্তি হচ্ছে ১০০ বেত্রাঘাত এবং এক বছরের জন্য দেশান্তর (বুখারী, মিশকাত হা/৩৫৫৬)। এ অবস্থায় অনুতপ্ত হয়ে খালেছ তওবা করা আবশ্যক। নইলে গুনাহ মাফ হবে না।

এ সময় সে পূর্ণ মুমিন থাকে না। আবু হুরায়রা (রা:) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছা:) বলেছেন, ‘যখন কোন মানুষ যেনা করে তখন ঈমান তার থেকে বের হয়ে যায় এবং তার মাথার উপর ছায়ার মত হয়ে থাকে। যখন সে এ কাজ থেকে বিরত হয় তখন ঈমান তার কাছে ফিরে আসে’ (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৬০)। ইমাম বুখারী (রহ:) বলেন, তার ঈমান পূর্ণ থাকে না। তার জন্য ঈমানের আলো থাকে না (বুখারী, মিশকাত হা/৫৪)। এ অবস্থায় মারা গেলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে না।

উত্তর

উক্ত পাপগুলো আযাব নাযিল হওয়ার কারণ হতে পারে। কিন্তু এলাহী গযব নাযিলের বিধি এটা নয় যে, কেউ অন্যায় করার সাথে সাথে আল্লাহ তাকে পাকড়াও করেন। বরং তিনি তাকে তওবা করার অবকাশ দেন। তওবা না করলে প্রথমে ছোট ছোট আযাব দিয়ে তাকে হুঁশিয়ার করেন। এরপরেও তওবা না করলে বড় শাস্তি নাযিল করেন। এছাড়া তার জন্য আখেরাতে চূড়ান্ত শাস্তি নির্ধারিত থাকে। উল্লেখ্য যে, নেককার ব্যক্তিগণের জীবনে যে কষ্ট হয় এগুলি তাদের জন্য ঈমানের পরীক্ষা স্বরূপ। সেকারণ নবীগণই হ’লেন দুনিয়ায় সর্বাপেক্ষা বিপদগ্রস্ত মানুষ (তিরমিযী, মিশকাত হা/১৫৬২)। বিস্তারিত দেখুন: দরসে কুরআন ১২/১০ সংখ্যা জুলাই ’০৯ ‘এলাহী গযব নাযিলের বিধি, কারণ ও করণীয়’।

যিনা বিভিন্ন প্রকার হ’তে পারে। নিজের স্ত্রী বা দাসী ব্যতীত অন্য মহিলার সাথে জৈবিক চাহিদা পূরণ করাকে যৌনাঙ্গের যিনা বলে। এছাড়া চোখের যেনা হচ্ছে মাহরাম ব্যতীত অন্য মহিলার দিকে কামনার দৃষ্টি নিক্ষেপ করা। মুখের বা জিহবার যেনা হচ্ছে কামভাবে কথা বলা (বুখারী, ফাতহুল বারী হা/৬২৪৩, ১১/৩০)। অবিবাহিত ব্যভিচারীর শাস্তি ১০০ বেত্রাঘাত এবং বিবাহিতের শাস্তি হচ্ছে রজম (কোমর পর্যন্ত পুতে পাথর মেরে হত্যা) (ইবনু মাজাহ হা/২৫৫০; ইরওয়া হা/২৩৪১)। উল্লেখ্য, দেশের শাসক বা তার প্রতিনিধিই কেবল এ শাস্তি কার্যকর করতে পারেন (ফাতাওয়া লাজনা দায়িমাহ, ২২/৩৫)। যেনা-ব্যভিচার কবীরা গোনাহ। তওবা ব্যতীত এ গোনাহ মাফ হয় না। ব্যভিচারী ব্যক্তি ঐ গর্হিত কর্ম থেকে ফিরে আসার জন্য অনুতপ্ত হয়ে খালেছ অন্তরে তওবা করলে আল্লাহ তার তওবা কবুল করবেন ইনশাআল্লাহ (তওবা ৯/৮২; ফুরক্বান ৬৮-৭০)।