এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

ভয়ংকর বিষধর পাখি

পাখিকে ভয় পাবার প্রশ্নই ওঠে না। তাদের বুদ্ধিমত্তা বা শক্তিমত্তার কারণে নয়, মানুষ তাদের সমীহ করে বিষের ভয়েই। পাখি সৌন্দর্য আর শান্তির প্রতিক। কাক, পেঁচা আর শকুন জাতীয় পাখি ছাড়া অধিকাংশ পাখিকেই মানুষ পছন্দ করে। কিন্তু যদি পাখির বিষ থাকত! তাহলে ওর মতো ভয়ংকর প্রাণী হয়তো দ্বিতীয়টা আর মিলত না পৃথিবীতে। কারণ বিষের সাথে খানিকটা বুদ্ধি আর উড়তে পারার দক্ষতার মিশলে বিভীষিকার আরেক নাম হয়ে উঠত পাখি। কিন্তু আদৌ কি কোনো বিষাক্ত পাখি আছে? আটপৌরের বাঙালিয়ানা জীবন-যাপনে অভ্যস্ত সেসব মানুষ তো বটেই, পৃথিবীর কজন মানুষ জানে বিষাক্ত পাখিও রয়েছে আমাদের এই চেনা জগতে?কিন্তু শুনতে অবাক লাগলেও সত্যি যে পৃথিবীর তিন প্রজাতির পাখি নিজেদের শরীরে বিষ বহন করে। অন্তত Extrime Bird নামের একটি পাখি গবষণা বিষয়ক সংস্থা তাদের ওয়েব সাইটে জানাচ্ছে সেকথা।১৯৮৯ সালে জ্যাক ডামবাখার নামের এক জীব বিজ্ঞানী পাপুয়া নিউগিনিতে সর্বপ্রথম পাখির বিষধর স্বত্ত্বা আবিষ্কার করেন। সেই পাখিটির নাম হুডেড পিটোহুই (Hooded Pitohui)। এখনোও পর্যন্ত প্রাপ্ত তিন প্রজাতির বিষধর পাখিদের মধ্যে এদের বিষই সবচেয়ে বেশি। হুডেড পিটোহুই এর বিষ কিন্তু খুব বেশি তীব্র নয়। সাধারণ ইঁদুর মারা বিষের সমান। পাখিদের তো দাঁত নেই, তাহলে কোথায় থাকে তাদের বিষ। হুডেড পিটোহুই ঠোঁট ও নখর তো বিষাক্তই, সেই সাথে এদের প্রত্যেক পালকের গোড়ায় গোড়ায় থাকে বিষ। ধারণা করা হয় Choresine নামের পোকা হুডেড পিটোহুইদের প্রিয় খাদ্য; তাদের মাধ্যমেই এরা বিষাক্ত হয়ে ওঠে। হুডেড পিটোহুই বৈজ্ঞানিক নাম Pitohui dichrous. এমন নয় যে এই পাখিরা হুট করেই বিষাক্ত হয়ে গেছে। বরং শত শত বছর ধরেই এরা বিষধর বৈশিষ্ট্য নিজেদের ভেতর লালন করে আসছে। কিন্তু বিজ্ঞানীদের চোখ এড়িয়ে গেছে এটাই আশ্চর্যের বিষয়।