এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

নাম:
মুহাম্মাদ। উপাধী আবূ বাকর। শাইখুল ইসলাম পদবী ও উপাধীসহ পূর্ণাঙ্গ নাম হল “মুহাম্মাদ ইসহাক বিন খুযাইমাহ বিন মুগিরাহ বিন স্বালেহ বিন বাকর।

জন্ম:
হিজরী ২২৩ এর সফর মাসে নিশাপুরে জন্মলাভ করেন (আল-মুনতাযিম ইবনু জাওযী ৬/১৮৪;)।

শিক্ষক মন্ডলী:
তার বিশিষ্ট শিক্ষকগণের মধ্যে রয়েছেন : আবূ ক্বুদামাহ; আবূ কারীব; আহমাদ বিন মানি’য়; ইসহাক বিন মূসা খাত্বমী; বাশার বিন মু’আয ‘আক্বদী; আব্দুল জাব্বার বিন ‘আলা; ‘য়ুতবাহ বিন আব্দুল্লাহ মুহাম্মাদী; আলী বিন হুজুর; আলী বিন খুশার; মুহাম্মাদ বিন উবান মুসতামালী; মুহাম্মাদ বিন ইসলাম যাহাদ; মুহাম্মাদ বিন হারিব; মুহাম্মাদ বিন মুহরান; মুহাম্মাদ বিন গাইলান; নাস্বর বিন আলী জা’ফানী; ইউনুস বিন আব্দুল ‘আলা প্রমুখ।
ইসহাক বিন রাহওয়াহ ও মুহাম্মাদ বিন হামীদ রাযী হতেও তার সাক্ষাত ও জ্ঞান অর্জন করার সৌভাগ্য হয়েছে। কিন্তু সেই সময় অল্প ছিলো; যার কারণে সনদ হতে কোনো হাদীস তিনি বর্ণনা করেননি।

জ্ঞান অর্জন করতে বিদেশভ্রমণ:
তিনি দ্বীনি জ্ঞান অর্জন করার জন্যে নিজের দেশ ব্যতীতও বাগদাদ; বাসরাহ; কুফা; শাম; হিজায; ইরাক; মিসর ইত্যাতি দেশসমূহে গমন করেছিলেন।

স্বরণ শক্তি:
আল্লামা ইবনু হিব্বান (রহঃ) বলেন; “হাদীসের সনদ ও মতনের সাথে তার থেকে বেশি স্বরণকারী আমি দেখিনি”।
আবূ আহমাদ দারেমী স্বয়ং ইবনু খুযাইমাহ হতে তার স্বরণ শক্তির ব্যাপারে প্রশ্ন করলে তিনি উত্তরে বলেন; “আমি যেটা রচনা করি সেটা আমার স্বরণে গেঁথে যায়”। আবূ ‘আলী নিশাপুরী (রহঃ) বলেন; “যেরূপ ক্বারীর ক্বুরআনের সূরা মুখস্থ থাকে; অনুরূপ ইবনু খুযাইমাহর হাদীস মুখস্থ ছিলো”। ইমাম দারাকুৎনী (রহঃ) ও প্রমুখগণ বলেন ; “বহু জ্ঞানীগণ তাকে সিকাহ ও সাবিত বলেও আখ্যায়িত করেছেন”। ইবনু হিব্বান (রহঃ) বলেন; “জমীনের বুকে সুন্নাত ও হাদীসের সঠিক শব্দ ও তা স্বরণ রাখার স্বৃতীশক্তি তার মুকাবেলায় আর কোনো ব্যক্তি নায়। এমন মনে হয় যেনো সুন্নাত ও হাদীসের সমস্ত বিষয় তার দৃষ্টির সম্মুখে উপস্থিত থাকে” (তাজকিরাতুল হুফ্ফাজ ২/২৮৯; তাবাক্বাত আশশাফেয়ী ২/১৩১-১৩৪;

সুন্নাতের অনুসরণ:
সুন্নাতে নাববীর অনুসরণে তিনি খুবই যত্নবান ছিলেন। ছোটো ছোটো ব্যাপারেও তিনি সুন্নাতের দিকে দৃষ্টিপাত করে কাজ করতেন। একবার তাকে গোসলখানায় চুল কাটতে বলা হলে তিনি বলেন; আমার নিকটে এটা প্রমাণিত নয় যে; রসূলুল্লাহ (সাঃ) গোসলখানায় প্রবেশ করে চুল কেটেছেন। আবূ বিন ইসমাঈল বলেন; আমি ইবনু খুযাইমাহর দারসের মাহফিলে শরীক হতাম। আর তিনি অধিকাংশ সময়ে ছোটোখাটো বিষয়ে সহযোগিতা নিতেন। একবার আমার ডান হাতে খুব ব্যাথা হয়েছিল এজন্য আমি তাকে বাম হাতে কলম দিতে চাইলে তিনি তা নিলেন না। আমার সঙ্গী আমায় ডান হাত দিয়ে কলম দিতে বললেন। যখন আমি তা ডান হাতে দিলাম তখন তিনি তা নিলেন (তাবাক্বাত আশশাফয়ী ২/১৩১)।

ইমামতী ও সম্মান:
আল্লাহ তা’য়ালা তাকে বড়ো মর্যাদা ও সম্মান প্রদান করেছিলেন। ইমামুল যুগ উপাধীও তিনি পেয়েছিলেন। তিনি তার যুগে খুরাসানের ইমাম ছিলেন। তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করার জন্য বিশিষ্ট আলিম ও তালিবে ইলমদের লাইন পড়ে যেতো। অনেক বড়ো জ্ঞানী বিদ্যানগণও দূর-দূরান্ত হতে সফর করে তার নিকট উপস্থিত হতেন। তার সুন্দর ও নরম ব্যবহার এমন ছিলো যে; তার মধ্যে কখনো অহংকার প্রকাশ পেত না। প্রথমবার যখন আমীর ইসমাঈল বিন আহমাদের সঙ্গে তার সাক্ষাত হয় তখন তিনি সাধারণ ব্যবহারের কারণে বুঝতেই পারেননি যে; ইনি ইবনু খুযাইমাহ; পরে যখন তিনি জানতে পারলেন যে ; তিনি ইবনু খুযাইমাহ ছিলেন। তখন তিনি লজ্জিত হয়ে পড়লেন ও পরে খুব সম্মান দিয়ে তার সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন তাবাক্বাত আশশাফেয়ী ২/১৩৪;

সহীহ ইবনু খুযাইমাহ :
এই গ্রন্থটি আল্লামা ইবনু খুযাইমাহর সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ গ্রন্থ। এর গণনা প্রসিদ্ধ হাদীসের গ্রন্থগুলির মদ্ধে হয়ে থাকে।
এগুলো ছিলো ইমাম ইবনু খুযাইমাহ সম্পর্কে সংক্ষিপ্ত আলোচনা।