এসো হাদিস পড়ি ?
এসো হাদিস পড়ি ?
হাদিস অনলাইন ?

-♥- ﻛِﺘَﺎﺏُ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ -♥

♥-ওযু সম্পর্কে বর্ণনার পর্ব -♥

========================================================================

1-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ اﻟْﺨَﺒَﺮِ اﻟﺜَّﺎﺑِﺖِ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑِﺄَﻥَّ ﺇِﺗْﻤَﺎﻡَ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻣِﻦَ اﻹِْﺳْﻼَﻡ

অধ্যায় ১: নাবী (সাঃ) থেকে প্রমাণিত হাদীসের বর্ণনা যে; ওযুর সমাপ্তি (ওযুকে পূর্ণ করা) ইসলামের পরিপূর্ণতা।

1 – ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏَ ﻳُﻮﺳُﻒُ ﺑْﻦُ ﻭَاﺿِﺢٍ اﻟْﻬَﺎﺷِﻤِﻲُّ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ اﻟْﻤُﻌْﺘَﻤِﺮُ ﺑْﻦُ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦِ ﻳَﻌْﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ: – ﻳَﻌْﻨِﻲ – ﻟِﻌَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ: ﻳَﺎ ﺃَﺑَﺎ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﺇِﻥَّ ﺃَﻗْﻮَاﻣًﺎ ﻳَﺰْﻋُﻤُﻮﻥَ ﺃَﻥْ ﻟَﻴْﺲَ ﻗَﺪَﺭٌ ﻗَﺎﻝَ: ﻫَﻞْ ﻋِﻨْﺪَﻧَﺎ ﻣِﻨْﻬُﻢْ ﺃَﺣَﺪٌ؟ ﻗُﻠْﺖُ: ﻻَ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺄَﺑْﻠِﻐْﻬُﻢْ ﻋَﻨِّﻲ ﺇِﺫَا ﻟَﻘِﻴﺘَﻬُﻢْ ﺃَﻥَّ اﺑْﻦَ ﻋُﻤَﺮَ ﻳَﺒْﺮَﺃُ ﺇِﻟَﻰ اﻟﻠَّﻪِ ﻣِﻨْﻜُﻢْ، ﻭَﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺑُﺮَﺁءُ ﻣِﻨْﻪُ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻋُﻤَﺮُ ﺑْﻦُ اﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﻗَﺎﻝَ: ﺑَﻴْﻨَﻤَﺎ ﻧَﺤْﻦُ ﺟُﻠُﻮﺱٌ ﻋِﻨْﺪَ ﺭَﺳُﻮﻝِ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓِﻲ ﺃُﻧَﺎﺱٍ، ﺇِﺫْ ﺟَﺎءَ ﺭَﺟُﻞٌ ﻟَﻴْﺲَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺳَﺤْﻨَﺎءُ ﺳَﻔَﺮٍ، ﻭَﻟَﻴْﺲَ ﻣِﻦْ ﺃَﻫْﻞِ اﻟْﺒَﻠَﺪِ ﻳَﺘَﺨَﻄَّﻰ ﺣَﺘَّﻰ ﻭَﺭَﺩَ، ﻓَﺠَﻠَﺲَ ﺑَﻴْﻦَ ﻳَﺪَﻱْ ﺭَﺳُﻮﻝِ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﻳَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ §ﻣَﺎ اﻹِْﺳْﻼَﻡُ؟ ﻗَﺎﻝَ: «اﻹِْﺳْﻼَﻡُ ﺃَﻥْ ﺗَﺸْﻬَﺪَ ﺃَﻥْ ﻻَ ﺇِﻟَﻪَ ﺇِﻻَّ اﻟﻠَّﻪُ، ﻭَﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪًا ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ، ﻭَﺃَﻥْ ﺗُﻘِﻴﻢَ اﻟﺼَّﻼَﺓَ، ﻭَﺗُﺆْﺗِﻲَ اﻟﺰَّﻛَﺎﺓَ، ﻭَﺗَﺤُﺞَّ اﻟْﺒَﻴْﺖَ ﻭَﺗَﻌْﺘَﻤِﺮَ، ﻭَﺗَﻐْﺘَﺴِﻞَ ﻣِﻦَ اﻟْﺠَﻨَﺎﺑَﺔِ، ﻭَﺃَﻥْ ﺗُﺘِﻢَّ اﻟْﻮُﺿُﻮءَ، ﻭَﺗَﺼُﻮﻡَ ﺭَﻣَﻀَﺎﻥَ» . ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺈِﺫَا ﻓَﻌَﻠْﺖُ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﺄَﻧَﺎ ﻣُﺴْﻠِﻢٌ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﻧَﻌَﻢْ» ﻗَﺎﻝَ: ﺻَﺪَﻗْﺖَ «ﻭَﺫَﻛَﺮَ اﻟْﺤَﺪِﻳﺚَ ﺑِﻄُﻮﻟِﻪِ ﻓِﻲ اﻟﺴُّﺆَاﻝِ ﻋَﻦِ اﻹِْﻳﻤَﺎﻥِ ﻭَاﻹِْﺣْﺴَﺎﻥِ ﻭَاﻟﺴَّﺎﻋَﺔِ»

১: ইয়াহইয়া বিন ইয়া’মার হতে বর্ণিত। তিনি বলেন যে; আমি আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাযিঃ) কে বললাম; হে আবূ আব্দুর রহমান! কিছু লোকের আক্বীদা হচ্ছে যে; তাকদীর (বলতে কিছুই) নেই। তিনি জিজ্ঞেস করলেন; আমাদের নিকট কি তাদের (মধ্যে) কেউ উপস্থিত আছে? আমি বললাম; জি হাঁ; (উপস্থিত আছে)। তিনি বললেন; যখন তুমি তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করবে তখন আমার পক্ষ হতে তাদের এই সংবাদ দিবে যে; ইবনু উমার (রাযিঃ) আল্লাহ তা’য়ালার পক্ষ হতে তোমাদের উপর নারাজ এবং তিনি তোমাদের হতে সম্পর্কছেদের কথা ঘোষণা করেছেন। অতঃপর তিনি বললেন; আমাকে উমার বিন খাত্তাব (রাযিঃ) বলেছেন; একদা আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর নিকট বসে ছিলাম। হঠাৎ এক ব্যক্তি এলো। তার উপর সফরের চিহ্ন ছিল; আর সে শহরের বাসিন্দা ছিল না। সে অতি দ্রুত চলে এসে রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সম্মুখে বসে পড়লো। সে জিজ্ঞাসা করলো; হে মুহাম্মাদ(সাঃ)! ইসলাম কী?  তিনি বললেন; “ইসলাম হল তুমি সাক্ষ্য  প্রদান করবে যে; আল্লাহ ব্যতীত কোন উপাস্য (মা’বুদ) নেই এবং মুহাম্মাদ (সাঃ) আল্লাহর রসূল। তারপর স্বলাত প্রতিষ্ঠা করবে; যাকাত দিবে; বায়তুল্লাহর হজ্জ করবে; উমরাহ আদায় করবে; ফরয গোসল করবে এবং পরিপূরর্ণরূপে ওযু করবে ও রমযান মাসের স্বিয়াম পালন করবে”। সে বললো; যখন আমি এই-(ফরয)-গুলো পালন করব তখন কি আমি মুসলিম?  তিনি বললেন; হাঁ (তুমি এইগুলো পালন করে মুসলিম হয়ে যাবে)। সে বললো; আপনি সত্য বলেছেন। তিনি ঈমান; এহসান ও কিয়ামতের ব্যাপারে প্রশ্নের সম্পর্কে পূর্ণ হাদীস বর্ণনা করেছেন।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ৮; আবুদাঊদ হাঃ ৪৬৯৫;
ব্যাখ্য:
তাকদীরের ভালো ও মন্দের উপর বিশ্বাস স্থাপন হল ঈমানের অঙ্গ। আর তাকদীরের উপর বিশ্বাস স্থাপন না করলে ঈমান পূর্ণতাপ্রাপ্ত হয় না। তাকদীরের উপর যারা বিশ্বাস স্থাপন করে না; নাবী (সাঃ) তাদেরকে উম্মাতে মুহাম্মাদীর মাজুসী বলেছেন। ইবনু উমার (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। নাবী (সাঃ) বলেছেন: اﻟﻘﺪﺭﻳﺔ ﻣﺠﻮﺱ ﻫﺬﻩ اﻷﻣﺔ: ﺇﻥ ﻣﺮﺿﻮا ﻓﻼ ﺗﻌﻮﺩﻭﻫﻢ، ﻭﺇﻥ ﻣﺎﺗﻮا ﻓﻼ ﺗﺸﻬﺪﻭﻫﻢ তাকদীরকে অস্বীকারকারীগণ হচ্ছে এই উম্মাতের অগ্নিপূজক। সুতরাং তারা রোগাক্রান্ত হলে তোমরা তাদেরকে দেখতে যাবে না এবং তারা মারা গেলে তাদের জানাযায় উপস্থিত হবে না (আবুদাঊদ হাঃ ৪৬৯১)।
২: তাওহীদ ও রিসালাত এর সাক্ষ্য প্রদান করা; স্বলাত প্রতিষ্ঠা করা; যাকাত প্রদান করা; রমযানের স্বিয়াম পালন করা ও সামর্থ থাকলে হজ্জ পালন করা; এই পাঁচটি হল ইসলামের স্তম্ভ ;যার উপর ইসলাম প্রতিষ্ঠিত। এর মধ্যে যেকোন একটিকে অস্বীকার করলে মানুষ দ্বীন ইসলাম হতে খারিজ হয়ে যায়। সুতরাং পরিপূর্ণ মুসলিম হতে গেলে এই সমস্ত আরকানগুলো পালন করা জরুরী।
৩: উমরাহ করা ইসলামের স্তম্ভের মধ্যে গণ্য নয়। এটা পালন করা ভাল এবং হজ্জের মরসুমে উমরাহ পালন করা মুসতাহাব।
৪: স্বলাত আদায় করার জন্য ওযুর পরিপর্ণ হওয়া জরুরী। বিনা ওযুতে স্বলাত হবে না; আর উত্তম ওযুর জন্য ওযুর নিয়মগুলে পালন করা জরুরী। ওযু যদি অপূর্ণ থেকে যায় তাহলে স্বলাত হবে না। তাই ওযুর শর্ত পালন করতে হবে। ওযুর নিয়মগুলো হল :
১: মাথার মাসাহ থেকে নিয়ে সমস্ত অঙ্গগুলো এক একবার করে ধোয়া জরুরী। এর মধ্যে কোন একটা ছুটে গেলে ওযু অসম্পূর্ণ থেকে যায়; আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাযিঃ) বর্ণনা করেন; ﺭﺟﻌﻨﺎ ﻣﻊ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻦ ﻣﻜﺔ ﺇﻟﻰ اﻟﻤﺪﻳﻨﺔ ﺣﺘﻰ ﺇﺫا ﻛﻨﺎ ﺑﻤﺎء ﺑﺎﻟﻄﺮﻳﻖ ﺗﻌﺠﻞ ﻗﻮﻡ ﻋﻨﺪ اﻟﻌﺼﺮ، ﻓﺘﻮﺿﺌﻮا ﻭﻫﻢ ﻋﺠﺎﻝ ﻓﺎﻧﺘﻬﻴﻨﺎ ﺇﻟﻴﻬﻢ ﻭﺃﻋﻘﺎﺑﻬﻢ ﺗﻠﻮﺡ ﻟﻢ ﻳﻤﺴﻬﺎ اﻟﻤﺎء ﻓﻘﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ اﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ: «§ﻭﻳﻞ ﻟﻷﻋﻘﺎﺏ ﻣﻦ اﻟﻨﺎﺭ আমরা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর সঙ্গে মক্কা হতে মদীনাহর দিকে যাত্রা করলাম। আমরা যখন পথে পানির নিকট পৌছালাম কিছু লোক আসরের স্বলাতের সময় (আসরের স্বলাত আদায়ের জন্য) সেখানে অবস্থান করল এবং তারা ওযু করাতে তাড়াহুড়ো করল। সুতরাং যখন আমরা তাদের নিকট পৌছালাম তখন তাদের (শুকনো) গুড়ালী চমকাচ্ছিল যাতে পানি লাগেনি। তার জন্য রসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন; (ওযুতে শুকনো থেকে যাওয়া)  গুড়ালীর জন্য (জাহান্নামের) আগুন রয়েছে (তোমরা ওযু পরিপূর্ণ কর) (মুসলিম হাঃ ২৪১)। এমনই আরো একটি রিওয়াআত বর্ণিত রয়েছে আব্দুল্লাহ বিন হারিস (রাযিঃ) থেকে। রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : “ওযুতে শুকনো থেকে যাওয়া গুড়ালী ও পায়ের ভিতরের (আঙুলের ফাঁক) অংশের জন্য (জাহান্নামের) আগুন রয়েছে”।(সহীহ জামিউস সাগীর হাঃ ৭১৩৩)।
২: ওযুর শুরুতে “বিসমিল্লাহ” পড়া ওযু পরিপূর্ণ হওয়ার শর্ত। আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) বর্ণনা করেন যে; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন: ﻻ ﺻﻼﺓ ﻟﻤﻦ ﻻ ﻭﺿﻮء ﻟﻪ، ﻭﻻ ﻭﺿﻮء ﻟﻤﻦ ﻟﻢ ﻳﺬﻛﺮ اﺳﻢ اﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ “বিনা ওযুতে স্বলাত নাই; আর যে ওযুতে আল্লাহর নাম (বিসমিল্লাহ) বলেনি তার ওযু নাই” (ইবনুমাজাহ হাঃ ৩৯৯; সহীহুল জামে হাঃ ৭৫১৪)।

2-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ ﻓَﻀَﺎﺋِﻞِ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﺻَﻼَﺓٌ ﻣَﻜْﺘُﻮبة

অধ্যায় ২: সেই ওযুর ফযিলতের বর্ণনা; যার পর ফরয স্বলাত আদায় করা হয়।

2 – ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺑَﺸَّﺎﺭٍ، ﺛﻨﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﺳَﻌِﻴﺪٍ اﻟْﻘَﻄَّﺎﻥُ، ﻭَﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ اﻟْﻌَﻼَءِ ﺑْﻦِ ﻛُﺮَﻳْﺐٍ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺃُﺳَﺎﻣَﺔَ، ﻭَﺛﻨﺎ ﺳَﻌِﻴﺪُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ اﻟْﻤَﺨْﺰُﻭﻣِﻲُّ، ﺛﻨﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ ﻛُﻠُّﻬُﻢْ ﻋَﻦْ ﻫِﺸَﺎﻡِ ﺑْﻦِ ﻋُﺮْﻭَﺓَ، ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﺃَﺑِﻲ، ﻋَﻦْ ﺣُﻤْﺮَاﻥَ ﺑْﻦِ ﺃَﺑَﺎﻥَ ﺃَﻧَّﻪُ ﺃَﺧْﺒَﺮَ ﻗَﺎﻝَ: ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦَ ﻋَﻔَّﺎﻥَ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﻮَﺿُﻮءٍ ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄَ ﻋَﻠَﻰ اﻟْﺒَﻼَﻁِ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃُﺣَﺪِّﺛُﻜُﻢْ ﺑِﺤَﺪِﻳﺚٍ ﺳَﻤِﻌْﺘُﻪُ ﻣِﻦْ ﺭَﺳُﻮﻝِ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «§ﻣَﻦْ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻓَﺄَﺣْﺴَﻦَ اﻟْﻮُﺿُﻮءَ، ﻭَﺻَﻠَّﻰ، ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺑَﻴْﻨَﻪُ ﻭَﺑَﻴْﻦَ اﻟﺼَّﻼَﺓِ اﻷُْﺧْﺮَﻯ» ﻫَﺬَا ﻟَﻔْﻆُ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦِ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ”

২: হুমরান বিন উবান হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; আমি উসমান বিন আফফান (রাযিঃ) কে দেখেছি তিনি ওযুর জন্য পানি আনালেন এবং কঠিন (শক্ত জমীনে) এর উপর ওযু করলেন; অতঃপর বললেন; আমি তোমাকে রসূলুল্লাহ (সাঃ) থেকে শোনা একটি হাদীস শোনাচ্ছি। তিনি বলেন; আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি; তিনি বলতেন; “যে  ব্যক্তি সুন্দরভাবে ওযু করলো এবং তারপর স্বলাত আদায় করলো ; তার সেই স্বলাত ও তার পেছনের স্বলাতের মধ্যবর্তী সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়”।
★সনদ সহীহ। সহীহুল মুসলিম হাঃ ২২৭; নাসাঈ হাঃ ৮৭;،
এর অর্থ হল; ওযুর নিয়ম সম্পূর্ণভাবে পালন করে ওযু করা। আর ওযুর পর স্বলাত আদায় ও তার আগের স্বলাত আদায়ের মধ্যবর্তী যে গুনাহসমূহ ক্ষমা করে দেওয়া হয় সেটা হল ছোটোখাটো গুনাহ বড় বা কাবিরা গুনাহ নয়। আর সাগীরা বা ছোট গুনাহ যদি না থাকে তো কাবিরা গুনাহ থেকেও মানুষ দূরে থাকে এবং উভয় গুনাহ হতে পাক ও  পবিত্রতা অর্জন করলে মানুষের মর্যাদা বৃদ্ধি পেতে থাকে এবং গুনাহ ক্ষমা হয়ে তা নেকীতে পরিবর্তন হয়ে থাকে; এটা আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালার বিরাট দয়া তার একনিষ্ঠ ইবাদতকারী বান্দাদের জন্য। তাই সুন্দরভাবে ওযুর নিয়মকে মেনে ওযু করে স্বলাত আদায় করতে হবে এই সওয়াব অর্জন করতে হলে।

3-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ ﻓَﻀْﻞِ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﺛَﻼَﺛًﺎ ﺛَﻼَﺛًﺎ ﻳَﻜُﻮﻥُ ﺑَﻌْﺪَﻩُ ﺻَﻼَﺓُ ﺗَﻄَﻮُّﻉٍ، ﻻَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ اﻟْﻤُﺼَﻠِّﻲ ﻓِﻴﻬَﺎ ﻧَﻔْﺴَﻪ

অধ্যায় ৩: সেই ওযুর ফযিলত এর বর্ণনা; যাতে অঙ্গ তিন তিন বার করে ধুয়ে ওযু করা হয়। তারপর নফল স্বলাত আদায় করা হয়; যাতে স্বলাত আদায়কারী নিজের নাফসের সঙ্গে আলাপ না করে।

3 – ﺛﻨﺎ ﻳُﻮﻧُﺲُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻷَْﻋْﻠَﻰ اﻟﺼَّﺪَﻓِﻲُّ، ﺛﻨﺎ اﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻳُﻮﻧُﺲُ، ﻋَﻦِ اﺑْﻦِ ﺷِﻬَﺎﺏٍ، ﻭَﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟْﺤَﻜَﻢِ، ﺃَﻥَّ اﺑْﻦَ ﻭَﻫْﺐٍ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻫُﻢْ ﻗَﺎﻝَ: ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧِﻲ ﻳُﻮﻧُﺲُ، ﻋَﻦِ اﺑْﻦِ ﺷِﻬَﺎﺏٍ، ﺃَﻥَّ ﻋَﻄَﺎءَ ﺑْﻦَ ﻳَﺰِﻳﺪَ اﻟﻠَّﻴْﺜِﻲَّ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ، ﺃَﻥَّ ﺣُﻤْﺮَاﻥَ ﻣَﻮْﻟَﻰ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺃَﺧْﺒَﺮَﻩُ، ﺃَﻥَّ ﻋُﺜْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦَ ﻋَﻔَّﺎﻥَ «ﺩَﻋَﺎ ﻳَﻮْﻣًﺎ ﺑِﻮَﺿُﻮءٍ، ﻓَﺘَﻮَﺿَّﺄَ، ﻓَﻐَﺴَﻞَ ﻛَﻔَّﻴْﻪِ ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّاﺕٍ ﻭَاﺳْﺘَﻨْﺜَﺮَ، ﺛُﻢَّ ﻏَﺴَﻞَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّاﺕٍ، ﺛُﻢَّ ﻏَﺴَﻞَ ﻳَﺪَﻩُ اﻟْﻴُﻤْﻨَﻰ ﺇِﻟَﻰ اﻟْﻤِﺮْﻓَﻖِ ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّاﺕٍ، ﺛُﻢَّ ﻏَﺴَﻞَ ﻳَﺪَﻩُ اﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ ﻣِﺜْﻞَ ﺫَﻟِﻚَ، ﺛُﻢَّ ﻣَﺴَﺢَ ﺑِﺮَﺃْﺳِﻪِ، ﺛُﻢَّ ﻏَﺴَﻞَ ﺭِﺟْﻠَﻪُ اﻟْﻴُﻤْﻨَﻰ ﺇِﻟَﻰ اﻟْﻜَﻌْﺒَﻴْﻦِ ﺛَﻼَﺙَ ﻣَﺮَّاﺕٍ، ﺛُﻢَّ ﻏَﺴَﻞَ ﺭِﺟْﻠَﻪُ اﻟْﻴُﺴْﺮَﻯ ﻣِﺜْﻞَ ﺫَﻟِﻚَ» ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻧَﺤْﻮَ ﻭُﺿُﻮﺋِﻲ ﻫَﺬَا» ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: «§ﻣَﻦْ ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻧَﺤْﻮَ ﻭُﺿُﻮﺋِﻲ ﻫَﺬَا، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻡَ ﻓَﺮَﻛَﻊَ ﺭَﻛْﻌَﺘَﻴْﻦِ ﻻَ ﻳُﺤَﺪِّﺙُ ﻓِﻴﻬِﻤَﺎ ﻧَﻔْﺴَﻪُ ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ» ﻗَﺎﻝَ اﺑْﻦُ ﺷِﻬَﺎﺏٍ: ” ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋُﻠَﻤَﺎﺅُﻧَﺎ ﻳَﻘُﻮﻟُﻮﻥَ: ﻫَﺬَا اﻟْﻮُﺿُﻮءُ ﺃَﺳْﺒَﻎُ ﻣَﺎ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄَ ﺑِﻪِ ﺃَﺣَﺪٌ ﻟِﻠﺼَّﻼَﺓِ ”

৩: উসমান (রাযিঃ) এর আযাদকৃত গোলাম হুমরান থেকে বর্ণিত। তিনি উসমান (রাযিঃ) কে দেখেছেন যে; তিনি একদিন পানি আনিয়ে ওযু করলেন; তাতে তিনি দুই হাত তিনবার ধুলেন; আর নাক (এর মধ্যে পানি দিয়ে তাকে) তিনবার ঝাড়লেন; তারপর নিজের মুখমন্ডল তিনবার ধুলেন। অতঃপর তার ডান হাত তিনবার কনুই পর্যন্ত ধুলেন এবং বাম হাতও তিনবার কনুই পর্যন্ত ধুলেন। তারপর তার মাথা মাসাহ করলেন। অতঃপর ডান পা টাখনু পর্যন্ত তিনবার ধুলেন; অনুূুরূপ বাম পাও (তিনবার) ধুলেন। তারপর বললেন; আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে দেখেছি তিনি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করেছেন। তারপর রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; “যে ব্যক্তি আমার এই ওযুর ন্যায় ওযু করবে তারপর দাঁড়িয়ে দুই রাকআত স্বলাত করবে যাতে তার অন্তরে কোন কল্পনার উদয় হয়নি; তবে তার পেছনের সকল গুনাহ ক্ষমা করে দেওয়া হয়”। ইবনু সাহিব বলেন; আমাদের আ’লিমরা বলতেন; এটা সেই পরিপূর্ণ ওযু যেটা কেউ স্বলাতের জন্য করে।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২২৬; বুখারী হাঃ ১৫৯; নাসাঈ হাঃ ৮৬; আবুদাঊদ হাঃ ১০৬;
ব্যাখ্যা:
এই হাদীস প্রমাণ করে যে; ওযুতে অঙ্গসমূহ এক একবার করে ধুয়া ফরয; একের বেশি দুই অথবা তিনবার ধুয়া উত্তম। সুতরাং সমস্ত আ’লিমগণের সম্মিলিত নীতিমালা এটা যে; এটা ওযুকারী ব্যক্তির ইচ্ছার উপর নির্ভর করছে; সে চায়লে ওযুর সমস্ত অঙ্গগুলো এক একবার করে বা দুই দুইবার করে কিংবা তিন তিনবার করে ধুতে পারে। এর সুবিধা শরীআতে রয়েছে (শারাহ ইবনু বাত্বাল ১/২৬৭)।
২: বর্ণিত তরীকানুযায়ী ওযু করলে সমস্ত সগীরা গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়।
৩: ওযুর পর দুই অথবা দুই এর বেশি রাকআত স্বলাত আদায় পড়া মুসতাহাব ও সুন্নাতে মুআক্কাদাহ। আর কিছু শাফিয়ীদের মত যে; ওযুর পর নফল স্বলাত পড়াই হচ্ছে উত্তম যদি ফরয স্বলাতের সময় সেটা না হয়। কেননা; সহীহ বুখারীতে বর্ণিত “বিলাল (রাযিঃ) যখনই ওযু করতেন তখনই দুই রাকআত নফল স্বলাত পড়তেন”  হাদীস অনুযায়ী ওযুর পর নফল স্বলাত সবসময়ই আদায় করা যায়। আর যদি ওযুর পর ফরয স্বলাত কিংবা কোন খাস নফল স্বলাত আদায় করা হয় তবুও এই ফযিলত অর্জন হয়ে যায়। এভাবে ওযুর পর তাহিয়্যাতুল মাসজিদ স্বলাত পড়লেও বর্ণিত ফযিলত পাওয়া যাবে (নাববী ৩/১০৭)।
৪: ﻏُﻔِﺮَ ﻟَﻪُ ﻣَﺎ ﺗَﻘَﺪَّﻡَ ﻣِﻦْ ﺫَﻧْﺒِﻪِ হাদীসের এই শব্দে সমস্ত গুনাহ ক্ষমা হওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু বিশিষ্ট আ’লিমরা এটাকে সাগীরা গুনাহের সঙ্গে খাস করেছেন। কেননা; অন্যান্য রিওয়াআত অনুযায়ী কেবলমাত্র সাগীরা গুনাহের ক্ষমা হওয়ার কথা এসেছে।আর সাগীরা গুনাহের ক্ষমা সেই ব্যক্তির জন্য খাস; যার সাগীরা ও কাবিরা উভয় গুনাহ আছে। সুতরাং যার কেবল সাগীরা গুনাহ আছে (বর্ণিত পদ্ধতি অনুযায়ী ওযুর পর স্বলাত পড়লে পরে) সাগীরাহ গুনাহ সমূহ ক্ষমা হয়ে যায়। আর যার কাবীরা গুনাহ আছে; তার গুনাহের ভার অনেকটাই কমে যায়। অতঃপর তাওবাহ করলে পরে সাগীরা ও কাবিরা গুনাহ সমূহ নেকিতে পরিবর্তিত হয়ে য়ায়।
৫: এই হাদীসে জ্ঞানের প্রশিক্ষণ এর কথাও রয়েছে। কেননা; জ্ঞান অর্জন করার পর সেই জ্ঞান অনুযায়ী ওযু করে স্বলাত আদায় করলে তবেই গুনাহ হতে মুক্তি পাওয়ার উপায় জানা সহজ হয়।
৬: এই হাদীসে ওযুর অঙ্গসমূহের ধুয়ার পদ্ধতির বর্ণনা রয়েছে। কেননা শরীরের সব অঙ্গ ধুয়ার প্রয়োজন নাই।কেবলমাত্র নির্দিষ্ট অঙ্গগুলোই ধুতে হবে।
৭: স্বলাতে নিয়ত পরিষ্কার রাখার বর্ণনা রয়েছে। আর স্বলাতের মধ্যে প্রবেশ করে গেলে পৃথিবীর সমস্ত চিন্তাভাবনা থেকে বেঁচে থাকার বর্ণনা এই হাদীসের মধ্যে বিদ্যমান রয়েছে। কেননা এটা স্বলাত কবুল হবার প্রধান শর্তের মধ্যে অন্তর্ভুক্ত (ফাৎহুলবারী)।

4-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ ﺣَﻂِّ اﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ ﺑِﺎﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺫِﻛْﺮِ ﺻَﻼَﺓٍ ﺗَﻜُﻮﻥُ ﺑَﻌْﺪَﻩ

অধ্যায় ৪: স্বলাত না পড়েও কেবল ওযু করলে গুনাহ ক্ষমা হয় তার বর্ণনা।ُ

4 – ﺛﻨﺎ ﻳُﻮﻧُﺲُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻷَْﻋْﻠَﻰ اﻟﺼَّﺪَﻓِﻲُّ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ اﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﺃَﻥَّ ﻣَﺎﻟِﻜًﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻪُ، ﻋَﻦْ ﺳُﻬَﻴْﻞِ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﺻَﺎﻟِﺢٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ: «§ﺇِﺫَا ﺗَﻮَﺿَّﺄَ اﻟْﻌَﺒْﺪُ اﻟْﻤُﺴْﻠِﻢُ ﺃَﻭِ اﻟْﻤُﺆْﻣِﻦُ ﻓَﻐَﺴَﻞَ ﻭَﺟْﻬَﻪُ ﺧَﺮَﺟَﺖْ ﻣِﻦْ ﻭَﺟْﻬِﻪِ ﻛُﻞُّ ﺧَﻄِﻴﺌَﺔٍ ﻧَﻈَﺮَ ﺇِﻟَﻴْﻬَﺎ ﺑِﻌَﻴْﻨَﻴْﻪِ ﻣَﻊَ اﻟْﻤَﺎءِ ﺃَﻭْ ﻣَﻊَ ﺁﺧِﺮِ ﻗَﻄْﺮِ اﻟْﻤَﺎءِ، ﻓَﺈِﺫَا ﻏَﺴَﻞَ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﺧَﺮَﺝَ ﻣِﻦْ ﻳَﺪَﻳْﻪِ ﻛُﻞُّ ﺧَﻄِﻴﺌَﺔٍ ﻛَﺎﻥَ ﺑَﻄَﺸَﺘْﻬَﺎ ﻳَﺪَاﻩُ ﻣَﻊَ اﻟْﻤَﺎءِ ﺃَﻭْ ﻣَﻊَ ﺁﺧِﺮِ ﻗَﻄْﺮِ اﻟْﻤَﺎءِ، ﻓَﺈِﺫَا ﻏَﺴَﻞَ ﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ ﺧَﺮَﺟَﺖْ ﻛُﻞُّ ﺧَﻄِﻴﺌَﺔٍ ﻣَﺸَﺘْﻬَﺎ ﺭِﺟْﻼَﻩُ ﻣَﻊَ اﻟْﻤَﺎءِ ﺃَﻭْ ﻣَﻊَ ﺁﺧِﺮِ ﻗَﻄْﺮِ اﻟْﻤَﺎءِ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺨْﺮُﺝَ ﻧَﻘِﻴًّﺎ ﻣِﻦَ اﻟﺬُّﻧُﻮﺏِ»

৪: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; যখন কোন মুসলমান মু’মিন বান্দা ওযু করে এবং তার মুখমন্ডল ধৌত করে; তখন পানি বা পানির শেষ বিন্দুর (তার মুখমন্ডল থেকে ঝরে পড়া) শেষ  ফোটার সঙ্গে সঙ্গে তার মুখমন্ডল হতে সেই সব গুনাহ ঝরে যায় যা সে তার চোখ দিয়ে দেখেছিল। অতঃপর যখন সে হাত ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে বা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে তার হাত হতে সেইসব গুনাহ ঝরে যায় যা তার হাত করেছিল। অতঃপর যখন সে তার পা ধৌত করে তখন পানির সঙ্গে অথবা পানির শেষ বিন্দুর সঙ্গে তার সেইসব গুনাহ ঝরে যায় যার দিকে তার পা হেঁটে গিয়েছিল। এমনকি সে গুনাহ হতে পরিষ্কার হয়ে যায়।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২৪৪; তিরমিযী হাঃ ২; মুওয়াত্তা ইমাম মালিক হাঃ ৬০; দারেমী হাঃ ৭১৮; ইবনু হিব্বান হাঃ ১০৪;
ব্যাখ্য:
এই হাদীসে ওযুর ফযিলত ও ওযুর অঙ্গসমূহ ধৌত করার মর্যাদার বর্ণনা রয়েছে যে; ওযুর মধ্যে শরীরের বিশেষ বিশেষ অঙ্গসমূহ ধৌত করার সঙ্গে সঙ্গে দয়াবান আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা তার বান্দার উক্ত অঙ্গসমূহ দ্বারা সংঘটিত সাগীরা বা ছোট গুনাহ সমূহ ক্ষমা করে দেন। আর ওযু শেষ করার সঙ্গে সঙ্গে সে সমস্ত ছোট গুনাহ হতে পবিত্রতা অর্জন করে ফেলে।তারপর স্বলাত আদায় করা ও অন্যান্য আমল করা তার নেকিতে বৃদ্ধি ঘটায়।

5-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ ﺣَﻂِّ اﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ، ﻭَﺭَﻓْﻊِ اﻟﺪَّﺭَﺟَﺎﺕِ ﻓِﻲ اﻟْﺠَﻨَّﺔِ ﺑِﺈِﺳْﺒَﺎﻍِ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻋَﻠَﻰ اﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩِ، ﻭَﺇِﻋْﻄَﺎءِ ﻣُﻨْﺘَﻈِﺮِ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺑَﻌْﺪَ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺃَﺟْﺮَ اﻟْﻤُﺮَاﺑِﻂِ ﻓِﻲ ﺳَﺒِﻴﻞِ اﻟﻠَّﻪ

অধ্যায় ৫: পরিশ্রম ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণ ওযু করলে গুনাহ ক্ষমা হয়ে যায়; জান্নাতে দরজা বৃদ্ধি পায়; এক স্বলাতের পর দ্বিতীয় স্বলাতের অপেক্ষাকারী আল্লাহর পথে জিহাদের বরাবর প্রদান হওয়ার বর্ণনা।

5 – ﺛﻨﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ﺑْﻦُ ﺣُﺠْﺮٍ اﻟﺴَّﻌْﺪِﻱُّ، ﺛﻨﺎ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞُ ﻳَﻌْﻨِﻲ اﺑْﻦَ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﺛﻨﺎ اﻟْﻌَﻼَءُ ﻭَﻫُﻮَ اﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑِﺸْﺮُ ﺑْﻦُ ﻣُﻌَﺎﺫٍ اﻟْﻌَﻘَﺪِﻱُّ، ﺛﻨﺎ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﺑْﻦُ ﺯُﺭَﻳْﻊٍ، ﺛﻨﺎ ﺭَﻭْﺡُ ﺑْﻦُ اﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ، ﺛﻨﺎ اﻟْﻌَﻼَءُ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳُﻮﻧُﺲُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻷَْﻋْﻠَﻰ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ اﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﺃَﻥَّ ﻣَﺎﻟِﻜًﺎ ﺣَﺪَّﺛَﻪُ، ﻋَﻦِ اﻟْﻌَﻼَءِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: «§ﺃَﻻَ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ ﻣَﺎ ﻳَﻤْﺤُﻮ اﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ اﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ، ﻭَﻳَﺮْﻓَﻊُ ﺑِﻪِ اﻟﺪَّﺭَﺟَﺎﺕِ؟» ﻗَﺎﻟُﻮا: ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ: «ﺇِﺳْﺒَﺎﻍُ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻋَﻠَﻰ اﻟْﻤَﻜَﺎﺭِﻩِ، ﻭَﻛَﺜْﺮَﺓُ اﻟْﺨُﻄَﺎ ﺇِﻟَﻰ اﻟْﻤَﺴَﺎﺟِﺪِ، ﻭَاﻧْﺘِﻈَﺎﺭُ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺑَﻌْﺪَ اﻟﺼَّﻼَﺓِ، ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ اﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ، ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ اﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ» ﻟَﻔْﻈًﺎ ﻭَاﺣِﺪًا، ﻏَﻴْﺮُ ﺃَﻥَّ ﻋَﻠِﻲَّ ﺑْﻦَ ﺣُﺠْﺮٍ ﻗَﺎﻝَ: ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ اﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ ﻣَﺮَّﺓً، ﻭَﻗَﺎﻝَ ﻳُﻮﻧُﺲُ ﻓِﻲ ﺣَﺪِﻳﺜِﻪِ: ﺃَﻻَ ﺃُﺧْﺒِﺮُﻛُﻢْ ﺑِﻤَﺎ ﻳَﻤْﺤُﻮ اﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ اﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ، ﻭَﻟَﻢْ ﻳَﻘُﻞْ: ﻗَﺎﻟُﻮا: ﺑَﻠَﻰ ”

৫: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; আমি কি তোমাদেরকে এমন কর্ম সম্পর্কে বলবো না; যা করলে আল্লাহ তা’য়ালা (বান্দাহর) গুনাহ ক্ষমা করে দেন এবং মর্যাদা বৃদ্ধি করে দেন?  (লোকেরা বলল; হে আল্লাহর রসূল! আপনি বলুন)। তিনি বললেন; “পরিশ্রম ও কষ্ট সত্ত্বেও পরিপূর্ণরূপে ওযু করা; মাসজিদের দিকে বেশি পদচারণা করা (অর্থাৎ মাসজিদ দূর হওয়া সত্ত্বেও স্বলাতের জন্য মাসজিদে যাওয়া) এবং এক স্বলাতের পর আর এক স্বলাতের জন্য অপেক্ষা করা”। একর্ম গুলোই তোমাদের জিহাদ; একর্ম গুলোই তোমাদের জিহাদ; দুইবার ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ اﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ “একর্ম গুলোই তোমাদের জিহাদ” বললেন। (হাদীসের রাবী)  ‘আলী বিন হুজুরের রিওয়াআতে  ﻓَﺬَﻟِﻜُﻢُ اﻟﺮِّﺑَﺎﻁُ  একবার আছে। ইউনুসের রিওয়াতে  ﺃَﻻَ ﺃَﺩُﻟُّﻜُﻢْ  এর স্থলে أخبر كم  “আমি তোমাদেরকে এমন কর্মের সম্পর্কে বলবো না কি” শব্দ আছে। আর সাহাবায়েকিরামগণ বললেন ; হাঁ।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২৫১; তিরমিযী হাঃ ৫১; মুওয়াত্তা ইমাম মালিক হাঃ ৩৪৮;
ব্যাখ্য:
রসূলুল্লাহ (সাঃ) বললেন; ﻳَﻤْﺤُﻮ اﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻪِ اﻟْﺨَﻄَﺎﻳَﺎ  “আমি কি তোমাদেরকে এমন কর্ম সম্পর্কে বলবো না; যা করলে আল্লাহ তা’য়ালা (বান্দাহর) গুনাহ ক্ষমা করে দেন”। অর্থাৎ আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা তার অনুগত বান্দাদের ছোটখাট অপরাধগুলোকে ওযু ও স্বলাত আদায়ের মাধ্যমে এবং আরো বিভিন্ন যিকর এর মাধ্যমে ক্ষমা করে দিয়ে নিরপরাধ হিসাবে কাল কিয়ামতের দিনে তুলতে চান। যাতে করে বান্দা যেন আল্লাহর দয়া পেয়ে ধন্য হয়। আরেকটি প্রসিদ্ধ্য হাদীসে রয়েছে যে; কাল কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহর আরশের নীচে যারা ছায়া পাবে তাদের মধ্যে রয়েছে সেই ব্যক্তি যার অন্তর মাসজিদের সঙ্গে বাঁধা থাকে (বুখারী হাঃ ৬৬০; মুসলিম হাঃ ১০৩১)। অর্থাৎ এক স্বলাত আদায় করার পর অন্য অক্তের স্বলাতের জন্য অপেক্ষা করে। এই হাদীসের মধ্যে যার বিবরণ রয়েছে। আল্লাহ সুবহানাহু তা’য়ালা তার প্রিয় বান্দাদেরকে তার নিকটবর্তী হওয়ার যে সুযোগ সুবিধা করে দিয়েছেন শরীআতের বিভিন্ন রীতিনীতির মাধ্যমে আমরা যেন সেগুলো পালন করার মাধ্যমে তার ক্ষমা ও নৈকট্য অর্জন করতে পারি। আমীন।

6-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ ﻋَﻼَﻣَﺔِ ﺃُﻣَّﺔِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ اﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺟَﻌَﻠَﻬُﻢُ اﻟﻠَّﻪُ ﺧَﻴْﺮَ ﺃُﻣَّﺔٍ ﺃُﺧْﺮِﺟَﺖْ ﻟﻠِﻨَّﺎﺱِ ﺑِﺂﺛَﺎﺭِ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻳَﻮْﻡَ اﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِﻋَﻼَﻣَﺔً ﻳُﻌْﺮَﻓُﻮﻥَ ﺑِﻬَﺎ ﻓِﻲ ﺫَﻟِﻚَ اﻟْﻴَﻮْﻡ

অধ্যায় ৬: নাবী (সাঃ) এর উম্মত যাকে আল্লাহ তা‘য়ালা উত্তম উম্মত করেছেন এবং তাদের মানুষের উপকারের জন্য সৃষ্টি করেছেন। যাদের চিহ্ন কিয়ামতের দিন তাদের ওযুর অঙ্গ (চমকানো) হবে; যার দ্বারা তাদেরকে চেনা যাবে।

6 – ﺛﻨﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ﺑْﻦُ ﺣُﺠْﺮٍ اﻟﺴَّﻌْﺪِﻱُّ، ﺛﻨﺎ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞُ ﻳَﻌْﻨِﻲ اﺑْﻦَ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﺛﻨﺎ اﻟْﻌَﻼَءُ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳُﻮﻧُﺲُ ﺑْﻦُ ﻋَﺒْﺪِ اﻷَْﻋْﻠَﻰ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ اﺑْﻦُ ﻭَﻫْﺐٍ، ﺃَﻥَّ ﻣَﺎﻟِﻚَ ﺑْﻦَ ﺃَﻧَﺲٍ ﺣَﺪَّﺛَﻪُ، ﻋَﻦِ اﻟْﻌَﻼَءِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺑُﻨْﺪَاﺭٌ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺷُﻌْﺒَﺔُ، ﻋَﻦِ اﻟْﻌَﻼَءِ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻣُﻮﺳَﻰ ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨِﻲ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺷُﻌْﺒَﺔُ ﻗَﺎﻝَ: ﺳَﻤِﻌْﺖُ اﻟْﻌَﻼَءَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏُ ﺑْﻦُ ﺇِﺑْﺮَاﻫِﻴﻢَ اﻟﺪَّﻭْﺭَﻗِﻲُّ، ﺃَﺧْﺒَﺮَﻧَﺎ اﺑْﻦُ ﻋُﻠَﻴَّﺔَ، ﻋَﻦْ ﺭَﻭْﺡِ ﺑْﻦِ اﻟْﻘَﺎﺳِﻢِ، ﻋَﻦِ اﻟْﻌَﻼَءِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﺧَﺮَﺝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻟَﻰ اﻟْﻤَﻘْﺒَﺮَﺓِ ﻓَﺴَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻫْﻠِﻬَﺎ ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﺳَﻼَﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞَ ﺩَاﺭِ ﻗَﻮْﻡٍ ﻣُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎءَ اﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻜُﻢْ ﻻَﺣِﻘُﻮﻥَ، ﻭَﺩِﺩْﺕُ ﺃَﻧَّﺎ ﻗَﺪْ ﺭَﺃَﻳْﻨَﺎ ﺇِﺧْﻮَاﻧَﻨَﺎ» . ﻗَﺎﻟُﻮا: ﺃَﻭَﻟَﺴْﻨَﺎ ﺑِﺈِﺧْﻮَاﻧِﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ؟ ﻗَﺎﻝَ: «§ﺃَﻧْﺘُﻢْ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻲ، ﻭَﺇِﺧْﻮَاﻧِﻲ ﻗَﻮْﻡٌ ﻟَﻢْ ﻳَﺄْﺗُﻮا ﺑَﻌْﺪُ، ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻓَﺮَﻃُﻜُﻢْ ﻋَﻠَﻰ اﻟْﺤَﻮْﺽِ» . ﻗَﺎﻟُﻮا: ﻭَﻛَﻴْﻒَ ﺗَﻌْﺮِﻑُ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳَﺄْﺕِ ﺑَﻌْﺪُ ﻣِﻦْ ﺃُﻣَّﺘِﻚَ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ؟ ﻗَﺎﻝَ: «ﺃَﺭَﺃَﻳْﺘُﻢْ ﻟَﻮْ ﺃَﻥَّ ﺭَﺟُﻼً ﻟَﻪُ ﺧَﻴْﻞٌ ﻏُﺮٌّ ﻣُﺤَﺠَّﻠَﺔٌ ﺑَﻴْﻦَ ﻇَﻬْﺮَﻱْ ﺧَﻴْﻞٍ ﺑُﻬْﻢٍ ﺩُﻫْﻢٍ ﺃَﻻَ ﻳَﻌْﺮِﻑُ ﺧَﻴْﻠَﻪُ؟» ﻗَﺎﻟُﻮا: ﺑَﻠَﻰ ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﻗَﺎﻝَ: ” ﻓَﺈِﻧَّﻬُﻢْ ﻳَﺄْﺗُﻮﻥَ ﻏُﺮًّا ﻣُﺤَﺠَّﻠِﻴﻦَ ﻣِﻦْ ﺃَﺛَﺮِ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ، ﻭَﺃَﻧَﺎ ﻓَﺮَﻃُﻬُﻢْ ﻋَﻠَﻰ اﻟْﺤَﻮْﺽِ، ﺃَﻻَ ﻟَﻴُﺬَاﺩَﻥَّ ﺭِﺟَﺎﻝٌ ﻋَﻦْ ﺣَﻮْﺿِﻲ ﻛَﻤَﺎ ﻳُﺬَاﺩُ اﻟْﺒَﻌِﻴﺮُ اﻟﻀَّﺎﻝُّ، ﺃُﻧَﺎﺩِﻳﻬِﻢْ ﺃَﻻَ ﻫَﻠُﻢَّ، ﻓَﻴُﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻧَّﻬُﻢْ ﻗَﺪْ ﺃَﺣْﺪَﺛُﻮا ﺑَﻌْﺪَﻙَ، ﻭَﺃَﻗُﻮﻝُ ﺳُﺤْﻘًﺎ، ﺳُﺤْﻘًﺎ «ﻫَﺬَا ﻟَﻔْﻆُ ﺣَﺪِﻳﺚِ اﺑْﻦِ ﻋُﻠَﻴَّﺔَ»

৬: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সাঃ) (একদিন) কবরস্থানে আসলেন এবং সেখানের অধিবাসিদের সালাম করলেন ; তিনি বললেন: «ﺳَﻼَﻡٌ ﻋَﻠَﻴْﻜُﻢْ ﺃَﻫْﻞَ ﺩَاﺭِ ﻗَﻮْﻡٍ ﻣُﺆْﻣِﻨِﻴﻦَ، ﻭَﺇِﻧَّﺎ ﺇِﻥَّ ﺷَﺎءَ اﻟﻠَّﻪُ ﺑِﻜُﻢْ ﻻَﺣِﻘُﻮﻥ  “হে (মু’মিন)  কবরবাসীগণ!  তোমাদের উপর শান্তি বর্ষিত হউক। আর নিঃসন্দেহে আমরাও তোমাদের সঙ্গে মিলিত হব ইনশা আল্লাহ”। (অতঃপর বললেন) আমার বড় ইচ্ছা হয় যে; আমি আমাদের ভাইদেরকে দেখি। সাহাবায়েকিরামগণ বললেন; হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি আপনার ভাই নয়?  তিনি বললেন; তোমরা তো আমার সাহাবী (সঙ্গী); আর যারা এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি তারা আমাদের ভাই; আর আমি তোমাদের পূর্বে কাউসারে থাকব। সাহাবাগণ বললেন; হে আল্লাহর রসূল!  আপনার যে উম্মতগণ এখনো (পৃথিবীতে) আসেনি আপনি তাদেরকে কিভাবে চিনবেন?  তিনি (সাঃ) বললেন; তোমাদের কি ধারণা; যদি কোন লোকের সাদা কপাল ও উজ্জল পা বিশিষ্ট ঘোড়া অনেকগুলো কালো ঘোড়ার মধ্যে মিশে যায় তবে সে কি তার ঘোড়াকে চিনে নিতে পারবে না?  সাহাবাগণ জবাব দিল ; কেন চিনবে না হে আল্লাহর রসূল! (তারা নিশ্চয় চিনে নিবে); তিনি বললেন; তারা (আমার আগামী উম্মত) সেদিন এমন অবস্থায় আসবে যে; ওযু করার ফলে তাদের মুখমন্ডল; হাত ও পা জ্যোতির্ময় হবে; আর হাউযের পাড়ে আমি হব তাদের অগ্রনায়ক। সাবধান! জেনে রাখ!  কিছু লোককে আমার হাউয হতে সেদিন সেভাবে তাড়িয়ে দেওয়া হবে যেভাবে বে-ওয়ারিশ উটকে তাড়িয়ে দেওয়া হয়। আমি তাদেরকে ডাক দিব; এসো এসো। তখন (আল্লাহর পক্ষ হতে) বলা হবে; “এরা আপনার পরে (আপনার দ্বীনকে বিদআতের মাধ্যমে) পরিবর্তন করে দিয়েছিল। তখন আমি বলব; “(আল্লাহর দয়া হতে) দূর হয়ে যাও; দূর হয়ে যাও”। এটা ইবনু আ’লিয়াহর রিওয়াআতের শব্দ।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২৪৯; নাসাঈ হাঃ ১৫০; আবুদাঊদ হাঃ ৩৩৩৭; ইবনুমাজাহ হাঃ ৪৩০৬; মুওয়াত্তা ইমাম মালিক হাঃ ৫৭;

7-ﺑَﺎﺏُ اﺳْﺘِﺤْﺒَﺎﺏِ ﺗَﻄْﻮِﻳﻞِ اﻟﺘَّﺤْﺠِﻴﻞِ ﺑِﻐَﺴْﻞِ اﻟْﻌَﻀُﺪَﻳْﻦِ ﻓِﻲ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ «ﺇِﺫِ اﻟْﺤِﻠْﻴَﺔُ ﺗَﺒْﻠُﻎُ ﻣَﻮَاﺿِﻊَ اﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻳَﻮْﻡَ اﻟْﻘِﻴَﺎﻣَﺔِ ﺑِﺤُﻜْﻢِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّاﻟْﻤُﺼْﻄَﻔَﻰ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ»

অধ্যায় ৭: ওযুতে ﻌَﻀُﺪَﻳْﻦِ (কাঁধ ও কনুই এর অংশ পর্যন্ত হাত) ধুয়ে চমক কে লম্বা করা মুসতাহাব। কেননা নাবী (সাঃ) এর আদেশ (এর উপর আমল করার) জন্য কিয়ামতের দিন (মু‘মিনের) উজ্জলতা তার ওযুর পানির স্থান পর্যন্ত পৌছাবে।

7 – ﺛﻨﺎ ﺇِﺑْﺮَاﻫِﻴﻢُ ﺑْﻦُ ﻳُﻮﺳُﻒَ اﻟﺼَّﻴْﺮَﻓِﻲُّ اﻟْﻜُﻮﻓِﻲُّ، ﺛﻨﺎ اﺑْﻦُ ﺇِﺩْﺭِﻳﺲَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻣَﺎﻟِﻚٍ اﻷَْﺷْﺠَﻌِﻲِّ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ ﻗَﺎﻝَ: ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺃَﺑَﺎ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﻓَﺠَﻌَﻞَ ﻳَﺒْﻠُﻎُ ﺑِﺎﻟْﻮَﺿُﻮءِ ﻗَﺮِﻳﺒًﺎ ﻣِﻦْ ﺇِﺑْﻄِﻪِ، ﻓَﻘُﻠْﺖُ ﻟَﻪُ، ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺇِﻧِّﻲ ﺳَﻤِﻌْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻳَﻘُﻮﻝُ: «ﺇِﻥَّ §اﻟْﺤِﻠْﻴَﺔَ ﺗَﺒْﻠُﻎُ ﻣَﻮَاﺿِﻊَ اﻟﻄُّﻬُﻮﺭِ»

৭: আবূ হাযিম (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন;আমি আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) কে ওযু করতে দেখলাম। তিনি ওযুর পানি তার বগল পর্যন্ত পৌছাচ্ছিলেন। আমি তার নিকট এর কারণ জানতে চায়লে তিনি বললেন;নিঃসন্দেহে আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে বলতে শুনেছি; নিশ্চয় (মু’মিন) এর অলঙ্কার বা উজ্জ্বলতা সে পর্যন্ত পৌছাবে যে পর্যন্ত তার ওযুর পানি পৌছাবে। (এই জন্য আমি পানি বগল পর্যন্ত পৌছাচ্ছিলাম)।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২৫০.
ব্যখ্যা:
এই হাদীস প্রমাণ করছে যে; যে পর্যন্ত ওযুর অঙ্গসমূহে পানি পৌছাবে; কাল কিয়ামতের দিন সে পর্যন্ত অঙ্গ মু’মিনের চমকাতে থাকবে। আর ওযু করা হয় বিশেষভাবে স্বলাত আদায় করার জন্য। সুতরাং যারা নামধারী মুসলিম হয়ে জীবন-যাপন করছে স্বলাত আদায় না করে; তারা ওযু করে না। যার ফলে তাদের অঙ্গ চমকাবে না এবং তারা উম্মাতে মুহাম্মাদী হিসাবেও চিহ্নিত হবে না। তাই বিলাল (রাযিঃ) এর মত যখনই ওযু ভেঙ্গে যাবে তখনই ওযু করা এবং বিশেষ করে ওযু থাকলেও প্রত্যেক ওয়াক্তের স্বলাত আদায় করার জন্য ওযু করা নিজ আমলকে উজ্জ্বল করার জন্য উত্তম।

8-ﺑَﺎﺏُ ﻧَﻔْﻲِ ﻗَﺒُﻮﻝِ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻭُﺿُﻮءٍ ﺑِﺬِﻛْﺮِ ﺧَﺒَﺮٍ ﻣُﺠْﻤَﻞٍ ﻏَﻴْﺮِ ﻣُﻔَﺴِّﺮ

অধ্যায় ৮: বিনা ওযুতে স্বলাত কবুল হয় না; এব্যাপারে সংক্ষিপ্ত ব্যাখ্যাহীন হাদীসের বর্ণনা।

8 – ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺑَﺸَّﺎﺭٍ، ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ اﻟْﺤُﺴَﻴْﻦُ ﺑْﻦُ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ اﻟﺬَّاﺭِﻉُ، ﺛﻨﺎ ﻳَﺰِﻳﺪُ ﺑْﻦُ ﺯُﺭَﻳْﻊٍ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﺣَﻜِﻴﻢٍ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﺩَاﻭُﺩَ ﻗَﺎﻟُﻮا ﺟَﻤِﻴﻌًﺎ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺷُﻌْﺒَﺔُ – ﻭَﻫَﺬَا ﻟَﻔْﻆُ ﺣَﺪِﻳﺚِ ﺑُﻨْﺪَاﺭٍ – ﻋَﻦْ ﺳِﻤَﺎﻙِ ﺑْﻦِ ﺣَﺮْﺏٍ، ﻋَﻦْ ﻣُﺼْﻌَﺐِ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ ﻗَﺎﻝَ: ﻣَﺮِﺽَ اﺑْﻦُ ﻋَﺎﻣِﺮٍ ﻓَﺠَﻌَﻠُﻮا ﻳُﺜْﻨُﻮﻥَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ، ﻭَاﺑْﻦُ ﻋُﻤَﺮَ ﺳَﺎﻛِﺖٌ ﻓَﻘَﺎﻝَ: ﺃَﻣَﺎ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﺴْﺖُ ﺑِﺄَﻏَﺸِّﻬِﻢْ، ﻭَﻟَﻜِﻦَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ: «§ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ اﻟﻠَّﻪُ ﺻَﻼَﺓً ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻃُﻬُﻮﺭٍ، ﻭَﻻَ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻣِﻦْ ﻏُﻠُﻮﻝٍ»

৮: মুস’আব বিন সাঈদ হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; ইবনু উমার (রাযিঃ) অসুস্থ হয়ে গেলেন। লোকেরা তার প্রশংসা করতে লাগল। ইবনু উমার চুপ করে থাকলেন। অতঃপর তিনি বললেন; শোন!  আমি তাদের চেয়ে বেশি ধোকাবাজ নয়। কিন্তু রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; “আল্লাহ তা’য়ালা। পবিত্রতা (ওযু) ব্যতীত স্বলাত কবুল করেন না; আর খিয়ানতের (মাল) হতে সাদকাহ কবুল করেন না”।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২২৪; মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৪৭০০; ইবনুমাজাহ হাঃ ২৭২;
ব্যাখ্যা:
১: ইবনু উমার (রাযিঃ) এর এই শব্দ বলা যে;  ﺃَﻣَﺎ ﺇِﻧِّﻲ ﻟَﺴْﺖُ ﺑِﺄَﻏَﺸِّﻬِﻢ “আমি তাদের থেকে বেশি ধোকানাজ নয়” এর দ্বারা তাদের প্রতি উদ্দেশ্য ছিল যারা তার অসুস্থতার সময় তার প্রশংসা করছিল। কিন্তু এমতাবস্থায় আখিরাতের স্বরণ; তাওবাহ ও ইস্তিগফারের তালকীন করা উচিত ছিল। এজন্য যে; সে ব্যক্তি উক্ত অবস্থায় নিজের গুনাহের তাওবাহ ও ইস্তিগফার হতে যেন উদাসীন না হয়ে যায়। ইবনু উমার নাবী (সাঃ) এর নিকট হতে এই হাদীস শুনে রেখেছিল যে;  রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন : ﺇﺫا ﺭﺃﻳﺘﻢ اﻟﻤﺪاﺣﻴﻦ، ﻓﺎﺣﺜﻮا ﻓﻲ ﻭﺟﻮﻫﻬﻢ اﻟﺘﺮاﺏ ” তুমি কাউকে অধিক প্রশংসা করতে শুনবে; তবে তার মুখে মাটি ছুঁড়ে মারবে” (মুসলিম হাঃ ৩০০২)। ইবনু উমার (রাযিঃ) ঐ হাদীসের উপর আমল করতেন (আল-আদাবুল মুফরাদ হাঃ ৩৪০; সহীহ ইবনু হিব্বান হাঃ ৫৭৪)।
২: পবিত্রতা বলতে ওযুকে বুঝানো হয়েছে এবং যেসমস্ত কাজ জরলে মানুষ অপবিত্র হয়ে যায় তার থেকে ফরয ওযু ও ফরয গোসলের মাধ্যমে পবিত্রতা অর্জনকেও এতে ইঙ্গিত করা হয়েছে। আর তা থেকে পবিত্র থাকলেও যখনই ওযু ভঙ্গের কোন কারণ ঘটবে; তখন ওযু করে তবেই স্বলাত আদায় করতে হবে। নচেৎ স্বলাত গৃহিত হবে না।

9 – ﺛﻨﺎ اﻟْﺤَﺴَﻦُ ﺑْﻦُ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﺃَﺑُﻮ ﻣُﺤَﻤَّﺪٍ اﻟْﻘَﺰَّاﺯُ اﻟْﻔَﺎﺭِﺳِﻲُّ ﺳَﻜَﻦَ ﺑَﻐْﺪَاﺩَ ﺑِﺨَﺒَﺮٍ ﻏَﺮِﻳﺐِ اﻹِْﺳْﻨَﺎﺩِ ﻗَﺎﻝَ: ﺛﻨﺎ ﻏَﺴَّﺎﻥُ ﺑْﻦُ ﻋُﺒَﻴْﺪٍ اﻟْﻤَﻮْﺻِﻠِﻲُّ، ﺛﻨﺎ ﻋِﻜْﺮِﻣَﺔُ ﺑْﻦُ ﻋَﻤَّﺎﺭٍ، ﻋَﻦْ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻛَﺜِﻴﺮٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﺳَﻠَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: «§ﻻَ ﺗُﻘْﺒَﻞُ ﺻَﻼَﺓٌ ﺇِﻻَّ ﺑِﻄُﻬُﻮﺭٍ، ﻭَﻻَ ﺻَﺪَﻗَﺔٌ ﻣِﻦْ ﻏُﻠُﻮﻝٍ»

৯: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; “ওযু ব্যতীত স্বলাত কবুল হয় না এবং খিয়ানত হতে সাদকাহ কবুল হয় না”।
★সহীহুল মুসলিম হাঃ ২২৫; তিরমিযী হাঃ ১; ইবনুমাজাহ হাঃ ২৭২; মুসনাদে আহমাদ হাঃ ৪৪৭

10 – ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻋَﻤَّﺎﺭٍ اﻟْﺤَﺴَﻦُ ﺑْﻦُ ﺣُﺮَﻳْﺚٍ، ﺛﻨﺎ ﻋَﺒْﺪُ اﻟْﻌَﺰِﻳﺰِ ﺑْﻦُ ﺃَﺑِﻲ ﺣَﺎﺯِﻡٍ، ﻋَﻦْ ﻛَﺜِﻴﺮٍ ﻭَﻫُﻮَ اﺑْﻦُ ﻳَﺰِﻳﺪَ، ﻋَﻦِ اﻟْﻮَﻟِﻴﺪِ ﻭَﻫُﻮَ اﺑْﻦُ ﺭَﺑَﺎﺡٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻗَﺎﻝَ: «§ﻻَ ﻳَﻘْﺒَﻞُ اﻟﻠَّﻪُ ﺻَﻼَﺓً ﺑِﻐَﻴْﺮِ ﻃُﻬُﻮﺭٍ، ﻭَﻻَ ﺻَﺪَﻗَﺔً ﻣِﻦْ ﻏُﻠُﻮﻝٍ- ﻗﺎﻝ اﻷﻋﻈﻲ: ﻗﺎﻝ اﻟﻬﻴﺜﻤﻲ ﻓﻲ اﻟﻤﺠﻤﻊ: ﺭﻭاﻩ اﻟﺒﺰاﺭ ﻭﻓﻴﻪ ﻛﺜﻴﺮ ﺑﻦ ﺯﻳﺪ اﻷﺳﻠﻤﻲ ﻭﺛﻘﻪ اﺑﻦ ﺣﺒﺎﻥ ﻭاﺑﻦ ﻣﻌﻴﻦ ﻓﻲ ﺭﻭاﻳﺔ ﻭﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﺯﺭﻋﺔ: ﺻﺪﻭﻕ ﻓﻴﻪ ﻟﻴﻦ ﻭﺿﻌﻔﻪ اﻟﻨﺴﺎﺋﻲ ﻭﻗﺎﻝ ﻣﺤﻤﺪ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ اﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻋﻤﺎﺭ اﻟﻤﻮﺻﻠﻲ: ﺛﻘﺔ

১০: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; “আল্লাহ তা’য়ালা বিনা ওযুতে স্বলাত কবুল করেন না এবং খিয়ানত (এর মাল)  থেকে সাদকাহ কবুল করেন না”।
★সনদ সহীহ। ইরওয়াউল-গালীল হাঃ ১২০; দারেমী হাঃ ৫৯;

9-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ اﻟْﺨَﺒَﺮِ اﻟْﻤُﻔَﺴِّﺮِ ﻟِﻠَّﻔْﻈَﺔِ اﻟْﻤُﺠْﻤَﻠَﺔِ اﻟَّﺘِﻲ ﺫَﻛَﺮْﺗُﻬَﺎ، ﻭَاﻟﺪَّﻟِﻴﻞُ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ اﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﻧَﻔَﻰ ﻗَﺒُﻮﻝَ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻟِﻐَﻴْﺮِ اﻟْﻤُﺘَﻮَﺿِّﺊِ اﻟْﻤُﺤْﺪِﺙِ اﻟَّﺬِﻱ ﻗَﺪْ ﺃﺣَﺪَﺙَ ﺣَﺪَﺛًﺎ ﻳُﻮﺟِﺐُ اﻟْﻮُﺿُﻮءَ، ﻻَ ﻛُﻞِّ ﻗَﺎﺋِﻢٍ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ، ﻭَﺇِﻥْ ﻛَﺎﻥَ ﻏَﻴْﺮَ ﻣُﺤْﺪِﺙٍ ﺣَﺪَﺛًﺎ ﻳُﻮﺟِﺐُ اﻟْﻮُﺿُﻮء

অধ্যায় ৯: কিছু সংক্ষিপ্ত রিওয়াআত এর ব্যাখ্যার বর্ণনা। সেই বিষয়ের দলীল এর বর্ণনা যে; নাবী (সাঃ) সেই বিনা ওযু ব্যক্তির স্বলাত এর কবুল অস্বীকার করেছেন যে ওযু ওয়াজিব হওয়ার বায়ু ছেড়েছে (যেমন প্রসাব ও পায়খানা ইত্যাদি)। সেই ব্যক্তির স্বলাত কবুল হওয়ার ব্যাপারে অস্বীকার করেননি যে স্বলাত আদায় করার জন্য দাঁড়ায় আর সে ওযু ওয়াজিবকারী বায়ু বের করেনি।

11 – ﺛﻨﺎ ﻋَﺒْﺪُ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦُ ﺑِﺸْﺮِ ﺑْﻦِ اﻟْﺤَﻜَﻢِ، ﻭَﻋَﻤِّﻲ ﺇِﺳْﻤَﺎﻋِﻴﻞُ ﺑْﻦُ ﺧُﺰَﻳْﻤَﺔَ ﻗَﺎﻻَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻋَﺒْﺪُ اﻟﺮَّﺯَّاﻕِ، ﻋَﻦْ ﻣَﻌْﻤَﺮٍ، ﻋَﻦْ ﻫَﻤَّﺎﻡِ ﺑْﻦِ ﻣُﻨَﺒِّﻪٍ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻲ ﻫُﺮَﻳْﺮَﺓَ ﻗَﺎﻝَ: ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: «§ﻻَ ﺗُﻘْﺒَﻞُ ﺻَﻼَﺓُ ﺃَﺣَﺪِﻛُﻢْ ﺇِﺫَا ﺃَﺣْﺪَﺙَ ﺣَﺘَّﻰ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄَ»

১১: আবূহুরাইরাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) বলেছেন; যখন তোমাদের মধ্যে কোন ব্যক্তির ওযু ভেঙ্গে যায় তখন তার স্বলাত কবুল হয় না; যতক্ষণ না সে ওযু করে নেয়।
★সহীহুল বুখারী হাঃ ১৩৫;  মুসলিম হাঃ ২২৫; তিরমিযী হাঃ ৭; আবুদাঊদ হাঃ ৬০;
ব্যাখ্যা:
এই হাদীস দ্বারা স্পষ্ট হচ্ছে যে; স্বলাত কবুল হওয়ার জন্য পবিত্রতা (ওযু বা তায়াম্মুম) করা ওয়াজিব। আর সম্পূর্ণ মুসলিম উম্মাহ এবিষয়ে একমত্ যে; পবিত্রতা অর্জন স্বলাতের শর্ত।

10-ﺑَﺎﺏُ ﺫِﻛْﺮِ اﻟﺪَّﻟِﻴﻞِ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻭْﺟَﺐَ اﻟْﻮُﺿُﻮءَ ﻋَﻠَﻰ ﺑَﻌْﺾِ اﻟْﻘَﺎﺋِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻻَ ﻋَﻠَﻰ ﻛُﻞِّ ﻗَﺎﺋِﻢٍ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ” ﻓِﻲ ﻗَﻮْﻟِﻪِ: {ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ اﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮا ﺇِﺫَا ﻗُﻤْﺘُﻢْ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻓَﺎﻏْﺴِﻠُﻮا ﻭُﺟُﻮﻫَﻜُﻢْ} [اﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: 6] اﻵْﻳَﺔَ، ﺇِﺫِ اﻟﻠَّﻪُ ﺟَﻞَّ ﻭَﻋَﻼَ ﻭَﻟَّﻰ ﻧَﺒِﻴَّﻪُ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑَﻴَﺎﻥَ ﻣَﺎ ﺃَﻧْﺰَﻝَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﺧَﺎﺻًّﺎ ﻭَﻋَﺎﻣًّﺎ، ﻓَﺒَﻴَّﻦَ اﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑِﺴُﻨَّﺘِﻪِ ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﻣَﺮَ ﺑِﺎﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﺑَﻌْﺾَ اﻟْﻘَﺎﺋِﻤِﻴﻦَ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ، ﻻَ ﻛُﻠَّﻬُﻢْ، ﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴَّﻦَ ﻋَﻠَﻴْﻪِ اﻟﺴَّﻼَﻡُ ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﺃَﺭَاﺩَ ﺑِﻘَﻮْﻟِﻪِ: {ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَاﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً} [اﻟﺘﻮﺑﺔ: 103] ﺑَﻌْﺾَ اﻷَْﻣْﻮَاﻝِ ﻻَ ﻛُﻠَّﻬَﺎ، ﻭَﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴَّﻦَ ﺑِﻘِﺴْﻤَﺔِ ﺳَﻬْﻢِ ﺫِﻱ اﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ ِ ﺑَﻴْﻦَ ﺑَﻨِﻲ ﻫَﺎﺷِﻢٍ، ﻭَﺑَﻨِﻲ ﻋَﺒْﺪِ اﻟْﻤُﻄَّﻠِﺐِ، ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﺃَﺭَاﺩَ ﺑِﻘَﻮْﻟِﻪِ: {ﺫِﻱ اﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ} [اﻟﻨﺴﺎء: 36] ﺑَﻌْﺾَ ﻗَﺮَاﺑَﺔِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺩُﻭﻥَ ﺟَﻤِﻴﻌِﻬِﻢْ، ﻭَﻛَﻤَﺎ ﺑَﻴَّﻦَ ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﺃَﺭَاﺩَ ﺑِﻘَﻮْﻟِﻪِ: {ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻕُ ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻗَﺔُ ﻓَﺎﻗْﻄَﻌُﻮا ﺃَﻳْﺪِﻳَﻬُﻤَﺎ} [اﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: 38] ﺑَﻌْﺾَ اﻟﺴُّﺮَّاﻕِ ﺩُﻭﻥَ ﺟَﻤِﻴﻌِﻬِﻢْ، ﺇِﺫْ ﺳَﺎﺭِﻕُ ﺩِﺭْﻫَﻢٍ ﻓَﻤَﺎ ﺩُﻭﻧَﻪُ ﻳَﻘَﻊُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ اﺳْﻢُ ﺳَﺎﺭِﻕٍ، ﻓَﺒَﻴَّﻦَ اﻟﻨَّﺒِﻲُّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺑِﻘَﻮْﻟِﻪِ: «اﻟْﻘَﻄْﻊُ ﻓِﻲ ﺭُﺑْﻊِ ﺩِﻳﻨَﺎﺭٍ ﻓَﺼَﺎﻋِﺪًا» ، ﺃَﻥَّ اﻟﻠَّﻪَ ﺇِﻧَّﻤَﺎ ﺃَﺭَاﺩَ ﺑَﻌْﺾَ اﻟﺴُّﺮَّاﻕِ ﺩُﻭﻥَ ﺑَﻌْﺾٍ ﺑِﻘَﻮْﻟِﻪِ: {ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻕُ ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻗَﺔُ ﻓَﺎﻗْﻄَﻌُﻮا ﺃَﻳْﺪِﻳَﻬُﻤَﺎ} [اﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: 38] اﻵْﻳَﺔَ ﻗَﺎﻝَ اﻟﻠَّﻪُ ﻋَﺰَّ ﻭَﺟَﻞَّ ﻟِﻨَﺒِﻴِّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ: {ﻭَﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻚَ اﻟﺬِّﻛْﺮَ ﻟِﺘُﺒَﻴِّﻦَ ﻟﻠِﻨَّﺎﺱِ ﻣَﺎ ﻧُﺰِّﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ} [اﻟﻨﺤﻞ: 44] “

অধ্যায় ১০: সেই বিষয়ের প্রমাণ যে; আল্লাহ তা‘য়ালা স্বলাতের জন্য দাঁড়ানো কিছু লোকের উপর ওযু ফরয করেছেন (অর্থাৎ যাদের ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়)। প্রত্যেক স্বলাত আদায়কারীর উপর নয়।
আল্লাহ বলেন : ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ اﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮا ﺇِﺫَا ﻗُﻤْﺘُﻢْ ﺇِﻟَﻰ اﻟﺼَّﻼَﺓِ ﻓَﺎﻏْﺴِﻠُﻮا ﻭُﺟُﻮﻫَﻜُﻢْ} [اﻟﻤﺎﺋﺪﺓ: 6 “হে ইমানদারগণ! যখন তোমরা স্বলাতের জন্য দাঁড়াও তখন স্বীয় মুখমন্ডল ও হস্তসমূহ কনুই পর্যন্ত ধৌত কর; মাথা মাসেহ কর এবং পদযুগল গিটসহ(ধৌত কর) (সূরা মায়িদা ৬)। সুতরাং আল্লাহ তা‘য়ালা তার নাবীর উপর তার হুকুম অবতীর্ণ করে প্রত্যেক খাস ও আম হুকুম বর্ণনাকারী করেছেন। অতএব নাবী (সাঃ) তার সুন্নাত হতে বর্ণনা করে দিয়েছেন যে; আল্লাহ তা‘য়ালা প্রত্যেক স্বলাত আদায়কারীকে ওযু করার হুকুম দেননি কিছু লোকেদের দিয়েছেন (যাদের ওযু ভেঙ্গে গিয়েছে)। যেমন তিনি এই আয়াত : ﺧُﺬْ ﻣِﻦْ ﺃَﻣْﻮَاﻟِﻬِﻢْ ﺻَﺪَﻗَﺔً  “তাদের মাল হতে সাদকাহ গ্রহণ করুন”(সূরা তাওবাহ ১০৩) এর ব্যখ্যা করতে গিয়ে বর্ণনা করেছেন যে; আল্লাহ তা‘য়ালা কিছু ধনীদের নিকট হতে সাদকাহ (যাকাত) গ্রহণ করার হুকুম দিয়েছেন। সবার নিকট হতে নয় (অর্থাৎ যাকাতের নিসাব পরিমাণ মাল যাদের হয়েছে)। অনুরূপ তিনি গণিমাতের নৈকট্যশীলদের অংশ বানী হাশেম ও বানী আব্দুল মুত্তালিব বন্টন করে আল্লাহ তা‘য়ালার সেই হুকুম ﺫِﻱاﻟْﻘُﺮْﺑَﻰ “আর নৈকট্যশীলদের দিন”(সূরা নিসা ৩৬) পালন করেছেন। যে নৈকট্যশীল অর্থাৎ তার আত্মীয়স্বজনগণ; সবায় নয়। অনুরূপ তিনি আল্লাহ তা‘য়ালার হুকুৃম : ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻕُ ﻭَاﻟﺴَّﺎﺭِﻗَﺔُ ﻓَﺎﻗْﻄَﻌُﻮا ﺃَﻳْﺪِﻳَﻬُﻤَﺎ  “চোর পুরুষ ও চোর নারীদের হাত কেটে দিন (সূরা মায়িদা ৩৮) এর ব্যখ্যা করতে গিয়ে বলেন : এর দ্বারা আল্লাহ তা‘য়ালার উদ্দশ্য কিছু চোর; সব চোর নয়। কেননা এক দিনার বা তার কিছু কম চুরিকারীর উপরও তাহলে এই হুকুম বর্তাবে। অথচ নাবী (সাঃ) বলেছেন : চার দিনার বা তার থেকে বেশী বস্তুর চুরি করলে চোরের হাত কাটা হবে। নাবী (সাঃ) তার এই হুকুম হতে আল্লাহ তা‘য়ালার উক্ত হুকুম এর কারণ বর্ণনা করে দিয়েছেন যে; ঐ আয়াতের উদ্দেশ্য হল কিছু চোর (যে চার দিনারের বেশী চুরি করে)। আল্লাহ তা‘য়ালা তার নাবী (সাঃ) কে বলেছেন : ﻭَﺃَﻧْﺰَﻟْﻨَﺎ ﺇِﻟَﻴْﻚَ اﻟﺬِّﻛْﺮَ ﻟِﺘُﺒَﻴِّﻦَ ﻟﻠِﻨَّﺎﺱِ ﻣَﺎ ﻧُﺰِّﻝَ ﺇِﻟَﻴْﻬِﻢْ“ক্বুরআন কারীম আমি আপনার নিকট অবতীর্ণ করেছি; যাতে আপনি লোকদের সামনে ঐসব বিষয় বিবৃত করেন; যেগুলো তাদের প্রতি অবতীর্ণ করা হয়েছে”(সূরা নাহল ৪৪)।

12 – ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺑَﺸَّﺎﺭٍ، ﺛﻨﺎ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦُ ﺳَﻌِﻴﺪٍ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﺛﻨﺎ ﻋَﺒْﺪُ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﻳَﻌْﻨِﻲ اﺑْﻦَ ﻣَﻬْﺪِﻱٍّ، ﺛﻨﺎ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥُ، ﻋَﻦْ ﻋَﻠْﻘَﻤَﺔَ ﺑْﻦِ ﻣَﺮْﺛَﺪٍ، ﻋَﻦْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﻋِﻨْﺪَ ﻛُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ اﻟْﻔَﺘْﺢِ «§ﺗَﻮَﺿَّﺄَ ﻭَﻣَﺴَﺢَ ﻋَﻠَﻰ ﺧُﻔَّﻴْﻪِ، ﻭَﺻَﻠَّﻰ اﻟﺼَّﻠَﻮَاﺕِ ﺑِﻮُﺿُﻮءٍ ﻭَاﺣِﺪٍ» ، ﻓَﻘَﺎﻝَ ﻟَﻪُ ﻋُﻤَﺮُ: ﻳَﺎ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ، ﺇِﻧَّﻚَ ﻓَﻌَﻠْﺖَ ﺷَﻴْﺌًﺎ ﻟَﻢْ ﺗَﻜُﻦْ ﺗَﻔْﻌَﻠُﻪُ ﻗَﺎﻝَ: «ﺇِﻧِّﻲ ﻋَﻤْﺪًا ﻓَﻌَﻠْﺘُﻪُ ﻳَﺎ ﻋُﻤَﺮُ» ﻫَﺬَا ﺣَﺪِﻳﺚُ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﺮَّﺣْﻤَﻦِ ﺑْﻦِ ﻣَﻬْﺪِﻱٍّ ”

১২: বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। রসূলুল্লাহ (সাঃ) প্রত্যেক স্বলাতের ওয়াক্তে ওযু করতেন। অতঃপর যখন মক্কা বিজয়ের দিন এল তখন তিনি ওযু করলেন এবং তার মোজার উপর মাসাহ করলেন এবং এক ওযুর দ্বারা কয়েক ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করেছেন। উমার (রাযিঃ) বললেন; হে আল্লাহর রসূল! (আজ) আপনি এমন কিছু করলেন যা কখনো করেননি। তিনি (সাঃ) বললেন; “হে উমার! আমি ইচ্ছা করেই এরূপ করেছি (এটা বুঝাবার জন্য যে; যদি ওযু না ভাঙ্গে তাহলে প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু করা জরুরী নয়)”। এটা আব্দুর রহমান বিন মেহদীর রিওয়াআত।

13 – ﺛﻨﺎ ﻋَﻠِﻲُّ ﺑْﻦُ اﻟْﺤُﺴَﻴْﻦِ اﻟﺪِّﺭْﻫَﻤِﻲُّ – ﺑِﺨَﺒَﺮٍ ﻏَﺮِﻳﺐٍ ﻏَﺮِﻳﺐٍ – ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﻌْﺘَﻤِﺮٌ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ اﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ، ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﺎﺭِﺏِ ﺑْﻦِ ﺩِﺛَﺎﺭٍ، ﻋَﻦِ اﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ ﻗَﺎﻝَ: «ﻛَﺎﻥَ ﺭَﺳُﻮﻝُ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ §ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ ﺇِﻻَّ ﻳَﻮْﻡَ ﻓَﺘْﺢِ ﻣَﻜَّﺔَ؛ ﻓَﺈِﻧَّﻪُ ﺷُﻐِﻞَ ﻓَﺠَﻤَﻊَ ﺑَﻴْﻦَ اﻟﻈُّﻬْﺮِ ﻭَاﻟْﻌَﺼْﺮِ ﺑِﻮَﺿُﻮءٍ ﻭَاﺣِﺪٍ»

১৩: বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; রসূলুল্লাহ (সাঃ) মক্কা বিজয়ের দিন ছাড়া প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু করতেন। (সেই দিন) তিনি ব্যস্ত হয়ে গিয়েছিলেন; তিনি একই ওযুতে যোহর ও আসর (এর স্বলাত) কে জমা জরে আদায় করেন।
★ পূর্বে বর্ণিত হাঃ ১২ এর রেফারেন্সগুলো দ্রষ্টব্য।

14 – ﺛﻨﺎ ﺃَﺑُﻮ ﻋَﻤَّﺎﺭٍ، ﺛﻨﺎ ﻭَﻛِﻴﻊُ ﺑْﻦُ اﻟْﺠَﺮَّاﺡِ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﺎﺭِﺏِ ﺑْﻦِ ﺩِﺛَﺎﺭٍ، ﻋَﻦْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻴﻪِ، «ﺃَﻥَّ اﻟﻨَّﺒِﻲَّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ §ﻳَﺘَﻮَﺿَّﺄُ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﻛَﺎﻥَ ﻳَﻮْﻡُ ﻓَﺘْﺢِ ﻣَﻜَّﺔَ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﺼَّﻠَﻮَاﺕِ ﻛُﻠَّﻬَﺎ ﺑِﻮَﺿُﻮءٍ ﻭَاﺣِﺪٍ» ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ: «ﻟَﻢْ ﻳُﺴْﻨِﺪْ ﻫَﺬَا اﻟْﺨَﺒَﺮَ ﻋَﻦِ اﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ ﺃَﺣَﺪٌ ﻧَﻌْﻠَﻤُﻪُ ﻏَﻴْﺮُ اﻟْﻤُﻌْﺘَﻤِﺮِ، ﻭَﻭَﻛِﻴﻊٍ ﻭﺭَﻭَاﻩُ ﺃَﺻْﺤَﺎﺏُ اﻟﺜَّﻮْﺭِﻱِّ ﻭَﻏَﻴْﺮُﻫُﻤَﺎ، ﻋَﻦْ ﺳُﻔْﻴَﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﺎﺭِﺏٍ، ﻋَﻦْ ﺳُﻠَﻴْﻤَﺎﻥَ ﺑْﻦِ ﺑُﺮَﻳْﺪَﺓَ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ، ﻓَﺈِﻥْ ﻛَﺎﻥَ اﻟْﻤُﻌْﺘَﻤِﺮُ، ﻭَﻭَﻛِﻴﻊٌ ﻣَﻊَ ﺟَﻼَﻟَﺘِﻬِﻤَﺎ ﺣَﻔِﻈَﺎ ﻫَﺬَا اﻹِْﺳْﻨَﺎﺩَ ﻭَاﺗِّﺼَﺎﻟَﻪُ ﻓَﻬُﻮَ ﺧَﺒَﺮٌ ﻏَﺮِﻳﺐٌ ﻏَﺮِﻳﺐٌ»

১৪: সুলাইমান তার পিতা বুরাইদাহ (রাযিঃ) হতে বর্ণনা করেন যে; “নাবী (সাঃ) প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু করতেন। অতঃপর মক্কা বিজয়ের দিন তিনি সব স্বলাত একই ওযুতে আদায় করেন”। ইমাম আবূ বাকর (রহঃ) বলেন; মা’মুর ও ওয়াকি’য় ব্যতীত কেউ এই রিওয়াআত ইমাম সুফিয়ান সাওরী হতে বর্ণনা করেননি। ইমাম সুফিয়ান সাওরীর ছাত্র মা’মুর ও ওয়াকি’য় ব্যতীত অন্য রাবীগণ এই রিওয়াআত ইমাম সুফিয়ান হতে তিনি মহারিব হতে তিনি সুলাইমান বিন বুরাইদাহ হতে আর তিনি নাবী (সাঃ) হতে বর্ণনা করেছেন। সম্মানীয় মু’তামার ও ওয়াকি’য়  তার সনদ ও তার বর্ণনাকে মুখস্থ করে নিয়েছেন। কিন্তু এই রিওয়াআত অত্যন্ত গরীব।
★সনদ সহীহ। ইবনুমাজাহ হাঃ ৫১০;
ব্যাখ্যা:
এই হাদীস হতে প্রমাণ হচ্ছে যে; যদি কারো ওযু ভেঙ্গে না থাকে তার পূর্বের ওযু দ্বারা সে পরের ওয়াক্তের স্বলাত আদায় করতে পারে। এমনকি একই ওযুতে কয়েক ওয়াক্তের ফরয ও নফল স্বলাত সে আদায় করতে পারে। তবে ওযু করে নেওয়াটা উত্তম। কারণ প্রত্যেক ওযুর জন্য পৃথক সওয়াব রয়েছে।

11-ﺑَﺎﺏُ اﻟﺪَّﻟِﻴﻞِ ﻋَﻠَﻰ ﺃَﻥَّ اﻟْﻮُﺿُﻮءَ ﻻَ ﻳَﺠِﺐُ ﺇِﻻَّ ﻣِﻦْ ﺣَﺪَﺙ

অধ্যায় ১১: সেই কথার বর্ণনা যে; ওযু ভঙ্গের কারণ ঘটলে ওযু ওয়াজিব হয়ে যায়।

15 – ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻣَﻨْﺼُﻮﺭٍ ﺃَﺑُﻮ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﻭَﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺷَﻮْﻛَﺮِ ﺑْﻦِ ﺭَاﻓِﻊٍ اﻟْﺒَﻐْﺪَاﺩِﻳَّﺎﻥِ ﻗَﺎﻻَ: ﺛﻨﺎ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏُ ﻭَﻫُﻮَ اﺑْﻦُ ﺇِﺑْﺮَاﻫِﻴﻢَ ﺑْﻦِ ﺳَﻌْﺪٍ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺑِﻲ، ﻋَﻦِ اﺑْﻦِ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦِ ﺣَﺒَّﺎﻥَ اﻷَْﻧْﺼَﺎﺭِﻱُّ، ﺛُﻢَّ اﻟْﻤَﺎﺯِﻧِﻲُّ ﻣَﺎﺯِﻥُ ﺑَﻨِﻲ اﻟﻨَّﺠَّﺎﺭِ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ، ﻭَﺣَﺪَّﺛَﻨَﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﻳَﺤْﻴَﻰ، ﺛﻨﺎ ﺃَﺣْﻤَﺪُ ﺑْﻦُ ﺧَﺎﻟِﺪٍ اﻟْﻮَﻫْﺒِﻲُّ، ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺇِﺳْﺤَﺎﻕَ، ﻋَﻦْ ﻣُﺤَﻤَّﺪِ ﺑْﻦِ ﻳَﺤْﻴَﻰ ﺑْﻦِ ﺣَﺒَّﺎﻥَ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠﻪِ ﺑْﻦِ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻗَﺎﻝَ: ﻗُﻠْﺖُ ﻟَﻪُ: ﺃَﺭَﺃَﻳْﺖَ ﻭُﺿُﻮءَ ﻋَﺒْﺪِ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦِ ﻋُﻤَﺮَ ﻟِﻜُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ ﻃَﺎﻫِﺮًا ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻭْ ﻏَﻴْﺮَ ﻃَﺎﻫِﺮٍ ﻋَﻤَّﻦْ ﻫُﻮَ؟ ﻗَﺎﻝَ: ﺣَﺪَّﺛَﺘْﻪُ ﺃَﺳْﻤَﺎءُ ﺑِﻨْﺖُ ﺯَﻳْﺪِ ﺑْﻦِ اﻟْﺨَﻄَّﺎﺏِ ﺃَﻥَّ ﻋَﺒْﺪَ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦَ ﺣَﻨْﻈَﻠَﺔَ ﺑْﻦِ ﺃَﺑِﻲ ﻋَﺎﻣِﺮٍ اﻟْﻐَﺴِﻴﻞَ ﺣَﺪَّﺛَﻬَﺎ ﺃَﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻛَﺎﻥَ §ﺃَﻣَﺮَ ﺑِﺎﻟْﻮُﺿُﻮءِ ﻋِﻨْﺪَ ﻛُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ ﻃَﺎﻫِﺮًا ﻛَﺎﻥَ ﺃَﻭْ ﻏَﻴْﺮَ ﻃَﺎﻫِﺮٍ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺷَﻖَّ ﺫَﻟِﻚَ ﻋَﻠَﻰ ﺭَﺳُﻮﻝِ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺃَﻣَﺮَ ﺑِﺎﻟﺴِّﻮَاﻙِ ﻋِﻨْﺪَ ﻛُﻞِّ ﺻَﻼَﺓٍ، ﻭَﻭُﺿِﻊَ ﻋَﻨْﻪُ اﻟْﻮُﺿُﻮءُ ﺇِﻻَّ ﻣِﻦْ ﺣَﺪَﺙٍ «ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻋَﺒْﺪُ اﻟﻠَّﻪِ ﻳَﺮَﻯ ﺃَﻥَّ ﺑِﻪِ ﻗُﻮَّﺓً ﻋَﻠَﻰ ﺫَﻟِﻚَ ﻓَﻔَﻌَﻠَﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺕَ» ﻫَﺬَا ﺣَﺪِﻳﺚُ ﻳَﻌْﻘُﻮﺏَ ﺑْﻦِ ﺇِﺑْﺮَاﻫِﻴﻢَ، ﻏَﻴْﺮُ ﺃَﻥَّ ﻣُﺤَﻤَّﺪَ ﺑْﻦَ ﻣَﻨْﺼُﻮﺭٍ ﻗَﺎﻝَ: ﻭَﻛَﺎﻥَ ﻳَﻔْﻌَﻠُﻪُ ﺣَﺘَّﻰ ﻣَﺎﺕَ ”

১৫: মুহাম্মাদ বিন ইয়াহইয়া (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি বলেন; আমি আব্দুল্লাহ বিন আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাযিঃ) কে বললাম; আপনার কি মনে হয় আব্দুল্লাহ বিন উমার (রাযিঃ) পবিত্রতা ও অপবিত্রতা (ওযু করা বা না করা) অবস্থায় প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু করতেন?  আব্দুল্লাহ বলল; তাকে আসমা বিন যায়িদ বিন খাত্তাব বর্ণনা করেছন যে; তাকে আব্দুল্লাহ বিন হানজালাহ বিন আবি উমার যাকে ফেরেশ্তারা গোসল দিয়েছিল (হাদীসের রাবী তার ছেলে সে নিজে নয়) বর্ণনা করেছেন যে; রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে পবিত্রতা ও অপবিত্রতা প্রত্যেক অবস্থায় ওযু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যখন এটা রসূলুল্লাহ (সাঃ) এর জন্য কষ্টকর হয়ে পড়ল; তখন তাকে প্রত্যেক স্বলাতের সময় মিসওয়াক করার নির্দেশ দেওয়া হল। আর (প্রত্যেক স্বলাতের জন্য) ওযুর নির্দেশ সিথিল করে দেওয়া হল; এ ব্যতীত যে; তার ওযু ভেঙ্গে গেলে (আবার ওযু করতে হবে)। আব্দুল্লাহ (রাযিঃ) এর অনুমান ছিল যে; সে তার (প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযুর) শক্তি রাখতেন; সুতরাং তিনি মৃত্যু পর্যন্ত এমনই করেছিলেন। এটা ইয়াকুব বিন ইবরাহীমের রিওয়াআত। মুহাম্মাদ বিন মানসূরের রিওয়াআতে এই শব্দ আছে “মৃত্যু পর্যন্ত তিনি এরূপ আমল (প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু) করতেন।
★সনদ হাসান। আবুদাঊদ হাঃ ৪৮; মুসনাদে আহমাদ হাঃ ২০৯০৪; দারেমী হাঃ ৬৫৭; বায়হাকী সুনানুল কুবরা হাঃ ১৫৭;
ব্যাখ্যা:
এই হাদীস হতে প্রমাণিত হল যে; মক্কা বিজয়ের পূর্বে প্রত্যেক স্বলাতের জন্য নাবী (সাঃ) এর উপর ওযু করা ওয়াজিব ছিল। তারপর তার উপর তা লঘু করা হয় এবং অসুবিধার ক্ষেত্রর জন্য তার ওয়াজিবকে নরম করে দেওয়া হয়। অতএব এখনো প্রত্যেক স্বলাতের জন্য ওযু করা উত্তম আমল। আর যে ব্যক্তি নূতন ওযু করার ক্ষমতা রাখে; তার নূতন ওযু করেই স্বলাত পড়া উচিত। এটা তার জন্য উত্তম। কিন্তু কোন কারণে ওযু থাকা অবস্থায় যদি কোন ব্যক্তি একই ওযুতে কয়েক ওয়াক্ত স্বলাত পড়ে; তাহলে এটা মন্দ আমল নয়। নিঃসন্দেহে শরীআতের দৃষ্টিতে এটা বৈধ।

12-ﺑَﺎﺏُ ﺻِﻔَﺔِ ﻭُﺿُﻮءِ اﻟﻨَّﺒِﻲِّ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻋَﻠَﻰ ﻃُﻬْﺮٍ ﻣِﻦْ ﻏَﻴْﺮِ ﺣَﺪَﺙٍ ﻛَﺎﻥَ ﻣِﻤَّﺎ ﻳُﻮﺟِﺐُ اﻟْﻮُﺿُﻮء

অধ্যায় ১২: ওযু ভঙ্গকারী কারণ ছাড়া পবিত্রতা অবস্থায় নাবী (সাঃ) এর ওযুর অবস্থার বর্ণনা।

16 – ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪُ ﺑْﻦُ ﺑَﺸَّﺎﺭٍ ﺑُﻨْﺪَاﺭٌ، ﺛﻨﺎ ﻣُﺤَﻤَّﺪٌ ﻳَﻌْﻨِﻲ اﺑْﻦَ ﺟَﻌْﻔَﺮٍ، ﺛﻨﺎ ﺷُﻌْﺒَﺔُ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦِ ﻣَﻴْﺴَﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺰَّاﻝِ ﺑْﻦِ ﺳَﺒْﺮَﺓَ، ﺃَﻧَّﻪُ ﺷَﻬِﺪَ ﻋَﻠِﻴًّﺎ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻈُّﻬْﺮَ، ﺛُﻢَّ ﺟَﻠَﺲَ ﻓِﻲ اﻟﺮَّﺣْﺒَﺔِ ﻓِﻲ ﺣَﻮَاﺋِﺞِ اﻟﻨَّﺎﺱِ، ﻓَﻠَﻤَّﺎ ﺣَﻀَﺮَﺕِ اﻟْﻌَﺼْﺮُ ﺩَﻋَﺎ ﺑِﺘَﻮْﺭٍ ﻣِﻦْ ﻣَﺎءٍ «§ﻓَﻤَﺴَﺢَ ﺑِﻪِ ﺫِﺭَاﻋَﻴْﻪِ ﻭَﻭَﺟْﻬَﻪُ ﻭَﺭَﺃْﺳَﻪُ ﻭَﺭِﺟْﻠَﻴْﻪِ، ﺛُﻢَّ ﺷَﺮِﺏَ ﻓَﻀْﻞَ ﻭُﺿُﻮﺋِﻪِ ﻭَﻫُﻮَ ﻗَﺎﺋِﻢٌ» ، ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻥَّ ﻧَﺎﺳًﺎ ﻳَﻜْﺮَﻫُﻮﻥَ ﺃَﻥْ ﻳَﺸْﺮَﺑُﻮا ﻭَﻫُﻢْ ﻗِﻴَﺎﻡٌ، «ﺇِﻥَّ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﺻَﻨَﻊَ ﻣِﺜْﻞَ ﻣَﺎ ﺻَﻨَﻌْﺖُ» ، ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﻫَﺬَا ﻭُﺿُﻮءُ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﺤْﺪِﺙْ» ﺛﻨﺎ ﻳُﻮﺳُﻒُ ﺑْﻦُ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﺛﻨﺎ ﺟَﺮِﻳﺮٌ، ﻋَﻦْ ﻣَﻨْﺼُﻮﺭِ ﺑْﻦِ اﻟْﻤُﻌْﺘَﻤِﺮِ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦِ ﻣَﻴْﺴَﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺰَّاﻝِ ﺑْﻦِ ﺳَﺒْﺮَﺓَ، ﻓَﺬَﻛَﺮَ اﻟْﺤَﺪِﻳﺚَ، ﻭَﻗَﺎﻝَ: ﺇِﻧِّﻲ ﺭَﺃَﻳْﺖُ ﺭَﺳُﻮﻝَ اﻟﻠَّﻪِ ﺻَﻠَّﻰ اﻟﻠﻪُ ﻋَﻠَﻴْﻪِ ﻭَﺳَﻠَّﻢَ ﻓَﻌَﻞَ ﻛَﻤَﺎ ﻓَﻌَﻠْﺖُ، ﻭَﻗَﺎﻝَ: «ﻫَﺬَا ﻭُﺿُﻮءُ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﺤْﺪِﺙْ» . ﻗَﺎﻝَ ﺃَﺑُﻮ ﺑَﻜْﺮٍ: ﻭَﺭَﻭَاﻩُ ﻣِﺴْﻌَﺮُ ﺑْﻦُ ﻛِﺪَاﻡٍ، ﻋَﻦْ ﻋَﺒْﺪِ اﻟْﻤَﻠِﻚِ ﺑْﻦِ ﻣَﻴْﺴَﺮَﺓَ، ﻋَﻦِ اﻟﻨَّﺰَّاﻝِ ﺑْﻦِ ﺳَﺒْﺮَﺓَ، ﻋَﻦْ ﻋَﻠِﻲٍّ ﻭَﻗَﺎﻝَ: ﺛُﻢَّ ﻗَﺎﻝَ: «ﻫَﺬَا ﻭُﺿُﻮءُ ﻣَﻦْ ﻟَﻢْ ﻳُﺤْﺪِﺙْ» ، ﺛﻨﺎ ﻳُﻮﺳُﻒُ ﺑْﻦُ ﻣُﻮﺳَﻰ، ﺛﻨﺎ اﻟْﻔَﻀْﻞُ ﺑْﻦُ ﺩُﻛَﻴْﻦٍ، ﻭَﻋُﺒَﻴْﺪُ اﻟﻠَّﻪِ ﺑْﻦُ ﻣُﻮﺳَﻰ
: ﺇﺳﻨﺎﺩﻩ ﺻﺤﻴﺢ

১৬: নাযযাল বিন সাবরা (রহঃ) হতে বর্ণিত। তিনি আলী (রাযিঃ) এর নিকট উপস্থিত হলেন। তিনি (আলী রাঃ)  যোহরের স্বলাত আদায় করলেন; অতঃপর লোকেদের প্রয়োজন পূরণার্থে বসলেন। তারপর যখন আসরের ওয়াক্ত হল তিনি পানির পাত্র আনালেন আর তার দ্বারা নিজ দুই হাত; মুখমণ্ডল ; মাথা এবং উভয় পা মাসেহ করলেন (অর্থাৎ ভালো করে ধৌত না করে হাল্কা-ফুল্কা ওযু করলেন)। অতঃপর দাঁড়িয়ে উদ্বৃত্ত পানি পান করলেন; “তারপর বললেন; কিছু লোক দাঁড়িয়ে পানি পান করা অপছন্দ করে; অথচ রসূলুল্লাহ (সাঃ) এমনই করেছিলেন যেমন আমি করলাম। আর তিনি বলেছিলেন; এটা সেই ব্যক্তির ওযু যার ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়নি”। নাযযাল বিন সাবরা হতে বর্ণিত অন্য রিওয়াআতে এই শব্দ আছে যে; “আমি রসূলুল্লাহ (সাঃ) কে এরূপই করতে দেখেছি যেরূপ আমি করলাম। আর তিনি বলেছেন; এটা সেই ব্যক্তির ওযু যার ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়নি”। নাযযাল হতে বর্ণিত তৃতীয় রিওয়াআতে কেবল এই শব্দ আছে যে; “এটা সেই ব্যক্তির ওযু যার ওযু ভঙ্গ হয়ে যায়নি”।
★সনদ সহীহ।  নাসাঈ হাঃ ১৩০;
ব্যাখ্যা:
ওযু যার থাকবে সে একই ওযুতে কয়েক ওয়াক্ত স্বলাত আদায় করতে পারে; তার জন্যে দুটি বৈধ ; সে ওযু না করে ওযুর অঙ্গসমূহ হাল্কা মাসেহ করে নিতে পারে কিংবা বিনা মাসেহ করেও স্বলাত আদায় করতে পারে।
বসে পানি পান করাই উত্তম ; তবে কোন কোন ক্ষেত্রে দাঁড়িয়ে পানি করা যেতে পারে।