এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

তারা মানুষের সাথে এমন ভাষায় কথা বলবেন, যা তারা বুঝতে পারবে (ফাতাওয়া লাজনা দায়েমা ৩/৪৫০)। 

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ)-কে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হ’লে তিনি বলেন, সেদিন মানুষ কোন ভাষায় কথা বলবে তা জানা যায় না। কেননা আল্লাহ ও রাসূল (ছাঃ) এ বিষয়ে আমাদের কোন খবর দেন নি। ছাহাবায়ে কেরামও এ নিয়ে নিজেদের মধ্যে কোন বিতর্ক করেননি। বরং সবাই এ ব্যাপারে চুপ থেকেছেন। কেননা এ ব্যাপারে কথা বলা অনর্থক মাত্র (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/৩০০)।

উত্তর

মৃত্যুর পরে রূহ কিছুক্ষণের জন্য দেহ হ’তে বিচ্ছিন্ন হ’লেও পুনরায় আপন দেহে তা স্থাপন করা হয় এবং বান্দাকে প্রশ্ন করা হয় (আহমাদ হা/১৮৫৫৭; ইবনু মাজাহ হা/৪২৬২; মিশকাত হা/১৬৩০; ছহীহুল জামে‘ হা/১৬৭৬)। অতএব কিয়ামতের দিনও মানুষের আত্মার সাথে দেহ জুড়ে দেওয়া হবে। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়া (রহঃ) বলেন, সকল ছহীহ মুতাওয়াতির হাদীছ প্রমাণ বহন করে যে, রূহ দেহে ফিরিয়ে দেওয়া হবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৫/৪৪৬)। তবে তখন আমাদের এই দেহ থাকবে না অন্য দেহে রূহ স্থাপন করা হবে সে বিষয়ে আল্লাহই ভালো জানেন (উছায়মীন, ফাতাওয়া নূরুন আলাদ-দারব ২/৪)।

উত্তর

আত্মঘাতি হওয়া আত্মহত্যার শামিল। শরী‘আতে যার কোন অনুমোদন নেই। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর সাথে জিহাদে অংশগ্রহণ করে ইসলামের পক্ষে বীরত্বের সাথে যুদ্ধ শেষে যখমে অতিষ্ঠ হয়ে নিজের তরবারি দিয়ে আত্মহত্যা করলে রাসূল (ছাঃ) তাকে জাহান্নামী বলে আখ্যায়িত করেন (বুখারী হা/৪২০৩ ‘খায়বর যুদ্ধ’ অনুচ্ছেদ)। তাছাড়া এগুলি জিহাদ ফী সাবীলিল্লাহ নয়। বরং ইহূদী-নাছারাদের চক্রান্তে জিহাদের সুড়সুড়ি দিয়ে তাদের পাতানো ফাঁদে আটকিয়ে মুসলমানদের ধ্বংস করার ষড়যন্ত্র মাত্র। মূলতঃ ইহূদী-খ্রিষ্টান রাষ্ট্র শক্তিগুলির বিরুদ্ধে যুদ্ধ করার দায়িত্ব মুসলিম রাষ্ট্র শক্তিগুলির। তারা এটা না করলে পরকালে জওয়াবদিহি করতে বাধ্য হবে। এ দায়িত্ব সাধারণ নাগরিকের নয় এবং তারা এজন্য আল্লাহর নিকট দায়ী হবে না। কারণ এটি তাদের সাধ্যের অতীত। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা সাধ্যমত আল্লাহকে ভয় কর’ (তাগাবুন ৬৪/১৬)। (বিস্তারিত দ্রঃ ‘জিহাদ ও ক্বিতাল’ বই)। 

এসব আত্মঘাতিরা একদিকে আত্মহত্যাকারী হিসাবে পরকালে কঠিন শাস্তিপ্রাপ্ত হবে(বুখারী হা/৫৭৭৮, মুসলিম হা/১০৯, মিশকাত হা/৩৪৫৩), অন্যদিকে তাদের হাতে নিহত নিরপরাধ মানুষ হত্যার অপরাধে পরকালে কঠোর শাস্তি ভোগ করবে’ (বুখারী হা/৬৬৭৫; মিশকাত হা/৫০)। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নিজেদেরকে হত্যা করো না’ (নিসা ৪/২৯)। তিনি বলেন, ‘যে ব্যক্তি মানুষকে অন্যায়ভাবে হত্যা করল, সে যেন সকল মানুষকে হত্যা করল’ (মায়েদাহ ৫/৩২)। যারা এসব কাজে নেতৃত্ব দিচ্ছে তারা নিজেরা পথভ্রষ্ট হচ্ছে, অন্যকেও পথভ্রষ্ট করছে। এরূপ ব্যক্তিদের সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, ‘তারা নিজেদের পাপভার বহন করবে এবং নিজেদের বোঝার সাথে অন্যদের পাপের বোঝা। আর তারা যেসব মিথ্যা উদ্ভাবন করে সে বিষয়ে ক্বিয়ামত দিবসে অবশ্যই তাদের প্রশ্ন করা হবে’(আনকাবূত ২৯/১৩)। 

শায়খ আলবানী, উছায়মীন, আব্দুল্লাহ বিন বায, আব্দুল আযীয আলে শায়খ, ছালেহ বিন ফাওযান, আব্দুল আযীয রাজেহী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম আত্মঘাতি বোমা হামলার মাধ্যমে নিহত হওয়াকে আত্মহত্যা বলে গণ্য করেছেন (সিলসিলাতুল হুদা ওয়ান নূর ক্রমিক নং ২৭৩; উছায়মীন, শরহ রিয়াযুছ ছালেহীন ১/১৬৫-১৬৬; ফাতাওয়া শার‘ঈয়াহ লিল হাছীন, পৃষ্ঠা ১৬৬-১৬৯)।

উত্তর

কেবল সিরিয়ায় নয় বরং শামে হাশরের ময়দান হবে মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আর তৎকালীন শাম বর্তমানে সিরিয়া, জর্দান, লেবানন, ফিলিস্তীন ও ইসরাঈলের পুরো ভূখন্ড এবং ইরাক, তুরস্ক, মিসর ও সঊদী আরবের কিছু অংশকে শামিল করে (উইকিপিডিয়া)। আবু যর গেফারী (রাঃ) হ’তে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘শাম হ’ল একত্রিত হওয়ার ও পুনরুত্থিত হওয়ার স্থান’ (ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭২৬)। অন্য বর্ণনায় তিনি হাশরের স্থান হিসাবে শামের দিকে ইশারা করেছেন (আহমাদ হা/২০০৪৩, ছহীহুল জামে‘ হা/২৩০২)। মনে রাখতে হবে যে, ক্বিয়ামতের দিন বর্তমান পৃথিবী পরিবর্তিত হয়ে অন্য পৃথিবীতে পরিণত হবে (ইবরাহীম ৪৮) এবং পাহাড়-পর্বত সব একাকার হয়ে সমতল হয়ে যাবে (ত্বোয়াহা ২০/১০৬)। যেটা মানুষের কল্পনার বাইরে।

উত্তর

এ ব্যাপারে বর্ণিত হাদীছটি হ’ল, ‘কোন মুসলমান যদি জুম‘আর দিনে বা রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করেন’ (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৬৭; ছহীহুল জামে‘ হা/৫৭৭৩)। অর্থাৎ আল্লাহ তা‘আলা এ দিনের বরকতে মুমিন ব্যক্তিদের মধ্যে যাকে ইচ্ছা তাকে কবরের ফিৎনা তথা আযাব থেকে রক্ষা করবেন ইনশাআল্লাহ (মির‘আতুল মাফাতীহ ৪/৪৪০)। উক্ত হাদীছটি শায়খ নাছিরুদ্দীন আলবানী বিভিন্ন সূত্রে বর্ণিত হওয়ার কারণে ‘হাসান’ হিসাবে উল্লেখ করেছেন। তবে শায়খ শু‘আইব আরনাঊত্ব ও হুসাইন সালীম আসাদ বলেন, হাদীছটির শাহেদ থাকলেও সেগুলো এমন শক্তিশালী নয় যা হাদীছকে ছহীহ বা হাসানের পর্যায়ে উন্নীত করবে। অতএব হাদীছটি যঈফ (তাহকীক মুসনাদে আহমাদ হা/৬৫৮২; তাহকীক মুসনাদে আবু ইয়া‘লা হা/৪১১৩)। ইবনু হাজার আসক্বালানী (রহঃ) এ বিষয়ে বর্ণিত হাদীছ সমূহকে যঈফ বলেছেন (ফাৎহুল বারী ৩/২৫৩)। এছাড়া কোন ছাহাবী শুক্রবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা প্রকাশ করেছেন বলেও কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। অথচ আবুবকর (রাঃ) রাসূল (ছাঃ)-এর মৃত্যুর দিন তথা সোমবারে মৃত্যুর জন্য আকাংখা করেছেন (বুখারী হা/১৩৮৭)। মোদ্দাকথা এরূপ গায়েবের বিষয় ত্রুটিপূর্ণ দলীল দ্বারা সাব্যস্ত না করাই উত্তম হবে।

উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ (আলবানী, আহকামুল জানায়েয ২৪৬ পৃঃ; ইবনু রজব, আহওয়ালুল কুবূর ১/১০৫)। স্মর্তব্য যে, ‘রামাযান মাসে জান্নাতের দরজাসমূহ খোলা হয় এবং জাহান্নামের দরজাসমূহ বন্ধ করে দেওয়া হয়’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫৬) মর্মে বর্ণিত হাদীছটি দ্বারা কেউ কেউ কবরের আযাব মাফ হওয়ার ব্যাখ্যা করে থাকেন, যার প্রমাণে কোন দলীল নেই। বরং হাদীছটির ব্যাখ্যা হ’ল- রামাযান মাসে বান্দার আনুগত্যের পথ অধিক সহজ করে দেওয়া হয় যা জান্নাত লাভের উপায় এবং পাপকর্ম থেকে বান্দার চিন্তা-চেতনাকে দূরে সরিয়ে দেওয়া হয়, যা তার জন্য জাহান্নামের দরজা বন্ধ হওয়ার উপায়’ (ইবনু হাজার, ফাৎহুল বারী ৪/১১৪, হা/১৮৯৯-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ; উছায়মীন, ফাতাওয়া ইসলামিয়া ২/১৬২)।

উত্তর

মিথ্যা অপবাদ হ’ল কারো ব্যাপারে অন্যের নিকটে এমন কথা বলা যা তার মাঝে নেই (মুসলিম, মিশকাত হা/৪৮২৮)। কারো উপর মিথ্যা অপবাদ লাগিয়ে প্রচার করা কাবীরা গুনাহের অন্তর্ভুক্ত। আর মিথ্যা অপবাদকারীর শাস্তি হচ্ছে ৮০ বেত্রাঘাত (নূর ২৪/৪-৫)। ইবনু হাজার (রহঃ) বলেন, এ ব্যাপারে ঐক্যমত প্রতিষ্ঠিত রয়েছে যে, সতীসাধ্বী নারীর উপর অপবাদ দেওয়ার শাস্তি পুরুষের উপর মিথ্যা অপবাদ আরোপের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য হবে (ফৎহুল বারী ১২/১৮১)। উল্লেখ্য, শরী‘আত নির্ধারিত হদ্দ বাস্তবায়নের দায়িত্ব সরকারের, সাধারণভাবে অন্যদের নয়।

উত্তর

রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন সূর্যকে সৃষ্টিকুলের অতি নিকটে করে দেওয়া হবে। এমনকি সূর্য প্রায় এক বা দুই মাইলের ব্যবধানে হয়ে যাবে (মুসলিম হা/২৮৬৪, আহমাদ হা/২৩৮৬৪, মিশকাত হা/৫৫৪০)। অতএব প্রশ্নে বর্ণিত ‘সোয়া হাত নীচে নেমে আসবে’ কথাটি সঠিক নয়। হাদীছটির বর্ণনাকারী তাবেঈ সুলাইম বিন আমের (রহঃ) বলেন, আমি জানি না যে ‘মীল’ শব্দ দ্বারা যমীনের দূরত্ব না চোখে সুরমা দেওয়ার জন্য ব্যবহৃত শলাকার দূরত্ব বুঝানো হয়েছে’ (মুসলিম ঐ দ্রঃ)। মূলতঃ এর দ্বারা সূর্যের নিকটবর্তী হওয়ার পরিমাণ বুঝানো হয়েছে (মিরক্বাত হা/৫৫৪০-এর ব্যাখ্যা দ্রঃ)। 

প্রথমতঃ হাদীছ অনুযায়ী সূর্য সেদিন যত নিকটবর্তী হবে এবং তার প্রভাবে মানুষের যে অবস্থার কথা বর্ণিত হয়েছে, দুনিয়াবী হিসাবে তা অবিশ্বাস্য। কিন্তু এটা গায়েবের খবর হওয়ায় মুমিনের জন্য তা সত্য বলে মেনে নেওয়া আবশ্যক। আর এর যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা বিদ‘আত (ইবনু তায়মিয়াহ, মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৩৩/১৭৮)। 

দ্বিতীয়তঃ ক্বিয়ামতের দিন দুনিয়াবী বৈশিষ্ট্য থেকে পৃথক শারীরিক গঠন ও বৈশিষ্ট্য নিয়ে মানুষ পুনরুত্থিত হবে। যেমন আল্লাহ বলেন, ‘যেদিন এই পৃথিবীকে অন্য পৃথিবীতে পরিবর্তন করা হবে এবং সকলেই আল্লাহর সামনে প্রকাশিত হবে, যিনি এক ও মহা পরাক্রান্ত (ইবরাহীম ১৪/৪৮)। সেদিনের দৈর্ঘ্য হবে দুনিয়ার হিসাবে পঞ্চাশ হাযার বছর (মা‘আরেজ ৭০/৪)। অতএব গায়েবের বিষয়ে যুক্তি তালাশ করা নিতান্ত নির্বুদ্ধিতার পরিচায়ক। বরং পূর্ণ বিশ্বাস নিয়ে পরকালীন প্রস্ত্ততি গ্রহণ করাই মুমিনের কর্তব্য (বিস্তারিত দ্রঃ মাজমূ‘ ফাতাওয়া ওছায়মীন ২/৩৬)।

উত্তর

মানবজাতির ন্যায় জিন জাতিকে বিচারের সম্মুখীন করা হবে। আল্লাহ বলেন, ‘আমি জিন ও মানব জাতিকে কেবল আমার ইবাদতের জন্যই সৃষ্টি করেছি’ (যারিয়াত ৫১/৫৬)। তিনি বলেন, ‘অবশ্যই আমি জিন ও মানুষ দিয়ে জাহান্নামকে পূর্ণ করব’ (সাজদাহ ৩২/১৩)। তিনি আরো বলেন, ‘হে জিন ও মানব সম্প্রদায়! তোমাদের কাছে কি তোমাদের মধ্য থেকে পয়গম্বরগণ আগমন করেননি, যাঁরা তোমাদেরকে আমার বিধানসমূহ বর্ণনা করতেন এবং তোমাদেরকে আজকের এ দিনে সাক্ষাতের ব্যাপারে ভীতি প্রদর্শন করতেন? (আন‘আম ৬/১৩০)। উল্লি¬খিত আয়াতসমূহ দ্বারা প্রমাণিত হয় যে, জিন জাতি বিচারের সম্মুখীন হবে, তারা জান্নাতী বা জাহান্নামী হবে। সূরা আহক্বাফের ৩১ আয়াতের আলোকে ইবনু কাছীর (রহঃ) একথাকেই প্রধান্য দিয়েছেন (ইবনু কাছীর আহক্বাফ ৩১ আয়াতের তাফসীর দ্রঃ)। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ) মানব ও জিন সহ সমস্ত সৃষ্টির নিকটে নবী হিসাবে প্রেরিত হয়েছেন (মুসলিম হা/৫২৩; তিরমিযী হা/১৫৫৩; মিশকাত হা/৫৭৪৮)। এছাড়া অন্যান্য নবীগণের সময়ে জিনেরা তাঁদের অনুসারী উম্মত ছিল।

উত্তর

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘মানুষ যখন মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় কেবল তিনটি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ। (যেমন মসজিদ, মাদরাসা, ইয়াতীমখানা, রাস্তা ও বাঁধ নির্মাণ, অনাবাদী জমিকে আবাদকরণ, সুপেয় পানির ব্যবস্থাকরণ, দাতব্য চিকিৎসালয় ও হাসপাতাল স্থাপন বই ক্রয় করে বা ছাপিয়ে বিতরণ, বৃক্ষরোপণ ইত্যাদি)। (২) ইলম, যা দ্বারা মানুষ উপকৃত হয়। (যা মানুষকে নির্ভেজাল তাওহীদ ও ছহীহ সুন্নাহর পথ দেখায় এবং যাবতীয় শিরক ও বিদ‘আত হ’তে বিরত রাখে। উক্ত উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে শিক্ষাদান করা, ইসলামী শিক্ষা বিস্তারে সহযোগিতা প্রদান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান নির্মাণ, বিশুদ্ধ আক্বীদা ও আমল সম্পন্ন বই-প্রবন্ধ লেখা, ছাপানো ও বিতরণ করা এবং এজন্য অন্যান্য স্থায়ী প্রচার মাধ্যম স্থাপন ও পরিচালনা করা ইত্যাদি)। (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দো‘আ করে’। (মৃতের জন্য সর্বোত্তম হাদিয়া হ’ল সুসন্তান, যে তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে, ছাদাক্বা করে, তার পক্ষ হ’তে হজ্জ করে ইত্যাদি)। (মুসলিম হা/১৬৩১, মিশকাত হা/২০৩)। 

অন্য বর্ণনায় রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘মৃত্যুর পর কবরে থাকা অবস্থায় বান্দার সাতটি আমল জারী থাকে। (১) দ্বীনী ইলম শিক্ষা দান করা (২) নদী-নালা প্রবাহিত করা (৩) কূপ খনন করা (৪) খেজুর তথা ফলবান বৃক্ষ রোপণ করা (৫) মসজিদ নির্মাণ করা (৬) কুরআন বিতরণ করা (৭) এমন সন্তান রেখে যাওয়া, যে পিতার মৃত্যুর পর তার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করে’ (মুসনাদ বাযযার হা/৭২৮৯; বায়হাক্বী, শু‘আবুল ঈমান; ছহীহুল জামে‘ হা/৩৬০২)। এটি পূর্বের হাদীছের ব্যাখ্যা স্বরূপ।

হাদীছটি মওযূ‘ বা জাল। এটি বায়হাক্বী শু‘আবুল ঈমান, মুসনাদে হারেছ ও ইবনু ‘আদী সহ কয়েকটি গ্রন্থে সংকলিত হয়েছে। হাদীছটি হযরত জাবের ও আয়েশা (রাঃ) হ’তে মরফূ‘ সূত্রে বর্ণিত হয়েছে। প্রথম সূত্রে ইসহাক বিন বিশ্র আল-কাহেলী নামে একজন রাবী আছেন, যিনি ‘মিথ্যাবাদী’ হিসাবে অভিযুক্ত এবং দ্বিতীয় সূত্রে ‘আয়েয বিন নুসাইর নামে একজন রাবী আছেন, যিনি ‘অধিক ভুলকারী’ হিসাবে দুর্বল (দ্রঃ সিলসিলা যঈফাহ হা/২৮০৪)।

উত্তর

(১) আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন তার মর্যাদা বাড়িয়ে দিবেন (মুসলিম হা/২৫৮৮; মিশকাত হা/১৮৮৯; ছহীহ তারগীব হা/৮১৪)। (২) রাগ প্রয়োগ না করে ধৈর্যধারণ করলে ক্বিয়ামতের দিন তাকে পসন্দমত হূর গ্রহণের স্বাধীনতা প্রদান করা হবে(আবুদাঊদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/৫০৮৮, সনদ হাসান) এবং (৩) মাযলূম যালেমের প্রতিবাদ না করে ধৈর্যধারণ করলে আল্লাহ তাকে ফেরেশতা দ্বারা সাহায্য করেন (আহমাদ, মিশকাত হা/৫১০২, ছহীহাহ হা/২২৩১)। এছাড়া রাসূল (ছাঃ) আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের উদ্দেশ্যে ক্রোধ দমন করাকে সর্বাধিক বীরত্ব হিসাবে উল্লেখ করেছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫১০৫)।

উত্তর

ইসলামের মূল দর্শন হ’ল তাওহীদের প্রচার ও প্রতিষ্ঠা দান। মানব সমাজে আল্লাহ্র দ্বীনের বার্তা ছড়িয়ে দেয়ার জন্য কুরআন ও হাদীছে মুসলিম উম্মাহকে জোরালো নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে। এমনকি যদি একটি আয়াতও কেউ জানে, তা প্রচার করার জন্য রাসূল (ছাঃ) নির্দেশ দিয়েছেন (বুখারী, মিশকাত হা/১৯৮)। সুতরাং দাওয়াত ও তাবলীগের কাজ থেকে কারো পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই। বরং কেউ যদি শারঈ ওযর ব্যতীত দৈনন্দিন ব্যস্ততার অজুহাতে বা অলসতাবশতঃ তাবলীগ বা দ্বীনের প্রচার না করে, তাহ’লে সে নিঃসন্দেহে গোনাহগার হবে (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫১৪০, সনদ হাসান)। তবে এর জন্য আল্লাহ তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করবেন এমনটি নয়। কেননা একদিন ছাহাবায়ে কেরাম রাসূল (ছাঃ)-কে সর্বোত্তম মুমিন সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বললেন, যে মুমিন আল্লাহ রাস্তায় জান ও মাল দ্বারা জিহাদ করে। ছাহাবীগণ বললেন, অতঃপর কে? তিনি বললেন, যে মুমিন আল্লাহ্র ভয়ে পাহাড়ের কোন গুহায় আশ্রয় নিয়ে আল্লাহ্র ইবাদত করে এবং স্বীয় অনিষ্ট থেকে লোকদেরকে নিরাপদ রাখে (বুখারী হা/২৭৮৬, মুসলিম হা/১৮৮৮)।

ক্বিয়ামতের দিন মানুষকে বস্ত্রহীন অবস্থাতেই পুনরুত্থিত করা হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৩৬)। কোন হাদীছে বলা হয়নি যে, কাফন পরা অবস্থায় উঠবে। কেবল একটি হাদীছে এসেছে, প্রত্যেক বান্দা যে অবস্থায় মারা যাবে তাকে সে অবস্থায় উঠানো হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৩৪৫)। এর সঠিক ব্যাখ্যা হচ্ছে এই যে, দুনিয়াতে ভালো কর্ম করে মারা গেলে ভালো অবস্থায় আর মন্দ কর্ম করে মারা গিয়ে থাকলে মন্দ অবস্থায় উঠবে (মানাবী, ফায়যুল ক্বাদীর ২/৪৪০)। যেমন বলা হয়েছে, ইহরাম অবস্থায় মারা গেলে তাকে তালবিয়াহ পাঠ করা অবস্থায় উঠানো হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১৬৩৭)।

উত্তর

আল্লামা জালালুদ্দীন সৈয়ূতী তার আল-হাবী নামক কিতাবে (২/২৪৯-২৫৬) কিছু জাল ও যঈফ হাদীছ এবং ইস্রাঈলী কিছু ভিত্তিহীন বর্ণনা উপস্থাপন করে প্রমাণ করার চেষ্টা করেছেন যে, পৃথিবীর বয়স সাত হাযার বছর। আর মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর আগমন ঘটেছে ৬ হাযার বছরের শেষের দিকে। ফলে বাকী থাকে দেড় হাযার বছর। অতএব ১৫ শত হিজরীর সমাপ্তি ঘটার পূর্বে ক্বিয়ামত হয়ে যাবে। উক্ত বক্তব্যটি একেবারেই কাল্পনিক ও ভিত্তিহীন। কারণ আল্লাহ তা‘আলা বলেন, তারা তোমাকে জিজ্ঞেস করে ক্বিয়ামত কখন হবে?’ ‘এ বিষয়ে বলার জন্য তুমি কে?’ ‘এর চূড়ান্ত জ্ঞান তো তোমার প্রভুর নিকটে’(নাযে‘আত ৪২-৪৪)।

উত্তর

আল্লাহ বলেন, ..এবং শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে। ফলে নভোমন্ডল ও ভূমন্ডলের সবাই অজ্ঞান হয়ে পড়বে যাদেরকে আল্লাহ ইচ্ছা করেন তারা ব্যতীত। অতঃপর দ্বিতীয়বার শিংগায় ফুঁক দেওয়া হবে, তখন সকলে দন্ডায়মান হয়ে তাকাতে থাকবে (যুমার ৬৮)। অত্র আয়াতের ব্যাখ্যায় ইবনু কাছীর (রহঃ) বলেন, আসমান ও যমীনবাসী সকলে মৃত্যুবরণ করবে। অতঃপর সবশেষে মালাকুল মাউত মারা যাবেন এবং শুধুমাত্র আল্লাহ বাকী থাকবেন, যিনি চিরঞ্জীব (ইবনু কাছীর, তাফসীর সূরা যুমার ৬৮ আয়াত)। শায়খুল ইসলাম ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, সমস্ত সৃষ্টি মৃত্যুবরণ করবে, এমনকি ফেরেশতারাও। অবশেষে মালাকুল মউতও (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ৪/২৫৯, ১৬/৩৪)।

সন্তানের আগ্রহ, স্বাস্থ্য, মেধা ও যোগ্যতার মান ভেদে তাকে উৎসাহিত করা ও তার জন্য সাধ্যমত ব্যয় নির্বাহ করা পিতা-মাতার অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। এতে কমবেশী হওয়ায় কোন দোষ নেই। তবে কারো প্রতি ইচ্ছাকৃত অবহেলা চরম নিন্দনীয় বিষয়। আর ভরণ-পোষণ ও সম্পত্তি বণ্টনে সকলের প্রতি সমান দৃষ্টিভঙ্গি রাখতে হবে। নইলে তাঁরা পরকালে আল্লাহর নিকট জবাবদিহির সম্মুখীন হবেন। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, ‘তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং তোমাদের সন্তানদের মধ্যে ইনছাফ বজায় রাখ’ (বুখারী হা/১৫৮৭; মিশকাত হা/৩০১৯)। তিনি বলেন, (ক্বিয়ামতের দিন) স্বামী তার পরিবার সম্পর্কে এবং স্ত্রী তার স্বামীর সংসার ও সন্তান সস্পর্কে জিজ্ঞাসিত হবে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত ‘ইমারত ও বিচার’ অধ্যায় হা/৩৬৮৫)।

রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করেছেন। আল্লাহ বলেন, ‘প্রত্যেক প্রাণীই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করবে’ (আলে ইমরান ৩/১৮৫)। তিনি স্বীয় রাসূলকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি মৃত্যুবরণ করবে। যেমন তারা (বিগত নবীরা) মৃত্যুবরণ করেছে’ (যুমার ৩৯/৩০)। ৬৩ বছর বয়সে রাসূল (ছাঃ) মৃত্যুবরণ করার পর আবুবকর (রাঃ) বলেছিলেন, ‘যারা মুহাম্মাদ-এর ইবাদত করে তারা জেনে রাখুক যে, মুহাম্মাদ মারা গেছেন। আর যারা আল্ল¬াহর ইবাদত করে, তারা জেনে রাখুক যে, আল্লাহ চিরঞ্জীব, তিনি অমর’ (বুখারী হা/৩৬৬৮)। 

উল্লেখ্য, কেউ কেউ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর নিকট উম্মতের দরূদ ও সালাম পৌঁছানো হয়(নাসাঈ; মিশকাত হা/৯২৪) দ্বারা তাঁর জীবিত থাকার প্রমাণ পেশ করেন। অথচ এখানে সালাম অর্থ দো‘আ। চাই তা কবরের পাশে দাঁড়িয়ে হৌক বা দূর থেকে হৌক। দ্বিতীয়তঃ বিষয়টি সম্পূর্ণরূপে বারযাখী জীবনের অন্তর্ভুক্ত। যেখানে মানুষের হায়াত বা মঊত বলে কিছু নেই। তাই রূহ ফেরত দেওয়ার অর্থ তাঁকে অবহিত করানো এবং তিনি তা বুঝতে পারেন। আর সেটাই হ’ল তাঁর উত্তর দেওয়া (মির‘আত হা/৯৩১-এর ব্যাখ্যা, ৪/২৬২-৭৪)। 

বারযাখী জীবন দুনিয়াবী জীবনের সাথে তুলনীয় নয়। অতএব এ হাদীছগুলির মাধ্যমে ‘হায়াতুন্নবী’ প্রমাণের কোন অবকাশ নেই। বরং এটা পরিষ্কারভাবে শিরকী আক্বীদা। এছাড়া রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-এর কবরের নিকটে গিয়ে দরূদ পাঠ করলে তিনি শুনতে পান মর্মে বায়হাক্বী বর্ণিত হাদীছটি ‘জাল’ (সিলসিলা যঈফাহ হা/২০৩)। আল্লাহ বলেন, ‘নিশ্চয়ই তুমি শুনাতে পারো না কোন মৃত ব্যক্তিকে’ (নামল ২৭/৮০)। আর ‘তুমি শুনাতে পারো না কোন কবরবাসীকে’ (ফাত্বির ৩৫/২২)।

উত্তর

তাদের মধ্যে পরস্পরে সাক্ষাৎ হবে (হাফেয ইবনুল ক্বাইয়িম, আর-রূহ, পৃঃ ১৭)। সৎ বান্দাদের রূহ ইল্লিয়ীনে এবং পাপীদের রূহ সিজ্জীনে অবস্থান করে। তাদের আমল অনুযায়ী আরাম ও শাস্তি ভোগ করে (ফাত্বির ৭-৯, ১৮-২১; আবুদাঊদ হা/৪৭৫৫; মিশকাত হা/১৩১)। শহীদদের রূহ সম্পর্কে রাসূল (ছাঃ) বলেন, তাদের রূহ সবুজ পাখির পেটে থেকে জান্নাতের বিভিন্ন নদী ও বাগান থেকে আহার করে (মুসলিম হা/৪৯৯৩)।

উক্ত বর্ণনাটি মিথ্যা বা জাল (সিলসিলা যঈফাহ হা/৬১৪৬)। বর্ণনাটি ‘তাবলীগী নিছাবে’র ‘ফাযায়েলে যিকর’ অংশে উল্লেখ করা হয়েছে। অবশ্য সেখানেও এটিকে মিথ্যা বলা হয়েছে। কিন্তু মূল উর্দূতে থাকলেও বাংলায় উক্ত অংশের অনুবাদ করা হয়নি (বঙ্গানুবাদ ফাযায়েলে আমল, পৃঃ ৪৭৭)।

শিরক ও বিদ‘আত দুইটিই জঘন্য অপরাধ। যদি উক্ত পাপ হতে তওবা না করে কেউ মারা যায়, তাহলে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিবেন। যেমন শিরক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন। আর তার স্থান হবে জাহান্নামে। আর সীমালংঘনকারীদের জন্য আখেরাতে কোন সাহায্যকারী থাকবে না (মায়েদাহ ৭২)। অতঃপর যারা বিদ‘আতী তারা রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে পরিত্যাগ করে মানুষের তৈরি বিধানের আনুগত্য করে। যারা আল্লাহ্র রাসূলের বিধান মানবে না, তারা মুমিন হতে পারবে না (নিসা ৬৫)। বিদ‘আতীরা হাউয কাওছারের পানি পান করার সুযোগ পাবে না এবং রাসূল (ছাঃ)-এর শাফা‘আতও পাবে না (মুসলিম হা/৪২৪৩)। অবশেষে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে (নাসাঈ হা/১৫৭৮)। 
অতএব যাবতীয় কর্ম এবং ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করলে শিরক থেকে বাঁচা সম্ভব। অনুরূপ দলীলবিহীন ও জাল-যঈফ হাদীছভিত্তিক আমল ত্যাগ করে শুধু ছহীহ দলীল ভিত্তিক আমল করলে বিদ‘আত থেকে বাঁচা সম্ভব।

সন্তান হত্যা করা মহাপাপ (ইসরা ১৭/৩১)। বাসূল (ছাঃ) একে বড় গুনাহ্ সমূহের অন্তর্ভুক্ত করেছেন (মুসলিম হা/৮৬)। সুতরাং তওবা না করে মারা গেলে কঠিন শাস্তির সম্মুখীন হতে হবে (তাকভীর ৮১/৮-৯)।

উত্তর

মৃতব্যক্তি জীবিতদের কর্মকান্ড দেখতে বা তাদের কথাবার্তা শুনতে পায় না। আল্লাহ স্বীয় রাসূল (ছাঃ)-কে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘নিশ্চয়ই আপনি মৃতদেরকে শুনাতে পারেন না’ (নামল ৮০, রূম ৫২)। অন্যত্র তিনি বলেন, ‘আপনি কবরবাসীদেরকে শুনাতে সক্ষম নন’ (ফাত্বির ২২)। তবে অনেকে রাসূল (ছাঃ)-এর একটি হাদীছ দ্বারা শুনার উপর দলীল পেশ করেছেন, যেখানে তিনি বলেছেন, মানুষ যখন দাফন সেরে চলে আসে, কবরে মৃত ব্যক্তি তাদের সেন্ডেল বা জুতার আওয়ায শুনতে পায় (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১২৬ ‘ঈমান’ অধ্যায় ‘কবর আযাব’ অনুচ্ছেদ)। এর উত্তরে শায়খ আলবানী (রহঃ) বলেন, যখন ফেরেশতাগণের প্রশ্নের জবাব দেওয়ার জন্য মৃত ব্যক্তিকে জীবিত হয়, সেসময় সে জুতার আওয়াজ শুনতে পায়, অন্য সময়ে নয় (সিলসিলা যঈফাহ হা/১১৪৭-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)।

উত্তর

ক্বিয়ামতের দিন যারা শাফা‘আত করার সুযোগ লাভ করবেন, তারা হলেন (১) নবী-রাসূলগণ (২) ফেরেশতাগণ (৩) মুমিনগণ (মুসলিম হা/১৮৩; মিশকাত হা/৫৫৭৯)। (৪) ছিয়াম (৫) কুরআন (বায়হাক্বী, মিশকাত হা/১৯৬৩, সনদ ছহীহ)।এছাড়া(৬)শহীদগণ নিজ পরিবারের ৭০ জনের জন্য শাফা‘আত করতে পারবেন(আবুদাঊদ হা/২৫২২)। তবে হাজী এবং আলেমগণ শাফা‘আত করার সুযোগ পাবেন মর্মে বর্ণিত হাদীছগুলি মওযূ‘ (যঈফাহ হা/৫০৯১, ১৯৭৮, ২১১১)। উল্লেখ্য যে, ক্বিয়ামতের দিন জাহান্নামে প্রবেশ করার পর মুসলিম কবীরা গোনাহগারদের জান্নাতে নেওয়ার জন্য শাফা‘আত হবে’। ‘যারা শিরক না করে মৃত্যুবরণ করেছেন’ (তিরমিযী হা/২৪৩৫,২৪৪১, আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ; মিশকাত হা/৫৫৯৮-৫৬০০)।

ইসলামী আদালত কর্তৃক উক্ত দন্ড কার্যকর হ’লে পরকালীন শাস্তির জন্য তা কাফফারা হয়ে যাবে (বুখারী হা/১৮; মুসলিম হা/১৭০৯; মিশকাত হা/১৮)

উত্তর

উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন। তবে জুম‘আর দিনে ক্বিয়ামত হবে মর্মে ছহীহ হাদীছ রয়েছে (আবুদাঊদ হা/১০৪৬, নাসাঈ হা/১৪৩০)।

উত্তর

উক্ত বক্তব্য সঠিক। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘ক্বিয়ামতের দিন এক ব্যক্তিকে এনে তাকে জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে। আগুনে তার নাড়িভুঁড়ি বেরিয়ে যাবে। তখন সে ঐ নাড়িভুঁড়ির চতুষ্পার্শ্বে ঘুরতে থাকবে। যেমনভাবে গাধা ঘানির চতুষ্পার্শ্বে ঘুরে থাকে। এহেন অবস্থাদৃষ্টে জাহান্নামবাসীরা তার চারপাশে একত্রিত হবে ও তাকে লক্ষ্য করে বলবে, হে অমুক! তোমার এ কী দশা? তুমি না সর্বদা আমাদেরকে ভাল কাজের উপদেশ দিতে ও মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতে? তখন লোকটি বলবে, আমি তোমাদেরকে ভাল কাজের উপদেশ দিতাম, কিন্তু নিজে তা করতাম না। আমি তোমাদেরকে মন্দ কাজ থেকে নিষেধ করতাম, কিন্তু আমি নিজে সে কাজ করতাম’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৯ ‘সৎ কাজের নির্দেশ’ অনুচ্ছেদ)।

উত্তর

ক্বিয়ামতের পূর্বে প্রকাশিত নিদর্শন সমূহের মধ্যে কিছু ছোট আছে কিছু বড় আছে। ছোট নিদর্শনের সংখ্যা অনেক। কিছু ঘটে গেছে এবং ঘটছে। যেমন- শেষ নবী (ছাঃ)-এর আগমন, বায়তুল মুক্বাদ্দাস বিজয়, ভন্ড নবীদের আবির্ভাব, আমানতের খেয়ানত, ধর্মীয় জ্ঞানের অভাব, সূদ, বাদ্যযন্ত্র ও মদ্যপানের বিস্তার, বড় বড় অট্টালিকা নির্মাণে প্রতিযোগিতা, হত্যাকান্ড বেশি হওয়া, শিরকের বিস্তার, প্রতিবেশীর হক নষ্ট করা, অশ্লীলতার ব্যাপকতা, নীচু লোকদের নেতৃত্ব পাওয়া, কাপড় পরিহিতা উলঙ্গ মহিলাদের আবির্ভাব, মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া, ইলম উঠে যাওয়া, মূর্খতা ও ব্যভিচার বৃদ্ধি পাওয়া, পুরুষের স্বল্পতা ও নারীদের আধিক্য ইত্যাদি (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৪৩৭; বিস্তারিত দ্রঃ মিশকাত ‘ক্বিয়ামতের আলামত সমূহ’ অনুচ্ছেদ)। 
আর কিছু বড় নিদর্শন আসবে যা এখনো ঘটেনি। যেমন- ইমাম মাহদীর আগমন, দাজ্জালের ফেৎনা, ঈসা (আঃ)-এর অবতরণ, ইয়াজূজ-মাজূজের ফেৎনা, ধোঁয়া আসা, পশ্চিম দিক থেকে সূর্য উঠা, একটি আলৌকিক পশুর আবির্ভাব ঘটা, আগুন মানুষকে হাশরের মাঠে হাঁকিয়ে নিয়ে যাওয়া (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৪৬৪)।

উত্তর

আল্লাহ তা‘আলা অনেক বান্দাকে ক্বিয়ামতের দিন সুফারিশের মাধ্যমে জান্নাতে যাওয়ার অনুমতি দিবেন (বুখারী হা/৬৫৬৫)। কিন্তু সে সুফারিশ তাদের জন্য হবে, যারা শিরক থেকে মুক্ত। সুতরাং মুশরিক, বিদ‘আতী, ছালাত আদায় করে না এমন পিতা-মাতার জন্য শিশু সন্তানের সুফারিশ গ্রহণযোগ্য হবে না (আম্বিয়া ২৮; বুখারী, কিতাবুত তাওহীদ ৭৪-৭৬ পৃঃ)।

উত্তর

উক্ত বক্তব্য সঠিক। দুনিয়ায়ী আমলের ভাল-মন্দের ফলাফল কবর থেকেই শুরু হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, প্রতিদিন সকালে ও সন্ধ্যায় কবরবাসীকে তার জান্নাত অথবা জাহানণামের ঠিকানা দেখানো হয়। ক্বিয়ামত পর্যন্ত এই রূপ হতে থাকবে(মুত্তাফাক্ব আলাইহ, বুখারী হা/১৩১৩; মিশকাত হা/১২৭)। ইবনু তায়মিয়াহ (রহঃ) বলেন, বারযাখী জীবনে (কবরে) ভাল মন্দের বদলা দেওয়া ক্বিয়ামত পর্যন্ত অব্যাহত থাকবে (মাজমূ‘ ফাতাওয়া ২/৫৬; মাজমূ‘ ফাতাওয়া ইবনে বায ফাতাওয়া নং ৪২৬২)।

উত্তর

মুমিনদের মৃত্যুর পর তাদের রূহ আসমানে চলে যায় এবং শরীর মাটিতে খেয়ে নেয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, আদমের সকল সন্তানকে মাটিতে খেয়ে নিবে শুধু তার মেরুদন্ডের সর্বনিম্ন হাড্ডি (عَجْبُ الذَّنَبِ) ব্যতীত। কারণ তা থেকেই তাদের সৃষ্টি করা হয়েছে এবং তা থেকেই তাদের দেহ পুনর্গঠন করা হবে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫২১)। 
কিন্তু নবী-রাসূলের লাশ অক্ষত থাকবে। মাটিতে খাবে না। রাসূল (ছাঃ) বলেন, إِنَّ اللهَ حَرَّمَ عَلَى الْأَرْضِ أَنْ تَأْكُلَ أَجْسَادَ الْأَنْبِيَاءِ ‘আল্লাহ তা‘আলা নবী-রাসূলদের লাশ খাওয়া মাটির জন্য হারাম করে দিয়েছেন’ (ছহীহ আবুদাউদ হা/৯৬২; ইবনে মাজাহ হা/১০৮৫; মিশকাত হা/১৩৬১, ৬৬ ‘জুম‘আ’ অধ্যায়)। তাঁরা ব্যতীত অন্য কারো লাশ মাটিতে খাবে না বলে কোন প্রমাণ পাওয়া যায় না। হতে পারে কারো লাশ দ্রুত খাবে, কার দেরিতে। অনেকের লাশ বহুদিন পরেও স্বাভাবিক অবস্থায় পাওয়া যায়। এটা সম্পূর্ণ আল্লাহ্র ইচ্ছাধীন। উল্লেখ্য যে, ফেরাঊনের লাশকে আল্লাহ তা‘আলা মানুষের উপদেশ গ্রহণের জন্য ক্বিয়ামত পর্যন্তত অক্ষুণ্ণ রাখবেন (ইউনুস ৯২)।

উত্তর

উক্ত মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। বরং দুই শ্রেণীর মানুষ তাঁর শাফা‘আত লাভ করতে সক্ষম হবে না মর্মে হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। অত্যাচারী শাসক এবং খিয়ানতকারী ব্যক্তি (ত্বাবারাণী, ছহীহুল জামে‘ হা/৩৭৯৮)

শেষনবী মুহাম্মাদ (ছাঃ)- কে সর্বপ্রথম কবর থেকে উঠানো হবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৭৪১ ‘ফাযায়েল ও শামায়েল’ অধ্যায়)।

উত্তর

হিসাব হবে। হিসাব হবে না মর্মে কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে আগুনে পুড়ে, পানিতে ডুবে, দেয়াল চাপা পড়ে মারা গেলে শহীদের মর্যাদা পাবে মর্মে ছহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে (ছহীহ আবূদাঊদ হা/৩১১১; ছহীহ নাসাঈ হা/১৮৪৬)। বিনা হিসাবে জান্নাতে যাবেন ৭০ হাযার মুমিন, যারা ঝাড়-ফুঁক নেননি, যারা অশুভ লক্ষণকে গ্রাহ্য করেননি এবং যারা সর্বাবস্থায় আল্লাহর উপর ভরসা করেছেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫২৯৫, ‘রিক্বাক্ব’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-৪)।

মৃত পিতা-মাতার জন্য দো‘আ করতে হবে (ইসরা ২৪) এবং তাদের নামে ছাদাক্বা করতে হবে (বুখারী হা/২৭৭০, ‘অছিয়ত’ অধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২৭)।

উত্তর

উক্ত হাদীছে তার নিজস্ব আমল বন্ধ হওয়ার কথা বলা হয়েছে (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩)। কিন্তু তার নামে কেউ হজ্জ বা ছাদাক্বা করলে তা তার কাছে পৌঁছবে। কারণ এটা তার করা আমল নয় (মুসলিম, মিশকাত হা/১৯৫০)।

উত্তর

ঐ সময় জান্নাতীদের বয়স ৩০ অথবা ৩৩ হবে (তিরমিযী হা/২৫৪৫; মিশকাত হা/৫৬৩৯ ‘ক্বিয়ামতের অবস্থা’ অধ্যায় ‘জান্নাত ও জান্নাতবাসীদের বিবরণ’ অনুচ্ছেদ-৫)। অনুরূপ বয়স হবে জাহান্নামীদের। তবে উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি যঈফ(তিরমিযী হা/২৫৬২; মিশকাত হা/৫৬৪৮)। জিনদের বয়স কত হবে সে সম্পর্কে কিছু জানা যায় না। তবে একই রূপ হবে বলে অনুমতি হয়। আল্লাহ সর্বাধিক অবগত। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ক্বিয়ামতের দিন যখন ইসরাফীল (আঃ) দ্বিতীয় ফুঁৎকার দিবেন তখন মানুষকে নগ্নপদে, নগ্নদেহে ও খাতনা বিহীন অবস্থায় উঠানো হবে (সূরা আম্বিয়া ১০৪; মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৫৫৩৫ ও ৫৫৩৬)।

উত্তর

তারা জান্নাত ও জাহান্নামের মাঝখানে একটি উঁচু জায়গায় অবস্থান করবে। তারাই হবে আ‘রাফবাসী (তাফসীরে ইবনে কাছীর ১/২২৫ পৃঃ, সূরা আ‘রাফ ৪৬ ও ৪৭ নং আয়াতের আলোচনা দ্রঃ)।

উত্তর

উপরোক্ত দু’টি বর্ণনাই সঠিক। এর অর্থ হ’ল : সর্বপ্রথম ছালাতের হিসাব নেওয়া হবে আল্লাহর হক হিসাবে। আর বান্দার হক হিসাবে সর্বপ্রথম খুনের হিসাব নেওয়া হবে (বুলূগুল মারাম হা/১১৫৮-এর ব্যাখ্যা)।

উত্তর

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কোন মুসলমান যদি জুম‘আর দিনে অথবা জুম‘আর রাতে মারা যায়, আল্লাহ তাকে কবরের ফিৎনা হতে রক্ষা করেন’ (আহমাদ, তিরমিযী, মিশকাত হা/১৩৬৭)। ইমাম সুয়ূত্বী বলেন, কেননা জুম‘আর দিন জাহান্নাম উত্তপ্ত করা হয় না। এর দরজা বন্ধ থাকে। জাহান্নামের দারোগার এদিন অন্য দিনের ন্যায় কাজ থাকে না। এ দিন আল্লাহ যদি কোন বান্দার মৃত্যু ঘটান, তাহ’লে ঐ বান্দা ঐ সুযোগ লাভে ধন্য হয় (মির‘আত ৪/৪৪১ পৃঃ)। তবে এর অর্থ এটা নয় যে, মুশরিক ও মুনাফিকরা স্থায়ীভাবে কবর আযাব হ’তে মুক্তি পাবে।

উত্তর

সূর্য ও চন্দ্র উভয়কে ক্বিয়ামতের দিন আলোহীন করা হবে (বুখারী, মিশকাত হা/৫৫২৬)। সূর্য মাত্র এক মাইল দূরে থাকবে (মুসলিম, মিশকাত হা/৫৫৪০)। তারপর জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে (সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১২৪, ১/১২৩ পৃঃ)। 
উল্লেখ্য, সূর্য ও চন্দ্রকে শাস্তি দেওয়ার জন্য জাহান্নামে নিক্ষেপ করা হবে না; বরং এগুলিকে যারা পূজা করেছে তাদেরকে অপদস্থ করার জন্য এটা করা হবে। মা‘বূদের অবস্থা যদি এরূপ হয় তাহ’লে তাদের যারা পূজা করেছে তাদের অবস্থা কেমন হ’তে পারে?

উত্তর

মুশরিক অবস্থায় মারা যাওয়ার কারণে তারা জাহান্নামী হবে। রাসূল (ছাঃ)-কে তাদের জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করার অনুমতি দেওয়া হয়নি (তওবাহ ১১৩; মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৬৩)। রাসূল (ছাঃ) তাঁর পিতার ব্যাপারে জিজ্ঞাসিত হ’লে উত্তরে বলেন, আমার পিতা জাহান্নামী (মুসলিম হা/৫২১; ইবনু মাজাহ হা/১৫৭৩; সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১৮)।

উত্তর

এজন্য সর্বাগ্রে শিরক মুক্ত হ’তে হবে এবং শরী‘আত অনুমোদিত নেক আমল করতে হবে (কাহফ ১১০)। কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য নির্দিষ্ট কোন আমল নেই। নবী করীম (ছাঃ) কবরের শাস্তি থেকে বাঁচার জন্য বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন দো‘আ পড়তেন। আয়েশা (রাঃ) বলেন, নবী করীম (ছাঃ) ছালাত হ’তে সালাম ফেরানোর পূর্বে চারটি বস্ত্ত হ’তে পরিত্রাণ চাইতেন। তার একটি হচ্ছে কবরের শাস্তি (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১২৮), যা ছালাতের শেষ বৈঠকে পড়া হয়।

উত্তর

ছিয়াম পালন ও তওবা করার কারণে জাহান্নাম মুখী ব্যক্তিকে আল্লাহ মুক্তি দান করেন। এটা অবশ্যই তাকদীর অনুযায়ী হয়ে থাকে। প্রকৃত মুমিন সৎকর্মশীল ব্যক্তিকে কবরে কোন মাসেই আযাব দেয়া হবে না। এ মাসে কবরের আযাব মাফ করে দেওয়া হয় এ কথা সঠিক নয়। এ মাসে মারা গেলে কবরে আযাব হবে না এ কথাটিও সঠিক নয়

উত্তর

হাদীছটি ছহীহ (মুসলিম হা/২৮৬৪; মিশকাত হা/৫৫৪০ ‘কিয়ামতের অবস্থা’ অধ্যায় ‘হাশর’ অনুচ্ছেদ)।

উত্তর

শিশু অবস্থায় কোন ছেলে-মেয়ে মারা গেলে তারা ক্বিয়ামতের দিন তাদের মুসলিম পিতা-মাতাকে জান্নাতে নিয়ে যাবে। আবু হুরায়রা (রাঃ) বলেন, আমি রাসূলুল্লাহ (ছাঃ)-কে বলতে শুনেছি যে, মুসলিম শিশু সন্তানেরা জান্নাতের ‘শিশু খাদেম’ হবে। তাদের কেউ পিতা-মাতা কাউকে পেলে তার কাপড় ধরে টেনে জান্নাতে না নেওয়া পর্যন্ত ছাড়বে না’ (মুসলিম, মিশকাত হা/১৭৫২)। অবশ্য যদি আল্লাহ তাদেরকে সুফারিশের অনুমতি দেন, তাহ’লেই কেবল সেটা সম্ভব হবে’ (বাক্বারাহ ২/২৫৫)।

উত্তর

স্বামী-স্ত্রী উভয়ে জান্নাতী হ’লে আল্লাহ তাদেরকে একত্রে জান্নাতে প্রবেশের নির্দেশ দিবেন’ (যুখরুফ ৪৩/৭০)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) আয়েশা (রাঃ)-কে বলেন, তুমি কি সন্তুষ্ট নও যে, তুমি দুনিয়া ও আখেরাতে আমার স্ত্রী হয়ে থাকবে? তিনি বললেন, জি হ্যাঁ। তখন নবী করীম (ছাঃ) বললেন, তুমি ইহকালে ও পরকালে আমার স্ত্রী’ (হাকেম, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/২২৫৫)। মু‘আবিয়া (রাঃ) আবুদ্দারদার বিধবা স্ত্রীকে বিবাহের প্রস্তাব দিলে তিনি তা নাকচ করে বলেন, আমি আবুদ্দারদাকে বলতে শুনেছি, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, মহিলা তার শেষ স্বামীর সাথে জান্নাতে থাকবে (বাগাভী, ত্বাবারাণী, সিলসিলা ছাহীহাহ হা/১২৮১)। শুধু নেককার স্বামী-স্ত্রী নন, নেককার সন্তানেরাও পিতা-মাতার সঙ্গে জান্নাতে থাকবে (তূর ৫২/২১)। [আল্লাহ আমাদেরকে সপরিবারে জান্নাতুল ফেরদৌসে স্থান দান করুন- আমীন!]


Desktop Site