এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

দুই ‘ঈদে যেসব ভুলসমূহ এবং খারাপ কাজগুলোর ব্যাপারে আমরা মুসলিমদের সতর্ক করবো সেগুলো কী কী? আমরা কিছু কাজ দেখি যেগুলো আমরা (দোষ হিসেবে অভিযুক্ত করে) এর বিরোধিতা করি, যেমন-‘ঈদ এর সালাতের পরে কবর যিরারত করা এবং ‘ঈদের রাতে রাত জেগে ‘ইবাদত করা


 ফাত্‌ওয়া নং - 36856

উত্তর : সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

‘ঈদ ও তার আনন্দ সমাগত হওয়ার সাথে সাথে আমরা কিছু জিনিসের ব্যাপারে নির্দেশনা দিতে চাই যেগুলো মানুষ আল্লাহর শারী‘আতকে এবং রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সুন্নাহকে না জেনে করে থাকে। যেমন:

১- ‘ঈদের আগের রাত পুরোটাই ‘ইবাদতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত এরূপ বিশ্বাস পোষণ করা :

কিছু মানুষ বিশ্বাস করে যে, ‘ঈদের রাত ‘ইবাদতের মাধ্যমে উজ্জীবিত করা শারী‘আতসম্মত। এটি এক ধরণের নতুন প্রবর্তিত বিষয় (বিদ‘আত), যা কিনা নাবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত নয়। বরং এটি দ্বা‘ঈফ (দুর্বল) হাদীসে বর্ণিত হয়েছে যাতে বলা আছে “যে ‘ঈদের রাতে জেগে থাকবে, তার হৃদয় কখনো মারা যাবে না যেদিন সব হৃদয় মারা যাবে।” এটি সহীহ  হিসাবে প্রমাণিত হাদীস নয়। এটি বর্ণিত হয়েছে দুইটি ইসনাদের মাধ্যমে, যার একটি হল জাল বা বানোয়াট, আর অপরটি হল খুবই দুর্বল।

দেখুন- আল-আলবানীর “সিলসিলাত আল-আহাদীস আদ্ব-দ্বা‘ঈফাহ ওয়াল-মাউদ্বূ‘আহ।” (৫২০,৫২১)

তাই অন্য রাতগুলোকে বাদ দিয়ে বিশেষভাবে ‘ঈদের রাত্রিকে ক্বিয়ামের জন্য বাছাই করা শারী‘আতসম্মত নয়। তবে যার ক্বিয়ামের (তাহাজ্জুদ পড়ার) অভ্যাস আছে, সেই ক্ষেত্রে ‘ঈদের রাতে ক্বিয়াম করায় কোনো দোষ নেই।

২- দুই ‘ঈদের দিনে কবর যিয়ারত করা :

এটি ‘ঈদ উদ্দেশ্য ও লক্ষ্যের সাথে সাংঘর্ষিক, যা কিনা আনন্দ, সুখ ও উল্লাসের প্রকাশ এবং তা রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এবং পূর্ববর্তী সাহাবী ও তাবি‘ঈগণের ‘আমলের (শিক্ষার) বিরোধী।

সাধারণভাবে বলা যায় যে, কোনো নির্দিষ্ট দিনে কবরস্থানে যাওয়া এবং তাকে একটি উৎসব (‘ঈদ) বানিয়ে নেয়ার ব্যাপারে নবীর নিষেধাজ্ঞা আছে, যেমনটি ‘আলিমগণ বলেছেন।

আর এটি কবরসমূহকে উৎসব (‘ঈদ) হিসেবে গ্রহণ না করা সংক্রান্ত রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের সাধারণ নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়ে; কারণ বিশেষ কিছু সময়ে ও পরিচিত কিছু মৌসুমে কবর যিয়ারত করা একে ‘ঈদ হিসেবে গ্রহণ করার অর্থে পড়ে, এমনটিই আলিমগণ উল্লেখ করেছেন।

দেখুন -আল-আলবানীর ‘আহকাম আল-জানা’ইয ওয়া বিদা‘উহা।’ (পৃঃ ২১৯, ২৫৮)

৩- জামা‘আতে সালাত  পরিত্যাগ করা এবং ঘুমিয়ে থাকার কারণে সালাত  ছুটে যাওয়া :

এটি খুবই দুঃখজনক, আপনি দেখবেন যে কিছু মুসলিমের সালাত  ছুটে যায় এবং তারা জামা‘আতের সাথে সালাত  পরিত্যাগ করে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

"আমাদের ও তাদের মধ্যকার চুক্তিটি প্রার্থনা। যে কেউ তা ছেড়ে দেয় তা কাফের।" আল-তিরমিযী ২6২1 এবং আল নাসায়ী 463 দ্বারা বর্ণিত। সহীহ আল-তায়মীয়ে আল-আলাণী

“আমাদের এবং তাদের মধ্যে চুক্তি হল সালাত, যে তা পরিত্যাগ করবে সে কুফরী করল।”

[এটি বর্ণনা করেছেন আত-তিরমিযী (২৬২১); আন-নাসা’ঈ (৪৬৩) আর আল-আলবানী ‘সহীহ আত-তিরমিযী’-তে একে সহীহ  বলে চিহ্নিত করেছেন।]

রাসূলুল্লাহ্‌ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম আরও বলেছেন :

(সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেনঃ "মুনাফিকদের জন্য সর্বাধিক প্রার্থনা হচ্ছে 'ইশা ও ফজরের নামাযের প্রার্থনা, এমনকি যদি তারা জানতে পারে যে তাদের মধ্যে কী আছে।

“মুনাফিক্বদের জন্য ‘ইশা’ এবং ফাজ্‌র এর সালাত সবচেয়ে বোঝাস্বরূপ। তারা যদি জানত তার মধ্যে (কী কল্যাণ) আছে, তবে তারা হামাগুড়ি দিয়ে হলেও তাতে (সেই দুই সালাতে) উপস্থিত হত। আর আমি চিন্তা করেছিলাম যে সালাতের আদেশ করব আর তা কায়েম করা হবে এবং একজন লোককে আদেশ করব যে লোকদের নিয়ে (ইমাম হিসেবে) সালাত আদায় করবে, এরপর আমি আমার সাথে কিছু লোক নিয়ে যাবো যাদের সাথে কাঠের বাণ্ডিল থাকবে, সেই সমস্ত লোকদের কাছে যারা জামা‘আতের সালাতে উপস্থিত হয় নি, এরপর তাদের বাড়িঘরে আগুন জ্বালিয়ে দিব।” [এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (৬৫১)]

৪- মুস্বাল্লাতে (সালাতের স্থানে) রাস্তাঘাট কিংবা অন্য কোনো স্থানে পুরুষদের সাথে নারীদের একত্রিত হওয়া আর ঐসব জায়গায় পুরুষদের সাথে তাদের ভিড় জমানো :

এতে আছে মহা ফিতনাহ ও বড় বিপদ। এ ব্যাপারে ওয়াজিব হল নারী এবং পুরুষ উভয়কেই সতর্কবাণী দেয়া এবং যতটুকু সম্ভব প্রতিরোধের জন্য জরুরি পদক্ষেপ নেয়া। নারীদের পুরোপুরি চলে যাবার আগে পুরুষ ও তরুণদের কখনোই সালাতের স্থান ত্যাগ করা উচিত নয়।

৫- কিছু নারীদের সুগন্ধি ও সাজগোজ করে পর্দা ছেড়ে বের হওয়া :

এই সমস্যাটি চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে এবং কিছু মানুষ এই ব্যাপারটিকে খুব হালকা ভাবে নেয়। (এ ব্যাপারে আমরা আল্লাহর সাহায্য কামনা করি।) কিছু নারী যখন তারা তারাউয়ীহ (তারাবীহ), ‘ঈদের সালাত আদায় অথবা অন্য জায়গায় বের হয় তখন তার সবচেয়ে সুন্দর পোশাকটি পরিধান করে এবং সবচেয়ে সুন্দর সুগন্ধি ব্যবহার করে- আল্লাহ তাদেরকে হিদায়াত করুন। অথচ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

«أيما امرأة استعطرت فمرت على قوم ليجدوا من ريحه فاني زانية»

আল-নাসাঈ ও আল-তিরমিযী, ২786 দ্বারা বর্ণিত

“যে নারী সুগন্ধি ব্যবহার করে এবং লোকজনের পাশ দিয়ে এমনভাবে যায় যাতে তারা তার সৌরভ পেতে পারে সে একজন ব্যভিচারিণী”।

[এটি বর্ণনা করেছেন আন-নাসা’ঈ (৫১২৬); আত-তিরমিযী (২৭৮৬); আল-আলবানী ‘সহীহ আল-তারগীব ওয়া আত-তারহীব’ (২০১৯) এ একে হাসান হিসেবে উল্লেখ করেছেন।]

আবূ হুরাইরাহ রাদিয়াল্লাহু ‘আনহু থেকে বর্ণিত, তিনি বলেছেন: “আল্লাহ’র রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন :

মুসলিম 2128 দ্বারা প্রতিবেদিত «Snfan ডি লিম mhm kaznab albqr yzrbvn দেউলিয়া প্রকাশ্য vnsa 'kasyat vitrales mumeelaat maa'ilaat r'vs · HN kasnmh albkht almaylh ydkhln নন্দনকানন লা ভিলা yjdn ryhha ryhha lyvjd ভ্যান ডি msyrh এসআইসি vkza syat মানুষ আগুন করতে পারবেন rhma»

“জাহান্নাম-বাসী দুটো শ্রেণী আছে যাদেরকে আমি দেখি নি। (১) তারা এমন মানুষ যাদের কাছে গরুর লেজের ন্যায় চাবুক থাকবে যা দিয়ে তারা লোকদের মারবে এবং (২) এমন নারী যারা কাপড় পরা সত্ত্বেও বিবস্ত্র থাকে, নিজেরাও পথভ্রষ্ট এবং অপরকেও বিপথে পরিচালনা করে, তাদের মাথা হেলে যাওয়া উটের কুঁজের ন্যায়। তারা জান্নাতে প্রবেশ করবে না এমনকি এর সৌরভও পাবে না, যদিও এর সৌরভ এই এই দূরত্ব থেকে পাওয়া যায়।”

[এটি বর্ণনা করেছেন মুসলিম (২১২৮)]

নারীদের অভিভাবকদেরকে যারা তাদের আশ্রয়ে আছে তাদের ব্যাপারে অবশ্যই আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং আল্লাহ তাদের উপর যে কর্তৃত্ব করা (এবং ভরণ-পোষণ করার জন্য যে দায়িত্ব) ওয়াজিব করেছেন তা যথাযথভাবে সম্পাদন করার ব্যাপারে, কারণ –

) [পুরুষদের] মানুষের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা ঈশ্বর এক অন্য পছন্দ করেছেন (নারী: 34) 

“পুরুষেরা নারীদের উপর কর্তৃত্বশীল এ জন্য যে, আল্লাহ একের উপর অন্যকে প্রাধান্য দান করেছেন এবং এজন্য যে তারা (পুরুষেরা ) তাদের সম্পদ থেকে খরচ করে।”  [আন-নিসা’:৩৪]

সুতরাং, তাদের (নারীদের অভিভাবকদের) উচিত তাদেরকে অবশ্যই সঠিক পথে পরিচালিত করা এবং যাতে তাদের জন্য দুনিয়া ও আখিরাতে পরিত্রাণ ও নিরাপত্তা থাকে সেদিকে পরিচালিত করা, তাদেরকে আল্লাহ যা নিষেধ করেছেন তা থেকে দূরে রাখা এবং যাতে তারা আল্লাহ্‌র নিকটবর্তী হতে পারে সেটার প্রতি উৎসাহ যোগানো।

৬- হারাম গান শোনা :

বর্তমানে মন্দ কাজগুলির মধ্যে যা চারদিকে ছড়িয়ে পড়েছে তা হচ্ছে গান-বাজনা। এগুলো খুব ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে এবং মানুষ এই ব্যাপারটিকে হালকা ভাবে নিচ্ছে। এটি এখন টিভি, রেডিও, গাড়ি, ঘরে এবং মার্কেটগুলোতে প্রকট রূপ ধারণ করেছে। লা হাওলা ওয়া লা ক্বুওওয়াতা ইল্লা বিল্লাহ (কোন শক্তি ও ক্ষমতা নেই আল্লাহ ছাড়া এ সব থেকে ফিরানোর)। এমনকি মোবাইল ফোনও এই মন্দ ও খারাপ জিনিস থেকে মুক্ত নয়। অনেক কোম্পানি আছে যারা মোবাইল ফোনে সর্বাধুনিক মিউজিক টিউন দেওয়ার জন্য প্রতিযোগিতা করে এবং এর সাহায্যে সঙ্গীত এখন মাসজিদসমূহে প্রবেশ করেছে, (আল্লাহ আমাদের রক্ষা করুন)… এটি মহাবিপদ এবং খুবই মন্দ ব্যাপারগুলোর একটি যে আল্লাহ্‌র ঘরসমূহে (মাসজিদসমূহে) আপনি মিউজিক শুনতে পান। 

প্রশ্ন নং- (34217) দেখুন। এটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের বক্তব্যের সত্যতা প্রমাণ করে, তিনি বলেছিলেন,

«আমার জাতির হতে মুক্ত, মুক্ত, সিল্ক, ওয়াইন এবং বাদ্যযন্ত্র» যারা মানুষ হয় আল বুখারী দ্বারা বর্ণিত

“আমার উম্মাতের মধ্যে কিছু লোক এমন থাকবে যারা ব্যভিচার, রেশম, মদ এবং বাদ্যযন্ত্রকে হালাল হিসাবে গণ্য করবে।” [এটি বর্ণনা করেছেন আল-বুখারী (৫৫৯০)]

প্রশ্ন নং- (5000, 34432) দেখুন।

তাই একজন মুসলিমের আল্লাহকে ভয় করা উচিত এবং তার জানা উচিত -তার উপর আল্লাহ্‌র যে নি‘আমাত (অনুগ্রহ) আছে তার জন্য তার শোকর করা কর্তব্য। এটি কখনোই নি‘আমাতের শোকর করা নয় যে, একজন মুসলিম তার রাব্বের অবাধ্যতা করবে যিনি তার উপর অসীম নি‘আমাত বর্ষণ করেছেন।

একজন ন্যায়পরায়ণ ব্যক্তি কিছু লোকের পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন যারা ‘ঈদের আনন্দে মত্ত হয়ে গর্হিত কাজ করছিল, তখন তাদেরকে তিনি বললেন-

“যদি তোমরা রমযানে ইহসান (ভালো করে) থাকো তাহলে এটি সেই ইহসানের শোকর করার কোনো পথ নয়। আর যদি তোমরা রমযানে খারাপ করে থাকো, তাহলে আর-রাহমানের (পরম দয়াময়ের) সাথে যে খারাপ ব্যবহার করেছে, সে এমন করতে পারে না।”

আল্লাহই সবচেয়ে ভালো জানেন।

ইসলাম কিউ & একটি

Desktop Site