এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

78329: কেয়ামতের ছোট ও বড় আলামতসমূহ islamqa থেকে কিছু অংশ নেওয়া । বিস্তারিত নিচে দেখুন আর দেওয়া আছে 
ইসলাম জিজ্ঞাসা ও জবাব
১) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের এর আগমণ ও মৃত্যু বরণ
[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিয়ামতের আলামত।
২) চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়া

[1] - الحكم الجديرة بالإذاعة: ص ১৯
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ সিফাতুল মুনাফিকীন।
৩) বায়তুল মাকদিস (ফিলিস্তীন) বিজয়

[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল জিযইয়্যাহ।
৪) ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে

[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুয্ যাকাত।
[2] - ফাতহুল বারী, (১৩/৮৩)
৫) কিয়ামতের পূর্বে অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে
[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[3] - তিরমিজী, ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেনঃ সহীহুল জামে আস্ সাগীর হাদীছ নং- ৫১২৫।
[4] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[5] - মুস্তাদরাকুল হাকীম। ইমাম ইবনে হাজার (রঃ) বলেনঃ হাদীছের সনদটি বুখারীর শর্ত অনুযায়ী, ফাতহুল বারী, (১২/৫৫)
[6] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[7] - মু’জামুল বুলদান, (৩/ ৪১৪)
[8] - মিনহাজুস্ সুন্নাহ, (২/২২৪)
[9] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
[10] - মুআত্তা ইমাম মালেক। ইমাম আলবানী বলেনঃ হাদীছটি হাসান, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং- ১৮৬।
[11] - আবু দাউদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সুন্নাহ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সাহীহা, হাদীছ নং- ১৭৬১।
[12] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[13] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসলমানদের জামা’আতকে আঁকড়িয়ে ধরা ওয়াজিব।
[14] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আযান।
[15] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[16] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইল্ম।
৬) ভন্ড ও মিথ্যুক নবীদের আগমণ হবে

[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল মানাকিব।
[2] - আবু দাউদ, তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, মিশকাতুল মাসাবীহ, হাদীছ নং- ৫৪০৬।
[3] - ইহসান ইলাহী যহীর, আল কাদীয়ানীয়া, পৃষ্ঠা নং- ১৫৫-১৫৯।
৭) হেজায অঞ্চল থেকে বিরাট একটি আগুন বের হবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
৮) আমানতের খেয়ানত হবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুর রিকাক।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
৯) দ্বীনী ইল্ম উঠে যাবে এবং মূর্খতা বিস্তার লাভ করবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইল্ম।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
১০) অন্যায়ভাবে যুলুম-নির্যাতনকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে

[1] - মুসনাদে আহমাদ, ইমামম আলবানী সহীহ বলেছেন, দেখুন সহীহুল জামে হাদীছন নং- ৩৫৬০।
১১) যেনা-ব্যভিচার বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তা’বীর
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
[3] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আশরিবা।
[4] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
১২) সুদখোরের সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল লিবাস।
[2] - তাবারানী, ইমাম মুনযেরী বলেনঃ হাদীছের বর্ণনাকারীগণ বিশ্বস্ত, আত্ তারগীব ওয়াত্ তারহীব, (৩/৯)।
[3] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল বুয়ূ
১৩) গান বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বেড়ে যাবে

ফুটনোটঃ[1] - ইবনে মাজাহ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর হাদীছ নং- ২১৬
১৪) মদ্যপান হালাল মনে করবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
১৫) মসজিদ নিয়ে লোকেরা গর্ব করবে

ফুটনোটঃ 
[1] - মুসনাদে আহমাদ। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে, হাদীছ নং- ৭২৯৮।
[2] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুস্ সালাত।
[3] - ফাতহুল বারী, (১/৫৩৯)।
১৬) দালান-কোঠা নির্মাণে প্রতিযোগিতা করবে

ফুটনোটঃ[1] - সহীহ মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
১৭) দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে

১৯) সময় দ্রুত চলে যাবে

(১) সময় ছোট হয়ে যাওয়ার অর্থ হলো সময়ের বরকত কমে যাওয়া। আল্লামা ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ আমাদের সময়ে এই আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে। অথচ আমাদের যুগের পূর্বে এ রকম মনে হতোনা।[2]
ফুটনোটঃ 
[1] - মুসনাদে আহমাদ ও তিরমিজী। ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৭২৯৯।
[2] - ফাতহুলবারী, (১৩/১৬)
২০) মুসলমানেরা শির্কে লিপ্ত হবে

ফুটনোটঃ[1] - তিরমিজী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৭২৯৫।
২১) ঘন ঘন বাজার হবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসনাদে আহমাদ, মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ (৭/৩২৭)।
২৩) আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল বির্রি ওয়াস্ সিলাহ।
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আদাব।
[3] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল আদাব।
[4] - মুসনাদে আহমাদ। আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন।
২৪) লোকেরা কালো রং দিয়ে চুল-দাড়ি রাঙ্গাবে

(إن اليهود والنصارى لا يصبغون فخالفوهم )
পৃথিবীর লোকজন ক্ষতিগ্রস্ত।
ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ আহাদীছুল আম্বীয়া।
[2] - আবূ দাঊদ, অধ্যায়ঃ কিতাবুত্ তারাজ্জুল, আলবানী (রঃ) হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন, গায়াতুল মুরাম, পৃষ্ঠা নং- ৮৪।
২৫) কৃপণতা বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - ফাতহুলবারী, (১৩/১৫)
২৬) ব্যবসা-বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বে

ফুটনোটঃ [1] - মুসনাদে আহমাদ, আহমাদ শাকের (রঃ) হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন।
২৭) ভূমিকম্প বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
২৮) ভূমিধস ও চেহারা বিকৃতির শাস্তি দেখা দিবে

ফুটনোটঃ[1] - তিরমিযী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৮০১২ ।
[2] - ইবনে মাজাহ, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ২৮৫৩।
[3] - তিরমিযী, অধ্যায়ঃ আবওয়াবুল ফিতান। সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৪১১৯।
২৯) পরিচিত লোকদেরকেই সালাম দেয়া হবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসনাদে আহমাদ। আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন।
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ঈমান।
৩০) বেপর্দা নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - ইমাম হায়ছামী বলেনঃ ইমাম বুখারী এই হাদীছের বর্ণনাকারীদের থেকে হাদীছ গ্রহণ করেছেন, মাজমাউজ্ জাওয়ায়েদ, (৭/৩২৭)।
৩১) মুমিনের স্বপ্ন সত্য হবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুত তা’বীর।
[2] - ফাতহুলবারী, (১২/৪০৬)
৩২) সুন্নাতী আমল সম্পর্কে গাফিলতী করবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ মুসাফিরের নামায।
[2] - সহীহ ইবনে খুজায়মা। ইমাম আলবানী হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন। সিলসিলায়ে সাহীহা হাদীছ নং- ৬৪৯।
৩৩) নতুন মাসের চাঁদ উঠার সময় বড় হয়ে উদিত হবে

ফুটনোটঃ[1]- তাবরানী। ইমাম আলবানী হাদীছটিকে সহীহ বলেছেন, সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৫৭৭৪।
৩৪) মিথ্যা কথা বলার প্রচলন বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসলিম, মুকাদ্দিমা।
৩৫) মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার প্রচলন ঘটবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসনাদে আহমাদ। আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন।
৩৬) মহিলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ইলম।
৩৭) হঠাৎ মৃত্যুর বরণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে

ফুটনোটঃ[1] - মাজমাউয্ যাওয়ায়েদ (৭/৩২৫) সহীহুল জামে আস্ সাগীর, হাদীছ নং- ৫৭৭৫)।
৩৮) আরব উপদ্বীপ নদ-নদী এবং গাছপালায় পূর্ণ হয়ে যাবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুয্ যাকাত।
৩৯) প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে, ফসল হবেনা

ফুটনোটঃ[1] - মুসনাদে আহমাদ, আহমাদ শাকের সহীহ বলেছেন।
[2] - মুসনাদে আহমাদ, ইমাম হায়ছামী মাজমাউয্ যাওয়াদে বর্ণনা করেছেন, (৭/৩৩০)। ইমাম ইবনে কাছীর বলেনঃ হাদীছের সনদ খুব ভাল। নেহায়া, (১/১৮০)
৪০) ফুরাত নদী থেকে স্বর্ণের পাহাড় বের হবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান ওয়া আশরাতুস-সাআ।
৪১) জড় পদার্থ এবং হিংস্র পশু মানুষের সাথে কথা বলবে

ফুটনোটঃ[1] - মুসনাদে আহমাদ, ইমাম আলবানী সহীহ বলেছেন, সিলসিলায়ে সাহীহা হাদীছ নং- ১২২।
৪২) ফিতনায় পতিত হয়ে মানুষ মৃত্যু কামনা করবে

ফুটনোটঃ[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[2] - মুসলিম, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[3] - ফাইযুল কাদীর, (৬/৪১৮)
৪৩) কাহতান গোত্র থেকে একজন সৎ লোক বের হবে

[1] - বুখারী, অধ্যায়ঃ কিতাবুল ফিতান।
[2] - أشراط الساعة, يوسف عبد الله الوابل ص ২১৯

প্রশ্ন: কেয়ামতের ছোট ও বড় আলামতগুলো কী কী?

সমস্ত প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

 কেয়ামতের পূর্বে কেয়ামতের নিকটবর্তিতার প্রমাণস্বরূপ যে আলামতগুলো প্রকাশ পাবে সেগুলোকে ছোট আলামত ও বড় আলামত এই পরিভাষাতে আখ্যায়িত করা হয়। অধিকাংশ ক্ষেত্রে ছোট আলামতগুলো কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার অনেক আগেই প্রকাশিত হবে। এর মধ্যে কোন কোন আলামত ইতিমধ্যেই প্রকাশ পেয়ে নিঃশেষ হয়ে গেছে। কোন কোন আলামত নিঃশেষ হয়ে আবার পুনঃপ্রকাশ পাচ্ছে। কিছু আলামত প্রকাশিত হয়েছে এবং অব্যাহতভাবে প্রকাশিত হয়ে যাচ্ছে। আর কিছু আলামত এখনো প্রকাশ পায়নি। কিন্তু নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের সংবাদ অনুযায়ী সেগুলো অচিরেই প্রকাশ পাবে।

 কেয়ামতের বড় বড় আলামত:

এগুলো হচ্ছে অনেক বড় বড় বিষয়। এগুলোর প্রকাশ পাওয়া প্রমাণ করবে যে, কেয়ামত অতি নিকটে; কেয়ামত সংঘটিত হওয়ার সামান্য কিছু সময় বাকী আছে।

 আর ছোট ছোট আলামত:

কেয়ামতের ছোট আলামতের সংখ্যা অনেক। এ বিষয়ে অনেক সহিহ হাদিস উদ্ধৃত হয়েছে। এখানে আমরা সম্পূর্ণ হাদিস উল্লেখ না করে হাদিসগুলোর শুধু প্রাসঙ্গিক অংশটুকু উল্লেখ করব। কারণ হাদিসগুলো উল্লেখ করতে গেলে উত্তরের কলেবর অনেক বড় হয়ে যাবে। যিনি আরো বেশি জানতে চান তিনি এ বিষয়ে রচিত গ্রন্থাবলী পড়তে পারেন। যেমন- শাইখ উমর সুলাইমান আল-আশকারের আলকিয়ামতুস সুগরা, শাইখ ইউসুফ আলওয়াবেল এর আশরাতুস সাআ ইত্যাদি।

 কেয়ামতের ছোট ছোট আলামতের মধ্যে রয়েছে-

১. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের নবুয়ত লাভ।

২. নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামের মৃত্যু।

৩. বায়তুল মোকাদ্দাস বিজয়।

৪. ফিলিস্তিনের আমওয়াস নামক স্থানে প্লেগ রোগ দেখা দেয়া।

৫. প্রচুর ধন-সম্পদ হওয়া এবং যাকাত খাওয়ার লোক না-থাকা।

৬. নানারকম গোলযোগ (ফিতনা) সৃষ্টি হওয়া। যেমন ইসলামের শুরুর দিকে উসমান (রাঃ) এর হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হওয়া, জঙ্গে জামাল ও সিফফিন এর যুদ্ধ, খারেজিদের আবির্ভাব, হাররার যুদ্ধ, কুরআন আল্লাহর একটি সৃষ্টি এই মতবাদের বহিঃপ্রকাশ ইত্যাদি।

৭. নবুয়তের মিথ্যা দাবিদারদের আত্মপ্রকাশ। যেমন- মুসাইলামাতুল কাযযাব ও আসওয়াদ আনসি।

৮. হেজাযে আগুন বের হওয়া। সপ্তম শতাব্দীর মাঝামাঝি ৬৫৪হিঃ তে এই আগুন প্রকাশিত হয়েছে। এটা ছিল মহাঅগ্নি। তৎকালীন ও তৎপরবর্তী আলেমগণ এই আগুনের বিবরণ দিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। যেমন ইমাম নববী লিখেছেন- আমাদেরজামানায় ৬৫৪হিজরিতে মদিনাতে আগুন বেরিয়েছে। মদিনার পূর্ব পার্শ্বস্থ কংকরময় এলাকাতে প্রকাশিত হওয়া এই আগুন ছিল এক মহাঅগ্নি। সকল সিরিয়াবাসী ও অন্য সকল শহরের মানুষ তাওয়াতুর সংবাদের ভিত্তিতে তা অবহিত হয়েছে। মদিনাবাসীদের মধ্যে এক ব্যক্তি আমাকে এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন, যিনি নিজে সে আগুন প্রত্যক্ষ করেছেন

৯.   আমানতদারিতা না-থাকা। আমানতদারিতা ক্ষুণ্ণ হওয়ার একটা উদাহরণ হচ্ছে- যে ব্যক্তি যে দায়িত্ব পালনের যোগ্য নয় তাকে সে দায়িত্ব প্রদান করা।

১০. ইলম উঠিয়ে নেয়া ও অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করা। ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে আলেমদের মৃত্যু হওয়ার মাধ্যমে। সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিম এর সপক্ষে হাদিস এসেছে।

১১. ব্যভিচার বেড়ে যাওয়া।

১২. সুদ ছড়িয়ে পড়া।

১৩. বাদ্য যন্ত্র ব্যাপকতা পাওয়া।

১৪. মদ্যপান বেড়ে যাওয়া।

১৫. বকরির রাখালেরা সুউচ্চ অট্টালিকা নির্মাণ করা।

১৬. কৃতদাসী কর্তৃক স্বীয় মনিবকে প্রসব করা। এই মর্মে সহিহ বুখারি ও সহিহ মুসলিমে হাদিস সাব্যস্ত হয়েছে। এই হাদিসের অর্থের ব্যাপারে আলেমগণের একাধিক অভিমত পাওয়া যায়। ইবনে হাজার যে অর্থটি নির্বাচন করেছেন সেটি হচ্ছে- সন্তানদের মাঝে পিতামাতার অবাধ্যতা ব্যাপকভাবে দেখা দেয়া। সন্তান তার মায়ের সাথে এমন অবমাননাকর ও অসম্মানজনক আচরণ করা যা একজন মনিব তার দাসীর সাথে করে থাকে।

১৭. মানুষ হত্যা বেড়ে যাওয়া।

১৮. অধিকহারে ভূমিকম্প হওয়া।

১৯. মানুষের আকৃতি রূপান্তর, ভূমি ধ্বস ও আকাশ থেকে পাথর পড়া।

২০. কাপড় পরিহিতা সত্ত্বেও উলঙ্গ এমন নারীদের বহিঃপ্রকাশ ঘটা।

২১. মুমিনের স্বপ্ন সত্য হওয়া।

২২. মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া বেড়ে যাওয়া; সত্য সাক্ষ্য লোপ পাওয়া।

২৩. নারীদের সংখ্যা বেড়ে যাওয়া।

২৪. আরব ভূখণ্ড আগের মত তৃণভূমি ও নদনদীতে ভরে যাওয়া।

২৫. একটি স্বর্ণের পাহাড় থেকে ফোরাত (ইউফ্রেটিস) নদীর উৎস আবিষ্কৃত হওয়া।

২৬. হিংস্র জীবজন্তু ও জড় পদার্থ মানুষের সাথে কথা বলা।

২৭. রোমানদের সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়া এবং মুসলমানদের সাথে তাদের যুদ্ধ হওয়া।

২৮. কনস্টান্টিনোপল বিজয় হওয়া।

 পক্ষান্তরে কেয়ামতের বড় বড় আলামত হচ্ছে সেগুলো যা নবী করিম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযাইফা বিন আসিদ (রাঃ) এর হাদিসে উল্লেখ করেছেন। সে হাদিসে সব মিলিয়ে ১০টি আলামত উল্লেখ করা হয়েছে: দাজ্জাল, ঈসা বিন মরিয়ম (আঃ) এর নাযিল হওয়া, ইয়াজুজ ও মাজুজ, পূর্বে পশ্চিমে ও আরব উপদ্বীপে তিনটি ভূমিধ্বস হওয়া, ধোঁয়া, সূর্যাস্তের স্থান হতে সূর্যোদয়, বিশেষ জন্তু, এমন আগুনের বহিঃপ্রকাশ যা মানুষকে হাশরের মাঠের দিকে নিয়ে যাবে। এই আলামতগুলো একটার পর একটা প্রকাশ হতে থাকবে। প্রথমটি প্রকাশিত হওয়ার অব্যবহিত পরেই পরেরটি প্রকাশ পাবে।

 ইমাম মুসলিম হুযাইফা বিন আসিদ (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন যে, একবার রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে কথাবার্তা বলতে দেখে বললেন: তোমরা কি নিয়ে আলাপ-আলোচনা করছ? সাহাবীগণ বলল: আমরা কেয়ামত নিয়ে আলোচনা করছি। তখন তিনি বললেন: নিশ্চয় দশটি আলামত সংঘটিত হওয়ার আগে কেয়ামত হবে না। তখন তিনি ধোঁয়া, দাজ্জাল, বিশেষ জন্তু, সূর্যাস্তের স্থান হতে সূর্যোদয়, ঈসা বিন মরিয়মের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজ, পূর্ব-পশ্চিম ও আরব উপদ্বীপে তিনটি ভূমি ধ্বস এবং সর্বশেষ ইয়মেনে আগুন যা মানুষকে হাশরের দিকে তাড়িয়ে নিয়ে যাবে উল্লেখ করেন।  

 এই আলামতগুলোর ধারাবাহিকতা কী হবে সে ব্যাপারে সুস্পষ্ট সহিহ কোন দলীল পাওয়া যায় না। তবে বিভিন্ন দলিলকে একত্রে মিলিয়ে এগুলোর ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করা হয়ে থাকে।

 শাইখ উছাইমীনকে প্রশ্ন করা হয়েছিল কেয়ামতের বড় বড় আলামতগুলো কি ধারাবাহিকভাবে আসবে?

জবাব দিতে গিয়ে তিনি বলেন: কেয়ামতের আলামতগুলোর মধ্যে কোন কোনটির ধারাবাহিকতা জানা গেছে; আর কোন কোনটির ধারাবাহিকতা জানা যায়নি। ধারাবাহিক আলামতগুলো হচ্ছে- ঈসা বিন মরিয়মের অবতরণ, ইয়াজুজ-মাজুজের বহিঃপ্রকাশ, দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ।

 প্রথমে দাজ্জালকে পাঠানো হবে। তারপর ঈসা বিন মরিয়ম এসে দাজ্জালকে হত্যা করবেন। তারপর ইয়াজুজ-মাজুজ বের হবে।

 সাফফারিনী (রহঃ) তাঁর রচিত আকিদার গ্রন্থে এই আলামতগুলোর ধারাবাহিকতা নির্ধারণ করেছেন। কিন্তু তাঁর নির্ণয়কৃত এ ধারাবাহিকতার কোন কোন অংশের প্রতি মন সায় দিলেও সবটুকু অংশের প্রতি মন সায় দেয় না। তাই এই আলামতগুলোর ধারাবাহিকতা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে- কেয়ামতের বড় বড় কিছু আলামত আছে। এগুলোর কোন একটি প্রকাশ পেলে জানা যাবে, কেয়ামত অতি সন্নিকটে। কেয়ামত হচ্ছে- অনেক বড় একটা ঘটনা। এই মহা ঘটনার নিকটবর্তিতা সম্পর্কে মানুষকে আগেভাগে সতর্ক করা প্রয়োজন বিধায় আল্লাহ তাআলা কেয়ামতের জন্য বেশ কিছু আলামত সৃষ্টি করেছেন।[মাজমুউ ফাতাওয়া, খণ্ড-২, ফতোয়া নং- ১৩৭]  

 আল্লাহই ভাল জানেন।

কিয়ামতের সর্বপ্রথম আলামত হচ্ছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর আগমণ। কেননা তিনি হলেন সর্বশেষ নবী। তাঁর পর কিয়ামত পর্যন্ত আর কোন নবীর আগমণ হবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর দুনিয়াতে আগমণের অর্থ হলো, দুনিয়ার বয়স শেষ হয়ে আসছে, কিয়ামত অতি নিকটবর্তী হয়ে গেছে। তিনি বলেনঃ

بعثت أنا والساعة كهاتين قال وضم السبابة والوسطى

‘‘আমি এবং কিয়ামত এক সাথে প্রেরিত হয়েছি। একথা বলে নবী (সাঃ) হাতের শাহাদাত আঙ্গুল এবং মধ্যমা আঙ্গুলকে একত্রিত করে দেখালেন’’।[1]

আল্লাহ তাআলা বলেনঃ  اقْتَرَبَتْ السَّاعَةُ وَانْشَقَّ الْقَمَرُ‘‘কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে এবং চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হয়েছে’’। (সূরা কামারঃ ১)

হাফেয ইবনে রজব বলেনঃ ‘‘আল্লাহ তাআলা চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়াকে কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম আলামত হিসাবে নির্ধারণ করেছেন।[1]

আলেমদের সর্বসম্মত অভিমত হলো রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর যামানায় চন্দ্র দ্বিখন্ডিত হওয়ার ঘটনা সংঘটিত হয়ে গেছে। এ ব্যাপারে একাধিক  সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে। আনাস (রাঃ) বলেনঃ মক্কাবাসীরা যখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে নবুওয়াতের প্রমাণ চাইল তখন তিনি চন্দ্রকে দ্বিখন্ডিত করে দেখালেন’’।[2] 

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ কিয়ামতের পূর্বে ছয়টি বস্ত্ত গণনা করো। তার মধ্যে বায়তুল মাকদিস বিজয় অন্যতম।[1]

উমার ইবনুল খাত্তাব (রাঃ)এর শাসনামলে হিজরী ১৬ সালে বায়তুল মাকদিছ বিজয়ের মাধ্যমে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে।

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। ফকীর-মিসকীন খুঁজে পাওয়া যাবেনা। সাদকা ও যাকাতের টাকা নিয়ে খুঁজা-খুঁজি করেও নেয়ার মত কোন লোক পাওয়া যাবেনা। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى منقولة في المال فيفيض حتى يهم رب المالك من يقبل صدقت وحشتى الشيه فيقول الذي يعرضه عليه لا أرب لي

‘‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতক্ষণ না মানুষের ধন-সম্পদ বৃদ্ধি পাবে। মানুষ যাকাতের মাল নিয়ে সংকটে পড়বে। যাকাতের মাল মানুষের কাছে পেশ করা হলে সে বলবেঃ এতে আমার কোন প্রয়োজন নেই’’।[1]

কিয়ামতের এই আলামতটি একাধিক সময়ে প্রকাশিত হবে। উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে তা প্রকাশিত হয়েছিল।

ইয়াকূব ইবনে সুফিয়ান বলেনঃ ‘‘উমার ইবনে আব্দুল আযীযের শাসন আমলে লোকেরা প্রচুর সম্পদ নিয়ে আমাদের কাছে আগমণ করতো। তারা আমাদেরকে বলতঃ তোমরা যেখানে প্রয়োজন মনে কর সেখানে এগুলো বিতরণ করে দাও। গ্রহণ করার মত লোক না পাওয়া যাওয়ার কারণে তাদের কাছ থেকে কেউ মাল গ্রহণ করতে রাজী হতোনা। পরিশেষে মাল ফেরত নিতে বাধ্য হত। মোট কথা তাঁর শাসন আমলে যাকাত নেয়ার মত লোক ছিলনা’’।[2] কিয়ামতের এই আলামতটি ইমাম মাহদীর আমলে পুনরায় প্রকাশিত হবে।

ফিতনা শব্দটি বিপদাপদ, বিশৃংখলা, পরীক্ষা করা ইত্যাদি বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার হয়ে থাকে। অতঃপর শব্দটি প্রত্যেক অপছন্দনীয় বস্ত্ত ও বিষয়ের ক্ষেত্রে ব্যবহার করা হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘এই উম্মতের প্রথম যুগের মুমিনদেরকে ফিতনা থেকে হেফাজতে রাখা হয়েছে। আখেরী যামানায় এই উম্মতকে বিভিন্ন ধরণের ফিতনায় ও বিপদে ফেলে পরীক্ষা করা হবে। প্রবৃত্তির অনুসরণ ফির্কাবন্দী এবং দলাদলির কারণে ফিতনার সূচনা হবে। এতে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যাবে এবং ঈমান নিয়ে বেঁচে থাকা কষ্টকর হবে। একে অপরের উপর তলোয়ার উঠাবে। ব্যাপক রক্তপাত ও প্রাণহানি ঘটবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সকল ফিতনা সম্পর্কে উম্মতকে সাবধান করেছেন এবং তা থেকে বাঁচার উপায়ও বলে দিয়েছেন।

আমর বিন আখতাব (রাঃ) বলেনঃ একদা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আমাদেরকে নিয়ে ফজর নামায পড়লেন। অতঃপর মিম্বারে উঠে যোহর নামায পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। যোহর নামায আদায় করে পুনরায় ভাষণ শুরু করে আসর নামায পর্যন্ত ভাষণ দান করলেন। অতঃপর আসর নামায শেষে ভাষণ শুরু করে সূর্যাস্ত পর্যন্ত ভাষণ দিলেন। এই দীর্ঘ ভাষণে তিনি কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত যা হবে সবই বলে দিয়েছেন। আমাদের মধ্যে যারা সবচেয়ে জ্ঞানী তারাই এগুলো মুখস্থ রেখেছেন’’।[1]

ফিতনাগুলো একটি অপরটির চেয়ে ভয়াবহ হবে। এমনকি ফিতনায় পড়ে মানুষ দ্বীন থেকে বের হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

ঘড়ির কাঁটার মতই মানুষটি একজন বিশ্বাসী হয়ে কাটায় এবং একজন কাফেরকে অনুকরণ করে এবং তার সৃজনশীল মানুষকে বিশ্বের দৃষ্টিতে বিক্রি করে।

‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের পূর্বে অন্ধকার রাত্রির মত ঘন কালো অনেক ফিতনার আবির্ভাব হবে। সকালে একজন লোক মুমিন অবস্থায় ঘুম থেকে জাগ্রত হবে। বিকালে সে কাফেরে পরিণত হবে। বহু সংখ্যক লোক ফিতনায় পড়ে দুনিয়ার সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে তাদের চরিত্র ও আদর্শ বিক্রি করে দিবে।[2] অপর বর্ণনায় এসেছে, তোমাদের একজন দুনিয়ার সামান্য সম্পদের বিনিময়ে তার দ্বীন বিক্রি করে দিবে’’।[3]

ফিতনার কতিপয় দৃষ্টান্ত

ক) উছমান (রাঃ)এর হত্যাকান্ডঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমস্ত ফিতনার সংবাদ দিয়েছেন তার মধ্যে উছমান (রাঃ)এর হত্যাকান্ড একটি অন্যতম ভয়াবহ ফিতনা। এখান থেকেই মুসলিম উম্মার ঐক্যে ফাটল সৃষ্টি হয়। একদল অপর দলের বিরুদ্ধে অস্ত্র ধারণ করে। প্রচুর রক্তপাত ঘটানো হয় এবং উভয় পক্ষের অনেক লোক নিহত হয়। হুজায়ফা (রাঃ)এর হাদীছে বর্ণিত হয়েছে, তিনি একদা উমার বিন খাত্তাব (রাঃ)এর কাছে বসা ছিলেন। উমার (রাঃ) বললেনঃ ‘‘তোমাদের মধ্যে কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হতে বর্ণিত ফিতনার হাদীছ মুখস্থ রেখেছে? হুজায়ফা (রাঃ) বললেনঃ মানুষ ধন-সম্পদ, স্ত্রী-পরিবার ও সন্তান-সন্ততি নিয়ে ফিতনায় পড়ে যে গুনাহর কাজে লিপ্ত হবে নামায, সাদকাহ, সৎকাজের আদেশ ও অসৎ কাজের নিষেধ এবং অন্যান্য সৎকাজ তা মিটিয়ে দিবে। উমার (রাঃ) বললেনঃ আমি আপনাকে এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করছিনা। আপনাকে সেই ফিতনা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করছি, যা সাগরের ঢেউয়ের মত আসতে থাকবে। হুজায়ফা (রাঃ) বললেনঃ হে আমীরুল মুমিনীন! এ ফিতনায় আপনি পতিত হবেন না। কারণ আপনার মাঝে এবং ফিতনার মাঝে একটি বন্ধ দরজা রয়েছে। উমার (রাঃ) জিজ্ঞেস করলেনঃ সেই দরজাটি খুলে দেয়া হবে? না কি বল প্রয়োগ করে ভেঙ্গে ফেলা হবে? হুজায়ফা (রাঃ) বললেন; বরং তা ভেঙ্গে ফেলা হবে। উমার (রাঃ) বললেনঃ তাই যদি হয়, তাহলে কোন দিন তা বন্ধ করা সম্ভব হবেনা। হুজায়ফা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললামঃ হ্যাঁ, তাই।

সাহাবীগণ বলেনঃ আমরা হুজায়ফাকে জিজ্ঞেস করলামঃ উমার (রাঃ) কি জানতেন সেই বন্ধ দরজা কোনটি? তিনি বললেনঃ দিনের পর রাত্রির আগমণ যেমন নিশ্চিত, তেমনি নিশ্চিতভাবেই তিনি তা জানতেন। হাদীছের শেষাংশে এসেছে সেই বন্ধ দরজাটি ছিলেন উমার (রাঃ) স্বয়ং নিজেই।[4]

উপরের হাদীছের সারমর্ম এই যে, উমার (রাঃ)এর শাহাদতের পরই ফিতনা শুরু হবে। কিয়ামতের পূর্বে তা আর কখনো বন্ধ হবেনা। ফিতনার কবলে পড়ে উছমান (রাঃ) নির্মমভাবে নিহত হয়েছেন। এই হত্যাকান্ডকে কেন্দ্র করেই আলী (রাঃ) এবং মুআবীয়ার মাঝে অনেক সংঘর্ষ হয়েছে এবং অসংখ্য প্রাণহানি ঘটেছে।

 

খ) উষ্ট্রের যুদ্ধঃ

উছমান বিন আফফান (রাঃ) শহীদ হওয়ার পর উষ্ট্রের যুদ্ধ সংঘটিত হয়। উছমান (রাঃ)এর হত্যাকে কেন্দ্র করে ভুল বুঝাবুঝিই এই যুদ্ধের মূল কারণ। এই যুদ্ধের এক পক্ষে ছিলেন আলী (রাঃ) এবং অপর পক্ষে ছিলেন আয়েশা, তালহা এবং যুবায়ের (রাঃ)। যুদ্ধের বিস্তারিত বিবরণ দেয়া এই বইয়ের উদ্দেশ্য নয়। এখানে যে কথাটি আমি বলতে চাই তা হলো কোন পক্ষেরই যুদ্ধ করার উদ্দেশ্য ছিলনা।

ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেনঃ আয়েশা (রাঃ) যুদ্ধের জন্য বের হন নি। তিনি উভয় পক্ষের মধ্যে মীমাংসার জন্য বের হয়েছিলেন। তিনি ভেবেছিলেন তাঁর বের হওয়ার মধ্যেই মুসলিম উম্মতের জন্য কল্যাণ রয়েছে। অতঃপর তিনি বুঝতে সক্ষম হলেন যে, বের না হওয়াটাই তাঁর জন্য ভাল ছিল। তাই তিনি যখনই বের হওয়ার কথা স্মরণ করতেন তখন কেঁদে ওড়না ভিজিয়ে ফেলতেন। এমনিভাবে যারাই আলী (রাঃ) এবং মুআবিয়ার মধ্যে সংঘটিত যুদ্ধে অংশ গ্রহণ করেছিলেন তাঁদের সবাই পরবর্তীতে অনুতপ্ত হয়েছেন। আয়েশা (রাঃ)এর বের হওয়া সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ভবিষ্যৎ বাণী করে গিয়েছিলেন। বিস্তারিত বিবরণ এই যে, আয়েশা (রাঃ) বনী আমেরের বাড়ি-ঘরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করছিলেন তখন তাঁকে দেখে কতগুলো কুকুর ঘেউ ঘেউ করা শুরু করল। তিনি বললেনঃ এই জলাশয়টির (পুকুরটির) নাম কি? লোকেরা বললোঃ এটির নাম ‘হাও-আব’। একথা শুনে আয়েশা (রাঃ) বললেনঃ আমার ফেরত যেতে ইচ্ছে করছে। যুবায়ের (রাঃ) তাঁকে বললেনঃ অগ্রসর হোন! যাতে মানুষেরা আপনাকে দেখতে পায় এবং হতে পারে আল্লাহ তাআলা আপনার মাধ্যমে তাদের মাঝে মীমাংসা করে দিবেন। তিনি পুনরায় বললেনঃ মনে হচ্ছে আমার ফেরত যাওয়া উচিৎ। কেননা আমি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে বলতে শুনেছি, তিনি আমাদেরকে (নবী পত্নীদেরকে) লক্ষ্য করে বলেছেনঃ ‘‘কেমন হবে তখনকার অবস্থা যখন তোমাদের কাউকে দেখে হাও-আবের কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করবে?’’।[5]

হাদীছের সরল ব্যাখ্যা এই যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আয়েশা (রাঃ)কে উদ্দেশ্য করে বলেছেনঃ ‘‘হে আয়েশা! সেদিন তোমার অবস্থা কেমন হবে? যেদিন তোমাকে দেখে ‘হাও-আব’ নামক জলাশয়ের নিকটস্থ কুকুরগুলো ঘেউ ঘেউ করতে থাকবে। আয়েশা (রাঃ) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীটি মুখস্থ রেখেছিলেন। তিনি যখন ইরাকের বসরা শহরের নিকটবর্তী স্থানে পৌঁছলেন তখন কুকুরের ঘেউ ঘেউ শব্দ শুনে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণীটি স্মরণ করে জিজ্ঞেস করলেন এটি কোন জলাশয়? লোকেরা বললঃ এটি হাও-আবের জলাশয়। এই কথা শুনে তিনি নিশ্চিতভাবে বুঝতে সক্ষম হলেন যে তিনি ফিতনায় পড়ে গেছেন এবং বার বার ফেরত আসার চেষ্টা করেছিলেন। অবশেষে তিনি নিরাপদে মদ্বীনায় ফেরত আসলেন। তিনি নিজেও যুদ্ধ করেন নি এবং কাউকে যুদ্ধের আদেশও দেন নি।

গ) সিফ্ফীনের ফিতনাঃ

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى تقتتل فتان عظيمتان يكون بينهما مقتلة عظيمة دعوتهما واحدة

‘‘আমার উম্মতের দু’টি বিশাল দল পরস্পরের বিরুদ্ধে যুদ্ধে লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তাদের মাঝে ভয়াবহ যুদ্ধ হবে। কিন্তু উভয়ের দাবী হবে একটাই’’।[6]

এখানে দুইটি দল বলতে আলী (রাঃ) ও মুআবিয়া (রাঃ) এর দলকে বুঝানো হয়েছে। হিজরী ৩৬ সালে ইরাকের ফুরাত নদীর পশ্চিম তীরে অবস্থিত সিফ্ফীন নামক স্থানে এই দল দু’টি পরস্পরে যুদ্ধে লিপ্ত হয়। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ৭০ হাজার লোক নিহত হয়’’।[7]

আলী ও মুআবিয়া (রাঃ)এর মাঝে যে সমস্ত যুদ্ধ হয়েছে তার কোন একটিও তাদের ইচ্ছায় হয়নি; বরং উভয় দলের মধ্যে কিছু পথভ্রষ্ট, কুপ্রবৃত্তির অনুসারী এবং কুচক্রী লোক ছিল। তারা সর্বদাই মানুষকে যুদ্ধের প্রতি উস্কানি দিতে থাকে। এতে করে বিষয়টি উভয়ের নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যায়।

শায়খুল ইসলাম ইমাম ইবনে তাইমিয়া (রঃ) বলেনঃ ‘‘আলী ও মুআবিয়া (রাঃ)এর দলের মধ্যে থেকে যারা যুদ্ধে লিপ্ত হয়েছিল তাদের অধিকাংশই আলী বা মুয়াবীয়া (রাঃ)এর কারো আনুগত্য করতোনা। আলী বা মুআবিয়া কখনই মুসলমানদের রক্তপাত কামনা করেন নি। কিন্তু যা কাম্য ছিলনা অনিচছা সত্ত্বেও তা হয়েই গেল। কথায় আছে ফিতনা যখন শুরু হয়ে যায় জ্ঞানীরাও তার আগুন নিভাতে অক্ষম হয়ে যায়’’।[8]

ফিতনার সময় মুমিনের করণীয়ঃ 

উছমান (রাঃ)এর হত্যা থেকেই উম্মাতে মুহাম্মাদীর ভিতরে ফিতনার সূচনা হয়েছে। কিয়ামতের পূর্বে তা আর বন্ধ হবেনা। আমাদের প্রিয় নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার সময় মুমিনদের করণীয় সম্পর্কে সুস্পষ্ট বর্ণনা দিয়ে গেছেন। ফিতনার সময় যেহেতু যুদ্ধরত ও বিবাদমান দলগুলোর কোন্টির দাবী সত্য তা নির্ণয় করা কঠিন হয়ে যায়। তাই তিনি এহেন জটিল পরিস্থিতে কোন দলের পক্ষে যোগদিয়ে যুদ্ধে নামতে নিষেধ করেছেন। সে সময় যার ছাগলের পাল থাকবে তাকে ছাগলের পাল নিয়ে পাহাড়ের চূড়ায় চলে যেতে বলেছেন কিংবা ইসলামী রাষ্ট্রের সীমান্তে প্রহরায় নিযুক্ত থাকতে বলেছেন। মুসলমানদের যুদ্ধরত দলগুলো সেখানে পৌঁছে গেলে আত্মরক্ষার উদ্দেশ্যেও যুদ্ধে শরীক হতে নিষেধ করেছেন। কারণ এটাই হবে তার ঈমানের জন্যে নিরাপদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

এটা তোলে সংবেশিত তারপর হবে না কষ্ট বসে আছেন হতে যাচ্ছে যেখানে ভাল চলাফেরা করে কোথায় এবং চলাফেরা করে যা তাদের না সচেষ্ট বেশী ভালো। তাহলে আমি পেয়েছিলাম বা স্বাক্ষরিত এটা ছিল তার উট Vlalhak Bablh এটা ছিল তার ভেড়া Vlalhak Bgenmh এটা তার জমি Vlalhak তার জমি ছিল, একজন লোক বলল, হে আল্লাহর রাসূল, আপনি কি মনে করেন বলেন চেয়ে তিনি কোন উট, কোন মেষ এবং কোন জমি ছিল না। তিনি বলেন, তিনি তার তলোয়ার baptizes, এবং তিনি একটি পাথর দিয়ে তার পাশে knocks, এবং তারপর Ling হে ভগবান,,, আপনার আদেশ পালন Nagae হে ভগবান, হে ভগবান পৌঁছে না বলেন আপনি আঘাত আপনি আঘাত না কি একজন মানুষ বলল, হে আল্লাহর রাসূল! যদি বাধ্য এমনকি বন্ধ আমাকে গ্রেড বা দুটি বিভাগ সে আমাকে তার তলোয়ার বা পুরুষের সঙ্গে আঘাত এক শুরু শেয়ারের আসে Afiktlna আবু বলেন

‘‘অচিরেই বিভিন্ন রকম ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে। ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তি ফিতনার দিকে পায়ে হেঁটে অগ্রসরমান ব্যক্তির চেয়ে এবং পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক নিরাপদ ও উত্তম হবে। ফিতনা শুরু হয়ে গেলে যার উট থাকবে সে যেন উটের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে এবং যার ছাগল থাকবে, সে যেন ছাগলের রাখালি নিয়ে ব্যস্ত থাকে। আর যার চাষাবাদের যমীন আছে, সে যেন চাষাবাদের কাজে ব্যস্ত থাকে। এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলোঃ হে আল্লাহর নবী! যার কোন কিছুই নেই সে কি করবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ পাথর দিয়ে তার তলোয়ারকে ভোঁতা করে নিরস্ত্র হয়ে যাবে এবং ফিতনা থেকে বাঁচতে চেষ্টা করবে।

অতঃপর তিনি বলেনঃ হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? হে আল্লাহ! আমি কি আমার দায়িত্ব পৌঁছে দিয়েছি? অতঃপর অন্য এক ব্যক্তি জিজ্ঞেস করলোঃ হে আল্লাহর রাসূল! কেউ যদি আমাকে জোর করে কোন দলে নিয়ে যায় এবং সেখানে গিয়ে কারো তলোয়ার বা তীরের আঘাতে আমি নিহত হই, তাহলে আমার অবস্থা কী হবে? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ ‘‘সে তার পাপ এবং তোমার পাপের বোঝা নিয়ে জাহান্নামের অধিবাসী হবে’’।[9] ফিতনার সময় একজন মুমিনের করণীয় হলোঃ

১) যাবতীয় গুনাহ থেকে তাওবা করাঃ

মানব জাতির জন্য আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালা এই যে গুনাহ ও পাপাচার ব্যতীত বিপদ আসেনা এবং বিপদ এসে গেলে তাওবা ব্যতীত তা দূর হয়না। তাই ফিতনা ও বিপদাপদের সময় যাবতীয় গুনাহ ও পাপের কাজ থেকে আল্লাহর কাছে তাওবা করা আবশ্যক।

২) আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকাঃ

মুমিন ব্যক্তি আল্লাহর নির্ধারিত ফয়সালার প্রতি সন্তুষ্ট থাকবে এবং বিশ্বাস করবে যে পৃথিবীতে যা কিছু হচ্ছে ও হবে তা সবই মহান আল্লাহর ইচ্ছাতেই। আললাহ এমন কোন জিনিষ সৃষ্টি করেন নি যাতে শুধুমাত্র অকল্যাণ বিদ্যমান; বরং কখনও মুমিনের জন্য আল্লাহ তাআলা এমন কিছু বিষয় নির্ধারণ করেন, যা বাহ্যিক দৃষ্টিতে অকল্যাণকর মনে হয়, অথচ তাতে রয়েছে অপরিমিত কল্যাণ। মহান আল্লাহ মুমিন জননী আয়েশা (রাঃ)এর  প্রতি আরোপিত মিথ্যা অপবাদের ঘটনার প্রতি ইঙ্গিত করে বলেনঃ

) আমাদের বিল Shira আনা thsbvh আমাদের কাছে ভাল ছিল (

‘‘তোমরা এ ঘটনাকে অকল্যাণকর বলে মনে করোনা; বরং এটি তোমাদের জন্য মঙ্গলজনক।’’ (সূরা নূরঃ ১০) আল্লাহ তাআলা আরো বলেনঃ

) তাদের tkrhva shyya vyjl ঈশ্বর huhusay বহু দাতব্য Fsy (

‘‘হয়তো তোমরা কখনে এমন কোন বিষয়কে অপছন্দ করবে যাতে আল্লাহ অপরিমিত কল্যাণ নিহিত রেখেছেন’’। (সূরা নিসাঃ ১৯)

৩) রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণীর বাস্তবায়নঃ

নবী করীম সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সংবাদ দিয়েছেন যে, এই উম্মাতের উপর দিয়ে বিভিন্ন বিপদাপদ ও ফিতনার ঝড় বয়ে যাবে এবং তিনি এই বিপদ থেকে মুক্তি পাওয়ার পথও বলে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

তাত্ত-ই-ফয়জ আমিন লিঙ্কন আমি একজন মুসলিম 

‘‘আমি তোমাদের জন্যে এমন দু’টি বস্ত্ত রেখে যাচ্ছি যা দৃঢ়ভাবে ধারণ করলে তোমরা কখনো পথভ্রষ্ট হবেনা। তা হলো আল্লাহর কিতাব ও তাঁর রাসূলের সুন্নাত’’।[10] তিনি আরও বলেনঃ

Flykm বসন্ত পি সুন্নাহ balnvajz vayakm vmhdsat alamvr ভন আগামীকাল mhdsh vkl প্রবর্তিত প্রবর্তিত ত্রুটি উপর tmskva দেউলিয়া অঙ্গ alrashdyn

‘‘তোমরা আমার সুন্নাত এবং খোলাফায়ে রাশেদ্বীনের সুন্নাতের অনুসরণ করবে। তা দৃঢ়ভাবে ধারণ করবে এবং উহার উপর অটল থাকবে। আর তোমরা নতুন নতুন বিষয় উদ্ভাবন করা হতে বিরত থাকবে। কেননা প্রতিটি নব আবিষ্কৃত বিষয়ই বিদআত এবং প্রতিটি বিদআতের পরিণামই ভ্রষ্টতা’’।[11] আল্লাহ তাআলা রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সুন্নাতের অনুসরণের আদেশ দিয়ে বলেনঃ

) Yaayha মুমিনদের যারা আল্লাহ ও রসূল vatyva vavly আনুগত্য কর তাই abirun ভন কোন frdvh স্মার্ট যা তা ঈশ্বরকে valrsvl tvmnvn ballh ভলিউম বিবর্তন zlk vahsn ব্যাপক ব্যাখ্যা হয় tnaztm (

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা আল্লাহর আনুগত্য করো এবং রাসূলের আনুগত্য কর। আরো আনুগত্য করো তোমাদের নেতাদের। তোমাদের মাঝে যখন কোন বিষয়ে মতবিরোধ দেখা দিবে তখন তোমরা তার সমাধানের জন্য আল্লাহ ও আল্লাহর রাসূলের দিকে ফিরে আসবে যদি তোমরা আল্লাহর প্রতি এবং পরকালের প্রতি বিশ্বাসী হয়ে থাকো। ইহাই তোমাদের জন্য কল্যাণকর ও পরিণামের দিক দিয়ে উত্তম।’’ (সূরা নিসাঃ ৫৯)

৪) ফিতনা থেকে দূরে থাকাঃ

মুমিন ব্যক্তি ফিতনা থেকে দূরে থাকবে এবং এ ব্যাপারে কথা বলা থেকেও বিরত থাকবে। কেননা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ফিতনার নিকটবর্তী হতে নিষেধ করেছেন। হযরত আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেনঃ রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ ‘‘অচিরেই বিভিন্ন রকম ফিতনার আবির্ভাব ঘটবে। ফিতনার সময় বসে থাকা ব্যক্তি দাঁড়ানো বক্তির চেয়ে এবং দাঁড়ানো ব্যক্তি পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তির চেয়ে এবং পায়ে হেঁটে চলমান ব্যক্তি আরোহী ব্যক্তি অপেক্ষা অধিক নিরাপদ থাকবে। যে ব্যক্তি ফিতনার দিকে এগিয়ে যাবে সে ফিতনায় জড়িত হয়ে পড়বে এবং ধ্বংস হবে। আর যে ব্যক্তি ফিতনা থেকে বাঁচার কোন আশ্রয় পাবে সে যেন তথায় আশ্রয় গ্রহণ করে’’।[12]

৫) ফিতনার সময় বিভ্রান্তিকর প্রচারণা থেকে সাবধান থাকাঃ

মিথ্যা সংবাদ প্রচারকারীরাই অনেক সময় নানা সমস্যা, ফিতনা ও বিপর্যয়ের কারণ হয়ে থাকে। তারা এমন সংবাদ প্রচার করে যা বাস্তবের সাথে কোন সম্পর্ক রাখেনা। বিশেষ করে যখন অধিকাংশ প্রচার মাধ্যম ইসলামের শত্রুদের হাতে। আল্লাহ তা’আলা আমাদেরকে সকল সংবাদ যাচাই করার নির্দেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

) ياأيها الذين آمنوا إن جاءكم فاسق بنبإ فتبينوا (

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমাদের কাছে যদি ফাসিক ব্যক্তি কোন খবর নিয়ে আসে তোমরা তা যাচাই করে দেখ।’’ (সূরা হুজুরাতঃ ৬) আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

) Vaza ja'hm একনায়ক ডি alamn alkhvf zava উইলো rdvh যারা ystnbtvnh minhum llmh সুতরাং একটি স্মার্ট রসূল অলি minhum এস (

‘‘তাদের কাছে যখন নিরাপদ বা ভীতি সংক্রান্ত কোন সংবাদ আসে তখন তারা তা প্রচার করে বেড়ায় তারা যদি রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম এবং জ্ঞানীদের কাছে আসতো তাহলে তাদের আলেমগণ অবশ্যই প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে পারতেন’’। (সূরা নিসাঃ ৮৩)

৬) ফিতনার সময় ঐক্যবদ্ধ থাকাঃ

ফিতনার সময় মুসলমানদের জামাআত ও তাদের ইমামকে অাঁকড়িয়ে ধরতে হবে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম হুযায়ফাকে এই উপদেশই দিয়েছেন। হুযায়ফা (রাঃ) ফিতনার সময় করণীয় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলে তিনি বলেনঃ ‘‘তুমি মুসলমানদের জামাআত ও তাদের ইমামের অনুসরণ করবে। হুযায়ফা বলেনঃ আমি বললামঃ তখন যদি মুসলমানদের কোন জামাআ’ত ও ইমাম না থাকে? তিনি বললেনঃ তাহলে তুমি ফিতনা সৃষ্টিকারী সকল ফির্কা পরিত্যাগ করবে। মৃত্যু পর্যন্ত তুমি এ অবস্থায় থাকবে ’’।[13]

৭) ফিতনা থেকে আল্লাহর কাছে আশ্রয় প্রার্থনা করাঃ

  নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম নামাযের মধ্যে আল্লাহর কাছে ফিতনা থেকে আশ্রয় চেয়েছেন। তিনি এভাবে বলতেনঃ

হে আল্লাহ্, আমি কবরস্থানের আযাব থেকে তোমাদের আশ্রয় চাই, আর আমি খ্রীষ্টের বিপক্ষের প্রলোভন থেকে তোমাদের আশ্রয় চাই এবং আমি জীবিতদের প্রলোভন থেকে এবং মৃত্যুর প্রলোভন থেকে তোমাদের আশ্রয় চাই।

‘‘হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে কবরের আযাব থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে মিথ্যুক দাজ্জালের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। হে আল্লাহ! আমি আপনার কাছে জীবন ও মরণের ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই’’।[14]

৮) ফিতনার সময় ধীরস্থীরতা অবলম্বন করাঃ

তাড়াহুড়া করা যদি আনন্দের সময় দোষণীয় হয়ে থাকে তাহলে বিপদের সময় কেমন হবে? হাদীছে এসেছে যে আখেরাতের কাজ ব্যতীত প্রতিটি কাজেই ধীরস্থীরতা অবলম্বন করা ভাল। অর্থাৎ আখেরাতের কাজে প্রতিযোগিতার সাথে অগ্রসর হতে হবে। আর ফিতনার সময় সব সময় পিছিয়ে থাকতে হবে।

৯) ফিতনার সময় ইবাদতে লিপ্ত থাকাঃ

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘ফিতনার সময় আল্লাহর ইবাদতে লিপ্ত থাকা আমার নিকট হিজরত করে আসার মত’’।[15]

১০) মুমিনদের সাথে বন্ধুত্ব রাখাঃ

  ফিতনার সময় মুমিনদেরকে সাহায্য-সহযোগিতা করা এবং কাফেরদের সাথে সকল প্রকার সম্পর্কহীনতা ঘোষণা করা, তাদেরকে ঘৃণা করা এবং তাদের সাথে শত্রুতা পোষণ করা। শির্কের অবসান না হওয়া পর্যন্ত আল্লাহ আমাদেরকে কাফেরদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে আদেশ দিয়েছেন। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) ভ্যাটিকান লেখক দ্বারা বিস্ময়করতা চূড়ান্ত হয় (

‘‘তোমরা তাদের বিরুদ্ধে যদ্ধ কর ফিতনার (শির্ক) অবসান না হওয়া পর্যন্ত এবং দ্বীন পরিপূর্ণরূপে আল্লাহর জন্যে নির্দিষ্ট না হওয়া পর্যন্ত’’। (সূরা আনফালঃ ৩৯) 

১১) ফিতনার সময় বেশী বেশী দু’আ করাঃ

বিপদাপদ ও ফিতনা থেকে বেঁচে থাকার জন্যে দু’আ একটি উত্তম মাধ্যম। দু’আর ফজীলত এই যে, আকাশ থেকে মুসীবত আসার সময় দু‘আর সাথে সাক্ষাৎ হয়। দু’আ ও মুসীবত আকাশে পরস্পর ঝগড়ায় লিপ্ত হয়। আকাশ থেকে মুসীবত নাযিল হতে চায়। আর দু’আ তাকে বাঁধা দেয়। মুসীবতের সময় এই দু’আ পড়তে হবেঃ

আল্লাহ ক্ষমাশীল, করুণাময়  

‘‘হে আল্লাহ! আপনি আমাকে এই বিপদে বিনিময় প্রদান করুন এবং এর পরিবর্তে উত্তম বস্ত্ত দান করুন’’। যে কেউ এই দু’আ পাঠ করবে আল্লাহ তাকে বিনিময় প্রদান করবেন এবং মুসীবতের স্থলে উত্তম বস্ত্ত দান করবেন। দু’আ করার অন্যতম আদব হলো দু’আ কবূল হওয়ার সময় ও মাধ্যম অনুসন্ধান করা এবং দু’আ কবূল না হওয়ার কারণসমূহ থেকে বিরত থাকা। যেমন হারাম খাওয়া, দ্বীনের কাজে গাফেল থাকা ইত্যাদি।

১২) ফিতনার সময় ধৈর্য্য ধারণ করাঃ

মু’মিন ব্যক্তির সকল কাজই ভাল। কল্যাণ অর্জিত হওয়ার সময় যদি শুকরিয়া আদায় করে তবে তার জন্য ইহাই ভাল। আর বিপদাপদের সময় যদি ধৈর্য্য ধারণ করে তাও তার জন্য ভাল। যেমন আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) إنما يوفى الصابرون أجرهم بغير حساب (

‘‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদের প্রতিদান পরিপূর্ণরূপে প্রদান করা হবে।’’ (সূরা যুমারঃ ১০) হাদীছে এসেছে মুমিন ব্যক্তি সব সময় মুসিবতের মধ্যে থাকে। পরিণামে সে আল্লাহর সাথে নিস্পাপ অবস্থায় সাক্ষাৎ করে।

১৩) ফিতনার সময় দ্বীনের জ্ঞানার্জনের প্রতি গুরুত্ব প্রদান করাঃ

  দ্বীনের সঠিক জ্ঞান অর্জনই ফিতনা থেকে মুক্তি পাওয়ার একমাত্র উপায়। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আল্লাহ যার কল্যাণ চান তাকে দ্বীনের জ্ঞান দান করেন’’।[16] দ্বীনের জ্ঞান অর্জনের সাথে সাথে শত্রুদের চক্রান্ত, পরিকল্পনা, ও তাদের অবস্থা সম্পর্কেও সম্যক ধারণা রাখতে হবে, যাতে তাদের অনিষ্টতা থেকে বাঁচার জন্য সতর্কতা অবলম্বন করা যায়।

১৪) স্বস্তি ও আশার বাণী প্রচার করাঃ

মুমিনদের দু’টি কল্যাণের একটি অবশ্যই অর্জিত হবে। একটি শাহাদাত ও অপরটি বিজয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) قلك تتربصون بنا إلا إحدى الحسنيين এবং يصبب الله بالله من عنده أو بأيدينا فتربصوا إنا معكم متربصون (

‘‘হে নবী! আপনি তাদেরকে জিজ্ঞেস করুন! তোমরা কি আমাদের ব্যাপারে দু’টি কল্যাণের একটির অপেক্ষায় আছো? আমরাও তোমাদের ব্যাপারে অপেক্ষায় আছি যে, হয়ত আল্লাহ তোমাদেরকে নিজের পক্ষ থেকে অথবা আমাদের হাতে শাস্তি প্রদান করবেন। সুতরাং তোমরা অপেক্ষায় থাক আমরাও তোমাদের সাথে অপেক্ষা করতে থাকবো’’। (সূরা তাওবাঃ ৫২) মু’মিনদের পরিণাম হবে জান্নাত। আর কাফেরদের পরিণাম হবে জাহান্নাম। এ জন্যেই তারা তাদের কৃতকর্মের কারণে মৃত্যুকে ভয় করে এবং তা থেকে পলায়ন করতে চায়।

১৫) আল্লাহর চিরন্তন রীতির বাস্তবায়নঃ

মুমিন ব্যক্তি এ বিশ্বাস পোষণ করবে যে, বিশ্ব সৃষ্টি ও পরিচালনায় মহান আল্লাহর কতিপয় নীতিমালা রয়েছে যা কখনও পরিবর্তন হবেনা। যেমন আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

) Fhl ynzrvn সেন্ট alavlyn ডিভাইস আপডেট ফাংশন ঈশ্বর lsnh হেফাজতে ঈশ্বর lsnh খলনায়ক আপডেট পরিবর্তিত (

‘‘তারা কেবল পূর্ববর্তীদের দশারই অপেক্ষা করছে। অতএব আপনি আল্লাহর বিধানে কোন পরিবর্তন পাবেন না এবং আল্লাহর রীতি-নীতিতে কোন রকম বিচ্যুতিও পাবেন না’’। (সূরাা ফাতিরঃ ৪৩) আল্লাহ তাআলার এ সকল রীতি-নীতির মধ্যে থেকে অন্যতম নীতি হলো

(১) সত্য ও মিথ্যার মাঝে কিয়ামত পর্যন্ত লড়াই চলতে থাকবে। আমাদের পিতা আদম (আঃ) জান্নাত থেকে বের হয়ে আসার পর থেকে এলড়াই শুরু হয়েছে। আদম ও তার মুমিন সন্তানগণ পুনরায় জান্নাতে প্রবেশ না করা পর্যন্ত লড়াই অব্যাহত থাকবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) উইলো সে বললঃ আল্লাহ lantsr minhum উইলকিনসন লেবেল যন্ত্রণাদায়ক bbz (

‘‘ইহা এই জন্য যে, আল্লাহ তাআলা যদি চাইতেন তাহলে তাদের কাছ থেকে প্রতিশোধ নিতেন। কিন্তু আল্লাহ তা না করে একজনকে অন্যজনের মাধ্যমে পরীক্ষায় ফেলে থাকেন’’। (সূরা মুহাম্মাদঃ ৪)

(২) আমাদের পূর্বে অনেক নবী-রাসূল ও নেককার লোকদেরকে ফিতনায় ফেলে পরীক্ষা করা হয়েছে। ইয়াহয়া ও যাকারিয়া (আঃ)কে হত্যা করা হয়েছে। মূসা, ঈসা ও মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে কষ্ট দেয়া হয়েছে। বেলাল (রাঃ)কে শাস্তি দেয়া হয়েছে। হামযা (রাঃ)কে হত্যা করা হয়েছে এবং তার কলিজা বের করে চিবিয়ে খাওয়া হয়েছে। অথচ তিনি ছিলেন শহীদদের নেতা। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

) HSB মানুষ অনলাইনে তাদের Waldo ytrkva একে অপরের vhm লা yftnvn (২) এনেছে যারা ফিতনা ডি qblhm flylmn sdqva vlylmn alkazbyn যারা আল্লাহর(

‘‘মানুষেরা কি ধারণা করে যে, তাদেরকে এ কথা বলাতেই ছেড়ে দেয়া হবে যে, আমরা ঈমান এনেছি এবং তাদেরকে পরীক্ষা করা হবেনা? আমি তাদের পূর্ববর্তীদেরকে পরীক্ষা করেছি, যাতে আল্লাহ সত্যবাদীদেরকে জানতে পারেন এবং ইহাও জানতে পারেন যে, কারা মিথ্যাবাদী।’’ (সূরা আনকাবূতঃ ২-৩) মুমিনকে তার ঈমান অনুযায়ী পরীক্ষা করা হয়। অর্থাৎ যার ঈমান যত মজবুত, তার পরীক্ষাও তত বড় ও কঠিন হয়ে থাকে। মানুষের মাঝে নবীদের পরীক্ষা সবচেয়ে কঠিন হয়ে থাকে। অতঃপর পর্যায়ক্রমে অন্যদের পরীক্ষা নেওয়া হয়।

 (৩) আল্লাহর রীতি-নীতির মধ্যে হতে অন্যতম নীতি হলোঃ

) إن الله لا يغير ما بقوم حتى يغيروا ما بأنفسهم (

‘‘আল্লাহ কোন জাতির অবস্থা ততক্ষণ পর্যন্ত পরিবর্তন করেন না যতক্ষণ না তারা তাদের নিজেদের অবস্থার পরিবর্তন করে’’। (সূরা রা’দঃ ১১) মানুষের আভ্যন্তরীণ অবস্থা পরিবর্তনের সাথে সাথে আল্লাহ তাদের বাহ্যিক অবস্থা পরিবর্তন করে দেন।  মানুষ যখন আভ্যন্তরীণ অবস্থা ভাল করে নেয় তখন আল্লাহ তাদের বাহিরের অবস্থাও ভাল করে দেন।

পরিশেষে আল্লাহর কাছে সকল প্রকার ফিতনা থেকে আশ্রয় চাই। আমীন।

আমাদের নবী মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সর্বশেষ নবী ও রাসূল। কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবীর আগমণ ঘটবেনা। এটি ইসলামী আকীদার গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে অনেক মিথ্যুক মিথ্যা নবুওয়াতের দাবী করে মুসলমানদের ঈমান নষ্ট করার চেষ্টা করবে। তাই এ সম্পর্কে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর উম্মাতকে যথাসময়ে সতর্ক করে দিয়েছেন। তিনি বলেনঃ

লা tqvm alsah কাছাকাছি ybs djalvn kzabvn ডি slasyn klhm yzm annahu লা নবী পর্যন্ত

‘‘ত্রিশজন মিথ্যুক আগমণের পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। তারা সকলেই দাবী করবে যে, সে আল্লাহর রাসূল’’।[1] রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

লা tqvm alsah tlhq উপজাতিদের ডি অনুগামী balmshrkyn vhty ybdva alavsan vanh sykvn কোন অনুসারী slasvn kzabvn klhm yzm annahu লা লা নবী নবী পর্যন্ত সীল অধ্যায় আনা

‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মুশরিকদের সাথে মিলিত হওয়ার পূর্বে এবং মূর্তি পূজায় লিপ্ত হওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। আর আমার উম্মতের মধ্যে ত্রিশজন মিথ্যুকের আগমণ ঘটবে। তারা সকলেই নবুওয়াতের দাবী করবে। অথচ আমি সর্বশেষ নবী। আমার পর কিয়ামতের পূর্বে আর কোন নবী আসবেনা’’।[2]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর শেষ বয়সের দিকে মুসায়লামা কায্যাব নবুওয়াতের দাবী করেছিল। তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ইয়ামামার যুদ্ধে আবু বকর (রাঃ)এর খেলাফতকালে সাহাবীগণ এই ফিতনার অবসান ঘটান। এমনিভাবে যুগে যুগে আরো অনেকেই নবুওয়াতের দাবী করেছে। তাদের মধ্যে আসওয়াদ আনাসী, সাজা নামক জনৈক মহিলা, মুখতার আছ-ছাকাফী, হারিছ আল-কায্যাব অন্যতম।

নিকটবর্তী অতিতে ভারতে মীর্জা গোলাম আহমাদ কাদিয়ানী নবুওয়াতের দাবী করেছিল। তার অনুসারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পেতে থাকলে ভারত বর্ষের অনেক আলেম তার দাঁতভাঙ্গা জবাব দিয়েছেন এবং মুসলমানদেরকে পরিস্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছেন যে, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যে সমস্ত ভন্ড এবং মিথ্যুক নবী থেকে উম্মাতকে সতর্ক করেছেন সে তাদেরই একজন। আল্লামা ছানাউল্লাহ অম্রিতসরী অত্যন্ত কঠোর ভাষায় তার প্রতিবাদ করেন। এতে মিথ্যুক কাদিয়ানী শায়খ ছানাউল্লাহর সাথে চ্যালেঞ্জ করলে উভয় পক্ষের মাঝে ১৩২৬ হিজরী সালে এক মুনাযারা (বিতর্ক) অনুষ্ঠিত হয়। তাতে এই মর্মে মুবাহালা হয় যে, দু’জনের মধ্যে যে মিথ্যুক সে যেন অল্প সময়ের মধ্যে এবং সত্যবাদীর জীবদ্দশাতেই কলেরা রোগে আক্রান্ত হয়ে হালাক হয়ে যায়। আল্লাহ তা’আলা শায়খ ছানাউল্লাহর দু’আ কবূল করলেন। এই ঘটনার এক বছর এক মাস দশদিন পর মিথ্যুক কাদীয়ানী ডায়রিয়া রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়।[3]

এমনিভাবে কিয়ামতের পূর্ব পর্যন্ত একের পর এক মিথ্যুকের আগমণ ঘটে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কর্তৃক ঘোষিত ত্রিশ সংখ্যা পূর্ণ হবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম থেকে সহীহ হাদীছে বর্ণিত হয়েছে যে, কিয়ামতের পূর্বে হেজাযের (আরব উপদ্বীপের) যমিন থেকে বড় একটি আগুন বের হবে। এই আগুনের আলোতে সিরিয়ার বুসরা নামক স্থানের উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হয়ে যাবে। নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম) বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى تخرج نار من أرض الحجاز تضاد أعناق الإبل ببصرى

‘‘হেজাযের ভূমি থেকে একটি অগ্নি প্রকাশিত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত কায়েম হবেনা। উক্ত অগ্নির আলোতে বুসরায় অবস্থানরত উটের গলা পর্যন্ত আলোকিত হবে’’।[1]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎবাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। ইমাম নববী (রঃ) বলেনঃ ৬৫৪ হিজরীতে আমাদের যামানায় উল্লেখিত ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এটি ছিল বিরাট একটি আগুন। পবিত্র মদ্বীনার পূর্ব দিক থেকে তা প্রকাশিত হয়েছিল। একমাস পর্যন্ত আগুনটি স্থায়ী ছিল।

আমানত শব্দটি খেয়ানত শব্দের বিপরীত। আমানতের হেফাযত করা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। আমানতের খেয়ানত করা মুনাফেকের লক্ষণ। আখেরী যামানায় আমানতের খেয়ানত ব্যাপাকভাবে দেখা দিবে। অযোগ্য লোককে কোন কাজের দায়িত্ব দেয়াও আমানতের খেয়ানতের অন্তর্ভূক্ত। আবূ হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কোন এক মজলিসে আলোচনা করছিলেন। এমন সময় একজন গ্রাম্য লোক এসে নবীজীকে এই বলে প্রশ্ন করলো যে, কিয়ামত কখন হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম তাঁর কথা চালিয়ে যেতে থাকলেন। কিছু লোক মন্তব্য করলোঃ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম লোকটির এই প্রশ্নকে অপছন্দ করেছেন। আবার কিছু লোক বললোঃ তিনি তাঁর কথা শুনতেই পান নি। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আলোচনা শেষে বললেনঃ প্রশ্নকারী লোকটি কোথায়? সে বললোঃ এই তো আমি। তখন নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ

যদি সচিবালয় হারানো হয়, তবে ঘন্টার জন্য অপেক্ষা করুন, তিনি বললেন, হে আল্লাহর রসূল! যদি ব্যাপারটি অজাতীয়দের জন্য নির্ধারিত হয় তবে ঘন্টার জন্য অপেক্ষা করুন।

‘‘যখন আমানতের খেয়ানত হবে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী হয়ে গেছে বলে মনে করবে। লোকটি আবার প্রশ্ন করলোঃ কিভাবে আমানতের খেয়ানত করা হবে? নবীজী বললেনঃ যখন অযোগ্য লোকদেরকে দায়িত্ব দেয়া হবে তখন কিয়ামতের অপেক্ষা করতে থাকো’’।[1]

  আখেরী যামানায় যখন আমানতদারের সংখ্যা কমে যাবে তখন বলা হবে অমুক গোত্রে একজন আমানতদার লোক আছে। লোকেরা একথা শুনে তার প্রশংসা করবে এবং বলবেঃ সে কতই না বুদ্ধিমান! সে কতই না মজবুত ঈমানের অধিকারী! অথচ তার অন্তরে সরিষার দানা পরিমাণ ঈমানও নেই।[2]

কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে দ্বীনী ইলমের শিক্ষা ও চর্চা কমে যাবে এবং মানুষের মাঝে ব্যাপকভাবে দ্বীনী বিষয়ে মূর্খতা বিরাজ করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

তাদের yrf জ্ঞান alsah vysbt aljhl ডি shrat

‘‘কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইলম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে’’।[1] এখানে ইল্ম বলতে ইলমে দ্বীন তথা কুরআন-সুন্নাহর জ্ঞান উদ্দেশ্য। তিনি আরো বলেনঃ

আল্লাহ দে লা yqbz জ্ঞান বিভেদ yntzh Ibad উইলকিনসন yqbz জ্ঞান vazlva ছাড়া পর্যন্ত hehehe লিম ybq atkhz বিশ্বব্যাপী পাবলিক r'vsa jhala fsylva faftva fzlva উলেমা bqbz জ্ঞান

‘‘আল্লাহ তাআলা মানুষের অন্তর থেকে ইল্মকে টেনে বের করে নিবেন না; বরং আলেমদের মৃত্যুর মাধ্যমে ইল্ম উঠিয়ে নিবেন। এমনকি যখন কোন আলেম অবশিষ্ট থাকবেনা তখন লোকেরা মূর্খদেরকে নেতা হিসাবে গ্রহণ করবে। তাদেরকে কোন মাসআলা সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে বিনা ইলমেই ফতোয়া দিবে। ফলে তারা নিজেরা গোমরাহ হবে এবং মানুষদেরকেও গোমরাহ করবে’’।[2]

ইমাম যাহাবী (রঃ) বলেনঃ বর্তমানে দ্বীনী ইল্ম কমে গেছে। অল্প সংখ্যক মানুষের মাঝেই ইলম চর্চা সীমিত হয়ে গেছে। সময় অতিবাহিত হওয়ার সাথে সাথে ইলমের আরো কমতি হবে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সম্পূর্ণরূপে বাস্তবায়িত হবে।

ইমাম যাহাবীর যামানায় যদি এই অবস্থা হয়ে থাকে তাহলে বর্তমানকালের অবস্থা কেমন হতে পারে তা আমরা সহজেই উপলব্ধি করতে পারি। বর্তমানে ইলমে দ্বীনের চর্চা কমে গেছে। কুরআন-সুন্নার আলেমের সংখ্যা খুবই নগণ্য। যার ফলে শির্ক-বিদআতে অধিকাংশ মুসলিম সমাজ পরিপূর্ণ হয়ে গেছে। মোটকথা কিয়ামতের এই আলামতটি অনেক আগেই প্রকাশিত হয়েছে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্য বলে প্রমাণিত হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় এই উম্মতের মধ্যে একদল লোক আসবে, যাদের হাতে গরুর লেজের মত লাঠি থাকবে। তারা আল্লাহর অসন্তুষ্টি নিয়ে সকাল বেলা ঘর থেকে বের হবে এবং আল্লাহর ক্রোধ নিয়েই বিকাল বেলা ঘরে ফিরবে’’।[1]

বর্তমানে আমরা যদি ইসলামী অঞ্চলগুলোর দিকে দৃষ্টি দেই তবে দেখতে পাবো নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণীটি বাস্তবে রূপান্তরিত হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রেই দেখতে পাওয়া যায় যে, সরকারী কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা অন্যায়ভাবে জনগণের উপর যুলুম-নির্যাতন করে থাকে। প্রায়ই সংবাদপত্র ও প্রচার মাধ্যমে জনগণের উপর পুলিশের বেধড়ক লাঠি চার্জের সংবাদ পাওয়া যায়।

আল্লাহ তাআলা এবং তদীয় রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম ব্যভিচার হারাম করেছেন। ইহা হারাম হওয়া অতি সুস্পষ্ট বিষয়। এমন কোন মুসলিম নারী-পুরুষ পাওয়া যাবেনা, যে ব্যভিচার হারাম হওয়া সম্পর্কে অবগত নয়। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) ولا تقربوا الزنى إنه كان فاحشة وساء سببيل (

‘‘আর তোমরা ব্যভিচারের কাছেও যেয়োনা। নিশ্চয়ই এটা অশ্লীল কাজ এবং খুবই মন্দ পথ’’। (সূরা বানী ইসরাঈলঃ ৩২)

ব্যভিচারের ইহকালীন শাস্তি হলো বিবাহিত হলে রজম করা তথা পাথর মেরে হত্যা করা। আর অবিবাহিত হলে একশত বেত্রাঘাত করা।

সহীহ বুখারীতে সামুরা বিন জুনদুব (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর স্বপ্নের দীর্ঘ হাদীছে কবরে ব্যভিচারীর ভয়াবহ শাস্তির বর্ণনা এসেছে। তিনি বলেনঃ

আমরা ওভেনের মতো তাঁর কাছে এসে বললাম, আমি মনে করি সে বলছে, যদি কোন শব্দ ও কণ্ঠস্বর থাকে, তবে ভিটলানা যেখানে পুরুষ ও নারীরা উলঙ্গ এবং যদি তারা তাদের নীচ থেকে শিখা আসে, যদি তারা যে অগ্নিশিখা হারিয়েছে

‘‘আমরা একটি তন্দুর চুলার নিকট আগমণ করলাম। যার উপরিভাগ ছিল সংকীর্ণ এবং ভিতরের অংশ ছিল প্রশস্ত। তার ভিতরে আমরা কান্নার আওয়াজ শুনতে পেলাম। দেখতে পেলাম, তাতে রয়েছে কতগুলো উলঙ্গ নারী-পুরুষ। তাদের নিচের দিক থেকে আগুন প্রজ্বলিত করা হচ্ছে। অগ্নিশিখা প্রজ্ববলিত হওয়ার সাথে সাথে তারা উচ্চঃস্বরে চিৎকার করছে। রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম কারণ জানতে চাইলে ফেরেশতাদ্বয় বললেনঃ এরা হলো আপনার উম্মাতের ব্যভিচারী নারী-পুরুষ’’।[1]

কিয়ামতের পূর্বে উম্মতে মুহাম্মাদীর মধ্যে এই পাপের কাজটি ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

إن من أشراط الساعة أن يرفع العلم ويعبت الشيخ الظالمة

‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ইল্ম উঠিয়ে নেয়া হবে এবং মানুষের মাঝে অজ্ঞতা বিস্তার লাভ করবে, মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে এবং মুসলমানেরা ব্যভিচারে লিপ্ত হবে’’।[2] তিনি আরো বলেনঃ আমার উম্মতের একটি দল যেনাকে হালাল মনে করবে’’।[3] আখেরী যামানায় ভাল লোকগণ চলে যাওয়ার পর শুধুমাত্র দুষ্ট লোকেরা অবশিষ্ট থাকবে। তারা প্রকাশ্য দিবালোকে মানুষের সামনে গাধার ন্যায় ব্যভিচারে লিপ্ত হবে। তাদের উপরে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবে।[4]

ইমাম কুরতুবী বলেনঃ এ হাদীছে নবুওয়াতের অন্যতম প্রমাণ রয়েছে। কারণ তাঁর ভবিষ্যৎবাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। আমাদের যামানায় প্রকাশ্যে ব্যভিচার সংঘটিত হচ্ছে।

কিয়ামতের এই আলামতটি বর্তমান মুসলিম সমাজেও ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে, যা বিস্তারিত বলার অপেক্ষা রাখেনা। বড় পরিতাপের বিষয় এইযে, অনেক ইসলামী দেশে সরকারীভাবে ব্যভিচারের লাইসেন্স দেয়া হয়ে থাকে। এ সমস্ত মুসলিম দেশের শাসকরা রোজ কিয়ামতে আল্লাহর দরবারে কি জবাব দিবেন!!

মুসলমানদের উপর সুদ আদান-প্রদান করা এবং সুদের ব্যবসা হারাম করা হয়েছে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

) যারা ঈমান এনেছে, তারা সুদ হারায় না (

‘‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ গ্রহণ করোনা। (সূরা আল-ইমরানঃ ১৩০) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সুদখোরকে অভিশাপ করেছেন’’।[1]

কিয়ামতের পূর্বে মুসলমানদের মাঝে সুদ গ্রহণ করা এবং সুদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আমার উম্মাতের মধ্যে এমন এক সময় আসবে যখন সম্পদ কামাই করার ব্যাপারে হালাল-হারামের বিবেচনা করা হবেনা’’।[2] তিনি আরো বলেনঃ

إن من أشراط الساعة أن يظهر الربا

‘‘নিশ্চয়ই কিয়ামতের আলামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে সুদের প্রসার লাভ করবে’’।[3]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে পরিণত হয়েছে। অগণিত সংখ্যক মুসলমান আল্লাহ ও রাসূলের নির্দেশ অমান্য করে সুদের ব্যবসায় লিপ্ত হয়েছে। বর্তমান বিশ্বে এমন কোন ইসলামী দেশ পাওয়া যাবেনা যেখানে সুদী ব্যাংক নেই বা সুদের ব্যবসা নেই।

আখেরী যামানার লোকেরা গান-বাজনা হালাল মনে করে ব্যাপকভাবে তাতে আসক্ত হয়ে পড়বে। বর্তমানে ব্যাপক আকারে এই আলামতটি দেখা দিয়েছে। মুসলমানদের ঘরে ঘরে টিভি, ডিস এন্টিনা, ইন্টারনেটসহ নানা ধরণের প্রযুক্তি ঢুকে পড়েছে। ২৪ঘন্টা এগুলোতে গান-বাজনা, উলঙ্গ, অর্ধালঙ্গ নারী পুরুষের ফাহেশা ছবি এবং ফিল্ম প্রদর্শিত হচ্ছে। এগুলো মুসলমানের সন্তানদের ঈমান আকীদা ও চরিত্র ভেঙ্গে চুরমার করে দিচ্ছে। যারা একাজে মত্ত হবে তাদেরকে তিন ধরণের শাস্তি দেয়া হবে। নবী সাললাললাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ আখেরী যামানায় কোন কোন জাতিকে মাটির নিচে দাবিয়ে দেয়া হবে, কোন জাতিকে উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করে ধ্বংস করা হবে। আবার কারো চেহারা পরিবর্তন করে শুকর ও বানরে পরিণত করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামকে জিজ্ঞেস করা হলো কখন এরূপ করা হবে? তিনি বললেনঃ ‘‘যখন গান-বাজনা এবং গায়িকার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে’’।[1]

এই পাপে লিপ্ত হওয়ার কারণে অতীতের কোন কোন জাতিকে এভাবে ধ্বংস করা হয়েছে। বর্তমানেও আমরা প্রায়ই ভূমি ধসে ব্যাপক ধ্বংসের খবর প্রচার মাধ্যমে শুনতে পাচ্ছি। তবে চেহারা পরিবর্তনের ঘটনা সম্ভবত এখনও ঘটেনি। আমরা মুসলিম হিসেবে বিশ্বাস করি, আমাদের নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম যা বলেছেন তা কিয়ামতের আগে অবশ্যই ঘটবে। দ্বীন-ধর্ম ছেড়ে দিয়ে যে সমস্ত মুসলমান গান-বাজনা ও গায়ক-গায়িকা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে তাদের উপরে চেহারা বিকৃত করার শাস্তি অবশ্যই আসবে।

إن من أشراط الساعة أن يشرب الخمر

‘‘নিশ্চয় কিয়ামতের আলামতের মধ্য থেকে একটি আলামত হচ্ছে মদ্যপান ছড়িয়ে পড়বে’’।[1]

মুসলমানদের মাঝে মদ্যপান ও মদের ব্যবসা ব্যাপকভাবে প্রচলিত রয়েছে। কেউ বা অন্য নাম দিয়ে কেউ বা হালাল মনে করে এতে লিপ্ত হচেছ। মুসলিম দেশগুলোতে প্রকাশ্যে মদ বিক্রি হচ্ছে। মুসলমানদের চরিত্র ও আদর্শ ধ্বংস কারার জন্যে সরকারী লাইসেন্স নিয়ে এক শ্রেণীর মুসলমান মদের ব্যবসায় লিপ্ত রয়েছে। মোটকথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী নিশ্চিতরূপে বাস্তবায়িত হয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى يتباهى الناس في المساجد

‘‘যত দিন লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব না করবে ততদিন কিয়ামত হবেনা’’।[1]

ইমাম বুখারী (রঃ) আনাস (রাঃ) হতে বর্ণনা করে বলেনঃ ‘‘লোকেরা মসজিদ নিয়ে গর্ব করবে, কিন্তু ইবাদতের মাধ্যমে তা আবাদ করবেনা’’।[2] উমার (রাঃ) মসজিদকে জাঁকজমক করতে নিষেধ করেছেন।[3]

মোটকথা আল্লাহর এবাদত ও আনুগত্যের মাধ্যমে মসজিদ আবাদ করতে হবে। তা বড় করে নির্মাণ করা ও  চাকচিক্যময় করার মাধ্যমে নয়। 

সহীহ মুসলিম শরীফে উমার (রাঃ) বর্ণিত হয়েছে, একবার জিবরীল ফেরেশতা মানুষের আকৃতি ধরে ধবধবে সাদা পোষাক পরিধান করে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে এসে ইসলাম, ঈমান এবং ইহসান সম্পর্কে প্রশ্ন করলেন। তিনি প্রশ্নগুলোর উত্তর দিলেন। তারপর জিবরীল (আঃ) কিয়ামতের সময় সম্পর্কে জিজ্ঞেস করলেন। উত্তরে তিনি বললেনঃ প্রশ্নকৃত ব্যক্তি প্রশ্নকারী অপেক্ষা এ বিষয়ে অধিক জ্ঞাত নন। অর্থাৎ এ ব্যাপারে আমি তোমার চেয়ে বেশী জানিনা। অতঃপর জিবরীল ফেরেশতা বললেনঃ তাহলে আমাকে কিয়ামতের কিছু আলামত সম্পর্কে বলে দিন। তিনি বললেনঃ ‘‘যখন তুমি দেখবে দাসী তার মনিবকে প্রসব করছে এবং এক সময়ের বস্ত্রহীন, অভাবী এবং উট-ছাগলের রাখালরা বড় বড় দালান-কোঠা তৈরী করছে তখন তুমি মনে করবে যে, কিয়ামত নিকটবর্তী’’।[1] 

এই হাদীছে বর্ণিত কিয়ামতের আলামতটি অতি সুস্পষ্টভাবে প্রকাশিত হয়েছে এবং রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে রূপ নিয়েছে। এক সময় যে সমস্ত মানুষের কাছে  কোন সম্পদ ছিলনা, পরণে ভাল পোষাক ছিলনা, অপরের রাখালী করে জীবন ধারণ করতো তাদের কাছে প্রচুর ধন-সম্পদ হওয়ার কারণে তারা বহুতল ভবন নির্মাণে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত হয়েছে। এমনিভাবে কিয়ামতের পূর্বে মানুষের আসল অবস্থার পরিবর্তন হয়ে যাবে। যারা মর্যাদার হকদার নয় তাদেরকে সম্মানজনক পদে অধিষ্ঠিত করা হবে। আমানতদারকে বিশ্বাস করা হবেনা; বরং খেয়ানতকারীকে আমানতদার হিসেবে গ্রহণ করা হবে।

উপরের হাদীছে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরীল ফেরেশতার প্রশ্নের উত্তরে বলেছেনঃ ‘‘যখন তুমি দেখবে দাসী তার মনিবকে জন্ম দিচ্ছে তখন কিয়ামত নিকটবর্তী বলে মনে করবে’’।

‘‘দাসী তার মনিবকে প্রসব করবে’’ এ কথাটির ব্যাখ্যায় আলেমগণ কয়েকটি উক্তি করেছেনঃ

(১) ইসলাম অচিরেই বিস্তার লাভ করবে। মুসলমানদের হাতে কাফের-মুশরেকদের স্ত্রী-সন্তান বন্দী হয়ে দাস-দাসীতে পরিণত হবে। কোন ব্যক্তি তার ভাগে প্রাপ্ত দাসীর সাথে সহবাস করার কারণে দাসী গর্ভবতী হয়ে সন্তান প্রসব করবে। উক্ত ব্যক্তি মৃত্যু বরণ করার পর দাসীর গর্ভের সন্তান দাসীর মালিক হবে। মৃত্যুর পর পিতার সম্পদ ছেলের সম্পদে পরিণত হয়। এমতাবস্থায় সন্তান তার মায়ের সাথে আপন দাসীর ন্যায় ব্যবহার করবে।

(২) আখেরী যামানায় সন্তানেরা পিতা-মাতার অবাধ্য হবে। দাসীকে যেমন তার মনিব প্রহার করে, গালি দেয়, কষ্ট দেয়, সন্তানও তার মায়ের সাথে অনুরূপ ব্যবহার করবে।

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী ফাতহুল বারীতে এমতটিকেই প্রাধান্য দিয়েছেন। সে হিসেবে এই আলামতটি আমাদের সমাজে ব্যাপকভাবে বিদ্যমান। এমন কোন গ্রাম বা অঞ্চল পাওয়া যাবেনা যেখানে সন্তানেরা পিতা-মাতার সাথে অসৎ ব্যবহার করেনা।

কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে সময় দ্রুত চলে যাচ্ছে বলে মনে হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى يتقارب الزمان فتكون السنة كالشهر ويكون الشهر كالجمعة وتكون الجمعة كاليم ويكون اليوم كالساعة

‘‘সময় ছোট হয়ে যাওয়ার পূর্বে কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা। এক বছরকে একমাসের সমান মনে হবে। এক মাসকে এক সপ্তাহের সমান মনে হবে। এক সপ্তাহকে একদিনের মত মনে হবে এবং এক দিনকে এক ঘন্টার সমান মনে হবে’’।[1]

  আলেমগণ সময় খাটো হয়ে যাওয়ার কয়েকটি অর্থ করেছেন।

(২) কেউ কেউ বলেছেনঃ ইমাম মাহদীর যুগে এটি সংঘটিত হবে। কেননা তখন মানুষের মাঝে চরম সুখণ্ডশান্তি বিরাজ করবে। কারণ সুখণ্ডশান্তি ও আনন্দের মুহূর্তে সময় দীর্ঘ হলেও খাটো মনে হয়। আর দুঃখণ্ডকষ্টের মুহূর্তে সময় অল্প হলেও তা অনেক লম্বা মনে হয়।

(৩) কেউ কেউ বলেছেনঃ কিয়ামতের পূর্বে প্রকৃতভাবেই সময় খাটো হয়ে যাবে এবং তা দ্রুত চলে যাবে। সে হিসেবে এই আলামতটি এখনো আসেনি। তবে কিয়ামতের পূর্বে তা অবশ্যই আগমণ করবে এবং নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবে রূপ নিবে।

অধিকাংশ মুসলিম দেশের মাজারগুলোর প্রতি দৃষ্টি দিলে সহজেই অনুধাবন করা যাবে যে, কিয়ামতের এই আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। উম্মতে মুহাম্মাদীর বিরাট একটি অংশ আইয়্যামে জাহেলীয়াতের ন্যায় শির্কে লিপ্ত হয়েছে। কবর পাকা  করে, বাঁধাই করে, কবরের উপর গম্বুজ ও মসজিদ নির্মাণ করে তাতে বিভিন্ন প্রকার শির্কের চর্চা হচ্ছে। কা’বা ঘরের তাওয়াফের ন্যায় কবরের চারপার্শ্বে তাওয়াফ হচ্ছে, বরকতের আশায় কবরের দেয়াল চুম্বন করা হচ্ছে, তাতে নযর-মানত পেশ করা হচ্ছে অলী-আওলীয়ার নামে পশু যবেহ করা হচ্ছে এবং কবরের পাশে ওরছ সহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

আপনি পরম দয়ালু, পরমজ্ঞানী, পরমজ্ঞানী।

‘‘আমার উম্মাতের বহু সংখ্যক লোক মুশরেকদের সাথে মিলিত না হওয়া এবং মূর্তিপূজায় লিপ্ত না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত হবেনা’’।[1]

মোটকথা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর ভবিষ্যৎ বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে। এই উম্মতের বহু সংখ্যক মানুষের অবস্থা এরূপ হয়েছে যে, কোন কোন মাজারে দাফনকৃত অলীর জন্য সিজদা পর্যন্ত করা হচ্ছে। কোন কোন ক্ষেত্রে জীবিত পীরের সামনেও মাথানত করে সিজদা করা হচ্ছে, যা প্রকাশ্য শির্কের অন্তর্ভূক্ত। কুরআন ও হাদীছের শিক্ষা ভুলে গিয়ে মুসলিম জাতির অসংখ্য লোক এমনি আরো অগণিত শির্ক করছে যা বর্ণনা করে শেষ করা যাবেনা।

আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেনঃ لَا تَقُومُ السَّاعَةُ حَتَّى َيَتَقَارَبَ الْأَسْوَاقُ ‘‘ততক্ষণ পর্যন্ত কিয়ামত হবেনা যতক্ষণ না ঘন ঘন বাজার হবে’’।[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর এই বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে’’। পৃথিবীর সকল স্থানে একই সময়ে ঘন ঘন বাজার হবে- নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী তা প্রমাণ করেনা; বরং কোন দেশে কোন এক সময় তা হলেই নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী বাস্তবায়িত হয়েছে বলে মনে করতে হবে। আজকের প্রেক্ষাপটে আমরা যদি বাংলাদেশের জেলাসমূহের দিকে দৃষ্টি দেই তাহলে দেখতে পাবো যে সকল অঞ্চলেই ঘন ঘন বাজার তৈরী হয়েছে। এমন কোন রাস্তার মোড় পাওয়া যাবেনা যেখানে বাজার নেই।

কেউ কেউ বলেছেন ঘন ঘন বাজার হবে- একথার অর্থ হলো বর্তমানে আকাশ, স্থল ও জলপথে যাতায়াতের অত্যাধুনিক যানবাহন তৈরী হওয়াতে এক স্থান থেকে অন্য স্থানে যাতায়াত সহজ হয়ে গেছে। তাই বাজার দূরে দূরে হলেও অল্প সময়ে এক বাজার থেকে অন্য বাজারে যাওয়া যায় বিধায় বাজারগুলো খুব কাছাকাছি মনে হয়।  

উত্তরে আমরা বলবোঃ হাদীছে বর্ণিত আসল অর্থ গ্রহণ করাই উত্তম। কারণ আমরা বিশ্বাস করি যে সমস্ত এলাকায় এখনও ঘন ঘন বাজার হয়নি সেখানেও কিয়ামত হওয়ার পূর্বে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্যে পরিণত হবে। কাজেই তাদের ব্যাখ্যা গ্রহণযোগ্য নয়।

আত্মীয়-স্বজনদের সাথে ভাল ব্যবহার করার উপর ইসলাম ধর্ম বিশেষ গুরুত্ব প্রদান করেছে এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখার নির্দেশ দিয়েছে। যারা এ সম্পর্ক নষ্ট করবে তারা জান্নাতে প্রবেশ থেকে বঞ্চিত হবে। আল্লাহ তা’আলা বলেনঃ

) فصل عصمت إن تولاتم أن تفسدوا في الأرض وتقطعوا أرحامكم أولئك الذين لعنهم الله فأصمهم وأعمى أبصارهم (

‘‘ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত হলে সম্ভবতঃ তোমরা পৃথিবীতে বিপর্যয় সৃষ্টি করবে এবং তোমাদের আতমীয়তার বন্ধন ছিন্ন করবে। আল্লাহ এদেরকেই করেন অভিশপ্ত আর করেন বধির ও দৃষ্টিশক্তিহীন’’। (সূরা মুহাম্মাদঃ ২২-২৩) নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আত্মীয়তার সম্পর্ক ঠিক রাখতে উৎসাহ দিয়েছেন এবং তা ছিন্ন করা থেকে সাবধান করেছেন। তিনি বলেনঃ আল্লাহ তাআলা মাখলূকাত সৃষ্টি শেষ করলে রক্ত সম্পর্কীয় আত্মীয়তার বন্ধন উঠে দাঁড়ালো এবং আল্লাহর দরবারে আরজ করে বললোঃ হে আল্লাহ! আপনার কাছে আত্মীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা হতে আশ্রয় চাই। আল্লাহ বললেনঃ ঠিক আছে; যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক মিলিত রাখবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক বজায় রাখবো। আর যে ব্যক্তি তোমার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবে আমিও তার সাথে সম্পর্ক ছিন্ন করবো। এতে কি তুমি সন্তুষ্ট নও? জবাবে আত্মীয়তার বন্ধন বললঃ হ্যাঁ, আমি সন্তুষ্ট আছি’’।[1] নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ

لا يددل الجنة قاطع رحم

‘‘আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্নকারী জান্নাতে প্রবেশ করবেনা’’।[2] তিনি আরো বলেনঃ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম) বলেছেন,

‘‘যে ব্যক্তি চায় তার রিজিক বৃদ্ধি হোক এবং বয়স বৃদ্ধি হোক সে যেন আত্মীয়তার সম্পর্ক বজায় রাখে’’।[3]

আখেরী যামানায় কিয়ামতের পূর্বে ইসলামের এই সুন্দর নিদর্শনটির প্রতি অবহেলা করা হবে। লোকেরা কারণে অকারণে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

ولا تقوم الساعة حتى يظهر الفحش وقرمعة

‘‘অশ্লীল কর্ম বিস্তার এবং আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট না করা পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা’’।[4]

রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর বাণী সত্যে পরিণত হয়েছে। এমন কোন ইসলামী সমাজ পাওয়া যাবেনা যেখানে আত্মীয়তার সম্পর্ক ছিন্ন করা হচ্ছেনা। মাসের পর মাস, বছরের পর বছর চলে যায়, অথচ লোকেরা তাদের আত্মীয়-স্বজনের খোঁজ-খবর রাখেনা। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায় একই গ্রাম কিংবা শহরে বসবাস করা সত্ত্বেও একে অপরের বাড়ীতে যাতায়াত করেনা। বিশেষ করে ধনীরা তাদের অসহায় আত্মীয়দের পরিচয় পর্যন্ত ভুলে যায়। কোন কোন ক্ষেত্রে হঠাৎ দেখা হয়ে গেলে চিনেও না চেনার ভান করে থাকে। (আল্লাহুল মুস্তাআন)

সাদা চুল-দাড়ি মেহদী বা অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর সুন্নাত। তিনি সাদা চুলকে কালো রং বাদ দিয়ে অন্য রং দিয়ে পরিবর্তন করতে আদেশ দিয়েছেন। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত, নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

‘‘ইয়াহুদী ও নাসারারা চুল ও দাড়িতে খেযাব লাগায় না। সুতরাং তোমরা খেযাব লাগিয়ে তাদের বিপরীত কর’’।[1] 

কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে লোকেরা এ আদেশ অমান্য করে কালো রং দিয়ে খেজাব (কলপ) লাগাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

‘‘আখেরী যামানায় একদল লোকের আগমণ হবে যারা সাদা চুল-দাড়ি কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করবে। তারা জান্নাতের গন্ধও পাবেনা’’।[2]

  হাদীছের ভাষ্য বাস্তবে পরিণত হয়েছে। পুরুষদের মাঝে দাড়ি ও মাথার চুল কালো রং দিয়ে পরিবর্তন করার প্রবণতা ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে।

কৃপণতা একটি নিকৃষ্ট অভ্যাস। আল্লাহ যাকে এই বদ অভ্যাস থেকে হেফাযত করবেন সে অবশ্যই সফলকাম হবে। আল্লাহ তাআলা বলেনঃ

গ্রহণযোগ্যতাও সম্ভব

‘‘যারা কার্পণ্য হতে নিজেদেরকে মুক্ত করেছে তারাই সফলকাম’’। (সূরা হাশরঃ ৯) ইসলাম সম্পদশীল লোকদেরকে আল্লাহর পথে ও ভাল কাজে সম্পদ খরচ করতে আদেশ করেছে এবং কৃপণতা করতে নিষেধ করেছে। কিন্তু কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে এই উম্মাতের ধনী লোকেরা দরিদ্র, অভাবী এবং ইয়াতীমদের জন্য খরচ করা থেকে বিরত থাকবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কৃপণতা বৃদ্ধি পাওয়া কিয়ামতের অন্যতম আলামত’’।[1]

অনেক পূর্বেই এই আলামতটি দেখা দিয়েছে। বর্তমানেও মুসলিম সমাজে এক শ্রেণীর লোক প্রচুর সম্পদের অধিকারী। অভাবী ও দরিদ্র লোকেরা অনাহারে-অর্ধাহারে তাদের চোখের সামনেই দিনাতিপাত করছে। অথচ খুব অল্প সংখ্যক সম্পদশালী লোকই এদিকে ভ্রুক্ষেপ করে থাকে।

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে মানুষের মধ্যে ব্যবসা-বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ 

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল এবং ভোক্তা সাধারণ সরকার

‘‘কিয়ামতের পূর্বে কেবল পরিচিত লোকদেরকেই সালাম দেয়া হবে।

ব্যবসা-বাণিজ্য ছড়িয়ে পড়বে। এমনকি স্ত্রীলোকেরা তাদের স্বামীদেরকে ব্যবসায়িক কাজে সহযোগিতা করবে’’।[1]

বর্তমানকালে এই আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। শহরে, গ্রামে-গঞ্জে এবং রাস্তার দ্বারে দ্বারে ব্যাপকভাবে দোকাপাট বৃদ্ধি পেয়েছে। মহিলারাও এতে পিছিয়ে নেই। তারাও স্বামীদের সাথে ব্যবসা-বাণিজ্যে অংশ নিচ্ছে। ধন-সম্পদ উপার্জন ও সঞ্চয়ে একে অপরের সাথে প্রতিযোগীতায় লিপ্ত রয়েছে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

প্রয়োজন চূড়ান্ত পরম পরিমাণ সময় প্রয়োজন

‘‘বেশী বেশী ভূমিকম্প না হওয়া পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা’’।[1] ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) বলেনঃ উত্তর, পূর্ব ও পশ্চিমাঞ্চলের অনেক দেশেই বহু ভূমিকম্পের আবির্ভাব হয়েছে। বর্তমানে আমরা প্রায়ই পত্র-পত্রিকা ও প্রচার মাধ্যমে বিভিন্ন দেশে ভূমিকম্পের খবর শুনতে পাই। হতে পারে এগুলোই কিয়ামতের আলামত হিসেবে প্রকাশিত হয়েছে। যদি তা না হয়ে থাকে তাহলে আমরা বলবোঃ এসব ভূমিকম্প কিয়ামতের আলামত হিসেবে প্রকাশিতব্য ভূমিকম্পের প্রাথমিক পর্যায় স্বরূপ। ২০০৫ ইং সালে শ্রীলংকা, ইন্দোনেশীয়া, থাইল্যান্ড ও ভারতসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশীয়ার কয়েকটি দেশে হয়ে যাওয়া সুনামীর ঘটনা কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার একটি সুস্পষ্ট আলামত।

আখেরী যামানায় যখন অশ্লীলতা ও পাপাচার ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পাবে তখন এই উম্মাতের কিছু লোককে বিভিন্ন প্রকার শাস্তিতে পাকড়াও করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

এই জাতির শেষ পর্যায়ে হিংস্র, বিকৃত এবং ejaculated হবে বলেন: আমি বলেন: হে আল্লাহর রসূল! আমরা কি ধার্মিকদের ধ্বংস করব? তিনি বলেন: হ্যাঁ, যদি লাঠি হাজির হয়

‘‘আখেরী যামানায় এই উম্মাতের কিছু লোককে ভূমিধস, চেহারা পরিবর্তন এবং উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করে শাস্তি দেয়া হবে। আয়েশা (রাঃ) বলেনঃ আমি বললামঃ হে আল্লাহর রাসূল! আমাদের মাঝে সৎ লোক থাকতেও কি আমরা ধ্বংস হয়ে যাবো? উত্তরে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ হ্যাঁ, যখন অশ্লীলতা বৃদ্ধি পাবে’’।[1] তিনি আরো বলেনঃ 

وقذف الإسلامية

‘‘কিয়ামতের পূর্বে ভূমিধস, চেহারা পরিবর্তন এবং উপরে উঠিয়ে নিক্ষেপ করার মাধ্যমে শাস্তি দেয়া হবে’’।[2]

আমাদের যামানায় এবং আমাদের পূর্ববর্তী যামানায় পূর্ব ও পশ্চিমের বিভিন্ন দেশে অনেক ভূমিধসের ঘটনা সংঘটিত হয়েছে। এটি কঠিন আযাবের পূর্ব সংকেত এবং আল্লাহর পক্ষ হতে তাঁর বান্দাদের  জন্যে ভীতি প্রদর্শন এবং গুনাহগার ও বিদআতীদের জন্য শাস্তি স্বরূপ। যাতে লোকেরা শিক্ষা গ্রহণ করে ও তাদের প্রভুর দিকে প্রত্যাবর্তন করে এবং এটাও বিশ্বাস করে যে, কিয়ামত অতি নিকটবর্তী।

গান-বাজনাতে মত্ত এবং মদ পানকারীদেরকে উপরোক্ত শাস্তি প্রদান করা হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

في هذه الأمة خفي ومسخ وقال فقال رجل من المسلمين يا رسول الله وما يحك قال في السماوات والمعازف والربع الخمور

‘‘এই উম্মাতের মধ্যে ভূমিধস, চেহারা বিকৃতি এবং উপর থেকে নিক্ষেপ করে ধ্বংস করার শাস্তি আসবে। জনৈক সাহাবী জিজ্ঞেস করলেনঃ হে আল্লাহর রাসূল! কখন এরূপ হবে? নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ যখন ব্যাপক হারে গায়িকা, বাদ্যযন্ত্র এবং মদ্যপানের প্রসার ঘটবে’’।[3]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আরো বলেনঃ ‘‘আমার উম্মতের একদল লোক মদ্যপানে লিপ্ত হবে। তবে মদের নাম পরিবর্তন করে অন্য নামে নামকরণ করবে। তারা বাদ্যযন্ত্র, বাঁশি বাজানো ও গান-বাজনা নিয়ে ব্যস্ত থাকবে। তাদের কতককে মাটির নীচে দাবিয়ে দেয়া হবে এবং অন্য এক দলকে শুকর ও বানরে পরিণত করা হবে’’।

পাপ কাজ ও নাফরমানীতে লিপ্ত হওয়ার কারণে আল্লাহ তাআলা বনী ইসরাঈলের এক শ্রেণীর লোকের চেহারা পরিবর্তন করে শুকর ও বানরে পরিবর্তন করে ধ্বংস করেছিলেন। তবে এই উম্মাতের মাঝে এখনও চেহারা পরিবর্তনের শাস্তি আসেনি। কিয়ামতের পূর্বে মানুষ যখন জেনা-ব্যভিচার, মদ্যপান এবং গান-বাজনাসহ নানা ধরণের পাপের কাজে লিপ্ত হবে তখন এই শাস্তি অবশ্যই আসবে। কারণ নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম সহীহ হাদীছে এ ব্যাপারে ভবিষ্যৎবাণী করেছেন। তা কিয়ামতের পূর্বে অবশ্যই বাস্তবায়িত হবে।

কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার অন্যতম আলামত হচ্ছে মুসলমানেরা কেবল পরিচিত লোকদেরকেই সালাম দিবে।[1] এ বিষয়টি বর্তমান যামানায় সুস্পষ্ট হয়ে দেখা দিয়েছে। অনেক লোকই পরিচিত ব্যতীত অন্য কাউকে সালাম দেয়না। এটি সুন্নাত বিরোধী কাজ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম পরিচিত-অপরিচিত সকল মুসলিমকেই সালাম দিতে বলেছেন। কেননা সালাম বিনিময় করা মুসলমানদের ভিতরে ভালবাসা সৃষ্টির অন্যতম মাধ্যম। তিনি বলেনঃ ‘‘তোমরা ঈমানদার না হয়ে জান্নাতে যেতে পারবেনা। আর একে অপরকে ভাল না বাসলে ঈমানদার হতে পারবেনা। আমি কি তোমাদেরকে এমন বিষয়ের সন্ধান দেবনা যা করলে তোমরা একে অপরকে ভালবাসতে পারবে? তোমরা বেশী করে সালামের প্রচলন করো’’।[2]

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে মহিলারা ইসলামী পোষাক পরিত্যাগ করে এমন পোষাক পরিধান করবে যাতে তাদের সতর ঢাকবেনা। তারা মাথার চুল ও সৌন্দর্য্যের স্থানগুলো প্রকাশ করে ঘর থেকে বের হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কিয়ামতের আলামত হচ্ছে মহিলাদের জন্য এমন পোষাক আবিস্কার হবে যা পরিধান করার পরও মহিলাদেরকে উলঙ্গ মনে হবে’’।[1] অর্থাৎ তাদের পোষাকগুলো এমন সংকীর্ণ ও আঁট-সাট হবে যে, তা পরিধান করলেও শরীরের গঠন ও সৌন্দর্যের স্থানগুলো বাহির থেকে সুস্পষ্ট বুঝা যাবে।

এই হাদীছটিতে নবুওয়াতের সুস্পষ্ট মু'জেযা রয়েছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম আজ থেকে প্রায় দেড় হাজার বছর পূর্বে যা বলেছেন তা আজ হুবহু বাস্তবায়িত হয়েছে।

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে আখেরী যামানায় মুমিন ব্যক্তির স্বপ্ন মিথ্যা হবেনা; বরং ঘুমন্ত অবস্থায় সে যা স্বপ্নে দেখবে তা সত্যে পরিণত হবে। যার ঈমান যত মজবুত হবে তার স্বপণও তত বেশী সত্য হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

এটি বাধ্যতামূলক যে নবী (শান্তি এবং আল্লাহ তাঁর উপর blessings) বলেন: "আমি যিনি সবচেয়ে করুণাময়।"

‘‘যখন কিয়ামত নিকটবর্তী হবে তখন মু’মিন ব্যক্তির স্বপ্ন মিথ্যা হবেনা। যে মু’মিন মানুষের সাথে কথা-বার্তায় সত্যবাদী হবে তাঁর স্বপ্ন বেশী সত্যে পরিণত হবে। মু’মিনের স্বপ্ন নবুওয়াতের পয়তাল্লিশ ভাগের একভাগের সমান। স্বপ্ন তিন প্রকার। (১) মু’মিনের সত্য স্বপ্ন আল্লাহর পক্ষ হতে সুসংবাদ স্বরূপ। (২) যে সমস্ত স্বপ্ন মনের ভিতর দুশ্চিন্তা আনয়ন করে তা শয়তানের পক্ষ থেকে। (৩) আর এক প্রকারের স্বপ্ন অন্তরের কল্পনা মাত্র। সুতরাং তোমাদের কেউ যদি স্বপ্নে অপছন্দনীয় কিছু দেখে সে যেন বিছানা থেকে উঠে নামাযে দাঁড়িয়ে যায় এবং স্বপ্নের কথা কারো কাছে প্রকাশ না করে’’।[1]

ইবনে আবি হামজাহ বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় মু’মিনের স্বপ্ন সত্য হওয়ার অর্থ এই যে, অধিকাংশ সময় স্বপ্নে যা দেখেছে তাই বাস্তবে পরিণত হবে। স্বপ্নের ব্যাখ্যার প্রয়োজন হবেনা। অথচ ইতিপূর্বে তা অস্পষ্ট হওয়ার কারণে ব্যাখ্যার প্রয়োজন হতো। ফলে কখনও ব্যাখ্যার বিপরীত হতো’’।

শেষ যামানায় স্বপ্ন সত্যে পরিণত হওয়ার কারণ এই যে তখন মুমিন লোকের সংখ্যা কমে যাবে। ফলে সে সময় মুমিন ব্যক্তি কোন সহযোগী

ও শান্তনা দানকারী খুঁজে পাবেনা। তাই সত্য স্বপ্নের মাধ্যমে তাকে শান্তনা দেয়া হবে।[2]

কোন্ যামানায় মুমিনের স্বপ্ন সত্যে পরিণত হবে তার ব্যাপারে আলেমদের কয়েক ধরণের বক্তব্য রয়েছেঃ

ক) এটি হবে কিয়ামতের পূর্বে যখন ইল্মে দ্বীন উঠিয়ে নেয়া হবে, ইসলামী শরীয়তের নাম-নিশানা মিটে যাবে এবং ফিতনা-ফাসাদ ও যুদ্ধ-বিগ্রহ সংঘটিত হবে।

খ) আখেরী যামানায় যখন মুমিনের সংখ্যা কমে যাবে এবং কুফর, পাপাচারিতা ও মূর্খতা ছড়িয়ে পড়বে তখন মুমিনের স্বপ্ন সত্যে পরিণত হবে। মুমিন লোকের সংখ্যা কমে যাওয়ার কারণে এক সময় তারা একাকীত্ব অনুভব করবে এবং নিজেদেরকে অসহায় মনে করবে। অন্য একজন মুমিনের সাথে বসে কথা বলার এবং মনের ভাব বিনিময় করার মানুষ খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে যাবে। এহেন কঠিন পরিস্থিতে স্বপ্নের মাধ্যমে মু’নিদেরকে শান্তনা প্রদান করা হবে।

গ) এটি হবে আখেরী যামানায় ঈসা (আঃ) আকাশ থেকে নেমে আসার পর। কারণ খোলাফায়ে রাশেদার যুগের পর ঈসা (আঃ)এর যামানা হবে সর্বোত্তম যামানা। সে যুগের মানুষ অত্যন্ত সত্যবাদী হবে। কাজেই তাদের স্বপ্নও সত্য হবে। (আল্লাহই ভাল জানেন)

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘তোমাদের কেউ যখন মসজিদে প্রবেশ করবে সে যেন বসার পূর্বে দুই রাকাত নামায পড়ে নেয়’’।[1] কিছু সংখ্যক লোক ব্যতীত কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে মুসলমানেরা এই গুরুত্বপূর্ণ সুন্নাতটির উপর আমল ছেড়ে দিবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কিয়ামতের আলামত হচ্ছে লোকেরা মসজিদের ভিতরে প্রবেশ করবে কিন্তু তাতে দু’রাকাত নামায পড়বেনা’’।[2]

মাসের প্রথম দিন আমরা চাঁদকে একেবারে চিকন ও সরু অবস্থায় উঠতে দেখি। কিন্তু কিয়ামতের নিকটবর্তী সময়ে চাঁদ প্রথম দিনেই অনেক বড় হয়ে উদিত হবে। দেখে মনে হবে এটি দুই দিন বা তিন দিনের চাঁদ। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কিয়ামত নিকটবর্তী হওয়ার আলামত হচ্ছে, চন্দ্র মোটা হয়ে উদিত হবে। বলা হবে এটি দুই দিনের চাঁদ’’।[1]

কিয়ামতের পূর্বে ব্যাপকভাবে মিথ্যা কথা বলার প্রচলন ঘটবে। এমনকি এক শ্রেণীর লোক নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর নামে মিথ্যা হাদীছ রচনা করে মানুষের মাঝে প্রচার করবে। বাস্তবে তাই হয়েছে। ইসলাম প্রচার ও তাবলীগের নামে বানোয়াট কিচ্ছা-কাহিনী ও জাল হাদীছ তৈরী করে এক শ্রেণীর লোক মানুষকে বিভ্রান্ত করছে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘আখেরী যামানায় আমার উম্মাতের কিছু লোক তোমাদের কাছে এমন কথা বর্ণনা করবে, যা তোমরাও শুননি এবং তোমাদের বাপ-দাদারাও শুনেনি। তোমরা তাদের থেকে সাবধান থাকবে। তারা যেন তোমাদেরকে বিভ্রান্ত করতে না পারে’’।[1]

হাদীছের ভাষ্য সত্যে পরিণত হয়েছে। বর্তমানকালে মানুষের মাঝে মিথ্যা কথা বলার অভ্যাস ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। যদি বলা হয় বর্তমানে একজন সত্যবাদী খুঁজে পাওয়া খুবই কঠিন তাতেও অতিরঞ্জিত হবেনা বলে মনে হয়। যাচাই-বাছাই না করেই মানুষকে বিভ্রান্ত করার জন্যে মিথ্যা সংবাদ প্রচার করতে লোকেরা মোটেও দ্বিধাবোধ করেনা। প্রচার মাধ্যমগুলো অনবরত মিথ্যা সংবাদ প্রচার করার কারণে সত্য-মিথ্যার মাঝে পার্থক্য করা কঠিন হয়ে যায়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

إن بين يدي الساعة شهادة الزور وكتمان شهادة الحق

‘‘কিয়ামতের পূর্বে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার প্রচলন ঘটবে এবং সত্য সাক্ষ্য গোপন করা হবে’’।[1] বর্তমান সমাজে সামান্য স্বার্থের বিনিময়ে মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়ার প্রচলন ব্যাপকভাবে দেখা দিয়েছে। অপর পক্ষে সত্যের সাক্ষী দেয়ার লোক খুব কমই পাওয়া যায়।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

من أشراط الساعة أن تكثر النساء وقل الرجال الإسلامي لكمنيم امرأة القيم الواحد

‘‘কিয়ামতের আলামত হচ্ছে, মহিলার সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে এবং পুরুষের সংখ্যা কমে যাবে। এমনকি পঞ্চাশ জন মহিলার দেখা-শুনার জন্য মাত্র একজন পুরুষ থাকবে’’।[1]

এই হাদীছের ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে যে, কিয়ামতের পূর্বে ফিতনার সময় ব্যাপক যুদ্ধ হবে। যুদ্ধে যেহেতু কেবল পুরুষেরাই অংশগ্রহণ করে থাকে তাই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে পুরুষেরা অকাতরে নিহত হবে। ফলে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে।

ইমাম ইবনে হাজার আসকালানী (রঃ) এই মতটিকে প্রত্যাখ্যান করে বলেনঃ হাদীছের প্রকাশ্য অর্থ হলো কোন কারণ ছাড়াই শুধু কিয়ামতের আলামত হিসেবে নারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে। আল্লাহ তাআলা আখেরী যামানায় পুরুষের তুলনায় বেশী নারী সৃষ্টি করবেন। বর্তমানেও এ আলামতটি প্রকাশিত হয়েছে। কোন কোন দেশে জরিপ করে দেখা গেছে পুরুষের তুলনায় নারীর সংখ্যা অনেক বেশী। ভবিষ্যতে আরো বৃদ্ধি পাবে। মোটকথা স্বভাবগত ও যুদ্ধ উভয় কারণে পুরুষের সংখ্যা কমতে পারে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ ‘‘কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে হঠাৎ করে মৃত্যুবরণকারীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাবে’’।[1]

বর্তমানে এরকম ঘটনা প্রায়ই শুনা যায়। দেখা যায় একজন মানুষ সম্পূর্ণ সুস্থ। হঠাৎ শুনা যায় সে মৃত্যু বরণ করেছে। সুতরাং মানুষের উচিৎ মৃত্যু আসার পূর্বেই আল্লাহর কাছে তাওবা করা এবং সকল প্রকার পাপ কাজ থেকে বিরত থাকা।

বর্তমানে আরব উপদ্বীপে কোন নদী-নালা নেই। গাছপালার সংখ্যা খুবই কম। চাষাবাদের উপযোগী ভূমির পরিমাণ অতি নগণ্য। কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে আরব উপদ্বীপের পরিবেশ পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং তা গাছপালা ও নদী-নালায় পরিপূর্ণ হয়ে যাবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

لا تقوم الساعة حتى تعود أرض العرب مروجا وأنهارا

‘‘ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যে পর্যন্ত না আরব উপদ্বীপ গাছপালা ও নদী-নালায় পূর্ণ হবে’’।[1]

হাদীছের প্রকাশ্য বর্ণনা থেকে বুঝা যাচ্ছে যে আরব দেশসমূহে কিয়ামতের পূর্বে পানির অভাব হবেনা। তাতে প্রচুর পরিমাণ নদী প্রবাহিত হবে। ফলে গাছ-পালা ও নানা উদ্ভিদ উৎপন্ন হবে এবং বন-জঙ্গলে ভরে যাবে।

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

আমি নিশ্চিত নই যে আপনি কি করতে চান।

‘‘ততদিন কিয়ামত হবেনা যতদিন না আকাশ থেকে প্রচুর বৃষ্টিপাত হবে। এতে মাটির তৈরী ঘরগুলো ভেঙ্গে পড়বে এবং পশমের ঘরগুলো রক্ষা পাবে’’।[1] তিনি আরো বলেনঃ

টাকা সম্পন্ন পেতে সক্ষম করার কোন প্রয়োজন নেই  

‘‘ততদিন কিয়ামত হবেনা যেপর্যন্ত না ব্যাপক বৃষ্টিপাত হবে। কিন্তু যমিনে কোন ফসলই উৎপন্ন হবেনা’’।[2] স্বাভাবিক নিয়ম হলো বৃষ্টির মাধ্যমে যমিনে ফসল উৎপন্ন হবে। কিন্তু কিয়ামতের পূর্বে স্বাভাবিক অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যাবে।

কিয়ামতের অন্যতম আলামত হচ্ছে ফুরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় বের হবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

যতক্ষণ না লা tqvm alsah yhsr ইউফ্রেটিস আল Jabal ডি zhb yqttl মানুষ মন আগামীকাল fyqtl মুখ TSH vtsvn শান্তি vyqvl আগামীকাল আসা minhum lly ভিক Acuna কে এ Anjou rujul

‘‘তত দিন পর্যন্ত কিয়ামত প্রতিষ্ঠিত হবেনা যতদিন না ফুরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের পাহাড় বের হবে। মানুষেরা এটি দখল করার জন্যে যুদ্ধে লিপ্ত হবে। এ যুদ্ধে শতকরা নিরানববই জনই নিহত হবে। তাদের প্রত্যেকেই বলবেঃ আমিই এযুদ্ধে রেহাই পাবো এবং স্বর্ণের পাহাড়টি দখল করে নিবো’’।[1] তিনি আরো বলেনঃ

(নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন:

‘‘অচিরেই ফুরাত নদী থেকে একটি স্বর্ণের গুপ্তধন বের হবে। সে সময় যে ব্যক্তি সেখানে উপস্থিত হবে সে যেন তা থেকে কোন কিছুই গ্রহণ না করে’’।[2]

কিয়ামতের পূর্ব মুহূর্তে হিংস্র প্রাণী এবং জড় পদার্থ মানুষের সাথে কথা বলবে। আল্লাহ রাববুল আলামীন মানুষকে কথা বলার শক্তি দিয়েছেন। তিনি অন্যান্য সৃষ্টিজীবকেও কথা বলার ক্ষমতা দিতে মোটেই অক্ষম নন। 

ইমাম আহমাদ (রঃ) আবু সাঈদ খুদরী (রাঃ) হতে বর্ণনা করেন, ‘‘জনৈক রাখাল মাঠে ছাগল চরাচিছল। হঠাৎ একটি নেকড়ে বাঘ এসে একটি ছাগলের উপর আক্রমণ করলো। রাখাল বাঘের পিছনে ধাওয়া করে ছাগলটি ছিনিয়ে আনল। বাঘটি একটি টিলার উপর বসে বলতে লাগলোঃ তুমি কি আল্লাহকে ভয় করোনা? আল্লাহ আমাকে একটি রিজিক দিয়েছিলেন। আর তুমি তা ছিনিয়ে নিলে। রাখাল বললঃ কি আশ্চর্য্য ব্যাপার! মানুষের ন্যায় বাঘও আমার সাথে কথা বলছে। বাঘ বললোঃ আমি কি তোমাকে এর চেয়ে আশ্চর্য্যজনক খবর দিবোনা? মদ্বীনায় মুহাম্মাদ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম অতীতে যা ঘটেছে এবং আগামীতে যা ঘটবে তা সম্পর্কে মানুষকে সংবাদ দিচ্ছে। রাখাল তার ছাগলের পাল নিয়ে মদ্বীনায় প্রবেশ করে ছাগলগুলো এক স্থানে রেখে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লামএর কাছে এসে ঘটনা খুলে বলল। এতক্ষণে নামাযের সময় হয়ে গেল। নামায শেষে রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম রাখালকে বললেনঃ ‘‘তুমি সবার সামনে ঘটনা খুলে বল’’। সে ঘটনা বর্ণনা শেষ করলে নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বললেনঃ রাখাল সত্য বলেছে। ঐ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ ততদিন পর্যন্ত কিয়ামত সংঘটিত হবেনা যতক্ষণ না হিংস্র প্রাণী মানুষের সাথে কথা বলবে। মানুষ তার হাতের লাঠির সাথে কথা বলবে, পায়ের জুতার সাথে কথা বলবে। এমনকি ঘরের স্ত্রী তার স্বামীর অনুপস্থিতে কি করছে শরীরের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ তাকে বলে দিবে’’।[1]

নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

এখন আপনাকে সর্বনিম্ন মূল্য দিতে হবে

‘‘ততদিন কিয়ামত হবেনা যতদিন না লোকেরা কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করবে এবং বলবেঃ হায় আফসোস! আমি যদি এ কবরের অধিবাসী হতাম’’।[1] তিনি আরো বলেনঃ ঐ আল্লাহর শপথ! যার হাতে আমার প্রাণ ততদিন দুনিয়া ধ্বংস হবেনা যতদিন না একজন লোক কবরের পাশ দিয়ে অতিক্রম করে তার উপর গড়াগড়ি করবে এবং বলবেঃ হায় আফসোস! আমি যদি এ কবরবাসীর স্থানে হতাম। ফিতনা ও মুসীবত সহ্য করতে না পেরেই সে এরূপ কথা বলবে।[2]

যখন ফিতনা বিস্তার লাভ করবে পৃথিবীর অবস্থা পরিবর্তন হয়ে যাবে এবং ইসলামী শরীয়ত মিটে যাবে তখন এ ধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে। যদিও এখনও এধরণের পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি কিন্তু যেহেতু এমর্মে সহীহ হাদীছ বর্ণিত হয়েছে তাই এটি অবশ্যই সংঘটিত হবে। আব্দুল্লাহ ইবনে মাসঊদ (রাঃ) বলেনঃ তোমাদের উপর এমন এক সময় আসবে তখন যদি কেউ মৃত্যু বিক্রি হচ্ছে বলে জানতে পারে তবে মৃত্যু ক্রয় করে নেয়ার চেষ্টা করবে।[3]

আখেরী যামানায় কাহতান গোত্র থেকে একজন সৎ লোক আগমণ করবে। মানুষ তাঁর নেতৃত্বে ঐক্য বদ্ধ হয়ে তাঁর আনুগত্য করবে। নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেনঃ

‘‘ততদিন কিয়ামত হবেনা যতদিন না কাহতান গোত্র থেকে একজন লোক বের হয়ে তার লাঠির মাধ্যমে লোকদেরকে পরিচালিত করবে’’।[1]

লাঠির মাধ্যমে জনগণকে পরিচালিত করার অর্থ হলো আখেরী যামানায় তার রাজত্ব প্রতিষ্ঠিত হবে। মানুষ তার আনুগত্য করবে। তিনি হবেন একজন সৎ লোক। হাদীছের ভাষ্য থেকে বুঝা যায় তিনি কঠোর হবেন। তবে সকলের বিরুদ্ধে কঠোরতা করবেন না। অপরাধীদের বিরুদ্ধেই কেবল তিনি কঠিন হবেন।[2]


Desktop Site