এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

. জাকির নায়েক, ‘রমযানশব্দটার সংজ্ঞা কি ?অনেকে রমযানুল মুবারকবলে এই মাসকে স্বাগত জানায়। এভাবে স্বাগত জানানোকে অনেকে বিদাত কেউ সুন্নত বলে।আপনি কিছু বলুন

 

ড. জাকির নায়েক, ‘রমযানশব্দটার সংজ্ঞা কি ?অনেকে রমযানুল মুবারকবলে এই মাসকে স্বাগত জানায়। এভাবে স্বাগত জানানোকে অনেকে বিদাত কেউ সুন্নত বলে।আপনি কিছু বলুন

রমজান শব্দটা এসেছে আরবী রামিদা  আর রামাদান থেকে এসেছে।যার অর্থ তীখ্ষ্ন, প্রখর,চোখা,আগুনে ঝলসানো। এটি আরো একটি আরবী শব্দ  ‘রামাদাহ’  থেকে এসেছে। এর অর্থ  ‘সূর্যের প্রখর তাপে গরম হয়ে যাওয়া বালি’ ।

ব্যাপক অর্থে রমযান বলতে, একজন রোযাদার রোযা রাখার ফলে, তার পাকস্থলীতে পিপাসার কারনে যে প্রখর তাপের সৃষ্টি হয়, সেটাকে বুঝানো হয়েছে। রমজানের আরেকটি অর্থ হল,  রমজান মুসলিমের ভাল কাজের কারন ও এটি মুসলিমের সকল গুনাহকে পুড়িয়ে দেয়।

রমযান মাস কাছে আসলে, নবী(স:) সিজেই মানুষকে  এটা জানাতেন এবং শুরু হলে তিনি স্বাগত জানাতেন, হে লোক সকল, বরকতময় রহমতের মাস নিকটবর্তী হয়েছে,আগমন করেছে’।‘রমযানুল মুবারক’ শব্দটা উপমহাদেশে ব্যাপক ভাবে প্রচলিত।

‘বরকত’ একটা আরবী শব্দ, যার অর্থ পবিত্র,কল্যানকর। উপসাগরীয় দেশগুলোতে স্বাগত জানানোর জন্য বলে, ‘রমজানুল করীম’। এগুলো সবই কল্যান,ক্ষমা ইত্যাদির অর্থে ব্যবহার করা হয়। কাজেই এটা বিদাত হবার কথা নয়।

মুসনাদে আহমদ-২য় খন্ড-২৪০ পৃষ্ঠা, সুনানে নাসায়ী-কিতাবুস সিয়াম-২১০৬

..................।

ডাঃ জাকির নায়েক,রমজান মাসে যারা মারা যাবে, তারা কি সবাই বেহেশতি ?

ডাঃ জাকির নায়েক,রমজান মাসে যারা মারা যাবেতারা কি সবাই বেহেশতি

“ওহে  লোকেরা তোমাদের মাঝে অসীম রহমতময় রমজান মাস সমাগত এবং আল্লাহ তোমাদেরকে এই মাসে রোযা রাখার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং এই মাসে জাহান্নামের দরজাগুলো বন্ধ ও জান্নাতের দরজাগুলো খুলে দেয়া হয়।

এবং শয়তানকে শৃংখলাবদ্ধ করা হয় এবং এই মাসেই কদরের রাত রয়েছে,যেটা হাজার রাতের চেয়ে উত্তম”। মুসনাদে আহমদ-খন্ড-২-পৃষ্ঠা২৩০-৭১৪৮, সুনানে নাসাঈ-রোযা-৫-২১০৬

“প্রত্যেক পূন্য কাজের জন্য রমজানে আল্লাহ এর প্রতিদান ১০ গুন পর্যন্ত বাড়ায়ে থাকেন।  মুহাম্মাদ (সঃ)

মূলতঃ  এই হাদিসগুলো থেকে  প্রশ্নগুলো এসেছে। বেহেসতের দরজা খোলা আর জাহান্নামের দরজা বন্ধ, কাজেই মানুষ মারা গেলে বেহেসতেই যাবে, এই ধরনের চিন্তা আসা স্বাভাবিক। তবে জান্নাতে যাবার জন্য অবশ্যই একটা শর্ত আছে, এটা আমাদের বুঝতে হবে। জান্নাতে যেতে হলে একটা টিকিট লাগবে আর এটা বলা আছে, সুরা ‘আল আসরে’।

মহান আল্লাহ বলেন,  “সময়ের শপথ, নিশ্চয় মানুষ ধ্বংসের ভিতরে রয়েছে কিন্তু তারা ব্যতীত যারা বিশ্বাস স্থাপন করে সতকর্ম করে এবং পরস্পরকে ধৈর্য এবং সত্যের দিকে আহ্বান করে”।  সুরা আল-আসর

ঈমাম শাফেয়ীর মতে কুরআনের এই সুরাটি এমন একটি প্রতিষেধক, যেটি সমস্ত মানব জাতির চিকিতসার জন্য যথেষ্ট।জান্নাএত যাবার জন্য প্রত্যেক মানুষে ৪টি শর্ত আছেঃ- ঈমান থাকা,সতকাজ করা,মানুষকে সত্যের দিকে আহ্বান করা ও ধৈর্য-ধারন করা।

সুতরাং এখান থেকে আমরা ধারনা করতে পারি,জান্নাতের দরজাগুলো যদিও খোলা থাকে, কিন্তু যে কেউ এর ভিতরে প্রবেশ করতে পারেনা।আপনাকে অবশ্যই টিকিট দেখাতে হবে।সেই টিকিট হোল আল-আসর ও সেটা রমজান মাসে এই টিকিট অর্জন করা খুবই সহজ।এই মাসে মুসলমানদে ঈমানের উচ্চতা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌছে যায়।“এই মাসের রাতের মর্যাদা হাজার মাসের সমতূল্য”। এতে বুঝা যায়, যদি কেউ রমযান মাসের একটি রাতে আল্লাহর ইবাদত করে তাহলে সে, হাজার মাসেরও বেশী সময় ধরে ইবাদত করার মর্যাদা পাবে এবং এটা প্রায় ৮০ বছরের ইবাদতের চেয়ে বেশী।বর্তমানে মানুষের গড় আয়ু ৬০ বছর হলে,একটি কদরের রাতই ৮০ বছরের চেয়ে বেশী।

সুতরাং এই মাসে, জান্নাতে যাবার সম্ভাবনা খুবই বেশী ও সহজ।যদি আপনি রমযান মাসের বাড়তি সুবিধা গ্রহন করতে না পারেন, তাহলে আপনি বন্চিত।হাদিসে এদের ‘মিসকিন’ বলা হয়েছে

............।।

রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল চালু করেছে হযরত ওমর(রাঃ) !

 

রমজানের রাতে কিয়ামুল লাইল চালু করেছে হযরত ওমর(রাঃ)

“এক রাতে হযরত মুহাম্মাদ(সঃ) মসজিদে গিয়ে দেখলেন, লোকেরা বিক্ষিত ভাবে একাকী রমযান মাসের কিয়ামুল লাইল আদায় করছে। তিনি নামাজে দাড়িয়ে গেলেন এবং লোকেরা তার পিছনে যোগ দিল।। পরের দিন এই সংবাদ প্রচার হয়ে গেল ও দ্বিতীয় রাতে মসজিদ পরিপূর্ন হয়ে গেল। বুখারী-তারাবী অধ্যায়- ২০১০

তৃতীয় রাতেও  মসজিদ কানায় কানায় পরিপূর্ন হয়ে গেল। চতুর্থ রাতে মসজিদের ভিতরে ও বাহিরে লোকেরা অপেক্ষা করতে লাগলো। কিন্তু তিনি আর সেদিন নামাজ পড়ালেন না। কারন তিনি মনে করলেন, উম্মতরা এটাকে ফরয মনে করে কিনা ?

আমরা জানতে পারলাম মুহাম্মা(সঃ) এই জামাতের সূচনা করেছেন ও এটা মহানবীর সুন্নত।হাদিসে বলা হয়েছে, “কোন এক সাহাবী বলেন, তিনি একদিন ওমর(রাঃ)-এর সাথে হাটছিলেন। দেখলেন যে, কিছু লোক একাকী ‘কিয়ামুল লাইল’ আদায় করছে। কিছু লোক ছোট ছোট দলে নামায পড়ছে।তখন ওমর(রাঃ) সবাইকে ডেকে একত্রিত করলেন এবঙ বল।লেন, ‘চলো আমরা জামা’আতে  নামায আদায় করি। তিনি উবাই বিন কাবকে(রাঃ)কে ইমাম নিয়াগ দিলেন ও সবাই তার পিছনে  নামায আদায় করলো।তারপর কিছুদিন পর যখন তিনি রাতে  মসজিদে এলেন, তিনি দেখলেন লোকজন ‘কিয়ামুল লাইল’ আদায় করছে।তিনি মন্তব্য করলেন ‘এই সময় যখন লোকজন ঘমিয়ে থাকে ,তখন নামায আদায় করা অধিক উত্তম’। বুখারী-অধ্যায়- তারাবী-২০১০

সুতরাং  হযরত উমর(রাঃ) এটা চালু করেননি।

 

 

ডা: জাকির নায়েক, রমজান মাসে কোন কাজগুলোর উপর বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ ?

ডা: জাকির নায়েক, রমজান মাসে কোন কাজগুলোর উপর বেশী গুরুত্ব দেয়া উচিৎ

রমজান মাসের প্রতিটা মুহুর্ত কাজে লাগানোর জন্য আপনাকে মাসের শুরুতেই একটা কাজের পরিকল্পনা নিতে হবে।রোজার সমস্ত সুন্নতগুলো একনিষ্ঠ ভাবে আদায় করতে হবে।

ক)   রোযা:-  রোযার জন্য নিয়ত অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ন। রোযা হবে শুধুমাত্র আল্লাহর জন্য।নিয়ত ছাড়া রোযা কবুল হবে না।আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্যই রোযা রাখতে হবে।

খ)  ইফতার:-  ইফতার তাড়াতাড়ি করতে হবে, সেহরী যথাসম্ভব দেরী করে খেতে হবে।

গ)  নিষিদ্ধ কাজ:-   সব ধরনের হারাম,মাকরুহ কাজ থেকে বিরত থাকতে হবে।যেমন সিগারেট খা ওয়া,নেশা করা,দাড়ায়ে পানি পান। দাড়ি রাখা,ঘর থেকে বের হবার,বাথরুমে যাবার,সফরে যাবার,যানবাহনে আরোহন ইত্যাদি  দোয়ার চর্চা  এই মাসে যদি শুরু করা গেলে, এটা সারা বছর পালন করতে সহজ হবে।

ঘ)  নামায:-  নামায বেশী করে পড়তে হবে। জামায়াতে নামায পড়ার অভ্যাস না থাকলে,এটা রমজানেই শুরু করতে হবে।

ঙ)  তারাবীর নামায:-  রমজানে বেশী গুরুত্বপূর্ন হোল তারাবীর নামায।তারাবীর নামায সুন্নত হবার কারনে অনেকে গুরুত্ব দেয় না। ফরজ না হলেও এটা অবশ্যই পড়তে হবে।বহু জায়গায় অত্যন্ত দ্রুতবেগে তারাবী পড়ানো হয়।মূলত: লক্ষ্য হোল, কুরআন শেষ করা।মুসল্লীরা যেন প্রতিটা শব্দ বুঝতে পারে,এভাবে  ধীরে পড়তে হবে। তারাবীর নামাজে সুরা ফাতেহার আয়াতগুলো আলাদা আলাদা করে পড়তে হবে। এভাবে পড়লে মহান আল্লাহ প্রতিটি আয়াতের উত্তর দেন।

চ)   ইতিকাফ:-  কারো পক্ষে সম্ভব হলে শেষ ১০ রোজা ইতেকাফ করবেন। ইতিকাফ অবস্থায় সমস্ত সামাজিক কাজকর্ম থেকে বিরত থাকতে হবে।

ছ) দোয়া করা:-  বেশী করে দোয়া করতে হবে।আল্লাহকে বেশী করে স্মরন করতে হবে। সবচেয়ে বেশী সময় দিতে হবে এটার পিছে।

জ) কুরআন পড়া:-  বেশী কুরআন পড়তে হবে। আরবী না জানলেও, আপনি যে ভাষা জানেন, সেই ভাষায় পড়েন।তাফসীর পড়ুন কুরআনের বিধি-নিষেধগুলো আপনার জানা হবে।প্রতিদিন ১ পারা করে পড়লে, সম্পূর্ন কুরআন পড়া শেষ হবে।

ঝ) হাদিস:-  এই মাসে হাদিস পড়ুন।বুখারী,মুসলিম পড়া ভাল। ‘সিয়াহ-সিত্তার’ অণ্য হাদিগুলোও পড়া যেতে পারে। রাসুলের জীবনী পড়ুন।

ঞ) যাকাৎ:-   রমজান যাকাৎ আদায় করার উপযুক্ত সময় ও এটা ফরয।যার নিসাব পরিমান অর্থ্যাৎ সাড়ে সাত তোলা পরিমান  স্বর্ন আছে, তাকে যাকাৎ অবশ্যই দিতে হবে।

অনেকে আছেন যারা সঠিক ভাবে যাকাৎ আদায় করেন না।বেশী দিলে ক্ষতি নাই কিন্তু কম আদায় করলে, পুরোপুরি যাকাৎ হবেনা। কাজেই এটা সতর্ক ভাবে করতে হবে।

ট)  খুশী থাকা:-  রমজান মাসে হাসি-খুশী থাকতে হবে।পরিবারকে বেশী সময় দিতে হবে।‘সদ্ব্যবহার’ এই মাসের জন্য গুরুত্বপূর্ন।আত্নীয়-স্বজনদের সাথে যোগাযোগ রাখা,প্রতিবেশীর সাথে ভাল ব্যবহার করা ইত্যাদি।কেউ কোন অন্যায় করে থাকলে, তাকে ক্ষমা করা কিংবা একই ভাবে ক্ষমা পাওয়ার আশা করতে হবে।

ঠ)  ইসলাহ বা আত্নসংশোধন:-  নিজের কিংবা অন্যের দুভাবেই চিন্তা করা যায়।সামাজিক পর্যায়েও হতে পারে।রমজানে দাওয়াতী(আল্লাহর দিকে আহ্বান করা)  কাজ করা সবচেয়ে প্রয়োজন।এটা মুসলিম/অমুসলিম সবার মাঝেই করা যেতে পারে।

...............।।

ইউসুফ চেম্বার to ডাঃ জাকির নায়েক- এক ব্যাক্তি নিজদেশে রোযা শুরু করলো,তারপর অন্য দেশে ভ্রমন করার জন্য গেল।দ্বিতীয় দেশে তার দুদিন পরে মাস শুরু হবে।এ অবস্থায় সে কি করবে ? কারন ভ্রমনরত দেশের হিসাবে রোজা করলে তার রোজা, ৩১/৩২ টা হয়ে যাবে।

 

ইউসুফ চেম্বার to ডাঃ জাকির নায়েক- এক ব্যাক্তি নিজদেশে রোযা শুরু করলো,তারপর অন্য দেশে ভ্রমন করার জন্য গেল।দ্বিতীয় দেশে তার দুদিন পরে মাস শুরু হবে।এ অবস্থায় সে কি করবে ? কারন ভ্রমনরত দেশের হিসাবে রোজা করলে তার রোজা, ৩১/৩২ টা হয়ে যাবে।

#  মুহাম্মাদ(সঃ)  বলেছেন, ‘তোমরা যখন নূতন চাদ দেখবে, তখন রোযা রাখবে এবং নূতন দেখলে রোযা  ছাড়বে’। বুখারী – ১৯০৭,১৯০৯

#  “ রোযা ঐদিনে আরম্ভ হবে যেদিন সকলে রোযা রাখবে, আর ঐদিন রোযা ভাংগবে ,যেদিন সকলে ভাঙ্গবে এবং কুরবানী করতে হবে ঐদিনে যেদিন সকলে কুরবানি করে”। তিরমিযী-৬৯৭

এখানে  সংঘবদ্ধ  ভাবে  রোযা পালন করতে বলা হয়েছে। একাকী করতে বলা হয়নি। সুতরাং  কোন ব্যাক্তিকে  রোযার জন্য ভ্রমনকালীন দেশের নিয়ম অনুসরন করতে হবে, যদিও তাকে ২/৩ টা  রোযা বেশী রাখতে হবে। যদি ভ্রমনকালীন দেশে রোজা  আগে আরম্ভ হয়, তাহলে তাকে তাদের সাথে  ঈদ করতে হবে। যদিও তার রোজা হয়তো ২৮টা। ঈদের পরে  তাকে অবশ্যই ১/২ টা রোজা রাখতে হবে। কারন রোজা কখনও  ২৮ টা হয়না। সুতরাং তাকে দুইটা রোজা ক্ষতিপূরন দিতে হবে।

............।

রোজা অবস্থায় সুরমা,পারফিউম-আতর,নাকের ড্রপ-জিভে কোন ওষুধ-ইনহেলার,বিভিন্ন প্রকার টেষ্ট,টুথপেস্ট ইত্যাদি ব্যবহার

 

রোজা অবস্থায় সুরমা,পারফিউম-আতর,নাকের ড্রপ-জিভে কোন ওষুধ-ইনহেলার,বিভিন্ন প্রকার টেষ্ট,টুথপেস্ট ইত্যাদি ব্যবহার

সুরমাঃ-   এ্যালকোহল যা আমাদের দেশে সুরমা নামে পরিচিত,এটা চোখে ব্যবহার করা সুন্নাত।রাসুল(সঃ) এটা ব্যবহার করতেন।

“হযরত আনাস(রাঃ) রাসুলের খাবার তৈরী করতেন।তিনি সুরমা ব্যবহার করতেন কিন্তু রাসুল(সঃ) কখনও নিষেধ করেননি, তিনি রোযা অবস্থায়ও নিশেধ করেননি”। সুনানে আবু দাউদ-২য় খন্ড-কিতাবুস সিয়াম- ২৩৭২

আতর-পারফিউমঃ-   আতর,পারফিউম যদি ধোয়ার মত না হয়(ধূপ), কেবল কাপড়ে তাহলে ব্যবহার করা যায়্। কারন ধোয়ার মত হলে, পেটে প্রবেশ করতে পারে।

নাকের ড্রপঃ-   নাকের ড্রপের ক্ষেত্রে যদি সেটা নাকের ভিতর দিয়ে পেটে নাযায়, তাহলে ব্যবহার করা যায়।কিছু ট্যাবলেট আছে, যেটা শুধু জিহ্বাতে ব্যবহার করা হয় ও এটা গিলে ফেলা হয়না। এগুলো ননিজায়েলারের জন্য এবং ২ প্রকার সমস্যার জন্য ব্যবহার করা হয়।

বিভিন্ন টেস্টঃ-  টেস্টের জন্য শরীর থেকে রক্ত নিলেও রোজা ভাংগবে না। খাদ্যের পরিপূরক হিসাবে কোন ইজেকসন নিল এসেটাতে রোজা ভেংগে যাবে। সাধারন ভাবে বেশীর ভাগ টেস্টই করা যায়।

টুথপেস্টঃ-  বেশীর ভাগ আলেমের মতে টুথপেস্ট ব্যবহার করা যায়।সতর্ক থাকতে হবে যেন, টুথপেস্টের কোন অংশ গিলে ফেলা না হয়।রাসুল মি- ওয়াক ব্যবহার নাযায়েজ বলেননি।

ইনহেলারঃ-  এ্যাজমা রোগের জন্য অক্সিজেন,ইনহেলার,ট্যাবলেট ইত্যাদি ব্যবহার করা হয়।অক্সিজেন,ইনহেলার কেবল ফুসফুসে প্রবেশ করে, বের হয়ে যায়। পেটে যাবার কোন সুযোগ নাই।আরেক ধরনের চিকিতসা ‘ডিপ্রেসাইজার’ করা হয়।এটি কয়েক প্রকার হতে পারেঃ- পার্টিকেলে এই ওষুধগুলো ঢুকানো হয় ও সুইচ চাপার কারনে এক ধরনের প্রেসার সৃষ্টি হয়।এভাবে ওষধগুলো ফুসফুসে ঢুকানো হয়।এভাবে ঢুকানোর ফলে এগুলো পেটে ঢুকার সম্ভাবনা থাকে।ফলে রোজা ভাংতে পারে।ক্যাপসুলে এক প্রকার পাওডার থাকে।যখন এই ক্যাপসুল পাত্রে রেখে প্রেসার দেয়া হয়, তখন তা নজেল/মাস্কের মাধ্যমে ফুসফুসে যায়।এভাবে কিছু অংশ পেটে যাবার সম্ভাবনা থাকে। ফলে ট্যাবলেট,ক্যাপসুলে রোযা ভেংগে যাবে।

..............................।।

মুহাম্মাদের(সঃ) প্রতি সপ্তাহের সোমবার,বৃহস্পতিবার এবং প্রত্যেক মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে রোযা নিয়ে বলুন।

 মুহাম্মাদের(সঃ) প্রতি সপ্তাহের সোমবার,বৃহস্পতিবার এবং প্রত্যেক মাসের ১৩,১৪,১৫ তারিখে  রোযা নিয়ে বলুন।

ক)  ডাঃ জাকির নায়েকঃ-  মুহাম্মাদ বলেছেন, “কেউ একজন তাকে জিজ্ঞাসা করলো, আপনি সোমবার, বৃহস্পতিবার রোযা রাখেন কেন ? তিনি বলেন দুইটি দিন আছে, যে দিনে আল্লাহকে  মানুষের আমলনামা দেখানো হয়। তাই আমি এই দুই দিন অধিক পছন্দ করেছি”।  মুসনাদে আহমদ-২

খ)  “এক ব্যাক্তি নবী করিমকে(সঃ) জিজ্ঞাসা করলো, আপনি সোমবার দিন কেন রোজা রাখেন ? তিনি জবাব দিলেন, কারন এই দিন আমি জন্ম-গ্রহন করেছিলাম ও এই দিনে কুরআন নাযিল হয়েছিল”।  মুসলিম-রোযা- ২০০৬

গ)  ১৩,১৪ ও ১৫  এই তিনটি দিন হোল পূর্ন চন্দ্রের দিন।

“তোমাদের উচিত, প্রত্যেক মাসের তিনদিন রোজা রাখা, এটা সারা বছর রোজা রাখার সমান”। সুনানে নাসাঈ –রোযা-২৪২৪,বুখারী-রোযা-১৯৭৫

 

মুসাফিরের জন্য রোযা রাখা নিষিদ্ধ নাকি ঐচ্ছিক ?

 মুসাফিরের জন্য রোযা রাখা নিষিদ্ধ নাকি ঐচ্ছিক

আল্লাহ বলেন,

রমযানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে , যা মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা সত্য –সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয় ৷

কাজেই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে রোযা রাখা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে ৷ ১৮৬ আল্লাহ তোমাদের সাথে নরম নীতি অবলম্বন করতে চান, কঠোর নীতি অবলম্বন করতে চান না ৷ তাই তোমাদেরকে এই পদ্ধতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন সে জন্য যেন তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে ও তার স্বীকৃতি দিতে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো ৷

সুরা বাকারা- ২.১৮৫

ক) মুহাম্মদ(স:) বলেছেন, “ ভ্রমন একটা শাস্তি, যখন কোন ব্যাক্তি ভ্রমন করে,তখন এটা তার জন্য শাস্তিস্বরুপ। ভ্রমন খুবই অসুবিধাজনক কারন ভ্রমনের  সময় তাকে অনেক বিপদ-আপদের ভিতর দিয়ে চলতে হয়”। বুখারী ,উমরাহ-১৮০৪

খ)  ‘সাহাবা হামজা(রা:) সবসময় রোযা রাখার ইচ্ছা করেছিলেন এমনকি ভ্রমনেও। একথা শুনে মুহাম্মাদ(সা:) বল্লেন, ভ্রমনে কেউ রোযা রাখতে পারো বা নাও পারো’। কেউ যদি ভ্রমনে কোন সমস্যায় না পড়ে, তাহলে সে রাখতে পারে।

বুখারী-রোযা হাদিস-১৯৪৩

মহান আল্লাহ বলেন, ‘এ কতিপয় নিদিষ্ট দিনের রোযা ৷ যদি তোমাদের কেউ হয়ে থাকে রোগগ্রস্ত অথবা মুসাফির তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোয় এই সংখ্যা পূর্ণ করে ৷ আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ আছে (এরপরও রাখে না)তারা যেন ফিদিয়া দেয় ৷ একটি রোযার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে খাওয়ানো৷ আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কিছু বেশী সৎকাজ করে , তা তার জন্য ভালো ৷ তবে যদি তোমরা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে থাকো ৷ তাহলে তোমাদের জন্য রোযা রাখাই ভালো’ ৷   বাকারা-১৮৪

গ)  হযরত আনাস(রা:) বলেন, “ যখন আমরা মুহাম্মা(স:)-এর সাথে ভ্রমনে যেতাম তখন আমাদের দলের কেউ কেউ রোযা রাখত আবার অনেকে রাকত না।কিন্তু যারা রোযা রাখতো তারা, যারা রাখতোনা তাদের সমালোচনা করতো।যারা রাখতোনা তারা রোযাদারদের সমালোনা করতো না”। বুখারী-রোযা হাদিস-১৯৪৭

ঘ)  আবু দারদা(রা:) হতে বর্নিত, ‘কোন এক সময়  হযরত মুহাম্মাদ(সা:)-এর সাথে আমরা ভ্রমন করছিরাম ও ভ্রমনটি খুবই কষ্টকর ছিল। পুরোদলে হযরত মুহাম্মাদ(স:) ও আবদুল্লাহ ইবনে রাওয়াহা(রা:)  ছাড়া আর কেউ রোযা ছিলেন না’।

মুসলিম –রোযা-২৪৯২

ঙ)   “মুহাম্মাদ(স:)-এর সাথে  একটি দল ভ্রমন করছিলো, যেখানে কিছু সাহাবী রোযা ছিলেন কিছু ছিলেন না। এই অবস্থায়  মুহাম্মাদ(স:) জানতে পালেন যে, রোযা তাদের জন্য কষ্টদায়ক হয়ে যাচ্ছে, তখন তিনি রোযা ভেংগে ফেল্লেন”।

মুসলিম-রোযা হাদিস-২৪৭২-৭৩

চ)  এসমস্ত হাদিস থেকে জানা গেল ভ্রমনে  রোযা রাখাকে মুহাম্মাদ(স:)  পছন্দ করতেন, যদি সেটা কষ্টকর না হয়ে দাড়ায়। বেশী প্রয়োজন হলে , রোযা ভেংগে  ফেলতেন।তবে ভেংগে ফেলা রোযা রমজান মাসের পরে সবগুলো পূরন করে দিতে হবে ।কিন্তু সেটা সম্ভব না হলে,  ফিদিয়া আদায় করতে হবে অর্থাৎ একজন অভাবগ্রস্থ মানুষকে খাওয়াতে হবে।  রমযানের  পরে কোন ব্যাক্তি যখন একাকী রোযা রাখে, তখন সেটা তার পরিবারের জন্য সমস্যার কারন হতে পারে। সুতরাং রোযা  রাখাই উত্তম।

...........................।

ডাঃ জাকির তারাবীর নামাজ ৮ রাকাত কিংবা ২০ রাকাত

তারাবীর নামাজ ৮ রাকাত কিংবা ২০ রাকাত

ডঃ জাকিরঃ

এক ব্যাক্তি মহানবীর কাছে জিজ্ঞাসা করলো, ‘কিয়ামুল  লাইল’ কিভাবে পড়বো ?  তিনি বল্লেন,এটা ২ রাকাত করে পড়া উচিত। যেমন ২ রাকাত,তারপর ২ রাকাত, তারপর ২ রাকাত এবং সূর্য  যখন উদিত হবার সময় হয়েআসবে ,তখন ১ রাকাত’। বুখারী-সালাত-৪৭২

এভাবে যতখুশী তত পড়া যাবে। তবে আমরা যদি মহানবীর দিকে দেখি,

তাহলে হাদীসে এসেছে,  “আয়েশা(রাঃ)-কে রাসুল(সঃ)-এর  রমযানের তারাবি নামাজ সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করা হলে, তিনি বলেন, মুহাম্মাদ(সঃ)  রমযান মাসে যখন কিয়ামুল লাইল বা তারাবীর নামাজ আদায় করতেন, তখন ১১ রাকাত আদায় করতেন এবঙ এর বেশী করতেন না।অন্য মাসে ৮ রাকা’আত  ‘কিয়ামুল লাইল’ এবং  ৩ রাকাত  বিতরের নামাজ আদায় করতেন।  বুখারী-তাহাজ্জুদ-১১৪৭

অনেক হাদীস আছে, যেখানে বলা হয়েছে, নবী করিম(সঃ)  ১১ রাক’আত(৮+৩) ‘কিয়ামুল লাইল’ আদায় করতেন।তবে যদি সাহাবী,সালফে সালেহীন ও তাবেয়ীনদের দেখি, তাহলে তারা ১১,১৩,১৯,২৩ ও ৩৯  এধরনের আদায় করতেন। আরেকটা হাদিসে আছে, “তাবেয়ীনরা রমযানের রাতে ২০ রাক’আত তারাবীহ আদায় করতেন। অন্যত্র বলা হয়েছে, তারা ৩৬ রাকাত আদায় করতেন। কিন্তু নবী করিম(সঃ)  ১১ রাকাত আদায় করতেন।তবে তিনি ২+২+২+ এভাবেও আদায় করতে বলেছেন। মুসান্নাফ ইবনে আবি শাইবা-পৃষ্ঠা-১৫৬,১৬৬

...............।।

ডাঃ নায়েক আপনি আমাদের এমন কোন সুন্নতের কথা বলবেন, যেটা মুসলমানরা ্রই ভেবে এড়ায়ে যাচ্ছে যে, এটা করলে তাদের রোযা বাতিল হয়ে যাবে ?

 

ডাঃ নায়েক আপনি  আমাদের এমন কোন সুন্নতের কথা বলবেন, যেটা মুসলমানরা ্রই ভেবে এড়ায়ে যাচ্ছে যে, এটা করলে তাদের রোযা বাতিল হয়ে যাবে ?

ক) “রোযাদারদের নিশ্বাসের গন্ধ আল্লাহর নিকট কস্তুরীর চেয়েও  উত্তম”।

বুখারী-খন্ড-৩-১৯০৪

অনেক মুসলিম মনে করে, যদি তারা মেসওয়াক করে, তাহলে তাদের মুখের দূর্গন্ধ চলে যাবে ও তারা আল্লাহর কাছে থেকে  যথেষ্ট পরিমান অনুগ্রহ পাবেনা। এর এটা বুঝে না, মেসওয়াক রোযাদারের নিঃশ্বাসের দূর্গন্ধ দূর করতে  সক্ষম হয় না। অবশ্যই এই গুরুত্বপূর্ন  সুন্নতটি করে যেতে হবে।

“আমার উম্মতের যদি কষ্ট না হোত তাহলে, আমি তাদের জন্য প্রত্যেক ফরয নামজের পূর্বে ওজু করার সাথে সাথে মেসওয়াক করাটাও ফরজ করে দিতাম”।  বুখারী-খন্ড-২- ৮৮৭

খ)  “ তোমরা রমজান মাস ছাড়া ওযু করার  সময় অধিক হারে নাসারন্ধ্রে পানি প্রবেশ করাও যাতে করে পবিত্র হতে পার”।  আবু দাউদ-২-২৩৬০

অনেকে মনে করে,নাকে পানি ঢুকালে পানি নাক থেকে গলায় যেয়ে ওযু ভেংগে যাবে। যদিও এধরনের সম্ভবনা খুবই কম।

.....................

ডাঃ জাকির, মুসলিমদের সুদকে বৈধ মনে করা নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির, মুসলিমদের সুদকে বৈধ মনে করা নিয়ে বলুন

রেবার অর্থ হোল এমন কিছু যেটা তার মূল্যের চেয়ে বেশী। এটা সুদকে অন্তর্গত করে। কুরআনে সুদের কথা কমপক্ষে ৮ বার এসেছে। মহান আল্লাহ বলেন,

ক)  “হে ঈমানদারগণ ! এ চক্রবৃদ্ধি হারে সুদ খাওয়া বন্ধ করো এবং আল্লাহকে ভয় করোআশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে “৷ সুরা আল-ইমরান-১৩০

খ)  “তাদের সুদ গ্রহণ করার জন্য যা গ্রহণ করতে তাদেরকে নিষেধ করা হয়েছিল এবং অন্যায়ভাবে লোকদের ধন-সম্পদ গ্রাস করার জন্য,আমি এমন অনেক পাক-পবিত্র জিনিস তাদের জন্য হারাম করে দিয়েছি,যা পূর্বে তাদের জন্য হালাল ছিল৷আর তাদের মধ্য থেকে যারা কাফের তাদের জন্য কঠিন যন্ত্রণাদায়ক শাস্তি তৈরী করে রেখেছি৷  সুরা নিসা-১৬১

গ) কিন্তু যারা সুদ খায় তাদের অবস্থা হয় ঠিক সেই লোকটির মতো যাকে শয়তান স্পর্শ করে পাগল করে দিয়েছে৷ তাদের এই অবস্থায় উপনীত হবার কারণ হচ্ছে এই যেতারা বলেঃ “ ব্যবসা তো সুদেরই মতো ৷” অথচ আল্লাহ ব্যবসাকে হালাল করে দিয়েছেন এবং সুদকে করেছেন হারাম ৷ কাজেই যে ব্যক্তির কাছে তার রবের পক্ষ থেকে এই নসীহত পৌছে যায় এবং ভবিষ্যতে সুদখোরী থেকে সে বিরত হয়সে ক্ষেত্রে যা কিছু সে খেয়েছে তাতো খেয়ে ফেলেছেই এবং এ ব্যাপারটি আল্লাহর কাছে সোপর্দ হয়ে গেছে ৷ আর এই নির্দেশের পরও যে ব্যক্তি আবার এই কাজ করে,সে জাহান্নামের অধিবাসী ৷ সেখানে সে থাকবে চিরকাল ৷  সুরা বাকারা-২৭৫

সুদ হোল একমাত্র গুনাহ, যার  বিরুদ্ধে আল্লাহ ও তার রাসুল(সঃ) যুদ্ধ ঘোষনা করেছেন। সুদের  সাথে জড়িত ব্যাক্তিদের শাস্তির ব্যাপারে হাদিসে বলা হয়েছে,

ঘ)  “ মুহাম্মাদ(সঃ) ঐ সমস্ত ব্যাক্তিকে সুদ-কারবারীর অংশীদার বলে ঘাষনা করেছেনযারা সুদ দেয়-নেয়,যে এর হিসাব রাখে এবং ঐদুজন যারা এর সাক্ষী থাকেতারা সকলেই একই শ্রেনীর অন্তর্ভূক্ত”। মুসলিম-৩৮৮১

ঙ)   “৭৩ প্রকারের সুদের গুনাহ আছে, যার মধ্যে  সর্বনিম্ন হোল নিজের মার সাথে যেনা করার সমান।“। মুসতাদরাক আল হাকিম- ২২৫৯

চ)  “যে ব্যাক্তি এক দিরহাম সুদ নিল সে যেন ৩৬ বার ব্যাভিচার করলো”।

মুসনাদে-পৃ ২২৫, জামিয়াহ- ৩৩৭৫

বর্তমানে পশ্চিমা বিশ্বে  সুদের ব্যবহার সব জায়গায়।গাড়ি,বাড়ি লোনসহ জীবনের সমস্ত জায়গার ভিত্তি হচ্ছে সুদ। এই সুদ-ভিত্তিক অর্থনীতি গরীবকে আরো গরীব,ধনীকে আরো ধনী বানাচ্ছে। ফলে সমাজে অস্থিরতা বাড়ছে। এগুলো শয়তানের কাজ। মহান আল্লাহ কুরআনে লাভ-ভিত্তিক অর্থনীতির সঠিক পথ দেখায়ে দিয়েছেন, যেটি একজন মানুষকে তার প্রয়োজনীয় সমৃদ্ধি দিতে পারে।

..................

ডাঃ জাকির নায়েকঃ কুরআন-হাদিসের আলোকে গান-বাজনা সম্পর্কে কিছু বলুন।

ডাঃ জাকির নায়েকঃ  কুরআন-হাদিসের আলোকে গান-বাজনা সম্পর্কে কিছু বলুন।

মুসলিম আলেমদের মধ্যে অধিকাংশ একমত যে, ইসলাম গান-বাজনা অনুমোদন করেনা। কিন্তু বাজনা নিষিদ্ধ করার বিষয়ে সরাসরি কোন  আয়াতে নির্দিষ্ট নিষেধাজ্ঞা পাওয়া যায় না। তবে কিছু নির্দেশনা পাওয়া যায়। মহান আল্লাহ বলেন,

“আর মানুষদেরই মধ্যে এমনও কেউ আছে,যে  অবান্তর  কথা  কিনে আনে লোকদেরকে জ্ঞান ছাড়াই  আল্লাহর পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য এবং এ পথের আহ্বানকে হাসি-ঠাট্টা করে উড়িয়ে দেয়৷ এ ধরনের লোকদের জন্য রয়েছে লাঞ্ছনাকর আযাব”। সুরা ‘লুকমান’-৬

অবান্তর কথা বলতে অনেক তফসীরে বলা হয়েছে, যেসব কোন জ্ঞ্যানের কথা না কিংবা কোন অর্থপূর্ন কথা না। গান-বাজনা ব্যাপারে প্রচুর হাদিস রয়েছে। সেগুলো পড়লে গান-বাজনার অবৈধতা নিয়ে কোন সন্দেহ থাকবেনা। মদ পান,যেনা ও রেশমের কাপড় পরার সাথে বাদ্যযন্ত্রের তুলনা করা হয়েছে।

ক)  “রাসুল(সঃ) বলেন, ‘আমার উম্মতগনের মধ্যে কিছুলোক থাকবে, যারা যিনা করবে,রেশমের পোশাক পরবে,মদ্যপান করবে ও বাদ্যযন্ত্র ব্যবহার করবে”।

সহীহ বুখারী-৭ম খন্ড-৫৫৯০

খ)  কিছু হাদিসে বাদ্যযন্ত্র জায়েয হবার বিসয়ে বর্ননা এসেছে। হযরত আয়েশা (রাঃ)  থেকে বর্নিত  “দুইজন শিশু বালিকা ‘দফ’ বাজাচ্ছিল ও গান করছিলো।তখন আবুবকর(রাঃ) আগমন করলেন ও তাদেরকে বল্লেন, তেমরা এটা বন্ধ কর।রাসুল(সঃ) তখন বিশ্রাম নিচ্ছিলেন ও এই ব্যাপারটি দেখে আবুবকরকে(রাঃ) বল্লেন, তাদেরকে তা করতে দাও। আজ তো ঈদের দিন”।

বুখারী-২য় খন্ড-৮৭, তিরমিযী-৩৬৯০

এই হাদিস  নির্দেশ করে যে,  ‘দফ’ যায়েজ, কিন্তু বাদ্যযন্ত্র হারাম।

ডাঃ জাকির নায়েক,রমযান মাসে যদি শয়তান শৃংখলাবদ্ধ থাকে, তাহলে মানুষ রমজান মাসে পাপ করে কিভাবে ?

ডাঃ জাকির নায়েক,রমযান মাসে যদি শয়তান শৃংখলাবদ্ধ থাকে, তাহলে মানুষ রমজান মাসে পাপ করে কিভাবে ?

রমযান মাসে যখন শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়,তখন তার পক্ষে মানুষকে কু-মন্ত্রনা দেবার সুযোগ থাকেনা।কিন্তু তরাপরও মানুষ পাপ করে কারন আছে।মনে করুন, একটা বাঘকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

সেই বাঘ আপনার ক্ষতি করতে পারবেনা।কিন্তু আপনি যদি বাঘের বেশী কাছে চলে যান,তাহলে ব্যাতিক্রম হতে পারে।আপনাকে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।

আল্লাহ বলেন, ‘তারা মানুষের অন্তরে কু-মন্ত্রনা দেয় এবং তারা আসে হয়তো মানুষ কিংবা জ্বিনের মধ্য থেকে”। সুরা নাস-৬

মহান আল্লাহ যে শয়তানকে বন্দী করে রেখেছে,সে হয়তো জিন জাতির সদস্য।কিন্তু মানুষের ভিতরের শয়তানতো সব সময়ই মুক্ত।কোন মানুষ যদি স্বেচ্ছায়, অপরাধ করতে এগিয়ে যায়, তাহলে তো কিছুই করার নাই।

..................।।

ডাঃ জাকির নায়েক,রমযান মাসে যদি শয়তান শৃংখলাবদ্ধ থাকে, তাহলে মানুষ রমজান মাসে পাপ করে কিভাবে ?

ডাঃ জাকির নায়েক,রমযান মাসে যদি শয়তান শৃংখলাবদ্ধ থাকে, তাহলে মানুষ রমজান মাসে পাপ করে কিভাবে ?

রমযান মাসে যখন শয়তানকে বন্দী করে রাখা হয়,তখন তার পক্ষে মানুষকে কু-মন্ত্রনা দেবার সুযোগ থাকেনা।কিন্তু তরাপরও মানুষ পাপ করে কারন আছে।মনে করুন, একটা বাঘকে বন্দী করে রাখা হয়েছে।

সেই বাঘ আপনার ক্ষতি করতে পারবেনা।কিন্তু আপনি যদি বাঘের বেশী কাছে চলে যান,তাহলে ব্যাতিক্রম হতে পারে।আপনাকে অবশ্যই নিরাপদ দূরত্বে থাকতে হবে।

আল্লাহ বলেন, ‘তারা মানুষের অন্তরে কু-মন্ত্রনা দেয় এবং তারা আসে হয়তো মানুষ কিংবা জ্বিনের মধ্য থেকে”। সুরা নাস-৬

মহান আল্লাহ যে শয়তানকে বন্দী করে রেখেছে,সে হয়তো জিন জাতির সদস্য।কিন্তু মানুষের ভিতরের শয়তানতো সব সময়ই মুক্ত।কোন মানুষ যদি স্বেচ্ছায়, অপরাধ করতে এগিয়ে যায়, তাহলে তো কিছুই করার নাই।

...............।।

ডাঃ জাকির নায়েক, মুহাম্মাদ(সঃ) ফরয রোযার বাইরে আর কোন রোযার ব্যাপারে তাগিদ করেছেন ?

 

ডাঃ জাকির নায়েক, মুহাম্মাদ(সঃ)  ফরয রোযার বাইরে আর কোন রোযার ব্যাপারে তাগিদ করেছেন ?

ক)  মুহাররাম মাসের আশুরার রোযা খ) আরাফার দিনের রোযা গ) জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের রোযা  ঘ)  শাওয়াল মাসের রোযা ঙ) শাবান মাসের রোযা চ)  নিষিদ্ধ মাসের রোযা  ছ)  প্রত্যেক  ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা  জ) সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা  ঝ)  বছরে অন্যান্য দিনের রোযা

এই রোযাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন  হচ্ছে, মাহাররমের ১০ তারিখের আশুরার রোযা।

১)   মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,  এক ব্যাক্তি তার কাছে জিজ্ঞাসা করলো  পাচ ওয়াক্ত নামাজের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন নামাজ কোনটি ও রমজানের রোযার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন রোযা কোনটি  ?  তিনি জবাব দিলেন নামায হোল ‘কিয়ামুল লাইল’ ও রোযা হোল  আশুরার দিনের রোযা।   মুসলিম রোযা – ২৬১২

২)  “মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,  “আশুরার দিনে রোযা রাখলে পূর্বের বছরের  সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে যায়”। তিরমিযী-রোযা- ৭৫২

৩)  ইবনে আব্বাস থেকে বর্নিত,  “মুহাম্মাদ(সঃ) মদীনায় পৌছে একজন ইহুদীকে জিজ্ঞাসা করলেন য, সে ১০ই মুহাররামের রোযা রাখে কিনা ? তখন মুহাম্মাদ(সঃ) বল্লেন, এই দিনে আল্লাহ বনী ইসরাইল জাতিকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন এবঙ তাদের নবী এই দিনে রোযা রেখেছিলেন। অতপরঃ তিনি এই দিনে মুষরমানদে র  রোযা রাখার নির্দেশ দেন”। বুখারী-রোযা-২০০৪

হাফসা(রা)  বলেন, “মুহাম্মাদ(সঃ)  কখনও  ৪টি জিনিস বাদ দিতেন না।সেগুলো হোলঃ-  ক) আশুরার দিনের রোযা খ)  যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের রোযা  গ) প্রত্যেক মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা  ও  ঘ)  ফজরের নামাযের আগে ২ রাকাত সুন্নত নামায।

ডাঃ জাকির নায়েক,রাসুলের (সঃ) ইফতারী। রোজা অবস্থায় মহিলাদের খাবার চেখে দেখা

ডাঃ জাকির নায়েক,রাসুলের (সঃ) ইফতারী। রোজা অবস্থায় মহিলাদের খাবার চেখে দেখ

ক)   রাসুল ইফতারীতে উত্তম খেজুর খেতেন। টাটকা খেজুর না পাওয়া  গেলে শুকনো খেজুর খেতেন। এটাই সুন্নাত।

সুনানে আবু দাউদ-২য় খন্ড-কিতাবুস সিয়াম-২৩৪৯

খ)  হযরত আব্বাস হতে বর্নিত “খাবারের কোন অংশ জিহ্বায় দিয়ে দেখলে, তাতে রোযা ভংগ হবেনা”। বুখারী-৩য় খন্ড-কিতাবুস সিয়াম- ২৫

হাদিসটি সহীহ বুখারীতে মুতাল্লাক। বায়হাকী সহীহ ইবনে সায়বা ও অন্যান্য হাদিসে সহীহ হিসাবে বর্ননা করা হয়েছে। ইবনে আব্বাস(রাঃ)  আরো বলেন, রান্নার স্বাদ ও লবন চেখে দেখা রোযার জন্য ভাল। কিন্তু খাদ্য যেন, গলার মধ্যে প্রবেশ না করে।

ইবনে আব্বাস(রা), ইমাম হাম্বল(রাঃ) ,ইবনে তাইমিয়া(রা) প্রমুখ শুধু প্রয়োন হলেই করতে বলেছেন। অন্যথায় এটা মাকরুহ।মা তার সন্তানকে খাওয়া চিবায়ে দিতে পারবে রোযা থাকা অবস্থায়।

 

ডাঃ জাকির নায়েক, মুহাম্মাদ(সঃ) ফরয রোযার বাইরে আর কোন রোযার ব্যাপারে তাগিদ করেছেন ?

 

ডাঃ জাকির নায়েক, মুহাম্মাদ(সঃ)  ফরয রোযার বাইরে আর কোন রোযার ব্যাপারে তাগিদ করেছেন ?

ক)  মুহাররাম মাসের আশুরার রোযা খ) আরাফার দিনের রোযা গ) জিলহজ্জ মাসের প্রথম দশ দিনের রোযা  ঘ)  শাওয়াল মাসের রোযা ঙ) শাবান মাসের রোযা চ)  নিষিদ্ধ মাসের রোযা  ছ)  প্রত্যেক  ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা  জ) সপ্তাহের সোমবার ও বৃহস্পতিবারের রোযা  ঝ)  বছরে অন্যান্য দিনের রোযা

এই রোযাগুলোর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ন  হচ্ছে, মাহাররমের ১০ তারিখের আশুরার রোযা।

১)   মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,  এক ব্যাক্তি তার কাছে জিজ্ঞাসা করলো  পাচ ওয়াক্ত নামাজের পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন নামাজ কোনটি ও রমজানের রোযার পর সর্বাধিক গুরুত্বপূর্ন রোযা কোনটি  ?  তিনি জবাব দিলেন নামায হোল ‘কিয়ামুল লাইল’ ও রোযা হোল  আশুরার দিনের রোযা।   মুসলিম রোযা – ২৬১২

২)  “মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,  “আশুরার দিনে রোযা রাখলে পূর্বের বছরের  সকল গুনাহ ধুয়ে-মুছে যায়”। তিরমিযী-রোযা- ৭৫২

৩)  ইবনে আব্বাস থেকে বর্নিত,  “মুহাম্মাদ(সঃ) মদীনায় পৌছে একজন ইহুদীকে জিজ্ঞাসা করলেন য, সে ১০ই মুহাররামের রোযা রাখে কিনা ? তখন মুহাম্মাদ(সঃ) বল্লেন, এই দিনে আল্লাহ বনী ইসরাইল জাতিকে শত্রুর হাত থেকে মুক্ত করেছিলেন এবঙ তাদের নবী এই দিনে রোযা রেখেছিলেন। অতপরঃ তিনি এই দিনে মুষরমানদে র  রোযা রাখার নির্দেশ দেন”। বুখারী-রোযা-২০০৪

হাফসা(রা)  বলেন, “মুহাম্মাদ(সঃ)  কখনও  ৪টি জিনিস বাদ দিতেন না।সেগুলো হোলঃ-  ক) আশুরার দিনের রোযা খ)  যিলহজ্জ মাসের প্রথম ১০ দিনের রোযা  গ) প্রত্যেক মাসের ১৩,১৪ ও ১৫ তারিখের রোযা  ও  ঘ)  ফজরের নামাযের আগে ২ রাকাত সুন্নত নামায।

............।।

ডাঃ জাকির নায়েক,খাওয়া,অভ্যর্থনা ও ভাল কাজের জন্য শুধু ডান হাত ব্যবহার করতে বলা হয়েছে, কিছু বলুন।

ডাঃ জাকির নায়েক,খাওয়া,অভ্যর্থনা ও ভাল কাজের জন্য শুধু ডান হাত ব্যবহার করতে বলা হয়েছেকিছু বলুন।

খাওয়া,অভ্যর্থনা ও ভাল কাজের জন্য শুধু ডান হাত ব্যবহার করতে বলা হয়েছে। বাম হাতের সম্পর্কে কিছু বলুন।

ডাঃ জাকির নায়েকঃ-  এটা মুস্কাহাব, মুহাম্মাদের(সঃ) সুন্নাত অনুযায়ী  ভাল কাজগুলো  ডান হাত দিয়ে করতে হবে। পায়জামা পরা,হাটার জন্য প্রথমে ডান পা ব্যবহার করতে হবে। ডান দিক থেকে খেতে হবে,মসজিদে ডান-পা দিয়ে প্রবেশ করতে হবে।নখ কাটা,টয়লেট(বের হওয়া),চোখে সুরমা,মিসওয়াক ইত্যাদি করার সময় ডা-পা ব্যবহার করতে হবে।

এগুলো সুন্নাত। অসম্মানজনক কাজ  বাম দিক থেকে করতে হবে। যেমন জামা খোলা,মসজিদ ত্যাগ করা, টয়লেটে ঢুকা,শরীর পরিস্কার,নাক-পরিস্কার ইত্যাদি।

ক)  “রাসুল(সঃ)  তরুন বালকদের বলেছেন, খাওয়ার আগে বিসমিল্লাহ বলো,ডান হাত দিয়ে খাও এবং প্রথমে সেটি খাও যেটি তোমার ডান পাশে রেয়েছে”।

বুখারী-৫৩৭৬

খ)  “ বাম হাত দিয়ে খাওয়া ও পান করোনা। কারন শয়তান এরুপ করে থাকে”।

মুসলিম-৫০১০

গ)  “ওযু ও পোশাক পরার সময় ডান হাত ব্যবহার করো”।আবু দাউদ-৪১২৯

ঘ)  “ খাওয়া ও ওযু করতে ডান হাত ব্যবহার করা উচিত।তারপর বাম দিক এবং যদি ধৌত করতে হয় তবে বাম দিক থেকে করতে হবে”। আবু দাউদ-৩৩

ঙ)  “ ধৌত করার সময় তোমার ডান হাত ব্যবহার কোরনা”।  মুসলিম-৫০৪

চ)  কিন্তু আমরা যখন খাবার খাই, তখন ডান হাত ব্যবহার করি। অনেক লোক আছে,ডান হাত ময়লা হবার কারনে, বামদিয়ে গ্লাস ধরে। কিন্তু সুন্নাহ অনুসরন করার জন্য ডান হাতের পীঠ স্পর্শ করায়। কিন্তু শেখ নাসিরউদ্দিন আলবানির মতে, নিজের অন্তরকে নোংরা করার চেয়ে গ্লাস নেংরা করা ভাল।

ছ)   ‘মেডিকাল সায়েন্স’ বলে যে, ব্রেনের বাম পাশ শরীরের ডা দিক নিয়ন্ত্রন করে আর ব্রেনের ডান পাশ করে বাম দিক। ৯০% এরও বেশী লোক এজন্য ডানহাতি।ার ইসলাম ডান হাত দিয়ে শুধু ভাল কাজগুলো করতে বলে। তবে বামহাতটিও যেন যথাযথ ভাবে ব্যবহার করা হয়।

......

ডাঃ জাকির নায়েক, রমযান মাসে মুসলমানদের একই ভুল করা ও এর কারন বলুন

ডাঃ জাকির নায়েক, রমযান মাসে মুসলমানদের একই ভুল করা ও এর কারন বলুন

আলহামদুলিল্লাহ। এর প্রধান কারন,  মহান আল্লাহর বানীগুলো কুরআন/ হাদীস বুঝে পড়েনা।

“যারা আমার জন্য সংগ্রাম- সাধনা করবে তাদেরকে আমি আমার পথ দেখাবো৷ আর অবশ্যই আল্লাহ সৎকর্মশালীদেরই সাথে আছেন”৷

সুরা-আন-কাবুত-  ২৯/৬৯

যে ব্যাক্তি আল্লাহর পথে চলার চেষ্টা করছে, সে আসলে আল্লাহর পথে জেহাদ করছে। এই অবস্থায় আল্লাহর অহী সব জেহাদকারীদের জন্য পথপ্রদর্শন করে। এই মানদন্ডটি আল্লাহকে সন্তুষ্ট করার জন্য আমাদের প্রয়োজন।

“হে মুহাম্মাদ!তোমার আগে আমি যখনই রসূল পাঠিয়েছি, মানুষই পাঠিয়েছি,যাদের কাছে আমি নিজের অহী প্রেরণ করতাম৷যদি তোমরা নিজেরা না জেনে থাকো তাহলে জ্ঞ্যানীদের জিজ্ঞেস করো৷ সুরা নাহল-৪৩/৩৯

আমরা এমন এক জাতি যেখানে অগনিত ধর্ম-বিশেষজ্ঞ আছেন।সুতরাং ধর্মের যেটা আমাদের জানা নাই, সেটা তাদের থেকে জেনে নেয়া আমাদের পালনীয় দায়িত্ব। মূলতঃ এই জানার ব্যাপারে গাফিলতি ও অসাবধানতা মুসলমানদের একই ধরনের ভুলের মধ্যে রাখছে। ভুলগুলোকে ৪টি শ্রনীতে ভাগ করা যায়ঃ-

প্রথম শ্রেনীঃ

১)  রোযার নিয়তঃ-  রোযাদার রোযা রাখার জন্য নিয়ত করেনা। নিয়ত খুবই গুরুত্বপূর্ন।এটা ছাড়া রোযা গ্রহনযোগ্য হবেনা।

২)  সেহেরীঃ-  অনেক সময় মুসলমানরা ফজরের আজান শুরু হলে এমনকি আজানের পরও খেতে থাকে,যদিও তারা আজানের আগে খাবার সময় পেয়েছিল। তারা মনে করে, আজান শেষ হওয়া পর্য্যন্ত  খাবার সময় থাকবে। কিন্তু আজান শুরু হবার সাথে সাথেই, খাবার সময় শেষ হয়ে যায়।

৩)  যাকাত/ফিতরাঃ-  এগুলো  দিতে অযথা সময় নষ্ট করে। কেউ কেউ এটা ঈদের নামাযের পরে দেয়। পরবর্তীতে এটা নিয়মে পরিনত হয়ে যায়।

দ্বিতীয় শ্রেনীঃ

৪)   সেহরীঃ-  কিছু লোক আছে যারা সেহরী গ্রহন করেনা। কিছু সময়ের অনেক আগেই সাহরী গ্রহন করে। যতটা সম্ভব দেরী করে সাহরী খেতে হবে এবং এটা অবশ্যই ফজরের আজান শুরু হবার আগেই করতে হবে।

৫)  ইফতারঃ-  কিছু রোযাদার আছে যারা ইফতার করতে দেরী করে।অবহেলা করে যদিও সময় আসন্ন।

“ ওই ব্যাক্তি উত্তম যে যথাসময়ে ইফতার করে”।

৬)   অশুদ্ধ দোয়াঃ-  অনেক রোযাদার অশুদ্ধ দোয়া পড়ে। সবচেয়ে শুদ্ধ দোয়াঃ-

“যাহাবা জাম’আ ওয়া ইয়াবতাল্লালাতি রুকু ওয়াসাবাতিল আরয ইনশাআল্লাহ”।

অর্থঃ-  “আমার পিপাসা নিবারিত হয়েছে।আমার ক্ষুধা নিবারিত হয়েছে”।

কিছু  লোক আছে, ইফতারের আগেই এটা পড়ে ফেলে। আগে পড়া দোয়ার বিরুদ্ধে চলে যায়।  কারন ইফতার না করার আগে তো পিপাসা কিংবা ক্ষুধা কোনটাই নিবারন হবেনা। তাই সামান্য পানি, খেজুর কিংবা ইফতারের শেষে দোয়া পড়া উচিত।

৭)  ইফতারের পরিমানঃ-  কিছু রোযাদার আছে যারা ইফতারের সময় অতিরিক্ত খায়। এটাকে রাতের খাবার হিসাবে বিবেচনা করে।

৮)  তারাবীঃ-  অনেক রোযাদার তারাবীর নামাজকে অবহেলা করে, যেহেতু এটা ফরয নয়।কিন্তু এটা ‘সুন্নতে মুয়াক্কাদা’। জরুরী নয় এই চিন্তা থেকে সে অনেক বড় পুরস্খার থেকে বন্চিত হোল।

৯)  তারাবী দ্রুত পড়াঃ-  অনেক মসজিদে তারাবী দ্রুত পড়ায়। তারা অল্প সময়ের ভিতরে শেষ করে, তারাবীর আসল উদ্দেশ্যেকেই প্রশ্নবিদ্ধ করে তোলে।এটা মাঝারি গতিতে পড়ানো উচিত।

১০)  ই’তেকাফঃ-  অনেক মুসলিম আছেন যারা মসজিদে এ’তেকাফে বসে সামাজিক কাজে অংশগ্রহন করে। যদিও এই সময়ে লোকজন,বন্ধু,ইথ্যাদির সাথে মেলামেশা সুন্নতের পরিপন্থী।

১১) লাইলাতুল কদরঃ-  অনেক মুসলিম ধরে নেয়, রমযান মাসের ২৭ তারিখের রাতে লায়লাতুল কদর। মহানবী(সঃ) বলেচেন, তোমরা রমযান মাসের শেষের ১০ দিনের বিজোড় রাতগুলোতে কদর তালাশ কর।

১২)  শুধুই রোজাঃ-  অনেকে রোজা রাখে,কিন্তু আল্লাহর ইবাদত কিংবা তাকে স্মরন না করে, অন্য কাজে সময় নষ্ট করে। তাদের উচিত ফরয নামাজের সাথে সুন্নত,নফল  নামাজগুলো আদায় করা।

১৩)  দোয়া চাওয়াঃ- অনেকে আছেন দোয়া চান না। সকলের উচিত আল্লাহর কাছে মাফ চাওয়া, তওবা করা। কারন এটা রহমতের মাস। যত বেশী সম্ভব কোরআন পাঠ করবে।

তৃতীয় শ্রনীঃ-

১৪)   ফরয কাজঃ-  অনেকে রাত গভীর হবার আগেই সাহরী খেয়ে ফেলে ও ফজরের নামায না পড়েই ঘুমিয়ে যায়।ফজরের নামায না পড়া তাদের জন্য সাধারন ব্যাপার। অনেকে আছেন যারা সারা রাত জেগে থাকেন কিন্তু দিনে নামাজ মসজিদে না পড়ে কিংবা  নামাজ না পড়ে, সারাদিন ঘুমায়। অথচ সালাতসহ প্রতিটা কাজই সঠিক সময়ে করতে হবে।

১৫)  যাকাতঃ-  কেউ আছে যাকাত দেয়না। কেউ আছে, সঠিক হিসাব না করে অনুমানের ভিত্তিতে যাকাত দেয়।

১৬)  ব্যবহারঃ-  রমযান মাসে পরনিন্দা, কুতসা-রটনা, মিথ্যা কথা,গালাগালি করা,বাজে শব্দ ব্যবহার করা, অপব্যাখ্যা,গল্প-গুজব,আড্ডা, ভিত্তিহীন প্রতিক্রিয়া ব্যাক্ত করে।

১৭)  গান-সিনেমাঃ-  অনেকে গান,চলচ্চিত্র, অনৈসলামিক পত্রিকা, বাজে(ধর্মীয় না) ওয়েব সাইট ইত্যাদিতে সময় নষ্ট করে।

১৮)  অনেকে প্রচুর ব্যায় ও ভোগ করে থাকে।

চতুর্থ শ্রেনীঃ

১৯)  খেলা-ধূলাঃ-  বিভিন্ন ধরনের টুর্নামেন্ট খেলা-ধূলা ইত্যাদিতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায়, দুনিয়ামুখী হয়ে আল্লাহ থেকে দূরে সরে যেতে থাকে।

২০)  ইফতার পার্টিঃ  বিভিন্ন  জায়গায়  জমকালো  ইফতার পার্টির আয়োজনে ব্যস্ত হয়ে পড়ে, রমজান মাস থেকে দূরে সরে যায়। আবার দেখানোর জন্যও ইফতার পার্টির আয়োজন করা হয়। অনেকে বিভিন্ন ধরনের ইফতার তৈরীর জন্য বলে, বাড়ীর মহিলাদের ব্যস্ত রাখে। ফলে বাড়ীর সবাই ব্যস্ততার ফলে ইবাদত করতে পারেনা।

২১)  শপিং-এঃ-  অনেকে রমজানে বিভিন্ন ধরনের কেনা-কাটায় ব্যস্ত হয়ে পড়েন। অনেকে রাতে-দিনে নিজের দোকানে ব্যবসাতে ব্যস্ত হয়ে পড়ে। কারন রমজানেই বেশী ব্যবসা হয়।তারাবীর নামাজের পর এক শ্রেনীর মানুষ  গল্প-গুজব করে সময় নষ্ট করে। এভাবে বিভিন্ন ধরনের অতিরিক্ত  ব্যস্ততার কারনে রমজান মাস ও আল্লাহ  থেকে দূরে চলে যেতে থাকে। পরবর্তীতে এটাই তাদের লাইফ-স্টাইল হয়ে যায়।

............।।

ডাঃ জাকির নায়েক, পুরুষদের জন্য গোড়ালীর নীচে কাপড় পরা

ডাঃ জাকির নায়েকপুরুষদের জন্য গোড়ালীর নীচে কাপড় পরা

ডাঃ জাকির নায়েক, পুরুষদের জন্য গোড়ালীর নীচে কাপড় পরা কি হারাম

পুরুষদের জন্য  গোড়ালীর নীচে কাপড় পরা কবীরা গুনাহ।দূর্ভাগ্যজনকভাবে  অনেক মুসলিম এই গুনাহর দিকে যথেষ্ট পরিমান নজর দেয় না। তারা তাদের পায়জামা দিয়ে ঘরের মেঝে ঝাড় দেয়।  মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,

ক)  “পায়জামার যতটুকু অংশ গোড়ালীর  নীচে যায়, ততটুকু অংশ জাহান্নামের আগুন দিয়ে পোড়ানো হবে”। বুখারী-৫৭৮৭

খ)  “কিয়ামতের দিন মহান আল্লাহ ঐ ব্যাক্তির দিকে ফিরেও তাকাবেন না,যে ব্যাক্তি গোড়ালীর নীচে পায়জামা  পরে এবং গর্বের সাথে চলা-ফেরা করে”।

বুখারী-৫৭৮৮, আবু দাউদ-৪০৮৩

এটা কবীরা গুনাহ।গোড়ালীর নীচে কাপড় পরা মানুষকে অহংকারী ও উদ্ধত করে তোলে।অহংকার করা হারাম। অনেকে বলেন, আমি গোড়ালির নীচে পায়জামা পরি, কিন্তু অহংকার বোধ করিনা। কিন্তু একথা ভুল। মূলতঃ  নবী(সঃ)  সাহাবীদের গোড়ালীর উপরে কাপড় পরার নির্দেশ দিয়েছিলেন। কাজেই এটা একটা নির্দেশ।

............।।

ডাঃ জাকির নায়েক, পুরুষ-নারীর পোশাকের ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কি ?

ডাঃ জাকির নায়েক, পুরুষ-নারীর পোশাকের ব্যাপারে শরীয়তের বিধান কি

আল্লাহ প্রথমে পুরুষ ও নারীর জন্য জন্য হিজাবের কথা বলেছেন। মহান আল্লাহ বলেন,

“নবী ! মু’মিন পুরুষদের বলে দাও তারা যেন নিজেদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে  এবং  নিজেদের লজ্জাস্থানসমূহের হেফাজত করে ৷ এটি তাদের জন্য বেশী পবিত্র পদ্ধতি ৷ যা কিছু তারা করে আল্লাহ তা জানেন” ৷ সুরা নূর-৩০

“আর হে নবী! মু’মিন মহিলাদের বলে দাও তারা যেন তাদের দৃষ্টি সংযত করে রাখে  এবং তাদের লজ্জাস্থানগুলোর হেফাজত করে  আর  তাদের সাজসজ্জা না দেখায়,  যা নিজে নিজে প্রকাশ হয়ে যায় তা ছাড়া ৷  আর তারা যেন তাদের ওড়নার আঁচল দিয়ে তাদের বুক ঢেকে রাখে৷  তারা যেন তাদের সাজসজ্জা প্রকাশ না করে, তবে নিম্নোক্তদের সামনে ছাড়া  স্বামী,বাপ,স্বামীর বাপ, নিজের ছেলে, স্বামীর ছেলে, ভাই, ভাইয়ের ছেলে, বোনের ছেলে, নিজের মেলামেশার মেয়েদের , নিজের মালিকানাধীনদের,অধীনস্থ পুরুষদের যাদের অন্য কোন রকম উদ্দেশ্য নেই  এবং এমন শিশুদের সামনে ছাড়া যারা মেয়েদের গোপন বিষয় সম্পর্কে এখনো অজ্ঞ ৷তারা যেন নিজেদের যে সৌন্দর্য তারা লুকিয়ে রেখেছে তা লোকদের সামনে প্রকাশ করে দেবার উদ্দেশ্য সজোরে পদক্ষেপ না করে৷  হে মু’মিনগণ! তোমরা সবাই মিলে আল্লাহর কাছে তাওবা করো,আশা করা যায় তোমরা সফলকাম হবে”৷

সুরা নূর-৩১

কোন নারীকে দেখামাত্রই দৃষ্টি অবনত করে ফেলতে হবে। উভয়ের জন্যই ৬ ধরনের পর্দার কথা বলা হয়েছে।

ক)  পুরুষের জন্য হিজাব হোল, কোমর হতে হাটু পর্যন্ত আর নারীর জন্য সমস্ত শরীর আবৃত করে রাখতে হবে।ার মুখ বের করে রাখা যাবে।তবে এ ব্যাপারে কিছু আলেম দ্বিমত প্রকাশ করেন।এটা ছাড়া বাকী ৫ টা শর্ত উভয়ের জন্যই প্রযোজ্য।

খ)  এমন টাইট পোশাক পরা যাবেনা, যেটাতে শরীরের গঠন প্রকাশ পায়।

গ)  এত স্বচ্ছ পরা যাবেনা, যেটাতে শরীর দেখা যায়্

ঘ)  এমন জমকালো পোশাক পরা যাবেনা, যেটাতে অপরকে আকর্ষন করে।

ঙ)  বিধর্মীদের পোশাক পরা যাবেনা।

“একদিন একলোক জাকজমক রংয়ের পোশাক পরে, মুহাম্মাদের(সঃ) কাছে আসলো। এটা দেখে তিনি বল্লেন, তোমারা এই পোশাক খুলে ফেল, কারন তোমার  এই পোশাক বিধর্মীদের চিন্হ বহন করছে”। মুসলিম-৫১৭৩

চ)  বিপরীত লিংগের পোশাক পরা যাবেনা।

“ পুরুষের নারীদের মত আচরন করা উচিত নয়”। বুখারী-৫৮৮৫

১) এগুলো হোল পর্দার আসল উপকরন।

“হে নবী! তোমার স্ত্রীদের, কন্যাদের ও মু’মিনদের নারীদেরকে বলে দাও তারা যেন তাদের চাদরের প্রান্ত তাদের ওপর টেনে নেয়৷  এটি অধিকতর উপযোগী পদ্ধতি, যাতে তাদেরকে চিনে নেয়া যায় এবং কষ্ট না দেয়া হয়৷  আল্লাহ ক্ষমাশীল ও করুণাময়”৷  সুরা আহযাব-৫৯

২)  হাদীসে আছে, “দুটি জিনিস স্বর্ন ও রেশম আমার উম্মতের পুরুষদের জন্য নিষিদ্ধ কিন্তু নারীদের জন্য অনুমোদিত। সুনানে নাসাঈ -৫১৮৭

৩) “পায়ের গোড়ালীর নীচে পোশাক পরলে, ওই  অংশ  জাহান্নামের আগুণে পোড়ানো হবে”। বুখারী-৫৭৮৭

৪)  “জাকজমক পোশাক পরে অহংকার প্রকাশ কিংবা অনুভব করা নিষিদ্ধ।

“ যে ব্যাক্তি যশ-খ্যাতি এবং  সুন্দরের জন্য  পোশাক পরিধান করে, কিয়ামতের দিন আল্লাহ তাকে ঐ পোশাক পরিয়ে দিবেন”। আবু দাউদ-৪০১৯

৫)  “সাদা পোশাক পরিধান করো কারন এটা সবোর্ত্তম।মৃকে সাদা পোশাকে জড়াও’। সুনানে আবু দাউদ-৪০৫০

৬)   “যখন তুমি পোশাক পরো কিংবা ওযু করো  তখন ডান হাত দিয়ে শুরু করো”। আবু দাউদ -৪১২৯

............।।

ডাঃ জাকির নায়েক, কেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা খ) কেউ রোযা কাযা করেছে, কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে

ডাঃ জাকির নায়েককেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা খ) কেউ রোযা কাযা করেছেকিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে

ক)   ডাঃ জাকির নায়েক,  কেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা  খ)  কেউ রোযা কাযা করেছে, কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে, তার কি হবে ?

ক)  এখানে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত আছে।

১ম মতঃ–

মৃত ব্যাক্তির  অভিভাবকরা সকলে রোযা রাখতে পারেন। কারন হযরত আয়েশা(রা)

বলেন,  “যে ব্যাক্তি রোযা রাখার অংগীকার করলো কিন্তু মারা গেলতবে তার অভিভাবকদের সেই রোযা পূরন করে দিতে হবে“। বুখারী-রোযা-১৯৫২

২য় মতঃ–

তার ওয়ারিশদের রোযা রাখার দরকার নাই। তবে মৃত ব্যাক্তির কাযা হওয়া প্রত্যেকটি রোযার জন্য ১ জন করে মিসকিন খাওয়াতে হবে।

আমর(রা) হযরত আয়েশা(রা)কে জিজ্ঞাসা করলেনতার মাতা রমযানের কিছু রোযা কাযা করে ফেলেছে এবং সে তার মাতার পরিবর্তে রোযা রেখে দিতে পারবে কি ? আয়েশা(রাঃ) বল্লেননাতবে তার প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে এক ‘শাআ’ পরিমান খাবার খাওয়াও”।  ইবনে হাজম-৪২২

সিদ্ধান্তঃ-

উভয় মতের হাদিসের মধ্যে বিরোধ আছে। কারন প্রথম হাদিসে প্রতিজ্ঞার কথা বলা আছে। দ্বিতীয় হাদিসে সাধারন রোযার কথা বলা আছে। আরেকটি হাদিসে আছে,

“ যদি কোন ব্যাক্তি কোন কাযা রোযা রেখে মারা যায়, তাহলে আমাদের উচিত প্রত্যেক রোযার জন্য দরিদ্রকে খাওয়ানো, সেক্ষেত্রে রেযা পূরন করার দরকার নাই। যে ব্যাক্তি মানত বা শপথের রোযা কাযা  রেখে মারা গেল, তার ওয়ারিশদের উচিত সেই রোযা পূরন করা। আবু দাউদ-২৩৯৫

ইবনে আব্বাস বলেছেন,একদা এক ব্যাক্তি মুহাম্মাদের(সঃ) কাছে এসে বল্লো যেতার মাতাকে ১ মাসের কাযা রোযা রাখতে হবে। এখন সে কি তার মায়ের কাযা রোযা শোধ করে দিতে পারবে ? নবী(সঃ) বল্লেনহ্যা,এটা করা ভাল”।   বুখারী-১৯৫৩

কিন্তু এখানে রোযা  রমযানের না শপথের একথা বলা হয়নি। কাজেই দ্বিতীয় দলের

আলেমদের মতটি শক্তিশালী। রমযানের রোযা বাকী থাকলে খাওয়াতে হবে, আর শপথের রোযা হলে ওয়ারিশদের রাখতে হবে।

খ)  সকল আলেম একমত যে, বেচে থেকে যে ব্যাক্তি নামাজ পড়ে না,মৃত্যুর পর তার না পড়া নামাযের জন্য পৃথিবীতে কেউ শোধ দিতে পারবেনা।একই ভাবে যে ব্যাক্তি বৈধ কারন যেমন অসুস্থতা,বয়স্কতা ইত্যাদির জন্য নামায কাজা করে,তার মৃত্যুর পর  সেই রোযাগুলো কেউ শোধ করতে পারবেনা। মহান আল্লাহ বলেন,

এ কতিপয় নিদিষ্ট দিনের রোযা ৷ যদি তোমাদের কেউ হয়ে থাকে রোগগ্রস্ত অথবা মুসাফির তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোয় এই সংখ্যা পূর্ণ করে ৷ আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ আছে (এরপরও রাখে না)তারা যেন ফিদিয়া দেয় ৷ একটি রোযার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে খাওয়ানো৷ আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কিছু বেশী সৎকাজ করে,তা তার জন্য ভালো ৷ তবে যদি তোমরা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে থাকো ৷তাহলে তোমাদের জন্য রোযা রাখাই ভালো “৷ সুরা বাকারা-১৮৪

অতএব  যে ব্যাক্তি জীবিত কিন্তু  উপযুক্ত কারনবশতঃ রোযা রাখতে পারেনা, সে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে  একজন মিসকিন খাওয়াবে।

ডাঃ জাকির নায়েক, নিষিদ্ধ মাস নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির নায়েক, নিষিদ্ধ মাস নিয়ে বলুন

নিষিদ্ধ মাস বলতে ৪টি বিশেষ মাসকে বুঝায়। ক) যিলকদ  খ)  যিলহজ্জ  গ) মুহাররাম  ঘ)  রজব ।

যদি এই মাসগুলোতে  কেউ রোযা রাখে, তাহলে সেগুলো  ঐচ্ছিক রোজা বলে বিবেচিত হবে।

ডাঃ জাকির নায়েক, ৭০ টি কবীরা গুনাহ নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির নায়েক, ৭০ টি কবীরা গুনাহ নিয়ে বলুন

ক)  কবীরা গুনাহ হোল ওই সমস্ত কাজ যেগুলো মহান আল্লাহ ও মুহাম্মাদ(সঃ) করতে নিষেধ করেছেন।এই গুলো কুরআন-হাদিসে উল্লেখ আছে এবং  মহানবীর(সঃ) সাহাবীরা করতে নিষেধ করেছেন।

খ) মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন, “তোমরা কি ৭টি মহাধ্বংসকারী গুনাহ সম্পর্কে জানোতা হোলঃ- ১) কাউকে আল্লাহর সাথে শরীক করা ২) যাদু-বিদ্যা অনুশীলন করা ৩) সুদের লেন-দেন করা ৪) যুদ্ধ-ক্ষেত্রে পলায়ন করা ৫) এতিমের সম্পদ ভক্ষন করা ৬) মহান আল্লাহর ঘোষিতপবিত্র ব্যাক্তিকে হত্যা করা ৭) কোন নারীর বিরদ্ধে অন্যায় ভাবে কতসা রটনা করা। বুখারী-২৭৬৬

আরেকটি হাদীসে ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেছের, “৭০টি কবীরা গুনাহ রয়েছেযেগুলো৭টির অন্তর্ভূক্ত তাফসীর আত তাবায়ের-৯২০৭

৭০ টি কবীরা গুনাহ

১)  আল্লাহর সাথে কাউকে শরীক করা

২)  কাউকে হত্যা করা

৩)  সালাত আদায় না করা

৪)  যাকাত  না দেয়া

৫)  যাদু-বিদ্যার অনুশীলন করা

৬)  রমযান মাসে রোযা না রাখা

৭)  হজ্জ পালন না করা

৮)  পিতা-মাতার সাথে দূর্ব্যবহার করা

৯)  আত্নীয়তার বন্ধন ছিন্ন করা

১০)  ব্যাভিচার ও বিবাহের বাহিরে যৌন-সম্পর্ক

১১)  সমকামিতায় লিপ্ত হওয়া

১২)  সুদ লেন-দেন করা

১৩)  এতিমের সম্পদ  আত্নসাত

১৪)  আল্লাহ ও তার রাসুলের বিরুদ্ধে কুতসা রটনা

১৫)   নেতার পক্ষ হতে জনগনের  মধ্যে সুবিচার না করা

১৬)  অহংকার ও উদ্ধত পচরন করা

১৭)  মিথ্যা সাক্ষ্য দেয়া

১৮)  মাদক গ্রহন করা

১৯)  জুয়া খেলা

২০)  নিষ্পাপ নারীর বিরুদ্ধে কুতসা রটনা

২১)  ডাকাতি করা

২২)  চুরি করা

২৩)  মিথ্যা প্রতিজ্ঞা করা

২৪)  উতপীড়ন করা

২৫)  অবৈধ  খাজনা আদায় করা

২৬)  গনিমতের মাল আত্নসাত করা

২৭)  যুদ্ধ-ক্ষেত্র থেকে পলায়ন করা

২৮)  নিষিদ্ধ সম্পদ ভোগ করা

২৯)  আত্নহত্যা  করা

৩০)  বার বার মিথ্যা বলা

৩১)  ইসলামী  আইন ব্যতীত অন্য আইন প্রয়োগ করা

৩২)   ঘুষ লেন-দেন করা

৩৩)  নারী-পুরুষ  বিপরীত মুখী পোশাক পরা ও আচরন করা

৩৪)   অশ্লীলতা/কুটনামী করা

৩৫)  আগের স্বামীর কাছে তার স্ত্রীকে ফেরত দেবার জন্য, সেই মহিলাকে

বিয়ে করা।

৩৬)  প্রশাব থেকে  পবিত্র না  হওয়া

৩৭)  নিজেকে প্রদর্শন করা

৩৮)  দুনিয়ার জ্ঞ্যান অর্জন করা

৩৯)   বিশ্বস্তায় ফাটল ধরানো

৪০)  নিজের দয়া সম্পর্কে অন্যকে মনে করায়ে দেয়া

৪১)  তাকদীর অস্বীকার করা

৪২)  অপরের ব্যাক্তিগত আলোচনায় নাক গলানো

৪৩)  ক্ষতিকর গল্প ছড়িয়ে দেয়া

৪৪)  কাউকে অভিশাপ দেয়া

৪৫)  নিজের প্রতিজ্ঞা পূরন না করা

৪৬)  জ্যোতিষী ও গনকদের কথা বিশ্বাস করা

৪৭)  স্বামীর অবাধ্য হওয়া

৪৮)  ভাস্কর্য তৈরী করা

৪৯)  অনশন করা,নিজের কাপড়-চুল ছেড়া

৫০)  বিচারে সমতা বিধান না করা

৫১)  কারোর দূর্বলতার সুযোগ নেয়া

৫২)  প্রতিবেশীর ক্ষতি করা

৫৩)   কোন মুসলিমের ক্ষতি বা অপব্যবহার

৫৪)  পায়ের টাকনুর নীচে কাপড় পরা

৫৫)  আল্লাহর  দাসত্বকারীর ক্ষতি করা

৫৬)  পুরুষদের রেশম ও স্বর্ন পরা

৫৭)   দাস যে পালিয়ে যায়

৫৮)  আল্লাহ ছাড়া অন্য কারো  উদ্দে্শ্যে বলি দেয়া

৫৯)  নিশ্চিত না হয়ে কাউকে পিতা বলে দাবী করা

৬০)  সত্য না জেনে অনিশ্চয়তার উপর তর্ক করা

৬১)  অন্যের জায়গায় পানি প্রবাহিত হতে না দেয়া

৬২)  সঠিক ওজন না দেয়া

৬৩)  আল্লাহর  নজর থেকে নিজেকে মুক্ত মনে করা

৬৪)   পচা মাংস,রক্ত ও শূকরের মাংস খাওয়া

৬৫)  যথাযথ  কারন ছাড়া জামাতে নামাজ না পড়া

৬৬)  নিয়মিত জুমার নামায না পড়া

৬৭)  সম্পদ উসুল করে দিয়ে অন্যকে ক্ষতি করা

৬৮)  কপট ও বিভ্রান্তিমূলক আলোচনা করা

৬৯)  গোয়েন্দাগিরি করে কোন মুসলিমের গোপন বিষয় প্রকাশ করা

৭০)  মুহাম্মাদ(সঃ)  এর সাহাবীদের ঠাট্টা-বিদ্রুপ করা

 

ডাঃ জাকির নায়েক, কেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা খ) কেউ রোযা কাযা করেছে, কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে

ডাঃ জাকির নায়েককেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা খ) কেউ রোযা কাযা করেছেকিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে

ক)   ডাঃ জাকির নায়েক,  কেউ রোযা কাযা করেছে কিন্তু পূরন করার আগেই মারা গেল কিংবা  খ)  কেউ রোযা কাযা করেছে, কিন্তু অসুস্থ হয়ে গেছে, তার কি হবে ?

ক)  এখানে আলেমদের মধ্যে দ্বিমত আছে।

১ম মতঃ–

মৃত ব্যাক্তির  অভিভাবকরা সকলে রোযা রাখতে পারেন। কারন হযরত আয়েশা(রা)

বলেন,  “যে ব্যাক্তি রোযা রাখার অংগীকার করলো কিন্তু মারা গেলতবে তার অভিভাবকদের সেই রোযা পূরন করে দিতে হবে“। বুখারী-রোযা-১৯৫২

২য় মতঃ–

তার ওয়ারিশদের রোযা রাখার দরকার নাই। তবে মৃত ব্যাক্তির কাযা হওয়া প্রত্যেকটি রোযার জন্য ১ জন করে মিসকিন খাওয়াতে হবে।

আমর(রা) হযরত আয়েশা(রা)কে জিজ্ঞাসা করলেনতার মাতা রমযানের কিছু রোযা কাযা করে ফেলেছে এবং সে তার মাতার পরিবর্তে রোযা রেখে দিতে পারবে কি ? আয়েশা(রাঃ) বল্লেননাতবে তার প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে এক ‘শাআ’ পরিমান খাবার খাওয়াও”।  ইবনে হাজম-৪২২

সিদ্ধান্তঃ-

উভয় মতের হাদিসের মধ্যে বিরোধ আছে। কারন প্রথম হাদিসে প্রতিজ্ঞার কথা বলা আছে। দ্বিতীয় হাদিসে সাধারন রোযার কথা বলা আছে। আরেকটি হাদিসে আছে,

“ যদি কোন ব্যাক্তি কোন কাযা রোযা রেখে মারা যায়, তাহলে আমাদের উচিত প্রত্যেক রোযার জন্য দরিদ্রকে খাওয়ানো, সেক্ষেত্রে রেযা পূরন করার দরকার নাই। যে ব্যাক্তি মানত বা শপথের রোযা কাযা  রেখে মারা গেল, তার ওয়ারিশদের উচিত সেই রোযা পূরন করা। আবু দাউদ-২৩৯৫

ইবনে আব্বাস বলেছেন,একদা এক ব্যাক্তি মুহাম্মাদের(সঃ) কাছে এসে বল্লো যেতার মাতাকে ১ মাসের কাযা রোযা রাখতে হবে। এখন সে কি তার মায়ের কাযা রোযা শোধ করে দিতে পারবে ? নবী(সঃ) বল্লেনহ্যা,এটা করা ভাল”।   বুখারী-১৯৫৩

কিন্তু এখানে রোযা  রমযানের না শপথের একথা বলা হয়নি। কাজেই দ্বিতীয় দলের

আলেমদের মতটি শক্তিশালী। রমযানের রোযা বাকী থাকলে খাওয়াতে হবে, আর শপথের রোযা হলে ওয়ারিশদের রাখতে হবে।

খ)  সকল আলেম একমত যে, বেচে থেকে যে ব্যাক্তি নামাজ পড়ে না,মৃত্যুর পর তার না পড়া নামাযের জন্য পৃথিবীতে কেউ শোধ দিতে পারবেনা।একই ভাবে যে ব্যাক্তি বৈধ কারন যেমন অসুস্থতা,বয়স্কতা ইত্যাদির জন্য নামায কাজা করে,তার মৃত্যুর পর  সেই রোযাগুলো কেউ শোধ করতে পারবেনা। মহান আল্লাহ বলেন,

এ কতিপয় নিদিষ্ট দিনের রোযা ৷ যদি তোমাদের কেউ হয়ে থাকে রোগগ্রস্ত অথবা মুসাফির তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোয় এই সংখ্যা পূর্ণ করে ৷ আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ আছে (এরপরও রাখে না)তারা যেন ফিদিয়া দেয় ৷ একটি রোযার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে খাওয়ানো৷ আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কিছু বেশী সৎকাজ করে,তা তার জন্য ভালো ৷ তবে যদি তোমরা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে থাকো ৷তাহলে তোমাদের জন্য রোযা রাখাই ভালো “৷ সুরা বাকারা-১৮৪

অতএব  যে ব্যাক্তি জীবিত কিন্তু  উপযুক্ত কারনবশতঃ রোযা রাখতে পারেনা, সে প্রত্যেক রোযার পরিবর্তে  একজন মিসকিন খাওয়াবে।

 

ডাঃ জাকির নায়েক- দুই ঈদের দিন ও ঈদুল আযহার পরের ৩দিন রোযা রাখা নিষেধ কেন ?

ডাঃ জাকির নায়েক- দুই ঈদের দিন ও ঈদুল আযহার পরের ৩দিন রোযা রাখা নিষেধ কেন

“মুহাম্মাদ বলেছেন, দুই ঈদের দিন রোযা রাখা নিষেধ। কারন ঈদুল আযহার দিনে কুরবানী করতে হয় ও ঈদুল ফিতর আসে রমযান মাসের সমাপ্তি হিসাবে”।

আবু দাউদ-রোযা- ২৪১০

“আবু  হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্নিত,  মুহাম্মাদ(সঃ) আবদুল্লাহ বিন হুজাইফাকে(রাঃ) পাঠালেন এবং তিনি মিনার লোকদের  বল্লেন, যারা হজ্জ পালন করেছেন তারা ঈদুল আযহার পরের ৩দিন রোযা রাখবেন না। কারন এই দিনগুলো খাওয়া,পান করা এবং আল্লাহকে স্মরন করার জন্য”। মুসনাদে আহমদ- অনু-২- ১০৬৬৪

ডাঃ জাকির ,জ্যোতির্বিদ্যা ও গনকবিদ্যায় বিশ্বাসীদের সম্পর্কে কিছু বলুন

ডাঃ জাকির ,জ্যোতির্বিদ্যা ও গনকবিদ্যায় বিশ্বাসীদের সম্পর্কে কিছু বলুন।

Q  ডাঃ জাকির ,জ্যোতির্বিদ্যা ও গনক বিদ্যায় বিশ্বাসীদের সম্পর্কে কিছু বলুন।

গনকবিদ্যা বর্তমান বিশ্বে  সাধারন ব্যাপার।পেপারে  আমরা এগুলোর প্রাত্যাহিক ফলাফল দেখে থাকি।গননায় বিশ্বাস করা শিরক। মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন,

ক)  “যদি কোন লোক গনকের কাছে যায় এবং সে যা বলে তা বিশ্বাস করেতাহলে সে মুহাম্মাদকে(সঃ) অস্বীকার করছে মুসনাদে আহমদ-৯৫৩৬

খ)  “যে ব্যাক্তি ভাগ্য গনকের কাছে যায় ও তার কথা বিশ্বাস করে৪০ দিন ৪০ রাত তার নামাজ কবুল হয় না মুসলিম-৫৪৪০

গ) মহান আল্লাহ বলেন, “হে ঈমানদারগণ ! এ মদজুয়ামূর্তি পূজার বেদী ও ভাগ্য নির্ণায়ক শরসমূহ ১০৮ এ সমস্তই হচ্ছে ঘৃণ্য শয়তানী কার্যকালাপ ৷ এগুলো থেকে দূরে থাকোআশা করা যায় তোমরা সফলতা লাভ করবে৷”। সুরা মায়েদা-৯০

 

ডাঃ জাকির যাদু-মন্ত্র অনুশীলন নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির যাদু-মন্ত্র অনুশীলন নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির নায়েক,  ইসলামে যাদু-বিদ্যা অনুশীলন করা কুফরী ও এটাকে কবীরা গুনাহ বলা হয়েছে।  হাদীসে  আছে,

সাতটি কবীরা গুনাহ রয়েছেতার মধ্যে যাদু-বিদ্যা একটি”। বুখারী-২৭৬৬

রাসুল(সঃ) এটাকে তৃতীয় বৃহত্তম কবীরা গুনাহ হিসাবে ঘোষনা করেছেন।

“ যে কেউ যাদু-বিদ্যা অবলম্বন করেতার জন্য পরকালে কোন জায়গা নাই”।সুরা বাকারা- ১০২

আজ নিজেদের সমস্ত কলাকৌশল একত্র করে নাও এবং একজোট হয়ে ময়দানে এসো৷ ব্যসজেনে রাখোআজকে যে প্রাধান্য লাভ করবে সেই জিতে গেছে সুরা ত্বাহা-৬৪

হযরত মুসা (আঃ) যাদুকরদের সাথে জয়ী হয়েছিলেন। যাদু-বিদ্যার চর্চা আল্লাহর সাথে কুফরী করা।কিন্তু দুঃখজনক হোল, অনেক মুসলিম আছে যারা যাদুকরদের কাছে যায় যাদুর হাত থেকে বাচার জন্য ও নিজের শত্রুকে ঘায়েল করার জন্য। এটা কবীরা গুনাহ। কারন আল্লাহ ছাড়া আর কারো কাছে সাহায্য চাওয়া হারাম।

 

ডঃ জাকির, মহানবীর(সঃ) রোজার প্রস্তুতির কথা বলুন

ডঃ জাকির, মহানবীর(সঃ) রোজার প্রস্তুতির কথা বলুন 

“আয়েশা (রা:) থেকে বর্নিত-তিনি বলেন, রাসুলুাল্লাহ(স:) শাবান মাস অপেক্ষা বেশী আর কোন মাসে রোজা রাখতেন না।কারন শাবান মাসের অল্প কয়েকদিন ছাড়া পুরো মাসই রোজা রাখতেন।

বুখারীর ৩য় খন্ডের ‘কিতাবুস সিয়াম’ এর ১৯৬৯ নং হাদিস,মুসলিম

তালহা ইবনে উবায়দুল্লাহ(রা:) বলেন, যখন রসুল নতুন চাদ দেখতেন, তখন সমসময় আল্লাহর প্রশংসা করতেন। বলতেন, হে! আল্লাহ, এই চাদকে আমাদের উপর উদিত করুন নিরাপত্তা,শান্তি,ঈমান ও ইসলামে সাথে( হে চাদ) তোমার ও আমার প্রভু একমাত্র আল্লাহ,হে আল্লাহ) এ চাদ যেন সঠিক পথের ও কল্যানের হয়। তিনি মানুষকে এই বরকতময় মাস আগমনের বিষয়ে সতর্ক করতেন।

প্রথমেই আমাদের আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করা।কারন তিনি আমাদের আবারও এই বরকতময় মাসে বেচে থাকার সুযোগ করে দিয়েছেন। মহান আল্লাহ যেন আমাদের এই মাসে সমস্ত গুনাহ ক্ষমা করে দেন।এই ব্যাক্তি আরো তাকওয়াবান(আল্লাহ ভীতি) হবেন।

এই মাস ধর্মীয় প্রশিক্ষনের মাস। এই মাসে রোযাদারদের পুরো শরীর-মনের  সংস্কার চলে। যেমন বিভিন্ন মেশিনারীর ওভার হোলিং-এর কাজ চলে।মানব শরীর সবচেয়ে জটিল মেশিনারী। আমরা এই মাসে সবচেয়ে বেশী আন্তরিকতা প্রকাশ করবো ও কুরান-সুন্নাহর নির্দেশনা সঠিক ভাবে মেনে চলার চেষ্টা করবো।

আল্লাহ বলেন,

“এ কতিপয় নিদিষ্ট দিনের রোযা ৷ যদি তোমাদের কেউ হয়ে থাকে রোগগ্রস্ত অথবা মুসাফির তাহলে সে যেন অন্য দিনগুলোয় এই সংখ্যা পূর্ণ করে ৷ আর যাদের রোযা রাখার সামর্থ আছে (এরপরও রাখে না)তারা যেন ফিদিয়া দেয় ৷ একটি রোযার ফিদিয়া একজন মিসকিনকে খাওয়ানো৷ আর যে ব্যক্তি স্বেচ্ছায় ও সানন্দে কিছু বেশী সৎকাজ করে , তা তার জন্য ভালো ৷ তবে যদি তোমরা সঠিক বিষয় অনুধাবন করে থাকো ৷ ১৮৪ তাহলে তোমাদের জন্য রোযা রাখাই ভালো ৷” সুরা বাকারা – ১৮৪

 

ড. জাকির নায়েক,ইসলামে রাত্রিকালিন নামাজেরগুরুত্ব ও তাৎপর্য বলুন

ড. জাকির নায়েক,ইসলামে ‘রাত্রিকালিন নামাজের’ গুরুত্ব ও তাৎপর্য বলুন

ক)  কুরআনে আছে, ‘তাদের পিঠ থাকে বিছানা থেকে আলাদা, নিজেদের রবকে ডাকে আশংকা ও আকাঙ্ক্ষা সহকারে  এবং যা কিছু রিযিক আমি তাদেরকে দিয়েছি তা থেকে ব্যয় করে’৷   সুরা সাজদা- ১৬

‘রাতের বেলা তারা কমই ঘুমাতো৷ তারপর তারাই আবার রাতের শেষ গ্রহরগুলোতে ক্ষমা প্রার্থনা করতো’৷ আয-যারিয়াত- ১৭,১৮

‘তোমাদের সালাম৷  তারা নিজেদের রবের সামনে সিজদায় অবনত হয়ে ও দাঁড়িয়ে রাত কাটিয়ে দেয়’৷  ফুরকান- ৬৪

খ) ‘ফরয ৫ ওয়াক্ত নামাজ ছাড়া আর যে নামায হয়, তার মধ্যে সবোর্ত্তম নামাজ হলো ‘রাত্রিকালীন নামাজ’। মুসলিম-অধ্যায় রোজা – ২৬১২ 

গ) ‘সর্বোত্তম নামায হলো দাউদ(আ:)–এর  নামায এবং সর্বোত্তম রোযা হলো দাউদ(আ:)-এর রোযা। তিনি রাতের প্রথম অর্ধাংশে  ঘুমাতেন,বাকী রাতের  তিন ভাগের এক ভাগ আল্লাহর ইবাদৎ /প্রার্থনা করে কাটাতেন এবং বাকী অংশ আবার ঘুমাতেন’। বুখারী- তাহাজ্জুদ- ১১৩১

ঘ)  আবু হুরায়রা(রা:)  থেকে বর্নিত, ‘নবী করীম(স:) বলেছেন, তোমাদের যখন কেউ ঘুমিয়ে পড়ে তখন শয়তান তার গ্রীবাদেশে ৩টি গিট দেয়।প্রতি গিটে সে এই বলে চাপড়ায়, তোমার সামনে দীর্ঘ রাত রয়েছে। তারপর সে যদি জেগে আল্লাহকে স্মরন করে তবে তার ১টা  গিট খুলে যায়। তারপর ওযু করলে, আরেকটা খুলে। তারপর নামায পড়লে, আরেকটি গিটও  খুলে যায়। তখন তার প্রভাত হয় প্রফুল্ল মন ও নির্মল চিত্তে।অন্যথায় সে সকালে উঠে,  কলুষিত মনে ও অলসতা নিয়ে’।

বুখারী-তাহাজ্জুদ- ১১৪২

ঙ)  “আল্লাহ রাতের তিন ভাগের শেষ ভাগে সর্বনিম্ন আসমানে নেমে আসেন এবং ওই সময় যে ব্যাক্তি প্রার্থনা করে,ক্ষমা চায় আল্লাহ তাকে ক্ষমা করে দেন।যে ব্যাক্তি পূন্য কাজে নিজেকে নিয়োজিত করে,আল্লাহ তার সাথে অবিচার করেন না এবং এটা ফজরের পূর্ব মুহুর্ত পর্য্যন্ত চলতে থাকে”। মুসলিম- সালাত-১৬৫৬

চ)  “রাতের শেষ ভাগে আল্লাহ ও বান্দারা সবচেয়ে নিকটবর্তী থাকে।এই সময়টা হলো প্রার্থনা করার  সর্বোত্তম সময়। তিরমিযী-প্রার্থনা-৩৫৭৯

ছ)   “এক ব্যাক্তি মুহাম্মাদ(স:)-কে জিজ্ঞাসা করলেন, ইবাদৎ করার উপযুক্ত সময় কোনটি ?  তিনি বল্লেন,  রাতের ৩ প্রহরের শেষ প্রহর”। তিরমিযী-প্রার্থনা-৩৪৯৯

জ)  “হযরত আয়েশা(রা:) বলেন, মুহাম্মাদ(স:)  নিয়মিত কিয়াম আল লাইল আদায়  করতেন, এসনকি অসুস্থ অবস্থায়ও”। আবু দাউদ-সালাত-১৩০২

ঝ)  রমযান মাসে এগুলো ২ গুন হয়ে যায়। “যে ব্যাক্তি রমযান মাসে বিশ্বস্তার সাথে আল্লাহর পুরস্কারের আশায় রাতে কিয়ামুল লাইল আদায় করে,আল্লাহর তার পূর্বের সব গুনাহ মাফ করে দেন”। বুখারী-রোযা-২০০৯

ঞ)  “ এক ব্যাক্তি মুহাম্মাদ(স:) এর কাছে এসে বল্লো, যদি আমি বলি যে, আল্লাহ এক তার কোন শরীক নাই।এবং আমি গভীর রাতে আল্লাহর কাছে ক্ষমা প্রর্থনা করি। মুহাম্মাদ(স:)  বল্লেন,  কিয়ামতের দিন তুমি সিদ্দিকীনদের সাথে ছায়ার নীচে অবস্থান করবে”। সহীহ ইবনে হিব্বান- ৩৪৩৮

 

ড. জাকির নায়েক, বমি হলে কি রোযা ভেংগে যায় ?

Q ড. জাকির নায়েক, বমি হলে কি রোযা ভেংগে যায় ?

মুহাম্মাদ(স:) বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যাক্তি অনিচ্ছাকৃত বমি করে তাহলে, তাকে সেটা পূরন করতে হবে না।কিন্তু যে ইচ্ছা করে বমি করে, তাকে পূরন করতে হবে’।

তিরিমিযী-রোযা-৭২০, সুনানে আবু দাউদ- রোযা ২য় খন্ড- ২৩৭৪

 আরেকটি ব্যাপার হল, বমি যদি মুখের ভিতরে উঠে আসে এবং সেটা পুনরায় খেয়ে ফেলা হয়, তাহলেও রোযা ভেংগে যায়। অনুচ্ছাক্রত বমি আসলে, সেটা না খেয়ে বাহিরে ফেলে দিতে হবে।

 

ড. জাকির নায়েক, বমি হলে কি রোযা ভেংগে যায় ?

Q ড. জাকির নায়েক, বমি হলে কি রোযা ভেংগে যায় ?

মুহাম্মাদ(স:) বলেছেন, ‘যদি কোন ব্যাক্তি অনিচ্ছাকৃত বমি করে তাহলে, তাকে সেটা পূরন করতে হবে না।কিন্তু যে ইচ্ছা করে বমি করে, তাকে পূরন করতে হবে’।

তিরিমিযী-রোযা-৭২০, সুনানে আবু দাউদ- রোযা ২য় খন্ড- ২৩৭৪

 আরেকটি ব্যাপার হল, বমি যদি মুখের ভিতরে উঠে আসে এবং সেটা পুনরায় খেয়ে ফেলা হয়, তাহলেও রোযা ভেংগে যায়। অনুচ্ছাক্রত বমি আসলে, সেটা না খেয়ে বাহিরে ফেলে দিতে হবে।

 

ড. জাকির নায়েক, ধূমপান কি হারাম ?

ড. জাকির নায়েক, ধূমপান কি হারাম

অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ  ধূমপানকে মাকরুহ বলে থাকেন।  এ ব্যাপারে আমাদের প্রিয় নবী (স:) বলেন , ‘যে ব্যাক্তি তামাক কিংবা পিয়াজ খায়, সে যেন নামায ও মসজিদে প্রবেশ করা থেকে বিরত থাকে’। বুখারী-১ম খন্ড-৮৫৫

এই হাদিসের উপর ভিত্তি করে, বিশেষজ্ঞরা ধূমপানকে মাকরুহ বলে থাকেন।কিন্তু এ বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষা করার পর আমরা বুঝতে পেরেছি,  ধূমপান এক ধরনের ধীর গতির বিষক্রিয়া ছাড়া আর কিছুই না।সব ধরনের তামাকজাত দ্রব্য সিগারেট,বিড়ি,হুক্কা ইত্যাদিও এক।এই কারনে অধিকাংশ অমুসলিমরামুসলমানদের সাথে এগুলো হারাম বা নিষিদ্ধ করার ব্যাপারে একমত।এই কারনে বিজ্ঞাপনেও তারা ‘ধূমপান স্বাস্থের জন্য ক্ষতিকর’ এটা লিখে দেয়।

 

ড. জাকির নায়েক, কিয়াম আল লাইল শব্দের অর্থ ও তারাবী নামাযের সাথে এর পার্থক্য

 

ড. জাকির নায়েক, কিয়াম আল লাইল শব্দের অর্থ ও তারাবী নামাযের সাথে এর পার্থক্য

কিয়াম অর্থ দাড়ানো আর লাইল অর্থ রাত। সম্পূর্ন অর্থ হোল ‘রাতে নামাযে দাড়ানো’।

ইসলামী শরিয়তে কিয়াম আল লাইল বলতে এমন ঐচ্ছিক নামাজকে বুঝানো হয়, যা ঈশার পর থেকে ফজরের নামাজের আগে পর্য্যন্ত পড়া যায়।

এই নামাযে অনেক লম্বা সুরা পড়তে হয় ও অনেকক্ষন দাড়ায়ে থাকতে হয়, এই জন্য এটাকে ‘কিয়াম আল লাইল’ বা রাত্রিকালীন দাড়ানো’ বলা হয়েছে। এর অন্য নামও আছে, যেমন ‘সালাতুল  লাইল’।  তাহাজ্জুদ,বিতর, তারাবীর নামায ইত্যাদি। রমযান মাসে রাত্রিকালীন আদায় করা নামাযকে ‘তারাবীর নামায’  বলা হয়। তবে ‘তারাবী’ শব্দটি এই ক্ষেত্রে যথার্থ নয়।কারন মুহাম্মাদ(স:) ও সাহাবীরা তারাবীহ শব্দটি ব্যবহার করেন নি। এটা ছিল ‘কিয়াম আল লাইল’। তারাবী শব্দটি পরে এসেছে।

 

জামাতে নামায

জামাতে নামায

দৈনন্দিন কাজকর্মের মাঝে যখনই ফরয নামাযের সময় হবে, তখনই জামাতে নামাযের জন্য মসজিদে চলে যেতে হবে। মহিলাগণ চাইলে জামাতে আসতে পারেন, তবে তারা সর্বশেষ কাতারে দাড়াবেন। ওয়াক্তের শুরুতেই জামাতআদায় করা উত্তম। আযান ও ইকামতের মধ্যে বেশ কিছু সময় ব্যবধান রাখা উচিত। জামাতের ইকামত দিলেই অন্য সকল নামায বাতিল করে জামাতে শরীক হতে হবে।

জামাত শুরুর আগে নামাযীদের কাধে কাধ, এবং পায়ে পা লাগিয়ে কাতার সোজা করতে হবে, যাতে কোন ফাঁক না থাকে। শুরুতে প্রথম কাতার পূর্ণ করতে হবে অতপর পরের কাতারগুলো। লোকদের মধ্যে সবচেয়ে বেশীকুরআন-সুন্নাহ্‌র জ্ঞানী এবং আমলকারীকে ইমাম বানাতে হবে। ইমামের তাকবীর মুক্তাদীগণ শুনতে না পেলে মুকাব্বির নিয়োগ করতে হবে। ইমামের জামাতে নামায এবং একাকী নামাযের মধ্যে পার্থক্য এটাই যে, জামাতে নামাযে ইমাম তাকবীর, তাহ্‌মীদ ও সালাম সশব্দে বলবেন; এছাড়াও ফজরের দুই রাকাত, মাগরিবের প্রথম দুই রাকাত ও এশার প্রথম দুই রাকাতে সশব্দে ক্বিরআত করবেন।

সাধারণত জামাতে নামাযের সকল ক্ষেত্রে ইমামের অনুসরণ করতে হয়, ইমামের আগে-পরে কোন কাজ করা যাবে না। ইমাম যাতে নামায তাড়াতাড়ি না পড়ায়, আবার বেশী দীর্ঘায়িতও না করে। ইমাম জামাতে নামাযের কোথাও ভুল করলে মুক্তাদীগণ “সুব‘হানাল্লহ্” বলে লুক্বমা দিবেন। জামাত শেষে ইমাম মুক্তাদীগণের দিকে ফিরে বসবেন এবং তাকবীর, ইসতেগফার-সহ কিছু দুআ পড়বেন নি:শব্দে।

কেউ জামাত না পেলে দ্বিতীয় (ছানী) জামাত করতে হবে। জামাতে ফরয নামাযের পর অন্য সুন্নত/নফল নামাযগুলো বাসায় গিয়ে পড়া সুন্নত।

 

জামাতে সালাতের গুরুত্ব

১)   রাসুলুল্লাহ(স:) বলেছেন, ঘরে কিংবা বাজারে একাকী সালাতের চেয়ে মসজিদে জামা’আতে সালাত আদায়ে ২৫ বা ২৭ গুন সওয়াব বেশী।তিনি বলেন, ২ জনের সালাত একাকীর চেয়ে উত্তম।জামাত যত বড় হয় নেকী তত বেশী হয়।

মিশকাত-৭০২,১০৫২, আবু দাউদ,নাসাই, মিশকাত- ১০৬৬

২)   তিনি বলেন, ‘যার হাতে আমার জীবন  তা কসম করে বলছি,আমার মন চায় আযান হওয়ার পরেও যারা জামা’য়াতে আসেনা,ইমামতির দায়িত্ব কাউকে দিয়ে আমি নিজে গিয়ে তাদের ঘরে আগুন লাগিয়ে জ্বালিয়ে দিয়ে আসি’।

বুখারী,মুসলিম,মিশকাত- ১০৫৩

৩)   রাসুলুল্লাহ(স:) বলেন, আল্লাহ ও ফেরেস্তাগন ১ম কাতারের লোকদের উপর বিশেষ রহমত নাযেল করেন।তিনি ৩বার কথাটি বলেন। তারপর তিনি বলেন, দ্বিতীয় কাতারের উপরও। তারপর এসেছে, সামনের কাতারের উপরও।তিনি বলেন, যদি লোকেরা জানতো যে, আযান, প্রথম কাতার ও আউয়াল ওয়াক্তে সালাত আদায়ে কি নেকী রয়েছে,তাহলে তারা পরস্পরের সাথে প্রতিযোগিতা করতো।এশা ও ফজরে ওয়াক্তে নেকীর পরিমান জানলে, তারা হামাগুড়ি দিয়ে হ’লেও ওই দুই সালাতে জামাতে আসতো।তিনি বলেন, যে ব্যাক্তি এশার সালাত জামা’য়াতে পড়লো, সে যেন অর্ধরাত্রি সালাতে অতিবাহিত করলো।যে ব্যাক্তি ফজরের সালাত জামা’য়াতে পড়লো, সে যেন সমস্ত রাত্রি সালাতে অতিবাহিত করলো’।মুনাফিকদের জন্য ফজর ও এশার সালাতের মত কঠিন আর কোন সালাত নাই।যে ব্যাক্তি আল্লাহর জন্য ৪০দিন ‘তকবীরে উলা’সহ জামায়াতে নামায আদায় করলো, তার জন্য ২টি মুক্তি লেখা হয়।১টি হোল জাহান্নাম থেকে মুক্তি, আরেকটা হল নিফাক থেকে মুক্তি।ইবনে মাজাহ বলেন, ‘তকবীরে উলা’ পা ওয়া সুন্নাতে মুওয়াক্কাদা। সালাফে  সালেহীন ইমামের সাথে প্রথম তকবীর না পেলে ৩দিন দুখ প্রকাশ করতেন। জামা’য়াত না পেলে ৭দিন দু:খ প্রকাশ করতেন।

আহমদ,দারেমী,তাবারানী,মিশকাত-১১০১, সহীউল জামে- ১৮৩৯

৪)  রাসুলুল্লাহ(স:) বলেন, ‘কোন গ্রামে যদি ৩ জন মুসলিম থাকে, যদি তারা জামা’য়াতে নামায আদায় না করে, তাহলে তাদের উপর শয়তান বিজয়ী হবে। আর বিচ্ছিন্ন বকরীকেই নেকড়ে ধলে খেয়ে ফেলে’।

আবু দাউদ,আহমদ,নাসায়ী, মিশকাত-১০৬৭

৫)   ‘যখন কোন মুসল্লী সুন্দর ভাবে ওযু করে  স্রেফ সালাতের জন্য বের হয়, তখন তার প্রতিটা পদক্ষেপে ১টি করে নেকী হয়।১টি করে মর্যাদার স্তর উন্নীত হয় ও  ১টি করে গুনাহ ঝরে পড়ে।যতক্ষন সালাতে থাকে, ততক্ষন ফেরেস্তারা তার জন্য দোয়া করতে থাকে ও বলে যে, ‘হে, আল্লাহ! তুমি তার জন্য শান্তি বর্ষন কর’  ও অনুগ্রহ কর।যতক্ষন সে কথা না বলে, ততক্ষন ফেরেস্তারা বলতে থাকে, ‘ হে আল্লাহ ! তুমি তাকে ক্ষমা কর’।

মুত্তাফাক আলাইহে,মিশকাত-৭০২,মুসলিম,মিশকাত-১০৭২

৬)  যখন জামাতের একামত হবে, তখন ঐ ফরয ব্যতীত আর কোন সালাত নেই।ফজরের জামাতের ইকামতের পর সুন্নাত পড়া জায়েয না, যা প্রচলিত আছে।

আবু দাউদ,তিরমিযী,ইবনে মাজাহ,মিশকাত-১০৪৪

৭)  যে  অবস্থায় জামাত পাওয়া যাবে, সেই অবস্থায় শরীক হবে ও ইমামের অনুসরন করবে।  তিরমিযী-৫৯১,আবু দাউদ-৫০৬,মিশকাত-১১৪২,সহীউল জামে-২৬১

৮)  জামাতের পরে আসা মুসল্লীগন একামত দিয়ে পুনরায় জামায়াত শুরু করবেন। একজন হলে জামাত তৈরী করার জন্য, পূর্বে সালাত আদায়কারী ব্যাক্তি তার সাথে যোগ দিতে পারেন।  আবু দাউদ-৫৭৪, তিরমিযী, মিশকাত-১১৪৬

..................

খোলা জায়গায় নামায পড়া

খোলা জায়গায় নামায পড়া

আসাদুল্লাহ গালিব

১) রাসুল(স:) খোলা জায়গায় যেভাবে সালাত পড়তেন

তিনি খোলা জায়গায় সেজদার সামনে সুতরাহ রেখে নামায পড়তেন।হযরত ইবনে উমর(রা:)  থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ(স:) ঈদের দিন নামায পড়তে বের হলে, আমাদেরকে ১টি বর্শা সাথে নেয়া জন্য নির্দেশ দিতেন।এটা তার নামাযের সামনে পুতে রাখা হোত। তিনি সেই দিকে মুখ করে,নামায পড়তেন এবং লোকেরা তার পিছনে দাড়াত। তিনি সফরে থাকলেও এরুপ করতেন। তার পরবর্তী শাসকরাও এটাকে সুতরাহ হিসাবে ব্যবহার  করতেন’। বুখারী-৪৬৪,মুসলিম-১০০৭

২)  হযরত সালমা ইবনে আকওয়া(রা:) থেকে বর্নিত, ‘তিনি মসজিদে নব্বীর স্তম্ভের নিকট নামায পড়তেন, যেটি মাসহাফ নামকস্থানের পাশে ছিল।তাকে জিজ্ঞাসা করা হোল, হে আবু মুসলিম ! আপনি এই স্তম্ভের পাশে নামায পড়ার চেষ্টা করেন কেন ? কারন  আমি, নবী করিম(স:) কে  এর পাশে নামায পড়ার জন্য চেষ্টা করতে দেখেছি’।

বুখারী-৪৭২,মুসলিম-১০২৮

৩) খালি জায়গায় নামায পড়ার সময় সামনে সুতরাহ দিবে

হযরত আবদুর রহমান ইবনে  আবু সাঈদ থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ(স:)  বলেছেন, তোমাদের কেউ খালি স্থানে নামায পড়তে চাইলে, সামনে সুতরাহ রেখে নামায পড়ে।নামাযী ও সুতরার মধ্যে দিয়ে কেউ যাবার চেষ্টা করলে, সে যেন তার সাথে লড়াই করে’। ইবনে মাজাহ- ৯৫৪, মুসলিম-১০২০,নাসায়ী -৭৫৮

৪) নামাযীর সামনে দিয়ে না যাওয়া

আবু সাইদ খুদরী থেকে বর্নিত, ‘তিনি কোন এক জুমার দিনে কিছু একটা সামনে রেখে নামায পড়ছিলেন। এমন সময় আবু মু’আয়ীত্ব গোত্রের এক যুবক সামনে দিয়ে ২বার যাবার চেষ্টা করে। তিনি তাকে বাধা দেন ও বিচার মারওয়ানের কাছে যায়। মারওযান জিজ্ঞাসা করে হে, আবু, সাঈদ, আপনার ও আপনার ভাইপোর মধ্যে কি হয়েছে !

তখন আবু সাইদ খুদরী বলেন, ‘আমি রাসুলুল্লাহকে(সা:)  বলতে শুনেছি, ‘আড়াল করে নামায পড়া অবস্থায়, সামনে দিয়ে কেউ যেতে চাইলে, তাকে ধাক্কা দিয়ে সরায়ে দেয়। তাতে যদি সে না থামে, তাহলে  তার সাথে যেন লড়ে। কেননা সে নিশ্চয় শয়তান’।

বুখারী- ৪৭৯, মুসলিম – ১০২১ 

৫) ‘সুতরার’ সামনে দিয়ে কেউ যেতে চাইলে তিনি তাকে হাতের ইশারায় বাধা দিতেন

তবে কোন কোন সূত্র এই হাদিসকে যঈফ বলেছেন। হযরত উম্মে সালমা(রা:)  থেকে বর্নিত, ‘নবী উম্মে সালমার(রা:)  ঘরে নামায পড়ছিলেন।আবদুল্লাহ অথবা উমর ইবনে সালামা তার সামনে দিয়ে যেতে উদ্যত হলে হাতের ইশারায় বাধা দিলে তিনি ফিরে যান’।   ইবনে মাজাহ- ৯৪৮

৬) হযরত আবু হুরায়রা(রা:) থেকে বর্নিত, ‘নবী বলেছেন, যখন তোমাদের মধ্যে কেউ খোলা জায়গায় নামায পড়ে, সে যেন সুতরাহ হিসাবে সামনে কিছু রাখে।যদি কিছু নাপায়, তাহলে সে যেন একটা লাঠি রাখে। সেটাও না পেলে, তার সামনে যেন একটা রেখা টেনে দেয়। তারপর এই রেখার বাহির দিয়ে কেউ যাতায়াত করলে, তার কোন ক্ষতি হবেনা’। ইবনে মাজাহ- ৯৪৩, আবু দাইদ-৬৮৯ 

৭)  হযরত ইবনে উমর(রা:) থেকে  বর্নিত, ‘নবী(স:) সফরে উনার উটকে সামনে আড়াআড়ি করে বসায়ে, তার দিকে মুখ করে নামায পড়তেন’।

বুখারী-৪৭৭, মুসলিম-১০১০

৮)  হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ(স:) নামায পড়ার সময়,আমি তার ও কেবলার মাঝামাঝি জানাযার লাশের মত আড়াআড়ি ভাবে শুয়ে থাকতাম’।

বুখারী-৪৮৫, মুসলিম-১০৩১,ইবনে মাজাহ-৯৫৬ 

৯)  হযরত আয়েশা(রা:) থেকে বর্নিত, ‘আমি রাসুলুল্লাহর(স:)  সামনে শুয়ে থাকতাম।আমার পা দুটি কেবলার দিকে থাকত।রাতের নামায পড়ার সময়, তিনি যখন সেজদা করতেন,তখন হাত দিয়ে আমাকে টিপ দিতেন।আমি পা গুটিয়ে নিতাম।আবার তিনি যখন দাড়িয়ে যেতেন, আমিও পা বিছিয়ে দিতাম।এ সময় ঘরে কিন্তু আলো থকত না’। বুখারী- ৪৮৩ ,মুসলিম- ১০৩৬

 

কিছু ইমামদের দ্রুত রুকু, সেজদা করা নিয়ে বলুন

কিছু ইমামদের দ্রুত রুকু,সেজদা করা নিয়ে বলুন

ডাঃ জাকির নায়েকঃ  এটা প্রায়ই দেখা যায়। কিন্তু এটা ভুল।

“একদিন মুহাম্মাদ(সঃ) মসজিদে প্রবেশ করলেন এবং একটি লোক তাকে অনুসরন করছিলো।সে নামাজ শেষ করে মুহাম্মাদকে(সঃ)কে সালাম দিল।তিনি সালামের জবাব দিয়ে বল্লেন, যাও এবং নামাজ পড়ো।কারন তুমি নামাজ পড়নি।এভাবে লোকটিকে ৩ বার নামাজ পড়তে বলা হোল। তারপর লোকটি বল্লো আমি এর চেয়ে ভালভাবে নামাজ পড়তে জানিনা, হে  রাসুলুল্লাহ ! কি ভাবে নামাজ পড়তে হয় আপনি আমাকে শিখিয়ে দিন। তখন নবী করিম(সঃ) বল্লেন, নামাজ পড় সেই ভাবে,য়েভাবে আমাকে পড়তে দেখ।  বুখারী-সালাত-৮৫৭

 

যাকাতুল ফিতরএর ব্যাখ্যা

 ‘যাকাতুল ফিতর’ এর ব্যাখ্যা

ডাঃ  জাকির নায়েকঃ

ক)  যাকাত শব্দের অর্থ পরিষ্কার করা,পবিত্র করা ও ফিতর অর্থ রোযা ভেংগে ফেলা।সুতরাং যাকাতুল ফিতরের অর্থ হোল পবিত্রকরন,দানশীলতা যেটা রোযা ভাংগার জন্য দেয়া হয়।এই দান এমন একটা পরিমান যেটা গরীব মুসলিমদের খাদ্য হিসাবে দেয়া হয়।এই খাদ্যের পরিমান বিশেষ ভাবে নির্ধারিত ও এটা প্রত্যেক মুসলিমের জন্য বাধ্যতামূলক।

#  “মহানবী (সঃ) প্রত্যেক মুসলিমকে ফতরের যাকাত হিসাবে এক  ‘শাআ’ পরিমান খেজুর অথবা বার্লি দিতে নির্দেশ দিয়েছেন”।  বুখারী—যাকাত-১৫০৩

#   “মুহাম্মাদ(সঃ) প্রত্যেক মুসলিমের উপর যাকাত ফরয করেছেন”।  আবু দাউদ-১৬১৮

খ) শরীয়তে এই ব্যাপারে কি ধরনের সিদ্ধান্ত আছে ?

কিছু বিশেষজ্ঞা আছেন, যারা বলেন,এই যাকাত ফরয ছিলো,কিন্তু এখন আর নাই।তারা এই মতামত প্রদান করেন,নিজের হাদিসের উপর ভিত্তি করে।

“কায়েস ইবনে সাদ ইবনে উবাদা বলেন,মুহাম্মাদ(সঃ) আমাদের উপর যাকাত ফরয হবার পূর্বে ফিতরের যাকাত ফরয করেছিলেন এবং যাকাত ফরয হবার পরে তিনি ,যাকাতুল ফিতরের ব্যাপারে কোন আদেশ প্রদান করেননি। কিন্তু আমরা যাকাতুল ফিতর অনুশীলন করি”। সুনানে নাসাঈ-যাকাত-২৫০৯

এই হাদিসের কারনে তারা বলে যে, যাকাতুল ফিতর আগে ফরয ছিল কিন্তু  কিন্তু এখন আর ফরয নাই। কিন্তু আসল ব্যাপার হোল, এই হাদিসে এটা বলা হয়নি, যাকাতুল ফিতর ফরয নয় কিংবা ফরয রহিত হবার ব্যাপারে কোন সাক্ষ্য-প্রমান  কিন্তু বর্ননাকারী সাহাবী দেননি।যখন এটা ফরয নির্দেশিত হয় ও পরবর্তীতে যখন আরেকটা ফরয আসে, এবং যদি প্রথমফরযটার বন্ধ হবার ব্যাপারে কোন স্পষ্ট নির্দেশনা না আসে,তাহলে উবয়ই চলতে থাকবে।অধিকাংশ বিশেষজ্ঞ এই কারনে একমত যে,  যাকাতুল ফিতর প্রত্যেক মুসলিমের উপর ফরয।

গ) যাকাতুল ফুতরের যৌক্তিকতা কি ?

মহানবী(সঃ) বলেছেন, “রমযান মাসে কৃত বিভিন্ন বাজে কাজ হতে রোযাকে পবিত্রকরনের  জন্যে ফিতরের যাকাত প্রদান প্রত্যেক মুসলিমের জন্য ফরয। যাকাত হিসাবে দরিদ্র মুসলিমকে খাওয়াতে হবে।যদি কেউ  ‘ঈদুল ফিতরের’ আগে দেয়,তবে সেটা যাকাত হিসাবে গন্য হবে আর পরে দিলে সেটা সাধারন দান হিসাবে গন্য হবে”। আবু দাউদ-যাকাত-১৬০৫

ঘ) যাকাত ও যাকাতুল ফিতরের মধ্যে পার্থক্য

#  যাকাত অর্থ পবিত্রতার কাজ করে, কিন্তু যাকাতুল ফিতর রোযা পবিত্রতার কাজ করে।

#  যাকাত দেয়ার নিয়ম নিসাব পরিমান সম্পদের মালিকদের কিন্তু ফিতর শুধুমাত্র

যাদের খাওয়ানোর শক্তি আছে, তাদের উপর ফরয।

#   যাকাত শুধুমাত্র ৮ শ্রনীর মুসলিমকেই দিতে হবে। কিন্তু ফিতর শুধুমাত্র দরিদ্র মুসলিমকে।

#  যাকাত শুধুমাত্র মুসলিমকেই সারা বছর দেয়া যায়।  ফিতরের যাকাত হিসাবে কোন দরিদ্র মুসলিমকে ঈদের দিন সকালেই খাওয়াতে হয়।

#  যাকাত হিসাবে টাকাসহ যেকোন বস্তু দেয়া যায়। কিন্তু ফিতরে শুধু খাদ্য জাতীয় জিনিসই দিতে হবে।

 

কাযা নামায আসাদুল্লাহ গালিব

কাযা নামায

আসাদুল্লাহ গালিব

১)  হযরত আনাস ইবনে মালেক(রা:) বর্নিত, ‘নবী(স:) বলতেন, কেউ কোন নামায পড়তে ভুলে গেলে, তা যখনই মনে হবে, তখনই পড়ে নেবে।উক্ত নামাযের এছাড়া আর কোন কাফ্ফারা নাই। কেন না মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আমাকে স্মরনের উদ্দেশ্যে নামায কায়েম কর’। বুখারী-৫৯২,মুসলিম-১৪৪৬,৪৭,৪৯,নাসায়ী-৬১৪,৬১৯-২১ 

২)  হযরত আনাস(রা:) থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ বলেছেন, নামাযে গাফেল(নিয়মিত নামাযী না কিংবা কাযা পড়ে না) এমন ব্যাক্তির উচিৎ , যখনই স্মরন হবে(নামাযের প্রয়োজনীয়তা চিন্তা করবে) তখন থেকেই নামায শুরু করে দেয়া’। নাসাযী -৬১৫,৬১৭

৩)  আবু হুরায়রা থেকে বর্নিত, ‘রাসুলুল্লাহ(স:) খায়বার যুদ্ধ শেষে ফিরে আসার সময় রাতে সফররত ছিলেন।এক সময় তার ঘুম চলে আসলে, তিনি সেখানেই অবতরন করলেন। বেলালকে বল্লেন, ‘তুমি আজ রাতে আমাদের পাহারার কাজ কর’। এরপর নবী(স:) ও সমস্ত সাহাব সবাই ঘুমিয়ে পড়লেন। ফজরের সময় ঘনিয়ে আসলে, বেলাল(রা:)  তার উটের সাথে হেলান দিয়ে, পূর্বদিকে মুখ করে ঘুমিয়ে পড়লেন’। কেউ ঘুম থেকে জাগতে পারেনি,  এই অবস্থায়,সূর্যের আলো তাদের মুখে এসে পড়লো।নবী(স:) ই সবাইকে ঘুম থেকে উঠালেন।তিনি বেলালকে(রা:) ডাকলে, বেলাল, বলেন ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমার পিতা-মাতা আপনার জন্য কুরবান হোক, আপনি যে কারনে  জাগতে পারেননি, আমিও  একই কারনে পারিনি। নবী তাড়াতাড়ি যাত্রা হুকুম দিলেন।কিছু দূরে গিয়ে রাসুলুল্লাহ অযু করলেন ও বেলালকে(রা:)  নামাযের জন্য আদেশ দিলেন।বেলাল ইকামত দিলে তিনি সবাইকে নিয়ে ফজরের নামায পড়লেন।

 মুসলিম-১৪৪০

৪) তিনি নামাজের ওয়াক্ত পরম্পরা বজায় রেখে কাযা আদায় করতেন।

হযরত ইবনে জাবের ইবনে আবদুল্লাহ থেকে বর্নিত, ‘নবী(স:) বলেছেন, ‘সূর্যাস্তের পর উমর ইবনে খাত্তাব(রা:)  নবীর নিকট এসে কুরা্‌ইশ গোত্রের কাফেরদের গালি দিতে লাগলেন। তারপর বল্লেন, ইয়া রাসুলুল্লাহ ! আমি এখনও আসরের নামাজ আদায় করতে পারিনি।কারন আমি নামায আদায় করার মত অবস্থায় ছিলাম না। নবী(স:) বল্লেন, আমিও  আদায় করতে পারনি। উমর(রা:) বল্লেন, আমরা বুত্বহান নামক স্থানের দিকে অগ্রসর হলাম। নবী(স:)সহ আমরা সবাই  সেখানে অজু করলাম। সূর্যাস্তের পর আমরা আসর ও পরেই মাগরেবের নামায আদায় করলাম। বুখারী-৫৬১

৫)  হযরত আবদুল্লাহ ইবনে মাসুদ(রা:) থেকে বর্নিত, ‘ আমরা রাসুলুল্লাহ(স:) এর সাথে ছিলাম।আমরা খন্দক যুদ্ধে যোহর,আসর,মাগরেব ও এশার নামায আদায়ে বাধাপ্রাপ্ত হলাম।এটা ছিল আমাদের জন্য খুব কষ্টদায়ক। আমি মনে মনে চিন্তা করছিলাম, আমরা তো রাসুলুল্লাহর সাথে জিহাদে আছি। এই সময় নবী বেলাল(রা:)কে আজান দিবার জন্য ইকামত দিতে নির্দেশ দিলেন ও তিনি আমাদের নিয়ে যোহরের রামায পড়লেন। বেলাল(আ:) আবার ইকামত দিলে আমরা আসরের নামায পড়লাম।

তিনি পুনরায় ইকামত দিলে, নবী(স:)  আমাদের মধ্যে পায়চারি করে বল্লেন, ভূ-পৃষ্ঠে তোমাদের ছাড়া এমন কোন দল নাই, যারা মহান আল্লাহকে স্মরন করে’।নাসায়ী-৬২৩

 

ওযুর গুরুত্ব

ওযুর গুরুত্ব

১)  রাসুলুল্লাহ(সা:)  বলেছেন, ‘ কালো ঘোড়া সমূহের মধ্যে কপার চিতা ঘোড়া যেভাবে চেনা যায়, কিয়ামতের দিন আমার উম্মতের ওযুর অংশগুলোর ঔজ্জ্বল্য দেখে আমি তাদেরকে চিনব। তাদেরকে ‘হাউযে কাউসারে’র পানি পার করানোর জন্য আগেই পৌছে যাব’।   মুসলিম,মিশকাত-২৯৮

২) রাসুল(স:) বলেন,  ‘আমি কি তোমাদের বলবো, কোন বস্তু দ্বারা আল্লাহ তোমাদের গোনাহ সমূহ অধিক হারে দূর করবেন  ও সম্মানের স্তর বৃদ্ধি করবেন ? সেটা হোল কষ্টের সময় ভালভাবে ওযু করা,বেশী বেশী মসজিদে যাওয়া ও এক সালাতের পর আরেক সালাতের জন্য অপেক্ষা করা’। মুসলিম, মিশকাত-২৮২

৩)  রাসুল(স:) বলেন, ‘মুসলমান যখন ফরয সালাত আদায়ের জন্য  ওযু করে, পূর্ন মনোযোগ দিয়ে রুকু, সেজদা করে,তখন সেই ওযু,সালাত তার বিগত দিনের গুনাহর কাফফরা হিসাবে বিবেচিত হয়, তবে কবীরা গুনাহ ছাড়া।   মুসলিম,মিশকাত-১০৪২

৪)  ওযু করার পর সব সময় ২ রাকাত ‘তাহিইয়াতুল ওযু’ ও ২ রাকাত ‘তাহিইয়াতুল মসজিদ’  নফল সালাত আদায় করবে। এই ভাল অভ্যাসের জন্যই নবী(স:) স্বপ্নতে  জান্নাতে,  হযরত বেলালের(রা:)  অগ্রিম পদশব্দ শুনেছিলেন।

মুত্তাফাত আলাইহে,মুশকাত-১৩২২, তিরমিযী-১৩২৬, আহমদ 

.............

ইমামের পড়ার পরে, স্বশব্দে আমীন বলা

ইমামের পড়ার পরেস্বশব্দে আমীন বলা

আমীন  অর্থ  ‘হে আল্লাহ ! তুমি কবুল কর’।জেহরী সালাতে ইমামের সুরা ফাতেহা পড়া শেষ হলে, স্বশব্দে আমীন বলা নিয়ে কেউ দ্বিধান্বিত থাকে। আবার জানলেও আমাদের সমাজে চর্চা না থাকার কারনে বলা হয় না। কোন ইমাম শুনার মত জোরে আমীন না বল্লেও  মুক্তাদিরা  অবশ্যই জোরে বলবেন, যেভাবে সাহাবাগন বলেছেন।

১)  ওজায়েল বিন হুজর(রা:) ও আবু হুরায়রা(রা:) থেকে বর্নিত , ‘ রাসুলুল্লাহ(স:) বলেন,‘যখন ইমাম আমীন বলে, তখন তোমরা সবাই ‘আমীন’ বল’।ইমামের ‘আমীন’বলার সাথে সাথে মুক্তাদির আমীন বলা ভাল। তাতে ইমামের পিছনে  মুক্তাদির সুরা ফাতেহা পাঠ করা  সুবিধা হয়। যার ‘আমীন’ আসমানের ফেরেস্তাদের সাথে মিলে যাবে, তার পূর্বেকার সব গুনাহ মাফ করা হবে’।

মুত্তাফাক আলাইহে,মিশকাত-৮২৫,মুওয়াত্তা-৪৬-পৃষ্ঠা-৫২

২)  নাফে বলেন, ইবনু ওমর(রা:)  কখনো ‘আমীন’ বলা ছাড়তেন না এবং এব্যাপারে সবাইকে উৎসাহ দিতেন। মুনযেরী,আত-তারগীব-৫১১, হাশিয়া আলবানী-১/২৭৮ পৃষ্ঠা

৩)  আত্না বলেন, আবদুল্লাহ বিন যুবায়ের(রা:) সরবে আমীন বলতেন। তার সাথে মুক্তাদির আমীনের আওয়াজে মসজিদে গুন্জরন উঠত।

বুখারী-৭৮০ তা-লিক-১/১০৭ পৃষ্ঠা, ফাতহুল বারী-৭৮০-৮১- অনুচ্ছেদ-১১১

৪)   রাসুলুল্লাহ বলেছেন,  ‘ইহুদীরা তোমাদের সবচেয়ে বেশী হিংসা করে তোদের ‘সালাম’ ও ‘আমীনের’  কারনে। কারন এই সাথে ফেরেস্তারাও আমীন বলেন।ফলে তা আল্লাহর নিকট কবুল হয়ে যায়। তিরমিযী,আবু দাউদ,মিশকাত-৮১৮

৫)  ‘আমীন’ বলার পক্ষে  ১৭টি হাদীস আছে। আর-রাওযাতুন নাদিইয়াহ ১/২৭১

৬)  শোবা থেকে একটা রেওয়াত আহমদ ও দারাকুৎনীতে এসেছে, যার অর্থ রাসুল(স:), ‘আমীন’ বলার সময় ‘আওয়াজ নীচু হোত’।মূলত:  এই হাদিসটি থেকেই আস্তে ‘আমীন’ বলার প্রচলন হয়েছে। হাদিস বিশেষজ্ঞগন এটিকে  ‘মুযতারিব’  বলেছেন। এর অর্থ,  যার সনদ,মতন ও  শব্দগত ভুল থাকার কারনে যঈফ বা দূর্বল।

দারাকুৎনী-১২৫৬,আর-রাওযাতুন নাদিইয়াহ ১/২৭২

৭)  সুফিয়ান সওরী(রা:)  বর্নিত সরবে ‘আমীন’ বলার হাদিসটা এসব ত্রুটি থেকে মুক্ত। বুখারী ও মুসলিমসহ বিভিন্ন সহীহ হাদিসে বর্নিত স্বশব্দে  আমীন বলার বিশুদ্ধ সুন্নতের উপরই আমাদের আমল করতে হবে।

................

 

ইউসুফ চেম্বার to জাকির নায়েকঃ ঈদের দিনে কি কি কাজকে উৎসাহিত করা হয়েছে ?

 

  ইউসুফ চেম্বার to জাকির নায়েকঃ ঈদের দিনে কি কি কাজকে উৎসাহিত করা হয়েছে ?

#   ঈদের নামাজের পূর্বে গোসল করা সুন্নাত।  “আবদুল্লাহ ইবনে ওমর(রাঃ) ইদের নামাজের পূর্বে গোসল করতেন”।   আল-মুয়াত্তা- ৪২৮

#  পরিষ্কার কাপড় ও উত্তম কাপড় পরা সুন্নাত।

#  “মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদের নামাজের উদ্দেশ্য বের হবার আগে খেজুর খেতেন”।

বুখারী-ঈদ-৯৫৩

#  “মুহাম্মাদ(সঃ)  ঈদের নামাজ আদায় করার জন্য ঈদগাহে যেতেন”।

বুখারী-ঈদ-৯৫৬

#  “মুহাম্মাদ(সঃ)  বলেছেন, মসজিদে নব্বীতে নামাজ আদায় করা মসজিদুল হারাম ব্যতীত  অন্যান্য যেকোন মসজিদে নামাজ আদায় করার তুলনায় এক হাজারগুন উত্তম।তথাপি তিনি ঈদের নামায আদায় করার জন্য ঈদগাহে যেতেন”। বুখারী-হারামাইন-১১৯০

#  “  মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদগাহ থেকে  বাড়ী ফেরার পথে ভিন্ন রাস্তা ব্যবহার করতেন। যাওয়ার সময় একটা রাস্তা  ও  ফেরার সময়  আরেকটা রাস্তা ব্যবহার করতেন”। বুখারী-ঈদ-৯৮৬

#  “ সকাল সকাল ঈদের নামাজ পড়তে যাওয়া উচিত”।

#  “মুহাম্মাদ(সঃ) পায়ে হেটে ঈদগাহে যেতেন”।   বুখারী-৫৩০

সুতরাং পায়ে হেটে যাওয়া সুন্নাত।

#  “মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদের দিন বাড়ী হতে বের হয়ে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্ব মুহুর্ত পর্যন্ত,  তাকবীর/তালবিয়া পাঠ করতেন”। সবোর্ত্তম তালবিয়া হোল, ইবনে মাসউদ(রাঃ) যেটা পাঠ করতেন।  সিলসিলা আল নাহিয়ান-১৭১

#  ইবনে মাসউদ(রাঃ) পড়তেন, আল্লাহু আকবার,আল্লাহু আকবার, লাইলাহা ইল্লাল্লাহু,  আল্লাহু আকবার আল্লাহু আকবার ওয়ালিল্লাহিল হামদ”।

দার-আল কুতনি, মুসান্নাফ ইবনে আবি শায়বা-৫৬৬০

 

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- সব মুসলিমের একই সাথে রোজা ও ঈদ

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- সব মুসলিমের একই সাথে রোজা ও ঈদ

ডাঃ  জাকিরঃ

এ ব্যাপারে আলেমদের মধ্যে একাধিক মতামত পাওয়া যায়। একদল বলে, সারা বিশ্বের মুসলিমদের মক্কার সময় অউসরন করা উচিত। অন্যদল বলে, এটা স্থানীয় সময়ে  অর্থাত বর্তমানে যেভাবে চলছে, সেভাবেই চলা উচিত।

ক)  “রমযানের মাস, এ মাসেই কুরআন নাযিল করা হয়েছে , যা মানব জাতির জন্য পুরোপুরি হিদায়াত এবং এমন দ্ব্যর্থহীন শিক্ষা সম্বলিত, যা   সত্য –সঠিক পথ দেখায় এবং হক ও বাতিলের পার্থক্য সুস্পষ্ট করে দেয় ৷ কাজেই এখন থেকে যে ব্যক্তি এ মাসের সাক্ষাত পাবে তার জন্য এই সম্পূর্ণ মাসটিতে রোযা রাখা অপরিহার্য এবং যে ব্যক্তি রোগগ্রস্ত হয় বা সফরে থাকে, সে যেন অন্য দিনগুলোয় রোযার সংখ্যা পূর্ণ করে ৷আল্লাহ তোমাদের সাথে নরম নীতি অবলম্বন করতে চান, কঠোর নীতি অবলম্বন করতে চান না ৷ তাই তোমাদেরকে এই পদ্ধতি জানানো হচ্ছে, যাতে তোমরা রোযার সংখ্যা পূর্ণ করতে পারো এবং আল্লাহ তোমাদের যে হিদায়াত দান করেছেন সে জন্য যেন তোমরা আল্লাহর শ্রেষ্ঠত্ব প্রকাশ করতে ও তার স্বীকৃতি দিতে এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করতে পারো ৷   সুরা বাকারা-১৮৫

খ)  “তোমরা যখন নূতন চাদ দেখ,তখন রোযা রাখ এবং নূতন চাদ দেখলে  রোযা ভংগ।

বুখারী-১৯০৭,১৯০৯

এই হাদিসটার উপর ভিত্তি করে, ইমাম ইবনে তাইমিয়া(র) বলেন, সারা বিশ্বের সব জায়গা থেকে একসাথে চাদ দেখা অসম্বব।সুতরাং  মক্কার সময়টা একসাথে অনুসরন করা অযৌক্তিক। মুহাম্মাদ(সঃ)  আরো বলেছেন,

গ)  “রোযা ঐদিনে আরম্ভ হবে যেদিন সকলে রোযা রাখবে, আর ঐদিন রোযা ভাংগবে ,যেদিন সকলে ভাঙ্গবে এবং কুরবানী করতে হবে ঐদিনে যেদিন সকলে কুরবানি করে”।

 তিরমিযী-৬৯৭

ঘ)  “আর পানাহার করতে থাকো ৷ ১৯২ যতক্ষণ না রাত্রির কালো রেখার বুক চিরে প্রভাতের সাদা রেখা সুস্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয় ৷ ১৯৩ তখন এসব কাজ ত্যাগ করে রাত পর্যন্ত নিজের রোযা পূর্ণ করো ৷ সুরা বাকারা- ১৮৭

কিন্তু সূর্যোদয়  সারা বিশ্বে  একই সময়ে হয় না।সুতরাং রোযা পালনে স্থানীয় সময় অনুসরন করতে হবে।

 

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- ঈদের নামাজের সঠিক নিয়ম কি ?

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- ঈদের নামাজের সঠিক নিয়ম কি

#  কুরআন-হাদিসের নির্দেশ অনুযায়ী ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা র নামায অবশ্যই ২ রাকাত আদায় করতে হবে।হযরত ওমর(রাঃ) বলেন,মুসাফিরের জন্য ২ রাকাত।ইদের নামায ২ রাকাত,জুমার নামায ২ রাকাত এবং এগুলো মুহাম্মাদ(সঃ) থেকে এসেছে”।

সুনানে বায়হাকি-জুম পৃ-হাদিস -৫৭১৯

#  ঈদের নামাযের জন্য কোন আযান এবং ইকামতের দরকার নেই।সাহাবী যাবুর ইবনে সামুরা বর্ননা করেছেন, “তিনি মুহাম্মাদ(সঃ) এর সাথে একবার বা দুইবার উভয় ঈদ পালন করেছেন এবং  সেইসালাতে কোন আযান কিংবা একামত ছিল না”। মুসলিম-সালাত-১৯২৯

#  ঈদের নামাযের আগে-পরে আর কোন নামায পড়তে হয় না।হাদীসে আছে, ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেন, “মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদুল ফিতরের দিনে নামায আদায় করতেন ও এই দুই রাকাতের আগে-পরে আর কোন নামায আদায় করতেন না”।

আবু দাউদ সালাত-  ১১৫৫

#   ঈদের নামায আদায় করা শুরু করলে,আদায়কারীকে প্রথমে “তাকবীর  আল ইহরাম”  বলা। অর্থাত  “আল্লাহ হুআকবর” এবং  প্রথম রাকাতে এটা ৭ বার অনুসরন করতে হবে এবং দ্বিতিয় রাকাতে ‘ফায় তাকবীর’ বলতেহ হবে। এগুলো আমরা সহীহ হাদিস থেকে জানতে পরেছি। আয়েশা(রাঃ) থেকে বর্নিত আছে যে, “মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদুল ফিতর এবং ঈদুল আযহা র নামায আদায় করতেন এবং তিনি প্রথম রাকাতে ৭ তকবীর এবং দ্বিতীয় রাকাতে ৫ তকবীর বলতেন”।

আবু দাউদ-সালাত-১১৪৫-১১৪৬

এরপরে ‘আউযুবিল্লাহ হিমিনাস—রাহমানির রহিম  এবং তারপর সুরা ফাতেহা পড়তে হবে। প্রথম রাকাতে ফাতিহার পরে,সুরা কাফ ও দ্বিতীয় রাকাতে ফাতিহার পরে সুরা কামার পড়তে হবে। কিংবা প্রথম  রাকাতে  সুরা আলা ও দ্বিতীয় রাকাতে দ্বিতীয় রাকাতে সুরা গাশিয়াহ পড়তে হবে। তবে অন্য সুরা পড়লেও সমস্যা নাই।তবে এটা সুন্নাত।

#  ঈদের সালাত আআদায়ের পরে খুতবা দিতে হবে।হাদীসে আছে, ইবনে আব্বাস(রাঃ) বলেন, “মুহাম্মাদ(সঃ) ওমর(রাঃ), আবু বকর(রাঃ) ও ওসমান(রাঃ)

এর সাথে ঈদের নামায আদায় করেছেন।তাদের সকলেই আগে ঈদের নামায আদায় করেছেন,তারপর খুতবা পাঠ করেছেন”। বুখারী-ঈদ-৯৬২

#  সহীহ হাদিস শরীফে আছে যে, মুহাম্মাদ(সঃ) ঈদের সালাত আদায় করার পরে  এবং খুতবা পড়ার আগে বলতেন যে, তোমাদের মধ্যে যারা খুতবা শুনতে চাও, তারা শুনতে পারো। আর যারা শুনতে চাও না, তারা তারা যেতে পারো”।

আবু দাউদ সালাত-১১৫১

বর্তমানে ইমামরা বলেন যে, আপনারা কেউ উঠবেন না। তিনি মুসল্লীদের চলে যা ওয়া থেকে বিরত রাখেন। এটাও বলেন যে, চলে যাওয়া হারাম। কিন্তু খুতবা শুনলে ভাল।তবে হানাফী মাযহাব অনুযায়খুতবা শুনা ওয়াজিব(অনুবাদক)। জুমার দিনে ঈদের নামায আদায় করলে, জুমার নামায পড়া জরুরী না। একই ভাবে  এটাকে বাধ্যতামূলক  বলা ঠিক না।

আবু দাউদ-সালাত-১০৬৮

 

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- যাকাৎ ও সদকার পার্থক্য

ইউসুফ to ডাঃ জাকির- যাকাৎ ও সদকার পার্থক্য

যাকাত

যাকাত  শব্দের অর্থ  পবিত্রকরন। যদি কোন মুসলিমের চাহিদা পূরন করার পর  তার কাছে নিসাব পরিমান অর্থ জমা থাকে , সেই জমার  পরিমান যদি এক বছর হয়, তবে তাকে যাকাত বলে।

যাকাত হচ্ছে বাধ্যতামূলক দান। যাকাত দেবার জন্য ১ বছর অপেক্ষা করতে হয়। যাকাত  দিলে আল্লাহ শাস্তি দিবেন। ৮ শ্রেনীর মানুষ এটা গ্রহন করতে পারে। যাকাত অমুসলিমকে দেয়া যায় না।

সদকা

সদকা শব্দটির  মৌলিক শব্দ হোল, ‘সিদক’, যার অর্থ  আন্তরিকতা।সুতরাং সদকা হোল  আল্লাহর  আনুগত্যের প্রতি গভীর আন্তরিকতা। সদকা হচ্ছে ঐচ্ছিক দান। কিন্তু সদকা’র জন্য কোন সময়ের  প্রয়োজন নাই। এখানে এই ব্যাপার নাই।  সদকা’র জন্য  এটা নেই। এটা সবাইকে দেয়া যায়।

ইউসুফ to ডাঃ জাকির – ই’তিকাফের ব্যাখ্যা

 

ইউসুফ to ডাঃ জাকির – ইতিকাফের ব্যাখ্যা

ডাঃ  জাকির নায়েকঃ-

ক)  ই’তিকাফ শব্দটি ‘আকাফাহ’ হতে এসেছে, যার অর্থ পরিষ্কার করা,শক্ত করা,কোন জিনিসকে আরেকটার সাথে মিশানো ইত্যাদি। সেই জিনিসটা হতে পারে ভাল বা মন্দ।  মহান আল্লাহ  বলছেন,

#  “সে সময়ের কথা স্মরণ করো  ৫৪ যখন সে তার নিজের বাপকে ও জাতিকে বলেছিল, এ মূর্তিগুলো কেমনযেগুলোর প্রতি তোমরা ভক্তিতে গদগদ হচ্ছো?” সুরা আম্বিয়া-৫২

#  এখানে নেতিবাচক অর্থে ব্যবহার করা হয়েছে। কিন্তু  অন্য স্থানে,

আর স্মরণ করো তখনকার কথা যখন আমি এই গৃহকে (কা’বা)লোকদের জন্য কেন্দ্র ও নিরাপত্তাস্থল গণ্য করেছিরাম এবং ইবরাহীম যেখানে ইবাদাত করার জন্য দাঁড়ায় সে স্থানটিকে স্থায়ীভাবে নামাযের স্থানে পরিণত করার হুকুম দিয়েছিলাম ৷ আর ইবরাহীম ও ইসমাঈলকে তাকীদ করে বলেছিলাম, আমার এই গৃহকে তাওয়াফকারী, ইতিকাফকারী ও রুকূ’-সিজদাকারীদের জন্য পাক-পবিত্র রাখো”৷

“আর স্মরণ করো, ইবরাহীম ও ইসমাঈল যখন এই গৃহের প্রাচীর নির্মাণ করছিল, তারা দোয়া করে বলছিলঃ “হে আমাদের রব! আমাদের এই খিদমত কবুল করে নাও ৷ তুমি সবকিছু শ্রবণকারী ও সবকিছু জ্ঞাত”। সুরা বাকারা-১২৫,১২৭

ই’তিকাফের অর্থ হোল নিজেকে কোন কিছুর সাথে পুরোপুরি মিশায়ে  দেয়া। এখানে মসজিদের সাথে মিশানো বুঝাচ্ছে। আল্লাহর সন্তুষ্টি ও পুরুস্কারের আশায় নিজেকে সম্পূর্ন ভাবে মসজিদের সাথে মিশায়ে দেয়া।

 ই’তিকাফ সুন্নাত তবে ফরয হবে যদি কেউ ওয়াদা করে যে, সে নির্দিষ্ট দিনে ই’তিকাফ করবে। কিন্তু সাধারনতঃ ই’তিকাফ হোল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।

#  “যে ব্যাক্তি আল্লাহর ইবাদাত করার ওয়াদা করলো তার উচিত ওয়াদা পালন করা, আর যে  আল।লাহর ইবাদত করবেনা বলে ওয়াদা করলো, তার উচিত সেই ওয়াদা পালন না করা”। বুখারী-৬৬৯৬

#  “আর যখন তোমরা মসজিদে  ই’তিকাফে বসো তখন স্ত্রীদের সাথে সহবাস করো না ৷এগুলো আল্লাহর নির্ধারিত সীমারেখা,এর ধারে কাছেও যেয়ো না” ৷

 সুরা বাকারা- ১৮৭

#   আয়েশা (রা) বলেন, “মুহাম্মাদ(সঃ)  রমযানের শেষ ১০দিন ই’তিকাফে বসতেন  এবং তার মৃত্যুর পর আয়েশা(রাঃ)  এই ধারা অব্যহত রাখেন”।বুখারী-২০২৬

সুতরাং  ই’তিকাফ  সুন্নাত।

খ) তিকাফের  মূল উদ্দেশ্য কি ?

#  “শবে-কদর হোল এক হাজার মাস থেকে উত্তম”। সুরা কদর-০৩

ই’তিকাফের মূল উদ্দেশ্য হোল, লাইলাতুল কদর  খোজ করা। ১ হাজার মাসকে ১২ দিয়ে ভাগ করলে ৮৩ বছরের চেয়ে কিছু বেশী হয়, যেটা মানুষের বর্তমান গড় আয়ুর চেয়ে বেশী।  কাজেই এই রাতে কেউ ইবাদত করলে, তার সারা জীবনের ইবাদতের চেয়ে  বেশী সওয়াব পাবে।

#  “লাইলাতুল কদর খোজার জন্য (সঃ) রমযানে ১০-১০-১০ দিন ই’তিকাফে বসতেন এবং পরবর্তীতে এটা বলা হোল যে, রমযানের শেষ ১০দিনে লাইলাতুল কদর রয়েছে”। মুসলিম-২৬২৭

তবে লাইলাতুল কদর খোজার পাশাপাশি  আরও কিছু লক্ষ্য ছিলঃ-  যেমন  অধিক ইবাদতের জন্য সব ঝামেলা থেকে মুক্ত থাকা। রোযাগুলো অত্যন্ত তাকওয়ার সাথে পালন করা। রাসুলের একটা সুন্নাত পালন করা।

আল্লাহ মানুষের ভাগ্য নির্ধারন করে দেন। তাহলে কোন মানুষ যদি, খুন করে তাহলে তার শাস্তি হবে কেন ?

 আল্লাহ মানুষের ভাগ্য নির্ধারন করে দেন। তাহলে কোন মানুষ যদিখুন করে তাহলে তার শাস্তি হবে কেন

Q  ডাঃ জাকির নায়েক, কুরআনে আছে, আল্লাহ মানুষের ভাগ্য নির্ধারন করে দেন। তাহলে  কোন  মানুষ যদি, খুন করে তাহলে তার শাস্তি হবে কেন ?

ক)   দেখুন একটা ক্লাসে  শিক্ষক ছাত্রদের শিক্ষা দেন। পরীক্ষার আগে শিক্ষক  বল্লেন, যথাক্রমে এই তিন ছেলের প্রথম রেজাল্ট  a plus,a ও a- হবে।

রেজাল্ট  সেই রকমই হোল। এর অর্থ  কি এই যে, শিক্ষক  বলার কারনে  রেঝাল্ট এরকম হোল ? বরং  শিক্ষক  ছেলেদের কোয়ালিটি  সম্পর্কে জানতেন বলে উনার ভবিষ্যতবানী সঠিক হোল।

খ)  একলোক একটা মোড়ে যেয়ে ৫টা রাস্তা পেয়ে, সে ৩নং রাস্তাটা পছন্দ করলো। এখন  মহান আল্লাহ উনার ভাগ্যে ৩নং টা  লিখে রেখেছিলেন, বলে তিনি সেটা পছন্দ করলেন ,এমন নয়। বরং  এই লোক ৩ নং  রাস্তাটা পছন্দ করবেন, স্রষ্টা হিসাবে তিনি আগেই সেটা জানতেন, বলেই  লিখে  রেখেছিলেন।

সুতরাং  যে ব্যাক্তি খুন করে, সে আল্লাহর ইচ্ছায় করেনা। বরং সে খুন করবে তা আল্লাহ আগে থেকেই জানতে পারেন এবং সেটা লিখে রাখেন। এই কারনে খুনীর সাজা হবে। মানুষের যেহেতু বিবেচনা বোধ আছে, তাই সে ইচ্ছা করলে যেকোন কাজ করতে পারে, আবার নাও  পারে। এই কারনে  আল্লাহ ভাল কাজে পুরস্কার ও মন্দ কাজে শাস্তির ব্যবস্থা করেছেন।

‘ঈদ-মুবাররাক’ বলাটা কতটা যৌক্তিক ? ইউসুফ to ডাঃ জাকির

‘ঈদ-মুবাররাক’ বলাটা কতটা যৌক্তিক ? ইউসুফ to ডাঃ জাকির
ঈদের দিনে মুসলিমদের পরস্পরকে অভ্যর্থনা জানানোর নিয়ম হাদীসে উল্লেখ করা আছে। মুহাম্মাদের(সঃ) এর সাহাবীরা পরস্পরকে অভ্যর্থনা জানাতে “তাকাব্বাল্লাহু মিন্নাহু মিনকুম” বাক্যটি ব্যবহার করতেন”। ফাতহুল বারী-অধ্যায়-২পৃষ্ঠা-৪৪৬
রমজান মাসে রোযা রাখা,আল্লাহর প্রতি কৃজ্ঞতা জানানো,ক্ষমা প্রার্থনা ইত্যাদি দুয়া করা হয়।যেহেত রমযান সমাপ্ত হয়ে যায়, তখন একে অপরকে এই বলে অভ্যর্থনা করে যে, ‘আল্লাহ তোমাদেরকে এবং আমাদের থেকে গ্রহন করুন’। এটাই হোল,
ঈদের দিনেৃ একে অপরকে অভ্যর্থনা জানানোর শ্রস্ঠ মাধ্যম। ঈদ-মুবারাক শব্দটি উপমহাদেশের দেশগুলোতে ব্যবহার করে।মুবারাক অর্থ দয়া। তাহলে ‘ঈদ মুবারক’ শব্দটির অর্থ দাড়ায় ‘দিনটি দয়াপূর্ন হোক’।এটাকে তারা অভ্যর্খনা করার জন্য ব্যবহার করে। সুতরাং ঈদ-মুবারাক শব্দটির অভ্যর্থনায় ব্যবহার সুন্নাত সম্মত না।কিন্তু এটা বলা হারাম কিংবা মাকরুহ নয়, বরং এটা মোবাহ বা ঐচ্ছিক। আমাদের অবশ্যই সুন্নাত চালু করা উচিত।
===


ডাঃ জাকির নায়েককে ইউসুফ চেম্বারঃ ঈদের নামাযের সিদ্ধান্তগুলি কি (ঈদুল ফিতর)

ডাঃ জাকির নায়েককে ইউসুফ চেম্বারঃ ঈদের নামাযের সিদ্ধান্তগুলি কি (ঈদুল ফিতর)

ক)  “আবু হুরায়রা(রাঃ) থেকে বর্নিত, “মুহাম্মাদ(সঃ) বলেছেন, দুইটি দিনে রোযা রাখা নিষিদ্ধ। একটি হোল ‘ঈদুল ফিতর’ ও অপরটি ‘ঈদুল আযহা’

 মুসলিম-রোযা-২৫৩৪

ঈদের নামাযের সিদ্ধানে্তের ব্যাপারে ভিন্নমত দেখা যায়। ইমাম শাফেয়ী(র) ও ঈমাম মালিকের(র) মতে ঈদের নামায হোল ‘সুন্নাতে মুয়াক্কাদা’ঃমুস্তাহাব।উনারা এই মতামত দিয়েছেন, নিম্নোক্ত হাদিসের উপর ভিত্তি করেঃ-

# “পাচ ওয়াক্ত নির্দেশিত নামাজের বাহিরে আল্লাহ তা’আলা আর কোন নামাজ আমাদের জন্য ফরয করেন নি” আল মুগনি-পৃ-২২৩

সুতরাং  দুই ঈদের নামায হোল সুন্নাতে মুয়াক্কাদা।ইমাম হাম্বলি(র) বলেছেন,এটা‘ফরযে কেফায়া’ অর্থাত কোন সম্প্রদায়ে কিছু লোক এই নামায আদায় করলেই যথেষ্ট।সকলের জন্য বাধ্যতামূলক না।তৃতীয় মত হোল, ইমাম আবু হানিফা(র) বলেছেন, এটি ফরয। ইমাম ইবনে তাইমিয়াও  এটাকে ফরয বলেছেন্। তারা এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কুরআনের উপর ভিত্তি করেঃ-

“”আপনার পালনকর্তার উদ্দেশ্য নামাজ পড়ুন ও কুরবানী করুন” সুরা-কাউসার-২

সুতরাং তারা বলেন যে, দুই ঈদের নামায আদায় করা ফরয এবং অনেক হাদীস রয়েছে, যেখানে মুহাম্মাদ(সঃ) মুসলিমদের নির্দেশ দিয়েছেন, তাদের উচিত ঈদের নামায আদায় করা এবং এটি শুধু সাধারন মুসলিমদের বলা হয়নি। বরং  সমস্ত নারীদেরও একথা বলা হয়েছে,যদিও তাদের অনেকে নামায পড়তে পারবেনা।

#  মহানবী(সঃ) বলেছেন, “মহিলাদের কমপক্ষে ঈদের নামাযে যাওয়া উচিত ও শিশুদেরও ঈদে যাওয়া উচিত……..” বুখারী-সালাত- ৩৫১,৩২৪

সুতরাং এই হাদিসগুলোর উপর ভিত্তি করেআবু হানিফা এবং ইবনে তাইমিয়া ঈদের নামায ফরয বলেছেন।

# মহানবী(সঃ) বলেন, আমরা একই সাথে দুই ঈদ অতিবাহিত করছি। একটি হোল ‘ঈদুল ফিতর’ ও অন্যটি ‘জুমআ’র সালাত। অতঃপর ঈদের সালাত আদায় শেষে  তিনি বললেন, যারা জুমআর নামায আদায় করেনি, তারা ইচ্ছা করলে  আর আদায় করার দরকার নাই” আবু দাউদ- সালাত- ১০৬৮

এটা নির্দেশ করে যে, যেহেতু ঈদের নামায আদায় করা হয়েছে, তাই জুমআর নামায আদায় না করলেও চলবে। যদিও জুম’আ, পাচ ওয়াক্ত নামাজের চেয়ে গুরুত্বপূর্ন । সুতরাং  হাদীস থেকে এটা নির্দেশিত হয় যে, ঈদের নামায আদায় করা ফরয ও আমি নিজেও এই মতের সাথে একমত।

ইউসুফ to জাকির: দাড়ায়ে পান করার ব্যাপারে বলুন

 ইউসুফ to জাকির: দাড়ায়ে পান করার ব্যাপারে বলুন 

দাড়ায়ে পান করার ব্যাপারে ইসলামে কি সিদ্ধান্ত দেয়া হয়েছে ?

ডাঃ জাকির নায়েক,মুসলিম শরীফেই ৬ টার বেশী সহীহ হাদিস আছে, যেখানে মুসলিমদের দাড়ায়ে পান করতে নিষেধ করা হয়েছে।

ক)  “রাসুল(সঃ) দাড়ায়ে পান করতে নিষেধ করেছেন”

মুসলিম৫০১৭,৫০১৮,৫০২০,৫০২২

সুতরাং এই হাদিসগুলো দাড়ায়ে পান করার অনুমতি দিচ্ছেনা।কিন্তু কিছু হাদিস আছে যেখানে দাড়ায়ে পান করার অনুমতি দিচ্ছে।

খ) “মুহাম্মাদ(সঃ) জমজম কূপের পানি পান করার সময়, দাড়ায়ে পান করতেন“

মুসলিম- ৫০২৩,৫০২৭ বুখারী ১৬৩৭

এই সমস্ত হাদিসের উপর ভিত্তি করে আলেমরা একমত যে, জমজমের পানি ছাড়া অন্য ক্ষেত্রে বসে পান করতে হবে।কিন্তু এমন হাদিস আছে, যেখানে বলা হয়েছে,মুহাম্মাদ(সঃ) জমজমের পানি দাড়িয়ে পান করা ছাড়াও অন্য সময়েও দাড়ায়ে পান করতেন।

গ) “ আলী(রাঃ) মসজিদের দিকে হাটছিলেন এর্ং দাড়ায়ে পানি পান করছিলেন।তিনি বলেন,আমি জানি যে অনেক মানুষ এটাকে অনুমোদনহীন কাজ বলে ভাবে, কিন্তু আমি রাসুল(সঃ)কে দাড়ায়ে পান করতে দেখেছি”

বুখারী-৫৬১৫মুসনাদে আহমদ- ৭৯৭তিরমিযী  ১৮৮১

সব হাদিস পড়ে আলেমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, বসে পান করা মুস্তাহাব। কারন এটা নবী করিমের (সঃ)এরনির্দেশ, যখন নির্দেশ ও কাজের মধ্যে দ্বন্ধ দেখা দেয়, তখন নির্দেশই বেশী গুরুত্ব বহন করে।কারন নির্দেশ হোল সাধারন সিদ্ধান্ত। তবে দাড়ায়ে পান করা মাকরুহ কিন্তু এর জন্য শাস্তি নাই। কেউ বলেন দাড়ায়ে পান করা হারাম। কিন্তু এটা হারাম না বরং মাকরুহ। বসে পান করা বেশী ভাল।



Desktop Site