এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

প্রশ্নঃ

আমাদের মসজিদে প্রায় শুক্রবারেই মসজিদ ফান্ডে দানকৃত অর্থ দিয়ে মসজিদে আগত কিছু মেহমান ও মুছল্লীকে খাওয়ানো হয়। এটা জায়েয হবে কি?    

উত্তর----- 

 মসজিদের ফান্ড থেকে এরূপ খাওয়ানো জায়েয হবে না। বরং মসজিদের প্রতিবেশীরা আগত অতিথিদের মেহমানদারী করবে। অবশ্য মুছল্লীরা যদি মুসাফিরদের আপ্যায়নের জন্য মসজিদে পৃথকভাবে ফান্ড তৈরী করে, তবে সেখান থেকে খরচ করায় কোন বাধা নেই।

প্রশ্নঃ বিভিন্ন ওয়ায মাহফিলে যে সম্মিলিতভাবে আখেরী মুনাজাত করা হয়, এরূপ কোন বিধান শরী‘আতে আছে কি?

উত্তর--- এরূপ কোন বিধান ইসলামী শরীআতে নেই। এসব সুন্নাত বিরোধী বিদআতী আমল। বরং এক্ষেত্রে মজলিস ভঙ্গের যে দোআ রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) শিখিয়েছেন, তা প্রত্যেকে ব্যক্তিগতভাবে পড়বে। সেটি হল : সুবহানাকাল্লা-হুম্মা ওয়া বিহামদিকা, আশহাদু আল্লা ইলাহা ইল্লা আনতা, আস্তাগফিরুকা ওয়া আতূবু ইলায়কা। এই দোআ পাঠ করলে মজলিস চলাকালীন অনর্থক কথা সমূহের গোনাহ মাফ করে দেওয়া হয় এবং নেকীর কথাগুলি কিয়ামত পর্যন্ত মোহরাংকিত হয়ে যায়’ (নাসাঈ হা/১৩৪৪; তিরমিযী হা/৩৪৩৩; মিশকাত হা/২৪৫০, ২৪৩৩ দোআ সমুহঅধ্যায়)।

প্রশ্নঃ --- mখতমে ইউনুস নামে কোন আমল একাকী বা যৌথভাবে করা যাবে কি?

উত্তর---- এরূপ কোন আমলের অস্তিত্ব শরীআতে নেই। সুতরাং এই দোএতবার পাঠ করলে এই ফযীলত’-এরূপ আমলের কোন সুযোগ নেই। বরং বিপদের সময় এক বা একাধিকবার দোআ ইউনুস পাঠ করতে হয়। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে কোন মুসলিম ব্যক্তি যে কোন সমস্যায় দোআটি পাঠ করলে আল্লাহ তা কবুল করেন’ (তিরমিযী হা/৩৫০৫; মিশকাত হা/২২৯২)।

প্রশ্নঃ 

‘আখেরী চাহার সোম্বা’ কাকে বলে। শরী‘আতে এরূপ কোন দিবসের অনুমোদন আছে কি?

উত্তর

আখেরী চাহার সোম্বাকথাটি ফার্সী। এর অর্থ ছফর মাসের শেষ বুধবার। ইরান, ইরাক, ভারত, পাকিস্তান ও বাংলাদেশে এটি দিবস হিসাবে পালিত হয়ে থাকে। এর ভিত্তি হল- মৃত্যুর পাঁচদিন পূর্বে বুধবার রাসূল (ছাঃ)-এর দেহের উত্তাপ ও মাথাব্যথা খুব বৃদ্ধি পায়। তাতে তিনি বারবার বেহুঁশ হয়ে পড়তে থাকেন। অতঃপর তাঁর মাথার উপরে পানি ঢালা হলে তিনি একটু হালকা বোধ করলে মসজিদে গিয়ে যোহরের ছালাত আদায় করেন এবং মুছল্লীদের উদ্দেশ্যে ভাষণ দেন’ (বুখারী হা/৪৪৪২; ইবনু হিশাম ২/৬৪৯)। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উক্ত দিবস ঘটা করে পালন করা হয় এবং সরকারী ছুটি ঘোষণা করা হয়। অথচ এটি সম্পূর্ণরূপে বিদআতী প্রথা। ছাহাবায়ে কেরামের যামানায় এরূপ প্রথার কোন অস্তিত্ব ছিল না। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কেউ যদি এমন কোন আমল করে, যার প্রতি আমাদের নির্দেশ নেই তা প্রত্যাখ্যাত’ (বুখারী হা/২৬৯৭; মুসলিম হা/১৭১৮; মিশকাত হা/১৪০)।

প্রশ্নঃ 

নববী যুগের ন্যায় ছাদে না দাঁড়িয়ে মাইকের মাধ্যমে আযান দেওয়া যদি বিদ‘আত না হয়, তবে তাসবীহ গণনার ক্ষেত্রে কোন যন্ত্র বা তাসবীহ দানা ব্যবহার করা নিষেধ হওয়ার কারণ কি?

উত্তর

আযানের মূল উদ্দেশ্য লোকদের কাছে ছালাতের আহবান পৌঁছানো। সেকারণ রাসূল (ছাঃ) উঁচু কণ্ঠস্বরের অধিকারী হওয়ায় বেলাল (রাঃ)-কে আযানের দায়িত্ব দিয়েছিলেন (আবুদাউদ হা/৪৯৯; ইবনু মাজাহ হা/৭০৬; মিশকাত হা/৬৫০, সনদ ছহীহ)। একই উদ্দেশ্যে সেসময় মসজিদের বাইরে কোন উঁচু স্থানে দাঁড়িয়ে আযান দেওয়া হত(আবুদাঊদ হা/৫১৯; ইরওয়া হা/২২৯)। অতএব আযানের মূল উদ্দেশ্য বাস্তবায়নের জন্য মাইক ব্যবহার বিদআত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। 

অন্যদিকে আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবীহ গণনার ব্যাপারে রাসূল (ছাঃ)-এর নির্দেশ এবং তাসবীহ দানা দ্বারা গণনার ব্যাপারে স্পষ্ট নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। যেমন তিনি বলেন, ‘তোমরা আঙ্গুলের মাধ্যমে তাসবীহ পাঠ কর। কেননা আঙ্গুল সমূহ জিজ্ঞাসিত হবে এবং তারা কথা বলবে’ (তিরমিযী হা/৩৫৮৩; আবুদাঊদ হা/১৫০১-০২; মিশকাত হা/২৩১৬)। একদা ইবনু মাসঊদ (রাঃ) জনৈক মহিলাকে তাসবীহ দানা দ্বারা গণনা করতে দেখে তা নিয়ে ছিঁড়ে দূরে নিক্ষেপ করেন। অতঃপর নুড়ি-পাথর দিয়ে তাসবীহ গণনাকারী জনৈক ব্যক্তিকে পা দিয়ে মৃদু আঘাত করে ধমক দিয়ে বললেন, অগ্রগামী হয়ে পড়েছ, এক অন্ধকারচ্ছন্ন বিদআতে লিপ্ত হয়ে পড়েছ, না-কি মুহাম্মাদ (ছাঃ)-এর ছাহাবীগণের চেয়ে বেশী জ্ঞানী হয়ে গেছ’? (ইবনু ওয়াযযাহ, আল-বিদঊ হা/২১; সিলসিলা যঈফাহ হা/৮৩-এর আলোচনা দ্রঃ)। অতএব মাইকে আযান দেওয়ার সাথে তাসবীহ গণনার তুলনা করার কোন সুযোগ নেই।

প্রশ্নঃ 

কোন অনুষ্ঠান বা সম্মেলনের শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা যাবে কি?

উত্তর

কোন অনুষ্ঠান বা সম্মেলন শেষে সম্মিলিতভাবে হাত তুলে মুনাজাত করা ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। অতএব এভাবে দোআ করা বিদআত (বিস্তারিত দ্রঃ ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ১৩২-৩৩ পৃঃ)। বরং এসময় মজলিস ভঙ্গের শরীআত নির্দেশিত দোআটি পাঠ করবে (তিরযিমী হা/৩৪৩৩; ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৩০০ পৃঃ)।

প্রশ্নঃ 

অনেক বক্তা গানের সূরে ওয়ায করে থাকেন। এটা কি জায়েয?

উত্তর

গানের সূরে বক্তব্য দেয়া ঠিক নয়। বক্তব্যের উদ্দেশ্য হবে মানুষকে জান্নাতের পথ প্রদর্শন করা ও জাহান্নাম থেকে ভয় দেখানো। আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা মানুষকে ডাক তোমাদের প্রভুর রাস্তায় প্রজ্ঞা ও সুন্দর উপদেশের মাধ্যমে’... (নাহল ১৬/১২৫)। রাসূল (ছাঃ) যখন জুমআর খুৎবা দিতেন, তখন তাঁর দুচোখ লাল হয়ে যেত। তাঁর কণ্ঠ উঁচু হত এবং তাঁর ক্রোধ বেড়ে যেত। যেন তিনি সেনাবাহিনীকে কোন নির্দেশ দিচ্ছেন’ (মুসলিম হা/২০৪২; মিশকাত হা/১৪০৭)। সূর দিয়ে বক্তব্য দিলে মানুষ সূর শুনবে। কিন্তু কোন উপদেশ গ্রহণ করবে না। অবশ্য কুরআনের আয়াতসমূহ সুন্দর কন্ঠে তেলাওয়াত করতে হবে। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেছেন, যে ব্যক্তি সূরেলা কন্ঠে কুরআন তেলাওয়াত করেনা, সে ব্যক্তি আমাদের দলভুক্ত নয়’ (বুখারী হা/৭৫২৭, মিশকাত হা/২১৯৪)। সাবধান থাকতে হবে বক্তৃতার উদ্দেশ্য যেন দুনিয়া উপার্জন না হয়। কেননা রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘অতদিন ক্বিয়ামত হবে না, যতদিন না এমন একদল লোক বের হবে যারা তাদের যবান দিয়ে খাবে, যেমন গাভী তার জিহবা দিয়ে খায়’ (আহমাদ হা/১৫৯৭; মিশকাত হা/৪৭৯৯)।

প্রশ্নঃ 

বিভিন্ন বিদ‘আতী দিবস উপলক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহে যে অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয় সেগুলিতে অংশগ্রহণ করা যাবে কি?

উত্তর

বিদআতী দিবস উপলক্ষ্যে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সহ অন্যান্য যেকোন প্রতিষ্ঠানে আয়োজিত অনুষ্ঠান থেকে দূরে থাকতে হবে। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘তোমরা পাপ ও সীমালংঘনের কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদা ৫/২)।

প্রশ্নঃ 

কবরের শাস্তি কমানোর জন্য কবরের উপর খেজুরের ডাল পুতে দেওয়া যাবে কি?

উত্তর

পোতা যাবে না। যারা এরূপ করে থাকেন তারা একটি হাদীছের অনুসরণে এরূপ করে থাকেন। যেমন নবী করীম (ছাঃ) একদিন দুটি কবরের শাস্তি জানতে পেরে একখানা খেজুরের ডাল দুই টুকরা করে দুটি কবরে গেড়ে দেন। ছাহাবীগণ জিজ্ঞেস করলেন, আপনি এরূপ করলেন কেন? তিনি বললেন, হয়ত ডাল দুটি শুকানো পর্যন্ত তাদের শাস্তি হালকা হয়ে থাকবে’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৩৮)। কিন্তু তাদের এ ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। কারণ তাদের শাস্তি হালকা হয়েছিল রাসূল (ছাঃ)-এর বিশেষ সুপারিশের জন্য। কাঁচা ডালের জন্য নয়। যা ছহীহ মুসলিমে জাবের (রাঃ) বর্ণিত হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত। কাজেই খেজুরের কাঁচা ডাল বা অন্য কোন কাঁচা ডাল গেড়ে কবরের শাস্তি হালকা হবে বলে ধারণা করা একেবারেই ভ্রান্ত। কেননা যদি বিষয়টি তাই-ই হত তহলে তিনি ডালটি চিরে ফেলতেন না। কেননা তাতে তো ডালটি দ্রুত শুকিয়ে যাবার কথা। আসল কারণ ছিল ঐ কবর দুটিকে ঐ ডাল দ্বারা চিহ্নিত করা যে, তিনি তাদের জন্য সুপারিশ করেছেন (আলবানী, মিশকাত ১/১১০ পৃঃ; দ্রঃ ছালাতুর রাসূল ২৪২ পৃঃ)।

প্রশ্নঃ 

জনৈক ব্যক্তি আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৬/৩৭০ পৃষ্ঠায় বর্ণিত ‘আলা ইবনুল হাযরামী কর্তৃক লোকদেরকে নিয়ে একত্রিত মুনাজাত করার ঘটনাটিকেসম্মিলিত মুনাজাতের পক্ষে দলীল হিসাবে উল্লেখ করেছেন। এর সত্যতা জানতে চাই।

উত্তর

প্রথমতঃ এটি একটি ঐতিহাসিক ঘটনা, যা সনদ বিহীনভাবে বর্ণিত হয়েছে। আর ঐতিহাসিক ও সনদ বিহীন কোন বক্তব্যকে শরীআতের দলীল হিসাবে গ্রহণ করা যায় না (সৈয়ূত্বী, আল-ইতক্বান ফী উলূমিল কুরআন ২/২২৭-২২৮ পৃঃ)। সনদ থাকার পরেও তা যঈফ হওয়ার কারণে যেখানে হাদীছ গ্রহণযোগ্য হয় না, সেখানে কোন ইবাদতের ক্ষেত্রে উক্ত ঘটনা দলীল হিসাবে গ্রহণযোগ্য হওয়ার প্রশ্নই আসে না। 

দ্বিতীয়তঃ এই দোআটি ছিল মূলতঃ ইস্তিস্কা বা পানি প্রার্থনার জন্য। আর পানি প্রার্থনার জন্য হাত তুলে সম্মিলিতভাবে দোআ করার বিষয়টি ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত (বুখারী হা/১০৯২, ‘ইস্তিস্কাঅধ্যায়, অনুচ্ছেদ-২১)। ঘটনাটি হ, বাহরাইন যুদ্ধের প্রাক্কালে মুসলিম সেনাবাহিনী এমন এক স্থানে অবতরণ করে যেখানে পানি সংকটের কারণে তাদের থাকা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। এমনকি তাদের উটগুলো তাদের খাদ্য সামগ্রী-পানীয় ও বস্ত্র সমূহ পিঠে করে নিয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। ফলে তাদের সাথে তাদের পরনের কাপড় ছাড়া আর কিছুই বাকী ছিল না। তখন ছাহাবী আলা ইবনুল হাযরামী (রাঃ) লোকদের নিয়ে ফজরের ছালাত আদায় করেন ও সূর্যোদয় পর্যন্ত দোআ করতে থাকেন। তিনি যখন দোআর তৃতীয় পর্যায়ে পৌঁছলেন, তখন আল্লাহ তাআলা তাদের জন্য তাদের পাশে একটি শীতল পানির পুকুর সৃষ্টি করে দিলেন। অতঃপর তিনি সহ সকলে সেখানে গেলেন এবং পানি পান করলেন ও গোসল করলেন। ওদিকে দিনের আলো প্রস্ফুটিত হতে না হতেই তাদের উটগুলো পিঠের বোঝা সহ বিভিন্ন দিক থেকে ফিরে আসল। অথচ তাদের আসবাবপত্রের একটিও হারায়নি। অতঃপর তারা তাদের উটগুলোকে উদর পূর্তি করে পানি পান করালেন (আল-বিদায়াহ ওয়ান নিহায়াহ ৬/৩২৮)। 

অতএব স্পষ্ট যে, উক্ত ঘটনাটি ছিল পানি প্রার্থনার সাথে সংশ্লিষ্ট। প্রচলিত মুনাজাতের সাথে এর কোন সম্পর্ক নেই।

প্রশ্নঃ 

রাসূল (ছাঃ) কি নূরের না মাটির তৈরী? তিনি যে নূরের তৈরী সূরা মায়েদার ১৫নং আয়াত কি তার প্রমাণ নয়? বিস্তারিত জানতে চাই।

উত্তর

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) মাটির মানুষ ছিলেন; নূরের তৈরী নন। আল্লাহ বলেন, ‘(হে নবী!) তুমি বলে দাও, নিশ্চয়ই আমি তোমাদের মত একজন মানুষ মাত্র। (পার্থক্য হল) আমার নিকট অহিকরা হয় ...’ (কাহ্ফ ১৮/১১০)। এটা কেবল আমাদের নবীই নন, বরং বিগত সকল নবীই স্ব স্ব কওমের উদ্দেশ্যে একথা বলেছিলেন, ‘নিশ্চয়ই আমরা তোমাদের মত মানুষ মাত্র’ (ইবরাহীম ১৪/১১)। 

রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘আমি তো একজন মানুষ। আমিও তোমাদের মত ভুলে যাই। সুতরাং আমি (ছালাতে কিছু) ভুলে গেলে তোমরা আমাকে স্মরণ করিয়ে দিয়ো’ (বুখারী হা/৪০১; মুসলিম হা/৫৭২; মিশকাত হা/১০১৬ সিজদায়ে সহোঅনুচ্ছেদ)। তিনি বলেন, আমি একজন মানুষ। আমি তোমাদের দ্বীনের ব্যাপারে কোন কিছু আদেশ করলে তা গ্রহণ করবে। আর নিজস্ব রায় থেকে কিছু বললে আমি একজন মানুষ মাত্র। অর্থাৎ সে ক্ষেত্রে আমার ভুলও হতে পারে (মুসলিম হা/২৩৬৫, মিশকাত হা/১৪৭)। 

বস্ত্ততঃ ফেরেশতারা হল নূরের তৈরী, জিনেরা আগুনের তৈরী এবং মানুষ হল মাটির তৈরী মুসলিম হা/২৯৯৬; মিশকাত হা/৫৭০১; মুমিনূন ২৩/১২, আনআম ৬/২)। 

উল্লেখ্য যে, রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন মর্মে সমাজে কিছু হাদীছ প্রচলিত রয়েছে। যেমন আল্লাহ সর্বপ্রথম আমার নূর সৃষ্টি করেন। এ মর্মে বর্ণিত সব বর্ণনাই জাল (আজলূনী, কাশফুল খাফা হা/৮২৭; ছহীহাহ হা/৪৫৮-এর আলোচনা দ্রষ্টব্য)। 

সূরা মায়েদাহ ১৫ আয়াতে বলা হয়েছে, قَدْ جَاءَكُمْ مِنَ اللهِ نُوْرٌ وَكِتَابٌ مُبِيْنٌতোমাদের কাছে এসেছে একটি জ্যোতি এবং একটি সমুজ্জ্বল গ্রন্থ। উক্ত আয়াতে নূরবা জ্যোতি দ্বারা কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অর্থাৎ কুরআন শিরকের অন্ধকার হতে মানুষকে তাওহীদের আলোর পথে বের করে আনে। এখানে ওয়া কিতাবুম মুবীন’ (وَكتابٌ مبيْنٌ)তার পূর্ববর্তী নূর’ (نُوْرٌ) -এর উপর عطف بيان হয়েছে। অর্থাৎ আল্লাহ বলছেন, ‘তোমাদের কাছে আল্লাহর নিকট থেকে এসেছে একটি জ্যোতি ও সমুজ্জ্বল গ্রন্থ। যেমন ইতিপূর্বে সূরা নিসা ১৭৪-৭৫ আয়াতে بُرْهَانٌ ও نُوْرًا مُبِيْنًا বলে কুরআনকে বুঝানো হয়েছে। অমনিভাবে সূরা আরাফ ১৫৭ আয়াতের কুরআনকে নূরবলা হয়েছে। 

উক্ত আয়াতের তাফসীরে নূর’-এর ব্যাখ্যায় যাজ্জাজ বলেন, এখানে মুহাম্মাদ (ছাঃ)-কে বুঝানো হয়েছে (কুরতূবী)। যদি সেটাই ধরে নেওয়া হয়, তাহলেও এর অর্থ এই নয় যে, মুহাম্মাদ (ছাঃ) নূরের তৈরী ছিলেন। কারণ কুরআনেই বলা হয়েছে যে, তিনি তোমাদের মত মানুষ ছিলেন’ (কাহফ ১৮/১১০)। আর মানুষ বলেই তো তিনি পিতা-মাতার সন্তান ছিলেন এবং সন্তানের পিতা ছিলেন। তিনি খানা-পিনা ও বাজার-ঘাট করতেন। অতএব রাসূল (ছাঃ) যে মাটির তৈরী মানুষ ছিলেন, এতে কোন সন্দেহের অবকাশ নেই।

প্রশ্নঃ 

সরকারী প্রতিষ্ঠানে চাকুরী করায় বিভিন্ন বিদ‘আতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে হয়। এক্ষেত্রে করণীয় কি?

উত্তর

বিদআতী অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করা, তাকে মেনে নেওয়া বা সহযোগিতা করার শামিল। অথচ আল্লাহ বলেন, ‘তোমরা নেকী ও তাক্বওয়ার কাজে পরস্পরকে সহযোগিতা কর, অন্যায় ও পাপের কাজে সহযোগিতা করো না’ (মায়েদাহ ২)। সুতরাং এথেকে দূরে থাকা আবশ্যক। বাধ্যগত কারণে অংশগ্রহণ করলে অবশ্যই হৃদয়ে ঘৃণা পোষণ করতে হবে। তবে সেটা হবে দুর্বলতম ঈমান (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)।

প্রশ্নঃ 

বিদ‘আতী ও অহংকারী ব্যক্তির পরিণতি কি?

উত্তর

শিরকের পরে বিদআত শরীআতের দৃষ্টিতে সর্বাধিক নিন্দনীয় আমল (মুসলিম হা/৮৬৭, নাসাঈ হা/১৫৭৮)। জেনেশুনে বিদআতকারীর কোন আমল গ্রহণযোগ্য হবে না যতক্ষণ না সে তওবা করে ফিরে আসে’ (বুখারী হা/৩১৭২; মুসলিম হা/১৩১৭; মিশকাত হা/২৭২৮, ত্বাবারাণী, ছহীহ আত-তারগীব হা/৫৪)। এছাড়া হাশরের দিন বিদআতীকে হাউয কাউছার থেকে দূর হও’, ‘দূর হওবলে রাসূল (ছাঃ) তাড়িয়ে দিবেন’ (বুখারী হা/৬৫৮৪, মুসলিম হা/২২৯১, মিশকাত হা/৫৫৭১)। 

অহংকার করা মহাপাপ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘ঐ ব্যক্তি জান্নাতে প্রবেশ করবে না যার অন্তরে কণা পরিমাণ অহংকার রয়েছে। ...আর অহংকারসত্যকে দম্ভের সাথে পরিত্যাগ করা এবং মানুষকে তুচ্ছ জ্ঞান করা’ (মুসলিম হা/৯১, মিশকাত হা/৫১০৮)। অন্য হাদীছে রাসূল (ছাঃ) তিনটি ধ্বংসকারী বস্ত্ত থেকে মানুষকে সাবধান করেছেন (১) প্রবৃত্তি পূজারী হওয়া (২) লোভের দাস হওয়া এবং (৩) আত্ম অহংকারী হওয়া। তিনি বলেন, এটিই হল সবচেয়ে মারাত্মক (বায়হাক্বী, শুআবুল ঈমান, মিশকাত হা/৫১২২)। অতএব বিদআতী ও অহংকারী উভয়েরই পরিণাম জাহান্নাম।

প্রশ্নঃ 

বিদ‘আতী ইমামের পিছনে ঈদায়নের ছালাত আদায়ের সময় ‘আমীন বলা’ ও ‘রাফউল ইয়াদায়নে’র ন্যায় অতিরিক্ত তাকবীর সমূহ একাকী আদায় করলে তাতে শরী‘আতে কোন বাধা আছে কি?

উত্তর

একাকী পৃথকভাবে তাকবীর দেওয়া যাবে না। কেননা হাদীছে বর্ণিত ইমামের অনুসরণ দ্বারা তার ছালাতের তাকবীরসমূহ অনুসরণের প্রতি ইঙ্গিত করা হয়েছে। একদা রাসূল (ছাঃ) ছালাতরত অবস্থায় ময়লা থাকার কারণে জুতা খুলে ফেললে ছাহাবায়ে কেরামও জুতা খুলে ফেলেন। পরবর্তীতে রাসূল (ছাঃ) তাদেরকে এরূপ করতে নিষেধ করে বললেন, ময়লা থাকার কারণে আমি খুলে ফেলেছি (আহমাদ, ইবনু হিববান হা/২১৮৫)। এছাড়া বসে ছালাত আদায়কারীর পিছনে দাঁড়িয়ে ছালাত আদায় করা জায়েয (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/১১৪০)। এ হাদীছগুলি প্রমাণ করে যে, ইমামের তাকবীর ব্যতীত অন্য কিছু অনুসরণযোগ্য নয়।

প্রশ্নঃ 

আমরা মৃত ব্যক্তির জন্য দো‘আ করার উদ্দেশ্যে আত্মীয়-স্বজন, প্রতিবেশী ও মৌলবী-মাওলানাদের দাওয়াত খাইয়ে থাকি। এরূপ কাজ কতটুকু শরী‘আতসম্মত?

উত্তর

এরূপ কাজ শরীআত পরিপন্থী। নেকীর উদ্দেশ্যে মৃতব্যক্তির নামে এসব জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠান হিন্দুদের শ্রাদ্ধঅনুষ্ঠানের অনুকরণে মুসলিম সমাজে চালু হয়েছে, তা নিঃসন্দেহে বিদআত। বরং মৃত ব্যক্তির নামে কোন স্থায়ী ছাদাক্বা করা উচিত, যা ক্বিয়ামত পর্যন্ত মৃতের জন্য নেকীর কারণ হয়। আবু হুরায়রা (রাঃ) হতে বর্ণিত রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যখন মানুষ মৃত্যুবরণ করে, তখন তার সমস্ত আমল বন্ধ হয়ে যায়, কেবল ৩টি আমল ব্যতীত। (১) ছাদাক্বায়ে জারিয়াহ (২) এমন ইল্ম, যার দ্বারা জনগণের কল্যাণ সাধিত হয় এবং (৩) সুসন্তান, যে তার জন্য দোআ করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/২০৩ ইল্মঅধ্যায়)।

প্রশ্নঃ 

জনৈক আলেম বলেন, আবুদাঊদ হা/৪৭৫৩ হাদীছ দ্বারা বুঝা যায় যে, রাসূল (ছাঃ) প্রত্যেক মানুষের কবরে উপস্থিত হবেন এবং তিনি মীলাদের মজলিসেও হাযির হন। এর সত্যতা জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত হাদীছ দ্বারা রাসূল (ছাঃ)-এর অন্যের কবরে উপস্থিত হওয়া প্রমাণিত হয় না। বরং সেখানে ফেরেশতাগণ রাসূল (ছাঃ) সম্পর্কে কবরবাসীকে জিজ্ঞেস করবেন সেটা বুঝানো হয়েছে। এছাড়া এর ভিত্তিতে রাসূল (ছাঃ)-এর মীলাদের মজলিসে আগমন করার দলীল গ্রহণ করা হাস্যকর বৈ কিছুই নয়। কেননা মৃত্যুর পরে অন্য মানুষের মত রাসূল (ছাঃ)-ও বারযাখী জগতে আছেন (মুমিনূন ১০০)। সেখান থেকে বেরিয়ে অন্যের কবরে বা মীলাদ অনুষ্ঠানে হাযির হওয়া তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। উল্লেখ্য যে, যারা রাসূল (ছাঃ)-কে মানুষমনে করেন না বরং নূরবলে থাকেন এবং যারা আহমাদ ও আহাদ একই সত্তা বলে দাবী করেন, এরূপ ভ্রান্ত আক্বীদার লোকেরাই কেবল রাসূল (ছাঃ)-কে কবরে ও মীলাদ অনুষ্ঠানে সর্বত্র একই সাথে হাযির হওয়ার উদ্ভট কল্পনা করে থাকেন। এইসব অদ্বৈতবাদী ও সর্বেশ্বরবাদী আক্বীদা স্রেফ কুফরী আক্বীদা মাত্র। এসব থেকে তওবা করা আবশ্যক।

প্রশ্নঃ 

জনৈক আলেম শবেবরাতের অনুষ্ঠানে বলেন, মদীনায় অবস্থিত রাসূল (ছাঃ)-এর কবর সর্বোত্তম স্থান। এমনকি তা মাসজিদুল হারাম এবং আল্লাহর আরশের চেয়ে অধিক মর্যাদাসম্পন্ন। উক্ত বক্তব্যের কোন ভিত্তি আছে কি?

উত্তর

উক্ত বক্তব্য ভ্রান্ত ছূফীদের বক্তব্য। যার কোন ভিত্তি নেই। তবে হাদীছে রাসূল (ছাঃ)-এর বাসগৃহ এবং তাঁর মিম্বারের মাঝের স্থানটি জানণাতের বাগিচাসমূহের একটি বাগিচা বলে আখ্যায়িত করা হয়েছে (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৬৯৪)। অন্য হাদীছে এসেছে, মসজিদে নববীতে ছালাত আদায়ে এক হাযার গুণ এবং মসজিদুল হারামে এক লক্ষ গুণ বেশী নেকী অর্জিত হয় (ইবনু মাজাহ হা/১৪০৬)। অতএব দুনিয়ার বিবেচনায় মসজিদুল হারামই সর্বোত্তম স্থান।

প্রশ্নঃ 

গ্রামের কোন কোন ব্যক্তিকে দেখা যায় বিভিন্ন রোগের জন্য পানি পড়া দেন। এভাবে দেওয়া কি শরী‘আত সম্মত?

উত্তর

চিকিৎসা হিসাবে ঝাড়ফুঁক বা পানিপড়া দেওয়া যাবে, যদি তাতে শিরকী কালেমা না থাকে (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/৪৫২৭, ২৮; ফাতাওয়া উছায়মীন ১/১০৮ পৃঃ)।

প্রশ্নঃ 

রাসূল (ছাঃ) খারেজীদেরকে ‘জাহানণামের কুকুর’ বলেছেন। এর ব্যাখ্যা কী?

উত্তর

হযরত আবু আওফা (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, الْخَوَارِجُ كِلاَبُ النَّارِখারেজীরা জাহান্নামের কুকুর’ (ইবনু মাজাহ হা/১৭৩, সনদ ছহীহ)। 

হাদীছটির ব্যাখ্যায় ফায়যুল ক্বাদীর শরহ ছহীহুল জামে‘-এর প্রণেতা আল্লামা মানাভী বলেন, খারেজীদের জাহান্নামের কুকুরবলার কারণ হ, তারা ইবাদতে অগ্রগামী ও তৎপর। কিন্তু তাদের অন্তর বক্রতাপূর্ণ। শয়তানের ধোঁকায় পড়ে তারা দ্বীন থেকে বিচ্যুত হয়ে পড়েছে। এমনকি তাওহীদের অনুসারীদেরকে বড় কোন অপরাধ করলেই তারা কাফেরঘোষণা করে। তারা পবিত্র কুরআনের আয়াতগুলোকে যথেচ্ছ অপব্যাখ্যা করে। অপরদিকে মুমিনের বৈশিষ্ট্য হ, তারা অপরের দোষ-ক্রটি গোপন রাখে, মানুষের প্রতি দয়া করে, মানুষের জন্য আল্লাহর কাছে ক্ষমা ও অনুগ্রহ কামনা করে। অথচ বিভ্রান্ত খারেজীরা মানুষের মর্যাদাহানি করে, লজ্জিত করে, অবশেষে নিজেরাও হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়ে। এটা কুকুরের বৈশিষ্ট্য এবং আচরণ। যেহেতু তারা আল্লাহর বান্দাদের উপর কুকুরের মত আগ্রাসী হয় এবং তাদের প্রতি তুচ্ছজ্ঞান ও শক্রতার ভাব নিয়ে তাকায়, তাই তারা তাদের কৃতকর্মের দরুণ জাহান্নামে প্রবেশকালে কুকুরের মত আকৃতি লাভ করবে, যেমনভাবে তারা ছিল দুনিয়ার বুকে আহলে সুন্নাতের প্রতি ঘৃণা-বিদ্বেষ পোষণে কুকুরের স্বভাববিশিষ্ট’ (, ৩/৫০৯; মিরক্বাত ১১/১৪১ পৃঃ)। 

একইভাবে আবু গালিব বলেন, একদা আবু উমামা বাহেলী (রাঃ) দামেশক মসজিদের সদর রাস্তায় খারেজীদের কতগুলো ঝুলন্ত মাথা দেখলেন। তখন তিনি বললেন, এরা হল জাহান্নামের কুকুর। আসমানের নীচে এরা সবচেয়ে মন্দ নিহত। আর যারা এদের হত্যা করেছে তারা সবচেয়ে উত্তম। অতঃপর তিনি কুরআনের এ আয়াতটি পড়লেন, يَوْمَ تَبْيَضُّ وُجُوْهٌ وَتَسْوَدُّ وُجُوْهٌসে দিন কতক মুখ হবে সাদা আর কতক মুখ হবে কালো’ (আলে ইমরান ১০৬)। এ সময় আবু উমামাকে বলা হল, আপনি কি কথাগুলো আল্লাহর রাসূল হতে শুনেছেন? তিনি বললেন, একবার দুবার তিন বার নয়, বরং গুণে গুণে সাত বার শুনেছি। আমি তাঁর নিকট হতে না শুনলে আপনাদের বলতাম না’ (তিরমিযী হা/৩০০০; ইবনে মাজাহ হা/১৭৬; মিশকাত হা/৩৫৫৪, সনদ ছহীহ)। 

উল্লেখ্য যে, বিদআতীরা জাহান্নামের কুকুর বলে যে বর্ণনা এসেছে, তা যঈফ (সিলসিলা যঈফাহ হা/২৭৯২)।

প্রশ্নঃ 

ঈদের রাত্রিতে সারারাত ইবাদত করার কোন বিশেষ ফযীলত আছে কি?

উত্তর

বিশেষ কোন ফযীলত ছহীহ হাদীছ দ্বারা প্রমাণিত নয়। বরং উক্ত মর্মে বর্ণিত হাদীছটি মওযূবা জাল (ইবনু মাজাহ হা/১৭৮২; যঈফাহ হা/৫২১, ৫১৬৩)।

প্রশ্নঃ 

বর্তমানে একদল লোক বলছে, আমাদের পরিচয় হবে কেবল ‘মুসলিম’। আহলেহাদীছ বলাটা বিদ‘আত। এ সম্পর্কে সঠিক বক্তব্য জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

হকপন্থী মুসলমান কেবলমাত্র আহলেহাদীছনামেই অভিহিত হবেন। ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈনে এযাম নিজেদেরকে আহলুল হাদীছবলতেন। ইমাম আহমাদ সহ অধিকাংশ মুহাদ্দিছ বিদ্বান কিয়ামত পর্যন্ত হকের উপর প্রতিষ্ঠিত নাজী ফেরকা হিসাবে কেবলমাত্র আহলেহাদীছ জামাআতকেই নির্দিষ্ট করেছেন (সিলসিলা ছহীহাহ হা/২৭০ আলোচনা দ্রঃ)। হাদীছের বক্তব্য অনুযায়ী, মুসলিম উম্মাহ ৭৩ ফেরকায় বিভক্ত হবে। যার মধ্যে ৭২ ফেরকাই জাহান্নামী হবে। মাত্র একটি ফেরকা জান্নাতী হবে। আমাদের সকলের ধর্মীয় পরিচয় মুসলিম। তার মধ্য নাজী ফেরকার বৈশিষ্ট্যগত নাম হআহলেহাদীছ। অতএব প্রত্যেক মুসলমানেরই আক্বীদা ও আমলে প্রকৃত আহলেহাদীছহওয়া আবশ্যক।

প্রশ্নঃ 

সম্প্রতি ‘মিলাদ ও কিয়ামের অকাট্য প্রমাণ’ নামে জনৈক মুফতী একটি বই বের করেছেন। সেখানে আপনাদের প্রকাশিত ‘মীলাদ প্রসঙ্গ’ বইয়ের ও তার বিজ্ঞ লেখকের বিরুদ্ধে অশ্রাব্য ভাষায় গালি-গালাজ করা হয়েছে। উক্ত বইয়ে কুরআন-হাদীছের মাধ্যমে মীলাদ-কিয়াম প্রমাণ করা হয়েছে। তাতে মানুষ বিভ্রান্তিতে পড়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে আপনাদের বক্তব্য কি?

উত্তর

৪৪ পৃষ্ঠার উক্ত বইটি আমাদের কাছে পৌঁছেছে। গালি-গালাজের বিষয়টি আমরা এড়িয়ে যাচ্ছি এবং আল্লাহর উপর ছেড়ে দিচ্ছি। বইয়ে বর্ণিত প্রমাণগুলি অতীব ভ্রমাত্মক। কেননা প্রচলিত মীলাদের আবিষ্কারই হয়েছে ৬০৫ মতান্তরে ৬২৫ হিজরীতে। যা বিদআত হওয়ার ব্যাপারে চার মাযহাবের প্রায় সকল বিদ্বান একমত। এমনকি উপমহাদেশের মুজাদ্দিদে আলফে ছানী, আল্লামা হায়াত সিন্ধী, রশীদ আহমাদ গাংগোহী, আশরাফ আলী থানভী, মাহমূদুল হাসান দেউবন্দী, আহমাদ আলী সাহারানপুরী প্রমুখ ওলামায়ে কেরাম সকলে এক বাক্যে প্রচলিত মীলাদ অনুষ্ঠানকে বিদআত ও গুনাহের কাজ বলেছেন।সেখানে বর্তমান যুগের কিছু লোক মীলাদকে প্রকারান্তরে ফরয (?) প্রমাণ করার জন্য গলদঘর্ম হচ্ছেন। যেমন উক্ত বইয়ে কুরআন থেকে মীলাদের পক্ষে ৮টি ও কিয়ামের পক্ষে ৪টি আয়াত ও আয়াতাংশ পেশ করা হয়েছে। যথাক্রমে মীলাদের পক্ষে ৩/১৬৪, ৩৩/৯, ৯৩/১১, ৯/১২৮, ৯৪/৪, ৬১/৬, ১০/৫৮ এবং কিয়ামের পক্ষে ৪৮/৯, ৯৪/৪, ৩/১৯১, ২/১১৪। এছাড়াও তিনি প্রমাণ পেশ করতে চেয়েছেন যে, (১) ফেরেশতাগণ (২) পূর্বের নবী-রাসূলগণ (৩) আমাদের নবী স্বয়ং (৪) খুলাফায়ে রাশেদীন (৫) ছাহাবায়ে কেরাম এবং (৬) ইমাম ও মুজতাহিদগণ সকলে মীলাদ করেছেন বা তার পক্ষে ফৎওয়া দিয়েছেন। 

বস্ত্ততঃ এগুলি সবই কুরআন ও হাদীছের অপব্যাখ্যা বৈ কিছুই নয়। রাসূল (ছাঃ) ও খুলাফায়ে রাশেদীনের জীবনীই বড় প্রমাণ যে, সেযুগে মীলাদ-কিয়ামের কোন অস্তিত্ব ছিল না। ইমাম মালেক (রহঃ) বলেন, রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ও তাঁর ছাহাবীগণের সময়ে যে সব বিষয় দ্বীনহিসাবে গৃহীত ছিল না, বর্তমান কালেও তা দ্বীনহিসাবে গৃহীত হবে না। যে ব্যক্তি ধর্মের নামে ইসলামে কোন নতুন প্রথা চালু করল, অতঃপর তাকে ভাল কাজ বা বিদআতে হাসানাহবলে রায় দিল, সে ধারণা করে নিল যে, আল্লাহর রাসূল (ছাঃ) স্বীয় রিসালাতের দায়িত্ব পালনে খেয়ানত করেছেন’ (আল-ইনছাফ, পৃঃ ৩২)।

প্রশ্নঃ 

বর্তমানে অধিকাংশ বক্তা ওয়াযকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করে অর্থ উপার্জনে লিপ্ত হয়েছেন। এরূপ করা কি শরী‘আতসম্মত?

উত্তর

ওয়াযকে পেশা হিসাবে গ্রহণ করা নিষিদ্ধ। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন, আলেমগণ নবীদের ওয়ারিছ (আবুদাঊদ হা/৩৬৪১, ইবনু মাজাহ হা/২২৩)। ওয়াযের উদ্দেশ্য হবে দ্বীনের দাওয়াত মানুষের নিকট পৌঁছে দেওয়া। কোন নবীই এলাহী দাওয়াতের বিপরীতে মানুষের নিকট থেকে কোন বিনিময় গ্রহণ করেননি। বরং তারা সকলেই বলেছেন আমি তোমাদের কাছে কোন প্রতিদান চাই না। আমার প্রতিদান কেবল বিশ্বপালকের কাছেই রয়েছে’ (শোআরা ২৬/১০৯; সাবা ৩৪/৪৭; যুমার ৩৯/৮৬)অতএব প্রত্যেক আলেমের কর্তব্য হল সাধ্যমত মানুষকে বিনা পারিশ্রমিকে আল্লাহর পথে আহবান করা এবং উপার্জনের জন্য ভিন্ন কোন বৈধ পথ তালাশ করা। 

এক্ষণে যদি কোন আলেম কেবল দাওয়াতের জন্য নিযুক্ত হন, তাহলে তার বিনিময়ে পারিতোষিক গ্রহণ করা শরীআতসম্মত হবে। যেমন অন্য সকল কাজে নিযুক্তির বেলায় হয়ে থাকে। নিজের এলাকা ব্যতীত অন্য এলাকায় দাওয়াতের ব্যাপারেও একই কথা প্রযোজ্য। তাঁর জন্য ভদ্রোচিত যাতায়াত খরচ এবং সম্মানী গ্রহণ করা জায়েয। তবে এ ব্যাপারে তাক্বওয়া, পরহেযগারিতা এবং উন্নত মর্যাদাবোধকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিতে হবে। কোনরূপ ব্যবসায়িক মনোভাব দেখা দিলে নেকী থেকে বঞ্চিত হতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, যাকে আমরা কোন কাজে নিযুক্ত করি, তার রিযিকের ব্যবস্থাও করে থাকি। তার বাইরে নিলে সেটা খেয়ানতে পরিণত হবে (আবুদাঊদ, মিশকাত হা/৩৭৪৮)।

প্রশ্নঃ 

আমি একটি মসজিদে বড় অংকের সহযোগিতা করি। কিন্তু সেখানে মীলাদ-ক্বিয়ামসহ যাবতীয় বিদ‘আতী কার্যক্রম হয়ে থাকে। এক্ষণে উক্ত অর্থদানের জন্য কোন নেকী অর্জিত হবে কি?

উত্তর

রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি মসজিদ নির্মাণ করবে, আল্লাহ জান্নাতে তার জন্য একটি গৃহ নির্মাণ করবেন (বুখারী হা/৪৫০; মুসলিম হা/৫৩৩)। সুতরাং এ উদ্দেশ্যে দান করে থাকলে তা নেকীর কাজ হিসাবে গণ্য হবে। কিন্তু মীলাদ-ক্বিয়ামসহ বিদআতী কর্মকান্ডকে উদ্দেশ্য করে দান করা হলে, গুনাহের কাজে সহযোগিতা বলে গণ্য হবে(মায়েদাহ ২)। এ সমস্ত কার্যক্রম বন্ধ করার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করতে হবে। সম্ভব না হলে দান করা থেকে বিরত থাকতে হবে। অতএব দান করার পূর্বে সবকিছু যাচাই করতে হবে।

প্রশ্নঃ 

আমাদের এলাকায় লোকজন প্রতি শুক্রবারে বিভিন্ন উদ্দেশ্যে পূরণের জন্য মসজিদে জিলাপী, মিষ্টি, বিরিয়ানী ইত্যাদি বিতরণ করে থাকে। এটা কি শরী‘আতসম্মত?

উত্তর

এগুলি শরীআত পরিপন্থী কাজ এবং বিদআতপন্থীদের আবিষ্কৃত রসম-রেওয়াজ মাত্র, যা অবশ্যই বর্জনীয়। কোন উদ্দেশ্য পূরণের জন্য একমাত্র আল্লাহর নিকটেই চাইতে হবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, কিছু চাইলে স্রেফ আল্লাহর নিকটেই চাও (তিরমিযী, মিশকাত হা/৫৩০২)। আর ভাল উদ্দেশ্য পূরণ হলে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করতে হবে (মুসলিম হা/২৯৯৯; মিশকাত হা/৫২৯৭)।

প্রশ্নঃ 

সন্তান মাতার কবরের পাশে গিয়ে ৪১ দিন সূরা ইয়াসীন পাঠ করলে কবরের আযাব মাফ করে দেওয়া হয়। উক্ত বক্তব্যের সত্যতা আছে কি?

উত্তর

উক্ত বক্তব্য ভিত্তিহীন ও বানোয়াট। এছাড়া মুমূর্ষ ব্যক্তির শিয়রে বসে সূরা ইয়াসীন পাঠ করা সম্পর্কিত হাদীছটিও যঈফ’ (আবুদাঊদ, ইবনু মাজাহ, মিশকাত হা/১৬২২)।

প্রশ্নঃ 

জনৈক ব্যক্তি সমাজে অনেক শিরক ও বিদ‘আতের প্রচলন ঘটিয়েছে এবং মানুষ তা আমল করে চলেছে। পরবর্তীতে ঐ ব্যক্তি বিশুদ্ধ দ্বীনের পথে ফিরে এসেছে। এক্ষণে ঐ ব্যক্তি কি সমাজের লোকদের পাপের অংশ পেতে থাকবে? এক্ষেত্রে উক্ত ব্যক্তির পরিত্রাণের উপায় কি?

উত্তর

শিরক ও বিদআত আল্লাহর সাথে সংশ্লিষ্ট পাপ। শর্তানুযায়ী তওবা করলে আল্লাহ তাআলা তাকে ক্ষমা করে দিবেন (যুমার ৫৩)। তওবা না করে মৃত্যুবরণ করলে সে চিরস্থায়ী জাহান্নামী হবে (মুহাম্মাদ ৩২)। তার তওবা স্পষ্ট করে দিতে হবে এবং সংশ্লিষ্টদের কাছে প্রচার করতে হবে। এভাবে তওবা করার করলে সে আর অন্যের পাপের অংশীদার হবে না।

প্রশ্নঃ 

দ্বীনের সকল হুকুম অনুসরণ করেও যদি কেউ বিদ‘আতী রসম-রেওয়াজ পরিত্যাগ না করে তবে তার ইবাদত কতটুকু ফলপ্রসু হবে? জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

এমতাবস্থায় তার কোন ফরয ও নফল ইবাদত কবুল হবে না। আলী (রাঃ) হতে বর্ণিত, রাসূল (ছাঃ) বলেন, যে ব্যক্তি বিদআত সৃষ্টি করে অথবা কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতা এবং সকল মানুষের অভিশাপ। তার ফরয ও নফল কোন ইবাদত কবুল করা হবে না (বুখারী, মুসলিম; মিশকাত হা/২৭২৮)। অতএব সকল প্রকার শিরক ও বিদআত পরিহার করা একান্তভাবে যরূরী।

প্রশ্নঃ 

আমাদের গ্রামের মসজিদে জুম‘আর দিন সকল মুছল্লীকে খাওয়ানো হয়। এটা অধিকাংশ মানত করেই করে থাকে। শরী‘আতে এর বিধান কি?

উত্তর

মানত মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে। মসজিদের মুছল্লীগণকে খাওয়ানোর মানত করলে সকলেই খেতে পারে। আর যদি কেবল ফকীর-মিসকীনকে খাওয়ানোর নিয়ত থাকে, তবে কেবল তারাই খাবে। যেমন রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘কসম মানুষের নিয়তের উপর নির্ভর করে’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪১৬)। সুতরাং যখন যেভাবে মানত করবে তখন সেভাবে বাস্তবায়ন করবে। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ‘যদি কেউ আল্লাহর আনুগত্যপূর্ণ কাজের মানত করে, তবে সে যেন তা পূর্ণ করে এবং পাপের কাজে মানত করলে যেন তা পূর্ণ না করে’ (বুখারী, মিশকাত হা/৩৪২৭)। রাসূল (ছাঃ) বলেন, তোমরা মানত করো না। মানত আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত ভাগ্যকে পরিবর্তন করতে পারে না। এটি কৃপণের সম্পদ থেকে কিছু অংশ বের করে আনে মাত্র’ (বুখারী, মুসলিম, মিশকাত হা/৩৪২৬)।

প্রশ্নঃ 

দোকান বা নব নির্মিত বাড়ীতে বসবাসের জন্য সকলে মিলে হাত তুলে দো‘আ করা যাবে কি?

উত্তর

দোকান বা নব নির্মিত বাড়ীতে ওঠা ও তার জন্য কুরআন পাঠ, মীলাদ পড়ানো, অনুষ্ঠান করা, মুনাজাত করা সবই বিদআতী প্রথা। রাসূল (ছাঃ) ও ছাহাবীদের যুগে এ ধরনের কোন প্রথার অস্তিত্ব ছিল না। এগুলো থেকে বিরত থাকতে হবে (মুসলিম হা/৪৫৯০)। বাড়ীওয়ালা নিজে বিসমিল্লাহবলে উঠে যাবেন ও আল্লাহ্র রহমত ও বরকত কামনা করবেন।

প্রশ্নঃ 

প্রচলিত তাবলীগ জামা‘আত যে বিদ‘আতী দল তার কারণ জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

(১) উক্ত দলের নীতি সমূহ স্বপ্নে পাওয়া (মাওলানা মুহাম্মাদ মানযূর নুমানী, মালফূযাতে হযরত মাওলানা মুহাম্মাদ ইলিয়াস, পৃঃ ৫১, ৫০ নং বয়ান)। (২) আক্বীদা হল- মুর্জিয়া, অদ্বৈতবাদী ও সর্বেশ্বরবাদী। তারা বলেন, রাসূল (ছাঃ) নূরের তৈরি, তিনি কবরে জীবিত আছেন এবং মানুষের আবেদন পূরণ করে থাকেন (৩) দাওয়াতের মাধ্যম হল মিথ্যা কাহিনী এবং যঈফ ও জাল হাদীছ সমূহ (৪) রাসূল (ছাঃ)-এর তরীকায় তারা ছালাত আদায় করে না, যদিও তারা মসজিদে অবস্থান করে (৫) রাসূল (ছাঃ)-এর তরীকায় দাওয়াত না দিয়ে চিল্লানামক বিদআতী তরীকায় তারা দাওয়াত দেয় ইত্যাদি (বিস্তারিত দ্রষ্টব্য : হাদীছের প্রামাণিকতা ২য় সংস্করণ পৃঃ ৫৬-৭৬)।

প্রশ্নঃ 

নতুন বাড়ীতে উঠতে কিংবা নতুন দোকান চালু করতে শারঈ কোন নিয়ম পালন করতে হবে কি?

উত্তর

উক্ত মর্মে শরীআতে বিশেষ কোন নিয়ম বা বিধান নেই। সাধারণভাবেই বিসমিল্লাহবলে উঠে যাবে। তবে জিনের উৎপাত থাকার আশঙ্কা করলে বেশী বেশী সূরা বাক্বারাহ তেলাওয়াত করবে (মুসলিম, মিশকাত হা/২১১৯)।

প্রশ্নঃ 

কোন ব্যক্তি মারা গেলে জানাযায় আগত লোকদের জন্য গরু-খাসি যবহ করা হয়। অতঃপর দাফন কার্য সম্পন্ন করে খানাপিনা করা হয়। উক্ত আমল শরী‘আত সম্মত কি?

উত্তর

মৃত ব্যক্তিকে কেন্দ্র করে এ দেশে যত বিদআত চালু আছে, উক্ত প্রথা তার অন্যতম। এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ (নাসাঈ হা/১৫৭৮)। রাসূল (ছাঃ), ছাহাবায়ে কেরাম ও তাবেঈদের স্বর্ণযুগে এসব প্রথার অস্তিত্ব ছিল না (এ বিষয়ে ৯০টি বিদআতের তালিকা দেখুন: ছালাতুর রাসূল (ছাঃ), ৪র্থ সংস্করণ, পৃঃ ২৩৮-২৪১)।

প্রশ্নঃ 

জনৈক মুফতি বলেন, যে পুরুষ বাবরী চুল রাখে না সে রাসূল (ছাঃ)-এর আনুগত্য করে না। উক্ত বক্তব্য কি সঠিক? চুল রাখার বিধান জানিয়ে বাধিত করবেন।

উত্তর

উক্ত বক্তব্য সঠিক নয়। কারণ ছাহাবীদের অনেকের বাবরি চুল ছিল না। তাই মাথার চুলকে সমানভাবে কেটে ছোট করেও রাখা যায়। প্রয়োজনে পুরা মাথা মুন্ডানো যায় (মুগনী ১/৭৩-৭৪)।

প্রশ্নঃ 

মসজিদে প্রতিদিন বাদ ফজর কুরআন মাজীদ থেকে কমপক্ষে তিন আয়াত এবং বাদ এশা সুন্নাতের পূর্বে ছহীহ হাদীছ অথবা আত-তাহরীক থেকে কিছু অংশ পাঠ করে শোনানো হয়। কিন্তু যরূরী কাজ থাকার কারণে অনেকে ফরয ছালাতের পরেই সুন্নাত পড়তে শুরু করে। ফলে তার ছালাতে বিঘ্ন ঘটে। এমতাবস্থায় করণীয় কী? নিয়মিত করার কারণে এটি বিদ‘আতের অন্তর্ভূক্ত হবে কি?

উত্তর

দ্বীন শিক্ষার গুরুত্ব বিবেচনা করে মুছল্লীদের পরামর্শক্রমে উক্ত আলোচনার ব্যবস্থা করা হয়ে থাকে। সুতরাং কারো ব্যস্ততা থাকলে তিনি মসজিদের বারান্দায় সুন্নাত পড়তে পারেন অথবা বাড়ীতে গিয়ে পড়তে পারেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/১১৬০; মুসলিম, মিশকাত হা/১২৯৭)। তবে যারা মাসবূকঅর্থাৎ পুরো জামাআত পাননি, তাদের ব্যাপারে অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে। এ ধরনের আলোচনা বিদআত হওয়ার প্রশ্নই আসে না। বরং নিয়মিত করাটাই আবশ্যিক। কেননা রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, তোমাদের মধ্যে উত্তম সেই ব্যক্তি, যে নিজে কুরআন শিখে ও অন্যকে শিখায়’(বুখারী, মিশকাত হা/২১০৯)। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) ঐ আলেমকে উত্তম বলেছেন, যিনি ফরয ছালাতের পর বসে মুছল্লীদের দ্বীন শিক্ষা দেন (দারেমী, মিশকাত হা/২৫০)। এছাড়া সপ্তাহে জুমআর দিন অথবা ১, , বা ৩ দিন নিয়মিত তালীমী বৈঠক করার ব্যাপারে ইবনু আববাস (রাঃ) নির্দেশ দিতেন (বুখারী, মিশকাত হা/২৫২)। ইবনু মাসঊদ (রাঃ) প্রতি বৃহস্পতিবার তালীমী বৈঠক করতেন (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২০৭)।

প্রশ্নঃ 

বিদ‘আতী ইমামের পিছনে ছালাত আদায় করলে কবুল হবে কি? বিদ‘আতীকে সালাম দেয়া ও সম্মান করা যাবে কি?

উত্তর

ফাসিক ও বিদআতীর পিছনে ছালাত আদায় করা মাকরূহ। রাসূল (ছাঃ) বলেন, ইমামগণ ছালাতে ভুল করলে তোমাদের রয়েছে নেকী ও তাদের জন্য রয়েছে গোনাহ’ (বুখারী, মিশকাত হা/১১৩৩)। এমতাবস্থায় মুক্তাদীর ছালাত কবুল হবে। যুহরী বলেন, বাধ্যগত অবস্থায় ব্যতীত আমরা এমন ইমামের পিছনে ছালাত আদায় জায়েয মনে করতাম না (বুখারী হা/৬৯৫-৯৬)। অতএব বিদআতী ও সুন্নাতকে অমান্যকারী ব্যক্তিকে ইমাম বানানো যাবে না। কেননা এতে তাকে সম্মান দেখানো হবে। রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেন, ‘যে ব্যক্তি কোন বিদআতীকে আশ্রয় দেয়, তার উপর আল্লাহ, ফেরেশতামন্ডলী ও সকল মানুষের লানত পতিত হয়’ (মুত্তাফাক্ব আলাইহ, মিশকাত হা/২৭২৮)। তিনি আরও বলেন, তোমাদের মধ্যে কেউ মুনকারকিছু দেখলে তা যেন হাত দিয়ে প্রতিরোধ করে। নইলে যবান দিয়ে। নইলে অন্তর দিয়ে ঘৃণা করে। আর এটা হল দুর্বলতম ঈমান’ (মুসলিম, মিশকাত হা/৫১৩৭)। ফাসেক ও বিদআতীকে সালাম না দেওয়াই ছিল সালাফে ছালেহীনের রীতি (দ্র: ছালাতুর রাসূল (ছাঃ) ৪র্থ সংস্করণ পৃঃ ১৪২, ২৭৪)।

প্রশ্নঃ 

শিরক এবং বিদ‘আতকারীকে আল্লাহ তা‘আলা ক্বিয়ামতের দিন কেমন শাস্তি দিবেন? শিরক ও বিদ‘আত হতে বাঁচার উপায় কি?

উত্তর

শিরক ও বিদআত দুইটিই জঘন্য অপরাধ। যদি উক্ত পাপ হতে তওবা না করে কেউ মারা যায়, তাহলে আল্লাহ তাকে জাহান্নামের আগুনে পুড়িয়ে শাস্তি দিবেন। যেমন শিরক সম্পর্কে আল্লাহ বলেন, নিশ্চয় যে আল্লাহর সঙ্গে শিরক করবে আল্লাহ তার জন্য জান্নাতকে হারাম করে দিবেন। আর তার স্থান হবে জাহান্নামে। আর সীমালংঘনকারীদের জন্য আখেরাতে কোন সাহায্যকারী থাকবে না (মায়েদাহ ৭২)। অতঃপর যারা বিদআতী তারা রাসূল (ছাঃ)-এর সুন্নাতকে পরিত্যাগ করে মানুষের তৈরি বিধানের আনুগত্য করে। যারা আল্লাহ্র রাসূলের বিধান মানবে না, তারা মুমিন হতে পারবে না (নিসা ৬৫)। বিদআতীরা হাউয কাওছারের পানি পান করার সুযোগ পাবে না এবং রাসূল (ছাঃ)-এর শাফাআতও পাবে না (মুসলিম হা/৪২৪৩)। অবশেষে তারা জাহান্নামে নিক্ষিপ্ত হবে (নাসাঈ হা/১৫৭৮)। 
অতএব যাবতীয় কর্ম এবং ইবাদত শুধুমাত্র আল্লাহ্র সন্তুষ্টির উদ্দেশ্যে করলে শিরক থেকে বাঁচা সম্ভব। অনুরূপ দলীলবিহীন ও জাল-যঈফ হাদীছভিত্তিক আমল ত্যাগ করে শুধু ছহীহ দলীল ভিত্তিক আমল করলে বিদআত থেকে বাঁচা সম্ভব।

প্রশ্নঃ 

প্রচলিত আছে, মহল্লায় কেউ মারা গেলে তার পরিবারে ৪ দিন রান্না করা যাবে না। প্রতিবেশীরা মৃত ব্যক্তির পরিবারকে ৪ দিন গোশত, বিরিয়ানী ও পানীয় ইত্যাদি খাওয়াতে হবে। এটা কি শরী‘আত সম্মত?

উত্তর

মৃত্যুর পরে মৃতের প্রতিবেশী ও নিকটাত্মীয়দের কর্তব্য হ, মৃতের পরিবারের লোকদেরকে কমপক্ষে এক দিন ও এক রাত পেট ভরে খাওয়ানো। জাফর বিন আবু তালিব (রাঃ) শহীদ হলে রাসূল (ছাঃ) তার প্রতিবেশীদের এই নির্দেশ দিয়েছিলেন(তিরমিযী হা/৯৯৮; মিশকাত হা/১৭৩৯; তালখীছ, পৃঃ ৭৪)।

 


Desktop Site