এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

আমরা মরক্কোর একটি সংস্থার সদস্য, বার্সেলোনাতে বাস করি। আমরা কিভাবে যাকাতুল ফিত্বর হিসাব করব?


ফাত্‌ওয়া নং - 49793
সকল প্রশংসা আল্লাহর জন্য।

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে তিনি মুসলিমদের উপর যাকাতুল ফিত্বর ফরয করেছেন আর তা হল এক সা‘ খেজুর বা এক সা‘ জব এবং তিনি সালাতের জন্য অর্থাৎ ঈদের (ফিত্বরের) সালাতে বের হওয়ার আগে তা আদায় করতে আদেশ করেছেন। দুই সহীহ  গ্রন্থে (অর্থাৎ বুখারী ও মুসলিমে) আবূ সাঈদ আল-খুদরী -রাদিয়াল্লাহু আনহু- থেকে বর্ণিত আছে, তিনি বলেছেন :

আমরা তাদের দিতে সময় এর নবী শান্তি উপর হতে ঈশ্বর ওয়া সাল্লাম এবং মই Saa এর খাদ্য বা এক Saa এর পাস অথবা এক Saa এর বার্লি বা এক Saa এর কিশমিশ ।

  “আমরা নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সময়ে তা (যাকাতুল ফিতর) খাদ্যদ্রব্য থেকে এক স্বা‘ বা খেজুর থেকে এক স্বা‘ বা জব থেকে এক স্বা‘ বা কিসমিস থেকে এক স্বা‘ হিসেবে দিতাম।” [বুখারী (১৪৩৭)]

একদল ‘আলিম এই হাদীসে ব্যবহৃত ‘খাদ্যদ্রব্য’ শব্দটির ব্যাখ্যায় বলেছেন যে, তা হল গম (বুর্‌/ক্বাম্‌হ)।

আবার অনেকে এর ব্যাখ্যায় বলেছেন যে এর উদ্দেশ্য হল সে দেশের অধিবাসীগণ যা খায় তা গম, ভুট্টা, পার্ল মিলেট (pearl millet) বা এছাড়া অন্য যাই হোক না কেন- আর এটি সঠিক মত। কারণ যাকাত হল দরিদ্রদের প্রতি ধনীদের সহানুভূতি, আর তার (যাকে যাকাত দেয়া হয়) দেশের খাদ্যদ্রব্য নয় এমন কিছু দিয়ে সহানুভুতি প্রকাশ করা একজন মুসলিমের উপর ওয়াজিব নয়। আর এতে সন্দেহ নেই যে, চাল- হারামাইনের দেশের (সউদি আরবের) প্রধান খাদ্য, এক উত্তম ও মূল্যবান খাদ্য হিসেবে বিবেচিত যা বার্লি থেকে উত্তম, যে (বার্লি) হাদীসের পাঠে (মাত্‌নে) যথেষ্ট বলে উল্লেখিত হয়েছে। তাই এ থেকে জানা গেল যে চাল দিয়ে যাকাতুল ফিতর আদায় করায় কোনো দোষ নেই।

ওয়াজিব হল সকল প্রকার খাবারের এক সা‘ অর্থাৎ নবী সাল্লাল্লাহু ‘আলাইহি ওয়া সাল্লামের হিসাব অনুযায়ী এক সা‘ (যাকাতুল ফিতর) আদায় করা। আর এর পরিমাপ হল স্বাভাবিক দুই পূর্ণ হাতের চার মুঠো, যেমনটি আছে আল-ক্বামূস ও অন্যান্য অভিধানে –ওজনের হিসাবে তা ৩ কিলোগ্রামের কাছাকাছি। যদি কোনো মুসলিম চাল বা তার দেশের খাদ্যদ্রব্য থেকে এক সা‘ দিয়ে (যাকাতুল ফিতর) আদায় করে, তবে আলিমগণের দুই মতের বেশি শক্তিশালী মতানুসারে তা তার জন্য যথেষ্ট হবে যদিও বা তা এই হাদীসে উল্লেখিত খাদ্যদ্রব্যের অন্তর্ভুক্ত নয়। আর তা ওজনের হিসেবে প্রায় ৩ কিলোগ্রাম দেওয়াতে কোনো সমস্যা নেই।

ছোট-বড়, নারী-পুরুষ, স্বাধীন-দাস সকল মুসলিমের পক্ষ থেকে যাকাতুল ফিতর আদায় করা ওয়াজিব। আর ‘আলিমগণের ইজমা‘ (ঐকমত্য) অনুসারে গর্ভের ভ্রূণের পক্ষ থেকে তা আদায় করা ওয়াজিব নয়, তবে ‘উসমান-রাদিয়াল্লাহু আনহু- (তা) করেছেন বলে মুস্তাহাব্ব।

আর ওয়াজিব হল ‘ঈদের সালাতের আগেই তা আদায় করা, ‘ঈদের সালাতের পর পর্যন্ত দেরি করা জায়েয নয়। ‘ঈদের আগে এক বা দুই দিন আগে তা আদায় করায় কোন বাঁধা নেই। তাই এর মাধ্যমে জানা যায় যে, তা আদায়ের সময় শুরু হয় ‘আলিমগণের মতামতের সবচেয়ে সঠিক মতটি অনুসারে ২৮তম রাতে; কারণ এই (রমযান) মাস ২৯ দিনের হতে পারে আবার ৩০ দিনেরও হতে পারে। রাসূলুল্লাহ  সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর সাহাবীগণ যাকাতুল ফিতর ‘ঈদের এক বা দুই দিন আগে আদায় করতেন। 

আর যাকাতুল ফিতর দিতে হবে ফকির ও মিসকীনদের। ইবনু ‘আব্বাস-রাদ্বিয়াল্লাহু ‘আনহুমা- থেকে প্রমাণিত হয়েছে যে, তিনি বলেছেন :

«ধরে নবী মুহাম্মদ ফিতর জাকাত thrh llsaym ডি allghv valrfs, vtmh llmsakyn দে daha প্রার্থনা fhy স্বীকৃত দাতব্য পর প্রার্থনা এবং বমি আগে daha fhy sdqh ডি alsdqat»।

আবু দাউদ কর্তৃক বর্ণিত এবং শাহে আবী দাউদ আল Albani দ্বারা হাসান হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ

রাসূলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম যাকাতুল ফিতর ফরয করেছেন একজন সাওম পালনকারীর অনর্থক কাজ ও অশ্লীলতা হতে পবিত্রতাস্বরূপ ও মিসকীনদের জন্য খাওয়ার হিসেবে। যে তা ঈদুল ফিতরের সালাতের আগে আদায় করবে, তার পক্ষ থেকে তা কবুল যোগ্য যাকাত হিসেবে গণ্য হবে। আর যে তা ঈদুল ফিত্বরের সালাতের পর আদায় করবেতা সাদাক্বাহসমূহের মধ্যে একটি বলে গণ্য হবে।

[এটি বর্ণনা করেছেন আবূ দাঊদ (১৬০৯) এবং আল- আলবানী একে ‘সহীহ  আবী দাঊদ’ এ হাসান বলে আখ্যায়িত করেছেন]

আর ‘আলিমগণের অধিকাংশের মতে ও দলীলের বিবেচনায় বেশি সঠিক মত অনুসারে মূল্য দ্বারা (অর্থ দিয়ে) যাকাতুল ফিতর আদায় করা সঠিক নয় বরং ওয়াজিব হল তা খাদ্যদ্রব্য থেকে আদায় করা; যেমনটি নবী সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম ও তাঁর সাহাবীগণ করেছেন এবং উম্মাতের অধিকাংশই (‘উলামা’) এ মত প্রকাশ করেছেন। আমরা আল্লাহর কাছে চাই যাতে তিনি আমাদের ও সকল মুসলিমদেরকে তাঁর দ্বীনের ফিক্বহ (বুঝ) ও তার উপর অটল অবিচল থাকার তাওফীক্ব দেন, আমাদের অন্তরসমূহ ও কাজকর্মকে শুদ্ধ করেন, তিনি তো মহামহিম, পরম করুণাময়।” [মাজমূ ফাত্‌ওয়া আশ শাইখ ইবন বায (১৪/২০০)]

কিলোগ্রামের হিসেবে শাইখ ইবনু বায-রহিমাহুল্লাহ-এর মতে যাকাতুল ফিত্বরের পরিমাণ–প্রায় ৩ কিলোগ্রাম।

আর এভাবেই ফাতওয়া বিষয়ক স্থায়ী কমিটির আলেমগণ এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন। (৯/৩৭১)

শাইখ ইবনু ‘উসাইমীন-রাহিমাহুল্লাহ- চাল দিয়ে এর পরিমাণ নির্ধারণ করেছেন ২১০০ গ্রাম (অর্থাৎ ২.১ কিলোগ্রাম) [যেমনটি উল্লেখ আছে ‘ফাত্‌ওয়া আয-যাকাত’ (পৃঃ ২৭৪-২৭৬)-এ]

আর এই মতভেদের কারণ হল সা‘- পরিমাণ দ্বারা নির্ধারিত, ওজন দ্বারা নির্দিষ্ট নয়।

তবে ‘আলিমগণ তা ওজন দ্বারা হিসাব নির্ধারণ করেছেন কারণ তা হিসাব রাখার ক্ষেত্রে বেশি সহজ ও বেশি বিশুদ্ধ। আর এটি জানা কথা যে শস্যের দানার ওজন ভিন্ন ভিন্ন হয়; কারণ তার কোনোটি হালকা আবার কোনোটি ভারী, আবার কোনোটি মাঝারী ওজনের; বরং কখনো আবার একই প্রকার শস্যদানার এক সা‘ এর ওজনও ভিন্ন ভিন্ন হয়। নতুন ফসলের ওজন পুরানো ফসলের ওজন থেকে বেশি হয়। আর তাই যদি কেউ সতর্কতাবশত কিছু বেশি আদায় করে, তবে তা বেশি নিরাপদ ও উত্তম।

দেখুন ‘আল-মুগনী’, (৪/১৬৮)। এতে ফসলের যাকাতের নিসাবের পরিমাণ ওজনের হিসাবে এরূপ উল্লেখিত হয়েছে।

এবং আল্লাহই সবচেয়ে ভাল জানেন।

Desktop Site