এসো হাদিস পড়ি ?

এসো হাদিস পড়ি ?

হাদিস অনলাইন ?

সুন্নত ও নফল রোযা


রোযার দ্বিতীয় প্রকার হল সুন্নত, নফল (অতিরিক্ত) রোযা; যা পালন করা মুসলিমের জন্য ওয়াজেব নয়। কিন্তু পালন করলে ফযীলত ও সওয়াবের অধিকারী হওয়া যায়।

মহান আল্লাহর একটি হিকমত ও অনুগ্রহ এই যে, তিনি ফরয ইবাদতের মতই নফল ইবাদতও বিধিবদ্ধ করেছেন। তিনি যে আমল ফরয করেছেন, অনুরূপ সেই আমল নফলও করেছেন বান্দার জন্য। ফরয ইবাদতের মাঝে একদিকে যেমন ঘটিত ত্রুটি নফল ইবাদত দ্বারা পূরণ হয়ে যায়। তেমনি অপর দিকে তারই মাধ্যমে আমলকারীর নেকী ও সওয়াব বৃদ্ধি হয়। পক্ষান্তরে তা বিধিবদ্ধ না হলে তা পালন করা ভ্রষ্টকারী বিদআত বলে গণ্য হত। আর হাদীসে বলা হয়েছে যে, ‘‘কিয়ামতের দিন নফল ইবাদত দ্বারা ফরয ইবাদতের অসম্পূর্ণতা পূর্ণ করা হবে।’’[1]

নফল রোযার জন্য নিয়ত


নফল রোযার নিয়ত ফজরের আগে থেকে হওয়া জরুরী নয়। বরং দিনের বেলায় সূর্য ঢলার আগে বা পরে নিয়ত করলেই রোযা শুদ্ধ হয়ে যায়। অবশ্য ফরয রোযার বেলায় তা হয় না- যেমন পূর্বেই এ কথা আলোচিত হয়েছে। তবে নফল রোযার ক্ষেত্রেও শর্ত হল, যেন নিয়ত করার আগে ফজর উদয় হওয়ার পর কোন রোযা নষ্টকারী জিনিস ব্যবহার না করা হয়। বলা বাহুল্য, যদি তা (পানাহার বা অন্য কিছু) ব্যবহার করে থাকে তাহলে রোযা হবে না।

এ কথার দলীল মা আয়েশার হাদীস; তিনি বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমাদের কাছে (খাবার) কিছু আছে কি?’’ বললেন, ‘জী না।’ মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘‘তাহলে আজকে আমি রোযা থাকলাম।’’[1]

আর এই আমল ছিল সাহাবা (রাযি.)-দের।[2]

কিন্তু জানার কথা যে, দিনের বেলায় নিয়ত করলে, কেবল নিয়ত করার পর থেকেই সওয়াবের অধিকারী হবে। সুতরাং কেউ সূর্য ঢলার সময় নিয়ত করলে সে কেবল অর্ধেক রোযার সওয়াব প্রাপ্ত হবে; তার বেশী নয়।[3] যেহেতু প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘যাবতীয় আমল নিয়তের উপর নির্ভরশীল। সুতরাং প্রত্যেক ব্যক্তির তা-ই প্রাপ্য হয়, যার সে নিয়ত করে থাকে।’’[4]

নফল রোযার প্রকারভেদ


নফল রোযা দুই প্রকার; সাধারণ নফল এবং নির্দিষ্ট নফল। এখানে নির্দিষ্ট রোযাসমূহের কথা আলোচনা করা হচ্ছে।

১। শওয়ালের ছয় রোযা


যে ব্যক্তির রমাযানের রোযা পূর্ণ হয়ে যাবে, তার জন্য শওয়াল মাসের ৬টি রোযা রাখা মুস্তাহাব। আর এতে তার জন্য রয়েছে বৃহৎ সওয়াব। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি রমাযানের রোযা রাখার পরে-পরেই শওয়াল মাসে ছয়টি রোযা পালন করে সে ব্যক্তির পূর্ণ বৎসরের রোযা রাখার সমতুল্য সওয়াব লাভ হয়।’’[1]

এই সওয়াব এই জন্য হবে যে, আল্লাহর অনুগ্রহে ১টি কাজের সওয়াব ১০টি করে পাওয়া যায়। অতএব সেই ভিত্তিতে ১ মাসের (৩০ দিনের) রোযা ১০ মাসের (৩০০ দিনের) সমান এবং ৬ দিনের রোযা ২ মাসের (৬০ দিনের) সমান; সর্বমোট ১২ মাস (৩৬০ দিন) বা এক বছরের সওয়াব লাভ হয়ে থাকে। আর এই ভাবে সেই রোযাদারের জীবনের প্রত্যেকটি দিন রোযা রাখা হয়! দয়াময় আল্লাহ বলেন,

{আমার স্থান}

অর্থাৎ, কেউ কোন ভাল কাজ করলে, সে তার ১০ গুণ প্রতিদান পাবে। (কুরআনুল কারীম ৬/১৬০)

এই রোযা বিধিবদ্ধ হওয়ার কারণ -আর আল্লাহই ভাল জানেন - তা হল ফরয নামাযের পর সুন্নাতে মুআক্কাদার মত। যা ফরয নামাযের উপকারিতা ও তার অসম্পূর্ণতা সম্পূর্ণ করে। অনুরূপ এই ছয় রোযা রমাযানের ফরয রোযার অসম্পূর্ণতা সম্পূর্ণ করে এবং তাতে কোন ত্রুটি ঘটে থাকলে তা দূর করে থাকে। সে অসম্পূর্ণতা ও ত্রুটির কথা রোযাদার জানতে পারুক অথবা না পারুক।[2]

তা ছাড়া রমাযানের ফরয রোযা রাখার পর পুনরায় রোযা রাখা রমাযানের রোযা কবুল হওয়ার একটি লক্ষণ। যেহেতু মহান আল্লাহ যখন কোন বান্দার নেক আমল কবুল করেন, তখন তার পরেই তাকে আরো নেক আমল করার তওফীক দান করে থাকেন। যেমন উলামাগণ বলে থাকেন, ‘নেক কাজের সওয়াব হল, তার পরে পুনঃ নেক কাজ করা।’[3]

এই রোযার উত্তম সময় হল, ঈদের সরাসরি পরের ৬ দিন। কারণ, তাতেই রয়েছে নেক আমলের দিকে সত্বর ধাবমান হওয়ার দলীল। আর এ কথা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর এই উক্তি ‘‘যে ব্যক্তি রমাযানের রোযা রাখার পরে-পরেই শওয়াল মাসে ছয়টি রোযা পালন করে---’’ থেকে বুঝা যায়।

তদনুরূপ উত্তম হল, উক্ত ছয় রোযাকে লাগাতার রাখা। কেননা, এমনটি করা রমাযানের অভ্যাস অনুযায়ী সহজসাধ্য। আর তাতে হবে বিধিবদ্ধ নেক আমল করার প্রতি সাগ্রহে ধাবমান হওয়ার পরিচয়।

অবশ্য তা লাগাতার না রেখে বিচ্ছিন্নভাবেও রাখা চলে। যেহেতু হাদীসের অর্থ ব্যাপক। কিন্তু শওয়াল মাস অতিবাহিত হয়ে গেলে তা কাযা করা বিধেয় নয়। যেহেতু তা সুন্নত এবং তার যথাসময় পার হয়ে গেছে। তাতে তা কোন ওযরের ফলে পার হোক অথবা বিনা ওযরে।[4]

রমাযানের রোযা কাযা না করে শওয়ালের রোযা রাখা বিধেয় নয়। যেমন কাফ্ফারার রোযা থাকলে তা না রেখে শওয়ালের রোযা রাখা চলে না। আর শওয়াল মাসে রমাযানের কাযা রাখলে তাই শওয়ালের রোযা বলে যথেষ্ট হবে না।[5]

২। আরাফার রোযা


যুল-হজ্জ মাসের ৯ তারীখ হল আরাফার দিন। এই দিনে হাজীগণ আরাফার ময়দানে উপস্থিত হন বলে এই নামকরণ হয়েছে। এই দিনের রোযা রাখার মাহাত্ম্য প্রসঙ্গে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বলেছিলেন, ‘‘(উক্ত রোযা) গত এক বছরের এবং আগামী এক বছরের কৃত পাপরাশিকে মোচন করে দেয়।’’[1]

 সাহ্ল বিন সা’দ (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘যে ব্যক্তি আরাফার দিন রোযা রাখে তার উপর্যুপরি দুই বৎসরের পাপরাশি মাফ হয়ে যায়।’’[2]

অবশ্য এই রোযা গৃহবাসীর জন্য বিধেয়; আরাফাতে অবস্থানরত হাজীর জন্য তা বিধেয় নয়। কেননা, ঐ দিনে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) রোযা রেখেছেন কি না লোকেরা তা নিয়ে সন্দেহ করলে, তাঁর নিকট এক পাত্র দুধ পাঠানো হল। তিনি ঐ দিনের চাশ্তের সময় তা পান করলেন। সে সময় লোকেরা তাঁর দিকে তাকিয়ে দেখছিল।[3]

আরাফার ময়দানে ঐ রোযা বিধেয় না হওয়ার কারণ এই যে, ঐ দিন হল দুআ ও যিক্রের দিন। আর রোযা রাখলে তাতে দুর্বলতা দেখা দিতে পারে। তা ছাড়া সেটা হল সফর। আর সফরে রোযা না রাখাটাই উত্তম।[4]

পক্ষান্তরে অহাজীদের জন্য ঐ রোযা বিধেয় হওয়ার পশ্চাতে হিকমত হল, ঐ রোযা রেখে রোযাদার হাজীদের সাদৃশ্য বরণ করতে পারে, তাঁদের কর্মের প্রতি আকাঙ্ক্ষী হয় এবং তাঁদের উপর আল্লাহর যে রহমত অবতীর্ণ হয় তাতে শামিল হতে ও সেই রহমতের দরিয়ায় আপ½yত হতে পারে।[5]

প্রকাশ থাকে যে, রমাযানের কাযা রোযার নিয়তে কেউ আরাফা অথবা আশূরার দিন রোযা রাখলে তার উভয় সওয়াব লাভ হবে ইন শাআল্লাহ।

৩। মুহার্রাম মাসের রোযা


সুন্নত রোযাসমূহের মধ্যে মুহার্রাম মাসের (অধিকাংশ দিনের) রোযা অন্যতম। রমাযানের পর পর রয়েছে এই রোযার মান। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘রমাযানের পর সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা হল আল্লাহর মাস মুহার্রামের রোযা। আর ফরয নামাযের পর সর্বশ্রেষ্ঠ নামায হল রাতের (তাহাজ্জুদের) নামায।’’[1]

৪। আশূরার রোযা


মুহার্রাম মাসের রোযার মধ্যে সবচেয়ে বেশী তাকীদপ্রাপ্ত হল ঐ মাসের ১০ তারীখ আশূরার দিনের রোযা। রমাযানের রোযা ফরয হওয়ার আগে এই রোযা ওয়াজেব ছিল। রুবাইয়ে’ বিন্তে মুআউবিয বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আশূরার সকালে মদ্বীনার আশেপাশে আনসারদের বস্তিতে বস্তিতে খবর পাঠিয়ে দিলেন যে, ‘‘যে রোযা অবস্থায় সকাল করেছে, সে যেন তার রোযা পূর্ণ করে নেয়। আর যে ব্যক্তি রোযা না রাখা অবস্থায় সকাল করেছে সেও যেন তার বাকী দিন পূর্ণ করে নেয়।’’

রুবাইয়ে’ বলেন, ‘আমরা তার পর হতে ঐ রোযা রাখতাম এবং আমাদের ছোট ছোট বাচ্চাদেরকেও রাখাতাম। তাদের জন্য তুলোর খেলনা তৈরী করতাম এবং তাদেরকে মসজিদে নিয়ে যেতাম। অতঃপর তাদের মধ্যে কেউ খাবারের জন্য কাঁদতে শুরু করলে তাকে ঐ খেলনা দিতাম। আর এইভাবে ইফতারের সময় এসে পৌঁছত।’[1]

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘কুরাইশরা জাহেলিয়াতের যুগে আশূরার রোযা পালন করত। আর আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-ও জাহেলিয়াতে ঐ রোযা রাখতেন। (ঐ দিন ছিল কাবায় গিলাফ চড়াবার দিন।) অতঃপর তিনি যখন মদ্বীনায় এলেন, তখনও তিনি ঐ রোযা রাখলেন এবং সকলকে রাখতে আদেশ দিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে যখন রমাযানের রোযা ফরয হল, তখন আশূরার রোযা ছেড়ে দিলেন। তখন অবস্থা এই হল যে, যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে এবং যার ইচ্ছা হবে সে রাখবে না।’[2]

ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যখন মক্কা থেকে হিজরত করে মদ্বীনায় এলেন, তখন দেখলেন, ইয়াহুদীরা আশূরার দিনে রোযা পালন করছে। তিনি তাদেরকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘এটা কি এমন দিন যে, তোমরা এ দিনে রোযা রাখছ?’’ ইয়াহুদীরা বলল, ‘এ এক উত্তম দিন। এ দিনে আল্লাহ বানী ইসরাঈলকে তাদের শত্রু থেকে পরিত্রাণ দিয়েছিলেন। তাই মূসা এরই কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপনের উদ্দেশ্যে এই দিনে রোযা পালন করেছিলেন। (আর সেই জন্যই আমরাও এ দিনে রোযা রেখে থাকি।)’

এ কথা শুনে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘মূসার স্মৃতি পালন করার ব্যাপারে তোমাদের চাইতে আমি অধিক হকদার।’’ সুতরাং তিনি ঐ দিনে রোযা রাখলেন এবং সকলকে রোযা রাখতে আদেশ দিলেন।[3]

বলাই বাহুল্য যে, উক্ত আদেশ ছিল মুস্তাহাব। যেমন মা আয়েশার উক্তিতে তা স্পষ্ট। তা ছাড়া মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘আজকে আশূরার দিন; এর রোযা আল্লাহ তোমাদের উপর ফরয করেন নি। তবে আমি রোযা রেখেছি। সুতরাং যার ইচ্ছা সে রোযা রাখবে, যার ইচ্ছা সে রাখবে না।’’[4]

আবু কাতাদাহ (রাঃ) হতে বর্ণিত তিনি বলেন, আল্লার রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) আশূরার দিন রোযা রাখা প্রসঙ্গে জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেন, ‘‘আমি আশা করি যে, (উক্ত রোযা) বিগত এক বছরের পাপরাশি মোচন করে দেবে।’’[5]

ইবনে আববাস (রাঃ) প্রমুখাৎ বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) রমাযানের রোযার পর আশূরার দিন ছাড়া কোন দিনকে অন্য দিন অপেক্ষা মাহাত্ম্যপূর্ণ মনে করতেন না।’[6]  অনুরূপ বর্ণিত আছে বুখারী ও মুসলিম শরীফে।[7]

এক বর্ণনায় আছে, এই রোযা এক বছরের রোযার সমান।[8]

অবশ্য যে ব্যক্তি আশূরার রোযা রাখবে তার জন্য তার একদিন আগে (৯ তারীখে)ও একটি রোযা রাখা সুন্নত। যেহেতু ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যখন আশূরার রোযা রাখলেন এবং সকলকে রাখার আদেশ দিলেন, তখন লোকেরা বলল, ‘হে আল্লাহর রসূল! এ দিনটিকে তো ইয়াহুদ ও নাসারারা তা’যীম করে থাকে।’ তিনি বললেন, ‘‘তাহলে আমরা আগামী বছরে ৯ তারীখেও রোযা রাখব ইনশাআল্লাহ।’’ কিন্তু আগামী বছর আসার আগেই আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর ইন্তিকাল হয়ে গেল।[9]

ইবনে আববাস (রাঃ) বলেন, ‘তোমরা ৯ ও ১০ তারীখে রোযা রাখ।’[10]

পক্ষান্তরে ‘‘তোমরা এর একদিন আগে বা একদিন পরে একটি রোযা রাখ’’ -এই হাদীস সহীহ নয়।[11] তদনুরূপ সহীহ নয় ‘‘তোমরা এর একদিন আগে একটি এবং একদিন পরেও একটি রোযা রাখ’’ -এই হাদীস।[12]

বলা বাহুল্য, ৯ ও ১০ তারীখেই রোযা রাখা সুন্নত। পক্ষান্তরে কেবল ১০ তারীখে রোযা রাখা মকরূহ।[13] যেহেতু তাতে ইয়াহুদীদের সাদৃশ্য সাধন হয় এবং তা মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আশার প্রতিকূল। অবশ্য কেউ কেউ বলেন, ‘মকরূহ নয়। তবে কেউ একদিন (কেবল আশূরার দিন) রোযা রাখলে পূর্ণ সওয়াবের অধিকারী হবে না।’

জ্ঞাতব্য যে, হুসাইন (রাঃ)-এর এই দিনে শহীদ হওয়ার সাথে এ রোযার কোন নিকট অথবা দূরতম কোন সম্পর্ক নেই। কারণ, তার পূর্বে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম); বরং তাঁর পূর্বে মূসা নবী u এই দিনে রোযা রেখে গেছেন। আর এই দিনে শিয়া সম্প্রদায় যে মাতম ও শোক পালন, মুখ ও বুক চিরে, গালে থাপর মেরে, চুল-জামা ছিঁড়ে, পিঠে চাবুক মেরে আত্মপ্রহার ইত্যাদি করে থাকে, তা জঘন্যতম বিদআত। সুন্নাহতে এ সবের কোন ভিত্তি নেই।

তদনুরূপ এই দিনে নিজ পরিবার-পরিজনের উপর খরচ বৃদ্ধি করা, বিশেষ কোন নামায পড়া, দান-খয়রাত করা, বিশেষ করে শরবত-পানি দান করা, কলফ ব্যবহার করা, তেল মাখা, সুরমা ব্যবহার করা প্রভৃতি বিদআত। এ সকল বিদআত  হুসাইন (রাঃ)-এর খুনীরাই আবিষ্কার করে গেছে।[14]

৫। যুলহজ্জের প্রথম নয় দিনের রোযা


যুলহজ্জ মাসের প্রথম নয় দিন রোযা রাখা মুস্তাহাব। যেহেতু আল্লাহ আয্যা অজাল্ল যুলহজ্জের প্রথম দশ দিনকে অন্যান্য দিনের উপর শ্রেষ্ঠত্ব ও মর্যাদা দান করেছেন। আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন। ‘‘এই দশদিনের মধ্যে কৃত নেক আমলের চেয়ে আল্লাহর নিকট অধিক পছন্দনীয় আর কোন আমল নেই।’’ (সাহাবাগণ) বললেন, ‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয় কি?’ তিনি বললেন, ‘‘আল্লাহর পথে জিহাদও নয়। তবে এমন কোন ব্যক্তি  (এর আমল) যে নিজের জান-মাল সহ বের হয় এবং তারপর কিছুও সঙ্গে নিয়ে আর ফিরে আসে না।[1]

আর রোযা হল একটি নেক আমল। সুতরাং তা পালন করাও এ দিনগুলিতে মুস্তাহাব।[2]

প্রিয় নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ও এই নয় দিনে রোযা পালন করতেন। তাঁর পত্নী (  হাফসাহ রাঃ) বলেন, ‘‘নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যুল হজ্জের নয় দিন, আশূরার দিন এবং প্রত্যেক মাসের তিন দিন; মাসের প্রথম সোমবার এবং বৃহস্পতিবার রোযা রাখতেন।’’[3]

বাইহাকী ‘ফাযায়েলুল আওকাত’ এ বলেন, এই হাদীসটি  আয়েশা (রাঃ) এর ঐ হাদীস অপেক্ষা উত্তম যাতে তিনি বলেন, ‘রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) কে (যুলহজ্জের) দশ দিনে কখনো রোযা রাখতে দেখিনি।’[4]  কারণ, এ হাদীসটি ঘটনসূচক এবং তা  আয়েশার ঐ অঘটনসূচক হাদীস হতে উত্তম। আর মুহাদ্দেসীনদের একটি নীতি এই যে, যখন ঘটনসূচক ও অঘটনসূচক দু’টি হাদীস পরস্পর-বিরোধী হয় তখন সমন্বয় সাধনের অন্যান্য উপায় না থাকলে ঘটনসূচক হাদীসটিকে প্রাধান্য দেওয়া হয়। কারণ কেউ যদি কিছু ঘটতে না দেখে তবে তার অর্থ এই নয় যে, তা ঘটেই নি। তাই যে ঘটতে দেখেছে তার কথাটিকে ঘটার প্রমাণস্বরূপ গ্রহণ করা হয়।

মোট কথা, যুলহজ্জ মাসের এই নয় দিনে রোযা রাখা মুস্তাহাব। ইমাম নওবী বলেন, ‘ঐ দিনগুলিতে রোযা রাখা পাকা মুস্তাহাব।’[5]

৬। শা’বান মাসের অধিকাংশ দিনের রোযা


আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) শা’বান মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে রোযা রাখতেন। মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-কে রমাযান ছাড়া অন্য কোন মাস সম্পূর্ণ রোযা রাখতে দেখি নি। আর শা’বান মাস ছাড়া অন্য কোন মাসের অধিকাংশ দিনগুলিতে তাঁকে রোযা রাখতে দেখি নি।’[1]

 উসামাহ বিন যায়দ (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, ‘একদা আমি বললাম, হে আল্লাহর রসূল! আপনাকে শা’বান মাসে যত রোযা রাখতে দেখি তত অন্য কোন মাসে তো রাখতে দেখি না, (এর রহস্য কি)?’ উত্তরে তিনি বললেন, ‘‘এটা তো সেই মাস, যে মাস সম্বন্ধে মানুষ উদাসীন, যা হল রজব ও রমাযানের মাঝে। আর এটা তো সেই মাস; যাতে বিশব জাহানের প্রতিপালকের নিকট আমলসমূহ পেশ করা হয়। তাই আমি পছন্দ করি যে, আমার রোযা রাখা অবস্থায় আমার আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হোক।[2]

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর নিকট রোযা রাখার জন্য পছন্দনীয় মাস ছিল শা’বান। তিনি সে মাসের রোযাকে রমাযানের সাথে মিলিত করতেন।’[3]

এখানে তাঁর শা’বানের অধিকাংশ দিনগুলিতে রোযা এবং এই মাসের রোযার সাথে রমাযানের রোযাকে মিলিত করার হাদীসের সাথে রমাযানের ২/১ দিন আগে রোযা রাখতে নিষেধকারী হাদীসের[4] অথবা তার কৃষ্ণপক্ষের দিনগুলিতে রোযা রাখতে নিষেধকারী হাদীসের[5] কোন সংঘর্ষ বা পরস্পর-বিরোধিতা নেই। কেননা, উভয় শ্রেণীর হাদীসের মাঝে সম¦বয় সাধন সম্ভব। আর তা এইভাবে যে, ঐ দিনগুলিতে রোযা রাখা নিষিদ্ধ; যদি অভ্যাসগতভাবে কোন রোযা না পড়ে তাহলে। পক্ষান্তরে অভ্যাসগতভাবে ঐ দিনগুলিতে রোযা পড়লে রাখা বৈধ। আর সেটাই ছিল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আমল।[6] অর্থাৎ, তিনি অভ্যাসগতভাবে ঐ দিনগুলিতে রোযা রাখতেন। এখতিয়ার করে নয়।

অন্য দিকে এই মাসের ১৫ তারীখের রোযা রাখা এবং তাতে পৃথক কোন বৈশিষ্ট্য বা মাহাত্ম্য আছে মনে করা বিদআত; যেমন এ কথা পূর্বেও আলোচিত হয়েছে। কেননা, এ ব্যাপারে বর্ণিত কোন হাদীস সহীহ নয়।

৭। সোম ও বৃহস্পতিবারের রোযা


প্রত্যেক সপ্তাহের সোম ও বৃহস্পতিবার রোযা রাখা সুন্নত ও মুস্তাহাব। যেহেতু তা ছিল মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর আমল। আর দিন দুটিতে বিশবাধিপতি আল্লাহর নিকট বান্দার আমল পেশ করা হয়।

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, ‘আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) সোম ও বৃহস্পতিবারে রোযা রাখাকে প্রাধান্য দিতেন।’[1]

আবু হুরাইরা (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘সোম ও বৃহস্পতিবার (মানুষের) সকল আমল (আল্লাহর দরবারে) পেশ করা হয়। তাই আমি এটা পছন্দ করি যে, আমার রোযা রাখা অবস্থায় আমার আমল (তাঁর নিকট) পেশ করা হোক।’’[2]

উক্ত আবু হুরাইরা (রাঃ) হতেই বর্ণিত, তিনি বলেন আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক সোম ও বৃহস্পতিবারে (মানুষের) সকল আমল (আল্লাহর নিকট) পেশ করা হয়। (এবং বেহেশ্তের দ্বারসমূহ উ¦মুক্ত করা হয়।) আর (ঐ উভয় দিনে) আল্লাহ আয্যা অজাল্ল্ প্রত্যেক সেই ব্যক্তিকে মার্জনা করে দেন যে কোন কিছুকে তাঁর অংশী স্থাপন করে না। তবে সেই ব্যক্তিকে ক্ষমা করেন না যার নিজ ভায়ের সাথে  বিদ্বেষ থাকে; এই দুই ব্যক্তির জন্য (ফিরিশ্তার উদ্দেশ্যে) তিনি বলেন, উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও। উভয়ের মিলন না হওয়া পর্যন্ত ওদেরকে অবকাশ দাও।’’[3]

আবূ কাতাদাহ (রাঃ) বলেন, ‘সোমবার রোযা রাখার ব্যাপারে নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) জিজ্ঞাসিত হলে তিনি বললেন, ‘‘এটা হল সেই দিন, যেদিনে আমার জ¦ম হয়েছে এবং আমার উপর সর্বপ্রথম কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে।’’ অন্য এক বর্ণনায় আছে, ‘‘ঐ দিনে আমি (নবীরূপে) প্রেরিত হয়েছি।’’[4]

 

৮। প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা


প্রত্যেক (চান্দ্র) মাসে ৩টি করে রোযা রাখা মুস্তাহাব। আব্দুল্লাহ বিন আম্র বিন আস (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘প্রত্যেক মাসে তিনটি রোযা রাখা সারা বছর রোযা রাখার সমতুল্য।’’[1]

আবূ যার্র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘যে ব্যক্তি প্রত্যেক মাসে ৩টি করে রোযা রাখবে, তার সারা বছর রোযা রাখা হবে। আল্লাহ আযযা অজাল্ল্ এর সত্যায়ন অবতীর্ণ করে বলেন, কেউ কোন ভাল কাজ করলে, সে তার ১০ গুণ প্রতিদান পাবে। (কুরআনুল কারীম ৬/১৬০) এক দিন ১০ দিনের সমান।’’[2]

 ইবনে আববাস (রাঃ) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘ধৈর্যের (রমাযান) মাসে রোযা আর প্রত্যেক মাসের তিনটি রোযা অন্তরের বিদ্বেষ ও খট্কা দূর করে দেয়।’’[3]

পক্ষান্তরে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁর একান্ত ভক্ত আবূ হুরাইরা (রাঃ)-কে এই রোযা রাখতে অসিয়ত (বিশেষ উপদেশ) করেছেন।[4]

অবশ্য এই তিন রোযা প্রত্যেক চান্দ্র মাসের শুক½পক্ষের শেষ দিনগুলিতে; অর্থাৎ, ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে হওয়া মুস্তাহাব। যেহেতু আবূ যার্র (রাঃ) বলেন, আল্লাহর রসূল তাঁকে বলেছেন, ‘‘হে আবূ যার্র! মাসে ৩টি রোযা রাখলে ১৩, ১৪ ও ১৫ তারীখে রাখ।’’[5]

আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) রাখতেন প্রত্যেক মাসের প্রথম সোমবার, অতঃপর তার পরের বৃহস্পতিবার, অতঃপর তার পরবর্তী বৃহস্পতিবার।[6] কোন কোন বর্ণনা মতে মাসের শুক্লপক্ষের শেষ তিনদিন রোযা রাখতেন।[7] আর কোন কোন বর্ণনা মতে তিনি কোন নির্দিষ্ট দিনের খেয়াল না করেই যে কোন দিনে ৩টি রোযা রাখতেন।[8]

৯। দাঊদী রোযা


যার সামর্থ্য আছে তার জন্য একদিন রোযা থাকা ও তার পরের দিন রোযা না থাকা; ভিন্ন কথায় একদিন পরপর রোযা রাখা মুস্তাহাব। আব্দুল্লাহ বিন আম্র বিন আস (রাঃ) কর্তৃক বর্ণিত, তিনি বলেন, আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেছেন, ‘‘আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় রোযা হল দাঊদ (আঃ) -এর রোযা। আর আল্লাহর নিকট সর্বাপেক্ষা পছন্দনীয় নামায হল দাঊদ  (আঃ) -এর নামায। তিনি অর্ধ রাত্রি ঘুমাতেন। অতঃপর তৃতীয় প্রহরে নামায পড়ে পুনরায় ষষ্ঠভাগে ঘুমাতেন, আর তিনি একদিন পানাহার করতেন ও পরদিন রোযা রাখতেন।’’[1]

পরন্তু মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) ইবনে আম্রকে বলেছেন, ‘‘তুমি একদিন রোযা থাক এবং একদিন পানাহার কর। এটাই হল দাঊদ u-এর রোযা; যা সর্বশ্রেষ্ঠ রোযা।’’ ইবনে আমর বললেন, ‘কিন্তু আমি তার থেকেও উত্তম (প্রত্যেক দিন রোযা রাখতে) পারি।’ তা শুনে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘(আমি যা বললাম) তার চাইতে উত্তম কিছুই নেই।’’[2]  অন্য এক বর্ণনায় আছে, মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁকে বললেন, ‘‘দাঊদ (আঃ) -এর রোযার উপর কোন রোযা নেই। অর্ধ বছর রোযা; একদিন রোযা রাখ এবং তার পরের দিন পানাহার কর।’’[3]

বলা বাহুল্য, এ রোযা সামর্থ্যের সাথে সম্পর্ক রাখে। অতএব শর্ত হল, যেন এ রোযা রাখতে গিয়ে সবাস্থ্য এমন দুর্বল না হয়ে যায়, যাতে নফল রোযা থেকে উত্তম বা গুরুত্বপূর্ণ আমল পালনে ত্রুটি পরিলক্ষিত হয়। যেমন, আল্লাহর অন্যান্য হক এবং বান্দার যাবতীয় অধিকার আদায়ে যেন কোন প্রকার ত্রুটি প্রকাশ না পায়। নচেৎ, তা বর্জন করাই উত্তম।[4]

১০। যৌন-পীড়িত যুবকদের রোযা


যৌন-পীড়িত যে যুবক ব্যভিচারে লিপ্ত হয়ে পড়ার আশঙ্কা করে অথচ ভরণ-পোষণ বহন করার সামর্থ্য না থাকার ফলে বিবাহ করতে পারে না, সে যুবকের জন্য রোযা রাখা বিধেয়।

এ ব্যাপারে মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) যুবকদেরকে পথনির্দেশ করে বলেন, ‘‘হে যুবকদল! তোমাদের মধ্যে যে ব্যক্তি (বিবাহের অর্থাৎ স্ত্রীর ভরণপোষণ ও রতিক্রিয়ার) সামর্থ্য রাখে সে যেন বিবাহ করে। কারণ, বিবাহ চক্ষুকে দস্ত্তরমত সংযত করে এবং লজ্জাস্থান হিফাযত করে। আর যে ব্যক্তি ঐ সামর্থ্য রাখে না সে যেন রোযা রাখে। কারণ, তা যৌনেন্দ্রিয় দমনকারী।’’[1]

তিনি খাসী হওয়ার কথা অবৈধ ঘোষণা করে বলেন, ‘‘আমার উম্মতের খাসী করা হল, রোযা রাখা।’’[2]

প্রসঙ্গতঃ উল্লেখ্য যে, এই হল সেই যৌন-পীড়িত ও যৌবনের অগ্নিদাহে দগ্ধ এবং বিবাহে অসমর্থ যুবকদের জন্য নবী করীম (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর অব্যর্থ চিকিৎসা। আর তা হল রোযা। সুতরাং তাদের জন্য গুপ্ত অভ্যাস হস্তমৈথুন ব্যবহার করা বৈধ নয়। নচেৎ, তারা তাদের দলভুক্ত হয়ে পড়বে, যাদের জন্য বলা হয়েছিল,

{أتستبدلون الذي هو أدنى بالذي هو خير}

‘‘তোমরা কি যা উৎকৃষ্ট তার বিনিময়ে নিকৃষ্ট জিনিস গ্রহণ করতে চাও?’’ (কুরআনুল কারীম ২/৬১)

আর যেহেতু হস্তমৈথুন অভ্যাসটাই সেই মুমিনদের গুণ নয়, যাদের কথা মহান আল্লাহ নিজ কুরআনে উল্লেখ করেছেন। তিনি বলেন,

{প্রতিফলন সামঞ্জস্যপূর্ণ ডিভাইস lfrvjhm hafzvn- আলী zvajhm Hey Ma malakat ymanhm fanhm অ mlvmyn- fmn বন্ধ abtghy zlk favlyk সহ aladvn}

অর্থাৎ, যারা নিজেদের যৌনাঙ্গকে সংযত রাখে। তবে নিজেদের পত্নী অথবা অধিকারভুক্ত দাসীদের ক্ষেত্রে অন্যথা করলে তারা নিন্দনীয় হবে না। আর যারা এদের ছাড়া অন্যকে কামনা করে তারাই সীমালংঘনকারী।’’

(কুরআনুল কারীম ২৩/৫-৭)

মা আয়েশা (রাঃ) উক্ত আয়াতের তফসীরে বলেন, ‘যে ব্যক্তি নিজের বিবাহিত স্ত্রী অথবা ক্রীতদাসী ছাড়া (যৌনক্ষুধা নিবারণের জন্য) অন্য পথ অবলম্বন করবে সেই সীমালংঘনকারী।’[3]

১১। সাধারণ নফল রোযা


সাধারণ নফল রোযা; যা কোন নির্দিষ্ট কারণ বা দিনের সাথে সীমাবদ্ধ নয়। এমন রোযা নিষিদ্ধ দিন ছাড়া যে কোনও দিনে অনির্দিষ্টভাবে রাখা যাবে। মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘শীতকালের রোযা ঠান্ডা গনীমত (যুদ্ধজয়ে লব্ধ সম্পদ)।’’

অন্য এক বর্ণনায় তিনি বলেন, ‘‘শীতকাল মুমিনের বসন্তকাল। তার রাত্রি লম্বা হওয়ার ফলে সে তাহাজ্জুদ পড়ে এবং তার দিন ছোট হওয়ার ফলে সে রোযা রাখে।’’[1]

বলা বাহুল্য, এমন রোযা দ্বীনের সহজ-সরল নিয়ম-নীতির ভিত্তিতেই বিধিবদ্ধ।

নফল রোযা ভাঙ্গা বৈধ


যে ব্যক্তি নফল রোযা রাখে, তার জন্য তা ভাঙ্গা বা দিনের যে কোন অংশে তা ছেড়ে দেওয়া বৈধ। যেহেতু মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বলেন, ‘‘নফল রোযাদার নিজের আমীর। ইচ্ছা হলে সে রোযা থাকতে পারে, আবার ইচ্ছা না হলে সে তা ভাঙ্গতেও পারে।’’[1]

মা আয়েশা (রাঃ) বলেন, একদা নবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তাঁর নিকট এসে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘‘তোমাদের কাছে (খাবার) কিছু আছে কি?’’ বললেন, ‘জী না।’ মহানবী (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) তখন বললেন, ‘‘তাহলে আজকে আমি রোযা থাকলাম।’’ অতঃপর আর একদিন আমাদেরকে হাইস (খেজুর, পনীর ও ঘি একত্রিত করে প্রস্ত্তত খাদ্য বিশেষ) উপহার দেওয়া হয়েছিল। আমি তার থেকে কিছু অংশ তাঁর জন্য লুকিয়ে রেখেছিলাম। আর তিনি হাইস ভালোবাসতেন। আমি বললাম, ‘হে আল্লাহর রসূল! আজ আমাদেরকে হাইস উপহার দেওয়া হয়েছে। আর আমি আপনার জন্য কিছুটা লুকিয়ে রেখেছি।’ তিনি বললেন, ‘‘আমার কাছে নিয়ে এস। আমি সকাল থেকে রোযা অবস্থায় ছিলাম।’’ এ কথা বলে তিনি তা খেলেন এবং বললেন, ‘‘নফল রোযাদারের উদাহরণ ঐ লোকের মত যে নিজ মাল থেকে (নফল) সাদকাহ বের করে। অতঃপর সে চাইলে তা দান করে, না চাইলে রেখে নেয়।’’[2]

রোযা ভেঙ্গে ফেললে তা কাযা করা ওয়াজেব নয়। আবূ সাঈদ খুদরী (রাঃ) বলেন, একদা আমি আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম)-এর জন্য খাবার তৈরী করলাম। তিনি তাঁর অন্যান্য সহচর সহ আমার বাড়িতে এলেন। অতঃপর যখন খাবার সামনে রাখা হল, তখন দলের মধ্যে একজন বলল, ‘আমার রোযা আছে।’ তা শুনে আল্লাহর রসূল (সাল্লাল্লাহু আলাইহে ওয়াসাল্লাম) বললেন, ‘‘তোমাদের ভাই তোমাদেরকে দাওয়াত দিয়ে খরচ (বা কষ্ট) করেছে।’’ অতঃপর তিনি তার উদ্দেশ্যে বললেন, ‘‘রোযা ভেঙ্গে দাও। আর চাইলে তার বিনিময়ে অন্য একদিন রোযা রাখ।’’[3]

Desktop Site